গ্রুপের পক্ষ থেকে একটা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেইটা পরে বাতিল করা হলেও, মূলবিষয়টা পিভোট করে একটা ব্যক্তিগত প্রোজেক্ট বানিয়ে ফেললাম। নিচের অ্যানিমেগুলো হল, আমার দেখা(খুব বেশি না) অ্যানিমেগুলোর মধ্যে, আমার কাছে লাগা সবচেয়ে ভালো ২৫ টি অ্যানিমে; যেগুলো আমি সবাইকে অবশ্যই দেখার জন্য সাজেস্ট করব…অথবা না।
ব্যাক্তিগত বাছাই বলে সবার সাথে না মিলার কারণ অবশ্যম্ভাবী, আমার ব্যাক্তিগত বাছাই বলে তা হওয়ার সম্ভাবনা আরো বেশি। সমালোচনা, আলোচনা, মতামত সাজেশন একান্ত কাম্য।
নোটঃ যেসব বিষয়ের কারণে কোন অ্যানিমে ভালো লাগে – ১/কাহিনী ২/পরিচালনা(ন্যারেটিভ, ভিজুয়াল, মিউজিক পরিচালনা) ৩/অরিজিনালিটি ৪/ চরিত্র ৫/চিন্তাদ্দীপনা | আফটারটেস্ট ৬/বাস্তবতা(কাহিনীর ভিত্তিতে)
[বোনাস পয়েন্ট – টাইম-লুপ/টাইম ট্রাভেল/প্যারাডক্স, অজনপ্রিয়তা, রেফারেন্স, মাইন্ড ফুচকারি]
– ২৮জুন, ২০১৪
বেশ কয়েকটা অ্যানিমে বাদ পরে গেছিল আর র্যাঙ্কিং দেওয়া ঠিক হয় নাই, তাই পরিবর্তন।
– ১৭ জুলাই, ২০১৪
৮+
কাইবা
মাইন্ডগেম
হাইবানে রেনমেই
স্টাইন্স;গেইট
উসাগি ড্রপ
ডার্কার দ্যান ব্ল্যাক (Darker Than Black)
এপিসোডিক হলেও প্রথম সিজনটাই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। হেই – অন্যতম পছন্দের চরিত্র; আসলে প্রতিটি চরিত্রই মনে রাখার মত। প্রতিটি দুই পর্বের আর্কের শেষেই ডার্কার দ্যান ব্ল্যাক জগতটা সম্পর্কে নতুন কিছু জানা এবং ধীরে ধীরে মানুষ আর কন্ট্র্যাক্টরদের দন্দ্বের পরিণতির দিকে এগুতে থাকা – পুরো সময়েই রহস্যে ঘেরা অনেক পছন্দের সেইনেন অ্যানিমে। *ডাবে দেখা আবশ্যক শুধু মাত্র নভেম্বর ইলেভেনের জন্য*
টোকিও ম্যাগনিচিউড ৮.০
হানাসাকু ইরোহা
ফ্রম আপ অন পপি হিলস
গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইস
স্পিরিটেড অ্যাওয়ে
সামার ওয়ারস
হুইস্পার অফ দ্য উইন্ড
ট্রাপিজ – কুচু বুরাঙ্কো (Trapeze ~ Kuuchuu Buranko)
আউট অফ দ্য বক্স চিন্তাভাবনার অ্যানিমে। এটার অনুরূপ দ্বিতীয় আরেকটা অ্যানিমে বের করা বেশ দুঃসাধ্য ব্যাপার। সাইকোলজিক্যাল আবার কমেডি – অ্যানিমে মাধ্যমের পোটেনশিয়াল কতটুক তার অন্যতম বড় প্রমাণ কুচু বুরাঙ্কো।
গিন নো সাজি
দ্য সিক্রেট ওয়ার্ল্ড অফ অ্যা্রিয়েটি
হিওকা (Hyouka)
আমার অন্যতম প্রিয় অ্যানিমে চরিত্র ওরেকি হৌতারো। স্লাইস-অফ-লাইফ+স্কুল রোমান্সের হাতেগোনা কয়েকটি অ্যানিমে যা পছন্দ তার মধ্যে এইটা অন্যতম। সাধারণ সব ঘটনা নিয়ে অসাধারণ স্লাইস-অফ-লাইফ আর রহস্যের মেলবন্ধন। চমৎকার ভিজুয়াল প্লাস পয়েন্ট; স্লাইস-উফ-লাইফ অ্যানিমেতে যা বিরল।
ফুলমেটাল আলকেমিস্ট
গোসিক
ফুলমেটাক প্যানিক? ফুমোফফু
গোস্ট ইন দ্য শেল মুভি (Ghost in the Shell The Movie)
পুরো গোস্ট ইন দ্য শেল ফ্র্যান্সাইজটাই সাইবার পাঙ্ক অ্যানিমের মধ্যে আমার দেখা সবচেয়ে সেরা। স্ট্যান্ড অ্যালোন কম্পলেক্স পুরাটা শেষ করি নাই বলে এখনো লিস্টের বাইরে। তবে ১৯৯৬ মুভিটা – বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যানিমে মুভিগুলোর একটি – অবশ্যই থাকবে।
পাপরিকা (Paprika)
সাতোশি কনের মুভি মানেই বিশেষ কিছু। হায়াও মিয়াজাকি বিশ্বমানের পরিচালক; ওয়ার্ল্ড ওয়াইড অ্যানিমের জনপ্রিয় মুখ, তার নামটা সবার আগে আসলেও; কন আমার সবচেয়ে প্রিয় অ্যানিমে ফিল্ম পরিচালক। তার সবগুলো মুভির সবগুলো মুহূর্ত বাধিয়ে রাখার মত। পাপরিকা – চমৎকার ভিজুয়ালে বাস্তবতা আর পরাবাস্তবতার মাঝের মাথা গুলানো এক কনসেপ্টে। যেকোন অ্যানিমে মুভি লিস্টে উপরের সারিতে থাকবে।
৯+
আনো হি মিতা হানা নো নামায়ে ও বোকুতাচি ওয়া মাদা শিরানাই+আনো হি মিতা হানা নো নামায়ে ও বোকুতাচি ওয়া মাদা শিরানা.মুভি
মুশি-শি (Mushi-shi)
মুশি-শি হল মুশি-শি। মুশি-শি হল ক্লাস। এর মত আর একটা অ্যানিমেও নাই। মূল চরিত্র আর দু একজন বাদে আর সবাই কেবলে এক পর্বের জন্য আসে – পুরো অ্যানিমেটাই এপিসোডিক। কিন্তু সেই সীমিত সময়ের মধ্যেও কিছু চরিত্র আর তাদের গল্প এমনভাবে বর্নিত যা চিরদিন মনে গেথে থাকার মত।
সাকামিচি নো অ্যাপোলন/কিডস অন দ্য স্লোপ (Sakamichi no Apollon/Kids on the Slope)
সিনিচিরো ওয়াতানাবে বললেই প্রথমে আসে কাউবয় বীবপ আর সামুরাই চ্যাম্পলুর নাম। কিন্তু নিজের চেনা জায়গাটা থেকে কিছুটা আলাদা, এই অ্যানিমেটাতেও ওয়াতানাবের মুন্সিয়ানার কোন ঘাটতি নাই। আমার সবচেয়ে প্রিয় কয়েকটি রোমান্স অ্যানিমের মধ্যে থাকবে। মিউজিক অ্যানিমে বলে ওএসটিও অসাধারণ।
পিংপং দ্য অ্যানিমেশন (Ping Pong The Animation)
সদ্য সমাপ্ত। মেমোরি খুব ফ্রেশ বলে হয়তো কিছুটা বেশি রেট করে ফেলতেসি, কিন্তু কিছুদিন পরেও তা খুব বেশি হেরফের হবে না। স্পোর্টস জনরার অ্যানিমে কিন্তু স্পোর্টস অ্যানিমে না। মাত্র ১১ পর্বেই প্রায় ৪টি মূল চরিত্রের, সর্বোপরি সবার নিখুত ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। মোটিফের ব্যবহার, চোখ জুড়ানো ভিজুয়াল আর কর্ণসুধা প্রসবনকারী মিউজিক।
বাকানো! (Baccano!)
কাহিনী, ন্যারেটিভ, এক্সিকিউশন – মাস্টারপিস। *ডাব দেখা আবশ্যকীয়*
দ্য গার্ল হু লেপ্ট থ্রু টাইম (The Girl Who Leapt Through Time)
টাইম ট্রাভল আর টাইম লুপ আমার অনেক পছন্দের দুইটি বিষয়। সম্ভবত এইটা সবচেয়ে প্রথম দেখা (স্ট্যান্ড আলোন) অ্যানিমে মুভিও।
কাউবয় বীবপ (Cowboy Bebop)
ওয়াতানাবের পরিচালনা, ইয়োকো কানোর মিউজিক, ব্যাডঅ্যাস সব চরিত্র, ক্লাসিক রেফারেন্স আর অন্যতম সেরা এক সমাপ্তি। যেকোনো অ্যানিমে টপলিস্টের অবশ্যকীয় নাম। *ডাব দেখা আবশ্যকীয়*
সামুরাই চ্যাম্পলু (Samurai Champloo)
ওয়াতানাবের পরিচালনা, ব্যাডঅ্যাস সব চরিত্র এবং আমার কাছে লাগা সবচেয়ে মজার অ্যানিমে। শৌনেন অ্যানিমেগুলোর ব্যাটল পর্বগুলো বাদে এই একটা অ্যানিমেই সম্ভবত তার সম্পুর্ণ সময় জুড়ে আমাকে এন্টারটেইন করেছে। *ডাব দেখা আবশ্যকীয়*
তাতামি গ্যালাক্সি (Tatami Galaxy)
ইউয়াসার সেরা কাজ। টাইম লুপ – ক্লোসড স্পেস। পরিচালনার চাতুর্্যতাপুর্ণ, ভালোলাগার অনেকগুলো চরিত্র, সময়ে ‘আটকে’ থেকেও অসাধারণ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আর সেই সমাপ্তি! অন্যতম প্রিয় অ্যানিমে চরিত্র ওয়াতাশি।
দ্য মেলানকোলি অফ হারুহি সুযুমিয়া + দ্য ডিসেপীয়ারেন্স অফ হারুহি সু্যুমিয়া (The Melancholy of Haruhi Suzumiya||+The Disappearance of Haruhi Suzumiya)
আবার টাইম লুপ – টাইম ট্রাভেল – ক্লোসড স্পেস – ইএসপি – অ্যালিয়েন – অমনিপোটেন্ট – গড! সবচেয়ে প্রিয় হাই স্কুল অ্যানিমে টিভি সিরিজ আর তার পর সবচেয়ে প্রিয় অ্যানিমে মুভি। কিয়ন অন্যতম পছন্দের চরিত্র। *ডাব সুপারিশিত*
আওই বুঙ্গাকু সিরিজ (Aoi Bungaku Series)
ক্লাসিক লিটারেচারের অ্যাডাপ্টেশন অ্যানিমে হাতেগোনা। তার উপর জাপানের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা সব উপন্যাস/গল্পের অ্যাডাপ্টেশন! ম্যাডহাউসের প্রযোজনায় আমার দেখা সবচেয়ে ‘সুন্দর’ অ্যানিমে। দুঃখের রঙ নীল – ধ্রুপদীর রঙ নীল।
৯.৫+
বেক (Beck)
রকব্যান্ড গড়া নিয়ে অ্যানিমে। টিপিক্যাল শৌনেন না – ধুপ করে শুরু করলাম আর জনপ্রিয় হয়ে গেলাম। একেবারে শুরু থেকে চড়াই উতরাই পেরোনো। বাস্তব সংগ্রামের গল্প। অন্যতম সেরা ওএসটি।
ওয়েলকাম টু দ্য এনএইচকে (Welcome to the NHK)
নীট আর ওতাকুইজমকে গ্লোরিফাই করা বর্তমান অ্যানিমে ফ্যানদের জন্য রিয়েলিটি চেক। *ডাব সুপারিশিত*
নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওন+এন্ড অফ ইভাঙ্গেলিওন (Neon Genesis Evangelion+End of Evangelion)
সবচেয়ে মাথা ঘুরানো, তারছেড়া কনসেপ্টের অ্যানিমে – অবশ্য তাতে বেশ কয়েকটা অ্যানিমে/মুভির প্রভাব বিদ্যমান। সবচেয়ে বেশি ভাবানো অ্যানিমের তালিকায় দুই নম্বর। টিভি সিরিজের শেষ দুইটা পর্ব আর এন্ড অফ ইভাঙ্গেলিওন মুভির শেষ অংশটুক…ইইইই
ইডেন অফ দ্য ইস্ট+ইওই-কিং অফ ইডেন+ইওই-প্যারাডাইস লস্ট (Eden of the East+EOE-King of Eden+EOE-Paradise Lost)
আরেকটা প্রথম দিককার দেখা অ্যানিমে। প্রজন্মগত অন্তর্দ্বন্দ্ব, পালাবদল আর নেতৃত্ব নিয়ে অসাধারণ এক কাহিনী! আকিরা তাকিজাওয়া অন্যতম পছন্দের চরিত্র। *ডাব দেখা আবশ্যকীয়*
হানি এন্ড ক্লোভার (Honey and Clover)
সবচেয়ে প্রিয় রোমান্স অ্যানিমে। কলেজ লাইফ নিয়ে তৈরী হওয়া হাতেগোনা অ্যানিমেগুলোর মধ্যে উপরের সারিতে থাকবে। লাইফ লেসনে ভরপুর – চিন্তাদ্দীপক।
ডেথ নোট (Death Note)
বেশ প্রথম দিককার দেখা অ্যানিমে। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যানিমে। সামুরাই চ্যাম্পলুর লেখায় ভুল ছিলো – এই আরেকটা অ্যানিমে আমাকে পুরোটা সময় জুড়ে মনিটরের স্ক্রীনের সামনে আটকে রেখেছিল। লাইট ইজ জাস্টিস! *ডাব দেখা আবশ্যকীয়*
মিলেনিয়াম এক্ট্রেস (Millenium Actress)
সাতোশি কনের আরেকটি অনবদ্য সৃষ্টি। বাস্তবতা, স্মৃতি আর কল্পনার মাঝে লাফিয়ে বেড়ানো চোখ জুড়ানো ভিজুয়াল! সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অ্যানিমেটেড ফিল্ম!
মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রাম (Mawaru Penguin Drum)
সবচেয়ে বেশি ভাবানো অ্যানিমে। প্রতিটি মুহূর্ত যে যত্ন নিয়ে বানানো হয়েছে তা কেবল কুনিহিকো ইজকুহারার দ্বারাই সম্ভব! আরেকটি মাথা ঘুরানো এবং ফেইট নিয়ে সবচেয়ে সেরা কনসেপ্টের কাহিনীর মাস্টারক্লাস এক্সিকিউশন!
ফুলমেটাল আলকেমিস্ট ব্রাদারহুড (Fullmetal Alchemist Brotherhood)
শৌনেন অ্যানিমের আড়ালে যথেষ্ট গভীরতা থাকা প্লট, অসাধারণ সব চরিত্র, চমৎকার অ্যানিমেশন, সর্বকালের সর্বসেরা ওএসটি আর সেই সমাপ্তি। ফুলমেটাল আলকেমিস্ট ব্রাদারহুড = পারফেকশন!
প্লানেটিস (Planetes)
বিশাল আনসাম্বলের অসাধারণ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। অফিস ড্রামা(যদিও আন্তঃমহাকাশীয়) নিয়ে হাতেগোনা অ্যানিমের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা। আই তানাবে অন্যতম পছন্দের চরিত্র। *ডাব সুপারিশিত*
মনস্টার (Monster)
লিস্টের সবচেয়ে বেশি পর্বের অ্যানিমে। এতোগুলো চরিত্র আর ইউরোপের এ মাথা থেকে ও মাথা চষে বেড়ানো এতো বড় পরিসরের কাহিনী – কিন্তু তাতে প্লটহোল অনুপস্থিতই বলা যায়। নাওকি উরাসাওয়া বলেই তা সম্ভব! #১ টিভি সিরিজ ম্যাটেরিয়াল। *ডাব দেখা আবশ্যকীয়*
