আমার খুব খুব খুব প্রিয় ৩ টি স্পোর্টস জেনারের এনিম – এনিমখোরদের দেখা ফরজ — লেখক মো আসিফুল হক

প্রথমেই বলে নেওয়া ভাল যারা “এনিম কি? এইটা খায় না মাথায় দেয়” কিংবা ” বহুতদিন ধইরা দেখুম দেখুম চিন্তা করতাছি, এইবার একটা দেইখাই ফালাই” স্টেজে আছেন তারা একটু কষ্ট করে আমার আগের কিছু পোস্টে সাজেস্ট করা কিছু এনিম আছে, অইগুলা দেখেন, এইখানের এনিমগুলা একটু অভিজ্ঞ লোকজনের জন্য, যারা অন্তত কিছু হইলেও এনিম আগে দেখছেন কিংবা এনিম নিয়ে বেশ অভিজ্ঞ। একেবারে নতুনরাও দেখতে পারেন, তবে ভাল লাগবে কি না আমি সিউর না।

তাইলে এইবার চইলা আসি রিভিউতে।:D:D
Rank 1: Hajime no Ippo: বক্সিং নিয়ে একটা এনিম। মাকুনচি ইপ্পো একটু “ইন্ট্রোভারট” টাইপ একটা ছেলে। এই জন্য সব সময় সে সিনিওরদের কাছে লাঞ্ছিত হয়। একদিন জাপানিজ মিডেলওয়েট চ্যাম্পিয়ন তাকামুরা তাকে রক্ষা করে। তাকামুরাকে দেখে ইপ্পো বক্সিং শুরু করে এবং এক সময় জাপানিজ ফেদারওয়েট চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়।

বেশ সহজ সরল এবং এক মুখী কাহিনী। কিন্তু কাহিনীর কোন জায়গায় এনিম ঝুলে যায় নি। খুব ফাস্ট পেসড এবং চমৎকার পার্শ্ব কাহিনী এনিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ফিলারের অনুপস্থিতি এনিমের আরেকটি ভাল দিক।

Rank 2: Initial D: কার রেসিং নিয়ে একটা এনিম। মাউন্ট আকিনার একটা পেট্রোল পাম্পে কাজ করে কিছু বন্ধু। সবাই মোটামুটি কার রেসিং নিয়ে চরমভাবে আগ্রহী। তাদের একটা দলও আছে। কিন্তু তাদের একজন ফুজিওয়ারা তাকুমি।

খুব সাধারণ একটা ছেলে, যে কিনা কোন কাজেই খুব উৎসাহী না, কোন সিচুএশন সহজে ধরতে পারে না। গাড়ি নিয়ে যার কোন রকম আগ্রহ কিংবা জ্ঞান নেই। নিজেদের গাড়ির মডেলটাও সে বলতে পারে না। ঠেকায় পরে বাবার বেবসায় সাহায্য করার জন্য ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে নিয়মিত গাড়ি চালায়। গাড়িটা আবার বেশ পুরনো মডেলের। কিন্তু নিয়মিত চালানোর ফলে এই গাড়ি নিয়েই তাকুমি অসম্ভব সব ড্রিফটের কাজ শিখে গেছে। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলের পিছনে তাকুমি অন্য এক মানুষ। অবলীলায় এমন সব মুভ দেয় যা অনেক প্রফেশনাল রাও ভয়ে পারফর্ম করে না। ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ঘটনাক্রমে একদিন পাশের এলাকার এক বিখ্যাত রেসারের সাথে তার রেসে নামতে হয়। এবং সকলকে অবাক করে দিয়ে সে রেসে জিতেও যায়। আর তার সামনে খুলে যায় রোমাঞ্চকর রেসিং জগতের দরজা।

টানা ৫ টা সিজন দেখছি, একটা পর্বেও মনে হয় নাই, “ধুর কি দেখতেছি?” শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই স্পিডে আগাইছে এনিমটা। অসাধারণ আরেকটা এনিম।

Rank 3: Aoki Densetsu Shoot!: সকার বা ফুটবল নিয়ে একটা এনিম। এই এনিমটার যখন ১৪ পর্ব মাত্র দেখছি, তখন একটা রিভিউ লেখছিলাম। শেষ করার পর বুঝতে পারছি, শেষ করেই রিভিউটা লেখা উচিত ছিল।

এনিমটা শুরুতে একটু স্লো, কিন্তু শেষ দিকে অসাধারণ একটা কাহিনী দাড়ায়। প্রতিটা ফুটবল ম্যাচ উপভোগ্য। এইটার পিছনে টাইম পাস সার্থক। মুল নায়ক তশিহিকো তানাকার ফুটবল খেলার প্রতি প্রবল আগ্রহ, প্রচণ্ড প্রতিভা, কিন্তু বিকশিত হয় নাই। একে একে খেলতে খেলতে খেলতে প্রতিভা বিকাশ শুরু হয় ।

অন্যান্য অনেক স্পোর্টস জেনারের এনিমের মত এইটার আর্ট স্টাইলও ক্রুড আর্ট স্টাইলে করা। আগের দুইটা দেইখা শেষ করলে এইটা তো আর সমস্যা হবার কথা না।

এইখানে সব গুলা এনিমই দেখার মত। সুতরাং যারা এনিম দেখেন, এনিম ভালবাসেন তারা দেখা শুরু করে দিন। :D:D:D

আমি পাইলাম, আমি আরেকটাকে পাইলাম , Aoki Densetsu Shoot!- একটি ” চালাইলেই চলে” এনিম – রিভিউ লেখক মো আসিফুল হক

হাতে দেখার মত তেমন কোন এনিম ছিল না। এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করি আর এনিম বিশেষজ্ঞ বন্ধুদের কাছে পরামর্শ নেই কোনটা দেখা যায়। কি কি ভাল লাগে প্রশ্ন করতেই উত্তর দেই- নারুতো, ব্লিচ, ওয়ান পিস। শুনে দুই বেইমান বন্ধু পরামর্শ দেয় – “ইনুয়াশা দেখ। এগুলার মতই। ভাল লাগব।” আমিও সরল মনে তাদের কথা বিশ্বাস করে ডাউনলোড দিয়ে দিলাম। প্রথম ২-৩ পর্ব দেখার পরেই বুঝতে পারলাম তারা আমার কি সর্বনাশটাই না করল :(( :(( :(( :(( !!!! রাগে, দুঃখে, হতাশায় পুরা হার্ডডিস্কে মেগা খোঁজ দা সার্চ লাগাইয়া দিলাম। এক কোনায় দেখি এই এনিমের প্রথম ৩ টা পর্ব !!! দেখে ফেললাম এবং দেখার পর বললাম, “আমি পাইলাম, আমি আরেকটাকে পাইলাম।” :D :D :D :D

বেশ কয়েকদিন ধরে স্পোর্টস জেনারের এনিমগুলো বেশ ভাল লাগতেছে। এইটাও একটা স্পোর্টস + স্লাইস অফ লাইফ জেনারের এনিম। নতুনত্ব বলতে তেমন কিছুই নাই, মোটামুটি টিপিকাল এনিমগুলার মতই। মুল নায়ক তশিহিকো তানাকার ফুটবল খেলার প্রতি প্রবল আগ্রহ, প্রচণ্ড প্রতিভা, কিন্তু বিকশিত হয় নাই। একে একে খেলতে খেলতে খেলতে প্রতিভা বিকাশ শুরু হয় এই ধরনের গল্প আর কি !!! কিন্তু ঘটনা হইল, এনিমটা বেশ ফাস্ট আর কাহিনীটাও বেশ ভাল। যতক্ষণ দেখবেন ততক্ষণ বেশ ভালই লাগবে আশা করি।

অন্যান্য অনেক স্পোর্টস জেনারের এনিমের মত এইটার আর্ট স্টাইলও ক্রুড আর্ট স্টাইলে করা। এই স্টাইলে অভ্যাস না থাকলে অবশ্য প্রথমে একটু সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে পরামর্শ হইল সম্ভব হইলে প্রথমে ” হাজিমে নো ইপ্পো” এই এনিমটা দেইখা নেওয়া। একই আর্ট স্টাইল, অসাধারণ একটা এনিম। এইটা দেখতে না পারলেও চলবে, কষ্ট করে ১ম ১-২ পর্ব দেখে ফেললে এম্নিতেই অভ্যাস হয়ে যাবার কথা।

এনিমের মাঝখানে “কাজুমি” নামক এক চরিত্রকে নিয়ে হালকা রোমান্স টাইপ কিছু টাচ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি অবশ্য এই পার্ট গুলা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, আমার ভাল লাগে না। তবে এই যারা এনিমে রোমান্স থাকাটা পছন্দ করেন তাদের এই অংশটাও বেশ ভাল লাগার কথা।

সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য একটা এনিম। খুজে টুজে ডাউনলোড লিঙ্ক পেলাম না। আমার পিসিতে ফায়ারফক্সের সাথে আইডিএমের বেশ ভালবাসা আছে তো,:P:P:P , তাই আমি এই লিঙ্ক থেকে নামাইয়া দেখি। তাহলে আপনারাও দেখা শুরু করে দিন।B-)B-)B-)

আমার দেখা কিছু এনিম এবং তাদের রেটিং ( আমার রেটিং আমি দিব, যত খুশি তত দিব; একখানা অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী পোষ্ট)– লেখক মোঃ আসিফুল হক

Death Note: এইটা মোটামুটি ” love at first sight” টাইপ জিনিস। ;););)সময়টা ২০১০ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি। ভার্সিটির ভর্তি শেষ, ক্লাস শুরু হয় নাই। বাসায় বসে খাই দাই আর ঝিমাই। এক বন্ধু একদিন তার পেন্ড্রাইভ দিয়া বলল, ” এইখানে একটা এনিম আছে। দেখতে পারিস।” বন্ধুটা তখনও বুঝে নাই সে কি ভুল করছে। তখনও এনিম কি জিনিস তাই জানতাম না। প্রথম ২ পর্ব জাপানিজ ভাষা কষ্ট করে দেখে ফেললাম। তার পর তো সব ইতিহাস । ৬ দিনে ৩৭ পর্ব শেষ করে ফেললাম। এরপর শুরু হইল ওই বন্ধুর যন্ত্রণা। ওর সাথে দেখা হইলেই আমার শুধু এক কথা, ” দোস, অইরকম আর কিছু এনিম দিবি ?:P:P:P

অসাধারণ এই এনিম আমার দেখা সেরা। রেটিং – ৯৫/১০০।

Naruto: সেই বন্ধুটা আমার যন্ত্রণায় টিকতে না পাইরা খুইজা টুইজা আইনা দিল নারুতো নামের একটা এনিম। দেখতে বসলাম, কেমন কেমন যেন লাগে !!! ডেথ নোট দেইখা তো আর কিছু রুচি হয় না !!!! ৩-৪ পর্ব দেখার পর দেখি, নাহ, ভালই তো, একটু অন্যরকম হইলেও জিনিসটা দেখি ভালই লাগতেছে !!! দেখি দেখি কইরা এইটারও সবটা মানে ২২০ টা পর্ব দেইখা ফালাইলাম। এই এনিমটারে মোটামুটি “anime for beginners” বলা যায়। বেশ হালকা চালের এনিম, সুপারপাওয়ার জাতীয় জিনিস থেইকা শুরু কইরা কমেডি, রোমান্স সবই হালকা পাতলা আছে। এইটা আমি অবশ্য দেখছিলাম ইংলিশ ডাবড। জাপানি ভাষার টাও সমান উপভোগ্য। আর নারুতোর সিকুয়েল হইল নারুতো শিপ্পুডেন। শিপ্পুডেন নিয়া আশা করি পরের কোন এক পর্বে আলোচনা হবে।:):):)

এই এনিমটা আমার সেরা ১০ এনিমের লিস্টে থাকবে। রেটিং – ৮৫/১০০।

avatar: মুভিটা আমার কাছে জেইরকম খারাপ লাগছে এনিমটা ততই ভাল লাগছে। ৩ সিজনের এই এনিমটায় আশ্চর্যজনকভাবে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র এভাটার না,সাকা, অসাধারণ কমেডিয়ান। এর প্রত্যেকটা কাজ কর্ম সেই রকম মজার। বাকি চরিত্রগুলাও অসাধারণ। এইটাও সেরা লিস্টে জায়গা করে নেওয়ার মত।
রেটিং – ৮৫/১০০ ।

Nabari no Ou সাম্প্রতিক সময়ে দেখা। দেখার মত খুব ভাল কিছু পাইতেছিলাম না, তাই এইটা দেখা শুরু করছিলাম। দেইখা শেষ করতে পারি নাই, শেষে আগ্রহ পাই নাই।

তবে মেইন ক্যারেক্টারটা বেশ ভাল লাগছিল। কয়েকদিন ওর ছবি আমার ফেবুতে প্রোফাইল পিকচারও ছিল। :):) শুধু গল্পটার জন্য জিনিসটা ভাল লাগে নাই।

রেটিং – ৪৫/১০০ ( মিহারুর জন্য খালি পাশ করাইয়া দিলাম/:)/:))

আজকে আমার পিসিতে “anime” ফোল্ডারের সাইজ ১০০ জিবি পূর্ণ হইল। :):):) ভাবলাম এই খুশিতে সিরিজের ২য় পর্ব নামাইয়াই ফেলি। :):)

hajime no ippo: স্পোর্টস জেনারের এনিম। বক্সিং নিয়ে ঘটনা। কাহিনী অনেকটা হুমায়ুন আহমেদের “হিমু” সিরিজের মত। প্রথমবার যখন পড়ি তখন বেশ ভালই লাগে, কিন্তু পরে আর ২য় বার ওই বই পড়তে ইচ্ছা হয় না। এই সিরিজটাও অনেকটা সেই রকম। কাহিনী সহজ, সরল, প্রেডিক্টেবল।

অনেক দিন মনে থাকার মত তেমন কিছু না। কিন্তু যখন দেখবেন নিশ্চিত ভাল লাগবে। খুব ফাস্ট পেসড, এবং কোন ফিলার নাই।

সব মিলিয়ে ভালই। আমার রেটিং – ৭০/১০০।

Hitman Reborn: অনেকটা আমার ছোটবেলার বাংলা ২য় পত্র রচনার মত। ভুমিকা দিয়া শুরু কইরা আবেগের বশে এত বিশাল ভুমিকা লেইখা ফালাইতাম যে মাঝে মাঝে দেখা যাইত বাকি রচনার চেয়ে ভুমিকা বড় হইয়া গেছে। :P:P:P
এই এনিমের কাহিনীও সেইরকম অনেকটা। ২০০+ পর্বের একটা এনিম শুরু হইতে হইতেই ৩০-৩৫ পর্ব পার !!!!

তার উপর বিয়াঙ্কি আর লাম্বো চরিত্র দুইটার জন্য মনে হইছে এনিম ক্রিএটরকে খুন করি।X((X(( আরও ২-১ টা কেরেক্টার আছে না থাক্লেও কিছু হইত না।এখন ঘটনা হইল এত খারাপ হইলে পুরাটা দেখলাম কেন? এইখানেই কাহিনী। বাকি যেই ক্যারেক্টারগুলা আছে, তাদের প্রত্যেকটা ফাইট অসাধারণ লাগছে। বিশেষ কইরা শেষের দিকের ফাইনাল ফাইটটা বেশী জোস। ২-১ টা বিরক্তিকর কেরেক্টার সহ্য করতে পারলে অবশ্য এনিমটা জোস।

আমার রেটিং – ৭৫/১০০।

twelve kingdoms: বেশ অনেকদিন আগে দেখা। ফ্যান্টাসি জেনারের এনিম। অন্য জগতে গিয়ে রাজা রানি হওয়া, সেই জগত চেঞ্জ করা- এই জাতীয় কাহিনী আর কি !!!! আহামরি কিছু না হইলেও দেখার সময় দেইখা ভাল লাগবে আশা করি। তবে শেষ দিকে গিয়া কেমন যেন “শেষ হইয়াও হইল না শেষ” ভাব আসে।

আমার রেটিং – ৬৫/১০০।

One piece: যারা কোন না কোন এনিম দেখছেন বা দেখেন তাদের এইটা দেইখা ফালানোর কথা। না দেইখা থাকলে দৌড় দেন, জেম্নে পারেন জোগাড় কইরা দেখা শুরু করেন। আমার সেরা ৫ এনিমের লিস্ট করলে এইটা থাকব। বেশী জোস এনিম। :):):):) লুফি, জোরো, সাঞ্জি, উসপ,নামি- কার কথা রাইখা কার কথা কইতাম !!! লুফির কাজকর্ম তো পুরাই এপিক !!!! জাহাজে যখন লুফি, উসপ আর চপারের কাজকর্ম – বেশী জোস !!! এইগুলা তো হইল কমিক দিক – সিরিয়াস দিক গুলা আরও বেশী জোস। প্রত্যেকটা ফাইট- এপিক।

রিসেন্ট পর্বগুলাতে লুফি সহ সবার পাওয়ার আপের পর আরও বেশী ভাল লাগতেছে। সকল এনিমখোরদের জন্য এইটা দেখা ফরজ।

আমার রেটিং – ৯০/১০০।

Bleach: এই এনিমটা আমার খুব পছন্দের একটা এনিম। তবে এইটা নিয়া জনতার মাঝে হালকা মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। তার প্রধান কারন এই এনিমের ৩৬৬ পর্বের মাঝে প্রায় ১৪০ টা পর্বই ফিলার !!! তবে একটু সাবধানে বেছে দেখতে পারলে অতিরিক্ত ভাল একটা এনিম। বিশেষ করে “শোনেন” ক্লাসে আমার টপ চারটা এনিমের একটা এইটা।

সামনে ব্লিচ নিয়ে একটা বিস্তারিত পোষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা আছে। ওইখানে কোন পর্ব কেন দেখতে হবে, আর কেন বাদ দিতে হবে তার একটা আলোচনা দেওয়ার ইচ্ছা আছে।
মারামারি টাইপ দেখতে চাইলে অসাধারণ একটা এনিম।
আমার রেটিং- ৮০/১০০।

InuYasha প্রথম ১৫ পর্ব দেখছি। কোন ক্যাটাগরিতে আমার হিসাবে ফালাইতে পারি নাই। বেশী জোরাজুরি করলে হয়ত নারুতো, ওয়ান পিস, হিটম্যান রিবরন , আর ব্লিচ- এই সিরিজে ফালাইতে হবে, তবে এই সিরিজে ফালাইলে বাকি এনিমগুলার অপমান হবে বইলা আমার বিশ্বাস। এই এনিমটা ১৩-১৪ বছর বয়সীদের যারা নতুন এনিম দেখা শুরু করছে তাদের জন্য বিশেষ কইরা বানানো হইছে বইলা মনে হয়।

তামিল সিনেমা টাইপ রোমান্স ই মেইন বিষয়। আমার হিসেবে দেইখা টাইম লস। দেখলে নিজ দাইত্তে দেখবেন।
আমার রেটিং – ৫০/১০০।

prince of tennis এইটার আলচনার জন্য উপরের আলোচনা আরেকবার পইরা নিতে পারেন। কাছাকাছি বিষয়। মুল নায়কের ভাব দেখলে মেজাজ খারাপ হইয়া যাবার সম্ভাবনা প্রবল।

তবে মাথা ঠাণ্ডা কইরা দেখলে মাঝে মাঝে আবার ভালও লাগে। স্পোর্টস জেনারের এনিম। টেনিস নিয়া মুল কাহিনী।
আমার রেটিং- ৫৫/১০০।

full metal alchemist এইটা নিয়া আমার মতামত জানাইলে অবশ্য মাইর খাওয়ার ভয় আছে। মোটামুটি এখন পর্যন্ত যারা এইটা দেখছে সবাই ভাল বলছে। কিন্তু আমার কাছে কেন যেন ভাল লাগে নাই। তবে কোন ভয় না নিয়া দেইখা ফেলতে পারেন। আমারে এখন পর্যন্ত যতজন এইটার কথা বলছে সবাই এক কোথায় ভাল বলছে।
আমার রেটিং- ৫৫/১০০।

ah my goddes ফ্যান্টাসি ক্যাটাগরির। টাইম পাস করার জন্য দেখা যাইতে পারে। আহামরি কিছুই না। তবে সময় থাকলে দেখে ফেলা যাইতে পারে।
আমার রেটিং- ৬০/১০০।

এইখানে দেওয়া সব রেটিং আমার নিজস্ব মতামত। যে কেউ চাইলে যেই কোন নাম্বার দিতে পারেন, কোন অসুবিধা নাই।:):):)

Initial D – গতিময় একটা এনিম — লেখক মোঃ আসিফুল হক

 

ID

কার রেসিং এর মুভিগুলা কেন যেন কখনই আমাকে খুব বেশী টানে না। তাই এনিমের শুরুতে যখন নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে এই এনিমটা কার রেসিং নিয়ে এবং পাশাপাশি আরও ২-১ টা জিনিস দেখে ধারণা হল হয়ত কয়েক পর্ব পরেই এইটা দেখা বাদ দিতে বাধ্য হব। কিন্তু ২-৩ টা এপিসোড দেখার পরেই বুঝতে পারলাম আমি কতটুকু ভুল ভেবেছিলাম !!!! কোনরকম বিরতি ছাড়াই টানা ৪ টা সিজন শেষ করে বলতে পারি একটা A গ্রেডের এনিম।

মাউন্ট আকিনার একটা পেট্রোল পাম্পে কাজ করে কিছু বন্ধু। সবাই মোটামুটি কার রেসিং নিয়ে চরমভাবে আগ্রহী। তাদের একটা দলও আছে। কিন্তু তাদের একজন ফুজিওয়ারা তাকুমি। খুব সাধারণ একটা ছেলে, যে কিনা কোন কাজেই খুব উৎসাহী না, কোন সিচুএশন সহজে ধরতে পারে না। গাড়ি নিয়ে যার কোন রকম আগ্রহ কিংবা জ্ঞান নেই। নিজেদের গাড়ির মডেলটাও সে বলতে পারে না। ঠেকায় পরে বাবার বেবসায় সাহায্য করার জন্য ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে নিয়মিত গাড়ি চালায়। গাড়িটা আবার বেশ পুরনো মডেলের। কিন্তু নিয়মিত চালানোর ফলে এই গাড়ি নিয়েই তাকুমি অসম্ভব সব ড্রিফটের কাজ শিখে গেছে। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলের পিছনে তাকুমি অন্য এক মানুষ। অবলীলায় এমন সব মুভ দেয় যা অনেক প্রফেশনাল রাও ভয়ে পারফর্ম করে না। ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ঘটনাক্রমে একদিন পাশের এলাকার এক বিখ্যাত রেসারের সাথে তার রেসে নামতে হয়। এবং সকলকে অবাক করে দিয়ে সে রেসে জিতেও যায়। আর তার সামনে খুলে যায় রোমাঞ্চকর রেসিং জগতের দরজা

এনিমটার সবচেয়ে ভাল লেগেছে ফাস্ট পেইস। কোন জায়গায় ঘটনা ঝুলে যায় নাই। একবার ভাল লেগে গেলে মনিটরের সামনে চুম্বকের মত টেনে বসিয়ে রাখবে।

এনিমের আরেকটা দিক ভাল লাগছে যে এইটার রোমান্টিক সাইডটা। এইখানে প্রায় সব গুলা চরিত্রই রেসিং এ উন্নতি করার জন্য তাদের প্রিয়জনকে বিদায় জানায়। এবং সেই পার্ট গুলাও ভাল লাগছে।

এনিমে গাড়ি চালানোর এবং বিভিন্ন মডেলের গাড়ির কোন দিক ভাল, কোন দিক খারাপ এই নিয়াও বেশ ভাল আলোচনা করছে।

তবে এনিমের আর্ট সাইড টা বেশী ভাল লাগে নাই। ক্যারেক্টার ড্রইং অনেকটা “ক্রুড” ফর্মে করা। খুব সম্ভব রেসিং সিন গুলাকে বেশী গ্লেমারাস করার জন্য এই কাজ করছে। তবে এই দিকটা আমার কাছে খারাপ লাগছে।

এনিমের সাউন্ড ট্র্যাক গুলা যথেষ্ট ডিসেন্ট। শুনতে ভালই লাগছে।

সব মিলিয়ে বেশ ভাল একটা এনিম, সময় কাটানোর জন্য পারফেক্ট। নাম্বারিং করতে বললে আমি এই এনিমটাকে ১০০ তে ৭৫ দিব।

তাহলে যাদের কার রেসিং নিয়ে আগ্রহ আছে, তারা দেরি না করে দেখা শুরু করে দিন এই অসাধারণ এনিমটি।

একটি বাড়াবাড়ি রকমের ভাল এবং ফাটাফাটি রকমের জোস এনিম-Death Note – লেখক মোঃ আসিফুল হক

আমার চেনাজানা যাদের সাথে এনিম নিয়ে কথা বলেছি তারা মুলত ২ ভাগে বিভক্ত। একদল হইল চরম এনিমখোর, আরেকদল ঘোর বিরোধী। এনিমের ব্যাপারে দেখি মাঝামাঝি অবস্থানে তেমন কেউ নাই !!! যাই হোক, যারা বিরোধী তাদের বিরোধের প্রধান কারন গুলার মধ্যে একটা হইল তাদের মতে এনিম হইল ” পুরাই বাচ্চাদের জিনিস।” আপনি যদি এই দলের লোক হন তাইলে এই এনিম দেখা আপনার জন্য ফরজ। এইটা দেখার পরেও যদি কেউ বলেন এনিম শুধু ” বাচ্চাদের জিনিস” তাইলে বলব এখন পর্যন্ত দুনিয়াতে বড়দের জিনিস বইলা কিছু তৈরি হয় নাই। আর যারা এখনও এনিম এর সাথে তেমন পরিচিত না এবং চিন্তা করতেছেন খুব হালকা কিছু দিয়ে এনিম দেখা শুরু করব তাদের জন্য এই এনিম না। কারন এইটার বেশ কিছু জায়গা হজম করতে অনেক এনিমখোরকেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

কাহিনীতে যতই শিনিগামি ( Death God) থাকুক, যতই অতিপ্রাকৃত বিষয় আষয় থাকুক, দিনশেষে এইটা একটা ডিটেকটিভ এনিম। ইয়াগামি লাইট, যে কিনা সমগ্র জাপানের সবচেয়ে মেধাবি ছাত্র, একদিন একটা ডায়েরীর সন্ধান পায়। এইখানে কারো নাম লিখলে সেই লোক হার্ট এটাকে মারা যায়। এই ডায়েরি দিয়ে লাইট দুনিয়াটাকে শুদ্ধ করার স্বপ্ন দেখে। এই কেইস নিয়ে দুনিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা যখন দিশেহারা, তখন দেখা দেয় গোয়েন্দা “L”। তার আসল নাম কেউ জানে না। তদন্তের এক পর্যায়ে সে অনেকটা সিউর হয় ইয়াগামি লাইটই এই সিরিয়াল কিলিঙের মুল হোতা। এবং তা প্রমাণের জন্য ইয়াগামি লাইটের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। এইদিকে লাইটও বুঝতে পারে এই লোক তাকে ধরার চেষ্টা করতেছে। কিন্তু তাকে মারার জন্য তার আসল নাম জানতে হবে। এক পর্যায়ে দেখা যায়, L চিন্তা করতেছে, ” কিভাবে প্রমাণ করা যায় ইয়াগামি লাইটই দায়ী?” আর লাইট চিন্তা করতেছে,” এলের আসল নাম কি?” এই যুদ্ধে যে পরে উত্তর পাবে সেই মারা যাবে। এইরকম চরম টানটান উত্তেজনার মধ্যে আগায় কাহিনী।

কাহিনীতে ২-১ টা জায়গা আছে যেখানে আপনি চমকে উঠতে বাধ্য। অবাক হয়ে বসে চিন্তা করতে তাকবেন, ” এও কি সম্ভব? এত প্ল্যান, এত ভবিষ্যতের চিন্তা মানুষ কিভাবে করে?” এল এবং ইয়াগামি লাইটের প্রতিটা স্টেপ দাবার চালের মত, অনেক ভাবনা চিন্তার ফসল এবং গভীর অর্থপূর্ণ। মাঝখানে ৩-৪ টি পর্ব হয়ত মনে হবে কাহিনী হালকা ঝুলে গেছে, তবে ওইটা মেনে নিয়ে দেখতে থাকেন। পরে আরও অনেক টুইস্ট পাবেন। এই এনিমের আরেকটা অসাধারণ জিনিস, কে ভাল কে খারাপ আপনি ঠিক করতে পারবেন না। এক সময় এর পক্ষ নিবেন তো আরেক সময় ওর পক্ষ নিতে মন চাইবে। আর বোনাস হিসেবে এনিমটার সাউন্ড ট্র্যাক অসাধারণ। তাহলে দেখা শুরু করে দিন “Death Note”।

Psycho pass: সিস্টেম সিবিলাস কিংবা সংখ্যায় অস্তিত্বের পরমাপ – মোহাম্মদ আসিফুল হক


“I want to see the splendor of people’s souls.” – Makishima shogo.

ধরুন; কোন এক সুন্দর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন দেশ থেকে সব মারামারি কাটাকাটি সব দূর হয়ে গেসে। পাব্লিক সব “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” গান গাইতে গাইতে যার যার কাজে যাচ্ছে। কিভাবে? ধরুন; দেশ থেকে থানা পুলিশ কোর্ট কাচারি আদালত সব উঠে গেসে; এইগুলোর আসলে দরকারই নেই। এমন টেকনোলজি বের হয়েছে যে রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাগানো ক্যামেরা স্ক্যান করেই বলে দিতে পারবে কে কি অপরাধ করতে যাচ্ছে; কে মনে মনে কি ভাবছে; কার ট্যালেন্ট কি; এই মুহূর্তে কার কি করা দরকার – সব। যন্ত্রের স্ক্যানে একবার ধরা খেলেই সব শেষ; সেই লেভেলের সব অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হাজির; ধুমধাম যা ব্যাবস্থা নেওয়ার নিয়ে নিবে। :) :) :)

মোটামুটি এইরকম একটা প্লট নিয়েই শুরু হয়েছে “psycho pass” এনিমটার কাহিনী। দূর ভবিষ্যতে জাপান এমন একটা সময়ে বাস করতেসে যেখানে সব কিছুই কন্ট্রোল করে “সিবিল সিস্টেম” নামক একটা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম। যদিও সিস্টেমটি কিভাবে কাজ করে কিংবা আদৌ সিস্টেমের সব সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত কি না – সেটা কেউ ভেবে দেখে না; আসলে প্রয়োজন মনে করে না। কারন এই সিস্টেম সমাজে এক ধরণের কড়া “rules and order” maintain করতে সক্ষম হয়েছে। জনগন এই শান্তির বিঘ্ন কিছুতেই চায় না।


“The law doesn’t protect people. People protect the law. People have always detested evil and sought out a righteous way of living. Their feelings, the accumulation of those peoples feelings are the law. They’re neither the provisions, nor the system. They’re the fragile and irreplaceable feelings that everyone carries in their hearts.” – Tsunemori akane.

এই পর্যন্ত পরার পর প্রথম রিএকশন যেটা হওয়া স্বাভাবিক সেটা হল, “ভালই তো; প্রব্লেমটা কই? যন্ত্র সমাজ কন্ট্রোল করতেসে; শান্তি বজায় রাখতেসে; সমস্যাটা কই?” Well; দুইটা সমস্যা। এক – যন্ত্র কি আসলেই মানুষের মনের পরিমাপ করতে পারে? ভাল মন্দ অপরাধ শিল্প মানবিকতা – এই জিনিসগুলো কি আসলেই পরিমাপযোগ্য? কিছু certain criteria ধরে হয়ত একটা ঘটনাকে “অপরাধ” বলা যেতে পারে; কিন্তু অপরাধ ঘটার আগেই কি সেটা যন্ত্রের মাধ্যমে প্রেডিক্ট করা সম্ভব? কিংবা ভালর সংজ্ঞাটা আসলে কি? মন্দের সংজ্ঞাটাই বা কি? আইন কি? কোন অপরাধের কি শাস্তি হওয়া উচিত তা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা না করে যন্ত্র কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে নাকি নেওয়া উচিত? সমাজের চলার পথে মানুষের কিছু বিশ্বাস, কিছু আশা আকাঙ্খা, কিছু তৈরি করা নিয়মই কি আইন নয়? এধরণের বেশ কিছু rhetorical প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করা হয়েছে – কিংবা বলা ভাল – প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে এই এনিমে।

সমস্যা দুই – সিস্টেমেই সমস্যা। এনিমটা কিছু দূর আগানোর পর দেখা যায় এমন কেউ বা কিছু লোক আছে যারা দিব্যি অপরাধ করে যাচ্ছে – সিস্টেম তাদেরকে স্ক্যান করে সেখানে “অপরাধপ্রবনতা” খুজে পাচ্ছে না। কিসের জন্য? জানতে হলে দেখতে হবে এই এনিমটি।

স্টোরিলাইন নিয়ে খুব একটা গভীরে যাচ্ছি না; চরিত্র বিশ্লেষণ নিয়েও না। স্টোরিলাইন খুব একটা জটিল না; বর্ণনা করতে গেলেই প্রচুর স্পয়লার চলে আসবে। আর ক্যারেকটারের কথায় আসি – মুল ক্যারেক্টার আমার কাছে দুইজন। “Shinya Kōgami” আর “Shōgo Makishima”। যদিও দুই জনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক এবং বুদ্ধির লড়াই পুরো সিরিজের অন্যতম মুল উপজীব্য; কিন্তু এদের মধ্যে কে যে নায়ক আর কে যে ভিলেন পুরোপুরি কখনই নিশ্চিত হওয়া যায় না। জোরাজুরি করলে মাকিশিমা কে ভিলেন আখ্যা দেওয়া যায়; তবে পুরো সিরিজে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র ছিল এই মাকিশিমাই। যদিও ভাল মন্দ হিরো ভিলেন –রোলগুলো এই এনিমের প্রেক্ষিতে একটু টাফ। যারা ডেথ নোট দেখসেন তারা ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। যদিও psycho pass কোন দিক দিয়েই death note এর ধারেকাছেও না; জাস্ট dilemma টা বোঝানোর জন্যই এখানে death note এর reference টানা।


“Everyone is alone. Everyone is empty. People no longer have need of others. You can always find a spare for any replacement. Any relationship can be replaced.” – Makishima Shogo.” 

বাকি সব দিক গুলো নিয়ে এক কথায় বলতে গেলে – সুন্দর প্লট; মোটামুটি চলে টাইপ স্টোরি; adorable and likable ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এবং interesting এন্ডিং। খুব বেশি নাড়া দেওয়ার মত ঘটনা না হলেও চরিত্র রুপায়ন আর বাকি সব দিক মিলিয়ে ভালই উৎরে গিয়েছে। গানগুলো বেশ সুন্দর; এমনকি একটা এন্ডিং সং এখন আমার মোবাইলের রিংটোন এবং আমি আমার রিংটোন এর ব্যাপারে যথেষ্টই খুতখুতে। :)

সুতরাং দেরি না করে আজই দেখে ফেলুন এই জম্পেশ এনিমটি; আশা করি ঠকবেন না।:D

এনিম নিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে; ছবি আঁকতে কিংবা দেখতে চাইলে; মজার সব কুইজে অংশ নিতে চাইলে জয়েন করতে পারেন ফেসবুকে “এনিমখোর” গ্রুপে। :) :)

শেষ করব এই এনিমে আমার অন্যতম প্রিয় একটা লাইন দিয়ে –
“Books are not something that you just read words in. They’re also a tool to adjust your senses.”

এনিমেঃ আমার পছন্দ

আমার পছন্দের এনিমে এনিমে– শব্দটার সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। জাপানিজ এনিমেশনকে এক কথায় এনিমে বলা হয়। নামটার উৎপত্তি ‘এনিমেশন’ থেকেই। যারা এনিমে দেখে নাই আগে, যারা কার্টুন নামক অনুষ্ঠান দেখে বিরক্ত, তারা ১ পলক দেখেই চোখ কুচকায়ে ফেলে কার্টুন বলে তাচ্ছিল্য করে বসে। কিন্তু আমি বাজি রেখে বলতে পারব, তারা যদি ধৈর্য সহকারে কোন জনপ্রিয় এনিমে সিরিজ দেখতে পারে, তাদের থেকে অন্তত ৬০ভাগ মানুষ এনিমে দেখার নেশায় পড়ে যাবে।

আমি- বলতে গেলে ১জন এনিমে ফ্রিক। এখনো মনে পড়ে কলেজে, তারপর ভার্সিটি তে উঠে পাগলের মত দেখা শুরু করলাম। কত শ এনিমে যে দেখা হইসে, তার সিংহভাগের কাহিনীই মনে নাই। এনিমে তে আমি সব কিছুরই সামারি পাই। রোমান্টিসম, মারামারি, ভৌতিক মুহূর্ত, কমেডি, জীবনের প্রতিচ্ছবি, রূপকথা- সব কিছুরই ১টা ছোঁয়া থাকে, সিরিজ ভেদে। এনিমে দুনিয়ায় আছে হাজার হাজার এনিমে সিরিজ। একেকটার ক্যাটাগরি বিচার করলে একেক রকম। তবে প্রধান যে জিনিসটা আমাকে এনিমে ফ্রিক বানিয়েছে, তা হল ইমোশনাল মুহূর্তগুলোর বাস্তব প্রতিফলন, যা সাধারণত অনেক মুভি, ইংরেজি সিরিজেও সঠিকমত তুলে ধরতে পারে না।

অজস্র এনিমে রয়েছে, উইকিপিডিয়া সার্চ দিয়ে খুজলে গুনে শেষ করা যাবে না। এনিমের দৌরাত্ম্য শুরুই হয় ১৯৬৯ সালের থেকে। সমস্ত এনিমে কে, এখন পর্যন্ত যতগুলো বেরিয়েছে, সব এনিমের জনপ্রিয়তা এবং ভাললাগা হিসেব করলে, আমার কাছে সেরা ১০ এনিমে হলঃ

  • One Piece
  • Death Note
  • Code Geass
  • Baccano!
  • Clannad
  • Naruto
  • GTO (Great Teacher Onizuka)
  • Full Metal Alchemist
  • Bleach
  • Gundam Seed

আরো আছে ভালো লাগা এনিমে। সবগুলার নাম বলে শেষ করতে পারব না। অনেকে হয়ত এগুলোর সবগুলোই দেখে ফেলেছে। অনেকে কিছু দেখেছে। যারা কেছু দেখেছে, তাদের আমি বলব বাকিগুলো দেখে ফেলতে- Recommended