Ichi the killer [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Ichi the Killer

বিশ্বের অনেক দেশেই সরকারের পর সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গ হল সে দেশের মাফিয়া, কোন কোন ক্ষেত্র মাফিয়াই শক্তিশালি। তো বিভিন্ন গ্যাংয়ের সহবস্থানে চলে এই মাফিয়া ইন্ডাস্ট্রি। এই অন্দ্ধকারে ঢাকা এবং সকলের অগোচরে থাকা এই ইন্ডাস্ট্রির একটি ছোট্ট ঘটনা নিয়েই মাঙ্গা ইচি দ্যা কিলার।
ইচিকে প্রথম দেখায় মনে হবে চোখ টলটলে এক সদ্য কৈশোর পেরোনো যুবক। ভীত হচকিত ভাব, যেন ভাজামাছ উল্টে খেতে জানে না। আসলে তাই, ছোটবেলা থেকে বুলিয়িং এর শিকার হয়ে তার মাথার স্ক্রু ২ একটা আলগা হয়ে গেছে। বড়ধরনের মানসিক সমস্যাতে ভুগছে সে। কিন্তু সে মার্শাল আর্টে দক্ষ এবং তার পায়ে অসুরের জোর। তো এই ইচিকে কাজে লাগিয়ে জিন সান নামক এক বুড়ো লোক। ভুল বুঝিয়ে, ম্যানুপলেশনের মাধ্যমে ইচিকে কাজে লাগিয়ে সে বেশ কয়েকটা খুন করায় এবং ইচি এই খুনগুলো করে ঘোরের মধ্যে, এই ইচির শিকারের হয় যারা তাদের আর এক খন্ডে পাওয়া যায় না। তো এক গ্যাং লিডারকে খুন করে টাকার জন্য এবং সেই খুনের সূত্রে তারা এক পাগলা সাইকো গ্যাং লিডার কাকিহারার সামনে পরে যায় যাকে দেখলে মনে হবে কোন দুঃস্বপ্নের দানব এবং তাদের মধ্যে চলতে থাকে ইদুর বেড়াল খেলা।
প্রথমেই এই মাঙ্গা পড়তে হলে মানসিকতা যথেষ্ট শক্ত থাকতে হবে। নুইড্যিটি, ভায়োলেন্স, গোর টর্চার আরও প্রচুর এডাল্ট আর অবসেন্স দৃশ্য আছে যা সকলের কাছে হজম নাও হতে পারে। আর্টও বেশ ডিস্টার্বিং। এই মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে ২০০১ সালে একটি মুভিও বানানো হয়। এর ক্যারেকটারগুলো ইন্টারেস্টিং এবং চালবাজিগুলো অসাধারণ। যারা গোর এবং একশানের ভক্ত তারা পড়ে দেখতে পারেন এই ১০ভলিউমের মাঙ্গা ইচি দ্যা কিলার।

 

Lucifer and the Biscuit Hammer [Manga Recommendation] — Rezo D. Skylight

Lucifer and the Biscuit Hammer

Manga Recommendation:
Lucifer and the Biscuit Hammer
(Alternative names: Wakusei no Samidare, Hoshi no Samidare)
জনরা: Action, Adventure, Psychological, Comedy, Drama, Seinen
মাঙ্গাকা: Satoshi Mizukami
চ্যাপ্টার সংখ্যা: ৬৫
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৫৬
পার্সোনাল রেটিং: ১০/১০

যারা অ্যাডভেঞ্চার, কমেডি, ড্রামা, সাইকোলজিকাল, স্লাইস অফ লাইফ থেকে শুরু করে অ্যাকশান, শৌনেন প্রায় সব জনরারই পাঁচমিশালী স্বাদ খুঁজছেন তারা Lucifer and the biscuit hammer মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে পারেন।

এর কাহিনী তেমন আহামরি কিছু না। বলতে গেলে কাহিনীর শুরুটা হয় এক অদ্ভুত প্লট দিয়ে কিন্তু সমাপ্তি হয় ক্লাইম্যাক্সের মাধ্যমে। শুরুতে এনিমাস নামের এক জাদুকর “Biscuit Hammer” নামক এক বিশাল হাতুড়ির ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময় পর পুরো পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিবে বলে প্রতিজ্ঞা করে। সোজা কথায় জাদুকর চায় পৃথিবীতে কিয়ামত ডেকে আনতে। কারণ সে নিজেকে প্রভু বলে দাবি করত এবং তার ধারণা ছিল পৃথিবীর জন্ম-মৃত্যু সবই তার হাতে। আর পৃথিবীকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী প্রিন্সেস এনিমা (প্রিন্সেস এনিমা কে তা মাঙ্গা পড়লে একসময় জানা যাবে) পৃথিবী থেকে ১২ জন মানুষ বাছাই করে ও তাদেরকে “Beast knight” এর শক্তি দান করে। এভাবেই এই ১২ জন “Beast knight” এর সাথে জাদুকর এনিমাসের এর যুদ্ধ নিয়ে শুরু হয় “Lucifer and the Biscuit Hammer” মাঙ্গার কাহিনী।

প্রথমে প্রথমে Lucifer মাঙ্গা তেমন একটা ইন্টারেস্টিং নাও লাগতে পারে। কিন্তু আপনি যদি কষ্ট করে ১৩-১৪ টা চ্যাপ্টার পড়েন, এরপর আপনি আর পড়া থামাতে পারবেন না। মাঙ্গার আর্ট মুটামুটি ভালই। বিশেষ করে শেষ চ্যাপ্টারগুলার অার্ট খুবই ভাল। আর এই মাঙ্গার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, একই সাথে কিছুটা স্লাইস অফ লাইফ আবার অ্যাকশন-শৌনেন (যদিও জনরা সেইনেন দেয়া কিন্তু আমার কাছে শৌনেন টাইপের লেগেছে।) এর স্বাদ পাবেন, যা অন্যান্য মাঙ্গায় তেমন পাওয়া যায় না। তাই Lucifer এর মত মাঙ্গা খুব কমই আছে বলতে গেলে। সুতরাং, আপনারা সময় পেলে “Fate of the world” নিয়ে এই ব্যতিক্রমধর্মী মাঙ্গাটি পড়ে ফেলুন।

Annarasumanara — Zahin Mobashshir

Annarasumanara

Annarasumanara.
ইংরেজি নাম: Do you believe in Magic.
চ্যাপ্টার সংখ্যা: ২৭
Genre: Mystry, Drama, Romance, School, Psychological, Seinen.

আপনে কি ম্যাজিকে বিশ্বাস করেন?
এই এক প্রশ্ন নিয়ে কোরিয়ান এই মানহুয়াটি শুরু হয়। শেষ পর্যন্তও এই একই প্রশ্নই থেকে যাবে কিন্তু অর্থ হয়ত পালটে যাবে।

এক হাই স্কুল পড়ুয়া এক বালিকার কাহিনী। ছোটবেলা থেকেই সে ম্যাজিক পছন্দ করত কিন্তু পারিবারিক সমস্যার কারনে বর্তমানে তার আর্থিক অবস্থা খুবই করুন। তাই এসময়ে তার মাথায় ম্যাজিকের চিন্তা আসাও হারাম। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সে নিয়মিত পড়াশোনা করে ফলাফল ভাল করছে কারন তার মতে বড় হয়ে চাকরি নিলেই তাদের সব চিন্তা চলে যাবে। ছোট একটা বোনকে নিয়ে একটা খুপড়ি ঘরে থেকেও সে তাই মনোবল হারাচ্ছে না। এগিয়ে যাচ্ছে তার নির্দিস্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

হঠাৎ একদিন তার কস্টে উপার্জিত টাকা বাতাসে উড়ে গেল। সেই টাকার পিছনে ধাওয়া করতে করতে সে এসে পৌছাল একটা পুরানো চিত্তবিনোদন উদ্যানে। সেখানেই তার দেখা হয়ে যায় এক যাদুকরের সাথে, এরপরেই পাল্টাতে থাকে তার জীবন।

যাদুকর তাকে তার পুরানো স্মৃতি ঘুরিয়ে এনে তাকে জাদু শিখতে রাজি করায়। এরপরে যাদুকরের সাথে বালিকাটি সময় কাটাতে থাকে এবং ধীরে ধীরে সে যাদুকরের আসল পরিচয় জানতে পারে।
কিন্তু ততদিনে তার নিজের জীবনও অতিস্ট হয়ে পড়ে। তার ফলাফল খারাপ হতে থাকে, তাকে সবাই খারাপ চরিত্রের মনে করে। তার একমাত্র সংগী যাদুকরও কি তাকে তার সাথে ধোঁকাবাজি করল? কে এই যাদুকর? তার আসল পরিচয় কি?

মানহুয়াটার সবচেয়ে সুন্দর জিনিস হল এর আর্ট। অসাধারণ আর্টের সাথে রয়েছে আবার অসাধারণ কালার, যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। চরিত্র গঠনের দিকেও অনেক লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

বি.দ্র: মানহুয়াটা পড়ার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন যেন প্রতি চ্যাপ্টারের পেজ যেন ৭-৯টা হয়। এটার পেজটা আসলে অনেক লম্বা কিন্তু আপনি যদি কাটা পেজ পড়েন তাহলে আর্টটার মজা পাবেন না

রুফিয়াসের মাঙ্গা থিওরি- পর্ব ৩: বারসার্ক- কাস্‌কার অনুপস্থিতিতে গাটস্‌ এর ব্যাভিচার

Berserk Guts
ইয়ে মানে, আমি জানি আমি বারসার্কের ফ্যানডম এ নতুন। কিন্তু তার পরেও একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই। অনেকের কাছেই এই কথাটি শুনেছি এবং বিরক্ত হয়েছি। কথাটি হল, গাটস্‌ কাস্‌কার সাথে চিট করেছে।
বারসার্ক মাঙ্গার প্রথম ভলিউম এর প্রথম চ্যাপটার এর প্রথম দৃশ্যটি কি? দৃশ্যটি হল গাটস্‌ একজন নারীর এর সাথে মিলিত হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষনেই সেই নারীটি একজন অ্যাপোস্টল/রাক্ষসীর রূপ নেয় এবং গাটস্‌ কে বলে যে সে তার ফাঁদে বন্দী হয়েছে। তখন গাটস্‌ বলে , ফাঁদে আমি বন্দী হইনি, হয়েছ তুমি। আর তার বাম হাতের লুকানো গোলা দিয়ে উড়িয়ে দেয় রাক্ষসীটার চেহারা। দৃশ্যটি আসলেই ব্যাডঅ্যাস। কিন্তু গাটস্‌ তো কাস্‌কাকে ভালোবাসে। তার পরেও সেই অ্যাপোসটল এর সাথে কিভাবে মিলিত হতে পারল?
গাটসের জীবনের একমাত্র পণ হল সকল অ্যাপোস্টল হত্যা করা। তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য গাটস্‌ যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত। আগুনের উপর ঝাপিয়ে পরে, শত্রুর তলয়ার কামড়ে ধরে, শত ফিট উপর থেকে মাটিরে পরে, যেভাবেই হোক সে লক্ষ্য হাসিল করে ছাড়বে।আরে ভাই, বারসার্কের দুনিয়াটা হল এমন এক ব্যাভিচারের জায়গা, সেখানে গাটসের এই আর অ্যাপোস্টলের সাথে মিলিত হওয়া, এইটা তো কিছুই ছিল না। এভ্রিথিং ইয ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার। গাটসের ওয়ার হল অ্যাপস্টলদের সাথে ।
যেই অ্যাপস্টলটির সাথে গাটস মিলিত হয়েছিল সেটি ছিল সম্ভবত একটি সাকিউবাস। সাকিউবাস হল এক ধরণের মহিলা শয়তান :P। অথবা অপদেবী, যে কিনা পুরুষদেরকে রাতের বেলা সিডিউস করে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এক্লিপস্‌ এর সময় করকাস এর মৃত্যু হয়ে ছিল ঠিক এই রকম এক সাকিউবাস এর হাতে। সাকিউবাস দের ক্ষমতাই হল সিডিউস করা। গাটস্‌ কে সিডিউস করার পরেই হয়ত তারা মিলিত হয়েছিল এবং গাটসের সেখানে হয়ত কোনোই ইচ্ছা ছিল না।
আর গাটস্‌ তো শুধুই কাসকাকেই ভালোবাসে। যেই গাটস্‌ কখনো কাউকে তার নিজের গায়ে ছুঁতেই দিতে চায় না, সে কিভাবে কাসকার সাথে চিট করবে। আর শেষ কথা হল, end justifies the means। গ্রিফিথ সারাজীবন অন্যের চোখে ভালো হয়ে থাকলেও শেষে যা করেছে তার জন্যই সবাই তাকে ঘৃণা করে। গাটস্‌ তাই যতই হিংস্রতার অবলম্বন করুক, তার শেষ কাজটা সম্পন্ন হলেই হল।

Kokou no Hito [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Kokou no Hito 9

কল্পনা করুন, দুর্ভেদ্য তুষারঝড় ভেদ করে বেয়ে চলছেন এক দুর্গম পাহাড়ের খাজ। আপনি পুরোই একলা , তাপামাত্রা মাইনাসের ডিগ্রি চল্লিশেরও নিচে । অসহ্য অমানুষিক পরিশ্রম করে আপনি অবশেষে পৌছালেন পাহাড়ের চূড়ায় । ভোর হয়েছে , হাইপোর্থামিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আপনার হাত পায়ের আঙ্গুল অবশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আপনার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই । আপনার চোখের সামনে সূর্য উঠছে এবং তার আলো পাহাড়ের তুষারে প্রতিফলিত হয়ে চারিদিকে এক মুগ্দ্ধকর আবহ তৈরী করছে । আপনি যেন সারা পৃথিবীর রাজা , আরোহন করেছেন আপনার সিংহাসন । এই অনুভূতির সাথে পরিচিত একমাত্র পাহাড় বাহকরা যাদের আমারা ক্লাইম্বার বলে চিনি । এটাকে একধরণের স্পোর্টসও বলা যায় , কিন্তু এ খেলা হল জীবণ মরনের খেলা , একটি সুতোর ডগায় আপনার জীবন ঝুলছে । কিন্তু যাদের শরীরে এই ভয়ঙ্কর খেলার নেশা ঢুকে যায় তখন তাকে আর কিছুতেই থামানো যায় না । এইরকম অসাধারণ এক স্পোর্টস নিয়ে Shinichi Sakamoto এবং Yoshirō Nabeda এর লেখা আর সাকামতোর আঁকা সেইরকমই এক অসাধারণ মাঙ্গার কথা বলব যার নাম কোকু নো হিতো মানে THE CLIMBER ।

Kokou no Hito 7 Kokou no Hito 12
মাঙ্গার কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম মোরি বুনটারো । রিসেন্টলি সে এক নতুন স্কুলে ট্রান্সফার হয়ে এসেছে । প্রথম দেখায় তাকে মনে হবে এন্টিসোশ্যাল টাইপের কিন্তু ভাল করে লক্ষ্য করে দেখা গেলে বোঝা যায় যে সে আসলে নিসঃঙ্গ নেঁকড়ে মানে লোন উলফ । তো প্রথম দিনই ক্লাসের বুলি প্লাস ক্লাইম্বার মিয়ামটো এর সাথে ঝামেলা পাকিয়ে বসে এবং তার ছুড়ে দেওয়া চ্যালেন্জ নিয়ে খালি ড্রেনেজ পাইপ বেয়ে স্কুলের ছাদে উঠতে যায় , তীরে এসে তরী ডুবতে বসে যখন ছাদের কাছে এসে তার শক্তি ফুড়িয়ে যায় , কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করার আগেই সব শক্তি জড়ো করে দেয় এক লাফ এবং লাফ দিয়েই ছাদের কার্নিশ ধরে ফেলে । তার এই সহজাত ক্লাইম্বিং ক্ষমতা চোখে পড়ে এক শিক্ষক যোগ ক্লাইম্বার ওনিশি সেন্সের এর চোখে । তখন সে মোরিকে বলে এক ক্লাইম্বিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে । ক্লাইম্বিং এর খুটিনাটি শিখায় । এখন আপনার ভাবছেন ” এই আবার এল , আরেকটা নরমাল গতবাধা স্পোর্টস মাঙ্গা ,, কিন্তু আপনি বিশ্বাস করবেন না এর কিছু চ্যাপ্টার পরই কাহিনীর অসাধারণ ৩৬০ ডিগ্রি টার্ণ । সাইড ক্যারেকটারগুলোর ইউনিক ডেভলপমেন্ট এবং বিস্ময়কর পরিণতি । মোরির ধীরে ধীরে হওয়া বিবর্তন । ওর ডে টু ডে লাইফ । বাকি কাহিনীর টুইস্ট মাঙ্গা পড়ে জানতে হবে ।
এই মাঙ্গাকে খালি স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গা হিসেবে পড়া যয় । জীবনের নির্মম বাস্তবতাকে বেশ নিখুত ভাবেই মাঙ্গাকা দেখিয়েছেন ! কাহিনীর পেসিং , ক্যারেকটার ডেভলপমেন্ট , বব মার্লির উপস্থিতি সব মিলিয়ে এক কথায় অসাধারণ একটি মাঙ্গা । মাঙ্গার আর্ট বলতে গেলে বার্সাক , ভ্যাগাবন্ডের কাছাকাছি লেভেলের। অতিরিক্ত ডিটেইলড , চেহারার ইম্প্রেশন গুলো এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দগুলোকে প্রতীকি আর্টের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন যা এক কথায় অসাধারণ । কাহিনীর মধ্যে একবার ডুবে গেলে সহজে বের হতে পারবেন না । ১৭০ চ্যাপ্টারের এই অসাধারণ মাঙ্গাটি একবার একটু ট্রাই করে দেখুন । আপনার অবশ্যই ভালো লাগবে ।
এই মাঙ্গাকে আমি ১০ এ ১০ দেব ।

Kokou no Hito 1 Kokou no Hito 2 Kokou no Hito 3 Kokou no Hito 4 Kokou no Hito 5

বিলি ব্যাট (Billy Bat) মাঙ্গা সাজেশন – ফরহাদ মহসিন

প্রসঙ্গ: নাওকি উরাসাওয়া’র অনগোইং মাঙ্গা ‘বিলি ব্যাট (Billy Bat)’

billy bat

যারা মন্সটার দেখেছেন বা 20th Century Boys পড়েছেন তাদের ধারণা থাকার কথা নাওকি উরাসাওয়ার গল্প বলার ঢং সম্পর্কে। অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে গল্প বলা শুরু করেন তিনি। অসাধারণ এই থ্রিলার লেখক অনেকবার পাঠকদের “tease” করেন এন্ডিং সম্পর্কে, অমুক চরিত্র আরেকটু হলেই যেন শেষের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। আর একটু হলেই যেন গল্পের সব জট খুলে যাবে, সব অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার লৌকিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে।

কিন্তু উরাসাওয়া পাঠকদের বসিয়ে রাখেন একদম কাহিনীর শেষ পর্যন্ত। একদম শেষে সবগুলো দিকে যেন সুতোয় শেষ টানটা পড়ে, সব জট খোলে একসাথে। সেই কারণেই একদম শেষ পর্যন্ত না পড়ে তার মাঙ্গা কাউকে পড়তে বলাটা কঠিন।

এবার, Billy Bat এ তার লেখার সব গুণাবলি যেন যোগ হয়েছে পুরোপুরি অন্য মাত্রায়। গল্প শুরু হয় বিখ্যাত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো আমেরিকান কমিক্স চরিত্র Billy Bat এবং তার লেখককে নিয়ে। সেখান থেকেই লেখক আমাদের নিয়ে চলে যান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী মিত্রশক্তির দখলে থাকা জাপানে। জাপানে কেন গ্রাফিটি হয় Billy Bat এর মত দেখতে বাদুড়ের সিম্বলের? সেই একই সিম্বল আবার কেন ছিল খোদ যীশু খ্রিস্টের আমলে, যীশুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা জুডাসের মননে? কত আগে থেকে অস্তিত্ব আছে এই অশরিরী বাদুড়ের? সে কেন আবার আবির্ভূত হয় পনের শতকের জাপানে, তেনশৌ ইগা যুদ্ধে?

আমি বলতে পারব না, এসব জানার জন্য পড়ে ফেলুন Billy Bat। কারণ উরাসাওয়ার কাজের সাথে পরিচিতি থাকার কারণে জানি একদম শেষের আগ পর্যন্ত কিছুই sense make করবে না। তবে উরাসাওয়া বলেই ভরসা পাই, শেষ পর্যন্ত পড়ে যাওয়াটা একটা rewarding experience হবে। এ বছরের জানুয়ারিতে মাঙ্গা প্রবেশ করেছে তার ফাইনাল আর্কে। বিলি ব্যাট পড়া শুরু করার আদর্শ সময় মনে হয় এটাই। শুরুতে স্লো-পেইসড মনে হওয়া, কিচ্ছু না বোঝা, অসংখ্য চরিত্রের মাঝে দিশেহারা হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকা সত্ত্বেও তাই বলি, পড়া শুরু করুন বিলি ব্যাট। আরও অনেকদিন পর যদি মানুষ ‘নিজের পড়া সেরা মাঙ্গা’র লিস্টে এটা এড করা শুরু করে, আপনি বলতে পারবেন “I read it first”.

ডেনগেকি ডেইযি [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Dengeki Daisyডেনগেকি ডেইযি
অন্য নামঃ ইলেকট্রিক ডেইযি
জানরাঃ মিস্টেরি, কমেডি, ড্রামা, রোমান্স, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৮০
ভলিউমঃ ১৬
মাঙ্গাকাঃ মোতোমি কিয়োওসুকে
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৫৭
মাইআনিমেলিস্ট র‍্যাংকিং: ১০০
মাইআনিমেলিস্ট পপুলারিটিঃ ২২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯.৫

শৌজো-এই জানরাটার প্রতি ছেলে হোক, মেয়ে হোক, শৌজো ভক্ত হোক না হোক সবারই কেমন জানি একটা চুলকানি আছে! কেননা প্রায় প্রতিটা শৌজোতে একই কাহিনী। টানা দেখতে বা পড়তে থাকলে বিরক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। মানুষ যতই বলুক এটা আলাদা, অন্যরকম নায়িকা; শেষ পর্যন্ত এগুলো সেই বহুল ব্যবহৃত রোমান্স নির্ভর স্কুল জীবনের গল্প। শুধু কোনটা একটু ভাল কোনটা একটু খারাপ। কিছু নতুনত্ব আছে আকাতসুকি নো ইয়োনা, আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে, সাইয়ুনকোকু মোনোগাতারি’র মত সিরিজগুলোতে যেগুলো আবার সবই হিস্টোরিক্যাল রোমান্স। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির যুগেই কোন হাইস্কুল পড়ুয়া মেয়ের গল্প যেটাকে আমি “ওয়ান অফ এ কাইন্ড” বলতে বাধ্য হচ্ছি তা হল ডেনগেকি ডেইযি। হাইস্কুল পড়ুয়া নায়িকা থাকলেও এটি পুরোপুরি রোমান্স নির্ভর কোন মাঙ্গা নয়। এরকম কাহিনীর দ্বিতীয় কোন আনিমে বা মাঙ্গা বোধ হয় এখন পর্যন্ত খুঁজে পাবেন না।

কুরেবায়াশি তেরু যখন মিডেল স্কুলের ছাত্রী তখন তার একমাত্র আত্মীয় তার বড় ভাইটিও ক্যান্সারে মারা যায়। শেষ সম্বল হিসেবে তেরুকে দিয়ে যায় একটি সেলফোন। এই সেলফোনে রয়েছে ডেইজি নামের একজনের ই-মেইল এড্রেস। ডেইজির দায়িত্ব সকল বিপদে-আপদে তেরুকে তার সর্বস্ব দিয়ে রক্ষা করা। যদিও ডেইযি কে, দেখতে কেমন এসব বিষয়ে তেরু কিছুই জানে না। মাঙ্গার কাহিনী শুরু যখন তেরু হাইস্কুলে উঠেছে। একদিন ভুলে সে তার স্কুলের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে বল দিয়ে। স্কুলের পরিচারক কুরোসাকি তাসুকু তেরুকে ধরে নিয়ে যায় কারণ তেরু গরিব বলে টাকার বদলে তার দেহ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে…

ঠিক এখানে এসে লিখতে গিয়ে খুব হাসি আসছে। পুরা বাংলা সিনেমা বাংলা সিনেমা লাগছে! আসলে উপরের জানরাগুলো বা কাহিনীর বর্ণনা কোনটাই মাঙ্গাটি কি ধরনের বা কি নিয়ে তা নিয়ে তো ধারণা দেয়ই না বরং আরো চরম আকারের ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে বসে। তাই বাংলায় শুদ্ধভাবে লেখার চেষ্টাটা আপাতত বাদ দিলাম! এই সোনালী চুলের গুন্ডা ধরণের স্কুল জেনিটর কুরোসাকি তেরুকে তার সার্ভেন্ট বানিয়ে তেরুকে দিয়ে কামলা খাটায়। এই নিয়ে অতিষ্ঠ তেরু তাই যখন তখন কুরোসাকিকে বলে “গো বাল্ড কুরোসাকি”। মানে কুরোসাকি টাকলা হয়ে যাক! কিন্তু কুরোসাকির আসল লুকানো পরিচয় সে একজন হ্যাকার। শুধু যেন তেন হ্যাকার নয় তাও। সেই বিখ্যাত থুক্কু কুখ্যাত হ্যাকার ডেইযি!! কুরোসাকির সাথে পরিচয়ের পর থেকেই তেরুর জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে। অচেনা সব মানুষের টার্গেট হয়ে দাঁড়ায় সে। যখন তখন ভয় কারো আক্রমণের, কিডন্যাপ হয়ে যাবার। এই সব মানুষ চায় শুধু একটি জিনিস। তেরুর সেলফোন। জিনিয়াস ইঞ্জিনিয়ার কুরেবায়াশি সোইচিরো মৃত্যুর আগে সেই সেলফোনে রেখে গেছে এমন গুরুত্বপুর্ণ কিছু যার পিছনে হন্য হয়ে সবাই ছুটছে। কিন্তু তেরু কুরোসাকি কিংবা বাকিদের সাহায্যেও সহজে তা খুঁজে বের করতে পারে না। কি এমন সেই তথ্য যার জন্য তেরুর স্বাভাবিক জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ?

এতটুকু পড়ে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন মাঙ্গাটি একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অল্প অল্প করে পুরো মাঙ্গা জুড়েই রহস্য উদঘাটন হতে থাকে। তাই কাহিনী ঝুলে যায়নি কোথাও। এখানে শৌনেন মাঙ্গার মত কিছু সিরিয়াস কাহিনী চলে তারপর আবার লাইটহার্টেড হয়ে যায় একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য। অনেকটা আর্কের মতই। আসলে এই মাঙ্গাটি যদি একটু পরিমার্জন করে প্রধান চরিত্রকে মেয়ে না হয়ে ছেলে বানান হত তবে এটাকে শৌনেন কিংবা সেইনেন ট্যাগ দিলেও বোধ হয় আমি অবাক হতাম না। মাঝে মাঝে ভুলেই যেতে হয় যে এটি একটি শৌজো মাঙ্গা! আর তার অন্যতম একটি কারণ হল এর রোমান্টিক অংশটা অনেক স্লো। রোমান্স যে অনেক কম ঠিক তা না কিন্তু খুব ধীরে ধীরে সময় নিয়ে এখানে রোমান্সের অগ্রগতি হয়। যখনই চোখে পড়ার মত অগ্রগতি হতে যায় ঠিক তখনই আটকে যায় তা। তাই রোমান্টিক শৌজো ফ্যানদের মাঝেই মাঝেই হতাশায় মাথার চুল ছিঁড়তে বা টেবিল উল্টাতে ইচ্ছা করলেও কিছু করার নেই! তবে ধীরে আগানটা আসলে গল্পটার জন্য ভালো ছিল। যখন যেটার জন্য উপযুক্ত সময় ঠিক তখনই সেটা হয়েছে। তাই বলে ভাবার কারণ নেই এটা সবসময় খুব গুরুগম্ভীর ধরণের। এখানে কমেডি দৃশ্যগুলো দেখলে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়। কমেডি সবচেয়ে কমন একটা জানরা হলেও এতটা হাসাতে পারে না সব আনিমে, মাঙ্গা। মাঙ্গাকা মোতোমি কিয়োওসুকে মাঙ্গার পেজে সাইড নোট হিসেবে অনেক কিছু লেখেন তার পাঠকদের জন্যে। এই সাইড নোটগুলো আরও হাসির খোরাক যোগায়।

তবে একটি জিনিস বলে রাখা ভালো। চ্যাপ্টার ৪০ এর দিকে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পায়। এবং ঠিক এখানেই অনেকগুলো চ্যাপ্টারের ট্রান্সলেশন ভয়াবহ বাজে। এই চ্যাপ্টারগুলো রিপ্লেস করা হয়েছে বা দ্বিতীয় কোন ট্রান্সলেশন আছে কিনা আমার জানা নেই। যদি থাকে তো বেঁচে গেলেন। না থাকলে এখানে কাহিনী বুঝতে অনেক সমস্যা হবে। কিন্তু চিন্তার কারণ নেই। সামনের চ্যাপ্টারগুলোতে ওই ঘটনাগুলো আবার উঠে আসে তাই এখন না বুঝলেও পরে সব বুঝতে পারবেন।

অনেক দিক দিয়েই কুরোসাকির সাথে মেইড-সামা’র উসুই তাকুমির মিল পাওয়া যায়। আবার দুজনে দেখতেও অনেকটা একই রকম যে কারণে কেউ কেউ চিনতে ভুল করে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার কুরোসাকিকে উসুইয়ের চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে। তার কারণ হল কুরোসাকি “মানুষের মতই একজন চরিত্র”। শৌজো হিরোদের বাস্তবতার কাছাকাছি লাগে খুব কম। তারা শুধু যেন রোমান্স নিয়েই ব্যস্ত। সেখানে কুরোসাকির জীবন, সংগ্রাম, আবেগ, অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব, স্বভাব-চরিত্র সবকিছুই অন্যরকম আর বাস্তবধর্মী। একজন মানুষ হিসেবে কুরোসাকির অনুভূতিগুলো আসলেই অনুভব করা যায়। তেরুও পছন্দনীয় একটা মেয়ে। তেরুকে যেসব ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় এসবের কিছুর মধ্যে দিয়েই যেতে হয় না সাধারণ শৌজো মাঙ্গার প্রধান মেয়ে চরিত্রগুলোকে। তাও তারা “ড্যামসেল ইন ডিস্ট্রেস” খেতাব পেয়ে যায়। সেখানে তেরুকে অগণিত বার কুরোসাকি আর বাকিদের বাঁচাতে হলেও কখনই তাকে অকর্মা মনে হবে না। আবার সে যে খুব শক্তিশালী, একাই ১০০ টাইপ তাও না। কিন্তু তারপরেও তেরু নিজের মত করে যা পারে করে যায়। কাণ্ডজ্ঞান নামক জিনিসটা তার মাঝে আছে! তেরুকে আমার কাছে খুবই ইউনিক লেগেছে। তাই বিরক্ত হওয়ার সুযোগ খুব কম। সাধারণ মাঙ্গার মত প্রধান দুই চরিত্রের কচকচানিতে এখানে বাকি চরিত্রগুলোও হারিয়ে যায়নি। বরং আশেপাশের মানুষগুলোও কমবেশি সমান গুরুত্ব পেয়েছে এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজ নিজ রোল প্লে করেছে। তার মাঝে আছে রিকো, মাসুদা, আনদোও, হারুকা, কিয়োশি, রেনা, সোইচিরো এবং অবশ্যই আকিরা।

মোতোমি কিয়োওসুকে’র আঁকার নিজস্ব স্টাইল আছে। আর্ট দেখে শৌজো মাঙ্গা বুঝা গেলেও বাকি শৌজো মাঙ্গার মত সব একই রকম লাগে না। ডেনগেকি ডেইযির শুরুতে আর্ট মোটামোটি ভালই ছিল। শুধু প্রথম চ্যাপ্টারের প্রথম পেজেই কভারে তেরুর ছবিটা দেখে কোন না কোন ফালতু মাঙ্গা ভেবে উড়ায় দিতে ইচ্ছা করেছিল। তারপর যত চ্যাপ্টার গেছে আর্ট ভালো থেকে আরও ভালো হয়ে উঠেছে। খুবই সুন্দর এবং ওয়েল ডিটেইল্ড আর্ট। তবে আর্টের বিষয়ে একটা কথা উল্লেখ না করলেই নয়। কমেডির জন্য চিবি নয় বরং নানান ধরণের আজব এবং মজার সব ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন আর পোজ ব্যবহার করে হয়েছে। ডায়ালগগুলো এমনিতেই হাসির তার উপর এই ড্রয়িংগুলো ব্যাপারগুলোকে আরও বেশি হাস্যকর আর নাটকীয় করে তুলে। একেকটি চরিত্রের অঙ্গভঙ্গি দেখার পর হাসি থামান কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্য শৌজো মাঙ্গাগুলোর মত এত নামডাক না শুনলেও মাঙ্গার ওয়েবসাইটগুলোতে শৌজো জানরা সার্চ দিলে এবং হট রিড মাঙ্গার তালিকায় ডেনগেকি ডেইযির নাম দেখতে পাবেন। সবচেয়ে ভালো শৌজো মাঙ্গাগুলোই আনিমে অ্যাডাপ্টেশন পায় না। আনিমে না আসলেও এই মাঙ্গা চোখের আড়ালে থেকে গেলে তা হবে দুঃখজনক। আপনার যাই পছন্দ হোক এরকম ইউনিক একটা মাঙ্গা মিস করলে নিজেই পস্তাবেন। তাই মাস্ট রিড মাঙ্গার তালিকায় অবশ্যই এই মাঙ্গাটি রাখবেন। আর মাঙ্গাটি পড়ার সময় সিন্ডি লপারের টাইম আফটার টাইম গানটি শুনতে পারেন। এই গানটির সাথে ডেনগেকি ডেইযির যোগসূত্র আছে। আশা করা যায় আপনি সময়টা দারুণ উপভোগ করবেন। আর এটি অনায়াসে আপনার সেরা মাঙ্গা তালিকায় ঢুকে গেলেও তা অবাক করার মত কিছু হবে না!

মাঙ্গা এবং আনিমে সাজেশন: Ajin — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Ajinঅমরত্ব! মানুষের জীবধনের সবচেয়ে আকাঙ্খিত জিনিস। প্রাচীনকালে নরবলি, রক্তপান, দেবতার পূজা, শয়তানের পূজা, আলকেমি কত কিছুর না মানুষ আশ্রয় নিয়েছে অমরত্ব পাবার জন্য। কিন্তু একদল লোক দুনিয়াতে জন্ম নিল যারা অমর। রোলার দিয়া চাপা দিন, বড় ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন, পুড়িয়ে দিন। লাভ নেই, আবার বেচে উঠবে। এদের আর্সেনালে আরেক অস্ত্র আছে। কালো ভূত যা সাধারণ মানুষের কাছে অদৃশ্য। তো এই আজিনদের অমরত্বের কারণে তাদের মানুষ বলে বিবেচনা করা হয় না। এদের ধরে টর্চার চালানো হয় যা সবচেয়ে স্যাডিস্ট সাইকোও ভেবে বের করতে পারবে না। তো এইরকম একজন আজিন কেই কে নিয়েই কাহিনী যে সদ্য ট্রাকচাপা পড়ে আবিষ্কার করে সে আজিন।
তো এসব বকর বকর বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি। আপনি আজিন দেখবেন বা পড়বেন কেন!? পড়বেন সাতোউয়েয় জন্য। দেখতে নিরীহ বুড়ো ভালমানুষ। যেন এইমাত্র মর্নিংওয়াক করে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরবে। কিন্তু এই ভালো মানুষ সাউতো একজন স্যাডিস্ট সাইকো যার হাতে ইমারটলিটির গিফট এবং ক্ষুরধার বুদ্ধি আছে। কেই কে রিসার্চ সেন্টার থেকে বের করে আনা, ভালো মানুষ মার্কা অভিনয়, এবং রক্তপিপাসা আপনার কাছে ভালো লাগতে বাধ্য। মাঙ্গায় তার প্লেন নিয়ে তেলেসভাতি কখোনো ভুলবো না। সাউতোর লক্ষ্য কি?! আসলে কোন লক্ষ্য নাই। নোলানের ডার্ক নাইটে আলফ্রেডের এক বিখ্যাত উক্তি “কিছু লোক দুনিয়াতে খালি জ্বলতে দেখেতে চায়, আর কিছু না,,। সাইতো আর জোকার একই ঘরের মানুষ। ভায়োলেন্স এদের প্রেরণা।

এনিমেটা CGI বলে অনেকে পছন্দ করছে না কিন্তু এই ইফেক্টই আজিনের উপযোগি। বিশেষ করে এনিমের হরর বা গোথিক টাইপের সাউন্ডট্র্যাক। বিষেষ করে আজিন প্রাণ ফিরে পাবার সময় যে কড় কড় শব্দ হয়। এই এনিমের মেইন ক্যারেকটার কেই আর অন্যগুলোও অস্থির। মাঙ্গাটা অবশ্যই ফলো করবেন। আর্ট কাহিনী অনেক ভালো। টোকিও ঘুউল রে এর পরে সবচেয়ে অস্থির সাইকো হরর মাঙ্গা পড়ছি আজিন!
মাঙ্গা অনগোয়িং, আনিমে কমপ্লিট তবে এন্ডিং চেইন্জ কর দিসে। ফলো করার মত জিনিস এটা।
দশে এটা নয় সহজেই পাবে। আশা করি সবার ভালো লাগবে!

আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Akagami no Shirayuki-hime 1

আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে
ইংরেজি নামঃ রেড-হেয়ারড স্নো হোয়াইট
জানরাঃ হিস্টোরিক্যাল, ফ্যান্টাসি, শৌজো, রোমান্স, ড্রামা
অবস্থাঃ চলমান
চ্যাপ্টারঃ ৭৪+
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৪১
ব্যক্তিগত রেটিং: ১০/১০

রূপকথার গল্প কার না ভালো লাগে? এমন কাউকে বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না যে ছোটবেলায় রূপকথার গল্প পড়ে, শুনে কিংবা দেখে বড় হয়নি। সে সময় রাজকন্যা, রাজপুত্র, রাজা, রাণী, রাজপ্রাসাদের গল্পগুলো কতই না আকর্ষণীয় লাগত। শিশুমনের কল্পনার রাজ্যে এগুলোই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকত। তবে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠার পর সেই আকর্ষণটা আর তেমন থাকে না। এসব বর্তমানে অলীক ব্যাপার নিয়ে কল্পনার রাজ্যে গা ভাসানোর জন্য যে আমরা খুব বড় হয়ে গেছি! ওসব আর মানায় না। তবু বুকের গভীরে কোথাও হয়ত সেই ভালোলাগাটা রয়েই যায়। ছোট কাউকে গল্পের বই পড়তে দেখলে এখনো স্মৃতিকাতর করে তুলে। তবে যদি এমন এক রূপকথার গল্প পাওয়া যায় যা এই বয়সেও সমানে আপনার আকর্ষণ ধরে রাখতে পারে তাহলে নিশ্চয়ই মন্দ হয় না। আর মানের দিক থেকে তা যদি হয় আর দশটা সাধারণ গল্পের চেয়েও ভালো তাহলে তো সোনায় সোহাগা! এমনই এক রূপকথার মাঙ্গা আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে।

তানবারুন রাজ্যে বাস করে শিরায়ুকি নামের এক মেয়ে। শিরায়ুকির চুল লাল বর্ণের যা অনেক বিরল। এই বিরল চুলই বিপক ডেকে আনে শিরায়ুকির জন্য। তানবারুনের পাগলাটে স্বভাবের রাজপুত্র রাজি লালচুলো শিরায়ুকির কথা জানতে পারে। তাকে প্রস্তাব দেয় কনকিউবাইন হবার। কিন্তু শিরায়ুকি যে কারো হাতের পুতুল নয়। স্বাধীনচেতা শিরায়ুকি নিজেকে রাজপুত্রের হাতে সঁপে দিতে রাজি নয়। সে বেঁচে থাকতে চায় নিজের মত করে। তাই সে এই বিপদ ডেকে আনা লম্বা লাল চুল কেটে ফেলে তার নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় পাশের রাজ্য ক্লারিনেসে। সেখানে গভীর বনে দেখা পায় তারই সমবয়সী এক তরুণ ছেলে যেনে্র। সাথে যেনের দুই সঙ্গী মিতসুহিদে আর কিকি। শুরুতে সদাসতর্ক থাকা যেনের সাথে শিরায়ুকির সাথে ঝামেলা বাঁধলেও আস্তে আস্তে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবু লাল রঙ যেন তার ভাগ্যের পিছু ছাড়ে না। শিরায়ুকির উদ্দেশ্যে রাজপুত্র রাজির পাঠানো আপেল খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হল যেন্। এখন যেনকে কিভাবে বাঁচাবে শিরায়ুকি? আর যেনে্র আসল পরিচয়ই বা কি? কি করছিল সে এই গভীর বনে?

শুরুর দিকে গল্পটি শিরায়ুকি আর যেনে্র দৈনন্দিন জীবন নিয়ে চলতে থাকে। শিরায়ুকির নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় ইচ্ছা আর যেনে্র সাথে তার সম্পর্কের অগ্রগতিই থাকে গল্পের মূলবিন্দু। শুধু এতটুকুর জন্যেই মাঙ্গাটি চালিয়ে নেওয়া যায়। তবে একটু একটু করে আরো নতুন জিনিস যোগ হতে থাকে। ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে আর্কে ভাগ করে নেওয়া যায়। এরপর থেকেই গল্পটি পরিপূর্ণ রূপ পায়। যেনে্র সাথে শিরায়ুকির সম্পর্কটার জন্যেই অন্তত মাঙ্গাটির একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে যেখানে গল্পটিকে পৌঁছাতে হবে। তাই বর্তমানে মাঙ্গাটি খুব সুন্দরভাবে আগাচ্ছে। কাহিনী দিনকে দিন আরো জমজমাট হয়ে উঠছে।

Akagami no Shirayuki-hime 2

আকা-শিরাকে অনন্য করে তুলেছে এর প্রতিটি চরিত্র। অবশ্যই এক্ষেত্রে সবার আগে শিরায়ুকির কথা বলতে হয়। শিরায়ুকি খুব ভালো, নম্র, ভদ্র একজন মেয়ে। কিন্তু তাই বলে সে সাধারণ শৌজো নায়িকাদের মত স্যাকারিন দেওয়া মিষ্টি মেয়ে না যে অল্পতেই প্রতারিত হবে আর ভেঙ্গে পড়বে। শিরায়ুকিকে রক্ষা করার জন্য আক্ষরিক অর্থেই রাজপুত্র আছে। কিন্তু সে কখনোই তাদের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকে না। কারো কাছেই সে মাথা নোয়াবার নয়। নিজের জীবনের পথ সে নিজে বেছে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে শিরায়ুকির অন্য একটি দিক আমার তার চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে। এখানে অন্য কোন মেয়ে হলে নিশ্চিত কোন এক সময় যেনকে বাংলা সিনেমার মত করে বলত ‘কিন্তু আমাদের সামাজিক অবস্থান যে যোজন যোজন দূরে। আমাদের এ সম্পর্ক কেউ মেনে নেবে না। না, আমি আর এ সম্পর্ক আগাতে দিতে পারি না। তুমি আমাকে ছেড়ে দাও যেন। তাহলে তুমি ভালো থাকবে!!’। শিরায়ুকি এ ধরণের কথাবার্তা কখনো বলেনি এবং সামনেও বলার সম্ভবনা নেই। তার মানে এও না যে সে নিজের সামাজিক অবস্থান ভুলে গিয়ে দাম্ভিকতার পরিচয় দিয়েছে। বরং সে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এমন এক জায়গায় পৌঁছুতে চায় যাতে একদিন সে যেনে্র পাশে দাঁড়াতে পারে। তার হয়ত টাকাপয়সা, সামাজিক মর্যাদা বা জৌলুস নেই কিন্তু বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে সে ঠিকই ওপরে উঠে আসে।

বাকি চরিত্রগুলোও কেউ কারো চাইতে কম যায় না। রাজপুত্র, প্রভু, ছোট ভাই বা প্রেমিক যেকোন ভূমিকাতেই যেন্ উয়িস্তালিয়া অনেক আন্তরিক, দায়িত্বশীল আর চিন্তাশীল। সেক্ষেত্রে ওবি একজন রহস্যময় ভৃত্য হলেও যেনে্র কাছে হেরে যায়নি। যেন্ এবং সবাইকে নিয়ে সবসময় দুষ্টামি করা কিন্তু বিশ্বস্ত ওবি বরং জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেক উপরেই আছে। কোন এক ব্যাখাতীত কারণে ওবিকে একটু বেশিই ভালো লাগে। মিতসুহিদে আর কিকির মজার অগ্রগতি দেখার জন্যেও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন। এই দলটার বাইরে আছে রাজপুত্র ইযানা। শুরুতে আমি শিরায়ুকি আর যেনে্র পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে ভেবে ইযানাকে একটুও পছন্দ করিনি। কিন্তু মাঙ্গা যত এগিয়েছে তত বুঝেছি ইযানা আসলে কেমন মানুষ। সে কি পদক্ষেপ নিচ্ছে আর কেন নিচ্ছে তা বুঝতে পারার পর ইযানাকে তারিফ করতেই হয়। আসলে এখানে অপছন্দ করার মত এমন কোন চরিত্র নেই। আর রাজপুত্র রাজি? ধীরে ধীরে তার মাঝে এতটাই পরিবর্তন আসে যে তাকে নিয়েও আর হাসাহাসি করা যায় না।

আকা-শিরার আর্ট খুব বেশি সুন্দর। আনিমেতে মাঙ্গার একই আর্ট ব্যবহৃত হয়েছে। অ্যানিমেশন যথেষ্ট সুন্দর ছিল। তাও মাঙ্গাতে আর্ট দেখতে আনিমের চেয়ে অনেক গুণ বেশি সুন্দর লাগে। আর্ট দেখলে শুধু আর্টের জন্যেই মাঙ্গা পড়তে ইচ্ছে হবে। আকা-শিরাতে এর নিজস্ব জগতটার জন্য মাঙ্গাকা নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের বাড়ি-ঘর আর পোশাক-আশাকের নকশা করেছেন। এই দিকটি চোখে পরার মত।

এই মাঙ্গাটি এত বেশি ভালো আর নিখুঁত যে এতে দোষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সমস্যার মধ্যে একটি রাজপ্রাসাদে যত সৈন্যসামন্ত, চাকর-বাকর আর হোমরাচোমরা ব্যক্তিদের ব্যস্ত চলাফেরা দেখা যাওয়ার কথা তা দেখা যায় না এটাই উল্লেখ করা যায়। সেই তুলনায় রাজপ্রাসাদ পুরা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। কেউ কেউ রাজপরিবারের কথাও বলতে পারে। যেন আর ইযানা ছাড়া রাজপরিবারের কাউকে দেখা যায় না। কিন্তু সেটা শুধু শুরুতে। মাঙ্গা যত এগিয়েছে তত নতুন সব চমক এসেছে। কিন্তু পরে গিয়ে রোমান্স আগে যা ছিল তার চেয়ে অনেক কমে যায়। অনেকেই এটা নিয়ে অভিযোগ করে। তবে আমার মতে এভাবে শুধু মিষ্টি প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র না করে বরং বাস্তবধর্মীভাবে কাহিনী আগাচ্ছে। এতে মাঙ্গাটি আরও বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে।

এর আনিমের দ্বিতীয় সিজনটি কিছুদিন আগেই শেষ হল। দুটি সিজনই বেশ ভালোভাবেই মাঙ্গাকে অনুসরণ করেছে। তবু একজন মাঙ্গাপড়ুয়া হিসেবে মনে হয়েছে কিছু একটা নেই। আর দ্বিতীয় সিজন যেখানে শেষ ওখানেই আরও চমকপ্রদ সব ঘটনার শুরু। তাই আনিমে যাদের ভালো লেগেছে তাদের জন্য মাঙ্গা পড়া অত্যাবশ্যক। তবে আনিমেতে মাঙ্গার চ্যাপ্টার আগাপিছা করে অনেক চ্যাপ্টার মিলে একেকটি পর্ব বানান হয়েছে। তাই কোথা থেকে মাঙ্গা শুরু করা উচিত এটা বলা কঠিন। আনিমের শেষ পর্বটি ছিল চ্যাপ্টার ২৯, ৩০ থেকে। তবে চ্যাপ্টার ৩১, ৩২ থেকে আগেই আনিমে বানান হয়েছে। চ্যাপ্টার ৩৩-এ এরপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ শুরু। তাই ওখান থেকেই শুরু করতে পারেন।

প্রতিটি জানরারই কোন কোন সিরিজ থাকে যা ওই জানরার সচরাচর সিরিজগুলোর থেকে আলাদা এবং অসাধারণ হয়। আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে এমনই একটি মাঙ্গা। তথাকথিত জীবনের টুকরা শৌজো মাঙ্গা থেকে এই রূপকথার মাঙ্গা অন্য স্তরের। আনিমে আসার আগ পর্যন্ত এটি ছিল মাঙ্গা জগতের লুকান রত্ন। এখন আর চোখের আড়ালে না থাকলেও রত্নই রয়েছে। তাই সুযোগ পেলে অবশ্যই একবার এই কল্পনার রাজ্যে ডুব দিয়ে আসতে পারেন।

Akagami no Shirayuki-hime 3

HEADS [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

 

মাঙ্গা রিভিউ : HEADS
মাঙ্গাকা : হিগাশিনো কেইগো
“তোমার ঘরে বাস করে কারা ও মন জানোনা
,তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা ,,
মানুষের মন ডেডেলাসের তৈরি ল্যাবিরিন্থের চেয়েও জটিল । যেই মন একটা প্রজাপতিকে দেখে মুগ্দ্ধ হয় আবার সেই মনই ফ্রিজের ভেতর মানুষের কাঁটা অঙ্গ সংগ্রহ করে । এখন এই মন মানে মগজে যদি আরেকজন ভাগ বসায় তাহলে ব্যাপারটা ভেজালের উপর আরো ভেজাল । তো এই মাঙ্গার কাহিনী মানুষের মনের বিচিত্রতা নিয়েই ।
এই গল্পের নায়ক লাজুক এবং বিনয়ী চরিত্রের অধিকারী জুন নারুসে । সত্‍ ,হাসিখুশি এবং ভীতু , এককথায় ভালোমানুষ । ইলেকট্রিকাল কোম্পানিতে চাকরি এবং ছবি আকার শখ নিয়ে শান্তিতেই জীবন কাটছিল তার । এরমধ্যে মেগুমি নামক এক হাসিখুশি মেয়ের সাথে সে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পরে ।সব মিলিয়ে সুখেই ছিল । কিন্তু একদিন ব্যাংকে গিয়ে সে পরে ডাকাতের কবলে । ডাকাতের কবল থেকে ছোট এক মেয়েকে বাচাতে গিয়ে সে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় এবং কোমায় চলে যায় । কয়েকসপ্তাহ পর কোমা থেকে উঠে সে জানতে পারে , সেই বিশ্বের প্রথম ব্যাক্তি যার আংশিক ব্রেইন ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে । সে সুস্থও হয়ে ওঠে । কিন্তু ধীরে ধীরে সে বদলে যেতে থাকে । যে ফ্যান্টাসি মুভি দেখে সে রাতে ঘুমাতে যেত তা এখন বিরক্ত লাগে ,হঠাত্‍ খেপে যাওয়া আর যে মেগুমিকে সে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালবাসত তাকেও আগের মত ভাল লাগছে না । কি হচ্ছে তার । কে হানা দিচ্ছে তার মনোজগতে ?বাকি কাহিনী মাঙ্গাতে ।
মাঙ্গার আর্টওয়ার্ক খুবই ভালো এবং ডিটেইলড । কাহিনীর টুইস্ট এবং টার্ণগুলো অস্থির লেগেছে । কাহিনী কোন জায়গাতেই স্লো হয়ে যায়নি । আকর্ষন পুরোদমে ধরে রাখতে পেরেছে । তো অপেক্ষা কেন , পড়ে ফেলুন ৩৬চ্যাপ্টারের মাঙ্গাটি । আশা করি ভালো লাগবে !
Reading link :http://kissmanga.com/Manga/Heads
আমার রেটিং :৮.৫/১০

Heads 1 Heads 2