Giant Killing [Anime Review] — Imamul Kabir Rivu

Giant Killing 1

Anime – Giant Killing
Genre – Sports, Seinen,Drama
Episodes – 26
জায়ান্ট কিলিং বেশির ভাগ স্পোর্টস জনরার আনিমেগুলোর তুলনায় যে দিক থেকে একে উপরে রাখবো তা হল কাহিনীটা বেশ বাস্তবধর্মী । সাধারণত, স্পোর্টস আনিমেগুলো জমজমাট করে তুলে ধরার জন্য সুপারন্যাচুরাল উপাদানের আশ্রয় নেয়, অনেকেই তা নেতিবাচক দিক হিসেবে ধরে নেয় । যদিও আমার এ নিয়ে কোন অভিযোগ নেই । ঠিক তাদের জন্যই আসল স্পোর্টসের উত্তেজনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই আনিমেটি মূলত, তবে এ বিষয়ে কিছু দিক থেকে আনিমেটি সফল আবার কিছু দিক থেকে ব্যর্থ ।
কাহিনী মূলত তাৎসুমি তাকেশি চরিত্রটিকে ঘিরে । বেশিরভাগ স্পোর্টসে যেখানে খেলোয়াড়রাই মূল চরিত্র, এখান থেকে আনিমেটা ব্যতিক্রমী । কেননা মূল চরিত্র হল, দলে কোচ যারাই ঠিক ম্যাচটা নিয়ন্ত্রন করে খেলোয়াড়দের নিজেদের দাবার গুটির মত । যাই হোক, তাৎসুমি তাকেশি একজন নামকরা খেলোয়াড় ছিলেন যে কি না এসে জোগ হয় ETU ( East Tokyo United ) নামক এক ছোট দলের ম্যানেজার হিসেবে । তার ঘাড়ের উপর চেপে পরে এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তা হল ETU-কে ঠিক জাপানি লিগের এক ভালো অবস্থান করানোর জন্য । তার এ যাত্রাটাই মূলত তুলে ধরে পুরা আনিমেটিতে ।
আনিমের আর্টটি তেমন আহামরি কিছু নয়, তবে খুব খারাপ যে তাও না । একেবারে অতি সাধারণ মানের । চরিত্রের ডিজাইনটা ঠিক বলব চেহারাগুলো বেশ চোখ্যা করে বানানো নাইলে বেশ গোলগাল করে । তবে যে জিনিশটা খুব একটা চোখে বাঁধবে তা না । আর ইনসার্ট মিউজিকগুলা বেশ দারুন । জমজমাট মুহূর্তগুলো আরও জমজমাট করে তুলে । ওপেনিং-এন্ডিংটা ছিল মোটামোটি, এটা ভালো লাগতেও পারে আবার না-ও পারে বিষয়টা সম্পূর্নভাবে আপনার রুচির উপর নির্ভর করবে জিনিশটা । জাপানির পাশাপাশি জার্মান, পর্তুগিজ এবং ফরাসি ভাষার প্রয়োগ পাবেন আনিমেটাতে অবশ্য তা ব্যবহার করবে সুধু সে জাতির চরিত্ররাই । এ এক ভালো দিক ছিল, অ্যাক্সেন্টটাও সুন্দর ছিল আর সাধারণ আনিমের মত সব জাতিরাই জাপানিতে কথা বলে এই পথ অনুসরন করে নাই । আনিমের প্রথমেই ইংরেজি শুনতে পাবেন তবে বুঝবেন না, সাবটাইটেলের সাহাজ্য নিতে হবে কারণ ইংরিশ ।

Giant Killing 2
এখানে চরিত্র অনেক থাকলেও সে তুলনায় ভালো লাগার মত চরিত্র কম । মূল চরিত্র হিসেবে তাৎসুমি মনে রাখার মত চরিত্র । সবসময় সে অনেক রিলযাক্সড মুডে থাকে । দেখলে মনে হবে যে দলের ব্যপারে তার কোন চিন্তা নেই কিন্তু আসল বিষয় ঠিক উলটো । আর এরকম এক ব্যতিক্রমী চরিত্রকে তুলে ধরার ক্রেডিট সেকি তোমোকাজুর । সেইয়ূ হিসেবে সে যে বেশ অসাধারণ এর পরিচয় তিনি অনেক আগেই দিয়েছেন । আসলে তিনি অহংকারী, সিরিয়াস, অলস, প্রায় সব রকমের চরিত্রের সেরা কণ্ঠটাই দিতে পারেন বেশ সহজেই, তার কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রগুলোর লিস্টের দিক তাকালেই বিষয়টা সম্পর্কে এক পরিষ্কার ধারণা হয়ে যাবে আপনার । একটা ফুটবল দলে ১১ জন থাকলেও ETU থেকে সবচেয়ে বেশি স্ক্রিনটাইম পেয়েছে জিনো, সুবাকি, সেরা, কুরোদা এবং মুরাকোশি । কম বেশি ৫ জনকে আপনার বেশ ভালো লাগবে । জিনোর ঠিক ভাব নেওয়া চরিত্রটি নির্ভুলভাবে ওনো দাইস্কে তুলে ধরেছেন । এসাথে সুবাকির মত চরিত্র তুলে ধরাই হল মিজুশিমা তাকাহিরোর সেরা দিক তাই এর কণ্ঠ অভিনয় নিঃসন্দেহে ভালো ছিল । কুরোদার মত চিল্লাপাল্লা করে এমন চরিত্র ইতৌ কেন্তারোকে নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে আগেও দেখেছি, এখানেও দেখলাম । ওকিয়ায়ূ রেন্তারোও সুন্দরভাবে মুরাকোশির রোলটা করেছেন । আর সব মিলিয়ে আনিমের সেরা চরিত্রটা ছিল সেরা (Sera, セラ) আমার মতে । তার কণ্ঠতেও কায়ানো তাকেতোশি বেশ ভালো কাজ করেছেন, যদিও এর সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই । সিরিজে মিলবে আরও ক্লাবের ভক্ত এবং অনেক রকম চরিত্র । ঠিক একটা ক্লাবকে ঘিরে যেরকম চরিত্র থাকে, প্রায় সবারই দেখা পাবেন আনিমেটায় ।
কোন আনিমেই নিঁখুত নয়, সে বিষয় এই আনিমেটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য । আনিমেটির নেতিবাচক দিকগুলো (আমার কাছে), মূলত পুরা লিগে তাদের যাত্রার কাহিনী নিয়ে হলেও তেমনভাবে ভালো পরিমান স্ক্রিনটাইম পেয়েছে মাত্র ৩টি ম্যাচ । বাকি ম্যাচগুলো অনেকটা পর্বের মাঝেই দেখায় চলে গিয়েছে । পেসিংটা বেশ বেখাপ্পা ছিল, কিছু সময় অধিক তারাতারি কাহিনী আগায় আবার কিছু সময় অনেক ধীর গতিতে । কাহিনী মূলত তাদের জাপান লিগের যাত্রা তুলে ধরা নিয়ে হলেও কাহিনীর সারাংশ হল ‘ ক্লাব প্রথমে খারাপ খেলে, সবায় তাৎসুমির উপর আশা হারায়ে ফেলতে গিয়েও ফেলে না । এরপর ঠিক লিগের মাঝে তাদের এক অসাভাবিক পূর্ণ জাগরম ‘ । অবশ্য এ বিষয়টা নেতিবাচক-ইতিবাচক দুই ভাবেই নেওয়া যায় । শেষমেশ, কাহিনীর সমাপ্তিটা ছিল অসমাপ্ত ।
সবমিলিয়ে ভালো লাগার মত এক আনিমে । ম্যাচগুলোর মাঝে থ্রিল পাবেন । অনেক ভালো আনিমে, দেখে ফেলুন ।
[ সমাপ্তি ]

আমার নিজের স্পোর্টস জনরার মাঝে ইয়োমুশি পেডাল আর গার্লস উন্ড পান্জার (স্পোর্টস ট্যাগ নেই, তবুও এক হিসেবে ধরা যায়), এ দুটো আনিমের পর এটায় সবচেয়ে বেশি থ্রিল পেয়েছি ।

Giant Killing 3

One Week Friends রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Screenshot_2016-03-26-17-36-00-1

আজ দেখে শেষ করলাম ব্রেইনস বেইজের অ্যানিমে- Isshuukan Friends / One Week Friends.

কাওরি ফুজিমিয়াকে বলা যায় ক্লাসের সবচেয়ে ইউনিক মেয়ে। কারও সাথে কথা বলে না, যন্ত্রের মত স্কুলে আসে যায় আর পড়াশোনা করে। তার শীতল নির্বিকার চাহনি দেখে ক্লাসের অন্য স্টুডেন্টরা তার সাথে কথা বলতে ভরসা পায় না। এই কাওরিকে হঠাৎ একদিন বলে বসল হাসে ইউকি নামের ছেলেটি, “I’d like for us to be friends!!”

চমকে গেল কাওরি। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বিনীতভাবে হাসেকে প্রত্যাখ্যান করে দৌড়ে চলে গেল সে।

Screenshot_2016-03-26-17-35-18

এইটুকু বর্ণনা শুনলে যে কারও মনে হতে পারে, Yet another typical romance story. কিন্তু না, এরপরের কাহিনীতে আছে একটা রহস্য।

নাছোড়বান্দা হাসে তারপরেও কাওরির সাথে কথা চালিয়ে যেতে লাগল। এবং কাওরি নিজেও খেয়াল করল না যে কখন সে না চাইতেও নিয়মিত হাসের সাথে বন্ধুর মতই সময় কাটাচ্ছে। কিন্তু এদিকে সোমবার যে এগিয়ে আসছে! সোমবার এলেই তো কাওরির পৃথিবী রিসেট হয়ে যাবে! কিভাবে হাসের সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করবে তখন সে?

অ্যানিমেটার কাহিনী নরমাল রমকম অ্যানিমের মতই, কিন্তু এই রহস্যটার কারণে কাহিনীটা আমার কাছে বেশ ইউনিক লেগেছে। যদিও এই প্লট নতুন দেখছি না, বহু আগে দেখা একটি ইংরেজি মুভিতে প্রায় এরকম একটা কাহিনী দেখেছিলাম, তাও এই অ্যানিমেতে রহস্যটা যেভাবে ব্যবহার করেছে, তা আমার ভাল লেগেছে। রোমান্সের দিকে নজর না দিয়ে কাওরি ও হাসের অন্যান্য ক্লাসমেটদের সাথে সম্পর্ক ও তাদের নিজেদের ডেভেলপমেন্ট এর দিকে বেশি ফোকাস করা হয়েছে – এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক যেটা অ্যানিমেটাকে বোরিং হতে দেয়নি। স্লাইস অফ লাইফের মত কিছুটা ধীরগতির হলেও তা কাহিনীটাকে উপভোগ্য করে তুলেছে বলে আমি মনে করি।

Screenshot_2016-03-26-20-37-02-1

শুরুতেই ব্রেইনস বেইজের কথা উল্লেখ করেছিলাম, কারণ এই স্টুডিওটি আমার অত্যন্ত পছন্দের অ্যানিমে নাতসুমে ইউজিনচৌ এবং মুভি হৌতারুবি নো মোরি ই তৈরি করেছে, আর এ দুটোর আর্টের সাথে ইশশুকেন ফ্রেন্ডস এর আর্টে অনেক মিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, ব্রেইনস বেইজের কাজ মনে হয়েছিল দেখার সময়ই। ওএসটি অ্যানিমের থিমের সাথে মানানসই, ওপেনিং টা বেশ সুন্দর।

সবমিলিয়ে মাত্র ১২ পর্বের বেশ সুন্দর একটা স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে এটি, চাইলে দেখে ফেলতে পারেন।

Screenshot_2016-03-26-17-35-36-1

Behind the Voices – 18

Osaka Ryota - Iguchi Yuka
ওসাকা রিয়োতা

কামিয়া হিরোশি, ওনো দাইসকে এদের এখনকার সেইয়ূদের মাঝে আইকন হিসেবে ধরা হয় । হয়তো আরও ৪-৫ বছর পরে তাদের মত আইকন হয়ে উঠতে পারেন, এরকম একজন ওসাকা রিয়োতা । ২০১১-তে তার অভিষেক এবং একাধিক ভালো চরিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার সুযোগ পান তিনি ২০১২ থেকেই । ওসাকা রিয়োতার কণ্ঠটা বেশ সাধারণ, অনেকটা কিশোরদের মত। তার বেশিরভাগ চরিত্রগুলোও এই বয়সী, তাই তিনি কণ্ঠটা এত অসাধাণভাবে মিশিয়ে নিতে পারেন যে আলাদা করে তার কণ্ঠ ধরাটা বেশ কঠিন।

২০১২-এর ফল সিজনে তিনি প্রথম কোন আনিমেতে মূল চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার সুযোগ পান, চরিত্রটি ছিল হিমেনোকৌজি আকিতো (OniAi) । এরপর ২০১৩-তে বেশ ভালো ভালো চরিত্রের রোল পান, যেমন মাও সাদাও (Hataraku Maou-sama), ভালি লুসিফার (High School DXD s2), স্ট্যাজ চার্লি ব্লাড (Blood Lad), সাওয়ামুরা এইজুন (Ace of Diamond) , তোকিশিমা হারুতো (Kakumeiki Valvrave), কিদৌ এইতা (Oreshura), ইসাকি কানামে (Nagi no Asukara) এবং স্ফিনটাস (Magi s2) । সে বছর জোজোতেও একটি রোল ছিল তার- মার্ক; চরিত্রটি স্ট্রোহাইমের অধীনে এক নাৎজি সৈনিক ছিল। মাত্র ১ অথবা ২ পর্ব স্ক্রিন-টাইম পান তিনি। ৩ বছরেরও কম সময়ে তিনি নিজেকে প্রফেশনাল কণ্ঠ অভিনেতাদের কাতারে নিয়ে গিয়েছেন, এত দ্রুতগতিতে সফলতা খুব কম কণ্ঠ অভিনেতাই পেয়েছেন। তিনি মাও সাদাও (Hataraku Maou-sama), যেন ওয়াস্তালিয়া (Akagami no Shirayuki hime), ইয়ামাদা রিয়ূ (Yamada-kun and the 7 witches) এবং নাগাতে তানিকাজে (Sidonia no Kishi) এই চরিত্রগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

Ohsaka Ryota 1
তার যে রোলটি আমার সর্বপ্রথমে ভাল লাগে সেটি হল Blood Lad-এর স্ট্যাজ, যদিও তখন তাকে চিনতামই না। তার প্রথম সন্ধান পাই কাতৌ কিরি চরিত্রটি দিয়ে । SKET Dance বেশ প্রিয় একটি আনিমে আমার, তাই ওটার কাস্ট নিয়ে আনিমেটি দেখার সময় কম বেশি ঘাটাঘাটি করেছিলাম। তখন থেকে ওসাকা রিয়োতাকে চিনি। এটি ২০১৪ এর মাঝের দিকের কথা, তখনও তিনি তেমন একটা জনপ্রিয় ছিলেন না। তার বাকি পছন্দের রোলগুলো হল মাও সাদাও (Hataraku Maou-sama), তোকিশিমা হারুতো (Kakumeiki Valvrave), ওয়াতারি রিয়োতা (Shigatsu wa Kimi no Uso), মায়ুজুমি চিহিরো (Kuroko no Basket), তাচিবানা সুগানে (Gatchaman Crowds), কিদৌ এইতা (OreShura), লুসিফার ভালি (Highschool DXD), মুরাকামি রিয়ৌতা (Brynhildr in the Darkness) এবং সাসাহারা সৌহেই (Tonari no Kaibutsu-kun) । আর তার Ace of Diamond-এ সাওয়ামুরা চরিত্রটিতে দেওয়া কণ্ঠটা একটুও ভালো লাগেনি, বেশ চিল্লাপাল্লা করে কান ব্যাথা করে দেয়, তবে চরিত্রটির সাথে মানিয়েছে।

তিনি শুধু কণ্ঠ অভিনয়ের মাঝেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, তবে Ace of Diamond-এর কয়েকটা এন্ডিং Shounen Hollywood এবং Assassination Classroom এই দুই আনিমের ওপেনিং-এ আনিমেগুলোর নিজস্ব কাস্টদের নিয়ে তৈরি ইউনিটের সঙ্গে গাওয়া গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন ।

তার জন্ম ২য় আগস্ট, ১৯৮৬ । ২০১৫-তে অনুষ্ঠিত ‘9th Seiyuu Awards’-এ তিনি Best Male Newcomer অ্যাওয়ার্ডটি জিতেছেন । গত কয়েক বছরের মত এই বছরও তিনি বেশ ভালো পরিমাণ রোল পেয়েছেন এই পর্যন্ত । সামনে যে আরও বড় মাপের কণ্ঠ অভিনেতা হবেন তিনি, বিষয়টা বেশ সুস্পষ্ট ।

Ohsaka Ryota 2
ইগুচি ইয়ুকা

ইগুচি ইয়ুকা সাধারণত বেশ চঞ্চল স্বভাবের ইমোতৌ টাইপের চরিত্র অথবা ললিদের কণ্ঠের জন্যই বেশ পরিচিত । তবে যে ধাঁচের চরিত্র করাতেই সে শুধু দক্ষ তা কিন্তু নয়, বরং এর বিপরীত ধাঁচের চরিত্রদের কণ্ঠ দিয়েও অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন ইগুচি ইয়ুকা, এর এক ভালো উদাহরণ ছিল Girls und Panzer-এর রেইযেই মাকো । সোজা কথায় কম বেশি সবরকম চরিত্র করা আছে উনার । তার কণ্ঠটা বেশ হাই পিচের এবং ওর উপর চিল্লাচিল্লি করে এমন সব চরিত্র করলে অনেক সময় তার কণ্ঠটায় বেশ মাথা ধরে, যে কারণে তার প্রতি অনেকের নেতিবাচক মতামতও রয়েছে । তবে আমার কাছে বেশ অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রীদের একজন তিনি ।
কণ্ঠ অভিনয়ের সাথে তার পরিচয় ২০০৩ থেকে । সে বছর তিনি G.G.F-এর জন্য অডিশনে জিতেছিলেন । এটা একটা গেমারদের মাস্কট চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য অডিশন ছিল, সেখানে সাফায়ার রোলটির অধীনে ছিলেন তিনি । একই বছরে Di Gi Charat Nyo!-এর উসাদা আকারি চরিত্রটি দিয়ে তার আনিমেতে কণ্ঠ অভিনয়ের অভিষেক । তখন থেকেই গোতৌ সাওরির সাথে তার পরিচয় এবং তার সাথে মিলে airyth নামক এক ভয়েস অ্যাক্টিং ইউনিটও ছিল তাদের । G.G.F ভেঙ্গে যায় ২০০৬-এ এবং তখন থেকেই Office Osawa এজেন্সিটির সদস্য তিনি । ৬ষ্ঠ ‘Seiyuu Awards’-এ ‘Best Personality’ অ্যাওয়ার্ডটি তিনি জিতেছিলেন । সে সবচেয়ে বেশি যে দুইটি চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য পরিচিত তা হল ইনডেক্স (To aru Majutsu no Index) এবং সুকিহি (Monogatari Series) ।
ইগুচি ইয়ুকাকে সাধারণত ৩ রকম চরিত্রে কণ্ঠ অভিনয় করতে দেখা যায় । তিনি চঞ্চল স্বভাবের চরিত্রগুলোতে বেশ উচ্চ স্বরে, কিছু টমবয়িশ চরিত্রগুলোতে বেশ উদ্ধত স্বরে এবং চুপচাপ ঠাণ্ডা স্বভাবের চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রে বেশ নীরব স্বরে অভিনয় করেন। কেন যেন চরিত্রগুলোর সঠিক প্রতিচ্ছবিটা তিনি বেশ অসাধারণভাবেই তুলে ধরতে পারেন । তার যে রোলটা সবার আগে পছন্দ হয় তা হল তাকায়ামা মারিয়া (Haganai) এবং উসামি হানি (SKET Dance) । ঠিক এই চরিত্রর সেইয়ূকে তা দেখতে গিয়েই তার সন্ধান পাই । এরপর তার আরও অনেক রোল পছন্দ হয়েছে যেগুলো হল রেইজেই মাকো (Girls und Panzer), কাগা (KanColle), কোনোয়ে সুবারু (Mayo Chiki!), সুকিহি (Monogatari Series), সাঙ্গু মিৎসুবা (Owari no Seraph), কুরোসাকি মেয়া (To-Love-Ru:Darkness) এবং আয়োই (Yama no Susume) ।
Iguchi Yuka 1
কণ্ঠ অভিনেত্রীর পাশাপাশি একজন গায়িকাও । Index, Danmachi, Nisemonogatari, Ro-Kyu-Bu, Haganai, Girls und Panzer, Symphogear, Tamayura, Strike the Blood, Yama no Susume, KanColle, Kami nomi zo Shiru Sekai, Valkyre Drive এ আনিমেগুলার ওপেনিং/এন্ডিং/ইন্সার্ট সং তিনি স্বতন্ত্রভাবে অথবা উইনিটের সঙ্গে গেয়েছেন । তার গাওয়া দুটি পছন্দের ‘Strike my Soul’ (https://goo.gl/QpGPAv ) এবং ‘Kaga Misaki’ ( https://goo.gl/ajqN3H )। এছাড়া মোনোগাতারি সিরিজের সবচেয়ে আলোচিত ওপেনিং ‘Platinum Disco’ ( https://goo.gl/XrBBmA ) কিন্তু তার গাওয়া । তার গানগুলো বেশ সুন্দর, শুনে দেখতে পারুন ।
ইগুচা ইয়ুকা এখনকার আইকোনিক কণ্ঠ অভিনেত্রীদের একজন । তার সামনে যে আরও ভালো ভালো চরিত্র দেখতে সেটুকু তো বলাই যায় ।
Iguchi Yuka 2

”জাপানিজ শিখুন,জীবন গড়ে তুলুন” – ৫৭ তম পার্ট By অরিন শারমিন

জাপানিজ শিক্ষাকার্যক্রমের ৫৭ তম লেসন

আজকের লেসনেও থাকছে “জাপানিজদের নাম” নিয়ে আলোচনা…

আগের লেসনে বলেছিলাম জাপানিজদের নাম বিভিন্ন কানজির সমাহারে বানায়..আজকেও কিছু জাপানিজ নাম,তাদের কানজি ও মিনিং নিয়ে আলোচনা করব …

“সাকুরাগি হানামিচি” ক্যারেক্টার তো যারা স্লাম ডাঙ্ক দেখছে সবাইই চিনি.. নাম যদি কানজি দিয়ে বিশ্লেষণ করি তাইলে মিনিং কেমন দাঁড়ায় দেখি …

“সাকুরাগি” তে “সাকুরা” আর “গাছ” এর কানজি আছে.. তাইলে মিনিং দাঁড়াল cherry tree..সাকুরার গাছ …

“হানামিচি” নামের মধ্যে “ফুল” আর “পথ”এর কানজি আছে …তাইলে মিনিং হল ফুলের পথ..

“মোরিতাকা” নামের মধ্যে “most” আর “high” এর কানজি আছে …মিনিং হল তাইলে “highest”..এই কারণে আকিতো ওরে “সাইকো” বলে ডাকত :3

“আকিতো”র নামের মধ্যে “autumn”আর “person”এর কানজি আছে …মিনিং করলে দাঁড়ায় শরতের মানুষ … “শুজিন” মানেও তাই..এই জন্য মাশিরো ওকে এই নামে ডাকত..বাকুমান যারা দেখছে বুঝার কথা 😉

আনিমের ক্যারেক্টার তো কিছু বললাম এবার র‍্যান্ডম কিছু নামের মিনিং শিখাই …

“কিনোশিতা” এর মধ্যে “গাছ” আর “নিচ” এর কানজি আছে..মানে হয় গাছের নিচে..

“কাওয়াকামি” এর মানে হয় নদীর উপরে..এর মধ্যে “নদী” আর “উপর” এর কানজি আছে..

“তাকেনাকা” এর মিনিং হয় বাঁশের মধ্যে.. এখানে “বাঁশ” আর “inside” এর কানজি আছে..

“নাকাগাওয়া” এর মধ্যে “inside” আর “নদী”র কানজি আছে.মিনিং হয় নদীর মধ্যে..

একই ভাবে “নাকাইয়ামা” মানে হয় পাহাড়ের মধ্যে..”নাকামুরা” মানে হয় গ্রামের মধ্যে..

“ইশিকাওয়া” এর মধ্যে “পাথর” আর “নদী”র কানজি আছে..মিনিং হয় পাথরের নদী..

“কোইয়ামা” তে “ছোট” আর “পাহাড়ের” কানজি আছে.. মিনিং হয় “ছোট পাহাড়”..

“মোরিমোতো” এর মধ্যে “বন” আর “বই” এর কানজি আছে.. মিনিং হয় বনের বই..

অনেক নাম শিখাইছি :3 আজকে এপর্যন্তই থাক..মাতা নে.. 🙂

লার্নিং কানজি উইথ বাকারিন সামা – ৩৩তম পাঠ

***কানজি কানজি কানজি***

আজকের কানজি “rest” এর কানজি ….উচ্চারণ হল “ইয়াসু(মি/মু),কিউ….

yasumu 1

 [মানুষ গাছের পাশে শুয়ে রেস্ট নিচ্ছে এখান থেকেই এই কানজির উৎপত্তি]

এই কানজি টাও ২ টা কানজির কম্বিনেশনে তৈরী হয়…মানুষের কানজি আর গাছের কানজি একসাথে লিখলে rest এর কানজি হয়.. একটা মানুষ গাছের ছায়াতে বসে রেস্ট করতেছে কানজি টা দিয়ে সেটাই বুঝান হইছে …কানজিটার উৎপত্তি এভাবেই হইছে..

yasumi 1

[কানজি “ইয়াসুমি”]

“ইয়াসুমু” মানে হইল “to rest/to be absent”
ইয়াসুমি-break/vacation
কিউজিতসু-holiday (এখানে rest আর day এর কানজি পাশাপাশি বসে)
নাতসুইয়াসুমি-summer vacation (summer আর rest এর কানজি পাশাপাশি বসে)
হারুইয়াসুমি-spring vacation (spring আর rest এর কানজি পাশাপাশি বসে)
হিরুইয়াসুমি-lunch break… (noon আর rest এর কানজি পাশাপাশি বসে)

গাছের কানজি পারলে এই কানজি লিখাও কোন ব্যপার না 🙂

আজকে এটুকুই … মাতা নে 🙂

Gunslinger Stratos: The Animation [রিভিউ] — Tahsin Faruque Aninda

Gunslinger-Stratos-Animated-2015-03

Genre: Action, Sci-Fi
Episodes: 12 + 1 [alternate ending]

Square Enix-এর ফাইটিং গেম গানস্লিঙ্গের স্ট্র্যাটোসের উপর ভিত্তি করে তৈরি আনিমে। ফাইটিং গেমের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা আনিমেগুলি সাধারণত ভয়াবহ খারাপ হয়, সেটা থেকেই আন্দাজ করা যায় কিরকম হতে পারে। ২টা ছবি দিয়েছি এখানে, গেমের ভার্শনের তুলনায় আনিমের আর্ট স্টাইলের অবনতি চোখে পড়ার মত। তবে সব মিলিয়ে শুরুর দিকে গল্পের কোয়ালিটি মনে ধরার মত না হলেও surprisingly শেষের দিকে এসে গল্পটা একদম খারাপ হয় নি।

Gunslinger Stratos Game

 [গেম ভার্শন]

Story:
২১১৫ সালের ঘটনা, Degradation নামের এক ধরণের রোগ ছড়িয়ে পরেছে, যার ফলে কথা নাই বার্তা নাই হঠাত যে কেউ এক নিমিষে ধুলার মত হয়ে গিয়ে উড়ে যেতে পারে, অস্তিত্ব একদম নাই হয়ে যায় যেন।
গল্পের নায়ক তোহরু কাজাসুমি একদম হঠাত নিজেকে এমন জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করে যেখানে বিল্ডিং, গাড়িঘোরা, মানুষ, সবকিছু একদম পুরানো পুরানো; আর এর মধ্যে হঠাত গোলাগুলির মধ্যে পরে সে। বিস্ময় নিয়ে আবিষ্কার করে তার দিকে যে গুলি ছুড়ছে সে আর কেউ না, নিজেই!
পরে আকস্মিক বিপদ থেকে উদ্ধার হবার পর জানতে পারে দুই প্যারালাল পৃথিবীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে, যেখানে দুই পৃথিবীর প্রতিনিধিরা নেমে পরে নিজেদের দুনিয়া বাঁচাতে। Degradation-এর হাত থেকে মুক্তির জন্যে একমাত্র উপায় কোন এক পৃথিবীর ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

গল্পের মূল থিম বেশ ইন্টারেস্টিং হলেও প্রথম দিকে আনিমেটা দেখতে একটু বোরিং লাগছিল। তবে শেষের কয়েক পর্বের দিকে গিয়ে আনিমেটাকে একটা মোটামুটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছে।

Art:
২০১৫ সালের এই সিরিজের আগে ২০১৪ সালে একটা প্রোমোশনাল ভিডিও বের করে, সেইটার আর্ট স্টাইল অনেক বেশি ভাল ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের সিরিজটার আর্টস্টাইল মনে ধরার মত না। বিশেষ করে চোখগুলা আর মুখের গড়ণ আগেই দেখার ইচ্ছা অনেক কমিয়ে দিতে পারে। তবে এইটুক অংশ বাদ দিলে সব মিলিয়ে আর্টস্টাইল একদম খারাপ না। একশন দৃশ্যগুলি সুন্দর আছে।

Music and Songs:
মিউজিক চমৎকার ছিল, এখনকার যুগের একটা ট্রেন্ড যেন হয়ে গিয়েছে অল্পস্বল্প বা একদমই খারাপ সিরিজের OSTগুলি যেন খুবই ভাল হয়ে যায়! এখানেও সেরকমই অবস্থা, মিউজিকগুলা আনিমেটি দেখার মুহুর্তগুলি বেশ অনেক অংশে উপভোগ্য করতে পেরেছে। আর ওপেনিং ও এন্ডিং গান দুটি গত বছরের অন্যতম দুটি সুন্দর গান ছিল।

Ending:
স্পয়লার না দিয়ে এন্ডিং নিয়ে আলাদা করে বলছি, কারণ সিরিজটা শেষ হবার সময়ে দুটি এন্ডিং বের হয়েছিল। টিভিতে এয়ার হবার সময়ে এক এন্ডিং, এবং একই দিনে nico-তে alternate ending এয়ার হয়েছিল। অরিজিনাল এন্ডিং গল্পের টোন ঠিক রেখেই হয়েছিল, কিন্তু অলটারনেট এন্ডিংটা কিছুটা অবাক করতে পারে। অবশ্য “alternate” ending, অবাক করার জন্যেই বানানো হয়েছিল।

পরিশেষে, আপনার যদি sci-fi ধাঁচের একটা survival আনিমে দেখতে ইচ্ছা করে, সিরিজটি ট্রাই দিয়ে দেখতে পারেন। একদম উচ্চাশা নিয়ে না বসে বরং এক্সপেক্টেশন একটু কমিয়ে নিয়ে দেখতে গেলে উপভোগ করতে পারবেন। তবে আপনার যদি খুব ভাল ভাল আনিমে ছাড়া কোন কিছু দেখার সময় না থাকে বা আগ্রহ না থাকে, সিরিজটি ইগ্নোর করতে পারেন।

MAL Rating: 6.31/10
Personal Rating: 7.2/10

Alternate Ending-টি দেখতে চাইলে এখান থেকে নামিয়ে নিন:
http://www.nyaa.se/?page=view&tid=703354

Natsuyuki Rendezvous [রিভিউ] — Ahmed Samira Niha

Natsuyuki Rendezvous 1

নাতসুইউকি র্ঁদেভ্যু

মিষ্টি মিষ্টি প্রেমের মাঝে কড়া তেতো বাস্তবতা মেশানো অদ্ভুত রকমের সুন্দর এক জোসেই এনিমে । শুরুটা হয় খুবই হালকাভাবে কিছু কমেডি মেশানো দুষ্টু প্রেমের খুনসুটি দিয়ে। এনিমের মাঝে গিয়ে প্রচুর ভাবায়,কোনটা ঠিক,কোনটা ভুল-আবেগের কাছে ধরাশায়ী হওয়া উচিত নাকি অতীতের কথা মাথায় রেখে সামনে আগানো যাবেনা নাকি সব ছেড়েছুড়ে শেষ পন্থা হিসেবে আত্নহনন?

Natsuyuki Rendezvous 2
২২ বছরের হাযুকি প্রত্যেকদিন এক ফুলের দোকানের সামনে যায় মধ্যবয়স্কা রোক্কা-চানের সাথে শুধুমাত্র একটু আলাপের আশায়। রোক্কার গোল মুখ,অমায়িক হাসি আর একটুখানি মমতায় ভরা কথাবার্তাই বাকি দিন পার করে দেওয়ার জন্য হাযুকির কাছে যথেষ্ট। উপরওয়ালা যখন মুখ চেয়ে তাকালো,তখনই হাযুকি সুযোগ বুঝে পার্ট-টাইম চাকরি নিয়ে ফেললো রোক্কার দোকানে। কিন্তু বিধি-বাম,রোক্কাকে একদিন দেখে ফেললো আরেক ছেলের সাথে। ভগ্নহৃদয়ে যখন হাল ছেড়ে দিয়ে হাযুকি কেবলই সিগারেট ধরাতে উদ্যত,তখনই সে আবিষ্কার করলো যে লোকটি আর কেউই না,রোক্কার পরলোকগত স্বামী,আতসুশি শিমাও এবং ইনাকে হাযুকি ছাড়া আর কেউই চোখে দেখে না। এই শিমাও কুন বড্ড স্বার্থপর্। রোক্কাকে নিজের কাছে রাখতে চায়,মুভ অন করতে দেয়না। রোক্কা আর হাযুকির ইন্টিমেট মোমেন্টগুলোতে এসে ঝামেলা করে দেয়। কাউকেই প্রোগ্রেস করতে দেয়না। আপাতদৃষ্টিতে কথাগুলো হিউমারাস মনে হলেও,দেখতে বড়ই কষ্টের্। রোক্কার নিজের স্বামীর প্রতি ফিলিংস প্লাস হাযুকির জন্য নতুন নতুন সব অনুভুতিগুলো সামাল দেওয়া,মুভ অন করার যে আত্মদ্বন্দ- এসব দেখা বড়ই “heart-wrenching”

Natsuyuki Rendezvous 6 Natsuyuki Rendezvous 5

এন্ডিং এ কি হয় বলবো না,কিন্তু আমার দেখা অন্যতম প্রিয় এন্ডিংগুলোর মাঝে এইটা থাকবে। শেষ যখন “ইতাযুরা না কিস” দেখেছিলাম,তখন এরকম তৃপ্তি পেয়েছিলাম। জোসেই ফ্যানদের জন্য মাস্ট ওয়াচ। আর আপনার যদি সাকামিচি নো এপোলোন,নানা,কুরাগেহিমে,শৌওয়া রাকুগো ভাল্লাগে,তাহলে অবশ্যই এটা দেখবেন।

Natsuyuki Rendezvous 3 Natsuyuki Rendezvous 4
ওপেনিং আর এন্ডিং সং খুব বেশি সুন্দর্। একেবারে মন ঠান্ডা করে দেওয়ার মত। আর প্রত্যেকটা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুব বেশি সুথিং। অলস গ্রীষ্মের দুপুরে কিছু না করার থাকলে এক সিটিং এ শেষ করে দিতে পারেন ১১ এপিসোডের এই অসাধারন এনিমে।

আমার রেটিং ৯/১০

Natsuyuki Rendezvous 8 Natsuyuki Rendezvous 7

Behind the Voices – 17

নাকাই কাযুয়া

নাকাই কাযুয়া স্বীকৃত ভেটেরান কণ্ঠ অভিনেতাদের একজন । তার কণ্ঠটা বেশ ইউনিক এবং কিছুটা অ্যাগ্রেসিভ কিন্তু বেশ ম্যানলি শোনায় । সাধারণত মূল চরিত্রের প্রতিদ্বন্দ্বী এমন সব চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েই বেশ পরিচিত উনি ।

শৌনেন আনিমের জগৎের দুইজন বড় চরিত্র হল এক টুকরার রোরোনোয়া জোরো এবং গিন্তামার হিজিকাতা, এই দুই চরিত্রের জন্যই তার ৮০% খ্যাতি । এই দুইজনের জন্যই তিনি 5th Seiyu Awards-এ ‘Best Supporting Actor’-এর খেতাবটা জিতেছিলেন । কিন্তু তারপরও সামুরাই চাম্পলূর মূগেন রোলটার জন্যও তার একগাদা ভক্ত আছে । ১৯৯৬ সালে After War Gundam X-এ উইট্জ সৌ চরিত্রটি দিয়ে তার অভিষেক । তার প্রথম বড় রোল হল ওয়ান পিসের রোরোনোয়া জোরো এবং সে এই একটি রোল থেকেই সে আস্তে আস্তে ভালো সব চরিত্রের রোল পেতে থাকেন তিনি । তার ভক্তদের মাঝে এক বড় রকমের বিতর্ক রয়েছে, তা হল জোরো নাকি হিজিকাতা কোনটা সেরা রোল তা নিয়ে । আমার মতামত দিতে হলে বলবো, Samurai Champloo-র মুগেন আর Sengoku Basara-র দাতে মাসামুনে ।মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সাথে কোন সম্পর্কই নেই তার খালি Ixion Saga-র ওপেনিংটায় কণ্ঠ দিয়েছিলেন ।

Kazuya Nakai 1

আমার কাছে তার যে রোলগুলো বেশ পছন্দের তা হল Samurai Champloo-র মুগেন, Chihayafuru-র রেট্রো, Sengoku Basara-র দাতে মাসামুনে, Kuroko no Basket-র ইমায়োশি, xxxHOLiC-র দৌমেকি, Tegami Bachi-র জিগি পেপ্পার, Ao no Exorcist-র সুগুরো রিয়ূজি ।

তার জন্ম নভেম্বর 25, 1967 । এ বছরে Joker Game আনিমেটিতে ফুকুমোতো চরিত্রটির কণ্ঠ দিবেন । নাকাই কাযুয়া যে একজন দক্ষ এবং অভিঙ্গ কণ্ঠ অভিনেতা তা সবায় মানতে রাজি ।

Kazuya Nakai 2

 

উয়েসাকা সুমিরে

উয়েসাকা সুমিরে অনেকটা নতুন কণ্ঠ অভিনেত্রীদের কাতারেই পরে । যদিও ২০১১ থেকে কণ্ঠ অভিনয় করেন কিন্তু তুলনামূলক রোল অনেক কম । যদিও এই সিজনে তার ৫ টা রোল, যা অনেক অভিজ্ঞ সেইয়ূদের তুলনায় বেশি ।

উয়েসাকা সুমিরে প্রথমে সবার নজরে আসেন Chuunibyou demo Koi ga Shitai আনিমেটার দেকোমোরি রোলটা দিয়ে । দেকোমোরি চরিত্রটি বেশ মজার ছিল, আর তার এই ‘ডেস ডেস’-এর কারণে লোকজন তাকে আরও বেশি করে মনে রাখবে, এর আসল প্রশংসার প্রাপ্য তো সে-ই যে তার কণ্ঠ দিয়েছেন । তার পরেও বেশ কিছু রোল করেছেন কিন্তু দেকোমোরির মত আনিমে ভক্তদের মাঝে অতটা আলোরোন তৈরি করতে পারেনি, যদিও কাঙ্কোলের ফুবুকি রোলটা পেরেছে কিছুটা । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল চুনিবিয়োর দেকোমোরি, কাঙ্কোলের হিরয়ূ এবং গার্ল্স উন্ড পান্জারের নোন্না ।

তাকে লোকজন বিশেষ করে চেনে তার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং রাশিয়ার প্রতি গভির টান সাথে রাশিয়ান ভাষার উপর দক্ষতার জন্য । সে রাশিয়ার ইতিহাশ, মিলিটারি, সাহিত্য এবং চারুকলার বিশাল ভক্ত । আনিমেতেও কয়েকটি রাশিয়ান চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি । এছাড়া তিনি কিন্তু আনিমেতেও রাশিয়ান চরিত্রদের কণ্ঠ দিয়েছেন । এদের মধ্যে আছে Girls und Panzer-এর নোন্না এবং The IdolM@ster-এর আনাস্টাসিয়া । তার আনিমের মাঝে রাশিয়ান শুনতে চাইলে https://goo.gl/fOQIhMএই ক্লিপটার ঠিক ৩:৪০ মিনিটে চলে যান তাহলেই দেখতে শুনতে । চরিত্র না চিনতে পারলে বলে রাখি কালো চুলের মেয়েটার কণ্ঠ সুমিরের । ক্লিপটা পুরাটাও দেখতে পারুন কেননা আর কয়েক দিন পর মুভিটার ব্লুরে আসছে আর এটা অনেক উপভোগ করার মত একটা সিরিজই । তবে এই গার্লস উন্ড পান্জারের ফিল্ম দেখার আগে ১২ পর্বের আনিমেটা দেখা আবশ্যক । যাই হোক, এবার প্রশঙ্গে আসি । এই মহিলার রাশিয়া সম্পর্কে অনেক আগ্রহ কেননা আপাতত তিনি Sophia University-তে ‘Department of Russian Studies’-এ ‘রেড আর্মির ইতিহাশের’ উপরই কোর্স করছেন একটা । এ সম্পর্কে আরও বেশি জানতে ইচ্ছে করলে এই আর্টিকেলটা পড়ে দেখতে পারেন http://goo.gl/u7rsyS । রাশিয়ানের পাশাপাশি ইংরেজি এবং চাইনিজেও তার দক্ষতা আছে । তার রাশিয়ার প্রতি আলাদা টানটা খানিকটা উপলবদ্ধি করতে পারি, দেশটির ফোক গানগুলো আসলেই সুন্দর (যদিও আমার জাপানের প্রতি টান বেশি 😛 )

Sumire Uesaka 1

উয়েসাকা একজন জে-পপ তারকাও । উয়েসাকার মিউজিক এবং সেইয়ূ ক্যারিয়ারের সব কাজ এক নজরে দেখে আসতে এই লিঙ্কে যেতে পারুন http://goo.gl/JlCnQ3 । উয়েসাকার গানগুলোর এক বিশেষ ক্ষ্যতি আছে তা হল গানগুলো বেশ উদ্ভট হয়, কথাটা আসলেই সত্য । সুমিরে Genshiken, Ore Twin Tails ni Narimasu, IDOLM@STER Cindrella Girls s2, Chuunibyou demo Koi ga Shitai, Muromi-san, Nobunagun, Shimoneta, Show by Rock আনিমের ওপেনিং/এন্ডিংগুলোতে একক নাহলে দলিয়ভাবে গেয়েছেন ।

মহিলার আনিমেতে কণ্ঠ দেওয়া ছাড়াও আনিমের প্রতি এক আলাদা টান আছে । তিনি বিশেষ করে জোজো এবং গলগো ১৩-এর ভক্ত । এছাড়া সুমিরের সবচেয়ে প্রিয় ট্যাঙ্ক BT-5 । তার জন্ম ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৯১ । উয়েসাকা সুমিরে সামনে যে সামনে বেশ বড় একজন কণ্ঠ-অভিনেত্রী হবেন তা বেশ পরিষ্কার । এখন পর্যন্ত সুমিরের অত একটা রোল দেখা হয়নি কিন্তু সামনে যে প্রতি সিজনেই তার একাধিক রোল দেখবো , তা বুঝা যাচ্ছে ।

Sumire Uesaka 2

Denpa Onna to Seishun Otoko [Review] — Santo Kun

রহস্য কার না পছন্দ?মানুষের জীবন এইদুনিয়া সবই রহস্যে ঘেরা। আপনি যদি বলেন আপনি ভয় পান না বা ভূত,এলিয়েন ইত্যাদিতেবিশ্বাস করেন না তাহলে আপনি মিথ্যা বলছেন। আপনি যতই বলেন না কেন বিশ্বাস করেন না মনেরভিতরে কোন এক অংশ জিনিসগুলোকে পুরোপুরি ভাবে ফেলে দিতে পারে না। ৯৯ শতাংশ যদিবাস্তবে মন দেয় তাহলে অন্তত ১ শতাংশ সমস্ত অবিশ্বাস্য জগতে বিশ্বাস করে। এবং তাসঠিক সময়ে বের হয়ে আসে।রিয়ালিটি এমনই কেমন জানি একটা বন্ধ ঘরে আটকানো। ঘরের মধ্যেরঘুরাঘুরি করা যায় কিন্তু অবাস্তবতাকে ওপারে কল্পনায় রেখে দিতে হয় যা শুধু অনুভবকরা যায়।

Denpa Onna to Seishun Otoko 1

ধরুন হঠাৎ করে কেও একজন নিজেকে এলিয়েনদাবি করে বসলো। আপনি কি পারবেন তাকে বিশ্বাস করতে? বা হেসে উয়িয়ে দিতে? মানুষের মনকল্পনা প্রেমি তাই কিভাবে জানি এসব বিষয় কে বিশ্বাস করতে গিয়ে নিজে নিজে বাস্তবেরসাথে মিলিয়ে অবাস্তবতাকে প্রকাশ করে। এইটাকেই আমরা “Coincident” বলি।

Denpa Onna to Seishun Otoko 2

তেমনি এক চরিত্র তউয়া এরিও যে নিজেকেএলিয়েন মনে করে।স্বাগতম আপনাকে এমন এক শহরে যেখানে এলিয়েন আনাগোনা বেশি বলে মনেকরা হয়। এ শহরে নাকি এলিয়েন দেখা যায় এবং এলিয়েন মানুষদের তুলে নিয়ে যায়।আপাদেনএরিও-চান নাকি তাদের মধ্যে একজন। এরিও চান প্রায় অর্ধেক বছর নিখোঁজ ছিল সমুদ্রেএবং এই অর্ধেক বছরে তার সাথে কি হয়েছে এসব তার কিছুই মনে নেই। সে মনে করে এসব তারসাথে এলিয়েন করেছে। এরিও চান একটু অদ্ভুত ধরনের নিজেকে ফুটনের মধ্যে জরিয়ে রাখেকাউকে তার চেহারা দেখতে দেয় না।তার ঘরে তাকে কেউ নোটিস করে না যা মাকতো কুন কে খুববিস্মিত করে।

Denpa Onna to Seishun Otoko 3

মাকতো কুন হল এরিও চান এর কাজিন। তার বাবামা বিস্নেস ট্রিপ এ গেলে তাকে তার অ্যান্টির বাসার শিফট হতে হয়।এবং সেখানে তাকেঅনেক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাতে হয়। কাহিনী মাকতো কুন কে ঘিরে। এরিও চানকে যখন সে প্রথম দেখে তখন তার চোখ কে বিশ্বাস করতে পারে না কেও এত সুন্দর কিভাবেহতে পারে। কে তুমি? এলিয়েন? নাকি এক সুপ্ত রাজকুমারি? আসলেই এরিও চান অনেকসুন্দরী।জ্যোৎস্না রাতে চাঁদেকে আরাল করে বাতাসে উরে যাওয়া আকাশী চুলের বাহার যেকারও মনকে কেড়ে নিবে। আপনি বোধহয়ই এমন সুন্দর এনিমে চরিত্র খুব কমই দেখেন।কাওাইনেস ওভারলোড তার চেহারা আর কণ্ঠে।

Denpa Onna to Seishun Otoko 4

সিরিজটা একটু স্লো হলেও প্রত্যেক মুহূর্তএঞ্জয় করার মত। স্লাইস অফ লাইফ এনিমে কিছুটা এমনই হয়। এনিমের ওপেনিং আর এন্ডিং হল সেরা কিউট ওপেনিং আর এন্ডিং। আমার মনে হয় না আর কোন এনিমেআছে যার ওপেনিং আর এন্ডিং।

ওপেনিং লিঙ্ক:

https://www.youtube.com/watch?v=i6fwe3EFTRQ

এন্ডিং লিঙ্ক:

https://www.youtube.com/watch?v=IJ5dcnP87oE

Denpa Onna to Seishun Otoko 5

এনিমেটি এনিমেশন করে Shaft Studios। সাফট স্টুডিও  কিছু পপুলার কাজ হল মনোগাতারি সিরিজ,নিসেকই, মাদোকা মেজিকাইত্যাদি। তাহলে বুজতেই পারছেন এনিমেশন কোয়ালিটি কেমন হবে এবং প্রত্যেকটি চরিত্রকেকত সুন্দর করে উপস্থাপন করা হবে।তাই এরিও চান সহ অন্যান্য মেয়ে চরিত্রের দিক থেকেচোখ সরানো মুশকিল।এনিমে স্লাইস অফ লাইফের সাথে কিছু সাইফাই মিশানো তাই তাইঅন্যান্য স্লাইস অফ লাইফ থেকে একটু ভিন্ন তা আপনারা এনিমের কনসেপ্ট পড়ে বুঝে গেছেনআই হোপ।

ধন্যবাদ।

এনিমে ডাউনলোড লিঙ্ক= https://kissanime.to/Anime/Denpa-Onna-to-Seishun-Otoko

Anime information:
Name: Denpa Onna to Seishun Otoko
Episode:12+1 special
Status: Complete
Source: Light novel
Genres: Comedy, Sci-Fi, Seinen, Slice of Life
Mal Score: 7.37
Personal Score: 8

Studio Monogatari: Episode 05

আজকের স্টুডিও নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে একটি ছোট্ট গল্প থাকলো:

জাপানে একটি বেশ জনপ্রিয় সাইন্স ফিকশন কনভেনশন আছে, নাম Nihon SF Taikai (Japan SF Convention), যেটি বিভিন্ন বছর বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়। যেই শহরে অনুষ্ঠিত হয় সেই শহরের নাম অনুযায়ী এই কনভেনশনের ডাকনাম দেওয়া হয়। যেমন, টোকিও শহরে হলে সেবারেরটির নাম হয় TOKON, ওসাকা শহরে হলে নাম হয় DAICON, নাগোয়াতে হলে MEICON ইত্যাদি। কনভেনশনগুলি তাদের এই ডাকনামেই বেশি পরিচিত।

১৯৮১ সালে অনুষ্ঠিত হয় DAICON 3 [অর্থাৎ দাইকনের ৩য় আসর], এবং সেইবার কনভেনশনটির ওপেনিং গান তৈরির দায়িত্ব নেয় একদল শৌখিন অ্যানিমেটর, যারা Daicon Films নামের একটি অপেশাদার অ্যানিমেশন দল তৈরি করেছিল। তারা একটি মিউজিক ভিডিও তৈরি করে অনুষ্ঠানটির জন্যে, যেখানে দেখানো হয় স্পেসশিপ থেকে কয়েকজন লোক এসে ছোট একটি মেয়েকে এক বোতল পানি দেয় এবং সেটি একটি মূলা গাছে ঢেলে দিতে হবে যেন। মেয়েটি সেই পানির বোতল নিয়ে যেতে থাকে, কিন্তু পথে বিভিন্ন শত্রু তাকে আক্রমণ করে। রোবট, স্পেসশিপ ইত্যাদি বিভিন্ন সাই-ফাই উপকরণ নিয়ে আসে এই ভিডিওতে, এবং মেয়েটি সবার মারামারি করে অবশেষে সেই মূলা গাছটির কাছে যেতে পারে। গাছটিতে সেই পানি ঢালবার সাথে সাথে সেটি একটি বিশাল স্পেসশিপে পরিণত হয়, এবং মেয়েটি ক্যাপ্টেন হয়ে যায় সেটির। অবশেষে স্পেসশিপটি নিয়ে মেয়েটি মহাকাশে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। ভিডিওটি দিয়েই উদ্বোধনি হয় কনভেনশনের। এখানে বলে রাখা ভাল, মূলা জিনিসটি দেখানোর কারণ pun হিসাবে ব্যবহার করেছে [Daicon ~ Daikon = Radish]!

অপেশাদার কয়েকজন অ্যানিমেটরের তৈরি এই ভিডিওটি দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়, প্রশংসায় ভাসানো হয় তাদের। তাদের উন্নতমানের অ্যানিমেশন কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে Studio Nue তাদের দুইজনকে একটি কাজের জন্যে প্রস্তাব দেয়, তাদের পরবর্তী আনিমে Macross-এ কাজ করার প্রস্তাব!

সময়ের সাথে সাথে কিছুদিনের মধ্যেই তাদের খ্যাতি ছড়িয়ে পরে, DAICON 4 এর জন্যেও তারা এরকম আরেকটি ভিডিও বানায়, যা আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠে মূলত এবার তাদের কাজের কোয়ালিটির উন্নতি ঘটায়। ৬ জনের সেই শৌখিন অ্যানিমেটরের তৈরি Daicon Films নতুন নাম নিয়ে আসে অ্যানিমেশন স্টুডিওর জগতে, আর প্রতিষ্ঠা করে Gainax স্টুডিও।

Gainax

1. Gainax logo

আশির দশকের শুরুর দিকে তরুণ অ্যানিমেটর Hideaki Anno, Yoshiyuki Sadamoto, Hiroyuki Yamaga, Takami Akai, Toshio Okada, Yasuhiro Takeda এবং Shinji Higuchi গড়ে তুলেন Daicon Films নামের একটি প্রতিষ্ঠান, এটিই ছিল গাইনাক্সের প্রথম রূপ। DAICON 3 এর খ্যাতির পর Studio Nue তাদের পরবর্তী আনিমে Macross-এ কাজ করার প্রস্তাব দেয় হিদেয়াকি আন্নো আর হিরোয়ুকি ইয়ামাগাকে। এই আনিমেতে কাজ করার মাধ্যমে প্রফেশনাল আনিমের জগতে পা ফেলার সুযোগ পায় তারা। আর এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা ১৯৮৩ সালের DAICON 4-এর ওপেনিং ভিডিও তৈরি করে সবাইকে আরও বেশি অবাক করে দেয়। এই ভিডিও তৈরির জন্যে তারা একটি আনিমে স্টুডিও ভাড়া করে যেন প্রফেশনাল কাজ উপহার দিতে পারে। এবারের মিউজিক ভিডিওতে আগের ভিডিওর সেই মেয়েটিকেই দেখায়, কিন্তু এবার সে বয়সে বড় থাকে। একটি playboy bunny suit পরে বিভিন্ন শত্রুদের সাথে মারামারি করতে দেখা যায় তাকে, যেসব শত্রুর মধ্যে Darth Vader, Power Rangers-দের দেখা যায়, এমনকি ভিডিওটিতে আরও দেখা যায় গান্দাম, ম্যাক্রস ভ্যালকাইরি, Alien, সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যানসহ অনেক জনপ্রিয় ওয়েস্টার্ন চরিত্র থাকে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে Electric Light Orchestra-এর জনপ্রিয় মিউজিক “Twilight” [যেটি সম্ভবত অফিসিয়াল উপায়ে অনুমতি নিয়ে করা হয় নি]।

2. Daicon

দাইকনের সাফল্যের পর এই কজন অ্যানিমেটর ঠিক করে এবার তারা বড় কোন কাজের দিকে হাত বাড়াবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ, যোগাযোগ করে Bandai Entertainment-এর সাথে। Bandai তাদের কাজে মুগ্ধ হয়ে একটি মুভি তৈরির প্রস্তাব দেয়, Royal Space Force-এর মুভির কাজের প্রস্তাব ছিল এটি। এই কাজের জন্যে ৮০০ মিলিয়েন ইয়েনের প্রস্তাব দেয় তারা। দাইকন ফিল্মস এতে রাজী হয়ে যায়, এবং প্রফেশনাল কাজ শুরুর জন্যে ১৯৮৪-১৯৮৫ সালের দিকে নাম পরিবর্তন করে Gainax নাম নিয়ে হাজির হয়।

3. creators

 

নামকরণ

Gainax নামটি ঠিক করার জন্যে তারা বেছে জাপানিজ শব্দ Gaina, যার অর্থ বড়, বিশাল, বা দৈত্যাকৃতির, আর তার সাথে শেষে একটি X লাগিয়ে দেয়, যেন নামের মধ্যে একটা ভাব আসে, দেখতে ভাবচক্করওয়ালা লাগে। ব্যস, অফিসিয়ালি Gainax নামের স্টুডিও তৈরি করে ফেলল সেই অ্যানিমেটররা। যদিও তখন তারা ধরে নিয়েছিল পার্মানেন্ট নয় বরং অল্প কিছুদিনের জন্যে এই নাম থাকবে তাদের, কিন্তু কন্ট্র্যাক্ট সংক্রান্ত কারণে এই নাম আর পরিবর্তন করার সুযোগ পায় নি তারা।

গাইনাক্স নামে আত্মপ্রকাশের পরবর্তী সময়ে তাদের কাজের কিছু অংশ উল্লেখ করা হল এখানে-

  • ১৯৮৯ সাল: বান্দাই এন্টারটেইনমেন্টের প্রস্তাবনা নেবার পর ১৯৮৭ সালে গাইনাক্স তাদের প্রথম কাজ Royal Space Force: The Wings of Honneamise মুভিটি নিয়ে আসে। মুভিটি ছিল তখনকার সময়ের সাধারণ আনিমের আইডিয়া থেকে একদমই আলাদা। গল্পের ধরণ, আর্টস্টাইল, অনেক দিক থেকেই মুভিটি অন্যরকম ছিল, আর জনপ্রিয়তাও পায় প্রচুর। এমনকি পশ্চিমাবিশ্বেও এটি প্রকাশিত হয় পরে।
  • ১৯৮৮ সাল: এই সাফল্যের পর বান্দাই আরেকটি প্রস্তাবনা নিয়ে আসে – এমন একটি সিরিজ তৈরি করতে হবে যার সাফল্য পেতে তো হবেই, একই সাথে অন্তত ১০ হাজার কপি বিক্রয় করতেও সক্ষম হবে। তাদের এই প্রস্তাবে সাড়া দেয় গাইনাক্স, এবং বান্দাইয়ের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেয়। ১৯৮৮ সালে নিয়ে আসে OVA সিরিজ Gunbuster, যেটি গাইনাক্সের অন্যতম বড় একটি মাইলফলক সিরিজ। প্রথমে কথা ছিল শিনজি হিগুচি সিরিজটি পরিচালনা করবেন, কিন্তু অন্যান্য কিছু প্রোজেক্ট নিয়ে ব্যস্ততার কারণে তা হয়ে উঠে না। ফলে পরিচালনার দায়িত্ব যায় হিদেয়াকি আন্নোর ঘাড়ে, আর এভাবেই ডিরেক্টর হিসাবে হিদেয়াকি আন্নোর অভিষেক হয়।
  • ১৯৮৯ সাল: ডেইলি সিরিজ Sakyo Komatsu’s Animation Theater নিয়ে আসে গাইনাক্স, তবে সিরিজটি তেমন সাড়া ফেলতে পারে নি।
  • ১৯৯০ সাল: বছরটি গাইনাক্সের জন্যে অনেক বিশেষ ছিল। এই বছরে তারা একটি নতুন প্রোজেক্ট নিয়ে আসে, নাম Nadia: Secret of Blue Water. সিরিজটি কে পরিচালনা করবে সেটি নিয়ে অনেক জটিলতা থাকলেও শেষপর্যন্ত হিদেয়াকি আন্নোকেই পরিচালক হিসাবে ঠিক করা হয়, আর গাইনাক্স নিজেরাই সিরিজটির প্রডিউসার হয়। প্রোজেক্টটি অনেক ব্যয়বহুল ছিল, আর এটি তৈরি করতে গিয়ে গাইনাক্সকে অনেক দেনার মধ্যে পরতে হয়েছিল। তবে সিরিজটির জনপ্রিয়তা মূলধারার আনিমে দর্শকদের কাছে গাইনাক্সকে পরিচিত করে তুলে।
  • ১৯৯১ সাল: এই বছর গাইনাক্স নিয়ে আসে OVA সিরিজ Otaku no Video, যা ওতাকুদের জীবন-যাপন নিয়ে একটি প্যারোডি সিরিজ হিসাবে তৈরি করা হয়। আনিমের ফাঁকে ফাঁকে বাস্তবের এক ওতাকুর ইন্টারভিউ দেখায়, আরও এখানে গাইনাক্সের নিজেদের স্টুডিওরই প্যারোডি তুলে ধরে তারা।
  • ১৯৯৫ সাল: এরকম সময়ে ধারদেনা নিয়ে বেশ কিছু সমস্যায় পরতে হয় গাইনাক্সকে, আর একই সাথে বেশ কয়েকজন স্টাফ গাইনাক্স ছেড়ে চলে যায়। গাইনাক্স তখন বেশ কিছু এডাল্ট ভিডিও গেম বের করে, যেগুলির বিক্রয় তাদের ধারদেনার অনেক অংশই শোধ করতে সাহায্য করে। নিজেদের এসব সমস্যার অনেকগুলিই মিটিয়ে ফেলবার পর ১৯৯৫ সালের দিকে এসে হিদেয়াকি আন্নো একটি প্রোজেক্ট হাতে নেয়, যা আনিমের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবেই চিরকাল থেকে যাবে। সময়টা গাইনাক্সের জন্যে এবং আন্নোর নিজের জন্যেও ভাল যাচ্ছিল না। স্টুডিওর ধারদেনার সমস্যা, দিন-কে-দিন আনিমের জন্যে বরাদ্য বাজেট কমে আসা, এবং কাজ সংক্রান্ত কারণে আন্নোর বিষণ্ণতা সব মিলিয়ে অনেক ধকলের একটা সময় যাচ্ছিল। এরকম সময়ে আন্নো নতুন এক প্রোজেক্টের আইডিয়া নিয়ে আসে, যেই প্রোজেক্টের ব্যাপারে শুধু আন্নো নিজেই নয়, বরং পুরা গাইনাক্সও আত্মবিশ্বাসী ছিল এই প্রোজেক্টের সাফল্যের ব্যাপারে। প্রোজেক্টটি হল Neon Genesis Evangelion, আনিমের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়।
  • Neon Genesis Evangelion: শুরুর দিকে ইভাঞ্জেলিয়নের ভাগ্যের শিকে ছিড়তে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয় গাইনাক্সকে। প্রথম প্রথম কেউই সিরিজটির মার্চেন্ডাইজ লাইসেন্স কিনতে চাচ্ছিল না, এর মাঙ্গার ফান্ডিং-এর জন্যে কেউ এগিয়ে আসছিল না। এতকিছুর পরেও গাইনাক্স স্টাফদের মধ্যে সিরিজটি নিয়ে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যায় নি। এমন কি হিদেয়াকি আন্নো প্রতিশ্রুতিই দিয়ে দেয় ইভাঞ্জেলিয়ন ব্যবসাসফল হবে। ১৯৯৫ সালে সিরিজটি প্রচার হওয়া শুরু করলে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয় নি প্রোজেক্টটি নিয়ে, ইভাঞ্জেলিয়ন মানেই যেন তখন রমরমা ব্যবসা! ইভাঞ্জেলিয়নের নাম থাকলে যেকোন জিনিসই দেদারসে বিক্রয় হচ্ছে। যদিও শেষের দিকে এসে সিরিজটির বাজেট নিয়ে টানাটানি শেষ দুই পর্বে আনিমে ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কমূলক এন্ডিং-এর জন্ম দেয়, তারপরেও ইভাঞ্জেলিয়ন নামটা এত বেশিই জনপ্রিয় হয়ে উঠে যে সেই নাম ভাঙ্গিয়ে এই ২০১৬ সালে এসেও যেকোন জিনিসের ব্যবসা সফল হয়ে থাকে।
  • ১৯৯৭ সাল: বাজেটের ঘাটতির কারণে ঠিকমত এন্ডিং দেখাতে না পারলেও এরপর ১৯৯৭ সালে আন্নো দুইটি মুভি নিয়ে আসে ইভাঞ্জেলিয়নের এন্ডিং নিয়ে। সেগুলিও একই সাথে জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত হয়ে উঠে।
  • ১৯৯৮-১৯৯৯ সাল: ইভাঞ্জেলিয়নের এরকম মারমার কাটকাট ব্যবসার জন্যে আর এত ভাল সময় কাটাবার পরেও তাদের উপর এরপর বেশ বড় রকমের এক ধাক্কা এসে লাগে। ১৯৯৮ সালের শেষের দিকে এসে ধরা পরে গাইনাক্স বিশাল পরিমাণ কর ফাঁকি দিয়েছে। পরিমাণটাও অবাক করার মত বড়: ৫৬০ মিলিয়ন ইয়েন!! অনেক তদন্তের পর ১৯৯৯ সালে গাইনাক্স প্রেসিডেন্ট Takeshi Sawamura-কে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
  • কর ফাঁকি দেওয়া নিয়ে এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে গাইনাক্সে অনেক বড় ঝড় যায় একটা, তবে গাইনাক্স স্টাফরা নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করতে খুব বেশি সময় নেয় নি।
  • ২০০০ সাল: Production I.G-এর সাথে গাইনাক্সের সম্পর্ক বেশ ভাল ছিল সবসময়েই। তাদের সহযোগিতায় গাইনাক্স ২০০০ সালে আনে স্টুডিওর আরেকটি বড় সাফল্য পাওয়া সিরিজ Fuli Kuli বা FLCL, যা কিনা মডার্ন আনিমের সূচনা করা সিরিজগুলির অন্যতম। এটি তৈরি করা হয়েছিলি এই উদ্দেশ্যে যে সিরিজটি যেন তথাকথিত আনিমে থেকে একদম আলাদা হয়। ইংরেজি ভার্শনের জন্যে প্রায় সব জোক্স নতুন করেও লেখে তারা। FLCL দর্শকরা অনেক ভালভাবেই গ্রহণ করে।
  • ২০০৪ সাল: প্রতিষ্ঠানের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তারা নিয়ে আসে Gunbuster-এর সিকোয়েল সিরিজ
  • ২০০৬ সাল: হিদেয়াকি আন্নো গাইনাক্স ছেড়ে চলে যান। একই সাথে পরবর্তী কিছু সময়ে অনেক অরিজিনাল স্টাফরাও গাইনাক্স ছেড়ে অন্য স্টুডিওতে চলে যায়।
  • ২০০৭ সাল: পরিচালক Hiroyuki Imaishi নিয়ে আসে গাইনাক্সের অন্যতম সেরা সিরিজ Tengen Toppa Gurren Lagann. সিরিজটির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠে, কিন্তু এই সিরিজ চলাকালীন গাইনাক্সের অরিজিনাল মেম্বারদের একজন Takami Akai একই সাথে গুরেন লাগান-এর টিম ছেড়ে এবং গাইনাক্স ছেড়ে চলে যান।
  • ২০১০ সাল: Hiroyuki Imaishi আরেকটি বহুল জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত এন্ডিং-এর জন্যে বিখ্যাত সিরিজ নিয়ে আসেন: Panty & Stocking with Garterbelt. এই সিরিজটিও ছিল গাইনাক্সের আরেকটি আনিমে যা “আনিমে” ধারণা থেকে অনেক দূরে থেকেছে। আর্টস্টাইল দেখলে ওয়েস্টার্ন কার্টুন মনে না হবার কোন কারণ নেই।
  • পরবর্তী সময়: পরবর্তী সময়টা গাইনাক্সের জন্যে খুব ভাল কাটেনি ঠিক। বেশিরভাগ অরিজিনাল স্টাফ গাইনাক্স ছেরে চলে যাবার পর যেই ধরণের কাজের জন্যে গাইনাক্স বিখ্যাত তেমন কোন কিছু আর নিয়ে আসে নি। তবে এই সময়ে অনেক মাঙ্গা আর লাইট নোভেল এডাপশন করে তারা।

 

 

গাইনাক্স স্টাফরা অন্যত্র গিয়ে যেসব জনপ্রিয় স্টুডিও তৈরি করে-

  • Gonzo: ১৯৯২ সালে কিছু সংখ্যক প্রাক্তন গাইনাক্স সদস্য স্টুডিও গঞ্জো প্রতিষ্ঠা করেন।
  • Khara: ২০০৬ সালে হিদেয়াকি আন্নো গাইনাক্স ছেড়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন স্টুডিও খারা। এখানে এসে তিনি নতুন করে ইভাঞ্জেলিয়ন সিরিজ শুরু করেন এবং মুভি আকারে এগুলি নিয়ে আসেন।
  • Trigger: ২০১১ সালে Hiroyuki Imaishi এবং Masahiko Ohtsuka গাইনাক্স ছেড়ে দিয়ে এসে স্টুডিও ট্রিগার প্রতিষ্ঠা করেন। এ কারণে এখনকার সময়ে গাইনাক্সের কাজে “গাইনাক্স” ভাবটা পাওয়া না গেলেও ট্রিগারের কাজে মাঝেমধ্যেই পাওয়া যায় সেই স্বাদ। তাদের কাজ Kill la Kill, Inferno Cop, Ninja Slayer জাতীয় সিরিজগুলির মধ্যে সেই “গাইনাক্স” এর আমেজ পাওয়া যায়।

 

গাইনাক্সের নিজস্বতা আছে অনেক। তাদের সৃষ্ট কাজগুলিতে এমন কিছু জিনিস পাওয়া যায় যার কারণে কোন আনিমে গাইনাক্সের তৈরি এটি শুনলেই দর্শকরা নেড়েচড়ে বসে, কিছু অস্বাভাবিক কিন্তু চমৎকার common idea-এর জিনিস পাওয়া যাবে তাদের আনিমেতে, এই চিন্তাই সবার আগে দর্শকদের মাথায় খেলে যায়। গাইনাক্সের এরকম নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা রইলো-

 

  • Gainax Ending: এক NGE দিয়েই গাইনাক্স আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে রেখে যায় এমন এক অবদান, যার কারণে দর্শকেরা অনেক সিরিজ দেখার সময়েই অস্বস্তিতে থাকে এন্ডিং-এ এসে সব ওলটপালট করে দেওয়া কিছু হবে না তো! সোজা ভাষায় Gainax Ending হল গল্পের এমন এক এন্ডিং যা শুধু অপ্রত্যাশিতই নয়, বরং এমন জিনিস যা কয়েকবার না দেখলে মাথায় ঢুকবে না, কিংবা ঢুকলেও হতবিহবল করে রেখে দিবে দর্শককে। Gainax Ending হল এমন এক এন্ডিং যা দর্শকের Mind Screw করে রেখে যাবে, যা দেখার পর দর্শক মুখে মুখে না হলেও মনে মনে WTF! WTF! বলে চিৎকার করতে থাকবে। Gainax Ending বেশ কয়েকপ্রকার হতে পারে। যেমন – হাসিখুশি এন্ডিং বা দুঃখের এন্ডিং নয়, বরং ৩য় আরেক ধরণের এন্ডিং নিয়ে আসা। আবার অস্পষ্ট ক্লিফহ্যাঙ্গার দিয়ে এন্ডিং হতে পারে। অথবা এমন এন্ডিং হতে পারে যা ধরণে-বলনে এর আগে পুরা সিরিজের সাথে বিন্দুমাত্র মিল রাখে না। অথবা এমন এন্ডিং যা পুরা গল্পটাকে অন্য আঙ্গিকে অন্য দৃষ্টিতে দেখতে বাধ্য করবে আপনাকে। এরকম অদ্ভুতুরে আর ধাক্কা লাগানো এন্ডিং যে পৃথিবীর ইতিহাসে গাইনাক্স শুরু করেছে তা নয়, আরও অনেক আগ থেকেই অনেক গল্পে, মুভিতে ছিল এমন এন্ডিং। কিন্তু ইভাঞ্জেলিয়নের এন্ডিং ব্যাপারটাকে এমন শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে যে Mind-Fu*k ending বুঝাতে গেলে বেশিরভাগ দর্শকই, বিশেষ করে আনিমে দর্শকেরা Gainanx Ending কথাটি ব্যবহার করে থাকে। গাইনাক্সদের নিজেদের যেসব আনিমেতে Gainax Ending রয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকটি: Neon Genesis Evangelion [Gainax Ending শব্দটির উদ্ভাবক], Mahoromatic, Gunbuster, He Is My Master, Magical Shopping Arcade Abenobashi, Panty & Stocking with Garterbelt, Tengen Toppa Gurren Lagann [উল্টাভাবে জিনিসটা নিয়ে আসে, যেখানে সিরিজের শুরুটা এরকম উল্টাপাল্টা হয়, কিন্তু 4. Gainax Endingবাকি সিরিজ সেরকম হয় না], Royal Space Force: The Wings of Honnêamise, Houkago no Pleiades, FLCL [উল্টাভাবে দেখায়, যেখানে পুরা সিরিজটা ওলটপালট হয়ে চলতে থাকে, কিন্তু এন্ডিং থাকে একদম সাধারণ আর স্বাভাবিক]। গাইনাক্স ছাড়া অন্যান্য স্টুডিওর আনিমে যেগুলিতে Gainax Ending দেখা যায় তার কয়েকটি উদাহরণ: Berserk, Mirai Nikki, Chobits, Revolutionary Girl Utena, Dragon Ball GT, Air, Clannad, Kanon, Robotics;Notes, Xam’d: Lost Memories, Gantz, Darker Than Black, Serial Experiments Lain, Mahou Shoujo Madoka★Magica, Mahou Shoujo Madoka★Magica: Rebellion, Guilty Crown, Eureka Seven AO ইত্যাদি। আবার Gainax Ending-এর প্যারোডি দেখা যায় Gintama-এর মাঝের এক পর্বে, Carnival Phantasm-এর প্রথম পর্বে, আবার Kill la Kill-এ এটা নিয়েও শেষের আগের পর্বে মজা করে ভয় দেখানো হয় দর্শকদের। Inferno Cop-এ পুরা Gainax Ending-কে একরকমের উপহাস করা হয় শেষের কয়েকটি পর্বে।
  • Gainaxing: ভদ্র ভাষায় এই ব্যাপারটাকে বুঝাতে গেলে বলতে হবে, কোন নারী চরিত্রকে এমনভাবে উপস্থিত করা হয় যেন তার শরীরে bounce effect অনেক বেশি দেখা যায়। নারীদেহের এক অংশে physics-এর lawগুলি কাজ করে না। গাইনাক্সের আনিমে মানেই যেন তাতে অল্প হলেও Gainaxing থাকবে।
  • Gainax Pose: Gainax Pose বা Gunbuster Pose হল এমন এক অঙ্গভঙ্গি, যেখানে গল্পের প্রোটাগোনিস্ট নায়কোচিত ভাব নিয়ে arms-crossed অবস্থায় থাকবে, শারীরিক ভাষায় একটা গর্বভাব থাকবে, আর আশেপাশে ভিজুয়াল ইফেক্ট হিসাবে বাতাসের প্রবাহ, ধোঁয়া উড়তে দেখা, আগুন জ্বলতে দেখা, আলোর খেলা ইত্যাদি দেখা যাবে। গাইনাক্সের নিজেদের কাজের মধ্যে শুধুমাত্র Gunbuster, Diebuster আর Gurenn Lagann-এই এমন জিনিস দেখা গেলেও এই পোজটির খ্যাতি দুনিয়াজুরে ছড়িয়ে গিয়েছে। নেট জুড়ে দেখা যায় অনেক আর্টিস্ট তাদের পছন্দমত কোন আনিমের নায়ক-নায়িকাকে এরকম Gainax Pose-এ রেখে এঁকেছে।

5. Gainax Pose

  • Mecha: মেকা আনিমে তৈরির প্রতি গাইনাক্সের ঝোঁকটা দেখার মত। সেই DAICON III ও IV থেকে শুরু করে এরপর Gunbuster, NGE, FLCL, Diebuster, Gurren Lagann একে একে অনেকগুলি মেকা আনিমে দিয়ে গিয়েছে গাইনাক্স, এবং তাদের প্রায় সব মেকা আনিমেই তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
  • Deconstruction and Reconstruction: গল্পে একটা আইডিয়া দেখানো, তারপর পুরা জিনিসটাকে ভেঙ্গে আবার নতুন করে গড়ে তুলা, এই ব্যাপারটা গাইনাক্সের বেশ পছন্দের এক আইডিয়া।
  • Shoutout: গাইনাক্সের অনেক আনিমেতেই দেখা যায় অন্যান্য বিভিন্ন জিনিসের প্রতি রেফারেন্স দেখানো। যেমন, FLCL-এ প্রায় প্রতি পর্বেই একগাদা রেফারেন্স থাকতো, বিশেষ করে Lupin III এর রেফারেন্স একটু পরপরই থাকতো। এক পর্বে আর্ট স্টাইল South Park-এর মত করে ফেলে কিছুক্ষণের জন্যে। এমনকি গাইনাক্সের নিজেদের গাইনাক্স-পূর্ব কাজ DAICON-এর প্রতিও ছোট্ট একটি ট্রিব্যুট রাখে এক পর্বে।

গাইনাক্সের কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

  • TV Series: Nadia: The Secret of Blue Water (1990-1991), Neon Genesis Evangelion (1995-1996), His and Her Circumstances (1998-1999), Oruchuban Ebichu (1999), Mahoromatic (2001-2003, 2009), Magical Shopping Arcade Abenobashi (2002), Gurrenn Lagann (2007), Corpse Princess (2008), Hanamaru Kindergarten (2010), Panty & Stocking with Garterbelt (2010), The Mystic Archives of Dantalian (2011), Medaka Box (2012), Wish Upon the Pleiades (2015)
  • OVA: Appleseed (1988), Gunbuster (1988-1989), Otaku no Video (1991), FLCL (2000), Re: Cutie Honey (2004), Diebuster (2004) etc.
  • Films: Royal Space Force: The Wings of Honnêamise (1987), Evangelion: Death and Rebirth (1997), The End of Evangelion (1997), Revival of Evangelion (1997), Gunbuster vs. Diebuster (2006), Gekijōban Tengen Toppa Gurren Lagann (2008-2009) etc.
  • Collaborations with Other Studios: Cowboy Bebop: Knockin’ on Heaven’s Door (2001), Rebuild of Evangelion movies (2007-present)

6. Gainax Collage

গাইনাক্সের গল্পটা একটা রূপকথার গল্প থেকে কোন অংশে কম হয় না আসলে। অল্প কয়েকজন আনিমে পাগল তরুণ মিলে তৈরি করে ফ্যান অ্যানিমেশন, সেখান থেকে বড় স্টুডিও এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ডাক, সেখান থেকে আনিমের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এক আনিমে স্টুডিও নির্মাণ করে ফেলা, কর কেলেংকারি নিয়ে বিশাল খবর ঘটানো, আনিমের ইতিহাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করে দেবার মত কিছু আনিমে তৈরি, দাপটের সাথে ২৫-২৬ বছর রাজত্ব করে ফেলার পর সেই মূল প্রতিষ্ঠাতাদের অনেকেরই প্রস্থান এবং এখন স্টুডিওটির বেহাল দশা – রূপকথার চাইতে অনেক বেশি ঘটনাবহুল গাইনাক্সের জীবনকাহিনী! যদিও এখনও গাইনাক্সে বেশ সক্রিয় ও উৎসাহী অনেক স্টাফ আছে, যারা তাদের মেধার পরিচয় দিয়ে মাঙ্গা ও লাইট নোভেল এডাপশন তৈরি করে যাচ্ছে, তবে গাইনাক্সকে যারা গাইনাক্স বানিয়ে গিয়েছে, তাদের অনুপস্থিতি এখনকার কাজে ভালমতই ফুটে উঠে।

কিন্তু মজার কথা হল, গাইনাক্সের জন্যে আসলে খুব ফাটাফাটি নতুন কিছু নিয়ে আসাও খুব দরকারি না। এক ইভাঞ্জেলিয়নের মার্চেন্ডাইজই এখনও গাইনাক্সকে উপরে তুলে রাখতে যথেষ্ট। কিন্তু আয়ের কথা বাদ দিয়ে বরং দর্শকদের কথা ভাবলে গাইনাক্সের কাছ থেকে চমক জাগানিয়া কোন সিরিজের আশা করাটা এখন হয়তো দুরূহ ব্যাপার। বরং সেরকম কোন আনিমে দেখতে হলে এখন দর্শকদের আগ্রহ থাকে Trigger বা Khara-এর প্রতি, যেখানে গাইনাক্সের প্রতিষ্ঠাতাদের বড় অংশ চলে গিয়ে কাজ করছে এবং গাইনাক্সীয় জিনিস উপহার দিচ্ছে মাঝেমধ্যেই।

7. Gainax chars - Production IG

[Production I.G –এর পক্ষ থেকে গাইনাক্সের জনপ্রিয় চরিত্রদের নিয়ে এই কোলাজটি এঁকেছেন Shigeto Koyama]