Hyouka (2012) রিভিউ :
“I don’t do anything I don’t have to. What I have to do, I do quickly.”
মনে হয় আমরা সবাই কম বেশি এই উক্তির সাথে পরিচিত এবং আমরা অনেকেই হোতারুর এই অমর বাক্যের সাথে ‘লাইকের সহিত একমত’ । হিওকা এমন এক ধরনের এনিমে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছে। স্লাইস অফ লাইফ জানরার হাতে গোনা যে কয়েকটি এনিমে ভালো লেগেছে তার মাঝে হিওকা সম্ভবত চিরস্থায়ী।
-“কি কারণে হিওকা দেখব?”
ওয়েল….হিওকা মূলত মিস্ট্রি/ স্লাইস অফ লাইফ জানরার আনিমে। যার প্রায় সবটুকু স্কুল কেন্দ্রিক। নিউ ইয়ার ফেস্টিভাল, কিমোনো, চেরিব্লসম, হটস্প্রিং, স্কুল ফেস্টিভালের মত ক্লিশে কন্টেন্ট থাকা সত্ত্বেও প্রতেকটি এলিমেন্টের সদ্ব্যবহার করে পেসিং ধরে রেখে একের পর এক বুদ্ধির চমক উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে এনিমেটি। তাই কোন ধরনের ফ্যানসার্ভিস ছাড়া, যেকোন বয়সের উপযোগী ২২ এপিসোডের এনিমেটি অবসরে দেখতে আশা করি মোটেও খারাপ লাগবে না।
Synopsis : কামিয়ামা হাই স্কুলের ছাত্র ওরেকি হোতারু বড়ই কর্মবিমুখ। তার মতে, হাই স্কুলের জীবনকে সবাই চেরিব্লসমের মত গোলাপী মনে করে। তারুণ্য আর উদ্যমের প্রতীক। কিন্তু হোতারু নিজেকে ধুসর বলে দাবী করে। ফলে স্কুলের এত্তগুলো ক্লাব থাকা সত্ত্বেও কোন ক্লাবে সে নিজেকে জড়ায় না। কিন্তু হোতারুর শক্তি সঞ্চয় নীতিতে বাধ সাধে বিদেশ থেকে আসা বড় বোনের চিঠি। যাতে হোতারুকে বলা হয় স্কুলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাসিক ক্লাবে যোগ দিতে, যেটা নাকি বর্তমানে সদস্যের অভাবে মরণাপন্ন। হোতারুর বড় বোনও সেই ক্লাবের সদস্য ছিল। তাই বোনের নির্দেশ রক্ষা করতে হোতারু বাধ্য হয় ক্লাসিক ক্লাবে যোগ দিতে। তার সাথে যোগ দেয় তারই পুরানো বন্ধু, ফুকুবে সাতোশি।ক্লাবে পরিচয় ঘটে বিখ্যাত চিতান্দা পরিবারের চিতান্দা এরুর সাথে। পরে ক্লাবে যোগ দেয় ইবারা মায়াকা। যার সাথে আবার হোতারুর ঠান্ডা সম্পর্ক। তো এই চারজনের কল্যাণে ক্লাসিক লিটারেচার ক্লাব গতি পায়। ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে নানা ধরনের হেঁয়ালী আর রহস্যের সম্মুখীন হয় হোতারু বাহিনী। যার মাঝে আবার দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ মানুষের নানা ধরনের অদ্ভুত ঘটনা স্থান পায়। হোতারু কি তার শক্তি সঞ্চয় নীতি ধরে রাখতে পারে? নাকি বন্ধুত্বের খাতিরে হার মানে? এই এক দ্বন্দ তৈরী করে কাহিনী এগিয়ে যায়।
Theme setup, Animation and Music : কিয়োটো এনিমেশনের কাজ। এনিমেশনে তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। জাপানের গ্রাম ও প্রকৃতি নান্দনিক ভাবে উপস্থাপন করছে। ডেপথ অফ ফিল্ডের ব্যবহার বেশ কার্যকরী ছিল। তারা যেভাবে আলো ছায়া তুলে ধরেছে আর ফ্লুইড ক্যারেক্টার মুভমেন্ট তৈরী করেছে, তাতে এনিমেশন যেন প্রাণ পেয়েছে । ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকেও বেশ দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কল্যাণে চমৎকারভাবে সাসপেন্সের আবহ তৈরী হয়েছে। বিটোভেন আর ব্যাচের ক্লাসিকাল মিউজিক (cello suite no.1, prelude) সিনগুলোর সাথে খুব ভালোভাবে মিলে গেছে।
Characters Setup : গল্পের প্রধান চরিত্র হোতারুর উপর ফোকাসটা একটু বেশি ছিল। গম্ভীর চেহারার শক্তিসঞ্চয়ী হোতারুর নিজের অজান্তেই খোলস থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারটি দর্শকদের জন্য বেশ উপভোগ্য ছিল। হোতারুর বন্ধু সাতোশি হল হাসিখুশি, ইজিগোয়িং, অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভাণ্ডার। নিজেকে ‘ডাটাবেজ’ বলে দাবী করে। সম্পদশালী চিতান্দা পরিবারের মেয়ে চিতান্দা এরু মারাত্মক কৈতুহলী। চোখ বড় বড় করে যখন সে হোতারুকে বলে, “ওয়াতাশি কিনিনারিমাস!”, তখন হোতারু শক্তি খরচে বাধ্য হয়। ইবারা মায়াকা ছোট খাটো গড়নের সহজ সরল মেয়ে। যদিও সে নিজে, ও সবার উপর খানিকটা কঠোর। দিনশেষে, ক্লাসিক ক্লাবের এই চতুষ্টয় বেশ কর্মঠ, ক্লাবের জন্য নিবেদিত প্রাণ। আর হ্যা…হোতারুর বড় বোনের চেহারা কোন এক অজানা কারণে ঢেকে রাখা হয়। রহস্যের এনিমেতে এমন রহস্য তো থাকতেই পারে!
Overall Rating : MyAnimeList.net Rating : 8.20
IMDb Rating : 7.9
OST : https://goo.gl/MUt7f6

