Aku no Hana (Flowers of Evil) মাঙ্গা রিএকশন — Farhad Mohsin

নোট: আপনি যদি শুধু আনিমে দেখে থাকেন (যেটার সিজন টু বেরোতেও পারে), তাহলে আপনি মাঙ্গার কাহিনীর হয়ত ওয়ান থার্ডের মত দেখেছেন। আমি রিয়েকশন পোস্ট আন-স্পয়লারিশ রাখার চেষ্টা করব, তারপরেও কিছু স্পয়েল করে দিলে দুঃখিত।

প্রথমত, এটা একটা coming-of-age গল্প, সেইখানে অস্বীকার করার কিছু নাই। কিন্তু এটা আপনার এভারেজ কামিং-অফ-এজ মাঙ্গা না। সিনোপ্সিস দেখতে গেলে আপনি দেখবেন সেখানে লেখা –
কাসুগা তাকাও, যে অনেক গভীর সাহিত্যিক জিনিস-পত্র পড়ে। সে ক্লাসের সায়েকি নামে এক মেয়েকে পছন্দ করে, অনেকটা অবসেশনের পর্যায়েই, এবং একদিন হঠাত ঝোঁকের মাথায় সে সায়েকির gym clothes চুরি করে বসে। এবং এই সময়েই সে ধরা পড়ে ক্লাসের ‘সাইকো’ মেয়ে নাকামুরার কাছে। এখানে শুরু হয় নাকামুরার ব্ল্যাকমেইল।

আকু নো হানার সিনোপ্সিস পড়ে কোনভাবেই প্রকৃত গল্পের টোন সম্বন্ধে আইডিয়া পাওয়া সম্ভব না। পড়ে মনে হতে পারে একটা পার্ভার্টেড ধরণের গল্প হতে পারে। কিন্তু পুরো টোনটা আসলেই অন্যরকম। মাঙ্গায় অনেক বেশি লিটারেসি রেফারেন্স আছে, প্রায় কিছুই কমন পড়ে নি। তবে টোনটা, কমন anarchic টোনটা ধরা খুব একটা কঠিন না। আর সেটাই গল্পকে মূলত ড্রাইভ করে নিয়ে যায়। অন্যতম মূল চরিত্র, নাকামুরার মত চরিত্র হিস্ট্রিতে, ফিলসফিতে কম দেখা যায় না। যেন সে অনেক কাছ থেকে সোসাইটিকে দেখেছে। সমাজের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জীবিকার জন্য তাড়না, একটা রুটিনময় জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একইভাবে চলা, যে শহরে জন্ম সে শহর থেকে এক পাও বাইরে না দেওয়া, এসব কিছুই যেন তার কাছে অনেক অর্থহীন। আশেপাশের সকল মানুষকে তার মনে হয় ফাঁকা খোলসের মত।
এসব কিছু থেকেই বের হওয়ার ইচ্ছা তার। পারলে সে সাথে বের করে আনবে তাকাও কে। গল্পের প্রথম অংশ মূলত তার “Other side” এ যাওয়ার ইচ্ছা নিয়েই। আশেপাশের এই নর্দমার কীটদের মধ্য থেকে বের হয়ে, সে চলে যেতে চায় অন্য পারে। যেখানে এসব থাকবে না তার আশেপাশে।

চরিত্রায়নকে আমি বেশিই ভালো বলব। আমি পড়তে পড়তে মাঝে মাঝেই চিন্তায় পড়ে যেতাম, কোন চরিত্রটা বেশি ‘অসহ্য’, ক্যাওটিক। মাঙ্গাকা যা করতে চেয়েছেন ভালোমতই করেছেন মনে হয়। মূল চরিত্র, তাকাওকে একটা বিশাল সময় ধরে স্পাইনলেস একটা এম্পটি ক্রিচার ছাড়া কিছু মনে হয় না। মোটামোটিভাবে মাঙ্গার দ্বিতীয় ভাগের একটা সময়ের আগ পর্যন্ত কখনোই আমার তারে ভাল্লাগে নাই।

আর্টওয়ার্ক প্রথম দিকে জেনেরিক ও মিনিমাল ছিল। খুব আহামরি কিছু না। ধীরে ধীরে শেষের দিকে গিয়ে আর্টওয়ার্ক বেশ খানিকটা ইম্প্রুভ করে। তবে পুরো সময়েই যে জিনিসটা বেশ ভালো নজর কেড়েছে, তা হল ভিজুয়ালস।

আর শেষে এনজয়মেন্টের দিক দিয়ে বলব, পড়তে পড়তে যতই মেজাজ গরম হোক, রেখে দেওয়ার মত ছিল না। আকর্ষণ ধরে রেখেছে শেষ পর্যন্ত। গল্পের দ্বিতীয় পার্ট প্রথম পার্টের তুলনায় খানিকটা বেশি soothing ছিল, পরিবর্তনটা ভাল্লাগসে। পুরো গল্পে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্রের আবির্ভাবও মূলত এই সময়েই হয়।

সব মিলিয়ে বেশ বেশ ভালো একটা মাঙ্গা আকু নো হানা। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে সবার জন্য না। আপনার যদি একটু ডার্ক ধরণের সাইকোলজিকাল গল্প ভালো লেগে থাকে তাহলে ট্রাই করে দেখতে পারেন। এ কথা মনে হয় এর আগে বলেছিলাম Goodnight Punpun এর ব্যাপারে।

MAL rating:
manga – 8.15
anime – 7.19

আমার মাঙ্গা রেটিং – 8.5

Eyeshield 21 মাঙ্গা রিভিউ — Rezo D. Skylight

Manga Review: Eyeshield 21

প্রথমেই বলে নেই মাঙ্গাটা মূলত “American football” নিয়ে যা খুবই অপ্রচলিত একটা স্পোর্টস। আমি নিজেও সিরিজটা শুরু করার পূর্বে বহুত দিধা-দন্দে ছিলাম। মনে হয়েছিল যে, জিবনেও ভালভাবে American football খেলা দেখি নাই তাহলে এই সিরিজ পড়ে লাভটা কি?! আমি ভাবতাম American football খেলাতে খালি গুতাগুতি করা ছাড়া কিছুই নাই। এতে আর মজার কি?! কিন্তুু সত্যি বলতে কি “Eyeshield 21” সিরিজটা আমার চিন্তা-ধারনাকে বদলে দিয়েছে। American football যে এত মজার হতে পারে Eyeshield 21 না দেখলে হয়তো বুঝতে পারতাম না। আমি প্রথমে Eyeshield 21 এর এনিমে সিরিজটা দেখেছি তারপর মাঙ্গাটা পড়া শুরু করেছি। সিরিজটা আমার কাছে এতই ভালো লেগেছে যে মাঙ্গাটাও আমি প্রথম থেকে একবার হাল্কা ভ্রমন দিয়ে এসেছি। 😀

মাঙ্গাটা সম্পর্কে প্রথমে কিছু তথ্য দিয়ে নেই-
Volumes: 37
Chapters: 333
Status: Finished
Published: Jul 23, 2002 to Jun 15, 2009
Genres: Action,Comedy,School Life,Shounen,Sports. (Src-mangaupdates)
Authors: Inagaki, Riichiro (Story), Murata, Yusuke (Art)
Serialization: Shounen Jump (Weekly)
MAL Score: 8.62
MAL Ranked: 76
MAL Popularity: 96

কাহিনী কি দিয়ে আর শুরু করবো?! অন্যান্য শউনেন এনিমেতে যা হয়। প্রথমে মেইন ক্যারেক্টার “Wimpy” টাইপের থাকে কিন্তুু পরে সে বেশ শক্তিশালি হয়ে উঠে। Eyeshield 21ও তার বেতিক্রম নয়। গল্পের মূল নায়ক থাকে “কোবায়াকাওয়া সেনা” নামের অতি সাধারন এক ছেলে। সারা জীবনে খালি বুলির স্বীকার হয়েছে এবং বুলি থেকে বাচতে খালি দোউড়িয়ে বেড়িইয়েছে। কিন্তুু হাইস্কুলে উঠার পর সে ঘটনাক্রমে যোগ দেয় American football ক্লাবের Secretary হিসেবে। Secretary হওয়া সত্তেও শেষমেশ তাকে মাঠে খেলতে হয় “Eyeshield 21” নামের ছদ্দবেশে। এখান থেকেই তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সে সারা জীবনে বুলির হাত থেকে বাচার জন্য যে দোউড়ানোর কৌশল ব্যাবহার করত তা সে খেলার মাঠে কাজে লাগায় এবং পরিনত হয় Eyeshield 21 নামের এক রহস্যময় প্লেয়ারে।

এখন ক্যারেক্টারের কথায় আসি। ক্যারেক্টারের কথায় আসতে গেলে প্রথমেই আমার মাথায় আসে “হিরুমা ইয়োচির” নাম। সেইরকম অস্থির একটা ক্যারেক্টার। তার কাজকর্ম, বুদ্ধি, স্ট্রাটেজি সবকিছুই আনপ্রেডিক্টেবল। সে থাকে মূলতো Deimon High স্কুলের American football টিমের ক্যাপটেন ও কোয়ার্টারব্যাক। সে পুরো সিরিজে খুবই গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরপর মেইন ক্যারেক্টার সেনার কথায় আসি। তার আচার আচারন আর ৫-১০টা অন্যান্য Wimpy ক্যারেক্টারের মতনই। কিন্তুু মাঝে মধ্যে সে খুবই ভাবসমৃদ্ধ কথা কথা বলে বসে এবং তার সবচেয়ে ভালো বৈশিষ্ট্য হল “সহজেই হার না মানা”। এছাড়া আরও গুরুত্ত্বপূর্ণ ক্যারেক্টার রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোজ্ঞ হল আনেজাকি মামোরি, রেইমন তাউরো, রোয়োকান কুরিতা, তাকেকুরা গেন, হা-হা ব্রাদারস সহ আরও ক্যারেক্টার। Eyeshield 21 এর সবচেয়ে ভালো বৈশিষ্ট্য হল এটির কাহিনী শুধু মেইন ক্যারেক্টারের উপর ফোকাস করে তৈরি হয়নি। প্রতেক ক্যারেক্টারের এর উপর মাঙ্গাকারা গুরুত্ত প্রদান করেছে। মেইন ক্যারেক্টারের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেক্টারেরও ডেভেলপমেন্ট দেখানো হয়েছে। এমনকি প্রতিপক্ষ টিমের ক্যারেক্টারেরও ডেভেলপমেন্ট দেখানো হয়েছে (ঊদাহরন- শিন, সাকুরাবা, রিকু ইত্যাদি), যা খুব কম স্পোর্টস মাঙ্গাতেই দেখানো হয়। সবমিলিইয়ে ক্যারেক্টারগুলা খুবই মেমোরেবল। তাই Eyeshield 21 এর অন্যতম কী পয়েন্ট হলো এর “ক্যারেক্টার”।

আর্ট নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। বেশিরভাগ মানুষই কোনো মাঙ্গা পড়ার আগে তার আর্ট কেমন তা জিজ্ঞাসা করে। তাদের প্রথমেই বলে দিতে চাই Eyeshield 21এর মতো এত সুন্দর ও ডিটেইল আর্টের স্পোর্টস মাঙ্গা খুব কমই আছে। আর্ট নিয়ে যখন কথাই বলতে হল তখন আর্টিস্ট এর কথায় আসি। Eyeshield 21এর আর্টিস্ট হল Murata Yusuke। তার নাম হয়তো অনেকেই জানেন। বিশেষ করে যারা One Punch-Man মাঙ্গা পড়েছেন তাদের তো তাকে আরও বেশি চিনার কথা। তিনি বর্তমানের সেরা আর্টিস্টদের মধ্যে একজন। তাই, সাভাবিক ভাবে Eyeshield 21 মাঙ্গার আর্ট তো ভালো হবেই। আর মাঙ্গার ষ্টোরি রাইটার হল Inagaki Riichiro। বলতে গেলে Eyeshield 21ই তার সবচেয়ে উল্লেখযজ্ঞ কাজ। এছাড়া কিছু ওয়ান-সট ও রচনা করেছেন। তবে সেগুলো তেমন সাড়া পায়নি। কিন্তুু ভবিষ্যতে হয়তোবা সে Eyeshield 21 মতো আরও ভালো ভালো কাজ বের করবে বলে আশা করা যায়।

অনেক কথা লিখে ফেললাম। এখন যদি এঞ্জয়মেন্ট কথা বলতে যাই এক কথায় বলব Eyeshield 21 আমি খুব উপভোগ করেছি। Eyeshield 21এর প্রটিতি ম্যাচেই আছে টানটান উত্তেজনা ও টুইস্ট। যেহেতু এইটা Shounen ও Sports জেনারের মাঙ্গা সেহেতু এতে কিছু রুপকিয় moves/technique থাকতেই পারে; এতে তেমন দোষের কিছুই নেই। বরং এই moves/technique গুলা মাঙ্গাকে আরও উপভজ্ঞ করে তুলেছে। সবমিলিয়ে, Eyeshield 21 আমার পড়া “1 of the best” স্পোর্টস মাঙ্গা। 😀

এতুকিছুর পর নিশ্চয়ই মাঙ্গাটা একটু হলেও পড়তে ইচ্ছা করবে। তাই, দেরি না করে একবার শুরু করেই দেখুন। একবার পড়া শুরু করলে আর থামতে পারবেন না। আপনার মন চলে যাবে “American football” খেলার দুনিয়ায়। ~YAA-HAA~

My Rating – 9/10

*F.A.Q.-
১. American football আর Rugby কি একই জিনিস?
=>মোটেই এক জিনিস না। যদিও Rugby কে American football এর ছোট ভাই বলা হয়। এই লিঙ্কটি দেখে আসুন – [http://visual.ly/what-difference-between-american-football-…] আশা করি ধারণা পরিস্কার হয়ে যাবে।
২. American football খেলার নিয়ম কানুন কি?
=> Eyeshield 21 মাঙ্গা পড়লেই খেলার নিয়ম কানুন জেনে যাবেন। নইলে [http://en.wikipedia.org/wiki/American_football] এখানে ঘুরে আসুন।
৩. Eyeshield 21 এনিমে কি দেখব?
=> এটা আপনার একান্ত নিজের ইচ্ছা। এনিমের BGM ও OST গুলা বেশ ভালো। এনিমের টোটাল এপিসোড সংখ্যা ১৪৫ (More info –http://myanimelist.net/anime/15/Eyeshield_21)। তবে এনিমেতে বেশ কিছু ফিলার আছে। তাই ফিলারের ঝামেলা এড়ানোর জন্য মাঙ্গা দিয়ে শুরু করতে পারেন।

হরর মাঙ্গার রাজা – ইতৌ জুন্জি

 

19230_468959826590403_8634242293780997866_n

সত্যজিৎ রায়ের অসাধারণ ছোট গল্পগুলো পড়েছেন? খগম, মঙ্গলই স্বর্গ, এমন রহস্য আর ভয়ের মিশেলে গড়ে ওঠা গল্পগুলো, যাদের কোন সুখকর সমাপ্তি নেই, বরং গায়ে কাঁটা দেয়া পরিস্থিতি। মজার ব্যাপার হল, এসব গল্পে প্রচলিত অর্থে ভূতপ্রেত নেই, সেই জায়গায় আছে অতিপ্রাকৃত বিষয়াবলী। এই সব গল্প চিত্রায়িত করা গেলে কেমন হত?

জাপানী মাঙ্গাকা ইতো জুঞ্জি মাঙ্গা আঁকছেন বিশ বছরের বেশি সময় ধরে। এরই মধ্যে তিনি হরর মাঙ্গার রাজা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন। তাঁকে বেশিরভাগ ফ্যানই চেনে মূলত উজুমাকির মাধ্যমে, কিন্তু উনি লিখেছেন দারুণ সব ওয়ানশটও, যেগুলো তাদের নিজস্বতায় ভাস্বর। এখানেই আসে রায় সাহেবের প্রসঙ্গ তোলার কারণ। জুঞ্জি এত প্রতিভাবান, উনি সরাসরি ভূতপ্রেত নিয়ে কাজ না করে রায়ের মতই ভয়ের প্রকারভেদকে উম্মোচিত করেছেন। কত ধরনের ভয়? কিটোফোবিয়া[চুলের ভয়], মেলিসোফোবিয়া[মৌমাছির ভয়], এক্রফোবিয়া[উচ্চতার ভয়], পুপাফোবিয়া[পুতুলের ভয়], হিমোফোবিয়া[রক্তের ভয়], ট্রাইপোফোবিয়া[ছিদ্রের ভয়] আরো কত কি! উদ্ভট সব কাহিনী ফেঁদে সেই সাথে ভৌতিক আবহ সৃষ্টি করায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার।

তাঁর মাঙ্গা যেগুলো স্ক্যানলেট হয়েছে, পড়তে পারবেন মাঙ্গাফক্সে। আর ডাউনলোড করার জন্য বাকাবিটি তো আছেই। http://bakabt.me/torrent/180715/the-junji-ito-horror-comic-collection-museum-of-terror-ito-junji-kyoufu-manga-collection

আমার নিজের পছন্দের কিছু টাইটেল হচ্ছে – The Bee Hive, The Bully, Falling, My Dear Ancestors, The Groaning Drain, Frankenstein [হ্যাঁ, মেরি শেলির সেই বিখ্যাত কাহিনীর মাঙ্গারূপ]

তবে জুঞ্জির মুনশিয়ানা কিন্তু কেবল হরর মাঙ্গাতেই সীমাবদ্ধ না, উনি গ্যাগ মাঙ্গায়ও পারদর্শী। সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুই ধরনের মাঙ্গা আঁকতে পারা, সব্যসাচী ছাড়া আর কি বলা যায়? জুঞ্জি কিন্তু নিজেকে আর তাঁর স্ত্রীকে চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেও একটা মাঙ্গা এঁকেছেন। বিড়ালপ্রেমী মাঙ্গাকা তাঁর স্ত্রীর সাথে লড়াই করছেন। তাঁদের পোষা বিড়াল দম্পতির কাকে বেশি ভালবাসে, জায়াকে, নাকি পতিকে, এই বিষয় নিয়ে। এমন মাঙ্গাকাকে পছন্দ না করে পারা যায়?

Coffee With Asif (CWA): Manga Corner – পর্ব ৮ – Liar game

 

Doubt them, question them, suspect them, and take a good long look into their hearts. Humans are the kind of beings that can’t put their pain into words, after all.
-Shinichi Akiyama

liargame1

পুরো মাঙ্গাটার রিভিউ বোধহয় এক লাইনেই বলে দেওয়া যায় এইভাবে – “একজন অসম্ভব রকমের সৎ মেয়ে কোনভাবে একটা খেলায় জড়িয়ে যায় যেখানে জিততে হলে মিথ্যে কথা বলতে হবে; আর হার মানেই ভয়ঙ্কর পরিনাম। এবং right from the word “go” সে নিজে মিথ্যের কবলে পড়ে সব খুইয়ে বসে এবং সাহায্য চায় একজন ধান্দাবাজের।”

সহজ সরল এবং অপ্রতিম একটা কাহিনী। বিশেষত্ব? এই খেলার মাধ্যমে এই সিরিজ অন্বেষণ করে বেড়িয়েছে মানব মনের অন্ধকার অংশ – মিথ্যা, শঠতা, লোভ ও স্বার্থপরতা এবং সেগুলোকে ছাপিয়ে মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা বিশ্বাসের শক্তিকে।

মাঙ্গার প্রতি আমার শুরু থেকেই কেমন যেন একটা বিতৃষ্ণা ছিল; কেন জানি। এতো দিনেও তাই কোন সিরিজ পড়া হয়ে ওঠে নি। এই সিরিজের গল্প kaijiর সাথে অনেকটাই সমান্তর – তথ্যটা জানার পর কৌতুহলবশত পড়া শুরু করলাম; এবং দুই দিন পর আমি লিটারেলি জোরে জোরে লাইন বাই লাইন পড়ে গেসি; এইরকমই থ্রিলিং একটা সিরিজ !!!

কাঞ্জাকি নাও- একজন অসম্ভব সৎ মেয়ে। এতটাই সৎ যে তা মাঝে মাঝেই তার কাজকর্ম বোকামি বলে প্রতীয়মান হয়। স্বভাবতই সে লায়ার গেমের জন্য সবচেয়ে অযোগ্য প্রতিযোগী হবার কথা – যে খেলার মুল লক্ষ্যই হল মিথ্যা আর ধোকাবাজির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ দখল করা; আর হারলেই যেখানে অপেক্ষা করছে বিশাল অঙ্কের ঋণ আর ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎ। কিন্তু একদিন নাও অবাক বিস্ময়ে তার দোরগোড়ায় ১০০ মিলিওন ইয়েন আর খেলায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণপত্র পায়। নানা ঘটনার চক্করে খেলায় অংশ নিয়ে প্রথমেই পুরো অর্থ খুইয়ে বসে সে। উপায়ান্তর না দেখে দ্বারস্থ হয় জিনিয়াস জুয়াড়ি Shinichi Akiyama’র। তার সহায়তাতেই এই খেলার আসল উদ্দেশ্য এবং এর পিছনের লোকদের পরিচয় উন্মোচনের মিশনে নামে দুজনে।

মাঙ্গার আর্ট খুব আহামরি না; বিশেষ করে প্রথম দুই এক ভল্যুম। পরে খানিকটা উন্নতি হলেও আহামরি কিছু হয় নি; তবে চালিয়ে নেওয়া যায় খুব সহজেই।

গল্পের চরিত্রগুলো অত্যন্ত চমৎকারভাবে গড়ে তোলা; এবং মাঙ্গার মুল এবং প্রধান আকর্ষণ। শুরুতেই নাও কে উপস্থাপন করা হয় বোকাসোকা, সহজ সরল, সবসময় অন্যের মুখাপেক্ষী, অল্পতেই কান্নাকাটি করা একজন হিসেবে। কিন্তু যতই গল্প এগুতে থাকে নাও ততই আকিয়ামার সাহায্যে শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে, এবং তার সরলতা আর সর্বসত্ত্বা দিয়ে সে সবাইকে সাহায্য করার মাধ্যমে সবার প্রিয় হয়ে উঠতে থাকে।

আসা যাক আকিয়ামার চরিত্র বিশ্লেষণে (সতর্কবানীঃ অতিরিক্ত উত্তেজিত ফ্যান গার্লদের মতন প্যানপ্যানানি সামনে)। জিনিয়াস বল্লেও বোধ হয় কম বলা হয়ে যাবে আকিয়ামাকে। মোটামুটি ডেথ নোটের এলের মতন ঠান্ডা মাথায় সব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া; সব সময় ন্যায় আর সত্যের সাথে থাকা আকিয়ামা এক কথায় দুর্দান্ত। তার এই কাজকর্ম এবং ক্ষমতার বিশ্লেষণে আর গেলাম না; সেটা পড়ার সময় নিজেই পড়ে নেবেন খন।

পাবলিক রিএকশনঃ (এই পার্টটা এডমিন ফারসিম আহমেদের FAC থেকে ধার নেওয়া)
কানজাকি নাও প্রচন্ড রকম সৎ একটা মেয়ে। এতই সৎ যে তাকে বর্তমান সমাজের মূল্যবোধের যে অবস্থা তাতে প্রশংসা না করে বোকাই বলা যায়। তো এমন সৎ ভালোমানুষ এক মেয়েকে যদি লায়ার গেইম নামের এমন একটা খেলায় অংশ নিতে হয়, যে খেলার মূল কথায় হচ্ছে অন্য প্রতিযোগীদের ধোঁকা দেয়া, তাহলে কেমন হবে? যা হবার, তাই হলো। নাও প্রথম রাউন্ডেই তার প্রাথমিক পুঁজি একশ মিলিয়ন ইয়েন হারালো। পেনাল্টি হিসেবে দুইশ মিলিয়ন ইয়েনের খাঁড়া যখন ঝুলছে তার উপর, সেই অবস্থায় অসহায় নাও খোঁজ পেল এক জিনিয়াস প্রতারকের, নাম তার আকিয়ামা শিনিচি। এই দুই সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর মানুষ যখন জুটি বাঁধলো, তার পরিনতি কি হবে? তারা কি পারবে লোভ আর প্রতারণা যার পরতে পরতে মেশানো, সেই লায়ার গেমের ভয়াবহ জগতকে জয় করতে?

কেন পড়বেনঃ

অসাধারণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, যারা ওয়ান আউটস বা আকাগি এর মত ওয়ান ম্যান শো গুলো উপভোগ করেছেন, তাদের জন্য মাস্ট রিড।

কেন পড়বেন নাঃ তেমন কোনো কারণ নেই।

আমার রিএকশনঃ ভবিষ্যতে গলাবাজি করে বলতে পারব এইরকম একটা বস মাঙ্গা দিয়া আমার মাঙ্গা পড়ার শুরু হয়েছিল !!!

শুরু করেছিলাম আকিয়ামার চমৎকার একটা উক্তি দিয়ে; শেষটাও তাই –
“Trust.” That act without a doubt a very noble one.. but you know, what many people do, that they call “trust,” is actually giving up on trying to understand others. And that has nothing to do with “trust,” but is rather.. apathy. There are countless people out there who fail to realize that apathy is a far more devastating act than doubting others.
-Shinichi Akiyama

 

গিন নো সাজি- রূপার চামচের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

000

কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “অ্যানিমে কেন দেখ?” অনেক ধরণের উত্তরের মাঝে সবচেয়ে বেশি যে উত্তরটা পাওয়া যায়, তা হল, “অ্যানিমে / মাঙ্গা থেকে আমি অনুপ্রেরণা পাই।” এই উত্তরটা আমাকে সবসময় খুব অবাক করত, কারণ আমি অ্যানিমে / মাঙ্গাকে সবসময় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু অন্তত এই একটি অ্যানিমে আমার ধারণার ব্যতিক্রম ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তাই অ্যানিমেটা শেষ করার পর আমি মাঙ্গাটাও পড়ে ফেলি। তাই এই রিভিউটি গিন নো সাজির অ্যানিমে এবং মাঙ্গা দুটিই কভার করবে।

প্রথমে মাঙ্গা সম্পর্কে কিছু তথ্য দেই-
Genres: Comedy, Drama, School, Shounen
Authors: Arakawa, Hiromu (Story & Art)
Status: Publishing
Score: 8.26
Ranked: 428

Gin-no-Saji-Ep-2-Img-0016-1024x576

হাচিকেন ইয়্যুগো একজন শহুরে কিশোর। বলতে গেলে তার সারাজীবন কেটেছে চার দেয়ালের মাঝে। বাসা, স্কুল এবং পড়াশোনা ছাড়া তার জীবনে আর কিছুই ছিল না। এই শহুরে ছেলেটা হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেয়, সে কোন শহুরে হাইস্কুলে পড়বে না; বরং টোকিও থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত একটি অ্যাগ্রিকালচারাল স্কুলে পড়বে, এবং সেখানে ডর্মিটরিতে থাকবে।

স্কুলের প্রথম দিন থেকেই হাচিকেন একের পর এক উদ্ভট পরিস্থিতির সামনে পড়ে! তার সহপাঠীরা সবাই খামারের কাজে ওস্তাদ; তারা সবাই এই স্কুলে এসেছে, কারণ তারা কৃষিকাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের পরিবারকে ব্যাবসায় সাহায্য করতে চায়। সেখানে হাচিকেন জীবনে কোনদিন কাছ থেকে গবাদি পশুও চোখে দেখেনি; অন্যদের কাছে যা স্বাভাবিক ঘটনা, হাচিকেনের কাছে সেগুলোই একেকটা নতুন চ্যালেঞ্জ!

1

জীবনের টুকরা জনরার বিরূদ্ধে একটা সাধারণ অভিযোগ, এগুলো নাকি বোরিং। কিন্তু রূপার চামচের বিরূদ্ধে আমার অভিযোগ, এটা দেখতে বসলে খিদে পায়! আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে কাজগুলো শুধু করার জন্য করি, সেগুলো যে আনন্দ নিয়েও করা যায়, তা গিন নো সাজি থেকে শিখেছি। একজন শহুরে ছাত্রের অ্যাগ্রিকালচার স্কুলে পড়তে যাওয়া, সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে টিকে থাকার প্রচেষ্টা, বন্ধুত্ব এবং বাস্তব জীবনের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক কিছু কথা- সব মিলিয়ে এই গল্পটি রূপার চামচের মতই এক টুকরো সম্পদ। সামান্য ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনারও যে কতটা উপভোগ্য হতে পারে, আমরা যে পিজা দোকানে গিয়ে কিনে খাই, তা সবাই মিলে বানিয়ে খাওয়া কতটা মজার হতে পারে… একটা পশুকে নিজে হাতে যত্ন করে বড় করার পর তাকে খাদ্যে পরিণত হতে দেয়াটা একইসাথে কত কষ্টের এবং আনন্দের হতে পারে- জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলোর গুরুত্ব এই গল্পটি আমাকে মনে করিয়েছে। সেইসাথে খামার বা কৃষিকাজ করে যারা জীবন যাপন করে, তাদের জীবনের সুখদুঃখটা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন মাঙ্গাকা, আর তা পারবেনই বা না কেন! এর আগে তিনিই যে আমাদের উপহার দিয়েছিলেন ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্টের মত অসাধারণ এক গল্প!

014

মাঙ্গাটি আরাকাওয়া সেনসেই এর কাজ, কাজেই আর্ট এবং গল্প বলার স্টাইলের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই, প্রতিটা পৃষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা হয়। আর গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তিনি হালকা হাস্যরস তৈরি করেছেন, পড়ার সময় তা মনটাকে হালকা করে তোলে। সেইসাথে অ্যানিমেটিও কম যায়না, এর ঝকঝকে মন ভাল করা আর্ট এবং অসাধারণ ওএসটির কারণে।

একজন মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, সেগুলো মাঝে গল্প উপন্যাসকেও হার মানায়! সেই চ্যালেঞ্জ পার করতে “ও পারলে আমি পারব” ধরণের মানিসকতা কাজে দেয়না; বরং নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে সেখান থেকেই যা করা সম্ভব তা করতে হয়। নাকামা পাওয়ার নয়, এনিথিং ফর মাই নাকামা নয়, সাধ্যমত সাহায্য করা এবং না পারলে নিজের অক্ষমতা মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। গিন নো সাজিতে এই বার্তাটি খুব সুন্দর একটা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

তাই, পারলে আজই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গাটি এবং আবিষ্কার করুন স্লাইস অফ লাইফ জনরার একটি অমূল্য রত্ন!

10847473_407429682754877_2032844622808354923_o

History’s Strongest Disciple: Kenichi মাঙ্গা রিভিউ লিখছেন তাওসিফ তান

 

historys-strongest-disciple-kenichi-4496349

হিষ্টোরিস স্ট্রংগেষ্ট ডিসাইপল : কেনিচি
(History’s Strongest Disciple: Kenichi)
( 2002-running )

GENRE: action, martial arts, comedy, romance, high school

মার্শাল আর্টস! মানবসৃষ্ট এবং যুগ যুগ ধরে চর্চাকৃত এমন এক শিল্প যা দ্বারা মানুষ চাইলে খালি হাতে যেকোন অস্ত্রধারী বা তারচে বেশি শক্তিশালী মানুষ থেকে নিজেকে ও নিজের আশপাশের মানুষদের রক্ষা যেমন করতে পারে…তেমনি চাইলে তা ব্যবহার করে সংঘটিত করতে পারে ভয়ঙ্কর সব অপরাধ! নিজেকে পরিণত করতে পারে একটি “মানব মারণাস্ত্রে”। নাড়িয়ে দিতে পারে মনুষ্যত্ব ও সভ্যতার ভিত! মার্শাল আর্টিষ্ট দের মাঝে যারা এক বা একাধিক মার্শাল আর্টে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন তাঁদের বলা হয় “মাষ্টার ক্লাস”, আর যারা সেইসব মাষ্টারদের কাছে মার্শাল আর্ট শিক্ষা নেয় তাদের বলা হয় “ডিসাইপল ক্লাস” মার্শাল আর্টিষ্ট…

তো আমাদের কাহিনীর মূল চরিত্র কেনিচি শিরাহামা, একজন শীর্ণকায় ভীতুর ডিম সোশ্যালি অকওয়ার্ড জাপানী স্কুলছাত্র, যে কিনা প্রতি পদে পদে তার ক্লাসমেট এবং উচু ক্লাসের ছাত্রদের Bullying এর শিকার!! সে সবসময় চায় শক্তিশালি হতে, এসব অন্যায় bullying এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, নিজের ও তার আশেপাশের সকল তারমত ভুক্তভোগীদের রক্ষা করতে…. এবং পরিণতিতে আরো মার খায়!

সব দেখে শুনে কেনিচির রহস্যময়ী বান্ধবী মিউ ফুরিনজি একদিন কেনিচিকে নিয়ে যায় তার পরিবার, “রিওজানপাকু ডোজো” তে। এমন একটি মার্শাল আর্ট স্কুল যেখানে একত্রিত হয়েছেন বিশ্বের সেরা সেরা “গ্র্যান্ড মাষ্টার”গণ (এমন মাষ্টারক্লাস, যারা নিজেদের মার্শাল আর্ট স্কিলকে নিয়ে গেছেন প্রায় অতিমানবীয় পর্যায়ে ) ! রয়েছেন দার্শনিক জুজুৎসু মাষ্টার আকিসামে কোয়েৎসুজি, ১০০ ডিগ্রী কারাতে ব্ল্যাক বেল্ট শিও সাকাকি, সকল চাইনিজ মার্শাল আর্টের গুরু মা কেনসেই, আন্ডারগ্রাউন্ড মুয়ায় থাই এর “ডেথগড” খ্যাত আপাচাই হোপাচাই এবং সকল অস্ত্রনির্ভর মার্শাল আর্টের প্রডিজি কোসাকা শিগুরে! আরো আছেন বুড়ো হায়াতো ফুরিনজি, মিউর দাদা, যিনি কিনা “ইনভিন্সিবল সুপারম্যান” নামে মার্শাল আর্ট জগতে সুবিদিত একজন লেজেন্ড!
এদের খপ্পরে পড়ে কেনিচির দুনিয়াই পাল্টে যায়! কোনপ্রকার ন্যাচারাল ট্যালেন্টবিহীন কেনিচির দিনের একাংশ এখন কাটে তার পাঁচ মাষ্টারের উপর্যুপরি নারকীয় এবং অমানুষিক ট্রেনিং গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করে এবং অন্য অংশ কাটে মিউর সাথে স্কুল এবং স্কুলের বাইরে Ragnarok নামক একটা ভয়ঙ্কর কিশোর অপরাধী দলের মার্শাল আর্টিষ্ট সদস্যদের সাথে যুদ্ধ করে এবং তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে! এক সময় কেনিচি এতে সফলকামও হয় এবং দল থেকে তার অনেক বন্ধুবান্ধবও জুটে যায়…কিন্তু তারপরই সে জড়িয়ে পড়ে আরো ভয়ঙ্কর বিপদে!
কেনিচির মার্শাল আর্ট স্কিলের খ্যাতি শুনে তার উপর নজর পড়ে YAMI নামক বিশ্বের সবচে কুখ্যাত মার্শাল আর্ট সংস্থার এলিট গ্রুপ “ওয়ান শ্যাডো নাইন ফিষ্ট” এর! যাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিজেদের ডিসাইপলদের দিয়ে রিওজানপাকুর ডিসাইপলকে পরাজিত করা এবং রিওজানপাকুর পতন ঘটিয়ে শুধুমাত্র মার্শাল আর্ট দ্বারা বিশ্বে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটানো!

কেনিচি কি পারবে তার মাষ্টারগণ এবং বন্ধুদের সাথে মিলে ইয়ামিকে প্রতিহত করতে?? সে কি পারবে ইয়ামির ছাত্রদের হারিয়ে নিজের “ষ্ট্রংগেস্ট ডিসাইপল” খেতাবটি রক্ষা করতে??

সবিস্তারে এই হচ্ছে কেনিচির কাহিনী! মাঙ্গা মূল যেসব জিনিস আমার ভালো লেগেছে তা হল, এর সুন্দর গোছানো একটি কাহিনী, অসাধারণ সব চরিত্রের সমাবেশ, নাকামা পাওয়ার এবং মাথা ঘুরায় দেওয়া সব ফাইট, প্লট টুইষ্ট এবং ট্র্যাজেডি!! এই গল্পে বিভিন্ন দেশের মার্শাল আর্ট সম্পর্কে একেবারে খাঁটি তথ্য দেওয়া হয়েছে, এবং কোন মার্শাল আর্ট ফর্মকেই কোনটার চেয়ে দুর্বল দেখানো হয়নি!

এছাড়াও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গল্পের চরিত্রদের শক্তিসামর্থ্যকে একটা নির্দিষ্ট লিমিটের মাঝে রাখা হয়েছে… অন্যান্য কাহিনীতে যেমন দেখানো হয় যে শিক্ষানবিশ চরিত্ররা মাঝে মাঝে চেইতা টেইতা এমন পাওয়ার দেখায় যে তাদের চেয়ে শতগুন শক্তিশালী শিক্ষক লেভেলের অপনেন্ট কে কোপায় ফেলে! এখানে তা নাই! যত যাই হোক, ডিসাইপল সবসময়ই ডিসাইপল, মাষ্টার রা সবসময়ই মাষ্টার!!

মাত্রাতিরিক্ত নগ্নতা, শুরুর দিকে কাহিনীর স্লো পেস এবং বাজেটের অভাবে এর অ্যানিমে টা বেশিদিন চলে নি, কিন্তু ধৈর্য্য ধরে যদি কেউ মাঙ্গা টা পড়ে যান….বুঝতে পারবেন এই গল্পের “বিগ থ্রি বিগ ফোর” না হলেও তাদের কাছাকাছি আসার সামর্থ্য ছিল… মার্শাল আর্ট জেনারের আমার সবচে প্রিয় মাঙ্গা হল “হিষ্টোরিস স্ট্রংগেষ্ট ডিসাইপল : কেনিচি”!

MAL rating : 8.5/10
my rating : 8/10

kenichiova

 

Annarasumanara [মানহোয়া রিভিউ] by Tahsin Faruque Aninda

 

ছোটকালে মানুষের জীবন থাকে অনেক রকমের স্বপ্নে পূর্ণ, জীবনের প্রতিটি ছোটবড় ঘটনা যেন জাদুর ছোঁয়ায় হয়ে উঠে রঙিন। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যেন সেই সব অদ্ভুত সৌন্দর্যময় দিনগুলি জায়গা ছেড়ে দেয় কর্মব্যস্ততার জীবনকে, জাদুময় পৃথিবীকে গ্রাস করে নেয় নির্মম বাস্তবতা। সমাজে সম্মানজনক অবস্থানের জন্যে বেঁছে নিতে হয় ভাল পেশা, পরিবারকে দেখে শুনে রেখে দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে হেঁটে চলবার পথ। নিজে ভালমতো খেয়েপরে নিয়ে সবাই চায় তাদের সন্তানেরাও যেন তাদের দেখানো পথে চলে, সবাই যেন ঠিকমতো “বড় হয়ে উঠে”।
তবে কেউ যদি সমাজের দেখানো পথে “বড় হয়ে উঠতে” না চায়, তাহলে কী হবে? সমাজ কি তার এই “ছোট থেকে যাওয়া” মেনে নিবে? নাকি সবাই তাকে আর সবার মতই তথাকথিত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্যে উঠেপরে লাগবে?
তারচেয়েও বড় প্রশ্ন, সবার দেখানো পথে “বড় হয়ে উঠে” জীবন গড়ে তুলার বিরোধিতা করে ছোটকালের সেই স্বপ্নময় জীবনকে তাড়া করে ছুটলে কী হবে সেই মানুষটির? তার জীবন কি সেখানেই থেমে থাকবে? নাকি কারও তোয়াক্কা না করে আপন গতিতে ছুটে চলতে পারবে জীবনের পথে?

Annarasumanara নামক মানহোয়াটি পড়ার সময়ে এরকম বিচিত্র প্রশ্ন মাথায় আসবে পাঠকদের। Ha Il-Kwon এর আঁকা ও লেখা এই ওয়েবটুনটি ৩টি ভলিউমে ২৭ চ্যাপ্টারে প্রকাশিত হয়।

কাহিনী: গল্পের নায়িকা Yoon Ah-Ee এক গরীব পরিবারের মেয়ে। পড়াশুনায় তুখোড় এই ছাত্রীর জীবন দারিদ্রতায় অসহনীয় হয়ে উঠে। পরার কাপড় ছিড়ে গেলেও নতুন কাপড় কিনতে চিনতা করতে হয় যে এই খরচের পর মাসের বাকি দিনের জন্যে খাবার কিনবার মত টাকা থাকবে নাকি হাতে। নতুন ক্লাসে তার পাশের চেয়ারেই জায়গা হয় Na Il-Deung-এর, যে শহরের অন্যতম ধনী পরিবারের ছেলেই শুধু নয়, ভাল ফলাফলে সবাইকে ছাপিয়ে স্কুলের সেরা ছাত্রও বটে। পড়াশুনার জন্যে অঢেল টাকা খরচ করে ফেলা তার কাছে কোন ব্যাপারই নয়। এদিকে এত বড় সম্পদশালী পরিবারের ছেলের পাশে বসে থেকে Ah-Ee-এর চিন্তাভাবনায় সারাক্ষণ চলে আসে তাদের দুজনের মধ্যে জীবনধারণের পথের এত বড় পার্থক্যের ব্যাপারটি।

তাদের স্কুলে একদিন হঠাৎ একটি গুজব ছড়িয়ে পরে যে পরিত্যক্ত এমিউজমেন্ট পার্কে এক জাদুকর এসে উঠেছে, আর সেখানেই থাকে এখন। জাদুকরটি একটু রহস্যময়, আর সে নাকি যেকোন মানুষকে গায়েব করে দেবার জাদু দেখাতে গেলে সত্যি সত্যি সেই মানুষকে গায়েব করে ফেলতে পারে। Yoon Ah-Ee ঘটনাচক্রে একদিন সেই জাদুকরের সামনে পরে, যে তাকে প্রথমেই একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে, “Do you believe in magic?”

Ah-Ee এর ছোটকালে সবসময়ে শখ ছিল জাদু শিখা, বড় হয়ে সে হতে চেয়েছিল একজন জাদুকর। কিন্তু তার বাবা তাকে ও তার ছোট বোনকে ফেলে চলে যায় ঋণের বোঝা মাথায় চাপিয়ে দিয়ে। সংসারের টানাটানিতে এক সময়ে ছোটকালের সেই সুন্দর স্বপ্ন ঝেড়ে ফেলে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। নুন আনতে পান্তা ফুরানো জীবনে সে জলদি বুঝে উঠে, পড়াশুনায় ভাল ফলাফল করে ভাল একটি চাকুরী পেতে হবে তাকে। আর তাই এতদিন পর ছোটকালের সেই পূরণ করতে না পারা স্বপ্নের ব্যাপারটি তাকে গভীরভাবে আঘাত করে। জাদুকরের জীবন বেঁছে নিলে পরিবারকে কী খাওয়াবে? সমাজ তাকে কী চোখে দেখবে? সত্যিকারের জাদু বলতে কিছু নেই। এটি শুধুই চোখে ধুলো দেওয়া এক খেলা, যা মানুষকে বিনোদনই দিতে পারে, এর বেশি কিছুই না।

এদিকে রহস্যময় জাদুকর বারবার তাকে একটি কথাই বলে, সে সত্যিকারের জাদুকর। সে সত্যি সত্যিই জাদু জানে। কথাটি Ah-Ee মেনে নিতে না চাইলেও তাকে মাঝেমাঝেই কিছু অবাস্তব ধরণের জাদু দেখিয়ে দিতে থাকে। আর সেই সাথে Ah-Ee-কে একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, তার ছোটকালের স্বপ্ন কি সে চাইলে এখনও পূরণ করতে পারবে?

চরিত্র: গল্পের মূলে রয়েছে তিন প্রধান চরিত্র: দরিদ্র কিন্তু মেধাবী ছাত্রি Yoon Ah-Ee, বড়লোক ঘরের দেখতে হ্যান্ডসাম ও মেধাবী ছাত্র Na Il-Deung, এবং রহস্যময় জাদুকর। পুরো গল্পটি এই তিনজনকে কেন্দ্র করে গড়ে হয়ে উঠে, আর ধীরে ধীরে তিনজনেরই চরিত্রের বিকাশ দেখানো হয়েছে সুন্দরভাবে।

বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে অনেক পরিণত চিন্তার Yoon Ah-Ee জানে অনেক পরিশ্রম করে গরীব পরিবারের হাল ধরতে হবে। আবেগে গা ভাসিয়ে না দিয়ে সত্যের মুখোমুখি হওয়া তার সিদ্ধ্বান্তে লক্ষণীয়।
Il-Deung বিশ্বাস করে উন্নত সুখময় জীবনের জন্যে দরকার অনেক টাকা-পয়সা ও ভাল পেশা। আর বড়লোকের ঘরে জন্মানোতে সে সেইসব সুবিধা উপভোগ করতে পেরে নিজেকে আসলেই অনেক সৌভাগ্যবান ভাবে।
বিলাসিতার জীবন ছেড়ে আসা জাদুকর নিজের জীবনের স্বপ্নের পথেই পা বাড়ায়। বয়স বাড়লেও, মানসিকভাবে কখনও বড় হয়ে উঠতে না চাওয়া এই জাদুকর সবাইকে মনের কোনে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট শিশুটিকে জাদু দেখিয়ে আনন্দ দেখিয়ে বেড়ায়। তার বিশ্বাস জীবনে সবসময়ে স্বপ্নের পথেই এগিয়ে যাওয়া উচিৎ, সমাজের বাহবা পাওয়ার লক্ষ্যে নিজেকে বিলিয়ে না ইয়ে জীবন উপভোগ করাই হওয়া উচিৎ জীবনের সত্যিকারের লক্ষ্য।

আর্ট: মানহোয়াটির আর্টের মধ্যে একটা অন্যরকম সৌন্দর্যের ছোঁয়া আছে। মাঝে মাঝে এবস্ট্রাক্ট আর্টের ব্যাপারটি চোখে পরার মত, আর সেই সৌন্দর্য অনেক বেশি উপভোগ্য! জাদুর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা মানহোয়াটিতে মাঝে মাঝেই দেখা যায় একটি পুরানো বন্ধ হয়ে যাওয়া এমিউজমেন্ট পার্কের চোখজুড়ানো সৌন্দর্য! চিত্রবহুল এই মানহোয়াতে এক প্যানেল থেকে আরেক প্যানেলে অংকনের পরিবর্তনগুলি কাহিনীতে গভীর ছাপ ফেলে। সবচেয়ে বেশি চোখে যা পরবে তা হল আর্টে একটা ডার্ক থিম থাকলেও কাহিনী সেরকম ডার্ক নয়, যাতে এ দুটি জিনিসের কম্বিনেশন অসাধারণ হয়ে উঠেছে!

একজন বাস্তববাদী, একজন অভিজাত-বংশীয় এবং একজন জাদুকরের কাহিনী আপনাকে মনে করে দিবে শুধু লোকদেখানো নয়, নিজের জীবনকে নিজের মত করেও গড়ে তুলা উচিৎ। স্বপ্ন শুধু স্বপ্নে থেকে যাবার জন্যেই নয়, সেটাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারাটা জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম দিক!

মনে গভীর ছাপ রেখে যাবার মত ঘটনাবহুল একেকটি অধ্যায়, সেই সাথে চোখজুড়ানো আর্ট এই মানহোয়াটিকে স্বাভাবিকভাবেই খুব জলদি আপনার মনোযোগ কেড়ে নিবে। গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, কাহিনী আগানোর সাথে সাথে চরিত্রগুলি অনেক সুন্দর ভাবে বিকশিত হয়। চরিত্রগুলিতে দেখার মতন পরিবর্তন আসে। জাদুর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা কাহিনীতে চরিত্রগুলিও জাদুময় কিছু মুহুর্ত উপহার দিতে পারবে। 

প্রায় ৪০-৫০ পাতার একেকটি চ্যাপ্টার পড়তে খুব বেশি সময় নিবে না হয়তো। অতএব কমিক্স, মাঙ্গা, মানহুয়া ও মানহোয়া পাঠকেরা এই মানহোয়াটি না পড়ে থাকলে আর দেরী না করে এখনই পড়ে ফেলুন, আর উপভোগ করুন অসাধারণ সুন্দর একটি গল্প! জাদুময় কিছু মুহুর্তই আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে 

MyAnimeList Rating: ৮.৬৯/১০
আমার রেটিং: ১০/১০

[লেখাটি একই সাথে somewhereinblog-এও আপলোড করা হয়েছে, লিংক: http://www.somewhereinblog.net/blog/aulaaninda/29911178 ]

Silver Spoon or Gin no Saji : Manga Review by Farhad Mohsin

Silver Spoon বা Gin no Saji পড়া শুরু করেছি আবার রিসেন্টলি। চ্যাপ্টার ৩০+ কিছু একটা পর্যন্ত পড়েছি। এটা স্বীকার করে নিব যে এ মাঙ্গাতে ইন্টারেস্ট হওয়ার মূল কারণ এর মাঙ্গাকা। ফুলমেটাল অয়ালকেমিস্টের আরাকাওয়া হিরোমু সেনসেই’র অন্যান্য কাজ খুঁজতে গিয়েই এটাতে আসা(তার অন্যান্য কাজের মধ্যে অন্তত রেইডেন-১৮ এর ওয়ানশটটা যারা মাঙ্গা পড়েন তাদের পড়ে দেখার অনুরোধ করব)।
মাঙ্গার genre স্লাইস অফ লাইফ, কমেডি, স্কুল। 
মূল চরিত্র ইউগো হাচিকেন। কাহিনী প্রায় পুরোটাই একটা এগ্রিকালচারাল স্কুলে। যে স্কুলের ধরণ-ধারণই অন্য। ম্যাথ, ল্যাঙ্গুয়েজ, সায়েন্স ইত্যাদির জায়গায় সেই স্কুলের ফোকাল সাব্জেক্ট হল গিয়ে Dairy Farming, Farming Technology, Food & Nutrition Sciences ইত্যাদি। স্কুলের এক্টিভিটি ক্লাব হল গরুপ্রেমীদের ক্লাব, ঘোড়সওয়ারদের ক্লাব এইসব।
স্কুলের নতুন ক্লাসের প্রায় সবাইই কোন না কোন ফার্মিং ফ্যামিলি থেকে আসা, কারও পরিবারের ডেয়ারি ফার্ম আছে তো কারও বা পোল্ট্রি ফার্ম। সবারই আছে ফার্মিং বিষয়ক নিজস্ব কোন স্বপ্ন । এদের সবার মধ্যে একরকম জোর করে একদম ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে উদয় হয় হাচিকেন। যে জীবনে ফার্মে যায় নি, পশু-পাখি বা গাছ-পালার সাথে যার কোন সম্পর্ক নেই, এতদিন শুধু পড়াশোনাই করে গেছে, তার কাছে এসবকিছু খুব নতুন।
এই স্কুলে এসে এ সবকিছুর মধ্য দিয়েই শুরু হয় হাচিকেনের এডাপ্ট করার গল্প। নিজেকে চেনা, নিজের স্বপ্ন খুঁজে ফেরার গল্প।
এখন পর্যন্ত যা পড়েছি বেশ ভাল্লাগসে। এনিমে অ্যাডাপশান আছে। ১১ পর্বে মাঙ্গার ৮ ভল্যুমের মত মনে হয় কভার করে। ওটাও ভালো হওয়া উচিত।
আর যদিও এফেমে থেকে কনসেপ্ট পুরোপুরি আলাদা, তারপরেও আর্ট-স্টাইল, স্টোরি-টেলিং, ক্যারেক্টার ডিজাইন ইত্যাদির কারণে এফেমের কথা নিয়মিতই মনে পড়বে সম্ভবত। আমার ক্ষেত্রে হ

Change 123 a manga review by Farhad Mohsin

আমি মাঝে মাঝে মাঙ্গারিডারে Surprise Me দিয়ে বিভিন্ন মাঙ্গা পড়ি যা হয়তো সাধারণত আমার সামনে আসত না। ম্যাক্সিমামই চার-পাঁচ চ্যাপ্টার পড়ে আর পড়া হয় না। এর মধ্যে যেগুলো কমপ্লিটেড এবং চ্যাপ্টারের সঙ্খ্যা কম এ ধরণের গুলোর ক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট কিছুটা বেশি থাকে। এরকম একটা মাঙ্গা ছিল Change 123.


Genre -> Action, Romantic, Ecchi
কাহিনীর শুরুটা অনেকটা এরকম: মোকোতো নামে এক মেয়ের তিন অ্যাডপ্টিভ বাবা। তারা তিনজন তিন ধরণের লড়াইয়ের স্টাইলে স্পেশালিস্ট, একজন হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কম্ব্যাট, একজন ওয়েপন বেইসড অ্যাটাকে, আরেকজন মনে হয় স্ট্রাটেজিকাল অ্যাটাকে। তারা তিনজন আলাদা করে ছোট থেকেই মেয়েকে ট্রেইন করে। মেয়ের কিন্তু তার অরিজিন নিয়ে কোন আইডিয়া নাই। তো এই ট্রেইনিং এর পাল্লায় পড়ে মেয়ের মাল্টিপল পার্সোনালিটি ফর্ম হয়, তিন মারামারির স্টাইল বিশিষ্ট তিনজন, যেই পার্সোনালিটিগুলো তার বিপদের সময়ে আগিয়ে আসে। আর তার কারণে তার অরিজিনাল পার্সোনালিটি হয়ে যায় নিতান্তই ভীতু, ভাজা মাছ উলটে খেতে জানে না ধরণের। তার সাথে একসময় পরিচয় হয় হিরোর(হিরো শুধু নামেই হিরো, বারকয়েক মার খাওয়া ছাড়া আর কিছু করে না), আর এরপর বিভিন্ন সময়ে তার সাথে মারামারি করতে আসে বিভিন্ন লড়াকু, তার অরিজিন সম্বন্ধে কিছু আইডিয়া পাওয়া যায়, ধারণা করা হয় তার অলরেডি স্প্লিট পার্সোনালিটি হয়তো আরও এক ভাগ হয়ে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এসবের মাঝে স্টোরি আগিয়ে চলে।

মূল কথা হচ্ছে এমন আহামরি কিছু না, বাট হাতে টাইম থাকলে আর হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট বেসড একটা ফানি-ইচি মাঙ্গা পড়তে চাইলে এটা পড়ে ফেলা যেতে পারে।