গল্পের নামঃ কিমেতসু নো ইয়্যাইবা ( ডিম্যান স্লেয়ার)
শ্রেষ্ঠাংশেঃ কয়লা বিক্রেতা তাঞ্জিরো কামাদো, তাঞ্জিরোর আদরের ছোট বোন নেযুকো, পিশাচদেব মাইকেল জ্যাকশন ওরফে মুযান কিবুতশুশি ও প্রমুখ।
কাহিনিঃ কয়লা বেঁচে মোটামোটি দিন চলে যাচ্ছিল তাঞ্জিরো ও তার পরিবারের। কিন্তু কোন পিশাচের জানি ক্যাড়া উঠসিল, সহ্য হইচ্চিল নাহ তাঞ্জিরোর পরিবারের সুখ দেখতে, এক রাত্রে এসে খতম করে দিয়ে গেল পুরো পরিবারকে। ওহ আচ্ছা, তাঞ্জিরো সেদিন আবার কোন এক গ্রামে গেছে কয়লা বেঁচতে, এসে দেখে এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। এদিকে পুরো পরিবার ইন্তেকাল করলেও দেখা যায় তাঞ্জিরোর ছোট বোন নেযুকো, মৃত্যুর পরিবর্তে পিশাচ এ পরিণত হইছে কিন্তু এখানেও আবার আরেক জিলাপির প্যাঁচ, বেঁচে থাকা বড় ভাইয়ের প্রতি মায়ার টান আর পরিবারের মর্মান্তিক পরিনাম ভুলতে নাহ পেরে পিশাচ হয়েও কিছুটা মনুষ্যত্ব নিজের মধ্যে ধরে রাখতে পারছে; আচ্চা বড়ই ভাল কথা। এদিকে তাঞ্জিরোর তখন মাথা খারাপ অবস্থা, পরিবার হারায়ে এই বোনরে নিয়ে কেমনে কি করবে কিছুই বুঝতে পারতেছে নাহ। পরে, পিশাচ নিধন করে বেড়ায় এমন এক কোম্পানির বড় ভাইয়ের রেফারেন্সে, পিশাচঘাতক পদে চাকুরী নেয় তাঞ্জিরো। সেইখানেই সেই বড় ভাইয়েরই প্রাক্তন বসের কাছে তাঞ্জিরো জানতে পারে যে ওর পরিবার আর নেযুকোর এই পরিণতির পিছে হাত থাকার ষোলআনা সম্ভাবনা আছে পিশাচদেব মাইকেল জ্যাকশন ও তার কোম্পানির। সাথে সাথে তাঞ্জিরো ঠিক করে ফালায় ওর ‘Aim in Life’- বোনের রোগ সারায় তুলার অ্যান্টিবায়োটিক খুজে বের করতে হবে, আর মাইকেল জ্যাকসন ও তার কোম্পানিকে ব্যাবসায়ে লাল বাত্তি দেখানোর ব্যাবস্থা করবে। এই মূলমন্ত্রে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে চাকুরী শুরু করে তাঞ্জিরো। একি টীমে পরে আরও দুইজন সহকর্মী যোগ দেয় তাঞ্জিরোর সাথে।
তো এই হইল এই গল্পের কাহিনী। আর এইটা এনিমেতে রুপ দেবার দায়িত্ব নিছে ফেট সিরিজ ভাঙ্গায় খাওয়া Studio Ufotable. কুনো একটা ফেট যদি দেখে থাকেন, তাইলে নিশ্চয় বুঝতেই পারতেছেন অতিযত্ন সহকারে পুরো এনিমেটা বানাচ্ছে Ufotable. ব্যাকগ্রাউন্ড সিনসিনারি, অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স থেকে শুরু করে সাউন্ডট্র্যাক বলেন, সব কিছুই এতো নিখুঁত, দেখলে চোখ, কান, দিল সব জুড়ায়ে যাবে। এখন কথা হচ্ছে Ufotable হঠাৎ শৌনেন জাম্প সিরিজের দিকে হাত বাড়াইল কেন? সোজাসাপ্টা উত্তর হচ্ছে এই মাঙ্গার ঐতিহাসিক পটভূমি, কাহিনী, মাঙ্গার ইউনিক আর্টস্টাইল সবকিছু বিবেচনা করে স্টুডিয়োর মনে হইছে এই সিরিজ তাদের সাথে যায়। আরও সোজা উত্তর হচ্ছে- এখন মোটামোটি সব নামকরা স্টুডিও যখন একটা/ দুইটা করে শৌনেন জাম্পের সিরিজ বাগায় নিচ্ছে তখন Ufotable এর মতন বনেদি স্টুডিওই বা কেন পিছায়ে থাকবে? সারাজীবন গেম বেসড এনিমে বানায়লে চলবে? অন্যদিকেও তো একটু মনোযোগ দেওয়া লাগে মাঝেমধ্যে, আর তাছাড়া শৌনেন জাম্পের একটা সিরিজের মাধ্যমে চারিপাশ থেকে বিভিন্ন পন্থায় ট্যাকা আসতেই থাকে, এগুলা কি মিস করা যায়?
যাইহোক, কথা হচ্ছে আপনি যদি শৌনেনভক্ত হয়ে থাকেন, শুরু করে দেন এটা দেখা, কারন দিনশেষে নেযুকো Best Girl!!

