Kokkoku [রিকমেন্ডেশন] — Towhid Chowdhury Faiaz

Kokkoku

এই এনিমেটির নাম এনিমে কমিউনিটির সবারই কমবেশি জানা আছে এবং এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এর এনিমে ওপেনিং। এই এক এনিমে ওপেনিং পুরো কমিউনিটিতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। ট্যাঙ্ক এবং এ ক্রুয়েল এঞ্জেলস থিসিসের পরে এই প্রথম মনে হয় আমি কোনো এনিমের ওপেনিং স্কিপ করিনি একবারও। কিন্তু খালি ওপেনিং ভালো হলেই সব হয় না। যদিও এনিমেটাকে চমৎকার কিংবা অসাধারণ বলা যাবে না তাও বলবো এর অসাধারণ কনসেপ্ট,কিছু চমৎকার কাহিনীগত উদ্ঘাটন রয়েছে যা আপনাকে ইমপ্রেস করবে।

কাহিনীটা যদিও অসম্ভব রকমের প্রিটেনশিয়াস এবং সুডো ভিত্তিক বিজ্ঞান কল্পকাহিনী কেন্দ্র করে লেখা।মাত্রই চাকরির এক ইন্টার্ভিউ দিয়ে আসা জুরিকে তার বড় বোন ফোন করে তার বড় বোনের ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসার জন্য বলে।বাসায় এসে জুরি তার বেকার বড় ভাইকে এই কাজে পাঠায়। কিছুক্ষণ পরেই সে একটি ফোনকল পায় যে তার বড়ভাই এবং মাকোতোকে কিডন্যাপ করা হয়েছে এবং তারা টাকা দাবি করে। এরকম সময়ে জুরির দাদা এমন একটি পাথর তাদের দেখায় যার মাধ্যমে সময় আঁটকে রাখা যায় পৃথিবীর। এই সময়ে কেবল যারা পাথরটা ব্যাবহার করেছে তারা ছাড়া অন্য কেউ চলাচল করতে পারবে না এবং তারা পাথরের মতো আঁটকে থাকবে কারণ সময় বন্ধ কিন্তু জুরি তার দাদা এবং বাবা যখন কিডন্যাপারদের হাত থেকে তার বড় ভাই এবং মাকোতোকে উদ্ধার করতে যায় তখন দেখে কিডন্যাপাররাও তাদের মতো চলাচল করতে পারছে এবং পুরো কিডন্যাপটাই একটা ট্র্যাপ ছিলো তাদের কাছ থেকে সেই বিশেষ পাথরটা নেবার জন্যই।এখান থেকেই শুরু হয় কক্কোকু এনিমের মূল কাহিনী। সিরিজের পুরোটা সময়ই তারা এই সময় থেমে থাকা স্ট্যানিস নামক এই পৃথিবীতে আটকিয়ে থাকে এবং বের হবার চেষ্টা করে।

সিরিজটা দেখে আমার নিকোলাস কেজের Knowing সিনেমাটার কথা মনে পড়ে গেলো। ওই সিনেমাটার সবই ঠিক থাকলেও শেষটা খুবই উদ্ভট এবং আধ্যাত্মিক রকমের ছিলো। কাহিনীগত দিক দিয়ে কক্কোকু এবং নোয়িং এর মিল না থাকলেও কাহিনীর সমাপ্তির প্রতি আমার মনোভাবটা একই।এন্ডিংটা একটু বেশি আধ্যাত্মিক হয়ে গেছে তা ছাড়া বাকি সবই ঠিক ছিলো।

সব মিলিয়ে এনিমেটা ভালোই। খুবই ভিন্নধর্মী একটি কনসেপ্ট এবং মোটামোটি ভালোই এক্সিকিউশন ছিলো ওই কনসেপ্টের। একটু ভিন্নধর্মী সাইয়েন্স ফিকশন কিংবা সুডো সাই-ফাই এর প্রতি আকর্ষণ থাকলে এটা রেকোমেন্ডেড।

Comments

comments