Nihonkoku Shoukan [মাঙ্গা পরিচিতি] — Md. Anik Hossain
ইসেকাই কাহিনী এবং আধুনিক সমরাস্ত্রের ঝনঝনানি উপভোগ করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব পছন্দ করি। কিন্তু একই মাঙ্গায় যখন দুটো জিনিসই উপস্থিত থাকে, তখন আমার মাথা ঠিক থাকে না বলা বাহুল্য 🤣 ইসেকাই এবং আধুনিক সামরিক বাহিনীর কথা উঠলে প্রথমেই “Gate : Thus The JSDF Fought” সিরিজটির কথা আসবে। যারা Gate সিরিজটি পড়েছেন/দেখেছেন, এবং পছন্দ করেছেন, তাদের জন্য আদর্শ মাঙ্গা হতে পারে Nihonkoku মাঙ্গাটি।
মাঙ্গাটির কাহিনী অনেকটা এরকম-
রোডেনিয়াস নামক এমন এক মহাদেশ রয়েছে যেখানে মধ্যযুগীয় কয়েকটি দেশ একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। যে মহাদেশের রাজ্য, সাম্রাজ্যগুলো একে অপরকে ঘায়েল করতে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে অলৌকিক জাদু, উড়ন্ত ড্রাগন। মহাদেশটিতে তেমনি একটা রাজ্য হচ্ছে Qua-Toyne. একদিন হঠাৎ করেই এই রাজ্যে দেখা মিলে কিম্ভূতকিমাকার এক উড়ন্ত ড্রাগনের। যেই লৌহে আবৃত ড্রাগনকে কেউ আগে কখনো দেখেনি। রাজ্যের তৎসংলগ্ন এলাকাতেও দেখা গেল অদ্ভুত এক বিদেশী যুদ্ধজাহাজের। যেটার আকার এতটাই বিশাল যে প্রথম দেখায় সৈন্যরা ভাবলো এটা হয়ত কোন ভাসমান দূর্গ!
হঠাৎ এসব নিদর্শন রাজ্যটিতে দেখতে পাওয়ার কারণ কি হতে পারে? কারণ তেমন কিছুই না। ইয়ে মানে পুরো জাপান একদিন হটাৎ করে রোডেনিয়াস মহাদেশে এসে পড়ে। তাই জাপান নিজেদের টহল উড়োজাহাজ এবং নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার দিয়ে নতুন পৃথিবীর হালচাল দেখছিল। অতি দ্রুত Qua-Toynen এবং জাপান নিজেদের মাঝে বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে তুলে। কিন্তু অতি শীঘ্রই Qua-Toyne তাদের বৃহৎ প্রতিবেশী সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় এবং বলতে গেলে ভালো রকম মার খেতে থাকে। এ পর্যায়ে তারা জাপানের শরণাপন্ন হয় এবং জাপান তার আধুনিক সামরিক শক্তি ব্যবহার করে মিত্র রাজ্যের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
এই হলো মূল কাহিনী।
গল্পের মান এর ব্যাপারে যদি বলতে হয়, তবে বলবো খুব বেশি আশা রেখে না পড়াই ভালো। তেমন আহামরি না মোটেই। সমগ্র জাপানী ভূখণ্ড, মানুষজন হুট করে অন্য এক জগতে চলে আসার ব্যাপারটাও হাস্যকর বৈকি । আর্ট খারাপ না একদম । চরিত্র বলতে নির্দিষ্ট কোন নায়ক, নায়িকা, খলনায়ক নেই। খুব গভীর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন তেমন চরিত্র মাঙ্গাটিতে নেই। আবার জাপানের সামরিক বাহিনীকে যেভাব মহান এবং সাধু হিসাবে দেখানো হয়েছে, সেটা অনেক ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বলে মনে হতে পারে। তবে প্রথমেই যেমনটা বলেছিলাম, মধ্যযুগীয় ইসেকাই জগতের সামরিক বাহিনী বনাম আধুনিক বিশ্বের অত্যাধুনিক সব অস্ত্রে সজ্জিত একটা বাহিনীর লড়াই কেমন হতে পারে, সেটা অনুভব করার জন্য চমৎকার একটা মাঙ্গা হতে পারে এটি। মাত্র ১১ পর্ব বের হয়েছে এ পর্যন্ত। পড়া শুরু করে অল্প সময়ের মাঝেই Up to date হওয়া যাবে। তাই পড়ে দেখার অনুরোধ করলাম।
Otoyomegatari [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা এ রাব্বি আব্দুল্লাহ
ডিসকভারি চ্যানেলে প্রায়ই নানা উপজাতিদের নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখাত। আমাজনের উপজাতি, এস্কিমোদের জীবন আরও নানা কিছু। তো আমার সবচেয়ে পছন্দের ছিল কিরিগিজ জাতি, যারা যাযাবর টাইপের। রুক্ষ পরিবেশে বাস, অসাধারন তাদের জীবন ও সংস্কৃতি!!
তো ভালো আর্টের মাঙ্গা খোজ করতে গিয়ে পেয়েছিলাম Otoyomegatari মাঙ্গা আর পড়ার পর আমি মুগ্ধ!!
মাঙ্গার কাহিনী এক প্যারালালে না, বিভিন্ন লোকের কাহিনী নিয়ে এই মাঙ্গা। মাঙ্গার কাহিনী শুরু হয় কারলুক আর আমিরা হালগাল এর বিয়ের কাহিনী দিয়ে। বউ আমিরার চাইতে স্বামী কারলুক ৮বছরের ছোট। এইরকম এইজগ্যাপ ম্যারিজ ওদের সমাজে চালু আছে। এখন মনে হতে পারে যে এরা কি মানিয়ে নিতে পারবে! কিন্তু তাদের মত মিষ্টি রোমান্স বেশি দেখি নাই। কারলুক, আমিরা ও তাদের জীবনের দিনগুলো নিয়ে শুরু হয় মাঙ্গা, এরপর আছে দুই জমজ বোনের, শয়তানি, তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে এক গল্প। এই পার্ট অনেক কমেডির আর আমাদের দেশের বিয়ের অনুষ্ঠানের সাথে রিলেট করতে পারবেন!! আছে আরও ছোট ছোট নানা সুন্দর গল্প।
মাঙ্গা সেইনেন, সুতরাং কোন রকমের ন্যাকামি এই মাঙ্গাতে নেই। কাহিনীর পেসিং অসাধারন। রোমান্স আছে, কমেডি আছে, সংঘাত আছে। এখন আসি আসল কথায়! এই মাঙ্গার আর্ট আমার দেখা অলটাইম বেস্ট আর্টগুলার একটা। ড্রেসের ডিজাইন, কানের দুল, চাদর, ব্যাকগ্রাউন্ড, কভার আর্ট এত সুন্দর তা বলার মত না। মাঙ্গা পড়ার সময় প্যানেলের দিকে তাকিয়ে কল্পনায় হারিয়ে যাবেন!! এত সুন্দর। কাওরি মরি সেন্সেই একটা জিনিয়াস!!!
সুন্দর আর্ট সাথে সুন্দর কাহিনী। না পড়ার কোন কারন নাই। এই মাঙ্গা হল একটা আর্টিস্টিক জার্নাল বই! এই বেদুঈনদের জীবন, তাদের চিন্তাধারা, ভাবনা সব দেখতে পারবেন, বুঝতে পারবেন! অনুভব করতে পারবেন!! এই মাঙ্গার ক্ষেত্রে একটা কথাই খাটে! অতিরিক্ত অসাধারন!!!
তো আজকেই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গা Otoyomegatari!!
Hirunaka no Ryuusei [মাঙ্গা রিয়্যাকশন] — Trisha Islam
Manga Name: Hirunaka no Ryusei; The Daytime Shooting Star
Author: Yamamori Mika
Genre: Shoujo
Status: Completed
ব্রাউজ করতে করতে হঠাৎ চোখে পড়ে গেলো আর আর্টস্টাইল দেখে আটকে গেলাম মাঙ্গাটায়… পুরো রাত জেগে না ঘুমিয়ে শেষ করে ফেললাম। অন্যসব শোজো মাঙ্গার মতোই স্কুল বেসড। সংক্ষেপে বলতে গেলে,
গ্রাম থেকে শহরে আসা এক মেয়ের (Yosano Suzume) শহুরে জীবনের সাথে খাপ খায়িয়ে নেয়া, এক ইকেমেনের (Shishio Satsuki) প্রেমে পড়া আর প্রেম সংক্রান্ত চড়াই-উতরাই এই নিয়েই মাঙ্গাটার পরিসর।
টিপিক্যাল মনে হলেও গল্পের নতুনত্ব আছে। প্রথমত, যে ব্যাপারটা চোখে পড়েছে এবং শেষ করার পর আরো জোড়ালো ভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি তা হলো গল্পটার রিয়েলিজম। সুজুমের জীবনের সাথে অনেকাংশেই রিয়েলিটির যোগাযোগ দেখা যায়। অনেক সময়ই আমার পড়তে পড়তে মনে হয়েছে আরে সত্যি তো এমনটা হয়, তাহলে জীবন কি আসলেই শোজো মাঙ্গা? অন্য সব শোজো এনিমে দেখে বা মাঙ্গা পড়ে সাধারন যেটা মনে হয় জীবন তো শোজো মাঙ্গা নয় যে তিন তলা থেকে লাফ দিয়ে মোটামুটি কিছুই হবে না বা আরো যা যা আছে আর কি।
[Spoiler Warning]
আর দ্বিতীয় হলো মাঙ্গাকার strength, প্রচন্ড আকারের একজন সেডিস্ট। পুরা প্রথম হাফ ধরে একটা লাভস্টোরি কে বিল্ডাপ করে তারপর তা ছুড়ে ফেলা সাধারন মানুষের কাজ নয়। আমি যদিও প্রথম থেকেই মামুরার দলে ছিলাম কিন্ত সেনসেই কেও অপছন্দ করার মত কিছু ছিল না। চাচ্ছিলাম মামুরার সাথেই সম্পর্কটা হোক, কিন্ত সেনসেই এর হার্টব্রেক মেনে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আর এখানেই হয়ত মাঙ্গাটা অন্যসব থেকে আলাদা।
আর্টস্টাইল নিয়ে বলতে গেলে আগেই বলে নি, Sawako-chan এতো দিন পর্যন্ত আমার কাছে সবচেয়ে কিউট শোজো হিরোইন ছিল কিন্ত সুজুমে-চান আসার পর তা হয়ত বদলে গেছে। সুজুমে খুউবই এক্সপ্রেশনলেস (most of the time) কিন্ত তার মধ্যে দিয়ে মাঙ্গাকা এতো বেশি এক্সপ্রেশন ফুটিয়ে তুলেছে… আর প্রতিটাই কেমন যেন কোকোরো তে গিয়ে লাগে। আর যে হাসি গুলা সেনসেই বা মামুরা দেয় উফফফ kokoro no doki doki. তবে সবচেয়ে বেশি জোস লেগেছে তার চোঁখ আঁকার ধরন। এতো প্রশান্তি লাগে চোঁখ গুলার দিকে তাকালে।
তবে ভালোর মধ্যেও কিছু খারাপ ছিল। যেমন, মাঝে যখন সেনসেইর সাথে সুজুমের সম্পর্কের রাইজিং একশন থেকে ক্লাইমেক্স পয়েন্টে যাচ্ছিল তখন মামুরার সাথে সুজুমের সম্পর্কের বিল্ডাপ তেমন ভাবে দেখানো হয়নি… আরো ভালো ভাবে তা এক্সিকিউট করা যেত… বিধায় কেমন যেন খাপছাড়া লেগেছে। এই কারনেই আমার কাছে মনে হয়েছে এটা হয়ত মাঙ্গাকার ইনিশিয়াল এন্ডিং ছিল না। হয়ত মাঝপথে এসে তা চেঞ্জ করা হয়েছে।
Story: 9
Art: 9.5
Overall: 9
P.S. এটার এনিমে Adaptation দরকার। একটা মুভি আছে কিন্ত সত্যি বলতে তিন লিড ক্যারাক্টার এর কাউকেই আমার মাঙ্গার ক্যারাক্টার এর মত মনে হয়নি… কেমন যেন ফানি লাগে জাপানিদের অভিনয়গুলো… খুব বেশি মেকি।
Miyori No Mori [আনিমে ও মাঙ্গা রিভিউ] — Krista King
Name: Miyori No Mori
Genre: fantasy, drama, spiritual (nature).
Demographic: All
Anime Duration: 1hr 47min
Manga: vol2, ch.8
Author: Hideji Oda
Director: Nizo Yamamoto
Aired: 2007
সারসংক্ষেপ–
একদা মিয়োরি নামক একটি মেয়ে শৈশবে খেলতে খেলতে অরণ্যের গভীরে হারিয়ে গিয়েছিল। সেখানে ডিভাইন ট্রী-এর স্পিরিট তাকে অরণ্যের রক্ষী হিসাবে নির্বাচন করে। এখন মা ও বাবার মধ্যে অনবরত কলহের মাঝে ছোট্ট মিয়োরি একা হয়ে যায়। বড় হওয়ার সাথে সাথে সে মানুষের চেয়ে প্রকৃতিকে বেশি আপন করে ফেলত। মা বাবার বিচ্ছেদের দরুন এগারো বছরের মিয়োরি থাকতে শুরু করে ঠাকুমা-ঠাকুরদার সাথে সেই অরণ্য সংলগ্ন গ্রামে। প্রথমে অসুবিধা হলেও পরে গ্রামের মানুষ ও অরণ্যের স্পিরিটদের সাথে মিশে যায়। ইতিমধ্যে গ্রামে একদল মানুষের আবির্ভাব হয় যারা সেখানকার নদীতে বাঁধ বানাতে চায় কিন্তু সেটা হলে গ্রামসহ অরণ্য ডুবে যেতে পারে। সমস্ত অরণ্যের স্পিরিটদের একত্রিত করে তাদের এমন চমকায়, যাতে তারা আর ফেরত না আসে। এইভাবেই ছোট্ট মিয়োরি সকলকে বাঁচিয়ে নেয়।
My View-
অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলি। বেশ একটা গিবলি সিনেমাগুলোর মত অনুভব হয়। ক্যারেকটার ডিজাইন বাস্তবিক যেটা সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে আমার। মিয়োরির চরিত্রটি সবচেয়ে আকর্ষক। ছিচকাঁদনে অতিমিষ্টি চরম উৎসাহী নয় বরং শান্ত-শিষ্ট, নম্র অথচ দৃঢ়-মনস্কা, বাস্তবিক। শৈশব থেকে মা-বাবা, সহ-পাঠীদের কাছে তিরস্কৃত হওয়ার পরও, সবকিছু ভুলে মানসিকভাবে আরো দৃঢ় হয়ে ওঠার পরিণতিটি দেখার মত। মানুষের চেয়ে প্রকৃতির প্রতি এত টান, কোথায় একটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বলাই”এর কথা মনে করিয়ে দেয়। সবমিলিয়ে গল্প শেষে বেশ একটা ভালো লাগা থেকে যায়।
(আপনি এর মাঙ্গাটাও পড়ে দেখতে পারেন, মাত্র আটটি চ্যাপ্টারের, সেখানেও চিত্রগুলো খুব সুন্দর ও বাস্তবিক, মাঙ্গাতে আরোকিছু details আছে ঘটনাতে।)
BLAME! [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan
“May be on Earth.
May be in the future.”
পৃথিবী।
দিগন্তহীন, চির-প্রসারিত, কঙ্ক্রিটের তৈরি একটা জগত। সেখানে মেশিন, রোবট, সাইবর্গ আর অসংখ্য অমানবিক সব সত্ত্বা মিলে তৈরি করেছে এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দুঃস্বপ্ন। প্রকাণ্ড, বিস্তৃত ও বহুতল এই ডিস্টোপিয়ান পৃথিবীতে কিলি হেঁটে যায় অজানা গন্তব্যে। নেট টার্মিনাল জিন খুঁজে পাবার আশায়।
তার হাতে আছে একটা বিরল শক্তিশালী গান – গ্রাভিটেশনাল বিম এমিটার।
সে হেঁটে যায়।
ভঙ্গুর মেগাস্ট্রাকচারের আনাচে কানাচে হয়তো সে খোঁজ পাবে কোনো লুকানো সভ্যতার, আর বেরিয়ে আসবে পুরনো পৃথিবীর আদিম রহস্য।
• মাঙ্গাঃ BLAME!
• জনরাঃ Science Fiction, Action, Psychological, Seinen, Cyberpunk, Mystery, Horror
• মাঙ্গাকাঃ Tsutomu Nihei
• চ্যাপ্টারঃ ৬৬
• স্ট্যাটাসঃ Completed.
• পাবলিশডঃ Nov 25, 1996 to Jul 25, 2003
হার্ডকোর সাইফাই গল্পের ফ্যানদের জন্য মাস্ট রিড একটা মাঙ্গা। খুব কম ডায়লগ, আর প্রচুর অ্যাকশন প্যানেলের উপর নির্ভর করে আঁকা এই মাঙ্গাটা পড়ার সময় অনেকটা গোলকধাঁধায় পরে যেতে পারেন। তবে তাতে বরং পড়ার মজা বাড়বে বৈকি।
মাঙ্গাটিতে অনেক পিওর সাইবারপাঙ্ক কনসেপ্টের পরিচয় পাবেন। যেমন গল্পের একটা মূল কল্পিত বিষয় বস্তু, নেট টার্মিনাল জিন হচ্ছে একজন সম্পূর্ণ মানুষের জিনোম। কোনো সাইবর্গের জিন নয়, ইনজিনিয়ার্ড সাব-স্পিসিস মানুষদের জিন নয়। এই নেট টার্মিনাল জিন হল নেট-স্ফেয়ারের দরজা খোলার চাবি।
আরেকটা আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এই গল্পের দুনিয়ার প্রত্যেকটা স্তরের পরিবেশ খুব ডিস্টিঙ্কট। আরকিটেকচার নিয়ে পড়াশোনা করা সুতোমু নিহেই তাঁর মাঙ্গার প্যানেলে প্যানেলে মেগাস্ট্রাকচারের স্পেইস আর স্কেল তৈরি করতে যে তাঁর সবটুকু দিয়েছেন তা দেখলেই বোঝা যায়। আর সেই স্তর গুলোতে বাস করা মানুষ, সাইবর্গ আর রোবট গুলোর ডিজাইনগুলো নিতান্তই বিস্ময়কর।
নেটফ্লিক্সের মুভি অ্যানিমেটা একটা ছোট আর্কের উপর বেইজ করে যা অ্যাডাপ্টেশন করেছে, তাতে আমি আশাহত হয়েছিলাম। কারণ মূলত সিজিআইয়ের কারণে এই জগতটার অরগানিক, গোথিক আর সাররিয়েল আবহটা একদম হারিয়ে গেছে। সাউন্ডট্র্যাক আর ক্যারেক্টার ডিজাইনেও অনেক ত্রুটি ছিল। যদি এই মাস্টারপিস এবং বেশ জটিল সায়েন্স ফিকশনটা সত্যিকার অর্থে উপভোগ করতে চান তাহলে মাঙ্গাটা পড়ার জন্যে সাজেস্ট করবো।
আর, আরেকটা কথা। BLAME! দিয়ে কারো উপর দোষারোপ করা বুঝায়নি। BLAME! মানে Gravitational beam emitter gun এর আওয়াজ, ব্লাম!
আন্ডারকারেন্ট [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan
“সুকি নো ইউ” বাথহাউজের মালিক কানায়ে সেকিগুচির বয়স তেমন বেশি না। মাত্র চার বছর আগেই হাই স্কুল থেকে পাশ করে বেড়িয়ে সে বিয়ে করে ফেলে এক সহপাঠী যুবককে। তার কিছুদিন পর বাবার মৃত্যুর কারণে উত্তরাধিকার হিসেবে বাথহাউজের দায়িত্ব পড়ে কানায়ে আর তার স্বামীর উপরে। সেখানে দুজনে মিলে বাথহাউজের দেখাশোনা করে সংসার শুরু করে ফেললো। বেশ ভালোই দিন কেটে যাচ্ছিল তাদের।
তারপর…
একদিন কানায়ের বর হারিয়ে গেল। অন্যসব দিনের মতই কাজের খাতিরে তাকে বাইরে যেতে হয়েছিল। কিন্তু সে আর ফিরে আসলো না। সবজায়গায় অনেক খোঁজ করা হল। কিন্তু সে কোথায় আছে, কেমন আছে তার কখনো হদিস পাওয়া যায়নি।
মাঝে মাঝে, লোকমুখে নানান আলাপ শোনা যায় কানায়ের বরের নিখোঁজ হবার রহস্য নিয়ে।
এখন কানায়ে আর তার এক মাসি মিলে ঐ বাথহাউজটার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কানায়ে কাজের মাঝেই নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চায়। হারিয়ে যাওয়া মানুষের জন্যে জীবন থেমে থাকে না।
তবে গভীর দুঃখ যে বার বার দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে না, তা না। অতীতের ঘোলাটে স্মৃতিগুলোর কথা মনে করলেই রাগ, হতাশা, ঘৃণা, ভালোবাসা সব অনুভূতিগুলো একসাথে ভেতরে জট পাকিয়ে যায়। আর কতদিন একজনের অপেক্ষায় বসে থাকা যায়? প্রতিদিন টিভিতে, সংবাদপত্রে চোখ রেখে, দরজায় কান পেতে…
একদিন একজন লোক আসলো সেই বাথহাউজে কাজের সন্ধানে। কানায়ের বরের হারিয়ে যাওয়ার পর একজন কাজের লোকের দরকার পরেছিল বেশ কদিন ধরেই, হোরি নামের এই যুবকটি সেই অভাব পূরণ করে দিতে কাজে লেগে পড়লো। সে অনেক ভদ্র আর নিরব স্বভাবের মানুষ, যার কাছে মনের অনেক গোপন কথা অনায়াসে বলে দেয়া যায়। আচ্ছা, হোরি কানায়ের জীবনে ভালোবাসার মানুষের অভাবটাও পূরণ করে দিতে পারবে কি?
নাকি সেও একদিন তাকে কিছু না বলে উধাও হয়ে যাবে? কেউ যদি চলে যেতে চায় তাহলে তাকে আটকানো যাবে না।
কানায়ে কাউকে ধরে রাখতে চাওয়ার মত মেয়েও না। সে নিজে মানসিকভাবে অনেক শক্ত, অন্তত বাইরে থেকে তাই মনে হয়। কিন্তু তারপরেও তার মাঝে অনেক কিছু আছে যা কখনো কাউকে বলা সম্ভব না। অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু ব্যাপার সে নিজের মাঝে অনেক দিন ধরে লুকিয়ে রেখেছে। তার কারো জন্য দুর্বল হলে চলবে না। নয়তো অনুভূতির উজান স্রোতে সেসব লুকানো স্মৃতি তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
তেতসুইয়া তোয়ওদার আন্ডারকারেন্ট মাঙ্গাটা আমার অনেক প্রিয় একটা মাঙ্গা হয়ে উঠেছে। অত্যন্ত সাদামাটা আর্টস্টাইলে একটা পরিপূর্ণ কাহিনীবিন্যাসে মাঙ্গার চরিত্রগুলো বেশ ভালো ভাবেই ফুটে উঠেছে। এবং তা সম্ভব হয়েছে কারণ চরিত্রগুলির চেহারা আর ভাবভঙ্গিতে কোনো অতিরঞ্জনের ছায়া নেই, নামের সাথে মিল রেখেই সেসব সূক্ষ্ম আকারে দেখানো হয়েছে। মূল চরিত্র কানায়ের অবসন্নতা, আর এলোমেলো অবস্থা তার চেহারায় বোঝা যায়। আর হোরির সারাক্ষণ ভাবলেশহীন মুখ নতুন রহস্যের জন্ম দেয়।
গল্পটা যেহেতু চরিত্রভিত্তিক, তাই এর প্রতিটি চরিত্রকে অনেক ম্যাচিউরিটির সাথে হ্যান্ডেল করা হয়েছে। সাধারণত সাইকোলজিক্যাল মাঙ্গাগুলোতে কিছু চরিত্র অসহ্য রকমের বিরক্তিকর কাজ কর্ম করে থাকে, যেন মূল চরিত্রের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়াই তাদের একমাত্র কাজ। সেসব চরিত্রগুলোকে তখন চরিত্র মনে হয় না, মনে হয় ক্যারিকেচার। আর মূল চরিত্রের স্ট্রাগল দেখে দেখে ব্যাপারটা আনরিয়েলিস্টিক পর্যায়ে চলে যায়। আন্ডারকারেন্ট মাঙ্গা তে সেসব পাবেন না। বরং তাদের কথা আর নিরবতার প্যানেলগুলোতে খেয়াল করলেই অনেক ইতিহাস ভেসে আসে। আর একেকটা চ্যাপ্টারে বেশ কিছু থিম দেখতে পাওয়া যাবে – মমতা, ক্ষমা, অপরাধবোধ, অতীত আর মানুষকে বুঝতে না পারা।
মাঙ্গাটা সম্পর্কে এখন আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। তার চেয়ে মাত্র ১১ চ্যাপ্টারের এই ছোট্ট মাঙ্গাটা পড়ে ফেলুন। অনেকটা ২০০০ এর দিকের টেলিফিল্মের মত লাগবে। মাঙ্গাটা বেরও হয়েছে ২০০৪-২০০৫ সালে। মাঙ্গার সমাপ্তিটা আমাকে অবাক করেছে। শুধু এটুকু বলবো, কিছু প্রশ্নের উত্তর জীবনে কখনো সোজাসুজি পাওয়া যায় না। আবার অনেক কিছুর অর্থ খুঁজতে সারা জগতও পাড়ি দিতে হয় না। অন্তঃপ্রবাহে আছে সব কিছুর মানে, কিন্তু সেই মানেটা বেশ তিক্তমধুর।
মাঙ্গাঃ Undercurrent, アンダーカレント
জনরাঃ Slice of life, seinen
মাঙ্গাকাঃ Tetsuya Toyoda
চ্যাপ্টারঃ ১১
স্ট্যাটাসঃ Completed
MAL স্কোরঃ ৭.৫৪
পার্সোনাল রেটিং: পড়ে ভালো লাগবে।
ইন্সার্ট সং: Down Town Boogie Woogie Band- The Traitor’s Journey:
By Hedeki Saijo:
Chara – Duca:
Duty After Schools [মানহোয়া রিভিউ] — Ahmed Samira Niha
বেগুনি রঙ্গের কিছু পদার্থ হঠাত করেই আকাশ থেকে নেমে এসে পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করলো। এরা তিন সাইজের হয়ে থাকে, বড়, মাঝারি আর ছোট। ছোট বেগুনী স্ফিয়ারগুলি নিজে থেকে মুভ করে যেয়ে মানুষকে আক্রমন করে মেরে ফেলে। মাঝারি স্ফিয়ারগুলি আদতে দেখতে নিরীহ হলেও তাদের ২ মিটারের কাছাকাছি গেলে ধারালো টেনটাকল দিয়ে নিমিষেই ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে যে কাউকে। আর বড় গুলো চুপচাপ থাকে, কারো আগেপিছে নাই।
তো এ অবস্থায় কোরিয়ান আর্মিরা ঠিক করলো যে হাইস্কুল স্টুডেন্টদের মিলিটারি ট্রেইনিং দেওয়াবে যাতে এদের ফ্রন্টলাইনে কাজ করানোর জন্য পাঠানো যেতে পারে, কারন আর্মিদের ম্যানপাওয়ার খুবই কম। বিনিময়ে বলা হলো যে যে যত বেশি কন্ট্রিবিউট করবে, তাকে বোনাস পয়েন্ট দেওয়া হবে, যেটার সুবাদে ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় তারা বিশেষ এডভান্ট্যাজ পাবে, নিজের পছন্দমত ভার্সিটিতে ইচ্ছামত এপ্লাই করতে পারবে এক্সট্রা নাম্বারের দরুন।
খুবই লোভনীয় প্রস্তাব। এ সুযোগ আর কে হাতছাড়া করে। হেলাফেলা করে শয়তানি করে দিন কাটাতে থাকে, তারপরে একদিন টনক নড়ে সবার, যেদিন একজন সত্যি করে সবার চোখের সামনে মারা যায়।
এবং স্টুডেন্টরা বুঝতে পারে ঘটনার আসল ভয়াবহতা। শুরু হয়ে যায় সারভাইভালের জন্য এক আদিম প্রতিযোগিতা। সিওলের এক হাইস্কুলের কিছু ছাত্রছাত্রীদের ভালবাসা, ঘৃণা, স্বার্থপরতা, হাসি কান্না মিলিয়ে এক মানহোয়ার কাহিনি, নাম Duty After School.
চ্যাপ্টার সংখ্যা ৫০, কমপ্লিটেড।
ক্রিয়েটর: Ilkwon ha
এরকম সুন্দর আর অদ্ভুতুড়ে মাঙ্গা খুব কমই পড়েছি। আন্নারাসুমানারা’র মাঙ্গাকার কাছ থেকে আসলে এমনটা এক্সপেক্ট করাই যায়। গল্প বলার স্টাইলটাও অনেক সুন্দর। তার আঁকায় এক বিশেষ সম্মোহনী এক ক্ষমতা আছে, যার কারনে এক প্যানেল পড়া শেষ হলেও কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকতে হয়, আবার পড়তেও বেশিক্ষন লাগেনা। আর ভিজ্যুয়ালের কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই, পুরো মাঙ্গায় কালো আর আর ডার্ক বেগুনী একটা হ্যিউ কাজ করেছে, যা এই টাইপের মাঙ্গার ডিপ্রেসিভ পরিবেশের সাথে একেবারে চমতকার ভাবে মানিয়ে গেছে।
কেন পড়বেন: আপনার জীবনে পড়া/দেখা সারভাইভাল জন্রার বেস্ট কাহিনি হতে যাবে। আমি একরাতে শেষ করেছি। রাত ৯টায় পড়তে ধরে সকাল ৭:৩০টায় শেষ করেছি। মাঝে পড়াশোনা না করলে আরো আগেই শেষ হতো।
সারভাইভাল জন্রার কাহিনি যেহেতু, তাই ক্যারেক্টারদের ধপাধপ মরে যাওয়ার অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলির প্রত্যেকটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন। এই মানহোয়ার ব্রিলিয়ান্ট অথচ আনএক্সপেক্টেড এন্ডিং আপনাকে কিছুক্ষনের জন্য হতভম্ব করে দিতে বাধ্য।
পার্সোনাল রেটিং: ১০/১০
*মানহোয়াটি line webtoon app-এ পড়া ভাল।
অনন্য মাঙ্গা আসর – ৯ (Hoshi Mamoru Inu inc. Zoku Sequel)
গল্পের মাঝে একজন চরিত্র এসেছে; তার পরিবার আর পরিপার্শ্ব ও তার সাথে একটি কুকুরের সম্পর্ক বা বলা যেতে পারে কুকুরের চোখে সেই মানুষের জীবনযাত্রা বা পরিবার কিরকম তার বর্ণনা দিয়ে শুরু। কুকুরের ভাবনা হয়ত সহজ সরল এবং কিছুটা নির্বুদ্ধিতা কিন্ত তাতে কোন দোষ নেই; কারণ কুকুর বোঝেনা কেন বাচ্চারা টিনেজার হয়ে গেলে বাবা মাকে মধ্যাঙ্গুলি দেখায়; সে বোঝেনা কেন ভালোবাসা আর মায়ার পরও Unemployed বলে একটি দম্পতির ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়. আর তাই কুকুরের কাছে তার পালকের জীবনের ব্যাখাটা অনেকটা সহজ ভাষ্য – “হুম সে এটা করে তারপর এটা হয় আর তারপর থেকে এটা রোজই হয়”The Promised Neverland (Yakosokou no Neverland) [মাঙ্গা রিভিউ] — Shifat Mohiuddin
মাঙ্গা: The Promised Neverland (Yakosokou no Neverland)
চ্যাপ্টার: ৭৩
স্ট্যাটাস: অনগোয়িং
রচয়িতা: কাইয়ু শিরাই
ইলাস্ট্রেটর: পোসুকা দেমিজু
জনরা: থ্রিলার, মিস্ট্রি, অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি
সাধারণত আমি একেবারে নতুন কোন মাঙ্গা পড়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ পোষণ করি না। যে মাঙ্গার এনিমে নেই আরকি। অর্ধসমাপ্ত এনিমেগুলার মাঙ্গা পড়ে কৌতূহল মিটিয়েই কূল পাই না। তাছাড়া এতদিন পরেও মাঙ্গা পড়ার অভ্যাসটা গড়ে উঠে নি পুরোপুরি। তাই মাঝেমাঝেই দেখতাম Arafin Shanto কে একটা ফ্রেশ মাঙ্গা নিয়ে চেঁচামেচি করতে। অতটা পাত্তা দেই নি প্রথমে, ‘কোন একদিন পড়বোর’ লিস্টে ফেলে রেখেছিলাম অন্য অনেক সিরিজের মত। একদিন Rezwan Shuvo তাই ক্যাঁক করে ধরলো মাঙ্গা পড়ার ব্যাপারে। আমতা আমতা করে উত্তর দিলাম এই তো এটা-সেটা পড়ছি! সুযোগ বুঝে আরেফিনের সাজেস্ট করা সেই মাঙ্গার ফার্স্ট চ্যাপ্টারের পুরোটা কাহিনী মাথায় ঢুকিয়ে দিল সে। বাসায় এসে প্রথম ভলিউম শুরু করার সময় ভাবলাম প্রথম চ্যাপ্টারের পুরো কাহিনী যখন জেনে গেছি, মাঙ্গাটা কি আর ভাল লাগবে? প্রথম চ্যাপ্টারের শকিং ফ্যাক্টরের স্পয়লার খাওয়ার পরও কমিক রিডারের পেজ উল্টাতে উল্টাতে হুট করে খেয়াল করলাম যে নিমিষেই সাত চ্যাপ্টার শেষ করে ফেলেছি। পরের ৬৬ চ্যাপ্টার যে রোলার-কোস্টার রাইড উপহার দিয়েছে তার জন্য আগে থেকেই দুজনকে ধন্যবাদ দিয়ে রাখি। মধু হই হই পুরো বিষ খাইয়ে দিল তারা! ওহ, এতক্ষণ ধরে তো মাঙ্গার নামটাই বলা হল না! পিটার প্যানের স্রষ্টা জে.এম ব্যারির কল্পিত দেশ ‘নেভারল্যান্ডের’ সাথে মিলিয়ে মাঙ্গার নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্যা প্রমিজড নেভারল্যান্ড’। নামকরণটা যে কেন এত ভয়াবহভাবে যথার্থ তা নিয়ে অন্য কোন পোস্টেই আলোচনা করা যাবে।
প্লট: (স্পয়লার অ্যালার্ট তবে এই স্পয়লার জরুরী)
‘Grace Field Orphanage’ এ থাকে তিন এতিম শিশু এমা, নরম্যান আর রেই। তাদের তিনজনেরই বয়স ১১. তাদের সাথে থাকে বিভিন্ন বয়সের আরো ৩৩ জন শিশু। এতিমখানার দেখাশোনা করেন ‘মাদার ইসাবেলা’। ইসাবেলাকেই তারা জন্মের পর থেকে অভিভাবক জেনে এসেছে, আর এতিমখানার বাকী শিশুদের আপন ভাই-বোন। ইসাবেলার যত্ন-আত্তিতে ভালই কেটে যাচ্ছিল এমা-নরম্যান-রেইদের দিন। মাঝেমাঝেই তাদের এতিমখানা থেকে বাচ্চাদের দত্তক নিয়ে যায় বিভিন্ন পরিবার। এমাদের মনে অনেক দুঃখ যে পরিবার পাওয়ার পর তাদের সঙ্গীরা তাদের আর খোঁজ-খবর রাখে না। এ পর্যন্ত তাদের কেউই সময় করে একটা চিঠিও পাঠায় নি। একদিন ছয় বছরের ‘কনিকে’ দেখাশোনা করার জন্য অভিভাবক পাওয়া যায়। সাজগোজ করা কনিকে অশ্রসজল চোখে বিদায় জানায় এমা-নরম্যানরা। রাতে ঘুমানোর সময় হুট করে এমা টের পায় যে কনি তার প্রিয় পুতুলটাকে ভুলে ফেলে গেছে। রেই জানায় যে হয়তোবা অরফানেজের বাইরে কনিরা এখনো আছে, তাড়াতাড়ি করলে হয়তোবা পুতুলটা দেওয়া সম্ভব হবে। এমা আর নরম্যান গেটের দিকে দৌড় লাগায়। গেটের কাছে গিয়ে দেখে চারদিক শুনশান, একটা বড় ট্রাক দেখতে পায় তারা শুধু। এমা ভাবে হয়তোবা ট্রাকের ভেতরেই পুতুলটা রেখে দিলে সেটা কনির কাছে পৌছে দেওয়া হবে। ট্রাকের পেছনে উঁকি দেওয়ার পর এমা এক অকল্পনীয় বীভৎস দৃশ্য দেখে মূর্তি হয়ে যায়। নরম্যান এগিয়ে এসে দেখার পরে আঁতকে উঠে।
ট্রাকের ভেতরে রাখা আছে সুন্দর পোশাক পরা বেচারা কনির মৃতদেহ, রক্তের সাগরে সুন্দর করে ভাসছে সে। চোখে লেগে আছে ভয়াবহ আতংক। সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হল কে জানি কনির বুকে একটা শস্যের গাছ গেঁথে রেখেছে। তখনই কথাবার্তার আওয়াজ শুনে তারা দ্রুত ট্রাকের নিচে লুকিয়ে পড়ে। ভয়ানক আতংক নিয়ে তারা দেখতে পায় যে পৈশাচিক আর বীভৎস দুই দানব কথা বলছে অরফানেজের ব্যাপারে। আড়ি পেতে তারা জানতে পারে যে এই অরফানেজ আসলে একটা হাই-ক্লাস ফার্ম। এখানে মানুষের বাচ্চার দেখভাল করা হয় সম্ভ্রান্ত দানবদের খাবার হিসেবে! ছয় বছর বয়স থেকেই বাচ্চাদের খাবার হিসেবে রপ্তানি করা হয়। দানবদের প্রিয় খাবার হল মানুষের মগজ। আর ‘মাদার ইসাবেলার’ কাজ হচ্ছে চাহিদামত সেবাযত্ন করে বাচ্চাদের ব্রেইনকে পরিপূর্ণ করে তোলা।
এসব শুনে মুহূর্তের মধ্যে এমা আর নরম্যানের চেনা জগতটা তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়ে। সদা স্নেহশীল মাদার হয়ে যায় তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। ঘনিষ্ঠ বন্ধু রেইকে তারা পুরো ঘটনাটা জানায়। তিনজন মিলে পুরো অরফানেজের সবাইকে নিয়ে পালানোর অসম্ভব পরিকল্পনা আঁটে। সম্বল শুধু তাদের তিনজনের তীক্ষ্ণবুদ্ধি আর জ্ঞান। বিপক্ষে আছে ভয়ানক নিষ্ঠুর মাদার, বাইরের মানুষখেকো দানবঘেরা দুনিয়া আর অরফানেজের বিশাল দেওয়াল। তারপরও খাবার না হওয়ার তীব্র তাড়না আর বাইরের দুনিয়াকে জানার বাসনা তাদের শক্তি যোগায় অসম্ভব এক অভিযানের সঙ্গী হতে।
চরিত্র:
মাঙ্গার ক্যারেকটারগুলা এক কথায় দুর্দান্ত। অরফানেজের আইকিউ টেস্টে সবসময় যৌথভাবে সর্বোচ্চ নাম্বার পাওয়া এমা-নরম্যান-রেই তিনজনেরই আছে স্বকীয়তা। এমা খুব চঞ্চলমতি আর তার হৃদয়টা বিশাল। সে সব পরিকল্পনাই আঁটে সবার নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে। তাই ভয়ানক ঝুঁকি নিতে সে পিছপা হয় না। কঠিন অনেক সমস্যার সরল সমাধানও করে দিতে পারে সে। এক কথায় নায়কোচিত সব গুণাবলি আছে এমার।
এমা প্রদীপের আলো হলে রেই হলো তার অন্যপাশের অন্ধকার। কিছুটা স্বার্থপরই বলা যায় রেইকে। তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার অধিকারী রেই সবসময়ই নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। এ কারণে এমার সাথে তার একচোট বাঁধে নিয়মিতই। রেইয়ের নিপুণ দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বিপদ থেকে বাঁচায় তাদের। তাছাড়া প্রতিপক্ষের গতিপ্রকৃতি যাচাই করার অসাধারণ জ্ঞান আছে রেইয়ের।
তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র নরম্যানের বৈশিষ্ট্য হল ইস্পাত-কঠিন স্নায়ু আর চমৎকার দূরদর্শী ক্ষমতা। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথার নরম্যানকে দেখে বোঝার উপায় নেই তার মনে কী চলছে। প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতে কিন্তু আবার প্রয়োজনে অন্যের জীবন হাসিমুখে নিতেও তার বিন্দুমাত্র হাত কাঁপবে না। প্রতিপক্ষের চাল আন্দাজ করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজানোর বেলায় নরম্যান সিদ্ধহস্ত। ভয়-ডর বলে সম্ভবত কিছু নেই নরম্যানের। তার হাসিমুখে অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করা দেখলে গায়ের রোম খাঁড়া না হয়েই পারে না। Monster এর ইয়োহান লিবার্টের ভদ্র সংস্করণ হল নরম্যান আমার মতে।
এছাড়া ডন, গিল্ডা, মাদার, সিস্টার ক্রোন এবং সামিনের চ্যাপ্টারগুলাতে আসা চরিত্র ও ভিলেনরাও সমান আকর্ষণীয়।
প্রতিক্রিয়া:
আমার মতে প্রমিজড নেভারল্যান্ড মাঙ্গার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল এর টুইস্ট আর কাহিনী লুকিয়ে রাখার প্রবণতা। টুইস্টটা যেন দুই পক্ষের দিক থেকেই আসে, দুই পক্ষই প্লট টুইস্টের শিকার হয় সমানতালে। এমা-নরম্যান-রেইরা প্ল্যান আঁটার পরে দেখা যায় যে, মাদার এসে মুহূর্তে তা নস্যাৎ করে দিচ্ছে। আবার তারাও মাদারের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বারবার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যাচ্ছে নিরলসভাবে। দুই পক্ষই যখন ভাবছে তাদের প্রতিপক্ষের খেল খতম তখনই অপর পক্ষ তুরুপের তাস বের করে পাশার দান উল্টে দিচ্ছে। এ যেন এক নিরন্তর ইঁদুর-বিড়াল খেলা। শুধু বিড়ালের জায়গা দখল করে নিয়েছে নিষ্ঠুর চতুর এক মহিলা আর ইঁদুরের জায়গায় আছে সুযোগসন্ধানী তিন কিশোর-কিশোরী।
এই ইঁদুর-বিড়াল খেলাকে জমিয়ে দিয়েছে মাথার লড়াই। এমা-নরম্যান-রেইদের শারীরিক সক্ষমতা অল্পই তবে তারা সেটা পুষিয়ে নিয়েছে মাথা খাটানোর ক্ষমতা দিয়ে। হাসিমুখ মাদারের সাথে দৈনন্দিন সময় অতিবাহিত করলেও তাদের মগজের ধূসর কোষগুলো সচল থাকে চব্বিশ ঘন্টা। প্রতিপক্ষের কথাবার্তার পাশাপাশি চাল-চলন, আচার-ব্যবহার ও মুখভঙ্গি দেখে ভবিষ্যৎ চাল আন্দাজ করে নেয় তারা। এগারো বছরের তিনজন শিশুর এরকম বুদ্ধিমত্তা দেখেকে অবাক হতে হয়। সাথে সাথে চলতে থাকে ভয়ানক ঝুঁকি নিয়ে আড়ি পাতা, গোপনে সরঞ্জাম সংগ্রহ করা ও বাইরের দুনিয়ার খবর নেওয়ার প্রচেষ্টা। সমান সেয়ানা প্রতিপক্ষও তাদের মানসিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। মাথার উপর মৃত্যু পরোয়ানা ঝুলিয়ে রেখে এরকম রিস্কি কাজের বাহার মাঙ্গাটাকে করে তুলেছে আরো উত্তেজক।
মাঙ্গাটার কাহিনী লুকিয়ে রাখার ক্ষমতা অতুলনীয়। যখনই মনে হবে তীরে এসে তরী ডুবছে তখনই ভয়ানক একটা সত্য উন্মোচন করে পাঠককে নাড়িয়ে দেবেন মাঙ্গাকারা। মাঙ্গাকারা যেন পাঠককে আশা আর নিরাশার দুটো নৌকায় পা দিতে বাধ্য করেছেন। একদিকের নৌকা হেলে পড়লেও তা পুরোপুরি ডুবে না, তাই আশার বাতিও নেভে না পুরোপুরি। এ কারণেই মাঙ্গার চরিত্রগুলাকে আরো বেশী আপন মনে হয়, তাদের কাজকর্মের উত্তেজনাটাও অন্য মাত্রায় অনুভব করা যায়। একটার পর একটা ক্লু রেখে দেওয়া হয় গল্পে যার সূত্রে চরিত্রগুলার আশার আলো জিইয়ে থাকে। সাথে সাথে আমরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। মাঝেমাঝে হতাশা চরম মাত্রায় পৌছে গেলেই ভয়াবহ কোন প্লট টুইস্ট এসে কাঁপিয়ে দিয়ে যায় সবকিছু। একঘেয়ে ভাবে কথাগুলো বলতে হচ্ছে কারণ চ্যাপ্টার আর ঘটনার কথা বিন্দুমাত্র উল্লেখ করলেই স্পয়লার হয়ে যাবে।
প্রমিজড নেভারল্যান্ড মাঙ্গাকে আসলে অ্যাটাক ইন টাইটান ও মেইড ইন অ্যাবিসের শংকর বলা যায়। AOT এর মধ্যে যে বেঁচে থাকার তাড়না ও মানবজাতির টিকে থাকার প্রেরণাটা রয়েছে তা ভালভাবেই আছে নেভারল্যান্ড মাঙ্গায়। আবার MIA এর অপূর্ব ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং আর ইকোসিস্টেম এর বর্ণনাও আছে মাঙ্গাটাতে। AOT ও MIA এর মধ্যে অজানাকে জানার যে থ্রিলটা অপেক্ষা করে দর্শকদের জন্য তা সমানভাবেই আছে নেভারল্যান্ড মাঙ্গায়। বরংচ তা প্রদর্শিত হয়েছে আরো ভিন্ন আঙ্গিকে ও ভিন্ন পরিস্থিতিতে। আবার নারুতো শিপ্পুডেনের মত পরিবারের রহস্য-ক্ষমতার দ্বন্দ্ব-চক্রান্ত-অতীতের পাপ-নিয়ম ভাঙ্গা-সৃষ্টির অরিজিন ইত্যাদি জিনিসের ব্যাপক আভাস পাওয়া যাচ্ছে নতুন চ্যাপ্টারগুলাতে। অরফানেজের সীমাবদ্ধ জায়গায় কাহিনী শুরু হলেও দ্রুতই মাঙ্গাকারা পাঠকদের একটা নিজস্ব ইউনিভার্স উপহার দিয়েছেন। সেটা নিয়ে এখন ইন্টারনেটে তুমুল আলোচনাও চলছে।
মাঙ্গার আর্ট বেশ ভাল। ইলাস্ট্রেটর সাহেব খুব ভালভাবেই চরিত্রগুলার মুখভঙ্গি উঠিয়ে এনেছেন কাগজে। দানবগুলার ডিজাইন খুবই ভয়াবহ। কিছুটা এলিয়েন আর কিছুটা পশু মনে হয় তাদের। তুরুপের তাসগুলা বের করার সময় নরম্যান-এমা-রেইদের চেহারা হয় দেখার মতো, এই জায়গাগুলাতে ডার্ক লাইনের ব্যবহার খুব ভাল লাগে। অসহায় চেহারাও আঁকতেও অনেক ওস্তাদ ইলাস্ট্রেটর। আর রাগ-ক্রোধের দৃশ্যগুলা তো রীতিমত দুর্দান্ত। গাছপালা, ঝর্ণা, ভূগর্ভ, মরুভূমি আর অদ্ভুত সব জীবজন্তুর আঁকাও ভাল ছিল অনেক। নরম্যানের স্মিত চেহারা আর এমার হাসিমুখ দেখলে ব্যাপক প্রশান্তি অনুভূত হয়।
সম্ভবত আর কোন কিশোর সাহিত্য আমাকে এত থ্রিল দেয় নি দ্যা প্রমিজড নেভারল্যান্ডের মত। ২৯-৩০ এর দিকে গাঢ় হতাশা আমাকে ঘিরে ধরেছিল চারপাশ থেকে। ৩২-৩৩ এ যখন চমক আসলো তখন গা রীতিমত কাঁপছিল আমার। চ্যাপ্টার ৩৬ এর সময় তো আমি আনন্দে প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলাম। বেঁচে থাকার প্রেরণা যে কত আনন্দের হতে পারে তা AOT এর পরে আরেকটা সিরিজে এত অনুভব করতে পারলাম। চ্যাপ্টার ৩৬-৩৭ এর ক্লাইমেটিক ঘটনাগুলো ঘটার সময় গায়ের রক্ত যেন টগবগ করে ফুটছিল। নিজের চেহারা নিজে দেখা যায় না, হয়তো আয়নাতে তখনকার সময়ের চেহারা দেখলে নিজেই আঁৎকে উঠতাম। এরপরে একটানে চ্যাপ্টার ৩৮-৬২ পর্যন্ত পড়ে গেছি কাহিনী এত দ্রুতগতিতে রোলার-কোস্টারের মত এগিয়েছে যে দম ফেলার ফুরসত ছিল না। নতুন চ্যাপ্টারে যে বোমা ফাটলো তাতে তো ফ্যান থিওরি দাঁড়া করাতে করাতে ফ্যানবেসের কাহিল হওয়ার যোগাড়। আসলে একটানে মাঙ্গাটা শেষ করে ফেলাই ভুল হয়েছে। এখন আবার প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে অপেক্ষা করতে হবে। ![]()
প্রথম থেকেই এরকম ডার্ক আর ম্যাচিউরড কাহিনীওয়ালা সিরিজ উইকলি শৌনেন জাম্পে ছাপানো হচ্ছে তা বিশ্বাস করতে কষ্টই হচ্ছে। জাম্প এডিটর সম্ভবত এই মাঙ্গা নিয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী। আর মাঙ্গাকারাও ইতোমধ্যে কাহিনী অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। উইকলি মাঙ্গা হওয়ায় প্রতি চ্যাপ্টারে মাত্র বিশটা করে পেইজ, তাই পড়তে একদমই সময় লাগে না। এই ২০১৬ সালের আগস্টে শুরু হওয়া এই সিরিজটার মাঙ্গা অলরেডি ২.১ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়ে গেছে। এখন এর এনিমে আসা সময়ের ব্যাপার। হয়তোবা FMAB এর মত একসাথে পুরো গল্প অ্যাডাপ্ট করা হবে। শৌনেন জাম্পের নতুন প্রজন্ম বেশ ভালই করছে বলতে হবে।






















