অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #০৪

মাঙ্গার নাম : 𝗢𝗴𝗲𝗵𝗮
চাপ্টার : ১৫ টি
মাঙ্গাকা : Oimo
ধরন : রহস্য, শিশু (পোকা) নির্যাতন
 
কীট-পতঙ্গ নিয়ে সাতোশি কিজির এক অদ্ভুত আকর্ষণ কাজ করে। একদিন হঠাৎ অজানা এক পোকার দেখা পায় সে। কিন্তু পোকার মুখটা দেখতে মেয়ে মানুষের মতো। পোকাটিকে সে বাড়িতে নিয়ে আসে। পোকা নিয়ে আকর্ষণ থাকলেও পোকার প্রতি খুব যে যত্ন নেয় তা নয়। উলটো পোকার সাথে যাচ্ছেতাই আচরণ করাটাই তার স্বভাবের সাথে যায়। কিন্তু এই খারাপ আচরণকে অদ্ভুত মেয়ে পোকাটা অস্বাভাবিক হিসাবে নেয় না। কারণ জন্মের পর সাতোশিকেই শুধু দেখেছে পোকাটি। ভালো-মন্দের তফাৎ করার মতো জ্ঞান এখনো হয়নি। লোকচক্ষুর আড়ালে অজানা পোকা পালন, অন্যদিকে ভিনগ্রহী সদৃশ কিছু উটকো পতঙ্গ মেয়ে পোকাটিকে খুঁজে চলেছে দিক-বিদিক। কে এই মেয়ে পোকা? কেনই বা একে হন্যে হয়ে খুঁজছে অন্য কিছু পোকা? সাতোশির সাথে পোকার সম্পর্ক আগাবে কীভাবে এসব নিয়ে গল্পের ফোকাস।
মাঙ্গাটা পড়ে অধিকাংশের ভালো লাগবে, এমনটা আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করতে পারছি না। কিন্তু এ ধরনের অতিপ্রাকৃত, অদ্ভুতুরে অভিজ্ঞতা এখন পর্যন্ত তেমন পাইনি আমি। পোকা নিয়ে একটা গা ঘিনঘিন ব্যাপার তো এখানে রয়েছেই, আবার সামনে কী হবে এমনটা ভেবে থ্রিল নেওয়ার অবকাশও রয়েছে মাঙ্গাটিতে। তাই কিছুটা বিরল গল্প অবলোকনের অভিজ্ঞতা সঞ্চারে এই মাঙ্গাটি পড়ার সুপারিশ করব সবাইকে।
 
✪জানলে ভালো, না জানলে ক্ষতি নাই✪
পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার প্রজাতির এবং তার চেয়ে অধিক রঙের মিশেলের প্রজাপতি রয়েছে। প্রজাপতির রঙবেরঙের ডানা কিন্তু প্রকৃতপক্ষে স্বচ্ছ। কাইটিনের তৈরি এই ডানাগুলো আসলে হাজার হাজার ক্ষুদ্র আঁশ দিয়ে গঠিত। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে সূর্যের আলো এই আঁশগুলোতে প্রতিফলিত হয়েই অজস্র প্যাটার্নের রঙিন অবস্থার সৃষ্টি করে।
 
 

অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #৩

মাঙ্গার নাম: Oyaji
চাপ্টার: ২৪টি
মাঙ্গাকা: Tsuru Moriyama
ধরন: হাস্যরসাত্মক, নাটকীয়, জীবনবোধক
 
কুমাদা এক বিশালদেহী, ভয়ংকর দেখতে মানুষ। কোনো এক কারণে বহু বছর জেলে কারাভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু লোকটা খুব ভালো। এতগুলো বছর পরিবারের খবর রাখতে পারেনি। তাই বাবার অনুপস্থিতিতে সন্তানেরা উচ্ছন্নে গিয়েছে। একজন হয়েছে এলাকার পাতি মাস্তান, যদিও বড় মাস্তান দেখলেই ভয়ে পালায়। আরেকজন প্রেম জীবন নিয়ে ঝামেলায় জানটাই হারাতে বসেছে। অন্যদিকে সংসারের ভাড়ে স্ত্রী হারিয়েছে তার রূপ-লাবণ্য, যৌবন, মানসিক শান্তি।
অনেক বছর পর ঘরে ফিরেছে কুমাদা। এত বছর পরিবারে না থাকার ফলে দায়িত্ব-কর্তব্য কিছুই পালন করতে পারেনি। তাই যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা এবার ঢেলে দিতে চায় পরিবারের জন্য। কিন্তু কুমাদার চেহারা-সুরত দেখে নিজের সন্তানেরাই তাকে নিয়ে অস্বস্তিতে আছে। বাপজান আবার কথাও বলে অতি অল্প। সারাদিন ঢোক ঢোক করে মদ গিলে। কিছুতেই বল-ব্যাটে মিলছে না দুই পক্ষের। তাদের বনিবনা হওয়া এবং স্বল্পভাষী পিতার অস্বাভাবিক সব উপায়ে পরিবারকে রক্ষা করা নিয়েই মাঙ্গাটি।
 
✪জানলে ভালো, না জানলে ক্ষতি নাই✪
“ও-য়াজি” শব্দটি মূলত “ও-য়াচিচি” শব্দের অপভ্রংশ। যা আবার “চিচিহুয়ে” হতে এসে থাকতে পারে(?)। সবগুলোর আক্ষরিক অর্থ “পিতা/বাবা”। ওয়াজি শব্দটা তার মধ্যে সবচেয়ে casual । “বুড়া বাপ” এর জাপানি সংস্করণ বলা যায়। বাপ ছাড়াও অপরিচিত চাচা, মামা বয়সী লোকজনকেও ও-য়াজি বলে অনেকে। প্রায় সবাই হয়ত জানেন ব্যাপারটা তাও জানালাম।
 

অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #২

মাঙ্গার নাম: Koukoku no Shugosha
চাপ্টার : ৩৪টি
মাঙ্গাকা: Satou Daisuke
ধরন: ঐতিহাসিক, সামরিক, ফ্যান্টাসি
 
দুই প্রতিবেশী দেশ কৌকোকু এবং তেইকাকু। ক্ষমতা ও প্রভাবের লড়াইয়ে লড়ে চলেছে তারা। তবে এতদিন কূটনৈতিক পর্যায়ে থাকলেও তা শীঘ্রই মাঠের লড়াইয়ে রূপ নেয়। উত্তরের হীম শীতল অঞ্চলের দখলটা নিয়ে শুরু হয় প্রথম ঝামেলা। শুধু মানুষ নয়, সঙ্গে লড়ছে ঘোড়া, লড়ছে বাঘ সদৃশ বিড়ালেরা।
হঠাৎ একদিন তেইকোকুর পূর্ব ডিভিশনের সেনারা আচমকা হামলা করে কৌকোকুর উত্তরাঞ্চল প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর উপর। ভারী, উন্নত অস্ত্র ও সমর কৌশলের সামনে তাসের মতো ভেঙ্গে পড়ে কৌকোকুর প্রাথমিক প্রতিরক্ষা। শত্রুর প্রথম ধাক্কায় উদভ্রান্তের মতো রণে ভঙ্গ দিয়ে পালাতে থাকে কৌকোকুর সেনারা। কিন্তু সুশৃঙ্খলভাবে পিছু হটে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দরকার এমন এক ইউনিটের, যারা মূল বাহিনী নিরাপদে সরার আগ পর্যন্ত শত্রুর অগ্রাভিযান রোধ করে রাখবে। সামরিক ভাষায় যাকে বলে Rear guard action । এই কাজে ডাক পড়লো ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট শিঞ্জো নাউয়ের ব্যাটালিয়নের। প্রথম আক্রমণে তার ব্যাটালিয়নের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হয় মৃত, আহত, নয়তো বন্দী। সেনা সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে ব্যাপক। তবু সাকুল্যে ৬০০ সৈন্যের এই ব্যাটালিয়নকে রুখে দিতে হবে শত্রুকে। ৪০ হাজার সেনার বিশাল শত্রুকে বেধে রাখা লাগবে যতক্ষণ না তাদের বাহিনী নিরাপদ পশ্চাদপসরণ সম্পন্ন করে। প্রয়োজনে শেষ সিপাহির প্রাণের বিনিময়ে হলেও লড়ে যেতে হবে এই ইউনিটকে।
এই অসম যুদ্ধে আদৌ কতক্ষণ টিকবে শিঞ্জোর ব্যাটালিয়ন, কৌকোকুর মূল বাহিনী নিরাপদে পিছু হটতে পারবে কি না – এই কাহিনি নিয়েই মাঙ্গাটি।
মাঙ্গাটায় যদিও কিছু কিছু সময় ভাগ্যের খেল দেখে বাড়াবাড়ি লাগতে পারে, তবে যুদ্ধে ভাগ্য বিধাতার সহায়তার অনেক ইতিহাস, পৌরাণিক গল্পই তো আমরা জানি। কাহিনি এমনিতে যথেষ্ট বাস্তবিক ও চিত্তাকর্ষক। বিশুদ্ধ যুদ্ধ নিয়ে মাঙ্গা বিরল। যদিও এনিমের তুলনায় পরিমাণটা একটু বড়। সেরকম একটার নমুনা এই মাঙ্গাটি।
 
✪জানলে ভালো, না জানলে ক্ষতি নাই✪
মাঙ্গাটির প্রেক্ষাপট ঊনিশ শতকের শেষ দিকে রুশ-জাপানি সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্বের একটা অল্টারনেট সেটিং এর উপর ভিত্তি করে গড়া। এশিয়াতে রাশিয়ার পূর্বমুখী বিস্তার এবং জাপানের মেইজি যুগ পরবর্তী সময়টার একটা বিকল্প রূপ দেখানো হয়েছে গল্পে। ইতিহাস প্রেমীদের জন্য একটা আকর্ষণীয় দিক হতে পারে মাঙ্গাটা। উপরে মাঙ্গাকার নাম হিসাবে সাতো দাইসুকের নাম লিখেছি। ইনি কিন্তু সেই একই ভদ্রলোক যিনি Highschool of the Dead এর মূল গল্প লেখক। অনেকেই জানেন তিনি হৃদরোগে ভুগে মারা গিয়েছেন ২০১৭ সালে। ভদ্রলোক অল্টারনেটিভ ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন গল্প লিখতে খুব পছন্দ করতেন। এটা ছাড়াও এরকম কিছু মাঙ্গায় কাজ করেছেন তিনি, যদিও সেগুলোর অনুবাদ না থাকায় নেটে নেই বললেই চলে। অন্যদিকে পোস্টের মাঙ্গাটির আঁকিয়ে হিসাবে কাজ করেছেন Itoh Yu । ২০০৪ সালের মাঙ্গা হিসাবে স্ট্যান্ডার্ড আর্ট বলা যায়।
 

অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #১

মাঙ্গার নাম: Saltiness
চাপ্টার: ৪৪ টি
মাঙ্গাকা: Furuya Minoru
ধরন: হাস্যরসাত্মক, সেইনেন, স্লাইস অফ লাইফ
 
হিমুকে তো চিনেন? হুমায়ুন আহমেদের হলুদ হিমু। সেই ভবঘুরে, উদ্ভট চালচলন, মাথা চক্কর দেওয়া থতমত খাওয়া দার্শনিক কথাবার্তার হিমু।
Saltiness মাঙ্গার কেন্দ্রীয় চরিত্র তাকেহিকো নাকামুরা কিছুটা হিমুর মতোই, কিন্তু হিমু না। কর্মহীন , ঘুরঘুর, খাইখাই করা সমাজের অকর্মা লোকটি “জীবন” কে বশীভূত করে ফেলেছে বলেই বিশ্বাস করে। দুনিয়ার সকল প্রকার দুঃখ, কষ্ট, ভেজালের ধরাছোঁয়ার বাইরে সে। তয় একদিন বোধদয় হয় প্রিয় বোনের মাথা থেকে বোঝা কমাতে নিজে থেকে কিছু করতে হবে। যতদিন সে তার বোনের ঘাড়ে চেপে থাকবে, বোনের আর বিয়ে করা হবে না, সংসার পাতা হবে না। সে যেই “জীবনকে” বশীভূত করে ফেলেছিল বলে ভেবেছিল, সেই জীবনের বাস্তবতা এক ধাক্কায় তাকে চুরমার করে দিল। “জীবন” নামের এক হিংস্র অস্তিত্বের সম্মুখীন হলো সে । এই হিংস্র জিনিসটাকে বধ করার সুবুদ্ধি হবার সাথে সাথেই তার মাথায় ঢুকে আরেক কুবুদ্ধি। হঠাৎ করেই ঘর থেকে পালায়। গ্রাম ছেড়ে টোকিওর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দাড়াতে হবে নিজের পায়ে। টোকিও পৌছে সাক্ষাৎ হয় নানা কিসিমের weirdo দের সাথে। আর এইসব অস্বাভাবিক প্রাণীরা একত্রিত হয়ে যখন নানা তরিকায় জীবিকা নির্বাহের সন্ধান চালানো শুরু করলো, হাস্যকর সব ঘটনাও অবতীর্ণ হতে থাকল।
মাঙ্গার আর্ট সুন্দর, পরিচ্ছন্ন। বিশেষ করে এই মাঙ্গাকার খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা চেহারা আঁকার দৃশ্যের ভক্ত হয়ে গেছি। ৪৪ চাপ্টারের কাহিনি আগেই শেষ। সম্প্রতি ইংলিশ অনুবাদ সমাপ্ত হয়েছে। তাই আপনার হাতে সময় কম থাকলে, নিখাদ বিনোদন পেতে চাইলে আজই শুরু করে দেন Saltiness!
 
 

Onanie Master Kurosawa [মাঙ্গা রিভিউ] — Rafid Rafsani

পড়া শেষ করার পর প্রথমেই যা মনে আসছে “Never judge a book by It’s cover”। পড়ার আগে নাম দেখে Onanie Master Kurosawa (Masturbation Master Kurosawa) কত কিছুই ভেবেছিলাম! নাম শুনে সবার হেন্টাই, ইচ্চি মনে হলেও ধারণা পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হবে। কারণ এটার জেনারে যে সাইকোলজিক্যাল ড্রামা!

কাহিনির মূল চরিত্র জুনিয়র হাইস্কুলের ছাত্র কুরোসায়োয়া। সবার সাথে কথা-বার্তা কম বলে, তেমন বন্ধুও নেই চুপ-চাপ স্বভাবের। স্কুলে অবসর সময়ে লাইব্রেরিতে কাটায়। বন্ধুদের আড্ডাও এড়িয়ে চলে। যাকে ‘ইন্ট্রোভার্ট’ বলা চলে আরকি। কিন্তু সবার অগোচরে সে ছুটির পর গার্লস টয়লেটে হস্তশিল্প চর্চা করে (if you know what I mean ) যেটিকে মাঙ্গায় ‘ডেইলি রুটিন নামে পরিচয় দেয়। তো এইভাবেই তার দিন যেতো। তার ক্লাসেরই একজন মেয়ে কিরিহারা, দুর্বল ও বোকা হওয়ায় ক্লাসের অন্য মেয়েরা তাকে বিভিন্ন বিরিক্ত করতো। ঘটনা ক্রমে কিরিহারা, কুরোসাওয়াকে বাথরুমে ডেইলি রুটিনের কাজ করতে হাতেনাতে ধরে এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে যেন সে যেসব মেয়েরা কিরিহারাকে বিরক্ত করে অথবা যাদের কিরিহারা পছন্দ করে না তাদের বিভিন্ন জামা, বই, অন্যান্য ব্যবহারের জিনিসে সাদা তরলের শিল্পকর্ম করতে। এইভাবেই কাহিনি এগিয়ে যায়।

৩১ চ্যাপ্টারের মাঙ্গাটিতে কাহিনি সাধারণ অথবা নোংরা মনে হলেও ২৬ চ্যাপ্টারের পর একটা অন্যরকম টার্ন নেয়, যার কারণের myanimelist-এ পোস্ট লেখার মুহুর্তে ৮.৪+ রেটিং নিয়ে #70 most popular manga-তে এর অবস্থান। সেই স্পয়লার আর না দিলাম, তবে কাহিনীর সেই ভিন্ন মোড় নেওয়ার কারণেই সাধারণ একটা মাংগা অসাধারণ হয়ে উঠে। আমাদের মেইন ক্যারেক্টারের প্রত্যেকটা অনুভুতি যেমন বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে বাজেভাবে ভেংগে পড়া,খারাপ সময়ে শক্ত থাকা এরকম অনেক কিছুই আমাদের কমবেশি সবার জীবনেই ঘটায় কাহিনিটা অনেক বেশি রিলেটেবল সবার কাছে। এটিতে মাত্র ৩১ চ্যাপ্টারে যতটুকু ক্যারেক্টর ডেভলপমেন্ট হয় অনেক মাংগাতে ২০০ চ্যাপ্টারেও তা দেখা যায় না।

নামটা আবার বলি Onanie Master Kurosawa. নাম যেমনই হোক, পড়া শেষ করলে নিঃসন্দেহে মনে অন্যরকম একটা ছাপ ফেলে যাবে এটি।

Name: Onanie Master Kurosawa
Genere: Physiological,Drama,School
Personal Ratings: 9.5/10

 

I Had That Same Dream Again [মাঙ্গা রিভিউ] — Rafid Rafsani

♪♪♪ Happiness doesn’t walk to you ~
that’s why you walk towards it ~ ♪♪♪
 
“What is happiness to you?” খুবই সাধারণ একটি প্রশ্ন কিন্তু মানুষ ভেদে প্রত্যেকেরই উত্তর ভিন্ন। কারো কাছে পছন্দের খাবার খাওয়াই সুখ,কারো জন্য পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোই সব।আবার কেও কেও একাএকা নিজের পছন্দসই কাজ করাকেই প্রকৃত সুখ মনে করে।
এই বিষয় নিয়েই জনপ্রিয় ” I Want to Eat Your Pancreas” এর লেখকের লেখা মাংগা “I had that same dream again”. ১২ চ্যাপ্টারের মাংগাটার মাইএনিমেলিস্টে stats দেখলাম মাত্র ৪৯০০ মেম্বার। তাই ভাবলাম একটা রিভিও লিখেই ফেলি। মাত্র ১২ চ্যাপ্টার অনুযায়ী আমি বলবো, Worth to give a try.
 
Story:
মাংগাটির কাহিনি আগায় চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী Nanoka কে নিয়ে।যার স্কুল থেকে কাজ দেয় “what is happiness” এই প্রশ্নের উপর এসাইনমেন্ট। Nanoka তার পরিচিতদের সাথে এই “সুখের প্রকৃত সংগা ” খুজে বেড়ায়। তার পরিচিত মানুষ গুলা কিন্তু পরিবার অথবা স্কুলের বন্ধু নয়।তিনজন ভিন্ন বয়সের মানুষ। তাদের একজন অবসর সময়ে পরিত্যাক্ত বিল্ডিং এ হাত কেটে “কোনো বিষয় অনুভব” করতে চাওয়া হাইস্কুল ছাত্রী Minami-san.যে মা-বাবা মারা যাওয়ায় বিষন্নতায় একা দিন কাটায়। আরেকজন হাসি-খুশি ও প্রাণ-চঞ্চল Azumaboto-san. যে রাতে “অনৈতিক কাজ” করে অর্থ উপার্যন করে।কিন্তু সরল মনের Nanoka কে তার কাজ জানাতে চায় না।সবশেষে নির্জন পাহাড়ে একা থাকা Granny.যার পরিবারে কেউ নেই, একাই জীবনের শেষ সময় কাটাতে ব্যাস্ত।
এই তিনজন ভিন্ন শ্রেনীর মানুষই নানোকার বন্ধু।যারা জীবনের উপর প্রায় আশা হারিয়ে ফেললেও ও নানোকার সাথে ভালো সময় কাটায়। নানোকা আজুমাবতো-সানের সাথে অথেলো খেলে এবং স্ন্যাকস খেয়ে,মিনামি-সানের লেখা গল্প পড়ে কিংবা গ্র্যানির কুকি খেয়ে তাদের সঙ্গ উপভোগ করে।
মাংগাটি বেশ সুন্দর ভাবে চরিত্র গুলোর নিজস্ব হ্যাপিনেসের কথা তুলে ধরেছে। ৪ জনেরই ভিন্ন বয়স ও ভিন্ন জীবন। কিন্তু বয়স ও জীবন নির্বিশেষে সময়ের সাথে কিভাবে সুখের ধারনা পালটে যায় এইটাই মাংগার মূল বিষয়। পাশাপাশি নানোকার বন্ধুরা জীবন সম্পর্কে তারচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ হওয়ায়, প্রিয়জনদের ক্ষতি, কোনও সুযোগ নিতে ব্যর্থ হওয়া, কৃতিত্ব ত্যাগ করা, সাহস গড়ে তোলার ভয় ইত্যাদি বিষয়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। যার ফলে নানাকার যেকোনো সমস্যায় তারা নিজেদের জিবনের ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যেন নানোকার পরিণতি তাদের মতো না হয়।
তবে মাংগার আকর্ষনীয় দিক ছিলো, এই চারজনের মধ্যে একটা অদৃশ্য মিল।যেটা শুরু থেকেই কিছুটা ধরা গেলেও, মাঝখানে এসে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।এবং শেষে সম্পূর্ণ ব্যখ্যা পাওয়া যায়।এই হালকা প্লট টুইস্টটা জানার পর পুরো মাংগাটা অন্যরকম ভালো লাগবে সবার কাছে।
 
Art:
আর্ট নিয়ে আমার নিজেরই ধারনা কম তবে আর্ট স্টাইল ভালোই লেগেছে।Character design আর expression গুলা বেশ ভালো ছিলো।
Character:
মূল চরিত্র নানোকা ছোট হলেও বয়সের তুলনায় চিন্তা ভাবনা বেশ উন্নত। তার catchphrase কথা গুলা বেশ ভালো লেগেছে:
Life is like a japanese bento, you can’t put everything you want inside it.
Life is like a refrigerator, you can forget about onions but you can’t forget the cake.
Life is like a pudding, you might like the sweet part but you also have to eat the bitter part too.
 
এই রকম তার আরো কিছু কথা জীবনকে অন্যভাবে ভাবানোর মতোই। Side character দের ছোয়ায় তার বেশ ভালো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টও হয়।
 
Enjoyment:
মাংগাটা আসলেই অনেক ভালো লেগেছে না হয় রিভিও লেখার সাহস করতাম না। চরিত্র গুলার পাশাপাশি নিজের জীবনের সুখ নিয়েও বেশ ভাবিয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছুই ভালো লেগেছে। তাই সবাইকেই বলবো একবার পড়ে দেখতে।
 
Title: Mata, Onaji Yume wo Miteita
English: I had that same dream again
Genre: Drama, Psychological, Slice of life
Personal rating: 9
 

How to Fight [ওয়েবটুন রিভিউ] — Md. Anik Hossain

ভিডিও ব্লগিং বা Vlogging হাল আমলের তুমুল জনপ্রিয় জিনিস। বিশেষত ভিডিও আপলোড করে অর্থ উপার্জনের দুয়ার খুলে যাওয়ায় অনেকে জীবিকার পথ হিসাবেই বেঁছে নিয়েছে এটা। যা একটি বৈপ্লবিক ব্যাপার। ইউটিউব, বা চীনের উইবু এর মতো প্লাটফর্ম এই বিপ্লবে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। শুধু যে অর্থ আয়ের রাস্তা তা নয়, রীতিমতো সেলিব্রেটি বনে গেছে অনেকে ভিডিও ব্লগিং করে। তো ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে পয়সা, খ্যাতি অর্জন নিয়ে চমৎকার একটা ওয়েবটুন/মানহোয়া রয়েছে। নাম How to Fight.
 
☆কাহিনী সারসংক্ষেপ✰
হবিন এক গরিব হাই স্কুল পড়ুয়া ছেলে। দুর্বল হবিনের উপর সহপাঠীদের bullying চলে। চুপচাপ সহ্য করে গেলেও একদিন সহ্যের বাধ ভেঙে একজনের সাথে মারামারি লেগে যায়। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে এই মারামারির দৃশ্য লাইভ ভিডিও আকারে আপলোড হয়ে যায়। আর এতেই সে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে উঠে! এরপর সেই ভিডিও কে কাজে লাগিয়ে নতুন চ্যানেলকে আরো জনপ্রিয় করার মনস্থির করে হবিন। যাতে প্রত্যক্ষভাবে উৎসাহ যুগিয়েছে টাকা আয়ের বাসনা। সিদ্ধান্ত নেয় মারামারির ভিডিও আপলোড করেই চ্যানেলটা গড়ে তুলবে। কিন্তু দুর্বল ছোট্টখাট্টো হবিন এর সাথে আর যাই হোক মারামারির ব্যাপারটা যায় না। তাই ইউটিউব থেকেই ঘরোয়া উপায়ে মারামারি শিখার টিউটোরিয়াল দেখে ভ্লগিং করার খোঁজ চালায় সে। এরপর যা হয় তা বললে স্পয়লার হয়ে যাবে মনে হয়। তাই বেশি কিছু বললাম না।
মানহোয়ার আর্ট খুব নজরকাড়া। মুখের অভিব্যক্তিগুলো তো দেখার মতো। উদাহরণ হিসাবে ৩য় ছবিটি দেখুন। চরিত্রগুলোর বিকাশ বেশ ভালো লাগছে এখন পর্যন্ত। মানহোয়াটার মূল আকর্ষণ এটার মারামারির দৃশ্যগুলি। মজার ব্যাপার হলো, মারামারিতে বাস্তব মার্শাল আর্ট / স্পোর্টস এর বিভিন্ন রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। মার্শাল আর্ট নিয়ে আগা-মাথা কিছু না জানলেও মারামারিগুলো দেখতে চরম আকর্ষণীয় লাগে। সম্প্রতি Line Webtoon থেকে ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করা শুরু হয়েছে Viral Hit নামে। কিন্তু শুনেছি অনুবাদ সুবিধার না। PH Scans, Death Troll স্ক্যানলেশন গ্রুপের ব্যানারে ৫৮ টা চাপ্টার বের হয়েছে এখন পর্যন্ত। তাদেরটা পড়ে দেখতে পারেন।
অতিরিক্ত তথ্য- এই ওয়েবটুন এর স্রষ্টা এর আগে জনপ্রিয় Lookism সিরিজটা তৈরি করেছেন।
 
 

I Sold My Life For 10,000 Yen A Year / Three Days of Happiness [মাঙ্গা রিভিউ] — Md. Anik Hossain

I Sold My Life For 10,000 Yen A Year
/
Three Days of Happiness
_______________________________________
 
একটা মানুষের জীবনের দাম কত ? কীসের বিনিময়ে আপনার জীবনের একেকটা বছর বেঁচা যেতে পারে ? আপেক্ষিক একটা বিষয় হতে পারে । যত আনন্দদায়ক হবে একটি বছর , সেটির দাম হয়ত তত বেশী । আরেকটু স্পষ্ট করে জিজ্ঞাসা করলে, আপনার সেই একেকটা বছরের “টাকায়” মূল্য কত হতে পারে ? কল্পনা করুন আপনার অবশিষ্ট জীবনকাল বিক্রি করা সম্ভব । এমন একটা দোকান আছে যেখানে বছর হিসাব করে আপনি ইচ্ছামতো আপনার আয়ুষ্কাল বেঁচতে পারবেন নগদ অর্থের বিনিময়ে । জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ আপনি । সামান্য রুটি রুজি করতে হিমশিম খাচ্ছেন । অভাবের তাড়ণায় বই-পত্র , গানের ক্যাসেট সব বিক্রি করতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে । বাকি ভবিষ্যত্টা একেবারেই অন্ধকারাচ্ছন্ন । এই বাকি জীবনটা রেখে তবে লাভ কি ? এই অনিশ্চিত্ , লক্ষ্যহীন , অপদার্থ জীবনটার কয়েক বছর বিক্রি করে যদি কিছু টাকা পাওয়া যায় তাহলে খারাপ কি ? এমন ই ভাবনা থেকে কুসুনোকি নামক বিশ বছরের এক যুবক সন্ধান পায় এমন একটি দোকানের, যেখানে মানুষের আয়ুষ্কাল , সময় এবং স্বাস্থ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। যেখানে গিয়ে সে তার অবশিষ্ট জীবনের সবটাই বিক্রি করে দেয়, মাত্র ৩মাস বাদে । বছর প্রতি কয় টাকার বিনিময়ে জানেন ? মাত্র ১০ হাজার ইয়েনের বিনিময়ে । একইসময় সে তার অবশিষ্ট ৩ মাসে যেন কোন সমস্যা তৈরি না করে, সে জন্য দোকান থেকে পাঠানো হয় মিয়াগি নামের এক মেয়েকে । যে কিনা গ্রাহকের পর্যবেক্ষক হিসাবে সর্বদা তার পাশে থাকবে, সে যেখানেই যাক না কেন । এই ৩ মাসে কুসুনোকি নিজের জীবনের কতটুকু মূল্য ও আনন্দ খুঁজে পাবে, অতীত জীবনের ভুল ও অপ্রাপ্তিগুলো কতটা আবিষ্কার করতে পারবে এক সহচারীর উপস্থিতিতে, তা নিয়েই আবর্তিত হয় কাহিনী ।
মাত্র ১৮ চাপ্টারের এই চমত্কার পটভূমিতে তৈরি মাঙ্গাটি আপনাকে যেমন জীবনের মূল্য শেখাবে… তেমনি শেখাবে হাজারো অপ্রাপ্তি , নিরানন্দ উপেক্ষা করে অল্প, কিন্তু মনে রাখার মতো কিছু স্মৃতিকে জীবিকা করে সন্তোষজনক এক পরিণতি বরণ করতে।
সুন্দর পটভূমির আড়ালে কিছু সীমাবদ্ধতা মাঙ্গাটিতে দেখতে পেয়েছি । মাঝে মাঝে কাহিনীর গতিশীলতা হারিয়ে ফেলছিল । আর্ট খারাপ ছিল না মোটেও, তবে অমায়িক এই প্লটের তুলনায় একটু সাদামাটা লেগেছে । চরিত্রের পরিমাণ এমনিতেই অত্যন্ত কম, আবার মূল চরিত্র বাদে বাকি কারো অতীত নিয়ে সেভাবে কিছু দেখানো হয়নি । হয়ত আরেকটু ভালোভাবে তাদের অতীতগুলো তুলে ধরলে আরো ইমোশনাল বানানো যেত গল্পটা ।
তবে মোদ্দাকথা , প্রত্যেক কে বলব মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে । অত্যন্ত আবেগপূর্ণ , চিন্তা জাগানিয়া সিরিজটি এক বসাতেই পড়ে ফেলতে পারবেন । হয়ত আমার মতো আপনারাও জীবনের সুখ দূঃখের সম্পর্কে অন্যরকম এক অর্থ খুঁজে পাবেন !?
 
(ব্যক্তিগত রেটিং):
* প্রেক্ষাপট: ৯.৫/১০
* গল্প: ৮/১০
* আর্ট: ৮/১০
* চরিত্রসমূহ: ৮.৫/১০
চূড়ান্তভাবে: ৯/১০
 

𝗞𝘂𝘂𝘁𝗲𝗶 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀 / 𝗗𝗿𝗶𝗳𝘁𝗶𝗻𝗴 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀 [মাঙ্গা পরিচিতি] — Md. Anik Hossain

𝗞𝘂𝘂𝘁𝗲𝗶 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀 / 𝗗𝗿𝗶𝗳𝘁𝗶𝗻𝗴 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀
চ্যাপ্টারঃ ৫১+ (চলমান)

 
ড্রাগন শিকার নিয়ে পপ-কালচারে অসংখ্য সিনেমা, সাহিত্য, এনিমেশন তৈরি হয়েছে, মাঙ্গাও রয়েছে অনেক। রূপকথার গল্পে অত্যাচারী ড্রাগনদের থেকে জনপদ রক্ষায় এক দল সাহসী লোক ড্রাগন শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে – এ তো পুরান কাহিনী। তবে যে কারণে 𝗞𝘂𝘂𝘁𝗲𝗶 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀 অন্য সব ড্রাগন শিকার বিষয়ক সিরিজ থেকে আলাদা, সেটা হলো ড্রাগন শিকার জিনিসটা অত্যন্ত বাস্তবিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। সিরিজটি এমন এক সময়ের কথা বলে যখন মানুষ জেপেলিন/এয়ারশিপে করে আকাশে চষে বেড়ায়। ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত সব কিছু চলে আমাদের বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে দেখতে পাওয়া এয়ারশিপের মাধ্যমে। বলা যায় উক্ত দুনিয়ায় সমুদ্রগামী জাহাজের স্থান দখল করেছে এয়ারশিপ। আর এসব এয়ারশিপে করে আকাশে ভেসে বেড়ানো কিছু মানুষ দানবাকৃতির ড্রাগন শিকার করে, যেই শিকারীরা কিনা “ড্রেকার” নামে পরিচিত। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ড্রাগনগুলো কিন্তু শিকার করার পরে ফেলে দেয়া হয় না, ড্রাগনের মাংস এই দুনিয়াতে অত্যন্ত উপাদেয় খাবার। শুধু মাংস নয়, ড্রাগনের তেল থেকে হাড়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করা হয় হরেক রকম মূল্যবান জিনিস তৈরিতে। এমন এক ড্রাগন শিকারী জাহাজ 𝗤𝘂𝗶𝗻 𝗭𝗮𝘇𝗮 ও তার নাবিকদের নিয়ে লেখা মাঙ্গা 𝗞𝘂𝘂𝘁𝗲𝗶 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀। মাঙ্গাটি কিছু দূর পড়লে বুঝতে পারবেন আমাদের পৃথিবীর তিমি শিকারের অনুরূপ হচ্ছে এই ড্রাগন শিকারের ব্যাপারটা। মাঙ্গাকা প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানের তিমি শিকার শিল্প থেকে মাঙ্গাটি লিখতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন খুব সম্ভবত। মাঙ্গাটির বোনাস আকর্ষণ হলো ড্রাগন শিকারের পর ড্রাগন দিয়ে তৈরি নানা পদের খাবারের বর্ণনা! যারা 𝐃𝐮𝐧𝐠𝐞𝐨𝐧 𝐌𝐞𝐬𝐡𝐢 এবং 𝐒𝐮𝐠𝐢𝐦𝐨𝐭𝐨’𝐬 𝐁𝐢𝐳𝐚𝐫𝐫𝐞 𝐅𝐨𝐨𝐝 𝐀𝐝𝐯𝐞𝐧𝐭𝐮𝐫𝐞 (𝐆𝐨𝐥𝐝𝐞𝐧 𝐊𝐚𝐦𝐮𝐢) মাঙ্গা দুইটি পড়েন, তারা এই ব্যাপারটি খুব পছন্দ করবেন। যদিও রান্নার প্রণালীগুলো এই দুটির মতো এত বিশদভাবে দেয়া হয় না এখানে, তবু খুব তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি পাবেন।
 
 
মাঙ্গার অন্যান্য বিষয়ের কথা বললে আঁকার মান বেশ ভালো। চরিত্রগুলোর মাঝে প্রায় সবার অতীত নিয়ে অল্প-বিস্তর আলোচনা করা হয় প্রত্যেক আর্কে। চরিত্রগুলো খুব গভীর তা বলা যাবে না, তবে একদম খারাপ লাগার মতো নয়। অন্যদিকে মাঙ্গার কাহিনী খুব সাবলীল। কোনো ধুম ধারাক্কা মারামারি, থ্রিল পাবেন না। সমুদ্রগামী জেলেদের জীবন যেমন কাটে, সেটার ভিন্ন এক সংস্করণ বলতে পারেন। তবে World building বেশ মনোমুগ্ধকর লেগেছে আমার কাছে। এ বছর 𝗗𝗿𝗶𝗳𝘁𝗶𝗻𝗴 𝗗𝗿𝗮𝗴𝗼𝗻𝘀 এর একটা এনিমে সিরিজ বেড়িয়েছে নেটফ্লিক্সের ব্যানারে। অবশ্য আমি দেখিনি। মাঙ্গায় সমস্যা থাকলে ওটা দেখার চেষ্টা করতে পারেন। রেটিং দেখলাম (7.1/10).

Chainsaw Man [মাঙ্গা রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Chainsaw Man

জনরা: অ্যাকশন, ডার্ক ফ্যান্টাসি

১৬ বছরের অনাথ কিশোর দেনজি। সদ্য সে নিজের একটা কিডনি বারো লাখ ইয়েনে, একটি চোখ তিন লাখ ইয়েনে আর নিজের একটি অণ্ডকোষ বিক্রি করেছে এক লাখেরও কম ইয়েনে। গাছ কেটে সে কষ্টেসৃষ্টে আরো হাজার ষাটেক ইয়েন যোগাড় করেছে। তারপরেও ইয়াকুজার কাছে তার ঋণ শোধ করা বাকী আছে আরো তিন কোটি আশি লাখ চল্লিশ ইয়েনের মতো। অযোগ্য বাবা মরে গিয়ে তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে গেছে এই ভার। প্রিয়জন বলতে তার আছে শুধু পোষা কুকুর পোচিতা যে আসলে একটা চেইন-স সদৃশ ডেভিল।
তো পোচিতাকে নিয়ে ঋণ শোধের জন্য ডেভিল হান্ট করে দেনজি। জীবনের সব মৌলিক চাহিদা থেকে বলতে গেলে বঞ্চিতই দেনজি। স্কুলে যায় নি সে কখনো, থাকে একটা নড়বড়ে ঘরে, যা পায় তাই খায়। বুক ভরে তার স্বপ্ন একটা সুন্দর জীবনযাপন করার, হয়তোবা সুন্দরী কোন এক মেয়ের সঙ্গও পাওয়ার আশা করে দেনজি।

বিন্দু বিন্দু শিশির দিয়ে দীঘি পূর্ণ করার আশা রাখা দেনজিকে একদিন তার ইয়াকুজা বস ডেকে নেয় বিশেষ কাজে। এক পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়া দেনজিকে ডেভিল হান্ট করার জন্য। সেখানে ইয়াকুজার সাঙ্গপাঙ্গরা পোচিতাসহ তাকে টুকরো টুকরো করে কেটে ময়লার ড্রামে ভরে রাখে। আসলে ইয়াকুজারা সবাই এক ম্যানিপুলেটিং ডেভিলের আদেশ মানছিল এতক্ষণ। বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়া দেনজি অবচেতন মনে পোষা কুকুর পোচিতার সাথে চুক্তি করে, সে নিজের পুরো দেহ দান করবে পোচিতাকে বিনিময়ে পোচিতা তাকে দেবে স্বাভাবিক মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণের সুযোগ।

লাইফ লাইন পেয়ে দেনজি আবির্ভূত হয় চেইন-স ম্যান হিসেবে। চেইন-সর নির্মম আঘাতে সে কেটে টুকরো টুকরো করে ডেভিল আর তার চেলাপেলাদের। সরকারি ডেভিল হান্টাররা ঘটনাস্থলে এসে রক্ত-মাংসের স্তুপের মাঝে দেনজিকে আবিষ্কার করে। উচ্চতর অফিসার মাকিমার নজরে পড়ে যায় দেনজি আর মাকিমা তাকে সরকারি ডেভিল হান্টারদের দলে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে তিনবেলা খাবার আর একটা শোয়ার জায়গার প্রস্তাব পেয়ে খুশীমনে রাজি হয়ে যায় দেনজি।

তো চেইন-স ম্যানের কাহিনী শুরু এখানেই। মাঙ্গাটা ২০১৯ সাল থেকে উইকলি শোউনেন জাম্পে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত বের হয়েছে ৭২ চ্যাপ্টার। বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে এর মাঝে। Mangaplus এ টপ টেনে থাকে প্রতি সপ্তাহেই।

চেইন-স ম্যান মাঙ্গাটার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত এর আন-অর্থোডক্স অ্যাপ্রোচ। মাঙ্গাটা আসলেই শোউনেন জাম্পে কিভাবে এত ভালভাবে ছাপানো হচ্ছে সেটা আসলে চিন্তার বিষয়। জাম্পে সাধারণত এত ব্রুটাল আর grotesque আর্টের মাঙ্গা সহজে দেখা যায় না। শোউনেন হিসেবে ধরলে এর স্টোরি, ক্যারেকটার ডিজাইন, আর্টস্টাইল আর সংলাপ সবই অত্যন্ত প্রথাবিরোধী। পুরো মাঙ্গাটাতেই গোছানো জিনিস খুঁজে পেলাম না তেমন, সবকিছুই প্রচণ্ড রকমের অগোছালো। যেন কেউ চেইন-স দিয়েই এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে মাঙ্গাটাকে আগাগোড়া।

চেইন-স ম্যানের ক্যারেকটারগুলো চরম ব্যতিক্রম। শোউনেন মাঙ্গার নিয়মিত বৈশিষ্ট্য যে বন্ধুত্বের জয়গান তার ছিটেফোঁটাও নেই ক্যারেকটারগুলোর মাঝে। ক্যারেকটারগুলো এমন একটা দুনিয়ায় বসবাস করে যেখানে যেকোন মুহূর্তে জীবন চলে যেতে পারে ডেভিলের হাতে। তার প্রভাবে ক্যারেকটারগুলো হয়ে উঠেছে প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রীক, নিষ্ঠুর আর বাস্তববাদী। দিনে এনে দিনে খেতে খেতে ক্যারেকটারগুলো মানুষ মানুষের জন্য এই প্রবাদটা যেন সবাই ভুলেই গেছে। আর মাঙ্গাকাও যেন এই জিনিসটা লুকানোর কোন চেষ্টাই করেন নি। পাবলিক ডেভিল হান্টাররা বেশিরভাগই জনগণের সেবার জন্য কাজে যোগ দেয় নি। বেশীরভাগই ডেভিলদের হাতে কোন না কোনভাবে ক্ষতির স্বীকার তাই প্রতিশোধস্পৃহাই তাদের কাজে লেগে থাকার মোটিভেশন। হিরোইজমের ছিটেফোঁটাও নেই তাদের মাঝে। মানুষও তাদের অত মহান কিছু মনে করে না। এই বৈশিষ্ট্যটা মাঙ্গাটার ডার্ক ফ্যান্টাসি হওয়ার পেছনে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে যে জিনিসটা Shueisha এর অন্য দুই মাঙ্গা হিরো অ্যাকাডেমিয়া আর ওয়ান পাঞ্চ ম্যান সযত্নে পরিহার করেছে। ক্যারেকটারগুলো মারাও যায় ধুপধাপ, এমনকি টেরও পাওয়া যায় না কখন কে মারা গেল। বেঁচে থাকা মানুষগুলোও মারা যাওয়া মানুষগুলো নিয়ে অত চিন্তিত না। বিশাল একটা ম্যাসাকারের মাধ্যমে বড় একটা পেইজ শেষ হয়ে গেলে দেখা যায় পরের পেইজেই সবাই দৈনন্দিন জীবনযাপন করছে, যেন সবকিছু সয়ে গেছে তাদের। এই জায়গাটাতে মাঙ্গাকা তাতসুকি ফুজিমোতোকে রীতিমত ‘uncensored’ বলবো আমি।

মাঙ্গার শ্রেষ্ঠ দিক নিঃসন্দেহে এর brutal, gritty, grotesque আর্টস্টাইল। কালো কালির অত্যধিক ব্যবহারের কারণে প্যানেলগুলো আরো ভয়াবহ রকমের ভায়োলেন্ট হয়ে উঠে। বিশেষ করে কিছুটা মানুষের মত দেখতে (হিউমনয়েড) ডেভিলগুলার আর্টগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ। দেনজির প্রতিটা ট্রান্সফরমেশন গায়ে কাঁটা দেয়। এনিমে আসবে নিঃসন্দেহে তবে এই gory পরিবেশটা কিভাবে স্টুডিও ধরে রাখবে সেটা একটা দেখার মত বিষয়। অ্যাকশন প্যানেলগুলো সব দুর্দান্ত আর প্রচণ্ড ফাস্ট-পেসড। ইউসুকে মুরাতার আঁকার সাথে মিল পাওয়া যায়, তবে মুরাতার মত অত ডিটেইলড না। ক্যারেকটারগুলোর ভয়ার্ত, আতংকিত আর নিষ্ঠুর ভাবলেশহীন চাহনি মাঙ্গাটাতে হরর এলিমেন্টের আমদানী করেছে সুন্দরভাবে।

তারমানে মাঙ্গাতে কমেডি নেই এমন না। দেনজির জীবন-দর্শনটাই একটা বিশাল কমেডি। বিশেষ করে ভয়ংকর ভয়ংকর কাজ করার পেছনে তার হাস্যকর স্বার্থসিদ্ধিগুলো সবচেয়ে মজার। বিস্তারিত বলে পাঠকদের মজা নষ্ট করতে চাচ্ছি না এখানে। তবে বেশীরভাগ কমেডিগুলাই কেমন জানি অস্বস্তিকর। এচ্চি কিছু ম্যাটেরিয়াল দেয়া হয়েছে তবে সেগুলাও সস্তা বিনোদনের যোগান দেয় না। বিন্দুমাত্র কামভাব জাগায় নি এচ্চি সিচুয়েশনগুলা। বরং বয়ঃসন্ধিকালের অস্বস্তিকর মানসিক টানাপোড়েন উঠে এসেছে আকু নো হানার মতো। পাওয়ার আর দেনজির এক বাথটাবে শুয়ে সময় পার করার দৃশ্যটা ভিন্ন এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। এই সাইকোলজিকাল দিকগুলো মাঙ্গাটাকে বেশ মৌলিক করে তুলেছে আমার মতে। শোউনেন জাম্পের পাতায় এমন জিনিস দেখতে পাবো ভাবি নি।

সব মিলিয়ে বিধ্বংসী এক অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে আমাকে চেইন-স ম্যান আমাকে। দুইদিনেই পড়ে ফেলেছি সবগুলা চ্যাপ্টার। আস্তে আস্তে ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিংও হচ্ছে মাঙ্গাটাতে। গান ডেভিলই সম্ভবত সিরিজের মেইন ভিলেন, দারুণ একটা মিথ গড়ে উঠেছে তাকে ঘিরে। সবাই কেন চেইন-সর হার্ট শিকার করতে চাইছে তাও একটা দারুণ সাসপেন্স জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথাবিরোধী এই মাঙ্গার সাফল্য কামনা করছি, আশা করি জাম্পের টপ ফাইভে উঠে আসবে সামনে। (যেহেতু Kimetsu no yaiba শেষ ও The Promised Neverland শেষের দিকে)