অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #৩
অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #২
অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #১
Onanie Master Kurosawa [মাঙ্গা রিভিউ] — Rafid Rafsani
পড়া শেষ করার পর প্রথমেই যা মনে আসছে “Never judge a book by It’s cover”। পড়ার আগে নাম দেখে Onanie Master Kurosawa (Masturbation Master Kurosawa) কত কিছুই ভেবেছিলাম! নাম শুনে সবার হেন্টাই, ইচ্চি মনে হলেও ধারণা পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হবে। কারণ এটার জেনারে যে সাইকোলজিক্যাল ড্রামা!
কাহিনির মূল চরিত্র জুনিয়র হাইস্কুলের ছাত্র কুরোসায়োয়া। সবার সাথে কথা-বার্তা কম বলে, তেমন বন্ধুও নেই চুপ-চাপ স্বভাবের। স্কুলে অবসর সময়ে লাইব্রেরিতে কাটায়। বন্ধুদের আড্ডাও এড়িয়ে চলে। যাকে ‘ইন্ট্রোভার্ট’ বলা চলে আরকি। কিন্তু সবার অগোচরে সে ছুটির পর গার্লস টয়লেটে হস্তশিল্প চর্চা করে (if you know what I mean ) যেটিকে মাঙ্গায় ‘ডেইলি রুটিন নামে পরিচয় দেয়। তো এইভাবেই তার দিন যেতো। তার ক্লাসেরই একজন মেয়ে কিরিহারা, দুর্বল ও বোকা হওয়ায় ক্লাসের অন্য মেয়েরা তাকে বিভিন্ন বিরিক্ত করতো। ঘটনা ক্রমে কিরিহারা, কুরোসাওয়াকে বাথরুমে ডেইলি রুটিনের কাজ করতে হাতেনাতে ধরে এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে যেন সে যেসব মেয়েরা কিরিহারাকে বিরক্ত করে অথবা যাদের কিরিহারা পছন্দ করে না তাদের বিভিন্ন জামা, বই, অন্যান্য ব্যবহারের জিনিসে সাদা তরলের শিল্পকর্ম করতে। এইভাবেই কাহিনি এগিয়ে যায়।
৩১ চ্যাপ্টারের মাঙ্গাটিতে কাহিনি সাধারণ অথবা নোংরা মনে হলেও ২৬ চ্যাপ্টারের পর একটা অন্যরকম টার্ন নেয়, যার কারণের myanimelist-এ পোস্ট লেখার মুহুর্তে ৮.৪+ রেটিং নিয়ে #70 most popular manga-তে এর অবস্থান। সেই স্পয়লার আর না দিলাম, তবে কাহিনীর সেই ভিন্ন মোড় নেওয়ার কারণেই সাধারণ একটা মাংগা অসাধারণ হয়ে উঠে। আমাদের মেইন ক্যারেক্টারের প্রত্যেকটা অনুভুতি যেমন বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে বাজেভাবে ভেংগে পড়া,খারাপ সময়ে শক্ত থাকা এরকম অনেক কিছুই আমাদের কমবেশি সবার জীবনেই ঘটায় কাহিনিটা অনেক বেশি রিলেটেবল সবার কাছে। এটিতে মাত্র ৩১ চ্যাপ্টারে যতটুকু ক্যারেক্টর ডেভলপমেন্ট হয় অনেক মাংগাতে ২০০ চ্যাপ্টারেও তা দেখা যায় না।
নামটা আবার বলি Onanie Master Kurosawa. নাম যেমনই হোক, পড়া শেষ করলে নিঃসন্দেহে মনে অন্যরকম একটা ছাপ ফেলে যাবে এটি।
Name: Onanie Master Kurosawa
Genere: Physiological,Drama,School
Personal Ratings: 9.5/10
I Had That Same Dream Again [মাঙ্গা রিভিউ] — Rafid Rafsani
Life is like a japanese bento, you can’t put everything you want inside it.Life is like a refrigerator, you can forget about onions but you can’t forget the cake.Life is like a pudding, you might like the sweet part but you also have to eat the bitter part too.
How to Fight [ওয়েবটুন রিভিউ] — Md. Anik Hossain
I Sold My Life For 10,000 Yen A Year / Three Days of Happiness [মাঙ্গা রিভিউ] — Md. Anik Hossain
𝗞𝘂𝘂𝘁𝗲𝗶 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀 / 𝗗𝗿𝗶𝗳𝘁𝗶𝗻𝗴 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀 [মাঙ্গা পরিচিতি] — Md. Anik Hossain
𝗞𝘂𝘂𝘁𝗲𝗶 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀 / 𝗗𝗿𝗶𝗳𝘁𝗶𝗻𝗴 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀
চ্যাপ্টারঃ ৫১+ (চলমান)
Chainsaw Man [মাঙ্গা রিভিউ] — Shifat Mohiuddin
Chainsaw Man
জনরা: অ্যাকশন, ডার্ক ফ্যান্টাসি
১৬ বছরের অনাথ কিশোর দেনজি। সদ্য সে নিজের একটা কিডনি বারো লাখ ইয়েনে, একটি চোখ তিন লাখ ইয়েনে আর নিজের একটি অণ্ডকোষ বিক্রি করেছে এক লাখেরও কম ইয়েনে। গাছ কেটে সে কষ্টেসৃষ্টে আরো হাজার ষাটেক ইয়েন যোগাড় করেছে। তারপরেও ইয়াকুজার কাছে তার ঋণ শোধ করা বাকী আছে আরো তিন কোটি আশি লাখ চল্লিশ ইয়েনের মতো। অযোগ্য বাবা মরে গিয়ে তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে গেছে এই ভার। প্রিয়জন বলতে তার আছে শুধু পোষা কুকুর পোচিতা যে আসলে একটা চেইন-স সদৃশ ডেভিল।
তো পোচিতাকে নিয়ে ঋণ শোধের জন্য ডেভিল হান্ট করে দেনজি। জীবনের সব মৌলিক চাহিদা থেকে বলতে গেলে বঞ্চিতই দেনজি। স্কুলে যায় নি সে কখনো, থাকে একটা নড়বড়ে ঘরে, যা পায় তাই খায়। বুক ভরে তার স্বপ্ন একটা সুন্দর জীবনযাপন করার, হয়তোবা সুন্দরী কোন এক মেয়ের সঙ্গও পাওয়ার আশা করে দেনজি।
বিন্দু বিন্দু শিশির দিয়ে দীঘি পূর্ণ করার আশা রাখা দেনজিকে একদিন তার ইয়াকুজা বস ডেকে নেয় বিশেষ কাজে। এক পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়া দেনজিকে ডেভিল হান্ট করার জন্য। সেখানে ইয়াকুজার সাঙ্গপাঙ্গরা পোচিতাসহ তাকে টুকরো টুকরো করে কেটে ময়লার ড্রামে ভরে রাখে। আসলে ইয়াকুজারা সবাই এক ম্যানিপুলেটিং ডেভিলের আদেশ মানছিল এতক্ষণ। বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়া দেনজি অবচেতন মনে পোষা কুকুর পোচিতার সাথে চুক্তি করে, সে নিজের পুরো দেহ দান করবে পোচিতাকে বিনিময়ে পোচিতা তাকে দেবে স্বাভাবিক মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণের সুযোগ।
লাইফ লাইন পেয়ে দেনজি আবির্ভূত হয় চেইন-স ম্যান হিসেবে। চেইন-সর নির্মম আঘাতে সে কেটে টুকরো টুকরো করে ডেভিল আর তার চেলাপেলাদের। সরকারি ডেভিল হান্টাররা ঘটনাস্থলে এসে রক্ত-মাংসের স্তুপের মাঝে দেনজিকে আবিষ্কার করে। উচ্চতর অফিসার মাকিমার নজরে পড়ে যায় দেনজি আর মাকিমা তাকে সরকারি ডেভিল হান্টারদের দলে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে তিনবেলা খাবার আর একটা শোয়ার জায়গার প্রস্তাব পেয়ে খুশীমনে রাজি হয়ে যায় দেনজি।
তো চেইন-স ম্যানের কাহিনী শুরু এখানেই। মাঙ্গাটা ২০১৯ সাল থেকে উইকলি শোউনেন জাম্পে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত বের হয়েছে ৭২ চ্যাপ্টার। বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে এর মাঝে। Mangaplus এ টপ টেনে থাকে প্রতি সপ্তাহেই।
চেইন-স ম্যান মাঙ্গাটার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত এর আন-অর্থোডক্স অ্যাপ্রোচ। মাঙ্গাটা আসলেই শোউনেন জাম্পে কিভাবে এত ভালভাবে ছাপানো হচ্ছে সেটা আসলে চিন্তার বিষয়। জাম্পে সাধারণত এত ব্রুটাল আর grotesque আর্টের মাঙ্গা সহজে দেখা যায় না। শোউনেন হিসেবে ধরলে এর স্টোরি, ক্যারেকটার ডিজাইন, আর্টস্টাইল আর সংলাপ সবই অত্যন্ত প্রথাবিরোধী। পুরো মাঙ্গাটাতেই গোছানো জিনিস খুঁজে পেলাম না তেমন, সবকিছুই প্রচণ্ড রকমের অগোছালো। যেন কেউ চেইন-স দিয়েই এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে মাঙ্গাটাকে আগাগোড়া।
চেইন-স ম্যানের ক্যারেকটারগুলো চরম ব্যতিক্রম। শোউনেন মাঙ্গার নিয়মিত বৈশিষ্ট্য যে বন্ধুত্বের জয়গান তার ছিটেফোঁটাও নেই ক্যারেকটারগুলোর মাঝে। ক্যারেকটারগুলো এমন একটা দুনিয়ায় বসবাস করে যেখানে যেকোন মুহূর্তে জীবন চলে যেতে পারে ডেভিলের হাতে। তার প্রভাবে ক্যারেকটারগুলো হয়ে উঠেছে প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রীক, নিষ্ঠুর আর বাস্তববাদী। দিনে এনে দিনে খেতে খেতে ক্যারেকটারগুলো মানুষ মানুষের জন্য এই প্রবাদটা যেন সবাই ভুলেই গেছে। আর মাঙ্গাকাও যেন এই জিনিসটা লুকানোর কোন চেষ্টাই করেন নি। পাবলিক ডেভিল হান্টাররা বেশিরভাগই জনগণের সেবার জন্য কাজে যোগ দেয় নি। বেশীরভাগই ডেভিলদের হাতে কোন না কোনভাবে ক্ষতির স্বীকার তাই প্রতিশোধস্পৃহাই তাদের কাজে লেগে থাকার মোটিভেশন। হিরোইজমের ছিটেফোঁটাও নেই তাদের মাঝে। মানুষও তাদের অত মহান কিছু মনে করে না। এই বৈশিষ্ট্যটা মাঙ্গাটার ডার্ক ফ্যান্টাসি হওয়ার পেছনে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে যে জিনিসটা Shueisha এর অন্য দুই মাঙ্গা হিরো অ্যাকাডেমিয়া আর ওয়ান পাঞ্চ ম্যান সযত্নে পরিহার করেছে। ক্যারেকটারগুলো মারাও যায় ধুপধাপ, এমনকি টেরও পাওয়া যায় না কখন কে মারা গেল। বেঁচে থাকা মানুষগুলোও মারা যাওয়া মানুষগুলো নিয়ে অত চিন্তিত না। বিশাল একটা ম্যাসাকারের মাধ্যমে বড় একটা পেইজ শেষ হয়ে গেলে দেখা যায় পরের পেইজেই সবাই দৈনন্দিন জীবনযাপন করছে, যেন সবকিছু সয়ে গেছে তাদের। এই জায়গাটাতে মাঙ্গাকা তাতসুকি ফুজিমোতোকে রীতিমত ‘uncensored’ বলবো আমি।
মাঙ্গার শ্রেষ্ঠ দিক নিঃসন্দেহে এর brutal, gritty, grotesque আর্টস্টাইল। কালো কালির অত্যধিক ব্যবহারের কারণে প্যানেলগুলো আরো ভয়াবহ রকমের ভায়োলেন্ট হয়ে উঠে। বিশেষ করে কিছুটা মানুষের মত দেখতে (হিউমনয়েড) ডেভিলগুলার আর্টগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ। দেনজির প্রতিটা ট্রান্সফরমেশন গায়ে কাঁটা দেয়। এনিমে আসবে নিঃসন্দেহে তবে এই gory পরিবেশটা কিভাবে স্টুডিও ধরে রাখবে সেটা একটা দেখার মত বিষয়। অ্যাকশন প্যানেলগুলো সব দুর্দান্ত আর প্রচণ্ড ফাস্ট-পেসড। ইউসুকে মুরাতার আঁকার সাথে মিল পাওয়া যায়, তবে মুরাতার মত অত ডিটেইলড না। ক্যারেকটারগুলোর ভয়ার্ত, আতংকিত আর নিষ্ঠুর ভাবলেশহীন চাহনি মাঙ্গাটাতে হরর এলিমেন্টের আমদানী করেছে সুন্দরভাবে।
তারমানে মাঙ্গাতে কমেডি নেই এমন না। দেনজির জীবন-দর্শনটাই একটা বিশাল কমেডি। বিশেষ করে ভয়ংকর ভয়ংকর কাজ করার পেছনে তার হাস্যকর স্বার্থসিদ্ধিগুলো সবচেয়ে মজার। বিস্তারিত বলে পাঠকদের মজা নষ্ট করতে চাচ্ছি না এখানে। তবে বেশীরভাগ কমেডিগুলাই কেমন জানি অস্বস্তিকর। এচ্চি কিছু ম্যাটেরিয়াল দেয়া হয়েছে তবে সেগুলাও সস্তা বিনোদনের যোগান দেয় না। বিন্দুমাত্র কামভাব জাগায় নি এচ্চি সিচুয়েশনগুলা। বরং বয়ঃসন্ধিকালের অস্বস্তিকর মানসিক টানাপোড়েন উঠে এসেছে আকু নো হানার মতো। পাওয়ার আর দেনজির এক বাথটাবে শুয়ে সময় পার করার দৃশ্যটা ভিন্ন এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। এই সাইকোলজিকাল দিকগুলো মাঙ্গাটাকে বেশ মৌলিক করে তুলেছে আমার মতে। শোউনেন জাম্পের পাতায় এমন জিনিস দেখতে পাবো ভাবি নি।
সব মিলিয়ে বিধ্বংসী এক অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে আমাকে চেইন-স ম্যান আমাকে। দুইদিনেই পড়ে ফেলেছি সবগুলা চ্যাপ্টার। আস্তে আস্তে ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিংও হচ্ছে মাঙ্গাটাতে। গান ডেভিলই সম্ভবত সিরিজের মেইন ভিলেন, দারুণ একটা মিথ গড়ে উঠেছে তাকে ঘিরে। সবাই কেন চেইন-সর হার্ট শিকার করতে চাইছে তাও একটা দারুণ সাসপেন্স জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথাবিরোধী এই মাঙ্গার সাফল্য কামনা করছি, আশা করি জাম্পের টপ ফাইভে উঠে আসবে সামনে। (যেহেতু Kimetsu no yaiba শেষ ও The Promised Neverland শেষের দিকে)











