Kyousou Giga (TV) 2013 রিভিউ — Fahim Bin Selim

 

giga

কিয়োসৌগিগা(২০১৩) [Kyousou Giga(TV) 2013]
পর্বঃ ১০(+২+১)
জনরাঃ ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন, সুপারন্যাচারাল
প্রযোজকঃ তোয়েই অ্যানিমেশন
মূলঃ মারুও মিহো
পরিচালকঃ রিয়ে মাতসুমোতো
থিমঃ ফ্যামিলী, লোকগাথা, প্যারালাল ইউনিভার্স
মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.০২(#৪৭৩)

আপনি যদি কিয়োটো যান তাহলে সেখানে উমেগাহাতা তোগানোচোতে কৌযানজি(Kouzanji) বৌদ্ধ মন্দির এর দেখা পাবেন। পুরোহিত মিওয়ে-এর হাতে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির জাপানের অন্যতম সুন্দর দর্শনীয় স্থানই না, এর মহাত্ব্য সাংস্কৃতিকভাবেও অমূল্য। এর ভেতরে গেলে আপনি দেখবেন চারটি স্ক্রোলের সমন্বয়ে তৈরি একটি চিত্রপুস্তক। যাতে আছে ব্যাং-এর ছবি, খরগোশের ছবি, আর বানরের ছবি। এর নাম চৌজুগিগা(Choujuu Giga)। আর এই চৌজুগিগাই হল ইতিহাসের সর্বপ্রথম “মাঙ্গা”।

২০১১ সালে কোদোচা(Kodocha), কালারফুল(Colorful), স্কুল রাম্বল(School Rumble)-খ্যাত চিত্রনাট্যলেখিকা মারুও মিহো(Maruo Miho) চৌজুগিগার ছবিগুলো নিয়েই ফেঁদে বসলেন একটি গল্প, ২৫ মিনিটের ওভিএ। তোয়েই অ্যানিমেশনের প্রযোজনায়, নবাগত রিয়ে মাৎসুমোতোর(Rie Matsumoto) পরিচালনায় – কিয়োসৌগিগা(Kyousou Giga)। পরের বছর ১০ মিনিটের আরো ছয়টি পর্বের সিকুয়েল। আর সম্পূর্ণ গল্প নিয়ে অবশেষে ২০১৩ সালে ১০ পর্বের অ্যানিমে টিভি সিরিজ।

“Once when many planets intermingled and the boundary between human and Gods was vague, this is a story about a particular family, a tale of love and rebirth”

কিয়োটোর(Kyoto) এক কোনায় কৌযানজি মন্দির। আর তার ভেতর গুপ্ত আরেকটি শহর, “মিরর ক্যাপিটাল(Mirror Capital)”(জাপানীতে কিয়োটো, একই উচ্চারন, ভিন্ন কানজি)। কিয়োটোতে মানুষ বাস করে, ইয়োকাইরা বাস করে। আর কেউ কখনো মারা যায় না। আর এখানে নতুন কেউ প্রবেশ করতে পারে না। আর পারে না কেউ বের হতে। আর এখানে কোন কিছু ভেঙ্গে গেলে তা আপনাআপনি আবার জোড়া লেগে যায়। এই মনোমুগ্ধকর জগতের দেখভাল করার দায়িত্ব তিন ভাইবোনের উপর বর্তানো, দ্য কাউন্সিল অফ থ্রি – বড় ভাই কুরামা(Kurama), তাদের বোন ইয়াসে(Yase) আর সবচেয়ে ছোট ভাই মিওয়ে(Myoue)। যারা আছে তাদের বাবা-মা, প্রিস্ট মিওয়ে(Myoue Jonin) আর লেডি কোতো(Lady Koto)-‘র ফেরার অপেক্ষায়।
অনেক অনেক দিন ধরে কিয়োটো ছিল শান্তিপূর্ণ। অঘটনমুক্ত। ঘটনমুক্ত। অনাকর্ষনীয়।
তারপর একদিন একটি মেয়ে হঠাৎ মাত্রিক বিভেদ ভেঙ্গে চলে আসলো কিয়োটোতে, সাথে তার ছোট দুই ভাই, আ(A)(শুরু) আর উন(Un)(শেষ)। মজার ব্যাপার হল, এই মেয়েটার নামও, যা তাদের মায়ের নাম ছিল, কোতো(Koto)(একই উচ্চারন, ভিন্ন কানজি)। কোতো তার তার বিশাল হাতুড়ি দিয়ে সবকিছু ভেঙ্গে তছনছ করা শুরু করল, কিন্তু সেগুলা আর নতুন করে জোড়া লাগলো না! তারপর একটা বিশাল “মেকা”-র সাথে তুমুল লড়াইয়ে নেমে গেলো!
হঠাৎ করেই কিয়োটোতে একের পর এক ঘটনা ঘটা শুরু করল। অঘটন ঘটা শুরু করল। আর সবকিছু হয়ে উঠল আরো অনেক আকর্ষনীয়।

সিনোপ্সিস নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন প্রয়োজন নেই। প্রথম কয়েক পর্ব দেখার পর কিয়োসৌগিগা বেশ জটিল আর অগোছালো মনে হবে। এর কাহিনী এগুবো অতীত আর বর্তমানে সমান্তরালে। নন-লিনিয়ার ন্যারেটিভ, বুঝতে কষ্ট হওয়ারই কথা। তাই প্রথমে সবকিছু মাথার উপর দিয়ে গেলেও অসুবিধা নেই। সব জটিলতার পেছনে কিয়োসৌগিগার গল্প খুবই সহজ সরল, পারিবারিক ভালোবাসা। এক কোরের অনেক অরিজিনাল অ্যানিমেই ভালো শুরুর পর শেষে প্যাঁচ লাগিয়ে ফেলে বা পেসিং এ গড়বড় হয়ে যায়। মাত্র ১০ পর্বে যেকোন গল্প বলতেই কষ্ট হওয়ার কথা। তার উপর এই অ্যানিমের মত একটা গল্প। কিন্তু বিষ্ময়করভাবে শুধু ১০ পর্ব ধরে আখ্যানে অসাধারন সমন্বয় দেখানোই নয়, কিয়োসৌগিগা পুরো ১০ পর্ব ধরে দূর্দান্ত পেসিং-এ চলে সবশেষে সন্তোষজনক এক সমাপ্তী উপহার দিবে।
আর অন্যান্য অনেক “ভিজুয়ালি এনটাইসিং” অ্যানিমের মত “স্টাইল ওভার সাবস্টেন্স” না, কিয়োসৌগিগার স্টাইল যত মনোমুগ্ধকর, তার সাবস্টেন্সও ততই চিন্তাদ্দীপক। বিনোদনময়ীও। বেশিরভাগ সময়ই হালকা আবহের, ক্লাইম্যাক্সে কিছুটা ডার্ক, কিন্তু কখনোই সম্পূর্ণ গম্ভীর না।

তোয়েই অ্যানিমেশনের কাছে সাধারনত ভালো প্রোডাকশন ভ্যালু আশা করা যায় না। কিন্তু কিয়োসৌগিগা এর ব্যতীক্রম। প্রথম যে জিনিসটা হয়তো চোখে পরবে তা হল এর অসাধারন ভিজুয়াল, আর্টস্টাইল আর অ্যানিমেশন। রঙ্গিন আর ভাইব্রেন্ট। ফ্লুইড আর ফ্লেক্সিবল। কিয়োসৌগিগা চোখ জুড়ানো, ছবির বইয়ের মত। হাতে আঁকা অ্যানিমেশনের নিঁখুত উদাহরন। আর সাথে আছে এর অসাধারন পরিচালনা। মনে রাখার মত ওপেনিং আর এন্ডিং, এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর ইন্সার্ট সং-এর চমৎকার ব্যবহার। চমকপ্রদ সিনেমাটোগ্রাফি। আর জমকালো, অ্যাড্রেনালীন তুঙ্গস্পর্শী করা সব অ্যাকশন সীন।

একদিক দিয়ে চিন্তা করলে কিয়োসৌগিগা ইতিহাসের প্রথম “মাঙ্গা”-‘র অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন। কিন্তু আসলে কিয়োসৌগিগার চৌজুগিগার প্রাণহীন ছবিগুলোতে প্রাণ দিয়েছে; তার দ্বারা কেবল অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্ম, ইতিহাস আর লোকগাঁথার সমন্বয়ে যে অসাধারন এক গল্প তৈরী করেছে, যে অনন্য একটি জগৎ তৈরি করেছে, তার ভেতরে চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তুলেছে – তা মিহো আর মাতসুমোতো, দুই রমণীর সৃজনশীল কল্পনার এক অনবদ্য উদাহরন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর জন্য একটি করে পর্ব বরাদ্দ করা, তাই প্রথম অংশ এপিসোডিক। তাদের চোখে জগতটা দেখানো, তাদের ভালোলাগা, মূল্যবোধের প্রকাশ; যা দ্বিতীয়াংশে সবগুলো চরিত্রের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের সহায়ক।

এক কথায় বর্ণনা করতে গেলে কিয়োসৌগিগা হল পাগলাটে। এই অ্যানিমে দেখার অভিজ্ঞতার সাথে খুব কম অ্যানিমেরই মিল খুঁজে পাবেন। কিয়োসৌগিগা আমার দেখা অন্যতম সেরা ফ্যান্টাসি অ্যানিমে। (উচুতেন কাযোকুর পাশাপাশি) ২০১৩ সালের সেরা অ্যানিমেও।
কিয়োসৌগিগা হল জাত অ্যানিমেশন। লাইভ অ্যাকশন বা বই – আর কোন বিনোদন মাধ্যমেই যা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হতো না। শুধু “অ্যানিমে” বা “টিভি বিনোদন” না, “অ্যানিমেশন”-এর ভক্ত হলে এখনই দেখতে বসে যান। কিয়োসৌগিগা আপনাকে মুগ্ধ করবে, বারবার মুগ্ধ করবে, অনেকদিন চোখে লেগে থাকবে, মনে গেঁথে থাকবে, আর আবারো মনে করিয়ে দিবে অ্যানিমেশনের সব কিছু যা এই মাধ্যমকে অনন্য আর আলাদা করেছে আর সবকিছু থেকে।

আমার রেটিংঃ ৮৯/১০০

[ বিদ্রঃ যেভাবে দেখবেন –

পর্ব ০০ – প্রথম ওভিএ। প্রথম ৪-৫ পর্বের সামারির মত, একটি নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ন ক্লিফহ্যাঙ্গারে গিয়ে শেষ। অবশ্য প্রথম দেখায় কিছু বুঝার কথা না।
পর্ব ০১-১০ – মূল কাহিনী
পর্ব ৫.৫ – সত্যিকারের কৌযানজি মন্দিরের উপর একটি ডকুমেন্টারি ধাঁচের পর্ব, অ্যানিমের তিন ভয়েস অ্যাকটরের উপস্থাপনায়।
পর্ব ১০.৫ – পুরো কাহিনীর একটি সামারি/রিভিউ ]

Comments

comments