Holyland [মাঙ্গা রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Holyland

Holyland
জনরাঃ অ্যাকশন-ড্রামা, মার্শাল আর্ট, সেইনেন

চ্যাপ্টারঃ ১৮২
MAL Link: Holyland

আমি সব সময়ই বড় অ্যাকশন মাঙ্গা এড়িয়ে চলবার চেষ্টা করি কারণ গ্রাফিক নভেলের মতো মাঙ্গার চিত্র একটি ফাইটের উত্তেজনা ফুটিয়ে তুলতে পারে না। বার্সারক, ভিনল্যান্ড সাগার মতো মাঙ্গা গুলোর অ্যাকশনের চিত্র গুলো দেখতে সুন্দর কিন্তু সেখানে চরিত্রগুলোর মনোভাব বা তাদের মানসিক অবস্থা ফুটিয়ে তুলতে পারে না। এইটাই এই মাঙ্গার সবচেয়ে বড় অর্জন। মাঙ্গাকা চমৎকার ভাবে প্রতিটি লড়াই ফুটিয়ে তুলেছে।

কাহিনীঃ ৯/১০
কাহিনীটি খুব সাদামাটা ভাবে শুরু হয়। কামিশিরো একজন সাধারণ হাই স্কুল ছাত্র যে জীবনে নিজের জায়গা খুজে বের করার চেষ্টা করছে। সারাজীবন তাকে স্কুলের ছাত্রদের বহু অত্যাচার এবং আপমান সইতে হয়েছে। বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাবার জন্য সে বিভিন্ন মারামারিতে জড়িয়ে পরে। এখান থেকেই শুরু হয় হলিল্যান্ড মাঙ্গার যাত্রা। মাঙ্গার প্রতিটি পাতার সাথে সাথে এর কাহিনী জটিলতা বৃদ্ধি পায়। কামিশিরোর মারামারির জন্য সে জড়িয়ে পরে অনেক ভয়ংকর গ্যাং যুদ্ধে। এখন তাকে তার প্রিয় মানুষগুলোকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করতে হবে। প্রথম দেখায় মনে হয় যে,কাহিনীতে নতুনত্বের কিংবা ভিন্নতার কোন সুযোগ নেই কিন্তু মাঙ্গাটি দুর্দান্ত ভাবে নিজের চরিত্র এবং তাদের কাহিনীগুলোকে সাজিয়ে নেয়।লড়াই গুলো থেকে এখানে প্রতিটি চরিত্রের জীবনযাত্রা এবং তাদের লড়াইয়ের পেছনের অনুভূতি মাঙ্গার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই বলতে যে লড়াই গুলো গুরুত্বপূর্ণ কিংবা আকর্ষণীয় নয় সেরকম না। আমি আগেই বলেছি যে, এই মাঙ্গাকে অ্যাকশনের দিক থেকে হারানো খুবই কষ্টকর হবে অন্য যেকোন মাঙ্গার জন্য। এটা কিছুটা ইভাঙ্গেলিওনের মতো।ইভাঙ্গেলিওনে যেমন দুর্দান্ত ম্যাকা ব্যাটল আছে কিন্তু এটা কাহিনীর শুধুমাত্র একটি ছোট অংশ। এই মাঙ্গাটিও ঠিক সেরকম। মাঙ্গাকা লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে মাঙ্গা লেখার আগে গবেষণা করেছেন। মার্শাল আর্ট, তাইকনডু কিংবা জুডো সব ধরনের লড়াইয়ের কৌশল দুর্দান্ত ভাবে মাঙ্গাতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

চরিত্রায়নঃ ৯/১০
মাঙ্গাটির প্রতিটি চরিত্র কাহিনীর সঙ্গে বেড়ে উঠে। বড় মাঙ্গাগুলোতে সবসময় চরিত্রের পরিচালনা নিয়ে সমস্যা থাকে। মাঙ্গার কাহিনী বড় হওয়ায় অনেক সময় দেখা যায় মাঙ্গা নতুন চরিত্র যখন যোগ করে তখন সেই চরিত্রগুলোর কাজ শেষ হবার পর তাদেরকে আর ব্যাবহার করা হয় না।ভাগ্যিস Holyland মাঙ্গাটি এই রোগটিতে ভুগে নি। এই মাঙ্গা প্রতিটি চরিত্রকে যেমন তাদের নিজেদের আর্কের সময় সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাবহার করে তেমনি তাদের আর্ক শেষ হবার পর তাদেরকে আবার কাহিনিতে এনে তাদের সম্পূর্ণ সামর্থ্যের পূর্ণ ব্যাবহার করে। এই মাঙ্গাটি নাওকি উরাসাওয়ার মতো চরিত্রের পরিচালনা করে।সকল চরিত্রকেই তাদের সামর্থ্যের সম্পূর্ণ প্রয়োগ করে এই মাঙ্গা। মাঙ্গার কাহিনী যত আগায় আমরা ততই প্রতিটি চরিত্রের সাইকোলোজি বিশ্লেষণ করা হয়। আমরা পাঠক হিসেবে কামিশিরোকে একটি ভীত ছেলে হতে সবচেয়ে ভীতিজনক ফাইটার হতে দেখি।কামিশিরোর জীবন যাত্রা এবং কিভাবে তার জীবনকে তার প্রতিপক্ষরা প্রভাবিত করেছে এটি মাঙ্গাটির মূল ভিত্তি।

চিত্রঃ ৯/১০
মাঙ্গাটির চিত্রায়ন অন্যান্য অ্যাকশন মাঙ্গার তুলনায় ভিন্ন।লড়াইয়ের সময় লড়াই কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ডের পরিবর্তে চরিত্রগুলোর মনোভূতি, তাদের সাইকোলোজি এবং তাদের পরিকল্পনাকেই ফুটিয়ে তলেছে। মাঙ্গাটির ব্যাকগ্রাউন্ড এবং চরিত্রগুলোর জন্য ব্যাবহার করা গাড় কালার শ্যাডিং মাঙ্গাটিকে দুর্দান্ত মানিয়েছে।

প্রতিটি লড়াইয়ের পেছনে লুকিয়ে থাকে অনেক অনুভুতি,ইতিহাস এবং তাদের কারণ। নিজেদের বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাবার জন্য আমরা সবাই নিজেদেরকে বন্দি করে রাখি নিজেদের তৈরি খাঁচার মধ্যে। Holyland মাঙ্গাটি এই খাঁচা থেকে বেরিয়ে জীবনের অগ্রগতির গল্প নিয়েই।আমার পড়া সেরা অ্যাকশন মাঙ্গা। আশা করি মাঙ্গাটি পড়ার জন্যে আপনাকে মানাতে পেরেছি।না পারলেও আশা করি আপনি একটু বিশ্বাস নিয়ে মাঙ্গাটির প্রথম চ্যাপ্টারটি পড়ে দেখবেন।

আমার রেটিংঃ ১০/১০

Lady Snowblood [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Lady Snowblood

নব্য জাপানের এক মহিলাদের জেলখানায় এক মহিলা প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছে। জেলে সবাই তাকে বেশ্যা বলে ডাকে তার কারণ তার কাজই ছিল কয়েদের প্রহরী থেকে মন্দিরের পুরোহিতকে সিডিউস করা। কিন্তু এই বাবার পরীচয়হীন সন্তান প্রসবের সময়ে এসে সে জীবন বাজি রেখে বলল তাকে না বাচিয়ে তার সন্তানকে বাচাতে, কারণ তার সন্তানের জন্মদানের এক উদ্দেশ্য আছে। এই সন্তান তার হয়ে প্রতিশোধ নেবে। তার সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যই হচ্ছে প্রতিশোধ এবং তার অতীতের কাহিনী শুনে তার আশেপাশের সবাই ঝরঝর করে কেদে দেয়।

তারপর থেকে প্রায় ১৮ বা ২০ বছর পরের কথা। জাপানে এক গুপ্তঘাতকের নাম ত্রাস ছড়াচ্ছে, সেই গুপ্তঘাতক একজন মেয়ে এবং সবাই তাকে চেনে রক্ত তুষার নামে। সে তার শিকারের কাছে যেতে তার অপরুপ সৌন্দর্য এবং ছলনাকে কাজে লাগায়। এবং তরবারি চালানো,ছবি আকায় অসম্ভব পারদর্শী! তবে তার আসল উদ্দ্যেশ্য চারজনকে হত্যা করা। এর জন্য সে নিজের দেহ জীবন সব বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। তার জন্মর একমাত্র উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে প্রতিশোধ।

নব্য জাপানের নানা অন্ধকার দিক তুলে ধরেছে এই মাঙ্গা। জাপানের ইয়াকুজা সিস্টেম, রিলইফ ডান্স সহ আরো নানা দিক।

বিখ্যাত হলিউড ডাইরেক্টর টরেন্টিনোর মুভি কিলবিল এই গল্প থেকেই অনুপ্রাণিত। এই মাঙ্গা ১৯৭২ সালের। সেই হিসেবে আর্ট ডিসেন্ট। আপনার যদি ডার্ক, গোর এবং নুইড্যিটি সহ্য না হয় তাইলে এই মাঙ্গা পড়ার দরকার নেই। ইচি দ্যা কিলার টাইপের মাঙ্গা যাদের পছন্দ তারা পড়ে দেখতে পারেন। আরেকটা কথা হল অনেক মাঙ্গা সাইট এটাতে ইউরি ট্যাগ দিয়ে রেখেছে যা ভুয়া। নিজের শিকারের কাছে যেতে বা বিশ্বাস লাভ করতে অনেক নারীকেও সিডিউস করেছে তো হ্যা ইউরি সিন আছে ৩টার মত।

এর মাঙ্গাকা হল লেজেন্ডারি মাঙ্গা Lone wolf and cub এর মাঙ্গাকা। মাত্র ৪ভলিউম। চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।

বিদ্র: এর অসাধারণ এক লাইভ একশান মুভি আছে, সেম নামে।

নাইন্টিন, টুয়েন্টি-ওয়ান [মানহোয়া রিকমেন্ডেশন] — Fatiha Subah

 

Nineteen Twenty-One

নাইন্টিন, টুয়েন্টি-ওয়ান
জনরা: জোসেই, ড্রামা, রোমান্স, স্লাইস অফ লাইফ
চ্যাপ্টার: ২১
লেখক: ইয়োহান (গল্প), কিম হিয়ে-জিন (আর্ট)
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.০২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

সময় খুবই মূল্যবান সম্পদ। কেউ হাতে সময় থাকতেও তার মূল্য না দিয়ে হেলায় হারিয়ে ফেলে। কেউবা হারিয়ে ফেলা সময়কে খুঁজে ফেরে। Yun-lee এমনই একজন মেয়ে যার জীবনের ২টি বছর হারিয়ে গেছে। এক ট্র্যাফিক অ্যাক্সিডেন্ট কেড়ে নিয়েছে তার ১৯ থেকে ২১ বছর বয়সের সময়টুকু। এই ২টি বছর বেঁচে থাকার পরেও যেন তাদের অস্তিত্ব নেই। অথচ সমাজ এই ২১কেই বলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়স। হঠাৎ করেই যেন Yun-lee কে এগিয়ে যাওয়া বাকি সবার সাথে জীবন যুদ্ধে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। হতাশাগ্রস্থ Yun-lee এই শূন্যতা বুকে নিয়েই তবু প্রিপারেটরি স্কুলে যায় নতুন করে সব শুরু করতে। তার এই বিবর্ণ জীবনে সান্ত্বনা খুঁজে পায় শুধু একটি জিনিস থেকে। আর তা হল লাঞ্চ ব্রেকে বিড়ালদের সাথে সময় কাটানো আর তাদেরকে খাবার কিনে খাওয়ানো।

এই বিড়ালের মাধ্যমেই সে আরেক বিড়াল প্রেমী Dong-hwi এর দেখা পায়। ১৯ বছর বয়সী Dong-hwi এর জীবনে আছে সেই ২টি বছর যা Yun-lee এর নেই। কিন্তু অদ্ভুতভাবে এই ছেলেটি সমাজের নিয়ম মেনে ইউনিভার্সিটিতে যেতে কিংবা চাকরি করতে চায় না। Dong-hwi এর কথা জীবনের ২০টি বছর যখন সে বড় হয়েই কাটাবে তবে ২০ বছর বয়সটা নিজের মত করে বেঁচে থাকতে চাওয়াটা খুব অপরাধের? চিন্তাভাবনায় উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরু হলেও এই দুই তরুণ-তরুণীর মিল আছে একটি দিক থেকে। তারা দুজনেই বিড়াল ভালোবাসে এবং রাস্তার অবহেলিত বিড়ালদের জন্য কিছু করতে চায়। Dong-hwi Yun-lee কে বলে, “I read it in a book before, that animals don’t feel sorry for themselves. That touched my heart. The life of animals and simply devoted to the time given. The life of humans, with sympathy for other living beings. ..If we can travel halfway between those two paths, don’t you think our lives would be wonderful?”

শুরুতে জীবন নিয়ে ভারীক্কি গল্প মনে হলেও মজার ব্যাপার হলো বিড়াল নিয়েই গড়ে উঠেছে নাইন্টিন, টুয়েন্টি-ওয়ানের গল্প। মাইআনিমেলিস্ট এটাকে শৌজো ট্যাগ দিলেও এটি খুব সুন্দর একটি জোসেই মানহোয়া। লাইটহার্টেড কিন্তু ভাবানোর মত গল্প আর চোখ জুড়ানো চমৎকার রঙিন আর্টের সাথে আপনার সময়টা দারুণ কাটবে। আর আপনি যদি হন বিড়াল প্রেমিক তাহলে তো কথাই নেই! মানহোয়াটি পড়ে দেখতে ভুলবেন না।

Hikari Litchi Club [মাঙ্গা সাজেশন] — Ahmed Samira Niha

Hikari Litchi Club 1

মাঙ্গা: Hikari Litchi Club
মাঙ্গাকা: ফুরুয়া উসামারু
জন্রা: সেইনেন, ডার্ক, ম্যাচিওর, সাইকোলজিকাল, গোর
চ্যাপ্টার সংখ্যা:
স্ট্যাটাস: কমপ্লিটেড

আনসেন্সরড কিছু ব্যাপারস্যাপার আছে, ধুপধাপ করে কখন কি হয়ে যায়, কিছু টের পাওয়া যায় না।

গল্পের মেইন কাহিনি একদল ছেলে নিয়ে, যাদের এক ক্লাব আছে। ক্লাবের নাম হিকারি লিচি ক্লাব। লিচু নিয়ে হালকা অবসেশন আছে, তারা সৌন্দর্যের পূজারী। তাদের মতে পৃথিবীতে কুতসিত-কদর্য কোনো কিছু এক্সিস্ট করার অধিকার রাখেনা। তাই তারা ধরে ধরে অসুন্দর(তাদের মতে) মানুষকে মেরে ফেলে। কিন্তু তাদের ক্লাবের এক আলটেরিয়র মোটিভ আছে। তারা গোপনে হিউম্যানোয়েড এক রোবট বানাচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা সবচেয়ে সুন্দর মেয়েকে নিজেদের মাঝে রাখতে পারবে। সেই রোবটের নাম দেওয়া হয় লিচি, যার ফুয়েলও লিচু ফল। এবং ঘটনার সূত্রপাত এক ভবিষ্যতবানী নিয়ে, যেটাকে ঠেকাতে মেইন ক্যারেক্টারের প্রানান্তর চেষ্টা।

মাঙ্গাকা এবং মেইন নায়ক elagabalus নামের এক কুখ্যাত রোমান এম্পেরোরের ইন্সপিরেশন নেয়, এবং দুজনেই batshit crazy. Elagabalus নিয়ে উইকিতে যা পড়লাম, তার সারমর্ম হলো মাথা পুরাই নষ্ট ছিল তার, নিজেকে সবচেয়ে জঘন্যতম কাজে বিলিয়ে দিয়ে আনন্দ পায়। ১৪ বছর বয়সে নিজে থেকেই স্রেফ মজা পাওয়ার জন্য প্রস্টিটিউট হয়ে বেড়াতো, এবং ছেলেসঙ্গ পছন্দ করতো। প্রায় ৫ বারের মত বিয়ে করে ফেলেছিলো, এবং ধর্মকে অবমাননা করে রোমে মোটামুটি হুলস্থুল বাঁধিয়ে দেয় সে। অবশেষে এত ইভেন্টফুল জীবন শেষ হয় ১৮ বছর বয়সে, এস্যাসিনেশনের মাধ্যমে, যার মেইন উদ্যোক্তা ছিল তার আপন দাদী। এক জার্মান মনীষী বলেছেন,
The name Elagabalus is branded in history above all others” because of his “unspeakably disgusting life

মাত্র ৯ চ্যাপ্টারের ইভেন্টফুল এই মাঙ্গা অবশ্যই পড়া উচিত সবার। ব্রুটালিটি, গোর, ইনার্ডস বেরিয়ে আসা ইত্যাদি পছন্দ হলে এই মাঙ্গা পড়া মাস্ট।
পার্সোনাল রেটিং: ০৯/১০

Sundome [মাঙ্গা রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Sundome 1

জনরা- ইরোটিক, সাইকোলোজিকাল, রোমান্স
চ্যাপ্টার-৭৬
MAL Link-https://myanimelist.net/manga/1501/Sundome

এই মাঙ্গাটি দেখতে হয়তোবা হেনটাই মাঙ্গা মানে হতে পারে,এটা পড়তেও হেনটাই মাঙ্গা মনে হতে পারে কিন্তু এটি হেনটাই কিংবা এচ্চি নয়।মাঙ্গাটি পড়ার আগে কিছু জিনিস নিয়ে সাবধান থাকবেন।প্রথমত,১৮ বছরের নিচে যারা আছেন তারা না পড়লেই ভালো কারণ তারা মাঙ্গার মুল উদ্দেশ্যটি বুঝতে না পারার সম্ভাবনা অনেক বেশি। দ্বীতিয়ত,আপনি যদি খুব সহজেই অফেন্ড্যাড হয়ে থাকেন তাহলে মাঙ্গাটি আপনার জন্য নয়।মাঙ্গাটি কিশোর বয়সের বহু যৌনগত বিষয়ের উপর।

কাহিনীঃ ৮.৫
“Sundome” শব্দটির অর্থ হচ্ছে “কোন কিছু শেষ হবার আগ মুহূর্তে থামা”।মাঙ্গার মূল কাহিনীটি মূলত এই নিয়মটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়।হিদেও আইবা এক সাধারণ ছাত্র যে স্কুলের রোমান ক্লাবের সদস্য।তাদের ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য যতো সব উদ্ভট জিনিস আছে তা নিয়ে গবেষণা করা।যেমন এলিয়েন কিংবা ভুতের বাড়ি।ক্লাবটি অনেক প্রভাবশালী মানুষদের দিয়ে চালিত।কেউ যদি ক্লাবের শর্ত না ভেঙে স্কুল পাশ করতে পারে তাহলে তাদেরকে ভালো জায়গায় চাকরি কিংবা পড়া-লেখা করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। শর্তটি হচ্ছে কোনো রোমান ক্লাব মেম্বার তাদের হাই স্কুল উত্তীর্ণ করার পূর্বে তাদের কুমারত্ব হারাতে পারবে না।হিদেও আইবার স্কুলের প্রথম বছর কুরুমি সাহানা নামের একটি মেয়ে ট্রান্সফার হয়ে তার শ্রেণীতে আসে।প্রথম দেখায় মেয়েটিকে খুব মিষ্টি কিংবা সহজ-সরল মনে হলেও সে খুব দ্রুত আইবার যৌন আকাঙ্খা ধরতে পারে এবং তা আইবার বিপক্ষে ব্যাবহার করে।তাদের মধ্যে একটি খেলার মতো শুরু হয়।কুরুমি আইবাকে সবকিছুই করতে দিবে কিন্তু আইবা বীর্য পাতন করতে পারবে না।আমি নিশ্চিত আপনারা সবাই চিন্তা করছেন যে এটা তো পুরোপুরি হেনটাই কিন্তু আসলে তা নয়।মাঙ্গাটি অসাধারণ ভাবে কুরুমি এবং আইবার সম্পর্ক এবং বন্ধনটিকে ফুটিয়ে তুলেছে।কিশোর জীবনের বহু সমস্যা এবং কঠিন বিষয় মাঙ্গাটি চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।আমরা কতটুকু যৌন কর্মে লিপ্ত কে ভালবাসা বলতে পারি এবং কতটুকুকে বলতে পারি বিকৃত মনের আকাঙ্খা। দিন শেষে, মাঙ্গাটি কুরুমি এবং আইবার বন্ধন এবং তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে।এটি হাস্যকর কিন্তু এটি কান্নাদায়ক।এটি চমৎকার কিন্তু এটি সর্বনাশা।তাদের সম্পর্ক একটি মারাত্মক বিপর্যয়ের মতো যা আমরা পাঠক হয়ে নিজেদের চোখের সামনে ঘটতে দেখি।এই মাঙ্গার সমাপ্তি আমার সবচেয়ে প্রিয় সমাপ্তি।আমি কখনো বিশ্বাস করতে পারে নি যে এমন একটি দিন আসবে যখন অন্য কোনো মাঙ্গার সমাপ্তি “20th Century Boys” এর জায়গাটি দখল করে নিবে।

চরিত্রায়নঃ ৯.৫/১০
মাঙ্গাটিতে কিছু পার্শ্ব চরিত্র আছে যারা মূলত মাঙ্গার হাস্যকর দিক গুলোতে ব্যাবহারের জন্য রয়েছে।যেমন তাদের বিভিন্ন এলিয়েন এবং ভুতুরে বাড়ি ইনভেস্টিগেশনের সময় ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাবহার করা হয়।কিন্তু তারা মাঙ্গার মূল কেন্দ্রবিন্দু নয়।আমি বলব না যে আমি হাজারো মাঙ্গা পড়েছি কিন্তু মোটামোটি আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলতে পারি যে ভালো পরিমাণ মাঙ্গাই আমি পড়েছি। এই জন্য আমি মোটামোটি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে আইবা এবং কুরুমির মতো এমন অসাধরন চরিত্রায়ন বলতে গেলে অন্য কোনো মাঙ্গার কিশোর চরিত্রে নেই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উভয় চরিত্র অসাধারণ ভাবে কাহিনীর সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে।আইবা এবং কুরুমির সম্পর্ক এবং তাদের বন্ধনের আড়ালের লুকানো আবেগ গুলোই তাদের সংলাপ এবং মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে তোলে।Sundome হলো মাঙ্গার Leaving Las Vegas.মাঙ্গার এন্ডিংটা কিছুটা নিকোলাস কেজের ১৯৯৫ সালের অস্কার জয়ী চলচিত্রটির মতো।

চিত্রঃ ৮.৫/১০
আমি বলবো না যে, মাঙ্গার চিত্রায়ন এতই চমৎকার যে আপনার চোখে পানি এসে যাবে।সত্যি কথা বলেতে এর চিত্রায়ন খুবই সাদা-মাটা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকারী। চমৎকার কালার কন্ট্র্যাস্ট এবং শ্যাডিং মাঙ্গাটিকে কিছুটা নিও-নুয়ার এবং পুরনো একটি ভাব তৈরি করে যা মাঙ্গার শেষ দিকে অসাধারণ ভাবে গল্পটিকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

Sundome মাঙ্গাটি আমি সবাইকেই পড়ার জন্য বলেতে চাই কিন্তু আমি তা বলবো না।আমি জানি অনেকজন এসব জিনিস সহ্য করতে পারবে না এবং তারা এর কাহিনীর মূল উদ্দেশ্য দেখতে পাবে না কারণ তারা মাঙ্গাটিকে এর বিকৃত জিনিসগুলোর জন্যই কেবল দেখবে এবং সমালোচনা করবে।কিন্তু তাতে সমস্যা নেই।সবকিছু তো আর সবার জন্য নয়।কিন্তু আপনি যদি এইসব জিনিস দেখে ভয় না পেয়ে থাকেন তাহলে চেষ্টা করতে তো দোষ নেই।প্রথম দিকে কাহিনী ঠিক মতো না আগালেও শেষটা আপনাকে মুগ্ধ করবে।সময় পেলে পড়ে দেখতে পারেন।আশা করি ভালো লাগবে।

আমার রেটিংঃ ৯/১০

মাঙ্গাটি যাদের জন্য-
মাঙ্গা- যারা আকু নো হানা,কুজু নো হোঙ্কাই, ইনিও আসনোর কাজ পছন্দ করেছেন।
এনিমে- যারা বেলাডোনা অফ স্যাডনেজ পছন্দ করেছেন।
মুভি- যারা লিভিং লস ভেগাস,নিম্ফমেনিয়াক পছন্দ করেছেন।

King Golf [মাঙ্গা রিভিউ] — Arnab Basu

King Golf

মাঙ্গাঃ King Golf
MAL Rating: 7.87/10
Personal Rating: 8/10
গলফ খেলাটা ঠিক আর দশটা খেলার মত না। সব দিক থেকেই এটা বেশ বিলাসবহুল খেলা। গলফ টুর্নামেন্টগুলোর প্রাইজমানিও অনেক বেশি। এরকম একটা খেলা নিয়েই এই মাঙ্গা। হাই স্কুলের ছেলে-মেয়েরা এই খেলা খেলছে, টুর্নামেন্ট হচ্ছে এটা দেখে প্রথমে বেশ অবাক লেগেছে। জাপানে হাই স্কুলগুলোতে গলফ খেলার সুযোগ আসলে আছে কিনা জানি না, তবে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

প্রোটাগনিস্ট ইয়ুকি সৌসকে(aka Predator) তার স্কুলের সবচাইতে বড় Delinquent, মারামারিতে অপরাজেয়। একই স্কুলের কাজুমি নামকরা Amateur গলফার, এক দিন ইয়ুকিকে দেখে পাত্তা না দিয়ে চলে যায়। এতে নায়কের বেশ গায়ে লাগে। কাজুমিকে খুঁজতে খুঁজতে সে চলে আসে স্কুলের গলফ ক্লাবে। এখান থেকেই শুরু হয় ইয়ুকির গলফের রাজা হওয়ার পথচলা।

মাঙ্গার গল্প আসলে আহামরি কিছু না। টিপিকাল স্পোর্টস-শোউনেন গল্পগুলো যেমন হয় আর কি। তাহলে বারবার এই টিপিকাল জিনিসগুলো কেন পড়ি বা দেখি? আসলে এ ধরণের গল্পগুলোর মজা ছোট ছোট মোমেন্টগুলোতে। কিং গলফও তার ব্যতিক্রম না। ইয়ুকির গলফ ক্লাবের সুইং, তার ডায়লগ বা এমন জিনিসগুলোই এই মাঙ্গার আকর্ষণ। তাছাড়া দারুণ আর্ট তো আছেই।

ড্রেডলক চুলের প্রোটাগনিস্ট আমি প্রথম এই মাঙ্গাতেই দেখেছি। ইয়ুকির আচরণ অনেকটাই স্ল্যাম ডাঙ্কের হানামিচির মত। তবে একটা জিনিস আমাকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। গল্পে ইয়ুকির যে প্রোগ্রেস দেখানো হয়েছে, সেটা বেশ অবিশ্বাস্য। তবে এমন না যে সে ট্রেইনিং বা পরিশ্রম ছাড়া সেটা করছে। কিন্তু সে এত দ্রুত এত ভাল খেলোয়াড় হয়ে গেল, যেটা আসলে আমার চোখে লেগেছে। আমি জানি না গলফ বেশ সহজ কোন খেলা কিনা, তা যদি না হয়, তাহলে ইয়ুকি আমার দেখা এখন পর্যন্ত সবচাইতে প্রোডিগাল প্রোটাগনিস্ট।

স্পোর্টস ভক্তদের জন্য মাস্ট রিড এই মাঙ্গাটা পড়ে ফেলুন। গলফ নিয়ে নতুন মাঙ্গা Robot x Laserbeam কেমন হবে জানি না। তবে কিং গলফ এর সমপর্যায়ে আসা বেশ কঠিন হবে।

One Outs [আনিমে/মাঙ্গা রিভিউ] — Pritom Saha

One Outs

ONE OUTS
No one wins, but I!

Anime Episodes: 25
Manga Chapters: 175
Genres: Sports, Psychological, Seinen

গল্পের মূল আকর্ষণ তোকচি তোউয়া নামক এক জুয়াড়ি যুবক, যে দীর্ঘ সময় ধরেই জুয়ার দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত। তার মানুষের চরিত্র এবং আচরণ বোঝার ক্ষমতা এতই ভালো ছিল যে অনেক সময় মনে হবে সে তার প্রতিপক্ষের মন পড়তে পারে। যা তার প্রতিপক্ষের উপর প্রচন্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করত। তোকচি তখন সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করত। এভাবেই সে একজন সফল জুয়াড়ি হয়ে ওঠে। তার আরও এক প্রতিভা ছিলঃ অসাধারণ বল কন্ট্রোল, যা তাকে অপরাজেয় পিচার (বোলার) হিসাবে পরিচিত করে। তার ফাস্টবলের গড় গতি ছিল মাত্র ১২৫ কি.মি./ঘন্টা কিন্তু বলের উপর অসাধারণ কন্ট্রোল থাকায় সে বলের স্পিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, যাতে বলের এলিভেশন পরিবর্তন হত। এতে ব্যাটে বল লাগানোই কঠিন হয়ে যেত। এছাড়াও সে ব্যাটারদের বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করত। ওকিনাওয়ার আমেরিকান আর্মি ক্যাম্প এর কাছে একধরণের খেলা হত, ওয়ান আউটস। এটা বেসবলেরই সংক্ষিপ্ত রূপ যেখানে শুধুমাত্র একজন পিচার এবং ব্যাটার মুখোমুখি হয়, ব্যাটার বল ইনফিল্ডের বাইরে পাঠাতে পারলে জিতবে, আর ব্যাটার আউট হয়ে গেলে, বা ৬ বলের মধ্যে জিততে না পারলে পিচার জয়ী। এই খেলাও ছিল স্থানীয়দের কাছে জুয়া খেলা, যেখানে তোকচি ছিল টানা ৪৯৯ ম্যাচ অপরাজিত। এছাড়াও এই ম্যাচগুলোয় একজনও তোকচির পিচ ব্যাটেও লাগাতে পারেনি!

ঘটনাক্রমে তোকচি জাপানের প্রথম বিভাগের বেসবল লীগে লিকেয়ন্স টিমে পিচার হিসাবে যোগদান করে যেই দল কিনা হাজার বছরের পরাজিত দল হিসেবে পরিচিত। দলের মালিক তোকচির প্রতিভা সম্পর্কে অবহিত না থাকায় তোকচিকে বিনা বেতনে খেলার পরামর্শ দেয়। তোকচি তখন ওয়ান আউটস কন্ট্রাক্ট নামক পাল্টা কন্ট্রাক্ট এর প্রস্তাব দেয়। কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী প্রতি আউটের জন্য তোকচি পাবে ৫ মিলিয়ন ইয়েন, কিন্তু প্রত্যেক হারানো পয়েন্টের জন্য তোকচি দলের মালিককে ৫০ মিলিয়ন ইয়েন করে দিবে। স্ট্যাটিকস্টিকস বিবেচনা করে দলের মালিক কন্ট্রাক্টে রাজি হয়, কারণ কোন কিংবদন্তি পিচার না হলে তোকচি সহজেই দেনায় পড়ে যাবে। তোকচি কীভাবে নিজের বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে প্রফেশনাল বেসবল দুনিয়ায় টিকে থাকে, এটিই মূল গল্প।
ওয়ান আউটসের মূল কথা এর নামেই রয়েছে।
No one wins, but I!
তোকচি সবসময় জিতবে, এটাই হবে। কিন্তু যদিও ফলাফল নিশ্চিত তবুও কীভাবে জিতবে এটাই মূল আকর্ষণ। তোকচির জয় নিশ্চিত, কিন্তু শুরুর পরিস্থিতি এমন হবে যে এই বাধা কাটিয়ে কীভাবে জেতা সম্ভব তা মাথায় আসবে না। কিন্তু তাই বলে ব্যাখ্যা ছাড়া অবাস্তব পথে কোন সমাধান আসবে না, সমাধান হবে সুপরিকল্পিত। ওয়ান আউটস প্রফেশনাল বেসবল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে যেখানে বেশিরভাগ এনিমেই হাইস্কুল লেভেলের স্পোর্ট কেন্দ্রিক। এদিক থেকে ওয়ান আউটস ব্যাতিক্রম। এজন্য এখানে ফেয়ার প্লে দেখবেন না সবসময়, দেখবেন বেসবলের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করা মানুষের জেতার জন্য যেকোন কিছু করার মানসিকতা। দেখবেন খেলার ব্যবসায়িক এবং রাজনৈতিক দিক, খেলার পেছনের অন্ধকার দুনিয়া। এছাড়াও অন্যান্য এনিমের মতো জিনিয়াস কিছু চরিত্র তো থাকছেই।
এনিমের সাউন্ডট্র্যাক যথেষ্ট ভালো এবং সিরিয়াস মোমেন্টে ভালো আবহ তৈরি করতে পারে।
ক্যারেক্টার এর কথা বলতে হলে তোকচি সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র, তোকচির নিজের দলের বাকি খেলোয়াড়রা যেন তোকচির পুতুল। প্রতিপক্ষে বেশ কিছু ভালো ডেভেলপড ক্যারেক্টার আছে, যারা না থাকলে লড়াই জমত না।
ওয়ান আউটস এনিমে দেখার পর মাংগা পড়া রেকমেন্ডেড। এনিমে মাংগার অর্ধেক পর্যন্ত কভার করে। ওয়ান আউটস এর এনিমে এডাপ্ট করেছে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্টুডিও ম্যাডহাউস। এনিমে মাংগা পুরোপুরিভাবে ফলো করে, তাই মাংগা চ্যাপ্টার ৮২ থেকে শুরু করলেই হবে। আবার মাংগা না পড়লে চলবে না, এমন নয়। শেষ এপিসোডের শেষ দশ মিনিট কিছুটা পরিবর্তন করে ফিনিশিং দেওয়া হয়েছে। তবে এনিমে যে পর্যন্ত কভার করে এই অংশটুকু মাঠের লড়াই আর এনিমে পরবর্তী অংশে মাঠের বাইরের লড়াই দেখানো হয়। তবে সেখানেও মাঠের খেলা বাদ দেওয়া হয়নি, দুইদিকই সমানভাবে দেখানো হয়। কিন্তু জাপানিজ জানা না থাকলে এনিমে বাদ দিয়ে মাঙ্গা পড়তে পারবেন না। কারণ শুরুর দিকে ভলিউম ৫,৬,৮ এবং ৯ এর স্ক্যানলেশন হয়নি এখনও। তবে এনিমে পরবর্তী বাকি সব চ্যাপ্টার কমপ্লিট।
কোনো এনিমেই পার্ফেক্ট না। ওয়ান আউটস এর মূল আকর্ষণ যেমন তোকচি তেমনি এর ফ্ল্যও তোকচি। তোকচি কখনও হারে না। সে এতই বুদ্ধিমান এবং সবকিছুই তার আগে থেকে পরিকল্পনা করা যে তার চরিত্র বাস্তব বিমুখী মনে হয়। তাই কেউ যদি শতভাগ বাস্তবতা আশা করে তাহলে হতাশ হতে হবে। তবে তোকচির ক্ষমতা এবনর্মালিটি হিসেবে ধরে নিলে বাকি এনিমে যথেষ্টই বাস্তবিক।

পরিশেষে বলতে চাই প্রিয় খেলার তালিকা করলে বেসবল আমার তালিকায় নিচের দিকে থাকবে। এরপরও আমার সবচেয়ে প্রিয় স্পোর্ট এনিমেটাই হল কিনা বেসবল নিয়ে! এর মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছি যে আপনার যদি বেসবল ভালো নাও লাগে তাও এই এনিমে দেখতে পারেন, আশা করছি হতাশ হবেন না। আরও একটা ফ্যাক্ট হল এইটা সাইকোলজিকাল + স্পোর্টস জ্যানরার যেই দুইটিমাত্র এনিমে আছে তার একটি। তাই সাইকোলজিকাল ফ্যান হলে দেখে ফেলুন।

আমার রেটিংঃ
এনিমে – ৯/১০
মাঙ্গা – ১০/১০

JoJo’s Bizarre Adventure Part 5: Vento Aureo [মাঙ্গা সাজেশন] — Arnab Basu

JoJo 5

জোজোদের অদ্ভুত অভিযানের পঞ্চম কিস্তি। সাধারণত জোজোর প্রতিটা কিস্তির নাম মূল চরিত্রের স্ট্যান্ডের সাথে মিল রেখে দেওয়া হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইটালিয়ান Vento Aureo এর অর্থ Golden Wind, যা মূল চরিত্র Giorno Giovanna এর স্ট্যান্ড Gold Experience এর সাথে মিল রেখে দেওয়া হয়েছে।

Vento Aureo এর পটভূমি ইটালিতে। এবারের জোজো Giorno Giovanna এর মা জাপানিজ, সে ছোট থাকতে তার মা ইটালিতে এসে নতুন একজনকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে। Giorno জানে না তার আসল বাবা কে। ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন গ্যাংস্টার হওয়া। সে সময় ইটালির সবচাইতে বড় এবং কুখ্যাত গ্যাং হল Passione, যাদের বিভিন্ন ব্যাবসার মধ্যে একটি হল ড্রাগ চোরাচালান। এই ড্রাগের নেশায় মত্ত যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য Giorno সিদ্ধান্ত নেয় সে Passione গ্যাঙের বস হবে। কিন্তু সে কি পারবে? কারণ গ্যাঙের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য স্ট্যান্ডধারী, যারা পদে পদে Giorno কে রুখবার জন্য তার উপর হামলা করে। তার উপর আছে Passione এর বস, যার স্ট্যান্ডের অমিত শক্তি এবং যার পরিচয় গ্যাঙের মধ্যেও এক বিশাল রহস্য। এই আপাত অসম্ভব অভিযানে Giorno এর সঙ্গী হয় Bruno Bucciarati এবং তার দলের সদস্যরা। Bruno Bucciarati নিজেই Passione এর সদস্য, কিন্তু সে Giorono এর মত গ্যাঙ্গের নেশার ব্যাবসার প্রতি বিদ্বেষের কারণে Giorno এর পক্ষ নেয়। শুরু হয় তাদের Passione গ্যাঙের বসকে খুঁজে বের করা এবং তাকে হারানোর অভিযান যার বিস্তার প্রায় পুরো ইটালিজুড়ে।

Diamond is Unbreakable শেষ করার পর আসলে Vento Aureo এর এনিমের অপেক্ষা করার ধৈর্য হচ্ছিল না, তাই মাঙ্গা পড়ে ফেলা। মাঙ্গা পড়ার পরে যেটা মনে হচ্ছে, Vento Aureo এর এনিম যদিও বা আসে, তবে সেস্নরশিপের কাঁচিতে অনেক কিছুই বাদ যেতে পারে। এই পর্বের প্রতিটা ফাইট বেশ ব্রুটাল, আর ফাইটের সঙ্খ্যাও আগের যে কোন পর্বের তুলনায় অনেক বেশি। আরাকি সেন্সেই তার Bizzare ফ্যাশন Vento Aureo তে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। Vento Aureo এর মাঙ্গার অর্ধেকের মত কালার হয়েছে, এ কারণে শেষের দিকে একটু পড়তে কষ্ট হলেও, যারা এনিমের আশায় বসে থাকতে না চান, তারা মাঙ্গা পড়ে ফেলতে পারেন।

Toujuushi Bestialious [মাঙ্গা সাজেশন] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Toujuushi Bestialious 2

আপনার কি সেই গল্পের কথা মনে আছে? এক রোমান ক্রীতদাস কলোসিয়াম থেকে পালিয়ে গুহায় আশ্রয় নেয়, কিন্তু সেই গুহায় আশ্রয় নেয় এক আহত সিংহ, সেই সিংহের ক্ষত সারিয়ে দেবার ফলে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে এক বন্ধুত্ব,। পড়ে সেই ক্রীতদাস আবার ধরা পড়ে, তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় সিংহের সামনে। কিন্তু সিংহ তাকে মারে না, কেননা সে চিনেছে তার বন্ধুকে। তাদের এই বন্ধুত্ব দেখে সম্রাট তাদের মুক্ত করে দেয়।

তো এই মাঙ্গা পড়ার সময় সেই টাইপের ভাইব পেয়েছি। মাঙ্গাটা ওয়ানশট টাইপের, দুই চ্যাপ্টারে কাহিনী শেষ। বাট কাহিনী খুবই সুন্দর। এক এতিম গ্ল্যাডিয়েটর আর এক দানবের বন্ধুত্ব নিয়ে খুবই সুন্দর মাঙ্গা।

এই মাঙ্গা পড়ার প্রধান কারন হচ্ছে এর আর্ট। আপনাদের যারা আর্টের ভক্ত তাদের জন্য আদর্শ মাঙ্গা। প্রায় বার্সাকা লেভেলের আর্ট যদিও প্যানেলগুলো বেশি ডার্ক। তো চট করে মাত্র দুই চ্যাপ্টারের এই মাঙ্গা পড়ে ফেলুন! ভালো লাগবে আশা করি!

Toujuushi Bestialious 1

AIKI [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

AIKI

আপনি কি অতিরিক্ত শক্তিশালী মেইন ক্যারেক্টার এর ভক্ত? আপনি কি গড়াগড়ি খাওয়া কমেডির ভক্ত? আপনি কি কুস্তি থুক্কু মার্শাল আর্টের ভক্ত?? এবং সবশেষে ইচি ভক্ত? তাইলে আপনার জন্যই AIKI মাঙ্গা 😀 !!!
মাঙ্গা সাজেশন: AIKI
Beelzebub এর Oga এর কথা মনে আসে? সেই শয়তানি কলিজাকাপা হাসির সাথে ধুম ধারাক্কা ঘুষি!! এক কথায় পিউর Badass!!! এইরকম চরিত্র দেখলেই অস্থির লাগে। কোন মিন মিনে ভাব নাই, আসলাম, দেখলাম, ঘুষাইলাম!! সবকিছুরে তুচ্ছ কইরা দেয়। এ খারাপ না কিন্তু সাধুও না!!
তো আমাদের এই মাঙ্গার নায়ক জোকিয়ুউ। দেখতে পাড়ার বখাটে ছেলের মত। আসলেও তাই। গায়ে গতরে নরমাল। দেখলে মনে হয় হাইস্কুলে পড়ে। আসলে কি তাই?? অবশ্যই না !!! দুনিয়ার সেরা মার্শাল আর্টিস্ট সে, হ্যাঁ সেরা। তার উপরে আর কেউ গুরু নাই। তার এই বিশাল ক্ষমতা, With great power comes great responsibility. কিন্তু সে তার এই ক্ষমতা নিয়ে মেয়েদের পিছনে ছুকছুক করে বেড়ায় এবং বাপমায়ের অন্ন ধ্বংস করে। ছেলের ক্ষমতার বহর দেখে তার বাপ, এমন সিস্টেম করে যাতে জোকিয়ুউ তার শরীরের ১০ পারসেন্ট ক্ষমতাও ব্যাবহার করতে না পারে!! তাও তার সাথে কেউ পারে না । যেই মারামারি করতে যায় , লিটারেলি উড়ে যায়!! এখন দূর দুরান্ত থেকে লোক আসে তাকে দলে টানার জন্য, অথবা মার্শাল আর্ট শেখার জন্য!! আর টাকা বা নারীর ছলাকলা দেখলেই সে মাখনের মত গলে যায়। কিন্তু তার এই বজ্জাতির মধ্যেও আছে বুদ্ধির খেল , আরও জানতে হলে মাঙ্গা পড়া স্টার্ট করা দেন!!!
এই মাঙ্গা অতিরিক্ত অস্থির, এর ইচ্চিটুকু বাদ দিলে এইটা মাস্ট পড়ার মত মাঙ্গা। মাঙ্গার আকা খুব সুন্দর, এক্সপ্রেশন গুলা সেই!!!! যারা এক্সপ্রেশন এর ভক্ত তারা এই মাঙ্গা মাস্ট পড়বেন!!! ইচ্চিটা একটু বেশি কিন্তু তা বলে এই মাঙ্গা বাদ দেবার মত না। ওয়ানপাঞ্চ ম্যান, Beelzebub এর ভক্ত হয়ে থাকলে এই মাঙ্গা পড়া মাস্ট। তবে ইচ্চি কিন্তু অনেক বেশি!
চ্যাপ্টার মাত্র ৯৮টা। এর একটা সিকুয়াল ও আছে। নাম Aiki S. সেটা অনগোয়িং!!
আমার রেটিং: ৯/১০