JoJo’s Bizarre Adventure: Stardust Crusaders [এনিমে রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
JoJo’s Bizarre Adventure: Stardust Crusaders
জনরাঃ অ্যাকশান, অ্যাডভেনচার, শৌনেন
এপিসোডঃ ৪৮ (২৪+২৪)
স্টুডিওঃ David Production
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ১ম সিজন (৮.২৩), ২য় সিজন (৮.৬২)
পার্সোনাল রেটিংঃ ৯/১০

JoJo

JoJo’s Bizarre Adventure সিরিজের তৃতীয় পার্ট হল Stardust Crusaders। প্রথম দুই পার্টের সূত্র ধরেই Stardust Crusaders এর কাহিনী শুরু। তাই এনিমের প্রথম সিরিজের কাহিনী টেনে না এনে সরাসরি Stardust Crusaders কাহিনী ব্যাখ্যা করছি।

যারা জোজোর প্রথম দুই পার্ট দেখেছেন তাদের নিশ্চয়ই ডিয়োর কথা মনে আছে। হ্যাঁ, সেই ডিয়োই ঠিক ১০০ বছর পর জোনাথান জোস্টারের শরীর নিয়ে জেগে উঠেছে। আর এই ডিয়োর বিরদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জোসেফ জোস্টার তার একমাত্র পৌত্র কুজো জৌতারোর সাহায্য নিতে জাপানে আগমন করে। ততদিনে জোজো পরিবারের বংশধররা ‘স্ট্যান্ড’ ইউজারে পরিণত হয়েছে। আর তার সূত্র ধরেই জৌতারোর মাও ‘স্ট্যান্ড’ ইউজার হয়ার হাত থেকে রক্ষা পাইনি। ‘স্ট্যান্ড’ এর আবির্ভাব হয়ার সাথে সাথেই জৌতারোর মা ডিয়োর অভিশাপের কারণে এমন এক অসুখের স্বীকার হয় যা তাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়। এখন উপায়?! একটাই উপায়; আর তা হল ডিয়োর বিরুদ্ধে লড়ে তাকে হত্যা করা। আর সেই উদ্দেশেই জৌতারো কুজো তার দাদা জোসেফ জোস্টারের সাথে তার সঙ্গীদের নিয়ে রওনা হয় মিশরের উদ্দেশ্যে। আর এখান থেকেই শুরু হয় Stardust Crusaders এর যাত্রা।

এখন প্রশ্ন হল ‘স্ট্যান্ড’ কি? স্ট্যান্ড হল একধরণের ইউনিক স্পিরিট যা যে কোন মানুষ নিজেকে রক্ষা করতে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে কিংবা অন্যকোন কাজে ব্যাবহার করতে পারে। আর যারা স্ট্যান্ড ব্যাবহার করতে পারে তারা ‘স্ট্যান্ড ইউজার’ হিসেবে পরিচিত। এই স্ট্যান্ডের অরিজিন নিয়ে Stardust Crusaders-এ আর কিছু ব্যাখ্যা করা হয়নি; পরবর্তী পার্টের কাহিনী সম্পর্কে কিছু না জেনে তাই আর কিছু বলতে পারছি না।

জোজোর আগের পার্ট দুইটা যারা দেখেছেন তারা জানেনই জোজো সিরিজ কেমন। জোজোর ক্যারেক্টারগুলো খুব সিম্পলিস্টিক এবং কাহিনীও অনেকটা সরল প্রকৃতির। কিন্তু তারপরেও জোজো এত ভাল লাগার কারণ কি?! ভাল লাগার অনেক কারণই আছে। প্রথমত, জোজোর ক্যারেক্টারগুলো সিম্পলিস্টিক হলেও বেশ ইন্টারেস্টিং। দেখতে দেখতে কখন যে আপনার ক্যারেক্টারগুলো আপনার ভাল লেগে যাবে টেরই পাবেন না। এছাড়া তাদের যাত্রাপথে বাধা অতিক্রম করার জন্য লড়াই করতে হয় বিভিন্ন স্ট্যান্ড উইজারদের সাথে। আর প্রতিটি লড়াই অনেক উপভোগ্য। এছাড়া কমেডিকাল মোমেন্টেরও অভাব নেই। জোজো দেখার সময় যে কতবার হাসছি তারও ঠিক নেই। আর জোজোর যে জিনিসটি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে আর তা হল ‘ইন্টেনস মোমেন্ট’ ক্রিয়েট করা। কিভাবে তারা এক একটি বাধা অতক্রম করবে তা কিছুতেই বলা যাবে না। সময় সময় আপনার মনে হবে “এখন উপায়?!”, “কিভাবে সম্ভব?!” এরকম ধরণের যতসব প্রশ্ন। কিন্তু আপনার সকল প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে আপনাকে এমন এক টুইস্ট উপস্থাপন করবে তাতে আপনি না চমকে বসে থাকতে পারবেন না। এমনকি আপনিও মাঝে মাঝে জোসেফ জোস্টারের মতো “Ohhh my god!!” বলে বসতে পারেন। এছাড়া জোজোতে রয়েছে রক্তগরম করা অনেক ‘হিরোয়িক মোমেন্ট’। সাথে আছে চমৎকার চমৎকার কিছু সাউন্ডট্র্যাক। আর মেইন ভিলেন হিসেবে ডিয়ো কিন্তু খুবই ইন্টারেস্টিং একজন চরিত্র। আবার মেইন প্রোটাগনিস্ট হিসেবে জৌতারোর কোনভাবেই ডিয়োর থেকে পিছিয়ে নেই। বরং অন্যান্য জোজোদের তুলনায় জৌতারো বেশি ভায়োলেন্ট। সবমিলিয়ে বলা যায়, যেকোনো অ্যাকশানপ্রেমিক এনিমেভক্তদের জোজো অবশ্যই দেখা উচিত।

জোজোর আর্টস্টাইল অন্যান্য এনিমের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রম। লোকজন সাধারণত জোজোর আর্টস্টাইলকে ‘ম্যানলি আর্টস্টাইল’ বলে। মূলত জোজোর মাঙ্গাকা Hirohiko Araki-র আর্টস্টাইল এনিমেতে ফলো করা করা হয়েছে। অনেকেই হয়ত এই ‘ম্যানলি আর্টস্টাইল’ এর জন্য জোজো দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। কিন্তু কয়েক এপিসোড দেখার ট্রাই করলে আপনার কাছে আর্টটা একসময় মানানসই হয়ে যাবে। তাই ভুলেও আর্টের কারণ দেখিয়ে জোজো দেখা ড্রপ মারবেন না।

এখন পর্যন্ত জোজোতে আমার দেখা সেরা পার্ট হল Stardust Crusaders। বিশেষ করে ২য় সিজনের থ্রিলিং মোমেন্ট আর এক একটা ব্যাটেল ছিল সেই জোশ। আর এন্ডিংও অসাধরণ। তাই দেরি না করে হাতে সময় থাকলে জোজো Stardust Crusaders দেখতে বসে জান। তবে অবশ্যই আগে প্রথম পার্টগুলো দেখে নিবেন। আশা করি রিভিউটি পড়ে ভাল লেগেছে এবং আপনিও জোজো দেখার সময় বেশ উপভোগ করবেন।

Comments

comments