রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২৬: Death Note — Mehedi Zaman

ডেথ নোট (Death Note)
এপিসোডঃ ৩৭
জনরাঃ মিসটেরি, সাইকোলজিক্যাল, থ্রিলার, সুপারন্যাচারাল, পুলিশ।
Myanimelist Score: ৮.৭৬

ধরুন আপনি এমন এক নোটবই পেলেন, যেখানে কারো নাম লিখলে সেই ব্যাক্তি ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে মারা যাবে। তাহলে আপনি কি করবেন? এরকমই এক কঠিন প্রশ্ন নিয়ে শুরু হয় ডেথ নোট। এই এনিমেতে রয়েছে মানুষের বিবেকবোধ এবং ন্যায়বোধ এর এক চরম পরীক্ষা। যদি আপনি জানতে চান এরকম পরিস্থিতিতে পরলে একজন কি কি করতে পারে এবং এই এনিমের শেষ পরিণতি কি তাহলে অবশ্যই দেখবেন ডেথ নোট।

 

কাহিনী/প্লটঃ ১০/১০

ডেথ নোট এনিমেটির কাহিনী বেশিরভাগ এনিমে থেকে একটু ভিন্ন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘য়াগামি লাইট’, একজন ১৭ বছরের তরুণ একদিন স্কুল থেকে বাসায় ফেরার সময় একটি নোটবই পায়, যার শিরোনাম ছিল ‘ডেথ নোট’। সে ডেথ নোটের কার্যকারিতা যাচাই করে দেখল যে আসলেই এর মাধ্যমে যে কাউকে মারা যায়। এর জন্য শুধু প্রয়োজন সেই ব্যাক্তির সঠিক নাম। য়াগামি তখন এই পৃথিবীকে এক শান্তিময় স্থান বানানোর জন্য, অপরাধমুক্ত করার জন্য, অপরাধিদের নাম ডেথ নোটে লিখতে থাকে। তবে  তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এক রহস্যময় ডিটেকটিভ, এল(L)। ডেথ নোটএনিমের স্টোরি ডেভেলপমেন্ট সত্যিই তাক লাগিয়ে দেয়ার মতো যদিও ২৬ এপিসোডের পর এর আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।

 

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ ৯.৫/১০

ডেথ নোট এনিমেটির মূল চরিত্র হল য়াগামি এবং এল। এরা দুজনই খুবই চালাক এবং চতুর। একদিকে য়াগামির ঠাণ্ডা মাথায় অপরাধিদের মেরে চলার প্রবণতা আবার আরেকদিকে এল – এর অদ্ভুত কিন্তু অসাধারণ কীর্তিকলাপ য়াগামিকে ধরার জন্য- সত্যিই আপনাকে জানিয়ে দিবে দুজনের চরিত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও রয়েছে কিছু সাইড ক্যারেক্টার (মেইন ক্যারেক্টারও বলা চলে) যেমনঃ মিসা আমানে এবং রিউক। এই পয়েন্টে বলা চলে ডেথ নোট এর ক্যারেক্টারদের তারা ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছে যেটা অবশ্যই এনিমেটিকে করে তুলেছে আরও চমৎকার।

 

অ্যানিমেশনঃ ৯/১০

‘ডেথ নোট’ এর অ্যানিমেশন সম্পর্কে বলতে হলে প্রথমেই বলতে হয় এখানে নোটবইয়ে কলম দিয়ে লিখাকে তারা এতটা মজার করে তুলেছে যে, আমারও ইচ্ছে হয় খাতা কলম নিয়ে বসে পরি। অ্যানিমেশনে কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন দৃশ্য ছিল যাএনিমের থিমের সাথে মিলে যায়।

 

সাউনডট্র্যাক/মিউজিকঃ ৯.৫/১০

‘ডেথ নোট’ এর সাউনডট্র্যাক গুলো  আমার  কাছে  খুবই  ভাল  লেগেছে। এক্ষেত্রে Yoshihisa Hirano এবং Hideki Taniuchi কম্পোসার হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ডেথ নোটের প্রথম ওপেনিং যেটা গেয়েছেNightmare ব্যান্ড, আমার খুবই পছন্দের। এনিমেটির কিছু শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের মিউজিকগুলো ওই দৃশ্যগুলোকে করে তুলে আরও ইন্টারেস্টিং।

 

এঞ্জয়মেনটঃ ১০/১০

‘ডেথ নোট’ এর  একটি  শক্তিশালী  দিক হল এনিমেটির এপিসোডের গতি(pace)। এনিমেটি দেখা শুরু করলে শেষ না করে উঠতে ইচ্ছে করে না। কারণ, প্রত্যেকটি এপিসোডের শেষে এমন একটা সাস্পেন্স থাকে যে পরবর্তী এপিসোড না দেখে থাকা যায় না। তবে ২৬তম এপিসোডের পরে এই আকাঙ্ক্ষা কিছুটা কমে যায়। এনিমেটি দেখে বিড়াল এবং ইঁদুরের ছুটোছুটির কথা মনে পড়ে। এক কথায় ‘ডেথ নোট’ আপনাকে দিবে এক অবর্ণনীয় রোমাঞ্চ।

 

ওভারঅলঃ ৯.৫/১০

যারা যারা ডেথ নোট দেখেছেন বা দেখবেন তাদের মনে অবশ্যই একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে য়াগামি ডেথ নোট পেয়ে যা করল তা আসলে সঠিক কিনা। এই প্রশ্নের উত্তর আপনারা নিজেরাই দিবেন। তবে আমার কাছে য়াগামির চেয়ে এল এর কর্মকাণ্ড বেশি সঠিক বলে মনে হয়েছে। ওভারঅল ডেথ নোট এখন পর্যন্ত ওয়ান অফ দা বেস্ট এনিমে, আমার কাছে।

 

‘I will make the world a better place’- য়াগামি লাইট। আসলেই কি সে পেরেছিল তার স্বপ্ন পূরণ করতে?জানতে হলে দেখুন ‘ডেথ নোট’।

26 Death Note

Comments

comments