The Garden of Words [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

বৃষ্টির দিনে মরে যাই যাই অনুভূতি হয় একটা। হরমোনগুলোর নিঃসরণ হয়তো একটু বেশিই হয়। মনে হয় কারো গন্ধ চাই আবার মনে হয়, না, এভাবেই তো ঠিক আছে। বারান্দায় জল জমে বৃষ্টির, ভেজা গ্রিলে হাত রাখলে শিরশির করে গোটা দেহ, মনে হয়, এভাবেই বেঁচে থাকাটাও খুব সুন্দর। একা একা। ভেতর থেকে বহুকিছু ধীরে ধীরে চলে গেছে, একলা সুন্দর একটা স্বপ্নের ইচ্ছেয় দিনগুলো পার করতে থাকার অনুভূতিটাও সুন্দর। খুব সুন্দর।
 
আমি প্রায় সকল কিছুর ভেতরেই সৌন্দর্য খুঁজতে থাকি। সৌন্দর্যের তৃষ্ণা চোখে, বুকে, ঠোঁটে, মুখে।
 
আমার একটা ব্যক্তিগত ব্লগ আছে। নাম Garden of words; একটা প্রিয়, খুব প্রিয় আনিমের নামে নাম। আনিমের নামটাই, The Garden of Words. শব্দদের বাগান। এছাড়া আর কি! যে বাগান শব্দ দিয়ে তৈরি। আসলেই তাই। কিন্তু এই কথাটাই ভাবতে বসলে বুকের ভেতর আমার ভীষণ আলোড়ন তোলে। ভীষণ! শব্দদের বাগান! ব্লগটা আমার নিজস্ব একটা বাগান, যার ফুলগুলো শব্দ//অক্ষর দিয়ে ঘেরা, এরা মাঝে মাঝে ফোটে। যত দিন যায়, এদের রূপগুলো কমতে থাকে বলে মনে হয়, বারান্দায় ফিরে যাই, সিগারেট ধরিয়ে বৃষ্টির জলকে আহবান করতে থাকি আরও, আরও, আরও অনেকক্ষণ পড়ার। মন খারাপ না, তবু মন খারাপ করতে ইচ্ছে করছে। ভীষণ মন খারাপ ডুবিয়ে দেয়া যেত গোটা শহর!
 
 
গল্পঃ আনিমের গল্প নিয়ে কথা বলি বরং। বৃষ্টি ভালোবাসেন আমার মতো?
 
অবশ্য আমি বৃষ্টি ভালোবাসি একটু একটু।
এই মুভির পুরোটা জুড়ে কেবল বৃষ্টি আর বৃষ্টি।

১৫ বছর বয়সী একজন ছেলে, Takao (বাংলায় অদ্ভুত দেখতে লাগে নাম), একজন স্কুলছাত্র, যার ধ্যান-জ্ঞান হাতে জুতো ডিজাইন করা ও বানানো। বৃষ্টির দিন হলেই তার নিজের সাথে নিজের কথা দেওয়া আছে, স্কুল মিস সেদিন। এমনিতে সরগরম থাকা সিনজুকু ন্যাশনাল গার্ডেন সেদিন থাকে চুপচাপ, সে নিজের মত নিজের কাজে মনোযোগ দিতে পারে। তার এই কাজ তার ভালো লাগে।

এবং ২৭ বছর বয়সী একজন নারী, ইউকিনো, তাকে একদিন আবিষ্কার করে ন্যাশনাল গার্ডেনে; কেউ কাউকে চেনে না, শুধু যাবার আগে একটু ধাঁধা হয়ঃ

 
A faint clap of thunder
Clouded skies,
Perhaps rain comes,
If so, will you stay.. with me
 
এ এক খেয়ালী প্রশ্ন যেন। এক প্রাচীন জাপানিজ কবিতা।
চাই এর খেয়ালী সঠিক উত্তর।
এর উত্তর কি দেওয়া হবে?

সেখান হতে গল্পের পথ চলা আপন ভঙ্গিতে..

 
***Spoiler Alert***
 
এটা হয়তো রিভিউ, আবার রিভিউ না। আমার মত করে বলা একটা গল্প।
 
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি; আবার ভারী ভারী। এমন সময়ে মনে হয়, বোধহয় অন্য কোন পৃথিবীতে বেঁচে আছি। সময়টা থমকে আছে, থমকে আছে – বৃষ্টিরা আছড়ে পড়ছে ধীর থেকে ধীরে – ইউকিনো কোনো স্টেশন থেকে নেমে এগোচ্ছে কি না পার্কের দিকে, দেখার জন্য বাইরের জমে থাকা জলে পা বাড়াতে ইচ্ছে করে।
 
আমি বের হলাম। সেকেন্ডের কাটাটাও আছড়ে পড়ছে ধীরে, যেমনটা ধীরে আছড়ে পড়ছে প্রতিটা জল। আমার মনে পড়লো, এই মুভিটার একটা বিশেষত্ব আছে। এতে মাকাতো শিনকাই ক্যারেক্টারগুলোর ভাবনা বোঝার কোন উপায় রাখেন নি। ক্যারেক্টারগুলোর থটস বোঝার জন্য অনেকসময় ভেতরকার মনোলগ ব্যবহার করে ভাবনার দৃষ্টিকোণটা বুঝতে সাহায্য করে। মুভিতে এরকমটা নেই, যার রিপ্রেজেন্টশনটা হয় অনেকটা রিয়ালিটির মতন। আমরা শুধু আমাদেরটাই ভাবতে পারি, আমরা ভাবতে পারি না আমাদের সামনের মানুষটার ভাবনা। পুরো মুভিতে একটা রহস্য রহস্য ভাবনা, পা বাড়াতেই বিচলিত হয়ে উঠলো আমার মন, ইউকিনো কি ভেবেছিলো? কি ভেবেছিলো তাকাও? আজ বৃষ্টিতে তাকাও আর ইউকিনো পার্কে আসবে?
 
মন খারাপ হয়ে গেলো। অসম্পূর্ণ গল্পের সম্পূর্ণটা জানতে আমার ভীষণ পোড়ায়। চিরাচরিত, সাধারণ অনুভূতির চেয়ে আলাদা একটা প্রেম, সে কি করে এগোবে, আদৌ আগাবে কি না, জানতে ইচ্ছে করে। কেউ এক টানে নিয়ে বসিয়ে দিলো তাকাও এর সিটে – টের পেলাম, আমার বুক ছিঁড়ে আসে কারো মুখ দেখার। হয়তো বাস্তবের আমির মত।
 
আমি প্রতিটা দৃশ্য ধরে ধরে এগোতে থাকি।
 
আমার মনে পড়লো, মুভিতে কথোপকথন অনেক কম। মৃদু হাসলাম। যেখানে প্রতিটা ফ্রেম নিজেই এক একটা গল্প, সেখানে আলাদা করে কথোপকথনের কি দরকার আছে? দুজন পাশাপাশি চুপচাপ বসে থাকায় যে দুই পৃথিবীর দূরত্ব তুলে ধরে, কোন কথোপকথনটা সেখানে ঠিক মানাবে?
 
বৃষ্টি কি ভেতরের কান্নার কথা বলে? নাকি, বৃষ্টির পর প্রকৃতির নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতন, আবারও বেঁচে ওঠার মতন, তাদের আবারও নতুন করে হাঁটতে থাকার কথা বলে? আমি ভাবি, জীবনটা তো এইটুকু, স্বাদ শেষ হবার আগেই মনে হয়, জীবন শেষ হয়ে গেলো মনে হয় আমার এখনই, এই যে না বলা রহস্যটুকু, নিংড়ে পুরো পরিবেশটাকে দুচোখের ভেতরটাকে আটকে রেখেও তৃপ্তি না পাওয়া গল্পটা এরকমই থেকে যাবে?

JoJo Part 7: Steel Ball Run [মাঙ্গা রিভিউ] — Debashish Paul

সাল ১৮৯০। অ্যামেরিকার স্যান ডিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়াতে বসছে প্রায় ৪,৫০০ কিলোমিটারব্যাপী এক বিশাল ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা। গন্তব্য নিউ ইয়র্ক সিটি; মানে সেই ওয়েস্ট কোস্ট থেকে ইস্ট কোস্ট পর্যন্ত! দৌড়ের বিজয়ী পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, আর সাথে বিশ্বজোড়া খ্যাতি তো আছেই। দৌড়ে যত প্রতিযোগীর এস্টিমেট করা হয়েছিল তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি প্রতিযোগী এসেছে। বিভিন্ন্ দেশ থেকে শতশত মানুষ এসেছে অংশ নিতে। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত জকি থেকে নেপলসের রাজকর্মী; জাপানের বয়স্ক দৌড়বিদ থেকে ভ্যাটিকানের নান; খালি পায়ে দৌড়ানো এক নেটিভ ইন্ডিয়ান, এমনকি হাঁটতে না পারা এক পুরনো ঘোড়দৌড়বিদও! কিন্তু এই রেসই কি পুরো কাহিনী? জোজোর আগের পার্টগুলো নিয়ে কিছুটা ধারণা থাকলেও এর উত্তর আপনার জানা।
 
 
স্টোন ওশানের ধামাকাদার এন্ডিংয়ের পর এ আরেক রোলার কোস্টার রাইড। এই পার্টের প্রতিটা চ্যাপ্টার এত জমজমাট যে এটা পড়া শুরু করে শেষ না করা পর্যন্ত আর শান্তি নেই। এর আর্ট এত সুন্দর যে মনে হয় সত্যিই চোখের সামনে রেস হচ্ছে। আর ঘোড়াগুলো এত সুন্দর! স্টোন ওশানের আর্ট দেখে এত ভাল লেগেছিল যে ভেবেছিলাম এর চেয়ে বেশি সুন্দর আঁকা আরাকির দ্বারা হবেনা। বলাই বাহুল্য, ভুল ভেবেছিলাম। আর্টের দিক দিয়ে সম্ভবত সেরা পার্ট এইটা। কালার ভার্শন পড়াতে মনে হচ্ছিল সৌন্দর্য ঠিকরে পড়ছে! আর সাথে আরাকির ডাইভারসিটির প্রশংসা না করলেই নয়। যা নিয়েই গল্প লিখছেন সেখানেই বাজিমাত করছেন। জোজোর এই পর্যন্ত এসে এখন বুঝতে পারছি যারা আনিমে দেখে অথচ জোজো দেখেনি তারা আসলে কতকিছু যে মিস করে যাচ্ছে!
 
এই পার্টের জোব্রো একজন মাত্র- জায়রো(জাইরো?) যেপেলি এবং সে আর মেইন জোজো, জনি জোস্টার যেন একে অপরের সম্পূরক। একজন প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী, আরেকজনের আত্মবিশ্বাসের বড় অভাব। একজনের সহজেই মাথা গরম হয়ে যায়, আরেকজন ভেবেচিন্তে কাজ করে। এই ক্যারেক্টার দুইটাকে এইভাবে সাজানোতে অনেক ভালভাবে অনেক ফাইট দেখানো গেছে। এটাই প্রথম জোজো পার্ট যেখানে পার্টের নামের সাথে মেইন জোজো স্ট্যান্ডের নামের মিল নেই, আছে তার প্রিয় বন্ধু জায়রোর স্ট্যান্ডের সাথে মিল। যদিও জায়রোকেই মেইন জোজো বলে মনে হয়- ক্যারিশম্যাটিক, প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী, শর্ট টেম্পার, এমনকি জোস্টারদের ব্যাটলক্রাইও ওর। প্রথমদিকে অনেক রহস্যময় এবং বদরাগী কিন্তু আস্তে আস্তে ওর ফানি সাইডটা প্রকাশ পায়; সে এমনকি গানও লিখে! এমন ক্যারেক্টারকে আসলে ভাল না বেসে উপায় নেই। এই পার্টে ওর প্রভাব অনেক বেশি। এবং নিঃসন্দেহে বেস্ট জোব্রো (Sorry, Bruno. You’re second.)
 
আগের পার্টগুলার চেয়ে এখানে তুলনামূলক মূল ক্যারেক্টার কম থাকাতে এদের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট অনেক বেশি করা গেছে। তবে অন্যান্য রেসারদের প্রতি আরেকটু নজর দেয়া যেত। এই পার্টের কিছু ক্যারেক্টার পুরো জোজো সিরিজের সেরাদের মধ্যে উপরের দিকে থাকবে। জায়রো আর জনির ক্যারেক্টার দুইটা খুবই ভালভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এদের ব্যাকস্টোরি থেকে এদের ট্রান্সফরমেশন প্রচন্ড ভাল হয়েছে। ডিয়েগো ব্র্যান্ডোর ক্যারেক্টারটা কিছুটা আগের ডিওর আদলে তৈরি তবে প্রায় প্রতি পার্টেই ডিওকে বারবার টেনে না আনলেই বেশি ভাল লাগত। এদের সাথে আরও কয়েকটা সাইড ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্টও খুবই ভাল।
 
এই পার্টের ‘ভিলেনদের’ মধ্যে একটা ব্যাপার প্রচুর আলাদা আগের পার্টগুলোর চেয়ে- সেটা হচ্ছে এখানে কিছু ভিলেন যদিও মেইন ভিলেনের নির্দেশেই কাজ করেছে কিন্তু বেশিরভাগ ভিলেনদেরই নিজেদের উদ্দেশ্য আছে এবং এদের ভিলেন মনে হয় শুধুমাত্র জোজোর বিপরীতে আছে বলে। সত্যি বলছি, এই পার্ট অন্য ক্যারেক্টারদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হলে জায়রো আর জনিকেই ভিলেন মনে হত। এই ব্যাপারটাই সবচেয়ে বেশি ভাল এই পার্টের। এই পার্টে হিউম্যানয়েড স্ট্যান্ড কম, এবং স্ট্যান্ড ফাইটগুলোর বেশির ভাগই ঘুষাঘুষির না, সাইকোলজিক্যাল ব্যাটল এবং এই কারণে স্ট্যান্ড ফাইটগুলো অনেক ইন্টেন্স।
 
এই পার্টের মেইন ভিলেন অনেকের মতে পুরো সিরিজের সেরা। আমার মতে ওর ক্যারেক্টারটা একটু নষ্ট করে ফেলেছে শেষের দিকে তবে এছাড়া ও সাংঘাতিক এক ক্যারেক্টার। সিভিল ওয়ার ভেটেরান, অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট। প্রচন্ড আদর্শবাদী, এবং দেশপ্রেমিক। দেশের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। দেশপ্রেম এত বেশি যে তার পিঠ পুরোটা অ্যামেরিকার জাতীয় পতাকার আদলে ট্যাটু করা! এর স্ট্যান্ডও অবশ্যই সুপার পাওয়ারফুল।
 
অনেক ট্র্যাজিক ব্যাকস্টোরি আছে তবে তার মানে সব চ্যাপ্টারই সিরিয়াস টোনে লেখা এমন না। বেশ কিছু কমেডিক এলেমেন্ট আছে। আছে উপকথার উপর নির্ভর করে সাজানো একটা আর্ক, আর আছে পাল্প ফিকশনের দারুণ একটা রেফারেন্স! এই দুটো গল্প পড়তে বেশ মজা লাগছিল।
 
আমি এই পার্টকে “পারফেক্ট” বলতে পারছিনা মাঙ্গার শেষেরদিকের নেয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে, তবে এটা বলব যে এটা আমার পড়া যেকোনো কিছুর মধ্যেই স্টিল বল রান সেরাদের একটা।
 

Now, some spoiler-y discussions.
[So, Spoiler Alert]

 
স্টোন ওশান পর্যন্ত More Dio = More Fun মনে হত; এই পার্টে এসে আর এই নামটা দেখতে ভাল লাগছে না। মনে হচ্ছে সব পার্টেই আরাকি জোর করে ডিওকে কোন না কোনভাবে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। তাও মোটামুটি চলছিল কারণ এই ডিয়েগোর সাথে আগের ডিওর বেশ পার্থক্য আছে, কিন্তু শেষে “The World” নিয়ে এসে একেবারে সব ভেস্তে দিল। “The World” দেখে এত বাজে লেগেছিল যে ফাইনাল ফাইটের মজাই নষ্ট করে দিয়েছিল একদম। যেখানে ফানি ভ্যালেন্টাইনের মত ভিলেন আছে আর আছে D4C এর মত স্ট্যান্ড, সেখানে ডিওকে দিয়ে ফাইনাল ফাইট না করালেও হত আর করালেও “The World”-কে না আনলেও হত।
স্পিকিং অফ ফানি ভ্যালেন্টাইন, এত ভাল ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের পর এক ধাক্কায় ওর ক্যারেক্টারে কালিমা লেপে দেয়াতে হতাশ হয়েছিলাম বেশ। তবে পরে ভেবে দেখি ওর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার মাধ্যমে আরাকি হয়ত বোঝাতে চেয়েছেন যে উপরে উপরে এত আদর্শবাদী দেশপ্রেমিক হওয়ার পরও দিনশেষে ভ্যালেন্টাইন একটা ইগোম্যানিয়াকই, যে সবার উপর নিজের স্বার্থই বুঝে। এতে কি আদর্শবাদী ভ্যালেন্টাইনের ক্যারেক্টারে দাগ লেগেছে? অবশ্যই। কিন্তু ঐটা হয়তোবা ভ্যালেন্টাইনের আসল ক্যারেক্টার ছিল না। তবে ও শেষ পর্যন্ত আদর্শবাদী থাকলেই বেশি ভাল লাগত।
 
শেষের আগের কয়েকটা চ্যাপ্টার প্রচন্ড ইমোশনালি ড্রেইনিং ছিল। বিশেষ করে ব্রেক মাই হার্ট, ব্রেক ইউর হার্ট পার্ট ১,২। জনির জন্য এত খারাপ লাগছিল! ওকে অনেকসময়ই বেশ স্বার্থপরের মত আচরণ করতে দেখেছি, যেখানে জায়রো তার মহৎ উদ্দেশ্য থাকার পরও জনির জন্যই ওর সাথে ঐ পার্টগুলো খুঁজতে গেছে যেটা ও না করলেও পারত। কিন্তু জনির আসলে স্বার্থপর না হয়ে উপায়ও ছিল না, একটা এক্সিডেন্টের জন্য কি থেকে কি হয়ে গেল ওর, সেখানে আবার হাঁটার সুযোগ পেলে সেটা নেয়াটাই স্বাভাবিক। ওর সামনে জায়রোকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ আসার পর ওর অসহায়তা- জায়রোকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা সামনেই কিন্তু পেলেও আগের জায়রো হবেনা, কিন্তু আবার এদিকে ভ্যালেন্টাইনকে বিশ্বাসও করা যায়না! এই চ্যাপ্টারটা বেশিই ভাল ছিল।

Nihonkoku Shoukan [মাঙ্গা পরিচিতি] — Md. Anik Hossain

ইসেকাই কাহিনী এবং আধুনিক সমরাস্ত্রের ঝনঝনানি উপভোগ করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব পছন্দ করি। কিন্তু একই মাঙ্গায় যখন দুটো জিনিসই উপস্থিত থাকে, তখন আমার মাথা ঠিক থাকে না বলা বাহুল্য 🤣 ইসেকাই এবং আধুনিক সামরিক বাহিনীর কথা উঠলে প্রথমেই “Gate : Thus The JSDF Fought” সিরিজটির কথা আসবে। যারা Gate সিরিজটি পড়েছেন/দেখেছেন, এবং পছন্দ করেছেন, তাদের জন্য আদর্শ মাঙ্গা হতে পারে Nihonkoku মাঙ্গাটি।

মাঙ্গাটির কাহিনী অনেকটা এরকম-
রোডেনিয়াস নামক এমন এক মহাদেশ রয়েছে যেখানে মধ্যযুগীয় কয়েকটি দেশ একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। যে মহাদেশের রাজ্য, সাম্রাজ্যগুলো একে অপরকে ঘায়েল করতে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে অলৌকিক জাদু, উড়ন্ত ড্রাগন। মহাদেশটিতে তেমনি একটা রাজ্য হচ্ছে Qua-Toyne. একদিন হঠাৎ করেই এই রাজ্যে দেখা মিলে কিম্ভূতকিমাকার এক উড়ন্ত ড্রাগনের। যেই লৌহে আবৃত ড্রাগনকে কেউ আগে কখনো দেখেনি। রাজ্যের তৎসংলগ্ন এলাকাতেও দেখা গেল অদ্ভুত এক বিদেশী যুদ্ধজাহাজের। যেটার আকার এতটাই বিশাল যে প্রথম দেখায় সৈন্যরা ভাবলো এটা হয়ত কোন ভাসমান দূর্গ!
হঠাৎ এসব নিদর্শন রাজ্যটিতে দেখতে পাওয়ার কারণ কি হতে পারে? কারণ তেমন কিছুই না। ইয়ে মানে পুরো জাপান একদিন হটাৎ করে রোডেনিয়াস মহাদেশে এসে পড়ে। তাই জাপান নিজেদের টহল উড়োজাহাজ এবং নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার দিয়ে নতুন পৃথিবীর হালচাল দেখছিল। অতি দ্রুত Qua-Toynen এবং জাপান নিজেদের মাঝে বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে তুলে। কিন্তু অতি শীঘ্রই Qua-Toyne তাদের বৃহৎ প্রতিবেশী সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় এবং বলতে গেলে ভালো রকম মার খেতে থাকে। এ পর্যায়ে তারা জাপানের শরণাপন্ন হয় এবং জাপান তার আধুনিক সামরিক শক্তি ব্যবহার করে মিত্র রাজ্যের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
এই হলো মূল কাহিনী।

গল্পের মান এর ব্যাপারে যদি বলতে হয়, তবে বলবো খুব বেশি আশা রেখে না পড়াই ভালো। তেমন আহামরি না মোটেই। সমগ্র জাপানী ভূখণ্ড, মানুষজন হুট করে অন্য এক জগতে চলে আসার ব্যাপারটাও হাস্যকর বৈকি । আর্ট খারাপ না একদম । চরিত্র বলতে নির্দিষ্ট কোন নায়ক, নায়িকা, খলনায়ক নেই। খুব গভীর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন তেমন চরিত্র মাঙ্গাটিতে নেই। আবার জাপানের সামরিক বাহিনীকে যেভাব মহান এবং সাধু হিসাবে দেখানো হয়েছে, সেটা অনেক ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বলে মনে হতে পারে। তবে প্রথমেই যেমনটা বলেছিলাম, মধ্যযুগীয় ইসেকাই জগতের সামরিক বাহিনী বনাম আধুনিক বিশ্বের অত্যাধুনিক সব অস্ত্রে সজ্জিত একটা বাহিনীর লড়াই কেমন হতে পারে, সেটা অনুভব করার জন্য চমৎকার একটা মাঙ্গা হতে পারে এটি। মাত্র ১১ পর্ব বের হয়েছে এ পর্যন্ত। পড়া শুরু করে অল্প সময়ের মাঝেই Up to date হওয়া যাবে। তাই পড়ে দেখার অনুরোধ করলাম।

 

থিওরিঃ ফুগো কেন বুচালাটির সঙ্গে না গিয়ে একা থেকে গেল…

জোজো পার্ট ৫ গোল্ডেন উইন্ডের জন্য স্পয়লার অ্যালার্ট।

পার্পল হেইয ফিডব্যাক পড়ার সময় আবার বুকটা ভারী হয়ে গেল।
ফুগো কিভাবে নারান্সিয়াকে খুঁজে পায়, কেন তাকে সেই রেস্তোরায় বসে থাকা বুচালাটির কাছে নিয়ে যায়, কিভাবে সেই চঞ্চল কিশোরটার উপর মায়া জন্মায়… সেসব বারবার ফুগোর মনে পড়ে।

সাথে সাথে আরেকটা প্রশ্ন মাথায় আসলো। ফুগো যখন বুচালাটির সাথে সেই নৌকোয় গেল না, প্যাশনের বসকে বিট্রে করতে চাইলো না, তখন সে কি আসলেই নিজের প্রাণের মায়ায় সেটা করেছে? ফুগো কি এমনই অপদার্থ যে, সে যেই বুচালাটির জন্য জীবন দিয়ে দেবে তার সাথে যেতে তার সাহস হল না?
আমার তা মনে হয় না। কারণ বসের শর্ত গুলোর একটা ছিল যে তারা আইল্যান্ডে পা ফেলতে পারবে না। ফুগো এত অপদার্থ হলে সেটাও করতো না।
তাহলে কি? ফুগো কি এতটাই কিংকর্তব্যবিমূঢ়?
আমার মনে হয় ফুগো, সাইকোলজিক্যালি, একটা মস্ত বড় কন্ট্রাডিকশন।

যদি সেই বিট্রেয়ালের মুহুর্তটাতে ফিরে যাই, তাহলে বুঝতে পারবেন আমি কি বলতে চাইছি। বুচালাটি যখন তার বিট্রেয়ালের কথা বলে তখন গ্যাঙের মধ্যে সবার আগে ফুগোই বলে ওঠে, “আমি তোমার জন্য জীবন দিতে রাজি আছি, কিন্তু এটা অন্য ব্যাপার। আজকে তোমার সাথে কেউ ওই নৌকোয় যাবে না।”
আমার মনে হয় ফুগো এখানে উইশফুল থিঙ্কিং করছিল। সে সবার জন্য কেয়ার করে বলেই তাদের নিশ্চিত মৃত্যু বা একরকমের আত্মহত্যার পথে যাবার কথা সমর্থনতো করেই না, এটা যে সম্ভব সেটাই সে মনে করে না। আর সে এই কথাটা এভাবে প্রকাশও করতে পারছে না কারণ সে এটাও বিশ্বাস করতে পারছে না যে বুচালাটি আর জিওরনো মধ্যকার এমন বন্ধুত্ব আর বিশ্বাস থাকতে পারে, যখন কিনা জিওরনোর অনেক আগেই ফুগো তার বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিল।

দ্বিতীয়ত, যখন একে একে সবাই নৌকায় উঠে যেতে থাকে তখন নারানসিয়া আর ফুগো দাঁড়িয়ে থাকে তাদের যায়গায়। আর তখন নারানসিয়া ভেসে যাওয়া নোউকার দিকে তাকিয়ে বুচালাটির কাছে চিৎকার করে বলতে থাকে, “বুচেলাটি… আমার এখন কি করা উচিত?… যদি বল, “আমার সাথে আসো!” তাহলে আমি মনে সাহস পাবো। আমাকে তুমি যা করতে বলবে আমি তার সবটুকু নির্ভয়ে করতে পারবো!”

ফুগোর জন্য এটা ছিল একটা বড় ধাক্কা।

ফুগোর জীবনের প্রথম ধাক্কা ছিল যখন তার নিজের পরিবার তাকে ত্যাগ করে।
কিন্তু বুচালাটি তাকে গ্যাঙের মেম্বার হিসেবে নেবার পর তার জীবনের পরিবর্তন হয়। ফুগো একদম অ্যান্টিসোশাল, তারপরেও সে নারানসিয়াকে পথ থেকে তুলে আনে। বুচালাটির নিষেধ সত্যেও সে নারান্সিয়াকে পলপোর কাছে নিয়ে যায়। কারণ সে নারান্সিয়ার আহত চোখে নিজেকে দেখতে পেয়েছিল।
সেই নারানসিয়াকে সে পড়ালেখা সেখাতে চাইতো। স্টুপিড বলে গালি দিত, কিন্তু সে নারান্সিয়াকে অনেক আদরও করতো। শাসন করতে গিয়ে মার দিতো, শুধু মারার জন্য না, তার প্রতি মায়া থেকে সেই শাসনটা আসতো।

কিন্তু সেই নারান্সিয়াও যখন তার কাছে জানতে না চেয়ে বুচালাটির কাছে জানতে চাচ্ছিল সে তাদের সাথে যাবে কিনা, সাতার কেটে নৌকাটার দিকে যাচ্ছিল। তখন ফুগোর মনে আঘাত লাগে।
যেই নারানসিয়ার তার এত কাছের, সেই নারানসিয়ার মুখে শোনা শেষ কথাটাও ফুগোর কথাটা উপেক্ষা করে।
সে সবার জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিতে পারবে, কিন্তু তারা কেউ তার কথা শুনলো না?
তার নিজের পরিবার যেমন তাকে ত্যাগ করেছিল, টিমের মেম্বারগুলিও তাকে সেভাবে ত্যাগ করলো? এমনকি নারানসিয়াও?

অবশ্যই ফুগো বোকা না, তার আইকিউ অনেক বেশি। তার পরেও এক্ষেত্রে তার অবুঝ ইমোশনাল সাইডটা কাজ করে। সে বিট্রেইড ফিল করে। বুচালাটি আর নারানসিয়ার দ্বারা। এটা সে মেনেও নিতে পারে না, তাই সে নিজেকে বোঝায় এই বলে – “আমি ওদের মত সেলফ রাইচাস ইডিয়েট না…”

কিন্তু ফুগো কখনো জানতে পারবে না, যে নারানসিয়ার মৃত্যুর আগেও সে ফুগোর কথা মনে করেছিল…
[ This is a story about people unable to take action.

They have no plans for the future, no comfort in memories.
The past and the future are not for them; they exist only in the
present, struggling to no avail.


Do they struggle to find purchase? To move forward? To
retreat? Who knows. They could not tell you. The world that left them to this fate
provides no answers.

They know only one thing for sure – the ground under their
feet is crumbling, and they can no longer remain still.

They have no tomorrow, no home. How can they find hope? ]

পার্পল হেইজ ফিডব্যাকের মাঝখানে আছি। তাই নভেল্টার এন্ডিং কেউ স্পয়েল করবেন না
তবে এটুকু বলবো, বইটাতে ফুগোর আসল ব্যাকস্টোরি আছে, যা কিনা মাঙ্গাতে ছিল না, অ্যানিমেতেও সঠিকটা নেই। অ্যানিমের ব্যাকস্টোরিটাতে দেখানো হয়েছে অন্যরা তার অতীত সম্পর্কে কি মনে করে। ইলুসো একটা কার্ড থেকে ইনফো পড়ে শোনায়। আর বইটাতে আছে ফুগোর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখা আসল কাহিনী। সেটা জানার জন্য হলেও বইটা পড়ে দেখতে পারেন।
আশা করি একদিন DP এই নভেলটারও ওভিএ আডাপ্টেশন উপহার দিবে। … Covered in a silent, deadly haze.

Weathering With You/ Tenki no Ko [মুভি রিভিউ] — Rumman Raihan

 

অ্যানিমে: WEATHERING WITH YOU / Tenki no Ko / 天気の子

টাইপ: মুভি
জনরা: সুপারন্যাচারাল, ড্রামা, ফ্যান্টাসি, রোম্যান্স, স্লাইস অফ লাইফ
দৈর্ঘ্য: ১ ঘন্টা ৫৪ মিনিট
স্টুডিও: CoMix Wave
গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায়: মাকোতো শিনকাই
সময়কাল: ২০১৯

এই রিভিউটি স্পয়লারবিহীন। তবে নিচে আলোচনা দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে। স্পয়লারযুক্ত ও স্পয়লারমুক্ত আলোচনা মূল রিভিউয়ের পরে।

 
স্পয়লার বিহীন রিভিউঃ
 
১৭ জানুয়ারি তারিখে লন্ডনের প্রথম পাবলিক স্ক্রিনিং-এ দেখতে গিয়েছিলাম মাকোতো শিনকাই এর অ্যানিমে ফিল্ম – “Wheathering with you”. একই সিনেমায় কয়েকবছর আগেই দেখেছিলাম Your Name. সেটার রিভিউ পাওয়া যাবে এখানে
 
কাহিনী সংক্ষেপঃ
টোকিয়োতে বৃষ্টি হচ্ছে খুব, অনেকদিন ধরেই। অন্তহীন সেই বৃষ্টির মাঝে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘর পালানো এক ছেলে, হোদাকা । ক্ষুধা আর ভয় নিয়ে অচেনা এই শহরে সে একটা কাজের সন্ধান করছে।
এই শহরেই নাকি একটা মেয়ে আছে। যে কিনা প্রার্থনা করে বৃষ্টি থামিয়ে দিতে পারে। কালো মেঘ সব দূর করে দিতে পারে। অবশ্যই সেটা অলৌকিক কল্পকাহিনী আর রহস্য ম্যাগাজিনের গল্পের কথা।
তবে একদিন হোদাকা সেই মেয়েটার দেখা পেল। হিনা। রৌদ্র-বালিকা হিনা এসে হোকাদার জীবনে এনে দিল একফালি রোদ্দুর।
পারবে কি তারা একসাথে তাদের জীবনের ঝড়ঝঞ্জা আর বাঁধা পেরিয়ে যেতে?
 
কেমন লেগেছে:
অভিভূত হয়েছি।
মাকোতো শিঙ্কাইয়ের অ্যানিমের প্রোডাকশন শুরু হবার আগে লেখা ওয়েদারিং উইথ ইউ উপন্যাসের শেষে লেখকের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন যে তিনি এমন গল্পের ফিল্ম তৈরি করতে চান যা কিনা খাঁটি অনুভূতির কথা বলে। হলিউডের বানানো আর্টিফিশিয়াল “লাভ” স্টোরি নয়, আবার সামার ব্লকবাস্টারের গৎবাঁধা মোরালিটির কোনো প্রোডাক্ট নয়। ইয়োর নেইম মুভিটাকে যখন পশ্চিমারা আকাশে তুলে ধরলো আবার কেউ কেউ গালমন্দ করতে লাগলো এর অগভীরতা নিয়ে, তখন শিনকাই উঠে পড়ে লাগলেন তার মনের মত একটা গল্পের উপহার দিতে। যেখানে ইয়োর নেইমে অনুপস্থিত আবেগ আর পশ্চিমাদের চিরচরিত নীতিবোধের তোয়াক্কা না করা গল্প। যেমনটা তিনি এর আগেও তৈরি করে এসেছেন।
এবং সত্যিই তাই। এই ফিল্ম দেখতে এসেছিল অনেক বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে এবং ভুল করেছেন। কারণ অনেক অংশে তাদের সংকোচের আওয়াজ শুনেছি।
আবার এই মুভিতেই কিছু মুহূর্তে শুনেছি থিয়েটারে কে জানি কাঁদছে।
আমার আর আমার বন্ধুর চোখেও পানি এসে গিয়েছিল…
 
RADWIMPS এর অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক dolby atmos সিস্টেমে শুনে আর বড় স্ক্রিনে কমিকস ওয়েভ স্টুডিয়োর সিগ্নেচার সিটিস্কেপ দৃশ্যগুলোর নিখুঁত ও জীবন্ত সব ডিটেইলস্‌ দেখে যে কেউ বিহ্বল বা অভিভূত হয়ে যাবে। কিন্তু তার উপর হোকাদা আর হিনা আর তাদের চারপাশের রঙিন সব চরিত্রগুলোর প্রতি আবেগ কাজ না করলে এই অ্যানিমেটা এত উপভোগ করতাম না।
 
সিনেমা থেকে বের হয়েই আবার দেখতে ইচ্ছে করেছে। তেনকি নো কো
~~ হাওয়ার টানে তোমার সনে~~

স্পয়লারযুক্ত আলোচনা:

মুভিটা দেখার পরে এই অংশটি পরবেন, ঠিক আছে?  স্পয়লার না চাইলে শেষের অংশে চলে যান।
স্পয়লার অ্যালার্ট
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
 
কোনো বাসার ছাদে লাল তোরী গেইট সহ শ্রাইন দেখলে ভুলেও সেখানে গিয়ে দেখে আসার ইচ্ছে পোষণ করবেন না। এরিয়ে যাবেন। যেভাবে নিচের মেজর স্পয়লার এরিয়ে যাবেন, সেভাবে।
 
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
 
তাকি আর মিতসুহাকে দেখে আমি আর আমার বন্ধু দুজন হা করে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
(বলেছিলাম না এখানে স্পয়লার দিবো?!!)
এমন ক্যামিও আশা করিনি। যদিও ইয়োর নেইম দেখার সময়ও গার্ডেন অফ ওয়ার্ডসের ইউকারিকে দেখা যায়। তাই বলে ইয়োর নেইমের তাকি যে হোদাকাকে রিলেশনশিপ অ্যাডভাইসও দিবে তা কি আর আশা করা যায়? (হেহে no pun intended হেহে)
মুভিটা আবার দেখতে হবে, কেননা ইয়োর নেইমের অন্যান্য সাউড ক্যারেক্টারও নাকি ক্যামিও হিসেবে দেখা গিয়েছে, তাদেরকে ধরতে পারিনি।
ফ্যান থিওরি হচ্ছে, মুভির শেষের অংশে যখন তুষার পড়ছিল, ঠিক সেই সময়েই মিতসুহা আর তাকির ইয়োর নেইম-এ স্টেয়ারকেইসে দেখা হয়। কি জানি!
যাইহোক…
হোদাকা যখন হিনাকে নিয়ে প্রথম দৌড়ে পালানোর সময় পিস্তল টা বের করলো, তখন দেখে শ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল! একদম ইন্টেন্স একটা মোমেন্ট!
 
মুভিতে ড্রাগনটা দেখে স্পিরিটেড অ্যাওয়ের কথা মনে পড়েছিল। এমনকি একজন তো স্পিরিটেড অ্যাওয়ে হয়ে যাওয়ার রেফারেন্স ও দেয়। আর মুভির শেষে ইভাঙ্গেলিওনের টোকিয়োর কথা মাথায় এসে গেল। একটা চরিত্রের নামও তো ছিল আসকা। মনে হয় ইন্টেনশনাল রেফারেন্স। কেননা ইভাঙ্গেলিওনের মত এই মুভিটাও একটা অ্যান্টি-সেকাই-কেই (look up sekai-kei if you don’t know what it is)।
 
বেড়ালটা ছিল এত্ত সুন্দর দেখতে! কিন্তু টাইমস্কিপ হবার পরে ইয়া মোটকা হয়ে গেল। xD হাসতে হাসতে শেষ!
কেইস্কে সুগা বেড়ালটাকে কি খাইয়েছে কে জানে!
 
হোটেলের রাতটাতে যখন হিনা ষদচ্ছ/ হয়ে যেতে থাকে আর হোদাকা কাঁদতে শুরু করে, তখন আসলেই চোখে পানি এসে গিয়েছিল। অনেক ইমোশনাল একটা মুহুর্ত। আবার যখন cumulonimbus মেঘের উপর থেকে নিচে পৃথিবীতে ফিরে আসতে থাকে তখন একদম গুসবাম্পস এসে গেছে। আনন্দে চোখে পানি এসে গেছে আবার।
 
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️

স্পয়লারমুক্ত আলোচনা:

তবে এইরকম চমৎকার অ্যানিমের অত্যন্ত আনফেয়ার রিভিউ দেখা যাচ্ছে। যারা বলছে যে এই অ্যানিমেটা ইয়োর নেইমের কপি পেস্ট, তারা কি মাকোতো শিনকাই দূরে থাক, মামুরো ওশিও বাদ থাক, স্টুডিও জিব্লিরও কি কোনো অ্যানিমে দেখে নাই? ফিল্ম স্ট্রাকচার এক রেখে একটা ভিন্ন গল্প যে বলা যায় সেটা এরা কি জানে না? জেনে থাকলে এমন বাজে রিভিউ কেন?
 
এর কারণ হচ্ছে ঐযে বলেছি না মাকোতো শিনকার তার হলিউডে আর মেইন্সট্রিম অ্যানিমের মোরালিটির বাইরে গেছেন। তাই এই মুভি ভালো লেগেছে এটা অনেকেই মানতে পারছে না। প্রোস্টিটিউশন, গান-ভায়োলেন্স এর উপর কমেন্ট্রি, গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ আর টিনেইজ নন-ফিযিকাল, ইনোসেন্ট লাভ – এসব বিষয় পশ্চিমের অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। ওয়েস্টার্ন পলিটিক্যাল এই এনভায়রনমেন্টে তাই এই মুভির তেমন প্রচারও করা হয় নি যেমনটি হয়েছিল ইয়োর নেইমের সময়। জি-কিডসের প্রচারণা একদম নগণ্য, কেননা আমি মুভিটার ট্রেইলার পর্যন্ত দেখিনি মুভিটা দেখে আসার আগে।
 
জাপানে কিন্তু এর জনপ্রিয়তা কোনোআংশে কম ছিল না। ৬ মাস ধরে সিনেমাতে চলেছে। এখানেও স্ক্রিনিং শিডিউল এক্সটেন্ড করা হয়েছে, কারণ প্রত্যেক সাবটাইটেল্ড স্ক্রিনিং দেখা যাচ্ছে ফুল হাউজ।
তাই অনলাইন রিভিউ বা অ্যানিটিউবারদের কথা না শুনে দেখে এই অ্যানিমেটা নিজে যাচাই করার চেষ্টা করবেন।

 

আমার রেটিংঃ ১০/১০

One Outs [রিভিউ] — Naziur Rahman Nayem

One Outs

WRITTEN BY: SHINOBU KAITANI
DIRECTED BY: YŪZŌ SATŌ, TADAO IWAKI
ORIGINAL RUN: 2008-2009
GENRE: PSYCHOLOGY, STRATEGY, WIT, SPORTS
PERSONAL RATING: 9.5/10

এনিমেটি মূলত বেসবলকেন্দ্রিক ও এরসাথে যুক্ত হয়েছে গেম্বলিং ও সাইকোলজিক্যাল বিষয়াদি। এনিমেটির প্রতিটি পর্বে তাই রয়েছে সাইকোলজিক্যাল ও স্ট্র্যাটেজিক্যাল ব্যাখ্যা ও টুইস্ট। এখন তাহলে এর একটু ভেতরে প্রবেশ করা যাক।
 
জাপানের ওকিনওয়া নামক স্থানে যেখানে খেলোয়াড়রা প্রফেশনাল বেসবল থেকে একটু অন্য আঙ্গিকে বেসবল খেলে থাকে। এবং এ খেলাতে চলে মিলিয়ন মিলিয়ন ইয়েনের গেম্বলিং অর্থাৎ জুয়া। এ খেলার নাম তাই বেসবল নয়, এর নাম ওয়ান আউট।
 
খেলার নিয়মও বেসবল থেকে বেশ ভিন্ন। নিয়মটি পিচার অর্থাৎ যে বল ছোড়ে সে যদি নির্দিষ্ট জায়গায় বল ছুড়ে পরপর তিনবার ব্যাটসম্যানকে স্ট্রাইক করাতে পারে তথা মিস করাতে পারে তাহলে তার বিপক্ষে যারা বাজি ধরেছে তার সব ইয়েন তার। অন্যদিকে ব্যাটসম্যান যদি একটি বলও হিট করতে পারে এবং তার বল যদি বেসবলের ইনফিল্ডের সীমানা অতিক্রম করে তাহলে সে জয়ী এবং তার বিপক্ষের ইয়েনগুলো সব তার হয়ে যাবে।
 
তো দুজন বেসবল খেলোয়াড় যারা লায়াকুন টিমের হয়ে প্রফেশনাল বেসবল খেলে থাকে যাদের টিমে একজন পিচারের স্বল্পতা দেখা দিলে ওকিনওয়া গ্রাউন্ডের একজন গেম্বলার তাদের পিচারের সন্ধান দেবার নাম করে তাদের ফিল্ডে নিয়ে গেলে তারা এই জুয়া খেলার খপ্পরে পড়ে যায়। তার আগে একটু বলে নেওয়া ভালো লায়াকুন টিমের সেলিব্রিটি টাইপের একজন খেলোয়াড় আছে যার নাম হল কোজিমা। এই খেলোয়াড়টি হল এমন একজন দূর্ভাগা ব্যাটসম্যান যে সব ধরনের খেলায় জয়ী হলেও নিজের টিমের হয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ ট্রফি জেতাতে পারেনি। তার সারাজীবনের আফসোস এটি।
 
তো লায়াকুন টিমেরই দুজন খেলোয়াড় ওকিওয়া ফিল্ডে গেলে তারা বাজি লাগায় এমন একজন পিচারের বিরুদ্ধে যে কীনা এ পর্যন্ত একটি বাজিও হারেনি। এই পিচারটির নাম হল তকুচি তোয়া। মূলত এই হল এনিমেটির মূল চরিত্র। এ চরিত্রটি সম্পর্কে কিছু বলা যাক।
 
তকুচি তোয়া প্রফেশনালি একজন গেম্বলার ও মানুষের সাইকোলজি সম্পর্কে তার বেশ ধারণা রয়েছে। আর এই ধারণা দিয়ে সে বেসবলের ওয়ান আউট গেমের বাজিতে সকলকে কুপোকাত করে দেয়। তার প্রতিটি বাজির স্ট্র্যাটেজি সাইকোলজিক্যাল ট্রিকে ভরপুর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু সেট করে নিয়ে সে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়।
 
তো এরপর যথারীতি বাজি শুরু হয়ে যায়। ঐ দুজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন তকুচি’র বিপক্ষে ব্যাটসম্যানের পক্ষ হয়ে ৪০০০ ইয়েনের বাজি লাগিয়ে গো হারা হেরে যায়। এরপর এই সব অর্থ হারানোর ব্যাপারটা জানতে পারে দূর্দান্ত বেসবল ব্যাটসম্যান কোজিমা। সে পরবর্তীতে আসে এর শোধ নিতে ও বেসবল নিয়ে জুয়া খেলে প্রফেশনাল বেসবলের অসম্মান করার সমুচিত শিক্ষা দেবার জন্য।
 
কিন্তু এখানেও সেই তকুচি তোয়ার ট্রিকের কাছে তাকে নাস্তানাবুদ হতে হয় ও ৪ লক্ষ ইয়েন বাজি সে হেরে যায়। এরপর কোজিমা দূরে কোন জঙ্গলে চলে যায় ও সেখান থেকে আরও অনুশীলনের পর ফেরত আসে আবার তকুচি তোয়ার সাথে ওয়ান আউট গেম খেলার জন্য। বলে নেওয়া ভাল যে এ গেমটি আবার তকুচি তোয়ার নিয়মে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ধাঁচে সংঘটিত হয়।
 
তকুচি তোয়া বাজি আগে বলে যে যদি সে তার বল কেবলমাত্র টাচ করতে পারে তাহলে সে জিতে যাবে। এ নিয়ম মেনে নিয়ে কোজিমা তার প্রথম গেম হারার পর আরও অনুশীলন করে আসে দ্বিতীয় গেমের জন্য। গতবারের গেমে চরম অপমানের পর এবারের গেমে সে তার ক্যারিয়ারকে বাজি ধরে। যদি সে হারে তাহলে তাহলে সে বেসবল খেলা থেকে রিটায়ার্ড করবে। আর তকুচি জিতে গেলে কোজিমা তার জুয়া খেলার হাত ভেঙ্গে দিবে।
 
এমন একটা থমথমে অবস্থায় বাজির দুটি বল হয়ে যায় এবং দুটিই স্ট্রাইক হয়। পরবর্তী শেষ বলটির জন্য ওকিনওয়া মাঠের চারদিকে তখন টানটান উত্তেজনা, কী জানি কী হয় কেউ জানে না। যথারীতি তৃতীয় বলটি গেল কোজিমা এবারও বলটি ব্যাট দিয়ে হিট করতে পারলো না। সবাই তকুচির জয়ে যখন লাফাচ্ছে তখন তকুচি বলল কোজিমা জিতে গেছে। কেননা সে ব্যাট দিয়ে বল আঘাত না করলেও হাত দিয়ে বল ঠেকিয়েছে আর নিয়মানুযায়ী বল টাচ করতে পারলেই হল সেটা ব্যাট কিংবা যা দিয়েই হোক না কেন।
 
এ হিসেবে তোয়া স্বীকার করে নেয় যে তার এ খেলার জীবনে এটাই তার প্রথম হার। সে চাইলে তার হাত ভেঙ্গে দিতে পারে। এই বলে সে তার হাত কোজিমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। কোজিমাও তার হাত ধরে,,,,
 
কী ভাবছেন কাহিনী এটাই,,, না কাহিনী এটা নয়, এটা কেবল কাহিনীর শুরু।
 
কোজিমা, তকুচির হাত ধরে বলে তোমার এ হাত ভাঙ্গার জন্য নয়, এ হাত হলো প্রফেশনাল বেসবল খেলার জন্য। তুমিই আমাদের টিমে খেলবে ও তোমার মনস্তাত্ত্বিক ভেলকীবাজি দেখিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ টুর্নামেন্টে টিম লায়াকুনের হয়ে খেলবে। এভাবে তকুচি তোয়া সুযোগ পেয়ে যায় ওয়ান আউট গেম থেকে প্রফেশনাল গেম খেলার। তারপর কোজিমা টিমের মূল যে ম্যানেজার তার সাথে তাকে বলে তকুচিকপ টিমে নেবার জন্য।
 
কিন্তু ম্যানেজার প্রথমে তকুচিকে নিতে চায় না তার উদভ্রান্ত ও কেয়ারলেসনেস আচরণের জন্য। এরপর তকুচি তোয়া অদ্ভুত এক প্রস্তাব দিয়ে বসে। প্রস্তাবটি হল যতজনকে সে আউট করবে তার প্রতিটি আউটের জন্য তাকে ৫ মিলিয়ন ইয়েন দিতে হবে। অন্যদিকে সে যত রান খাবে তার বিনিময়ে ম্যানেজারকে সে ৫০ মিলিয়ন ইয়েন দিবে। এভাবে একটা ওয়ান আউট কনট্রাক্ট সাইন হয় ম্যানেজার ও তকুচির মধ্যে।
 
ম্যানেজার প্রচন্ড ধূর্ত ও লোভী প্রকৃতির লোক। নিজের টিম বারবার লাস্টে আসার পরও কেবলমাত্র বাজিতে জেতার জন্য সে তকুচিকে যত প্রকার ফাঁদে ফালানো যায় তার ব্যাবস্থা করে। আর তকুচি! সেও কম নয় প্রতিটা ফাঁদের জবাব সে পাক্কা সাইকোলজিক্যাল মাস্টারমাইন্ডদের মত করে একের পর এক ম্যানেজারকে রিটার্ন করতে থাকে।
 
সেইসাথে কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী তরতর করে তার ইয়েন বেড়ে গিয়ে ৪.৬ বিলিয়নে গিয়ে দাঁড়ায়।
 
এখন হয়তো ভাবছেন আমি স্পয়লার দিয়ে ফেলছি। কিন্তু নাহ! এ এনিমের স্পয়লার দেওয়া মোটেই সম্ভব নয়। কারণ কীভাবে তকুচি তোয়া ট্রিক প্রয়োগ করে ভেলকী দেখাচ্ছে তার বিশ্লেষণ এই এনিমে না দেখলে আপনারা বুঝতেই পারবেন না। কিছুটা শার্লক হোমসের মত অপরাধী কে তা আন্দাজ করা গেলেও কীভাবে যে অপরাধী নির্দিষ্ট ব্যক্তিটিই হবে তার ব্যাখ্যার জন্য আপনাকে শেষ পর্যন্ত যেমন গল্পগুলো পড়তে হয়, তেমনভাবে এই এনিমে আপনাকে শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে।
 
মোট ২৫টি এপিসোড রয়েছে এ এনিমেটিতে। তবে শেষে এটা যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। এরজন্য আপনার মাঙ্গা কমিক পড়তে হবে। তাহলে আপনি শেষ অব্দি কী হল এই কৌতূহল মেটাতে পারবেন।
 
এই এনিমেটি দেখতে দেখতে অনেক নতুন নতুন সাইকোলজিক্যাল পার্সপেক্টিভ আমি খুঁজে পেয়েছি। এনিমেটির মাঝে কোন রংচংয়ে ব্যাপার নাই, কোন ইমোশনের আদিখ্যেতা নাই। পুরোদমে প্রাকটিকাল ও স্ট্র্যাজেজিক্যাল। আর ব্যাখ্যার কথা কী আর বলব! এককথায় অসাধারণ। এনিমেটি দেখতে দেখতে বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল চীনা দার্শনিক লাওৎসু ও “Art of War”- এর লেখক সানজু’র কথা।
 
আর মনে পড়বে নাইবা কেন এইসব ট্যাকটিকগুলোর জন্য তো এনারা ওস্তাদ। কিছু কিছু মার্ক করে রাখবার মত। নিচে একটু উল্লেখ করছি সেগুলো-
 
তকুচি তোয়াকে যখন তার টিমমেটরা এসে তাদের বিপক্ষদলের অতীতের বীরত্বপূর্ণ রেকর্ড দেখাচ্ছিল ও এরকম বলাবলি করছিলো যে, ওরা এত ভালো খেলে, আমরা কী পারব ওদের সাথে? এমন সময় তকুচি বলে যে, ” দেখো তোমরা আজকে যাদের সাথে খেলতে নামবে ওরা হল আজকের দল।
 

যেগুলো তোমরা আমায় দেখাচ্ছো ওগুলো অতীতের কাহিনী। তাই আমাদের প্রতিযোগিতা অতীতের টিমের সাথে নয়, আজকের টিমের সাথে। তাই অতীতের রেকর্ড ঘেঁটে ভীত না হয়ে বরং আজকের ওদেরকে দেখো ও ওদের দূর্বলতাগুলো খুঁজে বের করো। অতীত দেখে বৃথা আতঙ্কিত হয়ে ওদের আজকের দূর্বলতাকে দৃষ্টিগোচর হতে দিও না।

 

আরেক জায়গার একটি ঘটনাতে যখন লায়কুন টিম এখনও জিতে নি তবে জিতে যাবে এমন একটি মুহূর্তে টিমের সবাই উল্লাস করতে আরম্ভ করে দিলো তখন তকুচি তাদেরকে বলে, “আমরা এখনও জিতে যাইনি বিজয়ের আগে বোকারাই তা সেলিব্রেট করে।” এখানে এই কথাটা সানজু’র আর্ট অব ওয়ারের সাথে মিলে যায়।

 
সবশেষে একটা চরম ট্রিকি টিমের সাথে লায়াকুন টিমের খেলা হয়। এটা ছিল তাদের হোম গ্রাউন্ড। ফলে তারা পুরো স্টেডিয়ামে তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে রেখেছিল। এটা টিমের প্রায় সবাই জেনে বিপক্ষ টিমকে দোষারোপ করলেও তকুচি বলে যে তাদের ওপর দোষারোপ না করে ওদের চালাকি ও ষড়যন্ত্রকে কীভাবে ওদের থেকে ভালো কোন ট্রিক দিয়ে কিংবা বলা যায় চোরের উপর বাটপারি অথবা টিট ফর ট্যাট আকারে কীভাবে ফেরত দেয়া যায় তা করাটাই সমীচিন।
 
এভাবে দূর্বল হয়ে দোষারোপ করলে ওদের এতে কিছু যাবেও না আসবেও না; উল্টো আমরা চ্যাম্পিয়নশীপ থেকে বেরিয়ে যাবো। তাই খেলায় জিততে হলে ওইভাবে তোমাকে জাল বিছাতে হবে।
 
এতক্ষন যা বললাম তা কিছুই নয়। এ এনিমের মূল আকর্ষণ হলো এর সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যাগুলো। আর প্রতিপক্ষকে কীভাবে হতভম্ব করে দেয় তকুচি তা দেখবার মত।
 
সবশেষে এই এনিমেটি বেসবল খেলাভিত্তিক হলেও এর প্রতিটি মুহূর্তে আপনি থ্রিল, রোমাঞ্চ, রহস্যের স্বাদ পাবেন। একটা স্পোর্টস জনরার এনিমেকে যেভাবে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার আকারে রূপ দেওয়া হয়ে হয়েছে তা সত্যিই অনবদ্য।

Violet Evergarden [রিভিউ] — Naziur Rahman Nayem

 

খুব সুন্দর একটি এনিমে। মূলত দেখতে বসেছিলাম ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো শোনার জন্য। কিন্তু এখান থেকে কিছু ইন্টারেস্টিং বিষয় শিক্ষা করা গেলও বটে।

মানুষের চরিত্রগুলো রহস্যময় হয়ে ওঠে তার ভাবের কারণে। যৌক্তিকভাবে সব সোজাসাপটা কথা বলে দিলে মানুষে মানুষে সম্পর্কটা কেমন পানসে হয়ে ওঠে। আমরা যখন একে অপরের সাথে কথা বলি তখন এর শব্দের মাঝের অর্থ বুঝতে হয়। অথচ এটা যদি বলে দেওয়া হয় তখন সে ম্যাজিক আর কাজ করেনা।

এরজন্য যে দক্ষতাটার প্রয়োজন হয় তা হল ইনটুইশনাল দক্ষতা। তোমাকে আমি যা বলছি তা হুবুহু বলছি না বরং এর মাঝের আমার ভাবটা তোমায় দেখতে হবে এবং তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেখতে হবে তবেই না তুমি একটি সুন্দর চিঠি, সুন্দর বার্তালাপ করতে পারবে। অতিরিক্ত বুদ্ধিপ্রবনতা তথা মেকানিকাল প্রবণতা দিয়ে হৃদয়গত ইনটিউশন ধরা যায় না; যেমনটা এই এনিমের শুরুতে ধরতে পারেনি ভায়োলেট এভারগার্ডেন। কিন্তু ধীরে ধীরে “I Love You” বাক্যটির অর্থ খুঁজতে গিয়ে সে যে বিষয়গুলো অতিক্রম করে অবশেষে খুঁজে পায় তার উত্তর তা সত্যিই চমৎকার।

যন্ত্রগত ধাঁচে গড়ে ওঠে মানুষ তার হৃদয়টাকেই খুইয়ে বসে। এখানে সেই খুইয়ে বসা হৃদয়কেই পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছে ভায়োলেট তার মেজর গিলবার্টের ভালোবাসার অর্থ অনুসন্ধান করতে যেয়ে।

এই এনিমেতে যে চিঠি লেখার যে প্রফেশন দেখানো হয়েছে তা সত্যিই বেশ সৃষ্টিশীল। একজন মানুষের বাক্যের মাঝের ভাবগুলোকে বুঝে তার হয়ে চিঠি লেখা সত্যিই দারুণ।

এরজন্য প্রচুর এমপ্যাথিক্যাল(সহমর্মিতাসম্পন্ন) হৃদয় লাগে। একটা আনন্দও আছে। অন্যের ঘটনাগুলোকে নিজের মাঝে প্রবেশাধিকারের অনুমতি দিয়ে সেই ঘটনাগুলির, ভাবগুলির আনন্দ, সুখ, বেদনা, দুঃখ ইত্যাদি দেখা, অনুভব করা ও তাতে সমৃদ্ধ হওয়া; এই শত মানুষের জানালা দিয়ে দেখা পৃথিবী আমাদের ভেতর যখন আমরা দেখতে পাই আমরা সহমর্মী হয়ে উঠি, অন্যের মাঝে আমাকে খুঁজে নিই। তখন যাকে হারিয়েছে তাকেও মনে হয় সে কখনো চলে যায়নি আমার কাছ থেকে আমার পাশেই সে দাড়িয়ে আছে; যেমনটা ভায়োলেট উপলব্ধি করেছিল এই এনিমেটির শেষে।

এজন্যই হয়তো মাঝে মাঝে ভাব প্রকাশের জন্য বড় বড় লেখা, কঠিন শব্দ কিংবা বাক্য এসব নয় খুব ছোট্ট করে, এক লাইন কিংবা এক শব্দেও গভীর অনুভূতি বলে দেওয়া যায়। যা হয়তো লক্ষ, কোটি মানুষ পেরিয়ে দুজন মানুষকে কাছে এনে দেয়, নিঃশব্দতায় ফেলে দেয়।

Penguin Highway (মুভি রিভিউ) — Loknath Dhar

পেঙ্গুইন হাইওয়ের গল্পটা সাদামাটা রঙের সুন্দর। আইওমা ফোর্থ গ্রেডের একজন ছাত্র যার প্রিয় কাজ হচ্ছে – শেখা, জানা এবং রিসার্চ করা। অসংখ্য ভাবনায় ডুবে থেকে একটা একটা করে আমাদের পৃথিবীটাকে চিনতে শেখা। আর দশটা বাচ্চা থেকে সে আলাদা কারণ সে জানে, সে স্মার্ট এবং সে আরও স্মার্ট হতে চায়। মানুষকে স্মার্ট করে তার জ্ঞান এবং তার জানার আগ্রহ। আইওয়ামার ক্রাশ তার ডেন্টিস্ট লেডি যে তাকে দাবা খেলা শিখায়, তার দাবা খেলার পার্টনার। এবং অনেক মেয়ে তাকে বিয়ে করতে চাইবে কিন্তু এটা একটা স্যাড সিচুয়েশন যে সে তাদের কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। কারণ তার মনে একজনই, ডেন্টিস্ট লেডি। একদিন আইওয়ামা স্কুলে যাবার পথে রাস্তার পাশের একটা মাঠে একদল পেঙ্গুইন দেখতে পায়। পেঙ্গুইনরা সাধারণত থাকে এন্টার্কটিকায় এবং এছাড়া এদের একমাত্র দেখা যায় চিড়িয়াখানায় – এটাই সে জানতো। তাহলে, এই পেঙ্গুইনরা কোথা থেকে এলো?
 
এই রহস্য উদঘাটনে সে নামে এবং তার সাথে যোগ দেয় তার বন্ধু উচিদা এবং অবশ্যই ডেন্টিস্ট লেডি।
 
মুভিটা নিয়ে আমি খুব বেশি নাড়াচাড়া দেখি নি। আন্ডাররেটেড? জানি না। তবে মুভিটা সত্যিই চমৎকার লেগেছে, অন্তত আমার কাছে। মুভির গল্পের ফ্লো সমান্তরালে গেছে। মেইন ক্যারেক্টারের শান্ত স্বভাব আমি বেশ উপভোগ করি বলে আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। ম্যাচিউর হলেও দশ থেকে বারো বছরের বাচ্চা যতটুকু ম্যাচিউর হতে পারে, এর বেশি আমার কাছে মনে হয় নি। চমৎকার!
 
আনিমের একটা বড় ব্যাপার হলো, গল্প এবং তথ্য। এগুলো আনিমেকে আরও উপভোগ্য এবং ম্যাচিউর করে তোলে। ব্যতিক্রম নেই এটাতেও। সাই-ফাই গল্প হিসেবে মোটেও খারাপ না এবং যেসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে ফ্লো চলে যাওয়া (উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পেঙ্গুইনের স্বভাব) – উপভোগ্য।
 
এনিমেশন, ভিজুয়াল, আর্ট স্টাইল চমৎকার ছিলো! সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, ধুমধাম (যেগুলোকে ফ্লাশি ইফেক্ট বলে আরকি) ইফেক্টের বদলে এনিমেশনটা ডিটেইলে যত্ন করে বানানো হয়েছে, যেটা খুবই খুবই উপভোগ্য এবং এটা মুভিটাকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে!
 
সাজেশন ক্যাটাগরিঃ আরামদায়ক দুটো ঘন্টা চলে যাবে আশা করি।
 
সংক্ষেপেঃ
 
  • Anime : Penguin Highway
  • Type : Movie
  • Genre : Fantasy, Sci Fi
  • Script : Makoto Ueda
  • Novel : Tomiko Morimi
  • Director : Hiroyasu Ishida
  • Studio : Studio Colorido
 
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Sakib’s Hidden Gems – Episode #02

আনিমে: Ueki no Housoku (The Law of Ueki)

জানরা: শৌনেন, অ্যাকশন, কমেডি, অ্যাডভেঞ্চার
এপিসোড সংখ্যা: ৫১
 
আজ আলোচনা করব আমার খুবই প্রিয় একটা আনিমে নিয়ে। গল্পটি হল অনেক বছর পরপর আয়োজিত “Celestial King” বাছাইয়ের প্রতিযোগিতা নিয়ে। প্রত্যেক প্রতিযোগীর কাজ হল ওর পক্ষ হয়ে লড়াই করবে এমন একজনকে বাছাই করে ওকে একটা “Special Ability” দেওয়া। এর পরে জো জিতা ওহি সিকান্দার আর কি। Celestial King আর তার Representative এর জন্য থাকছে আকর্ষণীয় উপহার।
 
 
কী, জেনেরিক মনে হচ্ছে? মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আসলে মোটেই তা নয়। কারণ গল্পে আছে মারামারি আর কমেডির অনন্য মিশেল। আর প্রত্যেকটা Ability বেশ হাস্যকর। উদাহরণস্বরূপ – গল্পের নায়ক Ueki র অ্যাবিলিটি হল আবর্জনাকে গাছে রূপান্তরিত করা (হাসি)। প্রতিযোগিতার নিয়মকানুনেরও কোন মাথামুণ্ডু নেই (মানে কমেডিক সেন্সে আরকি)। এ ব্যাপারে জাকারিয়ার ভাষ্যমতে, “হবুচন্দ্র খেলার গবুচন্দ্র নিয়ম”। আর প্রতিটি ফাইটে আছে বুদ্ধির খেলা, স্রেফ শক্তি দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে উড়িয়ে দেওয়া নয়।
যদি আপনি একটু ভিন্ন স্বাদের শৌনেনের খোঁজে থেকে থাকেন, তাহলে অবশ্যই দেখবেন। আর না থাকলেও চেখেই দেখুন না।

Steins;Gate (Series) [রিভিউ] — Loknath Dhar

 
 
TuTuru!
 
একবসায় পুরোটা শেষ করা শেষ আনিমে ছিলো The promised Neverland; প্রায় দুই মাস আগে। এরপর এক বসায় পুরো একদিন উড়িয়ে দিয়ে গতকাল শেষ করলাম, Stein’s Gate. এতদিন না রেখে ফেলে রাখছিলাম কারণ অনেক রিভিউ আর রিকমেন্ডশন পড়ে বুঝেছিলাম, ভালো একটা আনিমে। আর ভালো কিছু দেখে ফেললেই শেষ। সব ভালো শেষ হয়ে গেলে পরে সমস্যা বাধে, নিজেকে উপহার দেয়ার মত কিছু আর থাকে না।
 
কাহিনীসংক্ষেপঃ রিনতারো ওকাবে একজন বিজ্ঞানী এবং তিনি যেমন তেমন বিজ্ঞানী নন। তিনি হইলেন একজন পাগলা বিজ্ঞানী, ম্যাড সায়েন্টিস্ট যে নিজেরে পরিচয় দেয় হোইয়িন কিয়োমা হিসেবে। এই পাগলা বিজ্ঞানী তার ‘ফিউচার গ্যাজেটস ল্যাব’ নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করে গ্যাজেট নিয়ে। একদিন আকিয়াবারা রেডিও সেন্টারে এক লেকচারে যোগ দিতে গিয়ে এক প্রমিজিং সায়েন্টিস্ট এর মুখোমুখি হয় এবং কিছুক্ষণ পরেই চিৎকার শুনে গিয়ে তার খুনকৃত লাশ আবিষ্কার করে। সন্ত্রস্ত পাগলা বিজ্ঞানী নিচে নেমে এসে তার গ্যাজেটে নোট ডাউন করতে গিয়ে দেখে সে আবার কিছুসময় পেছনে ফিরে গিয়েছে এবং গল্প শুুরু। টাইম ট্রাভেল, আরও সুন্দর করে বলতে গেলে টাইম লিপ নিয়ে দুই সিজন+OVA+এক মুভি নিয়ে চমৎকার এক আনিমে সিরিজ স্টাইনস গেইট।
 
বলতে গেলে, আমার পছন্দের আনিমের ভেতরে অন্যতম বেঞ্চে সিট নিয়ে বসে গেছে।
 
আনিমেটা মূলত ওয়ার্ল্ড লাইন থিওরির উপর ভিত্তি করে দাঁড়ানো। ওয়ার্ল্ড লাইন থিওরি পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সবাই টাইম ট্রাভেল নিয়ে জানি। ওয়েল, টাইম ট্রাভেলের গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্সের সলুশন হিসেবে ওয়ার্ল্ড লাইন থিওরি কাজ করে। গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স মোটামুটি এইরকম, ধরেন, আপনি টাইম মেশিন আবিষ্কার করলেন। টাইম মেশিন দিয়ে অতীতে গিয়ে আপনার দাদারে খুন করলেন। আপনার দাদা খুন হলে আপনার বাবা থাকলো না, বাবা না থাকলে আপনি আসতেন না। তাইলে আপনি না থাকলে আপনার দাদারে খুন করলেন কেমনে শুরুতে? দাদাও তো খুন হইলো না। এইটারে বলে গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স। এইটার সলুশন বা বলতে পারেন এইটার আরেকটা চিন্তা হইতেছে ওয়ার্ল্ড লাইন থিওরি। মানে আপনি আপনার দাদারে খুন করলেন এবং আপনিও এক্সিস্ট করতে থাকলেন। আপনি আপনার দাদারে যে খুন করছেন তিনি একচুয়ালি আপনার দাদা না, অন্য ওয়ার্ল্ড লাইনের একজন মানুষ তিনি। যেহেতু আপনি আপনার দাদারে খুন করেন নাই, আপনিও এক্সিস্ট করতেছেন। এই চিন্তায় অনেকগুলো ওয়ার্ল্ড লাইন একসাথে এক্সিস্ট করে এবং সেখানে নানান ধরনের পসিবিলিটি থাকে। সাধারণ চিন্তায় এতটুকু হচ্ছে ওয়ার্ল্ড লাইন থিওরি (এবং আনিমে দেখতে গিয়ে এই নিয়ে শাখা প্রশাখা পড়তে গিয়ে মাথা ব্যথা করে ফেলছি। প্লিজ, আমারে জ্ঞানী ভাবেন, যদিও বুঝি নাই কিছুই  ) । এবং এই থিওরির উপর বেইজ করে স্টাইনস গেইটের গল্প এগিয়ে গেছে
 
“No one knows what the future holds. That’s why its potential is infinite.”
Okabe Rintarou.
 
যেহেতু স্টাইন্স-গেট সাইফাই জনরার টাইমের উপর ভিত্তি করে বেড়ে ওঠা একটা আনিমে, এই ধরনের পৃথিবী বানানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কিছু বেসিক রুলস ঠিক করে নেয়া, কি করা যাবে এবং কি করা যাবে না -এর উপর কারণ স্টোরি যেহেতু কখনোই পিওর সায়েন্স না, স্টোরির তুলে ধরা প্রশ্নগুলো যেন সেই রুলসের ভেতর থেকেই উত্তরগুলো ফিরে পাওয়া যায়। আর স্টাইন্স গেইট এইখানেই অসাধারণত্বের পরিচয় দিয়েছে। হালকা স্পয়লার হচ্ছে যেমন, ঠিক কতটুকু সময় পর্যন্ত সে যেতে পারবে, ফুয়েল, লিপ করার বেসিক কিছু রুলস ইত্যাদি। বড় স্পয়লারটা আনিমে দেখার সময় দেখবেন বা বুঝে নেবেন, ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়ের মুখরোচক একটা স্বাদ আছে, যার উদাহরণ হিসেবে একটা মুভির কথা বলতে পারি, Predestination.
 
স্টাইন্স গেইট দেখার সময় প্রথমেই, একদম প্রথম পর্ব থেকেই বিরক্তি অথবা কিছুই বোঝা যাচ্ছে না, এমন অনুভূতি অনেক দর্শকের ক্ষেত্রেই আসতে পারে। কারণ ওই পাগলা বিজ্ঞানী। কিন্তু ধৈর্য্যের ফল সবসময়েই (পড়ুন কিছুসময়েই) অত্যন্ত মিষ্টি হয়, এটাকে মন্ত্র করে নিয়ে সাত আট পর্ব পর্যন্ত আটকে থাকতে পারলে আপনি একের পর এক টুইস্ট, চিন্তা ভাবনার মত মুখরোচক উপাদান যে পাবেন, ঘুমাতে ঘুমাতে আপনি মাথায় অঙ্ক কষতে থাকবে দুই দুই চার – এটা বলার মত কনফিডেন্স আমি রাখি।
 
এবং স্টাইন্স গেট জিরোতে (দ্বিতীয় সিজন বলা চলে?) একদম শেষ পর্বের একদম শেষ মূহুর্তের মোমেন্টটা আনিমের দুর্দান্ত মোমেন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম একটা মোমেন্ট বলে আমি দাবি করি।
 
এখন আসি দেখার ক্ষেত্রে। কিভাবে দেখবেন?
 
ওয়াচ ওর্ডার হিসেবে আপনি দেখতে পারেন অরিজিনাল স্টাইন্স গেট, তারপর মুভি। মুভির পর অল্টারনেটিভ এন্ডিং হিসেবে 23B দেখে স্টাইন্স গেট জিরো দেখতে পারেন। কিন্তু আমার দেখার অর্ডার ছিলো এরকমঃ
১. Steins;Gate (original) – 01 to 22 episode
২. Steins;Gate 23B (Missing Link/divide by zero)
৩. Steins;Gate 0 (Full season)
৪. Steins; Gate (original) – 23 to 25 episode
৫. Steins;Gate Movie
 
এবং স্টাইন্স গেটের ডাব ভার্সন আছে। আমি সাব রেকমেন্ড করি। তবে ডাব কম নয় কোন অংশেই।
 
সংক্ষেপেঃ
Anime: Steins;Gate
Type: Series
Genre:  Thriller, Sci Fi
Director: Tatsuya Matsubara
Studio: White Fox.
 
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০
 
হ্যাপি ওয়াচিং।

El Psy Congro.