Kimetsu no Yaiba [রিয়্যাকশন/সাজেশন] — Shifat Mohiuddin

KnY 1

সত্যি বলতে এই সিজনে এই এনিমেটা যে বের হচ্ছে তা আমি জেনেছি অনেক পরে। AOT আর OPM এর উপরেই মনযোগটা নিবদ্ধ ছিল বেশী, সিজনের নতুন জিনিস হিসেবে কোন এক কারণে Fairy Gone ই দেখছিলাম শুধু। কারণ ছিল ইন্টারনেট হাইপ আর শিল্প বিপ্লব পরবর্তী ঘরানার পটভূমি। অথচ যে কয়টা পর্বই দেখলাম আপাতত, ফেয়ারি গন পুরোই হতাশ করছে আমাকে এপর্যন্ত। তখনই আসলে কিমেতসু নো ইয়াইবা নিয়ে গ্রুপের বিভিন্ন পোস্ট বিশেষ করে গ্রুপের কাভার ফটোর সুন্দর পোস্টটা চোখে পড়লো। সেখান থেকেই জানতে পারলাম এনিমেটা ইউফোটেবলের, আমি মোটামুটি ইউফোটেবলের ফ্যানবয় হিসেবেই দাবী করি নিজেকে, এখন এত বড় খবর মিস হয়ে যাওয়ায় নিজের কাছে নিজেরই লজ্জায় মাথা কাটায় যোগাড়!

তো প্রথম পর্বটা প্লে করার সাথে সাথেই হুকড হয়ে গেলাম বরফে আচ্ছাদিত ল্যান্ডস্কেপ দেখে। তাতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখতে অসাধারণ সুন্দর দেখাচ্ছিল যদিও মনে মনে বিশাল অমঙ্গলের আশা করছিলাম। শেষমেশ কী যে বিশাল অমঙ্গল হয়েছে তা তো দর্শকদের সবার জানাই! তারপর বলতে গেলে একটানেই দশটা পর্ব দেখে ফেললাম। সেই ডিসেম্বরে গুরেন লাগান দেখার পর আর কোন এনিমে এভাবে একটানা দেখতে পারি নি। সে হিসেবে জিনিসটা খুব স্বস্তির ছিল, ভয় পাচ্ছিলাম যে এনিমের প্রতি আগের সেই অনুরাগ হারিয়ে ফেলছি বুঝি।

তো এনিমেটার যেসব জিনিস ভাল লেগেছে তা সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরছি:

প্রথমেই এনিমের শুরুটা, প্রথম পর্বেই যথেষ্ট পরিমাণে ভায়োলেন্স আর গোর দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে এনিমেটা ডার্ক ফ্যান্টাসি ঘরানার। এটাতে যে দর্শকদের অনেক আশার প্রতিফলন হবে না তাও যেন জানান দেয়া হল। প্রথম পর্ব হিসেবে যথেষ্ট ক্লাইমেটিক ছিল যা দর্শকদের এনিমেটা আরো দেখাতে আগ্রহী করেছে বলতেই হবে।

দ্বিতীয়ত ইউফোটেবলের অসাধারণ ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের কাজ। বিশেষ করে তানজিরোর মুভমেন্টের সাবলীলতা। জানি না কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ফ্লুয়েন্সিটা আনা হয়, সম্ভবত মোশন সেন্সর জাতীয় কিছু দিয়ে। এ ঘরানার ফ্লুয়েন্ট মুভমেন্ট দেখেছিলাম Kara no Kyoukai সিরিজের মুভিগুলাতে। সবার নিশ্চয়ই শিকির করিডোর ফাইটের কথা মনে আছে! তানজিরোর থ্রি ডাইমেনশনাল নাড়াচাড়ার সাবলীলতা মুগ্ধ করার মত। অন্যকোন স্টুডিও হলে নিশ্চিত ভজকট পাকিয়ে ফেলতো, ভিডিও গেইম অ্যাডাপ্টেশনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ইউফোটেবলকে এখানে অনেক সাহায্য করেছে মনে করি।

KnY 2

আরেকটা ভাল লাগা ছিল এনিমেতে সুন্দর সিজিআইয়ের ব্যবহার। সাথে সাথে এটাও স্বস্তিদায়ক ছিল মানুষ ও বিশেষ করে ডিমনগুলাকে পরিশ্রম বাঁচানোর জন্য সিজিআই দিয়ে অ্যানিমেট না করাটা! আসলে চলন্ত আর নাড়াচাড়া করা জিনিস অ্যানিমেট করার বেলায় হাতে আঁকা ফ্রেমই এখনো শ্রেষ্ঠ। অথচ সেই জায়গায় ফেয়ারি গনের ফেয়ারিগুলাকে সিজি দিয়ে বীভৎস বানানো হয়েছে।  ইউফোটেবল খুব বুদ্ধিমানের মত অন্ধকার জঙ্গল, গাছপালা, বাড়িঘর ইত্যাদিকেই শুধু সিজি দিয়ে তৈরি করেছে। আর আমরা তো সবাইই জানি ইউফোটেবল রাতের দৃশ্য বানানোর ওস্তাদ! (UBW দ্রষ্টব্য) সেই হিসেবে KNY এনিমেটার বলতে গেলে সব মেজর দৃশ্যই রাতে, (যেহেতু শুধু রাতের বেলাতেই ডিমন আসে) ইউফোটেবলের অ্যাডাপ্ট করার জন্য একেবারে পারফেক্ট এনিমে ছিল এটা।

এনিমেটার স্টোরি আর ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়েরও প্রশংসা করতে হবে। নেজুকোকে ডিমন বানানোর কারিগরকে বেশ তাড়াতাড়ি স্টোরিতে দেখানোটা খুব ভাল হয়েছে আমার মতে। আবার এটাও জানান দেয়া হয়েছে যে তার বারোজন ঘনিষ্ঠ সহচরও আছে, মানে তাদের মুখোমুখি না হওয়ার আগ পর্যন্ত বস ফাইট হবে না। আবার Demon Slayer Corps. এর অর্ডারেরও বেশী কিছু খোলাসা করা হয়নি। তারমানে অনেক চমকপ্রদ জিনিস এখনো আছে মাঙ্গাকার ঝুলিতে। শুধু নেজুকোকে নিয়ে তানজিরোর একা একা জার্নি করাটাই ভাল লাগছে বেশী আপাতত। শীঘ্রই মনে হয় কমরেড পেতে যাচ্ছে তানজিরো, দেখি তারা কেমন ক্যারেকটার হয়।

এনিমেটাতে যথেষ্ট শৌনেন এলিমেন্ট আছে। যেমন পাওয়ারের নাম মুখে এনে পাওয়ার ব্যবহার করা ইত্যাদি। তানজিরোর সোর্ডের স্কিলগুলা দেখার মত। ওর সোর্ডের পানির যে অ্যানিমেশন সেরকম অ্যানিমেশন আমি এর আগে দেখি না কোনখানে। দারুণ অ্যাস্থেটিক স্কিলগুলা আর নামগুলাও খুব সুন্দর। তানজিরো একদমই মাথা গরম ঘরানার প্রোটাগনিস্ট না, সেটা আরো বড় স্বস্তির। আর তার পাওয়ারফুল হওয়ার কাজটাও হচ্ছে ধীরে ধীরে, আশা করি এই মাঙ্গার মাঙ্গাকা হুটহাট পাওয়ার বাড়ানোর ভুলটা করবেন না। (যেটা নারুতোসহ অনেক ভাল শৌনেন মাঙ্গার বিশাল একটা সমস্যা ছিল।)

এই এনিমের আরেকটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর মিউজিক, শুনেই বুঝেছিলাম কাজিউরা ইউকির কাজ! বিশেষ করে ডিমন আসার ক্রিটিকাল মোমেন্টে যে অশরীরী choir টা বাজে সেটা পুরোই গায়ের লোম দাঁড় করিয়ে দেয়। এই মিউজিকটা আবার প্রতি পর্বের নাম দেখানোর জায়গাটাতেও দেয়া হয় যেটা দারুণ একটা ভৌতিক আবহ তৈরি করে। প্রতিটা পর্বের নাম যে ক্যানভাসের উপর স্ক্রিপ্ট আকারে আসে সেই জিনিসটাও ভাল লাগে, এনিমেটা যে সম্রাট হিরাহিতো আমলের পটভূমিতে রচিত তা টের পাওয়া যায়।

শেষমেশ এনিমেটার এন্ডিং সংয়ের পর যে ফান সেগমেন্টটা হয় সেটা অনেক প্রশান্তি দেয়। পুরো পর্বের ভয়ানক ভয়ানক ঘটনার পর যখন নেজুকোর মৃদু মৃদু কণ্ঠস্বর শুনি তখন আসলে মন ভাল না হয়ে উপায় থাকে না।

KnY 3

Comments

comments