
অ্যানিমে রিভিউঃ মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রাম(২০১১)
পর্বঃ ২৪
প্রযোজকঃ ব্রেইন্স বেস, সেনতাই ফ্রেমওয়ার্কস
জনরাঃ কমেডি, রহস্য, সাইকোলজিকাল, ড্রামা
লেখক ও পরিচালকঃ কুনিহিকো ইকুহারা
ব্যপ্তিঃ ২৪ মিনিট/পর্ব
সেন্সরঃ আর ১৭+ ভায়োলেন্স ও প্রোফ্যানিটি
২০১১-র কথা বললে আপনার কোন অ্যানিমেটার কথা মনে পড়বে? স্টাইন্স;গেট? আনো হানা? মাদোকা ম্যজিকা? অনেকে হয়ত মিরাই নিকির কথাও বলবেন। মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রাম এর কথা কি কারো মাথায় আসবে? অনেকে হয়ত নামটাই আজ প্রথম শুনলেন।
পরিণতি(ফেইট) বলে কী আসলেই কিছু আছে? আপনি জীবনের যাই করেন, শুধু আপনিই নন;আপনার আসেপাশে যা ঘটছে, জগতের সকল সকল ঘটনা, সকল বাছাই(চয়েস) আর তার কার্যকারণের(কনসিকুয়েন্স) সকল সরলরেখাই কি একটি নির্দিষ্ট বিন্দুগামী?
নাকি নিয়তি(ডেসটিনি) বিকৃত করা যায়, বদলানো যায়? চক্রাকারে ফিরে আসা যায় অথবা পালটে দেওয়া যায় গন্তব্য বিন্দুটাই?
শৌমা আর কানবা তাকাকুরা শুধু চেয়েছিল তাদের বোন হিমারির সুস্থতা, যার মৃত্যু কিনা সময়ের ব্যাপারমাত্র। অপেক্ষার দিন গোনা কোন বিকেলে তিন ভাইবোন অ্যাক্যুরিয়ামে ঘুরতে গেলে, এবং বিভিন্ন ঘটনাচক্রে সেখানেই যখন অবশেষে অনিবার্যের মুখোমুখি হতে হল, তখন হিমারির সদ্য কেনা পেঙ্গুইনের হ্যাটটা যেন ত্রানকর্তারুপে হাজির হল। কোন জাদুবলে তাকে মৃত্যু থেকে ফিরিয়ে আনল সেটা। তবে তা কেবলই সাময়িকের জন্য। এবং অবশ্যই শর্তসাপেক্ষে।
শৌমা আর কানবা জানতে পারল যে হিমারিকে বাচিয়ে রাখতে হলে তাদের খুঁজে বের করতে হবে রহস্যময় “পেঙ্গুইনড্রাম”। কিন্তু তারা যা জানে না তা হল – জাপানের পাতালপথে আক্ষরিক ট্রেন যাত্রার পাশাপাশি, তাদের জীবনেরও এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনের এই যাত্রায় তারা মুখোমুখি হবে একটি রহস্যময় ডাইরীর, একেক পর এক অদ্ভুত সব চরিত্র, যাদের প্রত্যেকেরই আছে ভিন্ন ভিন্ন জীবন অভিপ্রায় আর ঘটনাবহুল অতীত। আর তারা এটাও জানে না যে, এসব কিছুর সাথে তাদের অতীতটাও বেশ ভালোভাবে দলা পাকানো।
প্রতিটি দৃশ্যেই(এমনকি ওপেনিং এবং এন্ডিং গান চলার সময়গুলোতেও) লুকিয়ে থাকা ― তার ফোকাসিং, মুভমেন্ট অথবা ব্যাকগ্রাউন্ডের ― হাজারো সাংকেতিক অভিব্যক্তি, ট্রেন যাত্রাগুলো, এমনকি পর্ব বা চরিত্রগুলোর নামও কোন না কোনভাবে মুল আখ্যানের সাথে সম্পর্কযুক্ত কোন অর্থবহন করে। আর এর মুল কাহিনীর কনসেপ্ট, ফেট-ডেসটিনি-স্যাক্রিফাইস আবার দুটি গল্প ― কেনজি মিয়াজাওয়ার “নাইট অন দ্য গ্যালাকটিক রেইলরোড” আর হারুকি মুরাকামির “সুপার-ফ্রগ সেভস টোকিও” দ্বারা অনুপ্রানিত।
এর চমৎকার, দুর্বোধ্য কিন্তু একই সাথে তুলনামুলক “বাস্তবিক”(একই গোত্রীয় ইভাঞ্জেলিয়ওন, এরগো প্রক্সি অথবা সিরিয়াল এক্সপেরিমেন্ট লেইনের তুলনায়) প্লট, অসাধারণ সব চরিত্র, ওপি-ইডি-বিজিএম আর নিখুঁত(অন্তত আমার কাছে) একটা সমাপ্তির পর ― কাহিনী যদিও আপনার মাথার উপর দিয়ে যায় ― রহস্য আর জটিল প্যাচে মোড়ানো কাহিনীর ভক্তদের তবুও ভালো লাগার অনুভুতিটা পাবার কথা।ইভাঞ্জেলিয়ন, প্রক্সি যেখানে ২০ পর্বের আপাত সাজানো গল্প, শেষের দুইতিনটা পর্বে তাসের ঘরের মত দুমড়ে ফেলে, কচি কচি করে কেটে, তা তুলে পুরিয়ে, মাটি চাপা দিয়ে আসে; সেখানে পেঙ্গুইনড্রামের নবম পর্ব থেকেই এই “অত্যাচার” শুরু হয়। অনেকে হয়ত সেখানেই থেমে যাবেন।
আবার পুরোটা শেষ করার পরও মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রাম চরম বৈপরিত্যপুর্ণ অ্যানিমে। কারো দেখার শেষে অনেক ভালো লেগে যাবে(আমার মত), আবার কারো কাছে মনে হবে সময়ের-সম্পুর্ণ-অপচয়।
আর এ সবকিছু নিয়েই তৈরী মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রামকে মাস্টারপিস বললে বেশি বলা হবে না। হয়ত কিছুটা আন্ডাররেটেড, এবং অনেক অনেক আন্ডারএপ্রিশিয়েটেড। তবে অবশ্যই সবার প্লেটের খাবার নয়।যদি আকর্ষনীয়, ভিন্নধাচের আর মাথাঘুরিয়ে দেওয়া কোন অ্যানিমে দেখতে চান, তাহলে এখনই টিকেট কেটে চড়ে বসুন নিয়তির এই উথাল পাতাল যাত্রায়।
মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিং: ৮.১৯(#২৮৫)
আমার রেটিং: ৯.৪৭
