Hotarubi no Mori e [মুভি রিভিউ] — নাফিস মুহাইমিন

ছোট্ট হোতারু বনে হারিয়ে গেছে, বাড়ি ফেরার কোনো উপায় পায় না। কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। হঠাৎই আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একজন, মুখ ঢাকা মুখোশে। নাম গিন।

গল্পটা কোনো এক গ্রীষ্মকালের। সে’বার হোতারুকে বাড়ি যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছিল গিনই। ভালো বন্ধু হয়ে যায় তারা।

মজার ব্যাপার হলো, গিনকে স্পর্শ করা যায় না। কোনো মানবসন্তান যদি ওকে ছুঁয়ে দেয় তাহলে ও অবলিটারেটেড হয়ে যাবে।

Hotarubi no Mori e

Title: Hotarubi no Mori e (蛍火の杜へ)
Alternative Title: Into the Forest of Fireflies’ Light
Release Date: September 17, 2011
Director: Takahiro Omori
Music: Makoto Yoshimori
MAL: 8.63 (http://myanimelist.net/anime/10408/Hotarubi_no_Mori_e)
Running Time: 44 min
Genre: Romance, Supranatural, Drama
Studio: Brain’s Base

কিছুটা অটোকনক্লুসিভ এই মুভির সোর্স হলো ইয়ুকি মিদোরিকাওয়ার সেম টাইটেল্ড ওয়ান-শট ম্যাঙ্গা। গল্পের সাথে রিলেটেড কীপসেক এডিশন ম্যাঙ্গাও রিলিজ পেয়েছিল যদিও। যারা ম্যাঙ্গাকাকে চেনেন না, তাদের বলি, নাতসুমে ইয়ুজিনচৌ – এর স্রষ্টা তিনি। মুভিটা যথেষ্ট প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয় দেশে বিদেশে। গল্পের সেটিং ছিল জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারের কামিশিকিমি কুমানোয়মাসু শ্রাইন।

জাপানীজ ফোকলোর, মিথোলজি বা ফ্যান্টাসির গল্পে অ্যাডাপ্টেশন খুব বিরল কিছু না। হোতারুর পারসপেক্টিভ থেকে বলতে চাওয়া গল্পতে মানুষ এবং অতিপ্রাকৃত সত্তার সম্পর্ক উঠে এসেছে। আর্টওয়ার্ক যথেষ্ট ভালো। রং ব্যবহারে কোমলতা, আলোর প্রাচুর্য চোখে পড়ার মতো। এবং সব ফিগারই চমৎকারভাবে ডিটেইলড ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্রেইন’স বেস তাদের অ্যাবিলিটি দেখিয়েছে বটে। অ্যানিমেশন ক্রুরা মুভিটা তৈরির পেছনে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে। ছোট ব্যাপ্তির এই মুভির কাহিনীতে দর্শক ডুবে যায়, বশীভূত হয় আবেগের। মুভিতে পুরোটা সময় জুড়ে একটা সারল্য বিরাজ করে। হায়াও মিয়াজাকি বা মাকোতো শিনকাইয়ের কাজ যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পারবেন। সেইয়ুদের কাজও চমৎকার হয়েছে। হোতারুর ভয়েস দিয়েছে আয়ানে সাকুরা, গিনের কোউকি উচিইয়ামা।

সাউন্ডট্র্যাক খুবই ইনটেন্স। এক একটা দৃশ্যের সাথে এর মিউজিক যে প্রণোদনা সৃষ্টি করে তা লিখে বোঝানো সম্ভব হবে না কখনোই। এন্ডিং সংটা মনে দাগ কেটে যায়। মেলানকোলিক আবহে ইনস্ট্রুমেন্ট প্লেয়িং — লিরিক্যাল থিমকে রিফ্লেক্ট করেই তা করা। ট্র্যাকটা শুনতে শুনতে ঘণ্টার পর ঘন্টা পার করেছি। শিজুরু য়ুকাতার গাওয়া “Natsu wo Miteita” ঠিক এতটাই প্রিয়। গল্পের প্রগ্রেশনের সাথে সাথে পিয়ানো আর ভায়োলিনের শব্দব্যঞ্জনা আচ্ছন্ন করে রাখে দর্শককে। কাহিনীর সারল্য, উত্তেজনাশূন্য শান্ত সময়কে ডিপিক্ট করতে বা রোমান্টিসিজমে — হোতারুবি নো মোরি এর সাউন্ডট্র্যাক অসম্ভব ব্রিলিয়্যান্ট কিছু কাজের একটি। ব্যাকগ্রাউন্ডে যখন “Kanakana Shigure” প্লে হচ্ছিল, আবেগে, অবসন্নতায় চোখ বুজে ফেলেছিলাম।

কাহিনীর প্রাঞ্জলতা একটা রিফ্রেশিং ভাব তৈরি করে। মুভিটা দেখতে বসে রিল্যাক্সড ফিলিংস চলে আসাটা অসম্ভব কিছু না। এই মুভির একটাই নেগেটিভিটি — শর্ট লেন্থ।

আর কোনো মুভিতে নায়িকা মনে হয় না এতবার ধপাস করে পড়ে গেছে, রেকর্ড বটে! রোমান্স জনরাতে খুব প্রিয় কিছু মুভির মাঝে এটা একটা। এতটা ভালোলাগা আর কখনোই কাজ করেনি।

কেউ কাউকে ছুঁয়েছে কি ছোঁয়নি, গল্পটা আমাকে ছুঁয়ে গেছে, চেতনার গভীরে।

Comments