Soredemo Machi wa Mawatteiru/And Yet The Town Moves [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

★কাহিনী সারসংক্ষেপ★
আরাশিয়ামা একটা বোকা মেয়ে, খাঁটি বাংলায় “মগা”। যেখানেই যায় সেখানেই ঝামেলা পাকায়। তবে নানা রকম রহস্য নিয়ে খুব আগ্রহ রয়েছে ওর। এক বুড়ির ছোট রেস্তোরাঁ / মেইড ক্যাফেতে কাজ করে। কিন্তু রেস্তোরাঁর ব্যবসার অবস্থা যাচ্ছেতাই। নিয়মিত গ্রাহক বলতে আরাশিয়ামার এক ক্লাসমেট…নাম তার সানাদা। আরাশিয়ামা আবার সানাদা সাহবের গোপন ক্রাশ। একদিন রেস্তোরাঁয় আরাশিয়ামার এক বান্ধবী তাৎসুনো আসে। আসার পর এখানকার ধ্বজভঙ্গ অবস্থা দেখে রেস্তোরাঁয় কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে ব্যবসার উন্নতি করা যায়। একইসাথে আরাশিয়ামার সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হতে সুযোগটি লুফে নেয় সানাদা, সেও রেস্তোরাঁয় কাজ যোগ দেয়। অতঃপর রেস্তোরাঁয় তাদের প্রাত্যহিক হাস্যরসাত্মক কাজ, বিভিন্ন বেহুদা রহস্য উন্মোচন নিয়ে কাহিনী আবর্তিত হয়।
 
 
 
✴️মতামত ও সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা✴️
স্টুডিও Shaft এর আর্ট, এনিমেশন নিয়ে আলাদা করে দিছু বলার নেই। ওদের চকচকা আর্ট দেখলেই আমার মন ভালো হয়ে যায়।
মূলত কমেডি সিরিজ হলেও অনর্থক মিস্ট্রিগুলো বেশ আকর্ষণীয় ছিল। আমার কাছে Hyouka এর পরে ছোট রহস্য উদঘাটনের দিক দিয়ে এই সিরিজটা সবচেয়ে চমৎকার লেগেছে। রহস্য বলতে আমরা যেমন কাঠখোট্টা সিরিয়াস জিনিস ভাবি, সেটাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একরকম উপহাস করা হয়েছে এখানে। আমাদের রহস্যখোর নায়িকা আরাশিয়ামার চেহারাটা যেন তার চরিত্রের সাথে খাপে খাপ মিলে যায়। দেখলেই বোঝা যাবে বোকা একটা মেয়ে। কমেডির সাথে যথেষ্ট পরিমাণ রোমান্স এর স্বাদও পাওয়া গেছে সিরিজে। আরাশিয়ামা এবং সানাদার রসায়ন মন্দ ছিল না। এদিকে সময়ে সময়ে কমেডি ছাড়াও সুন্দর গুরুগম্ভীর মূহুর্ত ছিল। বিশেষত মালিক বুড়ির সাথে আমাদের নায়িকার অতীতের স্মৃতিগুলো বেশ মধুর লেগেছে।
এনিমের মিউজিক মুটামুটি বলা যায়। তবে এন্ডিং থিমটা দারুণ! Asobi Asobase সিরিজের কথা মনে আছে? অনেকটা ওরকম তবে Heavy metal(?) এর তুলনায় Soft rock গান :v (Ending link: https://www.youtube.com/watch?v=1k44tTuKKsg)
 
সিরিজটা দেখার সময় কখনো সময় নষ্ট হয়েছে বলে মনে হয়নি। পেইসিং আমার মতে ঠিকাছে, বিরক্তি আসেনি।
কন্ঠাভিনয় এর মান ভালো ছিল। আলাদা করে আরাশিয়ামার গলার স্বরের কথা উল্লেখ করা যায়। খুব খুউব মজা লেগেছে শুনে…. সরল-সোজা বাচ্চা মানুষের মতো গলা। এ জন্য ধন্যবাদ দিতে হয় কন্ঠাভিনেতা চিয়াকি ওমিগাওয়া কে।
 
✰রেটিং✰
অ্যানিমেশন-আর্ট : ৮.৫/১০ (এদিকটায় আমি একটু বিতর্কিত পরিমাণ ওভাররেটেড মনে হতে পারি)
প্রেক্ষাপট : ৭.৫/১০
কাহিনী : ৮.৫/১০
চরিত্রসমূহ : ৮/১০
মিউজিক : ৮/১০
কন্ঠাভিনয় : ৮.৫/১০
সামগ্রিকভাবে : ৮.৫/১০
 
সব মিলিয়ে দেখার মতো কিঞ্চিৎ underrated একটা এনিমে । আশা করি সকলের ভালো লাগবে।
 
 

I Sold My Life For 10,000 Yen A Year / Three Days of Happiness [মাঙ্গা রিভিউ] — Md. Anik Hossain

I Sold My Life For 10,000 Yen A Year
/
Three Days of Happiness
_______________________________________
 
একটা মানুষের জীবনের দাম কত ? কীসের বিনিময়ে আপনার জীবনের একেকটা বছর বেঁচা যেতে পারে ? আপেক্ষিক একটা বিষয় হতে পারে । যত আনন্দদায়ক হবে একটি বছর , সেটির দাম হয়ত তত বেশী । আরেকটু স্পষ্ট করে জিজ্ঞাসা করলে, আপনার সেই একেকটা বছরের “টাকায়” মূল্য কত হতে পারে ? কল্পনা করুন আপনার অবশিষ্ট জীবনকাল বিক্রি করা সম্ভব । এমন একটা দোকান আছে যেখানে বছর হিসাব করে আপনি ইচ্ছামতো আপনার আয়ুষ্কাল বেঁচতে পারবেন নগদ অর্থের বিনিময়ে । জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ আপনি । সামান্য রুটি রুজি করতে হিমশিম খাচ্ছেন । অভাবের তাড়ণায় বই-পত্র , গানের ক্যাসেট সব বিক্রি করতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে । বাকি ভবিষ্যত্টা একেবারেই অন্ধকারাচ্ছন্ন । এই বাকি জীবনটা রেখে তবে লাভ কি ? এই অনিশ্চিত্ , লক্ষ্যহীন , অপদার্থ জীবনটার কয়েক বছর বিক্রি করে যদি কিছু টাকা পাওয়া যায় তাহলে খারাপ কি ? এমন ই ভাবনা থেকে কুসুনোকি নামক বিশ বছরের এক যুবক সন্ধান পায় এমন একটি দোকানের, যেখানে মানুষের আয়ুষ্কাল , সময় এবং স্বাস্থ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। যেখানে গিয়ে সে তার অবশিষ্ট জীবনের সবটাই বিক্রি করে দেয়, মাত্র ৩মাস বাদে । বছর প্রতি কয় টাকার বিনিময়ে জানেন ? মাত্র ১০ হাজার ইয়েনের বিনিময়ে । একইসময় সে তার অবশিষ্ট ৩ মাসে যেন কোন সমস্যা তৈরি না করে, সে জন্য দোকান থেকে পাঠানো হয় মিয়াগি নামের এক মেয়েকে । যে কিনা গ্রাহকের পর্যবেক্ষক হিসাবে সর্বদা তার পাশে থাকবে, সে যেখানেই যাক না কেন । এই ৩ মাসে কুসুনোকি নিজের জীবনের কতটুকু মূল্য ও আনন্দ খুঁজে পাবে, অতীত জীবনের ভুল ও অপ্রাপ্তিগুলো কতটা আবিষ্কার করতে পারবে এক সহচারীর উপস্থিতিতে, তা নিয়েই আবর্তিত হয় কাহিনী ।
মাত্র ১৮ চাপ্টারের এই চমত্কার পটভূমিতে তৈরি মাঙ্গাটি আপনাকে যেমন জীবনের মূল্য শেখাবে… তেমনি শেখাবে হাজারো অপ্রাপ্তি , নিরানন্দ উপেক্ষা করে অল্প, কিন্তু মনে রাখার মতো কিছু স্মৃতিকে জীবিকা করে সন্তোষজনক এক পরিণতি বরণ করতে।
সুন্দর পটভূমির আড়ালে কিছু সীমাবদ্ধতা মাঙ্গাটিতে দেখতে পেয়েছি । মাঝে মাঝে কাহিনীর গতিশীলতা হারিয়ে ফেলছিল । আর্ট খারাপ ছিল না মোটেও, তবে অমায়িক এই প্লটের তুলনায় একটু সাদামাটা লেগেছে । চরিত্রের পরিমাণ এমনিতেই অত্যন্ত কম, আবার মূল চরিত্র বাদে বাকি কারো অতীত নিয়ে সেভাবে কিছু দেখানো হয়নি । হয়ত আরেকটু ভালোভাবে তাদের অতীতগুলো তুলে ধরলে আরো ইমোশনাল বানানো যেত গল্পটা ।
তবে মোদ্দাকথা , প্রত্যেক কে বলব মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে । অত্যন্ত আবেগপূর্ণ , চিন্তা জাগানিয়া সিরিজটি এক বসাতেই পড়ে ফেলতে পারবেন । হয়ত আমার মতো আপনারাও জীবনের সুখ দূঃখের সম্পর্কে অন্যরকম এক অর্থ খুঁজে পাবেন !?
 
(ব্যক্তিগত রেটিং):
* প্রেক্ষাপট: ৯.৫/১০
* গল্প: ৮/১০
* আর্ট: ৮/১০
* চরিত্রসমূহ: ৮.৫/১০
চূড়ান্তভাবে: ৯/১০
 

Monster [Review] — Naziur Rahman Nayem

Monster
Writer: Naoki Urasawa
Original Run: 7 April, 2004 – 28 September, 2005
Rating: 8.8/10
 
*Spoiler Alert
 
Tsugumi Ohba- এর Death Note এর পর Psychological-Mystery genre তে Naoki Urasawa-এর আরেকটা মাস্টারপিস হল এই “Monster” নামক এনিমে। এর এপিসোড মোট ৭৪ টা। যা “Death note”- এর তুলনায় দ্বিগুণ। এটা হল মিস্ট্রি সাইকো থ্রিলার জনরার এনিমে। এর জন্য এটা দেখা আরকী। ভাবলাম বহুত গভীর চিন্তা হইছে,,, এবার একটু বিনোদন নিয়ে আসি। তবে বিনোদন আর নেওয়া হইলো না। এটাতেও ডিপ ফিলোসফিকাল ব্যাপার স্যাপারের সম্মুখীন হতে হইল।
নাম শুনে মনে হতে পারে এটার মধ্যে সুপারন্যাচারাল ব্যাপার স্যাপার আছে। কিন্তু আদপে এর ভেতর তা নেই। এখানে কাহিনীকে যেভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া হইছে ও যে চরিত্রগুলো যেভাবে দেখানো হইতে তা একদম বাস্তবভিত্তিক। তারপরও সাউন্ড ইফেক্ট ও এর স্লো পেসের জন্য এটা যেকোন হরর ও থ্রিলিং এনিমের থেকেও কম না। বাস্তবভিত্তিক হয়েও এটা আপনাকে যথেষ্ট থ্রিল প্রদান করবে। আর তার কারণ হলো এর প্লট ও কেন্দ্রীয় ভিলেন চরিত্রকে নিয়ে টুইস্ট।
এটি হল দুটি বিপরীত চরিত্রের ফিলোসফি নিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বমূলক এনিমে। এই এনিমে নায়কের নাম থাকে হল ড. টেনমা যে কীনা একজন স্পেশালিষ্ট নিউরোসার্জন এবং যে ভিলেন তার নাম হল ইয়োহান লিবার্ট(যদিও এটা তার প্রকৃত নাম নয়!! এনিমে দেখলে ঘটনা বোঝা যাবে) এবং সে চরম এন্টাগনিষ্ট ও নিহিলিস্ট প্রকৃতির। অপরদিকে ড. টেনমা তিনি হলেন অপটিমিস্টিক ও জাস্টিস- এর প্রতীক।
কিন্তু ইনিই ঘটনাচক্রে একদিন যে হাসপাতালে তিনি কাজ করতেন সেখানে দুটো বাচ্চা ছেলে ও মেয়ে আহত হয়ে আসে। ছেলেটির মাথায় গুলি লাগে। আর এ চিকিৎসা ভার নায়কটি নেয়। যেহেতু তিনি বেশ দক্ষ সার্জন তিনি ছেলেটির সফলতার সাথে অপারেশন করেন।
কিন্তু বিপত্তী ঘটে পরবর্তীতে গিয়ে এ অপারেশন হবার কিছুদিন পর ছেলেটি হঠাৎ করে হাসপাতাল বেডের থেকে উধাও হয়ে যায় ও যে মেয়েটি ছিল সেও উধাও হয়ে যায়। সবাই সন্দেহ করতে থাকে এ হল খুনীর কাজ, খুনীই ছেলে ও মেয়েটিকে কিডন্যাপ করেছে।
এরপর রহস্যজনকভাবে হাসপাতালেরই ৩ জন মারা যায়। এসব কাহিনী ঘটার পর পুলিশী তদন্ত চলে এবং একজন দক্ষ গোয়ন্দা এ কেস সমাধানের দায়িত্ব নেয়। এ ঘটনায় গোয়েন্দাটির সন্দেহ গিয়ে পড়ে ড. টেনমার উপর। কেননা যে তিনজন মারা যায় তার ভেতর একজন হলেন হাসপাতালের ডিরেক্টর যিনি ড. টেনমাকে চক্রান্ত করে তার পদ থেকে ডিমোশন দিয়ে দেয়। আর এ ডিমোশনের কারণ হলো ঐ দুটি বাচ্চা ছেলে, মেয়েকে অপারেশনের সময় একজন মেয়রের অপারেশন করার জন্য ডিরেক্টর নির্দেশনা দিয়েছিলো।
এখন অন্যান্য ডাক্তারও ছিল কিন্তু নায়কের দক্ষতা মারাত্মক লেভেলের হওয়ায় এবং মেয়রের চিকিৎসা করলে হাসপাতালের রেপুটেশন বাড়বে ও ডোনেশন পাওয়া যাবে এটা ছিল ডিরেক্টরের হাবভাব। কিন্তু ড. টেনমা এটা বুঝতে পেরে এবং সে যেহেতু প্রথমে ঐই বাচ্চা দুটির কেসই হাতে পায় সে নির্দেশ অমান্য করে ঐ ছেলের অপারেশন করে। এর ফলে তার পদ থেকে তাকে ডিমোশন দেওয়া হয়। এতে ডাক্তার যে নতুন গবেষণা করছিলেন এটার সাহায্যও বন্ধও হয়ে যায়।
আর ডিরেক্টরের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এটাও ভেঙ্গে যায়। সবমিলিয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ আর হতাশা জন্মে ড. টেনমার মনে। এটাকেই গোয়েন্দা হত্যাকান্ডের মোটিভ হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু তারপরও সুযোগ্য প্রমাণ ও খুনের সময় ডাক্তারের অন্য জায়গায় উপস্থিতির কারণে ব্যাপারটা প্রায় নয় বছর স্থগিত থাকে। আর এ নয়বছর পর তেমন খুনটুন আর হতে দেখা যায় না।
কিন্তু নয়বছর পর। ডিরেক্টর মারা যাবার পর নতুন ডিরেক্টর আসে ও ড. টেনমা তার পুরনো পদ আবার ফিরে পায়। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছিলো, কিন্তু এরপরই আসে ঘটনার আসল টুইস্ট… হঠাৎ আরেকটা খুন হয় এবং সে খুনের সাক্ষী একজন চোর মারাত্মকভাবে আহত হয় ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে।
ড. টেনমা তাকে সুস্থ করে তোলার পর যেই চোরটি খুনীর বর্ণনা বলবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় ঠিক সেই রাতেই খুনীকে যে গার্ড নজরদারির মধ্যে রাখত সে মারা যায় ও চোরটি আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায়। এরপর সেইসূত্র ধরে ড. টেনমাও চোরকে তাড়া করলে নয় বছরের সেই পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে।
ভিলেনের সাথে তখন ডক্টরের মোলাকাত হয়। ভিলেনকে এত তাড়াতাড়ি দেখানো হবে এটা আমি আশা করিনি। তারপর ভিলেনটি বলে সে হল সেই বাচ্চা ছেলেটি যাকে টেনমা নয় বছর আগে অপারেশন করে বাঁচিয়েছিলো। এরপর যে খুনগুলো হয় এটা তারই করা। এরপর ড. টেনমার নৈতিকতা, ভ্যালু তাকে হন্টিং করা শুরু করে।
সে তো একজন ডাক্তার, মানুষ বাঁচানোই তার কাজ… কিন্তু তার বাঁচানো মানুষটাই আজ এসব ভয়ানক কাজ করছে। সে কী আসলেই ঠিক করেছে। তখন তার কাছে ভালো-খারাপের যে নৈতিকতা রয়েছে এই দ্বন্দ্ব এর যাতনায় সে প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। সে ভিলেনকে থামাবার চেষ্টা করে কিন্তু তার চোখের সামনে সে ঐ সাক্ষীকে খুন করে চলে যায়।
আর এরপরে ডক্টর হতাশ হয়ে গোয়েন্দাটিকে সমস্ত কথা বললে গোয়েন্দাটি তারপরও একে কাহিনী বলে সন্দেহ করতে থাকে ও মনে করতে থাকে ড. টেনমার নিশ্চয়ই দ্বৈত চরিত্র তথা ডাবল ক্যারেক্টার রয়েছে। সে সবার সামনে ভালো মানুষ কিন্তু যখন তার ক্যারেক্টার জেগে ওঠে তখন সে খুন করে ও আবার ভালো মানুষ হয়ে উঠে।
এরপর ডক্টর হাসপাতালের কাজ ছেড়ে দিয়ে ভিলেনকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে ও তাকে খুন করার কামনা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এতে পুলিশদের সন্দেহ বেড়ে গেলে ও তার এভাবে হঠাৎ উধাও হয়ে যাবার কারণে সে হয়ে যায় মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল।
এভাবেই অপরাধী হয়ে পালিয়ে বেড়িয়ে সেই ভিলেনকে খুঁজতে বেরিয়ে আরও ভয়ানক সব তথ্য বেরিয়ে আসে ও বেরিয়ে আসে গোপন অর্গানাইজেশনের কথা। ভিলেনের সম্বন্ধে মর্মান্তিক ও ভয়ানক সব তথ্য বের হতে থাকে। এবং এর সাথে আরও যুক্ত হতে থাকে অনেক চরিত্রের।
এ এনিমের মূল বিষয়ই হল ভিলেন। মানে ইয়োহানকে ঘিরে সমস্ত ঘটনা আবর্তিত হয়। আর এই চরিত্রকে এত সুন্দর করে চিত্রায়িত করা হয়েছে এটি আমাদের ভেতরকার শূন্যতা, একটা মানুষ যখন জীবনের অর্থ খুঁজে না পায় সে কিরূপ অসহায় হতে পারে ও শিশুমনে ভুল শিক্ষার কী পরিমাণ মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে তা আমাদেরে স্মরণ করিশে দিবে। ইয়োহান কে বলা যায় সে হল “Pessimistic nihilist” অর্থাৎ নেতিবাচক নৈরাশ্যবাদীর প্রতীক আর এর পেছনে রয়েছে তার অতীত জীবনের পারিপার্শ্বিক বিশাল প্রভাব যা ধীরে ধীরে এই চরিত্রটিকে গড়ে দেয়।
অপরদিকে ডক্টর এখানে আশাবাদী তার কথা হল একদিন না একদিন সুদিন আসবেই। সকল মানুষের জীবনের মূল্য সমান।
কিন্তু ইয়োহানের ধারণা হল মানুষ শূন্য,, এখানে মৃত্যু ছাড়া কিছুই নেই। তাই সবকিছু সে ধ্বংস করে দিতে চায় এমনকী নিজেকেও।
এভাবে পরস্পর দুটি ধারণা আমাদের এই এনিমের শেষে নিয়ে গিয়ে একটি গভীর বার্তা প্রদান করে যায়। নায়ক ও ভিলেন ছাড়াও এ এনিমে আরও যেকজন চরিত্র আছে তাদের নাম হলো – ডিটেক্টিভ লুংগে, এভা হাইনাম্যান, উলফ গ্রিমার, রবের্টো, নিনা, ডিটার, ফ্রান্স বোনাপার্টা ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মধ্যে থেকে আমাদের পছন্দের চরিত্রটি হল উলফ গ্রিমার। আর সবচেয়ে অপছন্দ হয়েছে রবের্টো কে। ডিটেক্টিভ লুংগে প্রথম প্রথম ভালো না লাগলেও পরবর্তীতে যেয়ে ভালো লেগেছে। ভিলেনকেও ভালো লেগেছে তবে তার থেকে বেশী লেগেছে ভয়। এরকম ইমোশনলেস ভিলেন হলে তা খুবই স্বাভাবিক, আর কথা তো বলে না যেন ঠান্ডা ছুরি। সবমিলিয়ে অনবদ্য ছিল এই এনিমে টি।
সবশেষে বলা যায়, এই এনিমে পরবর্তীতে গিয়ে আমাদের শেখায় ভালো-খারাপের দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে গিয়ে একটা পর্যায়ে এক চরম শূন্যতার মুখোমুখি হতে হয়। আর তখন জীবনের জন্য কিছু ভ্যালু বা অর্থ (meaning) এর প্রয়োজন হয় যা চূড়ান্ত ভালোবাসা থেকে আসে, ক্ষমা থেকে আসে, সমস্ত দ্বন্দ্বের উর্ধ্বে থেকে আসে।
 

Aria [Anime Recommendation/Review] — Arijit Soumik

Aria
Seasons :
  1. Aria the Animation (1st season)
  2. Aria the Natural (2nd season)
  3. Aria the OVA: Arietta
  4. Aria the Origination (3rd season), and
  5. Aria the Avvenire (OVA series with 3 episodes)
Genre: Sci-fi, Slice of life, Fantasy
 
এনিমে দেখার পিছে অনেক কারন থাকতে পারে। কেউ দেখে টাইম পাস করার জন্য, কেউ দেখে নিজের সময়টাকে ভালোভাবে উপভোগ করার জন্য আবার কেউবা দেখে ক্লান্ত মনকে রিফ্রেশ করার জন্য। আর এই জন্য এক নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি আছে। একে Iyashikei or feel good/healing anime ও বলে। আর এই ধরনের এনিমেগুলোর মাঝে একটি হচ্ছে Aria.
 
Plot and setting:
অন্যান্য SoL/Iyashikei anime থেকে Aria এর বৈচিত্রময় আকর্ষন হচ্ছে এর সেটিং। Aria এর গল্পের শুরু আর আবর্তন মূলত Aqua নামের এক গ্রহে (যা কিনা mars এর নতুন নাম) Neo Venezia শহরে। এই Neo Venezia আবার ইতালির Venice এর অনুপ্রেরণায় নির্মিত। আর এই শহরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে Water gondola guides যারা Prima Undine নামে পরিচিত। মিযুনাসি আকারি, Aria company এর এক apprentice যার স্বপ্ন prima undine হওয়ার। এই মনোরম শহরে তার ও তার বন্ধুদের জীবনযাত্রা কে কেন্দ্র করেই মূলত গল্প এগিয়ে যায়।
 
“A fateful encounter in life can lead to many miracles “ ~
এনিমেতে এটি খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। এছাড়াও জীবনে যেমন মোলাকাত আছে ঠিক তেমনি বিদায়ও আছে… তবে তা মেনেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এনিমে এই মেসেজটি অত্যন্ত নান্দনিক ভাবে দিয়েছে।
 
এনিমেটি প্রথমে কিছু ধীর মনে হতে পারে। তবে আমি বলবো এই ধীর গতি বরং এই এনিমের সাথে অত্যন্ত মানানসই। কারন এনিমেটিতে 1st season ছিলো মূলত character introduction আর Neo Venezia সম্পর্কে ধারনা দেওয়া। 2nd season ছিলো পুরো Aqua নিয়ে ধারনা দেয়া আর সাথে কিছু world building. আর এর ফল পাওয়া যায় 3rd season এ এসে। তার মানে এই না যে প্রথম দুই সিজনে কোন point of focus নেই। বরং এই দুই সিজনই গল্পের ভিত গড়ে দেয় আর 3rd সিজন একে আরো ডেভেলপ করে।
 
এনিমের art and animation আমার কাছে standard মনে হয়েছে। আহামরি কিছু না তবে এর যা purpose ছিলো তা ভালোভাবে fullfil করেছে মানে setting টা ভালোভাবে প্রকাশ করতে হেল্প করেছে। তবে যেদিকে এনিমেটি অসাধারণ সেটি হলো এর soundtrack. প্রতিটা গান এত্ত সুন্দর আর মনোমুগ্ধকর তা বলার মত না।
 
আর এনিমেটির প্রত্যেক ক্যারেকটার likeable and down to earth. Character interaction গুলো অত্যন্ত উপভোগ্য ছিলো। ক্যারেকটার গুলো কখন যে আপন হয়ে উঠবে বুঝতেও পারবেন না।
 
তবে voice acting এর কথা আলাদাভাবে না বললে VA দের প্রতি অসম্মান হবে। প্রত্যকে যে এনিমেটিকে নিয়ে কেয়ার করে তা তাদের ভয়েস এক্টিং শুনেই বুঝা যায়।
 
যাদের এই লকডাউনে আর কিছু ভালো লাগছে না বা যারা অনেক স্ট্রেসড আছেন তারা দেখে ফেলতে পারেন এই অসাধারণ এনিমে।
This one deserves more love to be honest.
 

Tower of God, Season 1 Anime – রিভিউ, আশা/হতাশা, ২য় সিজন নিয়ে আকাঙ্ক্ষা, এবং ১ম সিজনের গল্প নিয়ে সামান্য স্পয়লারযুক্ত আলোচনা – Tahsin Faruque

বিশাল বড় টাইটেল দেখে আগেই বিরক্ত না হতে অনুরোধ করছি। সিরিজটা নিয়ে বেশ অনেক কিছু বলার ছিল। এক পোস্টেই আপাতত মনের কথাগুলি বলে ফেলছি। টাইটেলের মত পোস্ট এত বড় হবে না আসলে।
টাওয়ার অভ গড – ২০২০ সালের সবচাইতে আলোচিত এনিমেগুলির একটি। ১০ বছর আগে শুরু হওয়া ও দিনে দিনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠা কোরিয়ান ওয়েবটুনের উপর ভিত্তি করে বানানো এনিমেটি নিয়ে আগ্রহের একটা বড় কারণ ছিল যে, এই সিরিজের মাধ্যমে কোরিয়ান মানহা বা ওয়েবটুনের এনিমে এডাপ্টেশনের পথে যাত্রার শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে নোবেলিজের ছোট ২-১ পর্বের এডাপ্টেশন ছিল, কিন্তু সেগুলিকে ঠিক আসল এনিমে বলা যায় না। টাওয়ার অভ গড দিয়েই আসল যাত্রাটা শুরু, যা এরপরে গড অভ হাই স্কুল দিয়ে সামনের দিকেই আগাতে থাকবে। এজন্যে এই সিরিজটি একটি বিশাল বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। তো, মাইলফলক সিরিজ হিসাবে কেমন অবদান রাখলো এটি?
আমার মতে, সিরিজটি অনেক অনেক বেশি ভাল হতে পারতো। তবে সেরকম ভাল না হলেও খারাপ হয় নি। সিরিজটি যদি দেখে থাকেন, তাহলে হয়তো আপনার মনে সিরিজটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকবে, মনে হবে কিছুই তো বুঝলাম না কী হল, কেন হল, একগাদা প্রশ্নের উত্তর পাবার বদলে আরও একশত প্রশ্ন গড়ে উঠলো। ব্যাপারটা স্বাভাবিক, কারণ শুধু এটুক মনে করতে পারেন যে এই ১৩ পর্ব যা দেখলেন (কিংবা যা দেখবেন যদি সিরিজটি দেখার প্ল্যান করেন), এটি অনেকটা নারুতো বা ব্লিচ বা ওয়ান পিস ধরণের বিশাল বড় এক মেগাসিরিজের সূচনা মাত্র। প্রথম ১৩ পর্ব মানহাটির প্রথম সিজন (অর্থাৎ প্রথম ৮০ পর্ব) এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও, এটুক অংশকে আসলে বড় সাইজের একটি prologue বলা যায়। ১ম সিজন শেষে গল্প যেখানে এসে দাঁড়ালো, সেখান থেকেই “আসল গল্প” শুরু হতে যাচ্ছে।
তবে এই কথা বলার অর্থ এটা না যে এর সব ত্রুটি মাফ হয়ে গেল। গুণ অনেক আছে যেমন, তেমনই দোষও নেহাত কম নেই। আপাতত ভাল অংশটুকু নিয়ে আলোচনা দিয়ে শুরু করি।
  • সম্ভবত সিরিজটির সবচাইতে ভাল দিক হচ্ছে এর মিউজিক। কেভিন পেনকিন সামনের দিনের সবচাইতে বড় এনিমে মিউজিক কম্পোজারদের একজন যে হতে যাচ্ছে, তা মেইড ইন এবিস, শিল্ড হিরোর পর টাওয়ার অভ গডের মাধ্যমে আবার একবার প্রমাণ করলো।
  • প্রথম দেখায় এনিমেশন তেমন ভাল লাগে নি, তবে এরপর একটু হাই কোয়ালিটির ভিডিওতে দেখার সময়ে বুঝলাম এনিমেশন আসলে খারাপ নয়। মানহার অরিজিনাল আর্টস্টাইল শুরুর দিকে খারাপ ছিল বেশ, নুবিশ আঁকা ছিল। পরের দিকে মাঙ্গাকার স্কিল বাড়তে থাকে, এবং আঁকার মানও উপরের দিকে উঠতে থাকে। এনিমের আর্টস্টাইল অনেকটা মাঙ্গাকার পরের দিকের আর্টস্টাইলের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে। কিছুটা নতুনত্ব আছে তা অস্বীকার করবো না।
  • যদিও ওয়ার্ল্ড বিল্ডাপ-এর প্রায় কিছুই দেখি নি আমরা, তারপরেও টাওয়ার অভ গডের দুনিয়াটা যে বেশ নতুনত্ব কিছু নিয়ে এসেছে, সেটা অবশ্যই বলতে হবে। টাওয়ার-টা আসলে কী, এর বাইরে কী আছে, এটা কত বড় – এমন হাজারোটা প্রশ্ন এটাকে বিভিন্ন মেগাসিরিজের মধ্যে একটাকে ইউনিক কিছু বানাতে পেরেছে। তথাকথিত “টাওয়ার” বেয়ে উঠতে গেলে যে বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা উতরে যেতে হবে, এটা দেখলে প্রথমেই হান্টার হান্টারের কথা মনে পড়তে পারে দর্শকের। তবে তারপরেও সিরিজটিতে এসব পরীক্ষানিরীক্ষার ধরণে অন্যরকম স্বাদ পাওয়া যায়।
  • একগাদা চরিত্র থাকলেও প্রায় সব বড় চরিত্র দর্শকদের পছন্দ হবার মত করেই বানাতে পেরেছে।
এবার আসি ক্রিটিসিজম প্রসঙ্গে।
 
  • অনেক তাড়াহুড়া করে গল্প আগাবে মনে হতে পারে। ৮০ চ্যাপ্টারের কন্টেন্ট ১৩ পর্বে এঁটে দেওয়া সহজ ব্যাপার না। পর্ব সংখ্যা অন্তত আরও ৩-৪টা বেশি হওয়া উচিৎ ছিল।
  • বড় বড় অনেক রহস্যের ব্যাখ্যা এখন না দিলেও, গল্পের এই পর্যায়ে এসে ওয়ার্ল্ড বিল্ডাপ নিয়ে যেসব সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দর্শকের জানতে পারা উচিৎ, তার অনেক কিছুই খোলাসা করা হয় নি।
  • আর বাকি যেসব নেগেটিভ দিক নিয়ে আলোচনা করবো, তা একটু নিচে স্পয়লার ট্যাগে আছে। দেখে নিতে পারেন।
 
 
২য় সিজন নিয়ে আশা/হতাশাঃ
১ম সিজন যেমনই হোক না কেন, দর্শকমহলে বেশ ভাল রিসিপশন পেয়েছে। ক্রাঞ্চিরোলের নিজস্ব প্রোজেক্ট বলে তারা ভাল করেই জানে কত বেশি দর্শক এটা দেখতে পেরেছে। (এক্ষেত্রে বলে রাখি, আপনি যদি বাংলাদেশে বা এই সাবকন্টিনেন্টে বসে দেখতে চান, ক্রাঞ্চিরোলে গিয়ে একদম 1080p-তেই দেখতে পারবেন আরামসে, একদম ফ্রিতে। তাই ফ্রিতে অরিজিনাল কন্টেন্ট সাপোর্ট করতে চাইলে একদম ক্রাঞ্চিরোলে গিয়েই দেখুন।) এজন্যে ২য় সিজন না আনাটা বোকামিই হবে তাদের জন্যে। তবে কিছু leaked source থেকে জানা গিয়েছে সামনের বছর ২য় সিজন আসবে। অফিশিয়াল ঘোষণা না আশা পর্যন্ত খবরটিকে আপাতত গুরুত্ব দিচ্ছি না।
তবে ২য় সিজন যদি আসে, আমি চাইবো যেন তারা rush না করে ভাল এডাপ্টেশন করতে পারে। ১ম সিজনের গল্প মানহাতে অনেক ধীরে ধীরে আগায়, যেটা আসলে rush না করলে দর্শককে বিরক্ত করে ফেলতে পারতো। তবে ২য় সিজন থেকে গল্প মানহাতেই ভাল স্পিডে আগায়। এটার স্পিড এনিমেতে আরেকটু বাড়াতে গেলে সর্বনাশ হবে। খেয়াল রাখবেন, টাওয়ার অভ গডের দুনিয়াটা বিশাআআআল, আর এখানে এত বেশি বেশি চরিত্র আছে যে, এনিমের পেসিং ঠিকমত না হলে দর্শকদের মাথা খারাপ হয়ে যাবে। স্পয়লার না দিয়েই বলি, মূল গল্পের অনেক মেইন চরিত্রকে এখনও আমরা এনিমের ১ম সিজনে দেখিই নাই। ২য় সিজন থেকেই আসলে এসব মেইন চরিত্রদের দেখতে পারবো। এজন্যে তাদের ক্যারেক্টার বিল্ডাপ খুব ভালমত হওয়া দরকার। ভালমত হওয়া দরকার সামনের দিকের কয়েকটা অসাধারণ রকমের ভাল story arc-এর। তাই, শুধু পেসিং জিনিসটি যদি ঠিক করতে পারে, আর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ না কেটে ফেলে, তাহলে ২য় সিজন থেকে এনিমে নিয়ে কোন চিন্তা থাকবে না আমার।
 
কাট-কন্টেন্ট যা থাকা উচিৎ ছিল, পরিবর্তিত কন্টেন্ট যা পরিবর্তন করা উচিৎ ছিল নাঃ
২য় সিজনের স্পয়লার দিব না, তবে ১ম সিজন যদি আপনি দেখে থাকেন, তাহলে আশা করি নিচের লেখাটি পড়তে সমস্যা হবে না। এখানে আমি মূল মানহার ১ম সিজনের শেষ পর্যন্ত গল্পের অংশে যেসব বড় বড় কন্টেন্ট এনিমেতে বাদ দিয়েছে বা পরিবর্তিত করেছে তা নিয়ে আলোচনা করবো। তাই, একটি স্পয়লার ওয়ার্নিং থাকলোঃ
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
  • সবার আগে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা বাদ দিয়েছে এনিমেতে (যেটার জন্যে আমি বেশ ভাল রকমের বিরক্ত), তা হল…
    আপনি কী জানেন যে Bam x Endorsi একটা বিরাট ব্যাপার!? জানেন না? ওয়েবটুনটি না পড়লে জানার কথাও না, কারণ এনিমেতে এই বিশাল জিনিসটা সোজা সাপটা বাদ দিয়ে দিয়েছে!!! খুব বিশ্বাস না হলে গুগলে গিয়ে Bam x লিখুন, এরপর Endorsi নিজে থেকেই চলে আসবে। গল্পের এই পর্যায়ে বাম ও এন্ডোরসির এই সম্পর্কে যে একদম রোমান্টিক তা নয়, তবে তাদের অনেক interaction একদম চোখ বন্ধ করে বাদ দিয়েছে এনিমেতে। তাদের এই সম্পর্ক এত বিশাল বড় যে এটার এক বড় প্রভাব ২য় সিজনে দেখতে পারবেন (যদি এনিমেতে দয়া করে সেটাও বাদ না দিয়ে রেখে দেয়)।
  • এন্ডোরসির ক্যারেক্টার বিল্ডাপের অনেক কিছু বাদ পড়ে গিয়েছে। বিশাল বড় ইগো-ওয়ালা এই চরিত্র যে ১ম সিজন শেষের আগেই best girl হয়ে যায়, তা এনিমে দর্শক হয়তো জানবেও না মানহা না পড়লে। Bam x Endorsi এর অংশগুলা যা বাদ দিয়েছে, সেখানেই এগুলির অনেক কিছু পড়েছে।
  • Rachel-এ সিরিজে অনেকবারই এমন আচার আচরণ করতে দেখিয়েছে, যাতে তার প্রতি শুরু থেকেই সন্দেহ থাকে সবার। ব্যাপারটি মানহাতে সেরকম ছিল না। এন্ডোরসির কথাতে এনিমের মত সে রাগ হয় নি, কথায় কথায় মানুষজনের তাকে সন্দেহ করতে দেখা যায় নি। সোজা কথা, ১২-১৩ পর্বে তার সেই বিট্রেয়ালটা একটা সারপ্রাইজ হিসাবেই ছিল মানহাতে, এনিমতে সেটা foreshadow করে এসেছে যখনই পেরেছে।
  • ক্রাউন গেমের শেষের দিকে গিয়ে বাম শিনসুতে পরিবর্তিত হয়ে যায় নি আসলে, মানহাতে জিনিসটা এভাবে দেখিয়েছিল যে, হোয়া রিউনের দিকে তার কাছ থেকে এক ঝলক শিনশু এটাক গিয়েছিল। তার ঐ শিনসু এটাকে ক্রাউন ধ্বংশও হয় নি, আর রাগ হারিয়ে রিউনকে মারতে গেলে ব্ল্যাক মার্চ সময় থামিয়েও দেয় নি, বরং বাম সেখানেই সেন্সলেস হয়ে যায়।
  • ব্ল্যাক মার্চের কথা যেহেতু এসেছিল, যতদূর মনে পড়ে, এনিমেতে একে কাতানা বলে উল্লেখ করেছিল মনে হয়। কোরিয়ান থেকে জাপানিজ ট্রান্সলেশনের ভুল কিনা জানি না, কিন্তু ব্ল্যাক মার্চ কাতানা নয়, নিডল (needle)। হ্যাঁ, নিডল বা সুই-টাইপের অস্ত্র। সোর্ড আর নিডল দুই আলাদা জিনিস, কেন সেটাও এনিমেতে ভাল করে বলে নি।
  • বাম যে বিশেষ কিছু, বা ওর মধ্যে যে ভয়ংকর পটেনশিয়াল লুকানো, সেটা আমার মনে হয় এনিমতে ভালমত দেখায় নি। কয়েকটা উদাহরণ দেইঃ
    * লেরো রো-এর সেই শিনসু টেস্টের সময়ে সবাই শিনসু দেওয়ালের পিছে চলে গিয়েছিল, বাম বাদে। এই ঘটনাটা এনিমেতে দেখে মজা লাগতে পারে, তবে যেটা সবচাইতে বড় ধাক্কা দিত, সেটা ছিল লেরো রো-এর মুখের এক্সপ্রেশন। মানহাতে লেরো রো যেই চেহারা করেছিল, সেটা দেখলে মনে হত ও জীবনের সবচাইতে বড় ভয়ংকর কিছু দেখেছে নিজ চোখে।
    * ক্রাউন টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র ওর uncontrollable shinsu flowটাই ওর ক্ষমতার একমাত্র indication ছিল না। মাঝখানে একটা বড় ফাইট একদম বাদ দিয়েছিল। সেখানে বামের ছোটখাট কিছু কারিশমা দেখলে বুঝা যেত ওর ট্যালেন্ট ধীরে ধীরে বাড়ছে।
    * Position training class, Hide and Seek – এই দুই জায়গাতে ranker-দের শিখানো দুইটা কৌশল এক দেখাতেই বাম শিখে ফেলে, যেটা ঐ ranker-দের ২-৩ বছর বা কয়েকশত বছর লেগেছিল শিখতে। বামকে একবারেই সেগুলি করতে দেখার পর ranker-দের মুখের এক্সপ্রেশন দর্শকদেরকে খুব সহজেই বুঝিয়ে দিতে পারতো বাম আসলে কোন লেভেলের monster. দুঃখের ব্যাপার, এনিমতে এগুলি ভালমত দেখায় নি।
  • বিভিন্ন পজিশনগুলি নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল (Fisherman, Wave Controller, Light Bearer, Scout etc.), সেই অংশটি অল্পের মধ্যে সেরেছে এনিমেতে। এই জিনিসটা এনিমেতে মানহার মত বড় করে দেখানো উচিৎ ছিল। সেটা না করাতে অনেকেই কনফিউজড হয়ে যেতে পারে, কারণ এই ধরণের পজিশন আইডিয়াটার সাথে আমরা এনিমে দর্শকরা পরিচিত না। ইউনিক একটা কন্সেপ্ট যেহেতু, এটা ভাল করে বুঝানো উচিৎ ছিল এনিমেতে। মানহাতে সেটা করেছিল।
  • আবার বাম ও এন্ডোরসির কথায় আসি। শেষ দৃশ্যে বামকে অনেক বেশি আশাবাদী হিসাবে দেখিয়েছে এনিমেতে। মানহাতে বাম তখন এত বড় বিট্রায়ালের পর মানসিকভাবে ভেঙ্গেচুড়ে গিয়েছে। জিনিসটা ২য় সিজনে রেটকন না করলে আসলে দুই সিজনের বামকে মিলাতে কষ্ট হবে দর্শকের। আর ওদিকে বামের “মৃত্যু”-এর খবরে এন্ডোরসির মনের ভিতর যেন শূন্যতায় ভরে গিয়েছিল। হ্যাঁ, মানহার এই বড় জিনিসটাও এনিমেতে নাই, কারণ কোন এক অদ্ভুত কারণ পুরা Bam x Endorsi জিনিসটা বাদ দিয়েছে এনিমেতে (যেই জিনিসটা মাফ করতে পারবো না)।
আরও কিছু ছোটখাট পরিবর্তন বা কাট-কন্টেন্ট ছিল, তবে সেগুলি অত গুরুত্বপূর্ণ না। এডাপ্টেশন করতে গেলে ওটুক পরিবর্তন করাই যায়। তবে উপরে বলা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলি শুধু শুধু গল্পকেই পরিবর্তন করে দিবে।
 
সবশেষে বলবো, মানহা যদি পড়তে চান, কষ্ট করে ১ম সিজনটা পাড়ি দিতে পারলেই চলবে। ২য় সিজনের একদম শুরু থেকে টানটান উত্তেজনা! খুবই ফ্যানফেভারিট একগাদা নতুন মেইন চরিত্র যুক্ত হবে, থাকবে পুরানো চরিত্রদের badass প্রত্যাবর্তন, আর সবচাইতে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে বাম নিজেই। এনিমের ২য় সিজনটাতে মানহা থেকে ভালমত এডাপ্টেশন করুক, এই আশায় পোস্ট এখানে শেষ করছি।

Genshiken [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

𝙂𝙚𝙣𝙨𝙝𝙞𝙠𝙚𝙣

সম্প্রতি দেখে ফেললাম ওতাকু সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি 𝙂𝙚𝙣𝙨𝙝𝙞𝙠𝙚𝙣 নামক সিরিজটি। ৩ টি সিজনে বিভক্ত সিরিজটির প্রেক্ষাপট একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ও তার সদস্যদের কেন্দ্র করে। 𝗠𝗼𝗱𝗲𝗿𝗻 𝗩𝗶𝘀𝘂𝗮𝗹 𝗖𝘂𝗹𝘁𝘂𝗿𝗲 𝗦𝘁𝘂𝗱𝘆 𝗦𝗼𝗰𝗶𝗲𝘁𝘆 বা সংক্ষেপে গেনশিকেন নামক ক্লাবটিতে সদস্যরা মূলত এনিমে, মাঙ্গা, গেইম , কসপ্লে, হেন্তাই এবং যাবতীয় ওতাকু সম্পর্কিত জিনিস নিয়ে আলাপ আলোচনা করে । গল্পের শুরু হয় ভার্সিটিতে সদ্য ভর্তি হওয়া কেঞ্জি সাসাহারা নামক ছেলেকে নিয়ে। বেশ নম্র ভদ্র স্বভাবের হলেও তার ইচ্ছা জাগলো বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ওতাকু জগতে একটু প্রবেশ করে দেখবে । গেনশিকেনের খোঁজ পেয়ে ক্লাবটিতে সানন্দে সদস্য হয়ে গেল সে। একইসাথে মাকোতো কোসাকা নামক আরেক ছেলে তার সাথে ক্লাবে যোগ দেয়। কোসাকা দৈহিকভাবে বেশ সুদর্শন । একইসময় সাকি কাসুকাবে নামক মেয়ে প্রথম দেখাতেই কোসাকা এর প্রেমে পড়ে যায় এবং অদ্ভুতভাবে দুইজনে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় এই অল্প সময়ে । কিন্তু ওতাকু কালচারকে অপছন্দ করা কাসুকাবে তার প্রেমিকের গেনশিকেন ক্লাবে যোগদানের ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখলো না। তবু বাধ্য হয়ে ক্লাবে নিয়মিত যাতায়াত চলতে থাকে তার । একই সময় ক্লাবের পুরাতন সিনিয়র সদস্যদের সাথে সদ্য যোগ দেয়া এই ৩ জনের নানা হাসি ঠাট্টা, খোঁচাখুচি চলতে থাকে এবং এভাবে দিনকাল অতিবাহিত হতে থাকে।

মতামত ও পর্যালোচনা:
এই সিরিজের সবচেয়ে বড় দিকটা আমার মতে এর বাস্তবতা এবং ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট। ভার্সিটির শেষ বছরগুলোতে সবার চাকরি খোঁজা নিয়ে ব্যস্ততা ও হতাশা, প্রেমের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সঙ্গীর ভালো মন্দ লাগার ব্যাপারটা না চাইতেও মেনে নেয়া ও একটা সময় তাতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া, পেশাগত জীবনকে আলিঙ্গন করতে যেয়ে পুরনো সুখ স্মৃতিগুলো বিসর্জন দেয়ার মতো দিকগুলো ফুটে এসেছে। অন্যদিকে প্রায় প্রতিটি মূল চরিত্রকে বেশ ভালো রকম স্ক্রিন টাইম দিয়ে তাদেরকে গভীরতা দান করা হয়েছে । প্রত্যেকের দৃষ্টিকোণ থেকে একে অপরকে দেখানো হয়েছে। ধীরে সুস্থে সময় ও যত্ন নিয়ে এদের মধ্যে একটা গভীর বোঝাপড়া গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে সিরিজের আরেকটা ভালো দিক ছিল এর গল্প। স্লাইস অফ লাইফ হিসাবে গল্পের পেসিং নিয়ে এ ধরনের সিরিজে অনেক সময় সমস্যা দেখা যায়, বোরিং লাগে। কিন্তু সিরিজটিতে সেরকমটা লাগেনি মোটেও। যতটুকু ধীর ছিল, সেটা চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন ছিল।
এতক্ষণ যা যা বললাম সেগুলো মূলত প্রথম ২ সিজনের ব্যাপারে বলেছি। ৩য় সিজন থেকেই শুরু যত বিপত্তি। নতুন চরিত্রগুলোর মাঝে আগের মতো সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল না। ক্লাবের কাজগুলো খুব রসকষহীন লাগছিল। গল্প Repetitive হয়ে যাচ্ছিল। পুরো গল্প বলতে গেলে শুধু ২ টা চরিত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছিল যেটা প্রথম ২ সিজনের পুরো বিপরীত। তবে মাদারামে এর চরিত্রটার এক্ষেত্রে প্রচুর বিকাশ ঘটে। ক্লাবের সবচেয়ে “বড় ওতাকু” এই সময় ম্যাচিউরিটি অর্জন করে। মাদারামে এর এই পরিপক্বতা দেখার মতো ছিল। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পুরো ৩য় সিজন মানে 𝗚𝗲𝗻𝘀𝗵𝗶𝗸𝗲𝗻 𝗡𝗶𝗱𝗮𝗶𝗺𝗲 একটা আক্ষেপের নাম ছিল আমার কাছে। ক্লাবের পুরো ফোকাস হঠাৎ করে BL আর cross-dressing এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। প্রথম ২ সিজনে যেভাবে ছোটো থেকে বড় সকল চরিত্রের সুন্দর ডেভেলপমেন্ট দেখা গেছে, সেই তুলনায় ৩য় সিজনে মন ভরেনি। বিশেষত কুচিকি নামক চরিত্রটাকে তো ব্যবহার ই করা হয়নি ঠিকমতো। অল্প যেটুকু স্ক্রিনটাইম দেয়া হয়েছে কুচিকি কে, তা অযথা কাজকারবারে নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ ভারী রকম character based এই সিরিজে কুচিকি কে খুব ভালো করে ব্যবহারের সুযোগ ছিল।
সে যাই হোক। ৩য় সিজনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল মাদারামে এর চারিত্রিক বিকাশ। সম্ভবত, মাদারামে এর জন্যই পুরো ৩য় সিজনটা বানানো হয়েছে এক হিসাবে। পুরো সিরিজের সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হিসাবে মন জয় করে নিয়েছে।
সর্বোপরি, ওতাকুদের নিয়ে এ পর্যন্ত বেশ অনেকগুলো সিরিজ দেখেছি। তবে নিঃসন্দেহে 𝐆𝐞𝐧𝐬𝐡𝐢𝐤𝐞𝐧 এদের মধ্যে সেরা। ৩য় সিজনের কথা বাদ দিলে চমৎকার একটা সিরিজ। এনিমে, মাঙ্গা নিয়ে আমরা যারা সারাদিন মেতে থাকি, তাদের জন্য সিরিজটা দেখা আবশ্যক আমার মতে।

রেটিং
প্লট: ৮/১০
গল্প: ৮/১০
চরিত্রায়ন: ৮.৫/১০
এনিমেশন-আর্টওয়ার্ক: ৭.৫/১০ (আগের দিনের সিরিজ। সেই হিসাবে ভালোই)
সামগ্রিকভাবে –
সিজন ১+২: ৮/১০
সিজন ৩: ৭.৫/১০ (মাদারামে এর জন্য ০.৫ বাড়িয়ে দিলাম। এছাড়া ৭/১০ এর বেশি দিতে মন সায় দিচ্ছে না। বলে রাখা ভালো, আমার ৭ রেটিং হয়ত অন্যদের ৬.৫ বা ৬ এর সমান হবে 😂)

Beastars [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

এই উপমহাদেশের লোকগল্পের একটা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রচুর পরিমাণে anthropomorphic চরিত্র ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জীবনের নানা কাহিনীর বর্ণায়ন করা হয়। ছোটবেলায় শেয়াল পণ্ডিত আর কুমিরের বাচ্চাদের সেই কাহিনী শুনে নি এমন কেউ বোধহয় নেই। এই গল্পে পশুপাখির মাধ্যমে যেভাবে মানব চরিত্রের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে সেটাকেই anthropomorphism বলে। লোকগল্পে এই উপাদানটার ব্যবহার বেশ পুরনো। অনেক অনেক আগের পঞ্চতন্ত্রে যেমন এর ব্যবহার আছে, আমাদের সুপরিচিত ঠাকুরমার ঝুলিতে আম-সন্দেশ নামের একটা অধ্যায়ই আছে পশুপাখির মাধ্যমে বলা রূপকথাগুলো নিয়ে। আধুনিক সাহিত্যেও এর ব্যবহার আছে। লর্ড অফ দ্যা রিংসের কথা উল্লেখ করা যায় আর জর্জ অরওয়েলের অ্যানিমেল ফার্মের কথা তো সবারই জানা।

তো জাপানিজ পপ কালচারে জিনিসটা যেভাবে ব্যবহার করা হয় সচরাচর তাকে আর যাই হোক সুশীল কিছু বলা যায় না। ইন্টারনেটে furry কমিউনিটির কার্যকলাপ অনেক দেখা যায়, তা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই। অন্যকে বিরক্ত না করে সবাই যার যার আগ্রহের জিনিস চর্চা করা মোটেই খারাপ কিছু নয়।

তো এই গতানুগতিক ধারায় একটা নতুন হাওয়া নিয়ে আসা এনিমের নাম Beastars. সিরিজটা একই নামের একটা মাঙ্গা থেকে অ্যাডাপ্ট করা হয়েছে। সেই ২০১৬ সাল থেকে মাঙ্গাটা চলছে, অথচ এতদিন এটা নজরেই পড়ে নি কখনো।

বিস্টার্সের দুনিয়া আমাদের দুনিয়ার মতই এক দুনিয়া যেখানে পশুপাখিরা মানুষের মত সামাজিক জীবনযাপন করে। মানবসমাজে সাধারণত যা দেখা যায় তার সবই আছে সেখানে শুধু মানুষই নেই। সেখানে নগর, বন্দর, সভ্যতা যা বলা যায় সবই আছে। এখানে পশুপাখি মানুষের মত নয়টা-পাঁচটা অফিস করে বাসায় এসে সন্তানের কপালে চুমু খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তারা সুখ পেলে হাসে, দুঃখ পেলে কান্নাও করে। ধর্ম, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবগুলা superstructure ই সেখানে দারুণভাবে বিদ্যমান।

তবে মানবসমাজের হাজার বছরের পুরনো অভিশাপ বর্ণবাদ বিস্টার্সের দুনিয়াতে এখনও প্রবলভাবে নিজের আসন গেঁড়ে বসে আছে। বিস্টার্সের সমাজ মোটা দাগে তৃণভোজী ও মাংসাশী; এই দুই জাতিতে বিভক্ত। সমাজে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় এখানে তৃণভোজী আর মাংসাশীরা একই সাথে বসবাস করে। তারপরেও সর্বদা একটা অদৃশ্য টেনশন কাজ করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। মাংসাশীরা কোন একদিন নিজেদের মধ্যকার
শিকারী সত্ত্বার কাছে হার মানবে এই ভয়ে তৃণভোজী প্রাণীরা সবসময়েই তটস্থ থাকে।

সেই দুশ্চিন্তায় জ্বালানি যুগিয়ে দেয় এনিমের শুরুতেই ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা। তেম নামের এক মেষকে মৃত ও আধাখাওয়া অবস্থায় আবিষ্কার করা হয় চেরিংটন হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে। ধারণা করা হয় তেমের কোন মাংসাশী সহপাঠীই খুনটা করেছে। পুরো স্কুলে একটা আতংকের জোয়ার বয়ে যায়। তৃণভোজী প্রাণীরা রাত ও অন্ধকার এড়িয়ে চলতে শুরু করে আর তাদের মাংসাশী বন্ধুদের অবিরাম সন্দেহের চোখে রাখা শুরু করে।

তো এসব ঘটনার সাক্ষী চেরিংটন হাইস্কুলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমাদের প্রোটাগনিস্ট লেগোসি। এই স্কুলের সবাই ডরমিটরিতে থেকে পড়াশুনা করে। লেগোসি একজন নেকড়ে, লম্বা একহারা তার গড়ন; চালচলনে একজন স্বাভাবিক নেকড়ের পুরো উল্টো সে। ক্লাসের সবাই লেগোসিকে ধোয়া তুলসি পাতা বলেই জানে, কারোর সাত-পাঁচ কোনটাতেই নেই সে। তেম নামের সেই মেষ ছিল ড্রামা ক্লাবে তারই ক্লাসমেট, তাই মানসিকভাবে সেও কিছুটা মুষড়ে পড়ে।
তার পরের দিনই লেগোসির জীবনে একটা মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে যায়। ড্রামা ক্লাবের একটা কাজের জন্য সে যখন ক্যাম্পাসে রাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে তখন তার চোখে একাকী এক খরগোশকে চোখে পড়ে। দেখামাত্রই চকিতে তার মধ্যের শিকারী মনোভাব জেগে উঠে। সারাজীবনেও সে যে কাজ করার কথা ভাবে নি সে তাই করে বসে, প্রচণ্ড এক লাফে সে সেই খরগোশটার উপর ঝাপিয়ে পড়ে…

থিমের দিক দিয়ে চিন্তা করলে বিস্টার্স অসাধারণ একটা গল্প। সুক্ষ্ম ও স্থূল, দুই ভাবেই এখানে এই এনিমেতে বর্ণবাদের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শ্রেণী বৈষম্যকে পশুপাখির মাধ্যমে বেশ বাস্তবভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই এনিমের গল্পে। আধুনিকায়ন যে আসলে আদিম সমাজের শিকারী ও শিকার মনোভাবকে দমিয়ে রাখতে পারে না তার সুন্দর চিত্রায়ণ ঘটেছে এই এনিমেতে। টুকরো টুকরো অনেক জায়গা আছে বিস্টার্সে যা আসলে মানবসমাজের অনেক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এর ফলেই বিস্টার্স পরিণত হয়েছে একটা দারুণ সাইকোলজিকাল এনিমেতে। এখানে হাইস্কুলের একগাদা ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে পুরো সমাজব্যবস্থাটাকেই সুনিপুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই জায়গায় মাঙ্গাকার প্রশংসা করতেই হবে, এরকম ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনা সচরাচর দেখা যায় না। কিশোর-কিশোরীরা গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় coming-of-age স্টোরি হিসেবেও বিস্টার্সকে অনবদ্য মনে হয়েছে আমার কাছে।

বিস্টার্সের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক নিঃসন্দেহে এর চরিত্রগুলো। এখানে মাঙ্গাকার প্রশংসা করে কুলানো সম্ভব নয়। তিনি রীতিমতো বাধ্য করেছেন আমাদের চরিত্রগুলোকে মানুষের মত বিবেচনা করতে। কল্পনাশক্তি ও বাস্তবতাবোধের পরিমিত মিশ্রণ না ঘটাতে পারলে বিস্টার্সের চরিত্রগুলো এত ইন্টারেস্টিং হতো না। নানা দ্বন্দ্বে ভোগা লেগোসি, জীবনের কোন অর্থ খুঁজে না পাওয়া খরগোশ হারু, অতি উচ্চাভিলাষী হরিণ লুই; এই তিনটি ক্যারেকটারের আচার-আচরণ যেন আমাদের জীবনের পাতা থেকেই তুলে আনা। ছোট ছোট চরিত্র যেমন লেগোসির কৌহাই আরেক নেকড়ে জুনো আর তার ড্রামা ক্লাবের ক্লাসমেটগুলো অনেক কম স্ক্রিনটাইম পেয়েও নিজেদের কাজ পুরোপুরি করতে সমর্থ হয়েছে। সাথে আছে বিপদের বন্ধু পান্ডা গিওর্নো-সান যে কিনা লেগোসির কমপ্লেক্স সাইকোলজির উপর আলোকপাত করতে সমর্থ হয়। চরিত্রগুলো একে অপরের প্রতি যে অনুভূতিগুলো ধারণ করে থাকে যেমন: লেগোসি-হারু-লুইয়ের ত্রিভুজ প্রেম দ্বন্দ্ব, বিলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা তৃণভোজীদের প্রতি ঘৃণা আর সে সুবাদে লুইয়ের প্রতিও সুপ্ত জিঘাংসা মনোভাব, জুনো আর হারুর মধ্যে লেগোসিকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা; এগুলো এত এত বাস্তব যে পশুপাখির মুখোশের আড়ালে যেন নিজেদের চেহারাই দেখতে পাই। শুধু নেতিবাচক ঘটনগুলোই মনে দাগ কাটে এমন নয়, কিছু ছোট ছোট ইতিবাচক ঘটনাও আমাকে দারুণ স্পর্শ করেছে। ব্ল্যাক মার্কেটে পথ হারানো লুই যখন শেষে দেখে তার মাংসাশী বন্ধু আওবা সৎবিৎ ফিরে পেয়ে তার মতই অন্ধকার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন লেগোসির মত আমিও সমান আনন্দিত হই এত এত আবর্জনার ভিড়ে এমন এক পদ্মফুল ফুটতে দেখে। আরেকটা ছোট গল্প খুব ভাল লেগেছিল, সেটা হল লেগোসির ক্লাসে তার পাশে বসা মুরগীর কাহিনী। এই মুরগীর মত মানবিক চরিত্র কমই আছে এই সিরিজে আর সেটা সে তার পাঁচ মিনিটের উপস্থিতিতেই বুঝিয়ে দিয়ে সক্ষম হয়েছে। মুরগীটা নিয়মিত উন্নতমানের ডিম পাড়ে যেন মাংসাশীদের পুষ্টির অভাব না হয় সাথে এটাও যেন না হয় যে মাংসাশীরা খাদ্যের অভাবে তাদের সুপ্ত প্রবৃত্তির কাছে হার না মেনে ফেলে। এরকম সর্বমুখী আদর্শবাদী কাজকর্ম সমাজে এখন বিরল।

বিস্টার্সের একটা বড় থিম হলো শিকারী প্রাণীদের শিকার করার প্রবৃত্তি ও তা নিবৃত্ত করার জন্য সমাজব্যবস্থার গ্রহণ করা নানা পদক্ষেপ। এই জায়গাটাতে এসে আমি চিন্তার খোরাক পেয়েছি অনেক। শিকার করা যদি মাংসাশীদের মজ্জার মধ্যে মিশেই থাকে তাহলে সেটাকে এভাবে নিয়মকানুন দিয়ে চাপিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টাটা আসলে কতটা সফল? আমরা মানুষেরা এভাবে নানা বেড়াজালের মধ্যে ক্রমাগত আটকে থেকে আসলেই নিজেরাই নিজেদের বন্দী করে রাখছি, বিপরীতে অন্যান্য সৃষ্টিকুল নিজেদের প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হয়ে একটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে; এরকম চিন্তা বিস্টার্স দেখে আবারও এসেছে আমার মাথায়। বিস্টার্সের দুনিয়ার নাগরিকরা মানুষের মত নিজেদের নানা নিয়মে আবদ্ধ রেখে এই অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। আর এই অস্বস্তিকর পরিবেশে তৈরি হওয়া টেনশনকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে মাঙ্গাকা এই ভাল ভাল গল্পগুলো উপহার দিয়েছেন আমাদের। এই জায়গায় আবারও মাঙ্গাকার ভূয়সী প্রশংসা করবো।

অ্যানিমেশনের প্রসঙ্গে আসি। কোন এনিমের সাথে সিজিকে এত সুন্দরভাবে খাপ খাওয়াতে খুব কমই দেখেছি বিস্টার্সের মত। দেখে মনে হয়েছে মাঙ্গাটা লেখাই হয়েছিল এভাবে থ্রিডি সিজিতে তৈরি করার জন্য। সিজির ব্যবহারে যে জড়তা তৈরি হয় অ্যানিমেশনে, সেটা ব্যবহার করে এনিমেটা আরো দশগুণ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। রটোস্কোপিক অ্যানিমেশনের কারণে যেমন আকু নো হানার এনিমে রীতিমতো জান্তব হয়ে উঠেছিল। এনিমেটা স্টুডিও অরেঞ্জের বানানো, যারা এর আগে Land of the lustrous বানিয়ে সিজির ঝলক দেখিয়েছিল। এই স্টুডিও কোন মাঙ্গা অ্যাডাপ্ট করার সিদ্ধান্ত নিলে সেটার এনিমে ভিন্ন একটা আবহ নিয়ে বের হয়ে আসে। সামনে তাদের আরো একক কাজের অপেক্ষায় রইলাম।

ওপেনিং সং Wild একটা অসাধারণ মিউজিক কম্পোজিশনের উদাহরণ। ইউটিউবে দেখলাম আর্টিস্ট ব্যান্ড ALI একটা মাল্টিন্যাশনাল গ্রুপ। জ্যাজ আর র‍্যাপ মিশিয়ে তারা দারুণ একটা গান তৈরি করেছে। আর এর সাথে সমানভাবে তাল মিলিয়েছে স্টপ মোশন অ্যানিমেশনে বানানো ওপেনিং ক্রেডিটটা। ওপেনিং ক্রেডিটটা সিরিজটাকে আরো জান্তব করে তুলেছে। বিশেষ করে That’s called Jazz বলার মুহূর্তে যে রক্তের দৃশ্যটা দেখানো হয় তার মত ক্রিপি দৃশ্য আমি কমই দেখেছি। এরকম অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়েছিল আরেক গ্রেট সাতোশি কনের এনিমে Paranoia Agent এর ওপেনিং ক্রেডিট দেখার সময়। চরম অস্বস্তিকর হওয়ার পরেও একবারও স্কিপ করতে পারি নি ওপেনিংটা।

২০১৯ সালের অনেকগুলো ভাল এনিমে দেখা বাকী পড়ে ছিল এতদিন, বিস্টার্স তার মধ্যে একটা। এখন আফসোস হচ্ছে আগে দেখে থাকলে টপচার্টে সাইকোলজিকাল পোলে একে ভোট দিতে পারতাম। বিস্টার্স নিঃসন্দেহে ম্যাচিউর ঘরানার এনিমে দর্শকদের জন্য বড় একটা উপহার। আবার নেটফ্লিক্সে সম্প্রচারিত হওয়ার কারণে অনেক নন-এনিমে দর্শকও এনিমের প্রতি ঝুঁকবে এর মাধ্যমে। সেকেন্ড সিজনের ঘোষণাও এসে গেছে শুনলাম। মাঙ্গাটা পড়বো কিনা ভাবছি। সিরিজের অ্যানিমেশনের স্টাইল নিয়ে মাঙ্গা ফ্যানদের বেশ কিছু আপত্তিও দেখলাম।

সবশেষে, ম্যাচিউরড ও কিঞ্চিৎ ডার্ক জিনিস পছন্দ করা দর্শকদের জন্য বিস্টার্স প্রচণ্ডভাবে রেকমান্ডেড। Furry জিনিস বলে একে এড়িয়ে যাবেন না।

Chainsaw Man [মাঙ্গা রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Chainsaw Man

জনরা: অ্যাকশন, ডার্ক ফ্যান্টাসি

১৬ বছরের অনাথ কিশোর দেনজি। সদ্য সে নিজের একটা কিডনি বারো লাখ ইয়েনে, একটি চোখ তিন লাখ ইয়েনে আর নিজের একটি অণ্ডকোষ বিক্রি করেছে এক লাখেরও কম ইয়েনে। গাছ কেটে সে কষ্টেসৃষ্টে আরো হাজার ষাটেক ইয়েন যোগাড় করেছে। তারপরেও ইয়াকুজার কাছে তার ঋণ শোধ করা বাকী আছে আরো তিন কোটি আশি লাখ চল্লিশ ইয়েনের মতো। অযোগ্য বাবা মরে গিয়ে তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে গেছে এই ভার। প্রিয়জন বলতে তার আছে শুধু পোষা কুকুর পোচিতা যে আসলে একটা চেইন-স সদৃশ ডেভিল।
তো পোচিতাকে নিয়ে ঋণ শোধের জন্য ডেভিল হান্ট করে দেনজি। জীবনের সব মৌলিক চাহিদা থেকে বলতে গেলে বঞ্চিতই দেনজি। স্কুলে যায় নি সে কখনো, থাকে একটা নড়বড়ে ঘরে, যা পায় তাই খায়। বুক ভরে তার স্বপ্ন একটা সুন্দর জীবনযাপন করার, হয়তোবা সুন্দরী কোন এক মেয়ের সঙ্গও পাওয়ার আশা করে দেনজি।

বিন্দু বিন্দু শিশির দিয়ে দীঘি পূর্ণ করার আশা রাখা দেনজিকে একদিন তার ইয়াকুজা বস ডেকে নেয় বিশেষ কাজে। এক পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়া দেনজিকে ডেভিল হান্ট করার জন্য। সেখানে ইয়াকুজার সাঙ্গপাঙ্গরা পোচিতাসহ তাকে টুকরো টুকরো করে কেটে ময়লার ড্রামে ভরে রাখে। আসলে ইয়াকুজারা সবাই এক ম্যানিপুলেটিং ডেভিলের আদেশ মানছিল এতক্ষণ। বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়া দেনজি অবচেতন মনে পোষা কুকুর পোচিতার সাথে চুক্তি করে, সে নিজের পুরো দেহ দান করবে পোচিতাকে বিনিময়ে পোচিতা তাকে দেবে স্বাভাবিক মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণের সুযোগ।

লাইফ লাইন পেয়ে দেনজি আবির্ভূত হয় চেইন-স ম্যান হিসেবে। চেইন-সর নির্মম আঘাতে সে কেটে টুকরো টুকরো করে ডেভিল আর তার চেলাপেলাদের। সরকারি ডেভিল হান্টাররা ঘটনাস্থলে এসে রক্ত-মাংসের স্তুপের মাঝে দেনজিকে আবিষ্কার করে। উচ্চতর অফিসার মাকিমার নজরে পড়ে যায় দেনজি আর মাকিমা তাকে সরকারি ডেভিল হান্টারদের দলে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে তিনবেলা খাবার আর একটা শোয়ার জায়গার প্রস্তাব পেয়ে খুশীমনে রাজি হয়ে যায় দেনজি।

তো চেইন-স ম্যানের কাহিনী শুরু এখানেই। মাঙ্গাটা ২০১৯ সাল থেকে উইকলি শোউনেন জাম্পে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত বের হয়েছে ৭২ চ্যাপ্টার। বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে এর মাঝে। Mangaplus এ টপ টেনে থাকে প্রতি সপ্তাহেই।

চেইন-স ম্যান মাঙ্গাটার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত এর আন-অর্থোডক্স অ্যাপ্রোচ। মাঙ্গাটা আসলেই শোউনেন জাম্পে কিভাবে এত ভালভাবে ছাপানো হচ্ছে সেটা আসলে চিন্তার বিষয়। জাম্পে সাধারণত এত ব্রুটাল আর grotesque আর্টের মাঙ্গা সহজে দেখা যায় না। শোউনেন হিসেবে ধরলে এর স্টোরি, ক্যারেকটার ডিজাইন, আর্টস্টাইল আর সংলাপ সবই অত্যন্ত প্রথাবিরোধী। পুরো মাঙ্গাটাতেই গোছানো জিনিস খুঁজে পেলাম না তেমন, সবকিছুই প্রচণ্ড রকমের অগোছালো। যেন কেউ চেইন-স দিয়েই এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে মাঙ্গাটাকে আগাগোড়া।

চেইন-স ম্যানের ক্যারেকটারগুলো চরম ব্যতিক্রম। শোউনেন মাঙ্গার নিয়মিত বৈশিষ্ট্য যে বন্ধুত্বের জয়গান তার ছিটেফোঁটাও নেই ক্যারেকটারগুলোর মাঝে। ক্যারেকটারগুলো এমন একটা দুনিয়ায় বসবাস করে যেখানে যেকোন মুহূর্তে জীবন চলে যেতে পারে ডেভিলের হাতে। তার প্রভাবে ক্যারেকটারগুলো হয়ে উঠেছে প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রীক, নিষ্ঠুর আর বাস্তববাদী। দিনে এনে দিনে খেতে খেতে ক্যারেকটারগুলো মানুষ মানুষের জন্য এই প্রবাদটা যেন সবাই ভুলেই গেছে। আর মাঙ্গাকাও যেন এই জিনিসটা লুকানোর কোন চেষ্টাই করেন নি। পাবলিক ডেভিল হান্টাররা বেশিরভাগই জনগণের সেবার জন্য কাজে যোগ দেয় নি। বেশীরভাগই ডেভিলদের হাতে কোন না কোনভাবে ক্ষতির স্বীকার তাই প্রতিশোধস্পৃহাই তাদের কাজে লেগে থাকার মোটিভেশন। হিরোইজমের ছিটেফোঁটাও নেই তাদের মাঝে। মানুষও তাদের অত মহান কিছু মনে করে না। এই বৈশিষ্ট্যটা মাঙ্গাটার ডার্ক ফ্যান্টাসি হওয়ার পেছনে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে যে জিনিসটা Shueisha এর অন্য দুই মাঙ্গা হিরো অ্যাকাডেমিয়া আর ওয়ান পাঞ্চ ম্যান সযত্নে পরিহার করেছে। ক্যারেকটারগুলো মারাও যায় ধুপধাপ, এমনকি টেরও পাওয়া যায় না কখন কে মারা গেল। বেঁচে থাকা মানুষগুলোও মারা যাওয়া মানুষগুলো নিয়ে অত চিন্তিত না। বিশাল একটা ম্যাসাকারের মাধ্যমে বড় একটা পেইজ শেষ হয়ে গেলে দেখা যায় পরের পেইজেই সবাই দৈনন্দিন জীবনযাপন করছে, যেন সবকিছু সয়ে গেছে তাদের। এই জায়গাটাতে মাঙ্গাকা তাতসুকি ফুজিমোতোকে রীতিমত ‘uncensored’ বলবো আমি।

মাঙ্গার শ্রেষ্ঠ দিক নিঃসন্দেহে এর brutal, gritty, grotesque আর্টস্টাইল। কালো কালির অত্যধিক ব্যবহারের কারণে প্যানেলগুলো আরো ভয়াবহ রকমের ভায়োলেন্ট হয়ে উঠে। বিশেষ করে কিছুটা মানুষের মত দেখতে (হিউমনয়েড) ডেভিলগুলার আর্টগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ। দেনজির প্রতিটা ট্রান্সফরমেশন গায়ে কাঁটা দেয়। এনিমে আসবে নিঃসন্দেহে তবে এই gory পরিবেশটা কিভাবে স্টুডিও ধরে রাখবে সেটা একটা দেখার মত বিষয়। অ্যাকশন প্যানেলগুলো সব দুর্দান্ত আর প্রচণ্ড ফাস্ট-পেসড। ইউসুকে মুরাতার আঁকার সাথে মিল পাওয়া যায়, তবে মুরাতার মত অত ডিটেইলড না। ক্যারেকটারগুলোর ভয়ার্ত, আতংকিত আর নিষ্ঠুর ভাবলেশহীন চাহনি মাঙ্গাটাতে হরর এলিমেন্টের আমদানী করেছে সুন্দরভাবে।

তারমানে মাঙ্গাতে কমেডি নেই এমন না। দেনজির জীবন-দর্শনটাই একটা বিশাল কমেডি। বিশেষ করে ভয়ংকর ভয়ংকর কাজ করার পেছনে তার হাস্যকর স্বার্থসিদ্ধিগুলো সবচেয়ে মজার। বিস্তারিত বলে পাঠকদের মজা নষ্ট করতে চাচ্ছি না এখানে। তবে বেশীরভাগ কমেডিগুলাই কেমন জানি অস্বস্তিকর। এচ্চি কিছু ম্যাটেরিয়াল দেয়া হয়েছে তবে সেগুলাও সস্তা বিনোদনের যোগান দেয় না। বিন্দুমাত্র কামভাব জাগায় নি এচ্চি সিচুয়েশনগুলা। বরং বয়ঃসন্ধিকালের অস্বস্তিকর মানসিক টানাপোড়েন উঠে এসেছে আকু নো হানার মতো। পাওয়ার আর দেনজির এক বাথটাবে শুয়ে সময় পার করার দৃশ্যটা ভিন্ন এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। এই সাইকোলজিকাল দিকগুলো মাঙ্গাটাকে বেশ মৌলিক করে তুলেছে আমার মতে। শোউনেন জাম্পের পাতায় এমন জিনিস দেখতে পাবো ভাবি নি।

সব মিলিয়ে বিধ্বংসী এক অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে আমাকে চেইন-স ম্যান আমাকে। দুইদিনেই পড়ে ফেলেছি সবগুলা চ্যাপ্টার। আস্তে আস্তে ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিংও হচ্ছে মাঙ্গাটাতে। গান ডেভিলই সম্ভবত সিরিজের মেইন ভিলেন, দারুণ একটা মিথ গড়ে উঠেছে তাকে ঘিরে। সবাই কেন চেইন-সর হার্ট শিকার করতে চাইছে তাও একটা দারুণ সাসপেন্স জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথাবিরোধী এই মাঙ্গার সাফল্য কামনা করছি, আশা করি জাম্পের টপ ফাইভে উঠে আসবে সামনে। (যেহেতু Kimetsu no yaiba শেষ ও The Promised Neverland শেষের দিকে)

Violet Evergarden [রিভিউ] — Loknath Dhar

I want to know what ‘I love you’ means.
– Violet Evergarden.
 
মানুষ – অদ্ভুত, জটিল একটা প্রাণী। সহজ, সরল আবেগগুলোকে কি জটিল করেই না উপস্থাপন করে! মাঝে মাঝে মনে হয়, সকল অসুন্দর আর সুন্দর -এর জন্ম এই সহজ আর জটিলতার মাঝে। আমার মনে পড়লো, একদিন ছোটভাইয়ের সাথে আমার রেগে যাওয়ার কথা, কোন একটা কারণে রেগে গিয়ে ফোনে বললাম, আবারও ফোন করলে তোর খবর আছে। রাতে আবিষ্কার করলাম, গাধাটায় সত্যি সত্যিই আর ফোন দেয় নি – ভয়ে হোক অথবা আমার কথা মেনে নিয়ে। অথচ আমি মানুষ, হয়তো ফোন দিয়ে ‘ভুল হয়ে গেছে’ বললেই কপট রাগে আমি বলতাম, হইছে, পড়তে যা। ফোনটা রেখে হয়তো একটু হেসে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম নিজের পৃথিবীতে। মানুষের শব্দই সবকিছু না। শব্দের বাইরেও বলার মত বিশাল পৃথিবী থাকে। মানুষ সবকিছু বুঝে উঠতে পারেও না। যেমন আমি, আমি বুঝি না পৃথিবীর অনেককিছুই। এই বিশাল, না বোঝার পৃথিবীতে আমার একলা একলা লাগে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি, গল্পগুলো দেখি। মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামে, মাঝে মাঝে অসহ্য রোদ। ক্লান্ত বিকেলের পরে যে সন্ধ্যেগুলো বাতাস বয়ে নিয়ে আসে একটা ফিসফিসানি, একটু চোখ মেলে তাকানোর; তাতে সজোরে শ্বাস নিয়ে আমি বোঝার চেষ্টা করি, সমগ্র অস্তিত্বটাকে হাচড়ে পাঁচড়ে আঁকড়ে ধরে, বেঁচে থাকাটা আসলে কি? ঠিক যেমন, ভায়োলেটের যাত্রার মত, আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ কি?
 
 
অজস্র প্রশ্নে জর্জরিত পৃথিবীতে মানুষ সেই আদিকাল থেকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে নিজের স্বত্তাকে অনুভব করার, বুঝে ওঠার; আমাদের অস্তিত্বের সাথেই, একেবারে পাশেই বসে থাকা প্রেম, এই ভালোবাসার অনুসন্ধান করে নি, এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর হতেও পারে। হয়তো বুঝে, হয়তো না বুঝে তবু সন্ধান করেছে সবাইই। তবুও, শব্দ সবকিছু বলে না, কথার বাইরেই কথা থাকে, থাকে আস্ত একটা পৃথিবী, ভালোবাসি তো মোটে ভাষার একটা শব্দ, একটা অনুভূতিকে নির্দেশ করে কিন্তু এই অনুভূতিটা কি? এই ছোট্ট শব্দটার বিস্তৃতি কতটুকু? এই শব্দটার সত্যিকারের অর্থ কি? প্রিয় ভায়োলেটের সাথে হাঁটতে হাঁটতে বিষণ্ণ, পরিচিত পৃথিবীতে ফিরে গিয়েছি অসাধারণ, অন্য পৃথিবী থেকে উঠে আসা সুরগুলোর সাথে, প্রিয় ভায়োলেট, তোমার উত্তর কি? একটা বিষণ্ণ কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর একটা হাসি!
 
হয়ত‌ো ওটাই ভালোবাসা?
ছোট্ট, বিষণ্ণ হাসি কত গল্প ধারণ করতে পারে, ভাবা আছে?
 
গল্পঃ বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি থেকে উঠে আসা গল্পের চরিত্র ভায়োলেট আবিষ্কার করে নতুন, একটা সম্পূর্ণ অপরিচিত পৃথিবী যেখানে সে আক্ষরিক অর্থেই একা। যুদ্ধে ভায়োলেট ছিলো খুনে একটা অস্ত্রের প্রতীক, যে শুধু খুন করতেই জানে, অন্য কোন অনুভূতির সাথে সে পরিচিত নয়। সে যুদ্ধের পৃথিবীতে তার একটাই মানুষ ছিলো, মেজর গিলবার্ট, যার অর্ডারে সে করতে পারতো না এমনকিছু নেই। যুদ্ধে মেজর গিলবার্ট মারা যাবার ঠিক আগে ভায়োলেটকে অর্ডার দিয়ে যায় বাঁচতে এবং, এবং, অনুভূতির এই জটিল, অপরিচিত পৃথিবীতে ভায়োলেটকে উপহার দিয়ে যায় তিনটি শব্দ, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
 
আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ কি, ভায়োলেট?
 
আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ খুঁজতেই শুরু হয় ভায়োলেটের গল্প, যুদ্ধের পর যুদ্ধাবশেষের উপর গড়ে ওঠা নতুন একটা পৃথিবীতে। শুরু হয় এক ভ্রমণ, ভালোবাসার অর্থ খোঁজা যার মূল লক্ষ্য। অটো মেমোরি ডল হিসেবে জীবন শুুরু করে সে, যার কাজ হলো প্রিয়জনকে চিঠি লেখা। চিঠি লেখার মাধ্যমে মানুষের এই অসহ্যকর, অসহনীয় জটিল অথচ সহজ আর সুন্দর অনুভূতিকে তুলে আনা। সম্পূর্ণ অপরিচিত পৃথিবীতে ভায়োলেট তিনটি শব্দের অর্থ কি খুঁজে পাবে?
 
অনুভূতিকে বুঝতে হলে ছুঁতে হয় অন্যকে, আঙুলের, হাতের স্পর্শে নয় – খেয়াল করতে হয় মানুষটাকে; শব্দের সাথে সাথে খেয়াল করতে হয় চোখ, গলার কম্পন, হেঁটে চলে যাবার ভঙ্গি। শুনতে হয় তার গল্প, নিজেকে খুলে দিতে হয় তার কাছে, তার চোখ দিয়ে দেখা পৃথিবীটাকে গড়ে নিতে হয় নিজের ভেতর, তার জীবনের চরিত্রগুলোকে বুঝতে হয় তার চোখ দিয়ে, নিজের অনুভূতির অনেকটা অংশ বরাদ্দ দিতে হয় সেই পৃথিবীটার কাছে। মানুষ এমনই জটিল, এমনই সুন্দর!
 
ভালোবাসা কি শুধুই একটা শব্দ? বেঁচে থাকার কারণ, এগিয়ে যাবার কারণ, সুখ, দুঃখ, ব্যথা, হাসি, কান্নার কারণ – কত রহস্য ধারণ করে একট শব্দ? শব্দটা আসলে কি?
 
ভায়োলেটের উত্তর খুঁজে পাওয়ার সাথে সাথে উত্তর খুঁজে পাক সেই সকল মানুষ, যারা এই সুন্দর শব্দটার কাছে এসে বসেছে, বুঝতে চেয়েছে তার গতিপ্রকৃতি। উত্তর হোক যার যার নিজের মত, যতটা সুন্দর মানুষ হয়।
 
অসাধারণ এনিমেশন, চমৎকার গল্প (একটু ধীরগতির), চমৎকার সাউন্ডট্র্যাক আর অজস্র ব্যথা আর কান্নায় মোড়ানো এবং প্রবল বৃষ্টির পর দিনশেষে মেঘের আড়াল হতে বেরিয়ে আসা মিষ্টি রোদের মতন ছোট্ট একটু হাসি – এটা হচ্ছে আনিমে, ভায়োলেট এভারগার্ডেন।
 
সাজেশনঃ ভায়োলেট এভারগার্ডেনে অবর্ণনীয় একটা সৌন্দর্য আঁকা হইছে পুরোটা গল্প জুড়ে, যা বুঝতে হলে দেখতে হবে, বুঝিয়ে বলার কোন ভাষা নাই। আমার কাছে, ভায়োলেট এভারগার্ডেন একটা ক্লাস। এস্থেটিক কিছু একটা।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime : Violet Evergarden
  • Type : Series
  • Genre : Slice of life, Drama, Fantasy
  • Studio : Kyoto animation
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০
 
(বিঃদ্রঃ -০১: আনিমের ভেতর প্রিয় অনেক কথা আছে, অনেক দৃশ্যের ব্যক্তিগত গল্প আছে। বলতে গেলেই স্পয়লার হয়ে যাবে। সামলে রাখা পুরোটাই। দেখতে দেখতে উপলব্ধি হোক। উপলব্ধিতে ছুঁইতে পারলে পৃথিবী আরও সুন্দর হোক। এই আনিমের স্পয়লার দেয়া মারাত্মক অপরাধ। কারণ, অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড়ানো হোক নিজ থেকেই। চোখ জুড়ে কান্না আসুক, ঠোঁটে আসুক মিষ্টি একটু হাসি।
 
বিঃদ্রঃ -০২: কথাটা ইউটিউবের কমেন্ট থেকে পাওয়া; যারা আনিমেটা দেখেছেন, তারা কি উপলব্ধি করেছেন, শুরুর গানটা ভায়োলেটের, মেজর গিলবার্টের প্রতি?)

Ride Your Wave [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

ইচ্ছেপূরণ বা wish-fulfillment একটা ইতিবাচক জিনিস হিসেবেই বিবেচিত আমাদের কাছে। দিনশেষে সবকিছু ভালভাবে মিটে গেলেই আমরা খুশী, মিটে না গেলেও সবকিছু মিটে যাওয়ার সুখস্বপ্ন নিয়ে থাকতে আমরা ভালোবাসি। কিন্তু লেবু বেশী চিপলে যেমন তিতে হয়ে যায় তেমনি অতিরিক্ত উইশ-ফুলফিলমেন্ট বাস্তবতাকে ততোধিক বিকৃত করে ফেলে। এনিমে ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় আকারের কাজ এই দোষে দুষ্ট। তারপরেও এনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে এ ধরণের গল্পের চাহিদা প্রচুর। প্রথমেই সমালোচনা করছি মানে এ নয় যে আমি এ ঘরানার গল্প নিতান্তই অপছন্দ করি। Clannad এই বৈশিষ্ট্যের পরাকাষ্ঠা হওয়ার পরেও আমার সেরা দশ এনিমের তালিকায় অনায়াসে জায়গা করে নেয়।

তবে Ride Your Wave নিয়ে শুরুতেই কেন আমার এত নেতিবাচক ভূমিকা! দোষটা আসলে সরাসরি এনিমে মুভিটার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া যায় না। দোষ দিলে দিতে হবে আমার এক্সপেক্টেশনকে! মাসায়াকি ইউয়াসা আর Science Saru এর কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা বরাবরই প্রবল থাকে। ইউয়াসার কাজকে ক্ষুদ্র পরিসরে মাপা দুরূহ কাজ। সংক্ষেপে বলতে গেলে তার কাজের ব্রিলিয়ান্সটা লুকিয়ে আছে অদ্ভুতুড়ে জিনিস উপহার দেয়ার মধ্যে। জাদুবাস্তবতাও তার কাজের আরেকটা বড় উপাদান। এহেন ইউয়াসা যখন দু-বছর পরে (The Night is Short, Walk on Girl এর মুক্তির পর) এমন generic একটা মুভি বানিয়ে ফেলেন তখন নেতিবাচক পোস্ট দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

Ride Your Wave মুভিটা যাবতীয় জেনেরিক দোষে দুষ্ট। ঘটনাক্রমে নায়ক-নায়িকার দেখা হয়ে গেল, তারপর তারা কিছু সময় কাটানোর পর কাছাকাছি হওয়া শুরু করলো, একে-অপরের অনুপ্রেরণা হিসেবে আবির্ভূত হল; এরকম কয়েকটা কমন থিম নিয়েই মুভির শুরুটা। তাও প্রথম ত্রিশ মিনিট আমি মুভিটাকে কিছুটা মাফ করে দিতাম কারণ নায়ক-নায়িকার মিষ্টি মিষ্টি সময় কাটানোটা ভালই লাগছিল। চরম ইউটোপিয়ান একটা পরিবেশে তখন দুজনে বাঁধা পড়ে, বল্গাহীন ভাবে তারা জীবনকে যৌবনের নিরীখে উপভোগ করছিল। একটা ভাল দিক ছিলো, মিনাতো আর হিনাকো দুজনেই ছিল হাইস্কুল পেরোনো মানুষ, তাই তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো ছিল সাধারণ এনিমের চেয়ে বেশী সাহসী। এখানে উইশ-ফুলফিলমেন্ট থেরাপি কাজ করছিল আমার উপর। দৈনন্দিন জীবনের যাঁতাকলে নিত্য পিষ্ট আমার কাছে দুই তরুণ-তরুণীর আগলছাড়া রোমান্টিসিজম ভাল লাগবে অবশ্যই।

ভাল না লাগার মাত্রাটা বাড়ে যখন গল্পের তাগিদে মিনাতো মারা যায়। মৃত্যূটা বীরোচিত ছিল তবে নিঃসন্দেহে বলা যায় কোন গভীরতা বহন করছিল না। ২০১৮ সালে বের হওয়া I wanna eat your pancreas মুভিতেও একই ঘটনা ঘটতে দেখেছি। এরপরেও ভেবেছিলাম মুভিটা সম্ভবত প্রিয় মানুষ হারানোর বেদনার উপর আলোকপাত করবে হিনাকোর দৃষ্টিকোণ থেকে। তাও হলো না! আকাশ থেকে আনা হলো সুপারন্যাচারাল ম্যাটেরিয়াল, আমাকে পুরো বোকা বানিয়ে মুভিটা দেখালো যে পানির মধ্যে মিনাতোর অস্তিত্ব নিতান্ত হিনাকোর হ্যালুসিনেশন নয় বরং বাস্তব! তারপর আবার ‘দেখা পেয়েও ছোঁয়া হলো না’ ঘরানার জেনেরিক জিনিসের আমদানী। অথচ বোকা আমি Shape of Water এর গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করছিলাম তখন ফিল্মে! (অট্টহাসির আওয়াজ হবে)
শেষমেষ ফিল্মটা আমাকে শতভাগ বেকুব আর হতাশ বানিয়ে হিনাকোর সিঙ্গেল থাকা দেখিয়ে শেষ হলো।

তারমানে এমন না যে মুভিটাতে ভাল কোন উপাদান নেই। অ্যানিমেশন মনকাড়া, সার্ফিংয়ের জায়গাগুলা অপূর্ব। ইউয়াসার ট্রেডমার্ক ফ্লুইড অ্যানিমেশন আছে জায়গায় জায়গায়। ক্যারেকটার ডিজাইন সুন্দর, রোমান্টিক জায়গাগুলোতে হিনাকো আর মিনাতোকে খুবই সুন্দর লাগছিল। কিন্তু ঐযে style over substance বলে একটা কথা আছে না, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই মুভিটা। আর ওএসটির কথা বলতে গেলে আরেক নাটকের অবতারণা করতে হয়! পুরো মুভিতে একটা মাত্র গান বারবার ব্যবহার করা হয়েছে যে জিনিসটা আমার কাছে পরে বিষপানের মত মনে হচ্ছিল। এমন বলবো না যে Generations from Exile Tribe এর গাওয়া ‘Brand New Story’ গানটা খারাপ, বরংচ বেশ ভাল একটা গানই এটা নিজ জনরার মনে করি। তবে বারবার একই গান ব্যবহার করাটা খুব বাজে লাগছিল, কেন একই গ্রুপকে দিয়েই আরো দু-তিনটা গান গাইয়ে মুভিতে ব্যবহার করা হলো না তা এখনও বোধগম্য হলো না। এই প্রথমবারের মত ইউয়াসা আমাকে পুরোপুরি হতাশ করতে সমর্থ হলেন!

সারাংশ:
সাধারণ মুভি হিসেবে উপভোগ্য
মাসায়াকি ইউয়াসা মুভি হিসেবে চরম হতাশাজনক