Movie Time With Yami – 32

The-Secret-World-of-Arrietty-image-6-e1337491809962

Name: The Secret World of Arrietty / Karigurashi no Arrietty
Duration: 1 hr. 34 min.
MAL Score: 8.16
Ranked: 337
Genre: Fantasy

আমাদের পরিচিত পৃথিবীটাকে অনেক সময়ই হয়ত আমাদের কাছে একঘেয়ে লাগে। কিন্তু যদি এই পৃথিবীটাকেই একটু অন্যভাবে দেখা যায়; ধরুন, আকৃতিতে খুব ছোট্ট কোন মানুষের চোখে, তাহলে কেমন হয়? তখন নিশ্চয়ই অনেক সুক্ষ্ম ব্যাপার চোখে পড়বে, যা সবসময় আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। অভিজ্ঞতাটা মন্দ হবে না, তাইনা!

দুরারোগ্য হৃদরোগে আক্রান্ত “শো”কে ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন সম্পূর্ণ বিশ্রাম করতে, সামান্যতম ক্লান্তি আসে এমন কোন কাজই তার করা চলবে না। শো র ব্যস্ত শহুরে পরিবার তাই তার উপযুক্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে তাকে পাঠিয়ে দেয় শহরের বাইরে নিরিবিলিতে অবস্থিত তার দাদীর বাড়িতে।

শো র দাদীর বাড়িটা বাগান দিয়ে ঘেরা, ছিমছাম, সুন্দর। একপাশে একটি সরু নালাও বয়ে যাচ্ছে। প্রথম দর্শনেই শো টের পায় বাড়িটিতে অচেনা কিছুর উপস্থিতি। বাগানের ছোট ছোট গাছগুলোর আড়ালে আকৃতিতে ছোট্ট একটি মেয়ের ছায়া চোখে পড়ে তার। কৌতুহলী হয়ে সে খোঁজ শুরু করে এ ব্যাপারে। এবং আবিষ্কার করে এক চমকপ্রদ ঘটনা।

মুভিটির কাহিনী আবর্তিত হয় প্রধাণত ছোট্ট আকৃতির মানুষের চোখে দেখা পৃথিবীকে ঘিরে, তাই অ্যানিমেশনে ছোট ছোট ডিটেইলের দিকে অনেক নজর দেয়া হয়েছে, চমৎকার গ্রাফিক্স এবং প্রতিটি দৃশ্যের মেকিং এ যত্নের ছাপ মুভিটিকে জিবলীর অন্যান্য মুভি থেকে আলাদা করেছে। কাহিনীটি গতানুগতিক যেকোন মুভির থেকে একেবারেই অন্যরকম, ধীরস্থির কিন্তু ধারাবাহিক, কোথাও ছন্দপতন নেই, দর্শককে সহজেই ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। আর ওএসটি খুবই চমৎকার, এন্ডিং ট্র্যাকটা মনে রাখার মত।

তাই, খুব ব্যস্ততা না থাকলে দেড়ঘন্টা সময় বের করে এখনই দেখে ফেলুন এই মুভিটি, আর ঘুরে আসুন আরিয়েটির লুকোনো পৃথিবীতে!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/The-Secret-World-of-Arrietty

Ending Song Link-
http://youtu.be/scUyXaWMyAk

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 31

okami-kodomo-no-ame-to-yuki_2012-3-3150x1772

Name- Ookami Kodomo no Ame to Yuki / Wolf Children Ame and Yuki
Duration- 1 hour 57 min.
MAL Score- 8.90
Ranked- 13
Genres- Fantasy, Slice of Life

আজ বলে বিশ্ব ভালবাসা দিবস! তাই, এই দিবস উপলক্ষে আজ সাজেস্ট করছি একটি ভালবাসায় পরিপূর্ণ হৃদয়স্পর্শী মুভি!

মানুষের জীবন বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। জন্ম, বাবা মায়ের সাহায্য নিয়ে বেড়ে ওঠা, তারুণ্য, নিজের পায়ে দাড়ানোর উপযোগী হয়ে ওঠা, বিয়ে, নিজের একটি নতুন পরিবার তৈরি করা, সেই পরিবারকে সামলানো, বেড়ে উঠতে সাহায্য- এবং এই চক্র চলতে থাকে। বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীতে আনন্দ নিয়ে, পরিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার জন্য এসবই অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু সত্যিকারের আনন্দ আসলে কোথায় লুকিয়ে থাকে?

১৯ বছর বয়সী হানাও চেয়েছিল এরকম সুখী একটি জীবন। কলেজপড়ুয়া হানার সাথে পরিচয় হয় ওকামির, এরপর তাদের সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়। তারা বিয়ে করে, তাদের দুটি ফুটফুটে সন্তানও হয়। সবই ঠিক ছিল, সমস্যা একটাই। ওকামি যে আসলে একজন নেকড়েমানব! এবং সে কারণে তাদের সন্তানরাও বাবার মত নেকড়ে এবং মানুষের সংমিশ্রণ।

একদিন এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় হঠাৎ প্রাণ হারায় ওকামি। এবং হানার সুখের সংসারে নেমে আসে অনিশ্চয়তার ছায়া। কিভাবে এই অর্ধ-নেকড়ে বাচ্চাদুটোকে নিয়ে এই মানুষের পৃথিবীতে থাকবে হানা? তাদের ঠিকভাবে বড় করে তুলবেই বা কিভাবে?

আমি একটা কথা সবসময় বলি, ভালবাসার অনেক রকম রূপ আছে। কিন্তু তার মাঝে সবচেয়ে সুন্দর রূপটি হল মা এবং সন্তানের সম্পর্ক। নিঃস্বার্থভাবে নিজের কথা সামান্যতম চিন্তা না করে একজন মা তার সন্তানকে ভালবেসে যান। কিন্তু আমরা কি সবসময় মায়ের কষ্টটাকে উপলব্ধি করতে পারি? মাকে তার প্রাপ্য ভালবাসা, সম্মানটুকু দিতে পারি? এই মুভিটি দেখে অল্প সময়ের জন্য হলেও আশা করি দর্শকদের সবারই নিজের মায়ের কষ্টের কথা মনে পড়বে, আর সেইসাথে অন্যরকম সুন্দর একটি ভালবাসার উদাহরণ চোখে পড়বে।

মুভিটির আর্টওয়ার্ক চমৎকার, গল্পের ধারাবাহিকতা অল্প সময়ের মাঝেই দর্শককে ভেতরে টেনে নিয়ে যেতে বাধ্য। প্রতিটি চরিত্রকে যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে, তাদের কথাবার্তা, ছোটখাট কাজকর্মই কখনো হাসায়, কখনো কাঁদায়। সেইসাথে আছে মানানসই ওএসটি, আবহ তৈরি করে দেয় খুব সহজেই।

তাই, বসে বসে হা হুতাশ না করে দুইঘন্টা সময় নিয়ে এখনই দেখে ফেলুন এই মুভিটি, আর যারা দেখেছেন, তারা আরেকবার রিওয়াচ দিন!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Ookami-Kodomo-no-Ame-to-Yuki

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 30

Ojii-san-no-Lamp-06-800

Name- Ojii-san no Lamp / Grandfathers Lamp
Duration- 24 min.
MAL Score- 7.80
Ranked- 808
Genres- Drama, Historical

সৃষ্টির শুরু থেকেই আমাদের পৃথিবী প্রতি মূহুর্তেই কোন না কোন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ভাল হোক বা খারাপ, এই পরিবর্তনের ফলেই পৃথিবীর উন্নতি হয়েছে; আর আমরা পেয়েছি আমাদের আজকের এই পৃথিবী। কিন্তু এইসব পরিবর্তন প্রতিটি মানুষের ওপর আলাদাভাবে কি প্রভাব ফেলে, তা কি আমরা কখনো চিন্তা করে দেখি? সার্বিক উন্নতির জন্য একজন মানুষের জীবনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তনের গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে এই ছোট মুভিটি।

জাপানের একটি ছোট্ট গ্রাম। এই গ্রামে বাস করেন বৃদ্ধ মিনোসকে এবং তার পরিবার। গ্রামের আর দশটি পরিবারের মতই সুখী এবং শান্তিপূর্ণ পরিবার তাদের।

মিনোসকের নাতি গ্রামের অন্য বাচ্চাদের সাথে লুকোচুরি খেলতে গিয়ে ষ্টোররূমে অনেকদিন ধরে পড়ে থাকা একটি লণ্ঠন খুঁজে পায়। লণ্ঠনটি দেখে মিনোসকের মনে পড়ে যায় তার অতীত জীবনের কথা, যে জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে জড়িয়ে আছে বিশ্বের উন্নয়নের প্রভাব। তিনি তার নাতিকে গল্প শোনাতে থাকেন, কিভাবে এই লণ্ঠন তার জীবনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন এনে দেয়।

মানুষের জীবন আসলে খুব বৈচিত্র্যময়। কখনো উত্থান, কখনো পতন, ছোট ছোট হাসি কান্না, আনন্দ এবং দুঃখের সমষ্টি একজন মানুষের জীবন। যখন তার অতীতের স্মৃতি রোমান্থন করেন, আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে চেষ্টার গল্প, পরিবর্তনের গল্প, পরিশ্রমের গল্প এবং পরিতৃপ্তির গল্প।

মুভিটি ইয়ং অ্যানিমেটর ট্রেনিং প্রজেক্টের অধীনে নির্মিত, কিন্তু এর আর্টওয়ার্ক, গল্প- সবই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। গল্পটি যে বার্তাটি দর্শকের কাছে পৌছাতে চেয়েছে তা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই অল্প সময়ের মাঝেই চরিত্রগুলোর খুব চমৎকার ডেভেলপমেন্ট হয়েছে এবং এন্ডিংটাও খুবই সুন্দর।

তাই, হাতে ২৪ মিনিট সময় থাকলে এখনই দেখে ফেলুন এই চমৎকার মুভিটি!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Ojii-san-no-Lamp

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 29

eve_3

Name- Eve no Jikan / Time of Eve
Duration- 1 hour 46 min.
MAL Score- 8.39
Ranked- 154
Genres- Sci-Fi, Slice of Life

ভবিষ্যতের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত অনেক মুভি এবং অ্যানিমে তৈরি হয়েছে। এবং সেগুলোতে যে ব্যাপারটা প্রায়ই কমন পাওয়া যায়, তা হল রোবট এবং মানুষের সহাবস্থান। এ মুভিটিও রোবট ও মানব প্রজাতির পারস্পারিক সম্পর্কের পরিণতিটাকে খুব সুন্দর এবং হৃদয়স্পর্শীভাবে তুলে ধরেছে।

কাহিনীটি এমন এক সময়ের জাপানকে কেন্দ্র করে, যখন সকল ক্ষেত্রে রোবটের অংশগ্রহন খুব স্বাভাবিক ঘটনা। গৃহস্থলী কাজে মানুষের মত দেখতে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করাটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সমাজে। রোবটদের আলাদা করে চিহ্নিত করার জন্য সরকার থেকে নিয়ম করা হয়েছে যে রোবটদের সবসময় মাথার ওপর সার্কেল ব্যবহার করতে হবে।

রিকুওদের বাড়িতেও এরকম একটি হিউম্যানয়েড মেইড আছে, যার নাম স্যামি। সে হাইস্কুলপড়ুয়া রিকুও এবং তার পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার তৈরি করা থেকে নিরাপত্তা প্রদান- সবরকম কাজ করে।

একদিন স্যামির হিস্ট্রি লগ চেক করতে করতে রিকুও হঠাৎ আবিষ্কার করে, স্যামির বাইরে কাজ করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, সে তুলনায় অনেক বেশি সময় সে বাইরে কাটাচ্ছে। কৌতুহলী রিকুও একদিন তার স্কুলের বন্ধু মাসাকিকে নিয়ে স্যামিকে অনুসরণ করে।

এভাবে স্যামির পেছনে পেছনে গিয়ে দুই বন্ধু এসে হাজির হয় একটি ক্যাফের সামনে, যে ক্যাফের নাম “টাইম অফ ইভ।” এখানকার নিয়ম দেখে তারা হতবাক হয়ে যায়! কারণ, তাদের ক্যাফেতে মানুষ এবং রোবটদের মাঝে পার্থক্য করা নিষিদ্ধ!

টাইম অফ ইভ মুভিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে আমার মাথায় সবসময় যে কথাটা আসে- এই মুভিটি সাইফাই এবং স্লাইস অফ লাইফ, দুটি জনরার জন্যই একটি অমূল্য সম্পদ। একই নামের ক্যাফেতে বিভিন্ন অপরিচিত মানুষ এবং রোবটদের জীবনের কিছু মূহুর্তকে খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে- খুব সহজে যা কাহিনীর ভেতর দর্শককে টেনে নিয়ে যায়। তাদের ছোট ছোট আনন্দের মূহুর্তগুলো দেখতে দেখতে কখন তাদেরকে আপনজনের মত মনে হয়, টেরও পাওয়া যায়না। সেইসাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন, রোবট ও মানুষের অনুভূতি এবং ভালবাসায় মোড়ানো একটি এন্ডিং- সবমিলিয়ে মুভিটি আসলেই একটি রত্ন!

মুভিটির আর্টওয়ার্ক উজ্জ্বল এবং পরিপাটি, ক্যারেক্টার ডিজাইন খুবই চমৎকার, রোবট ও মানুষ, দুই দলকেই সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং ইমোশনের অংশটিকে খুব ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর ওএসটি অসাধারণ, কালাফিনা এবং ইউকি কাজিউরার ছোঁয়া স্পষ্ট।

মুভিটির ৬ পর্বের ওভিএ আছে, প্রতিটি পর্ব ১৫মিনিট করে; যা মুভির আগে বের হয়েছিল, তবে মুভিটিতে ওভিএর পুরো কাহিনী কভার করে কিছু নতুন সিন যোগ করা হয়েছে। সুতরাং, মুভিটি হল গল্পটির কমপ্লিট ভার্সন। তাই ওভিএগুলো না দেখলেও কোন অসুবিধা নেই।

তাই, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলুন আমার খুব পছন্দের এই মুভিটি!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Time-of-Eve

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

সাইকো পাস সিজন ২ আলোচনা; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

psy

একটা অ্যানিমে যখন আমাদের ভাল লাগে, তখন আমরা সবাই আশা করি যে ঐ অ্যানিমেটার আরেকটা সিজন আসুক, এবং একই রকম চমক উপহার দিক আমাদের। আর অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রি চলেই আমাদের এই এক্সপেকটেশনের ওপর নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে সাইকো পাসের সফলতার পরে যখন সিজন ২ আসার খবর পাওয়া যায়, আমরা আগ্রহ নিয়ে দেখব এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে এটা আমাদের আশা পূর্ণ না করে যদি শুধু নাম ভাঙিয়ে খাওয়ার একটা প্রচেষ্টা হয়, তাহলে বিরক্ত লাগাটাও স্বাভাবিক। এখন প্রশ্ন হল, সাইকো পাস সিজন ২ আগের সিজনের সেই চমৎকার এক্সপেরিয়েন্সটা দেয়ার ক্ষমতা রাখে কিনা।

প্রথমে দেখা যাক, কি কি কারণে সিজন ২ অনেকের দেখতে ইচ্ছা না হতে পারে।

# প্রথম সিজনটা ছিল গেন উড়োবুচির সৃষ্টি। কিন্তু পরেরটায় তিনি কোন কাজই করেননি। এটা খুব সহজেই ধরে নেয়া যায় যে অন্য কেউ তার লেখা গল্প তার মত করে এক্সিকিউট করতে পারবে না, কাজেই সবচেয়ে বড় রিস্কটা ওখানেই। তবে শেষমেশ অবস্থা কি হল, তা জানতে হলে তো দেখতেই হবে।

# Studio পাল্টে গেছে। এটা যদিও আমার কাছে তেমন বড় ফ্যাক্ট না, তবে বাজেট, গ্রাফিক্স আরও যা যা একটা অ্যানিমে বানাতে প্রয়োজন, সেটা তো এরই সাথে পাল্টাবে। তবে এইক্ষেত্রে আমার চোখে গ্রাফিক্সে খুব পার্থক্য ধরা পড়েনি, হয়ত এপিসোড সংখ্যা কমিয়ে সেটা ম্যানেজ করা গেছে।

# শিনিয়া কৌগামি। সবচাইতে বড় পার্থক্যটা সে একা গড়ে দিয়েছে। এই সিজনে একমাত্র আকান সুনেমোরির কল্পনাতে ছাড়া কোথাও তার দেখা নেই। একটা প্রধান চরিত্রের অনুপস্থিতিটা অনাগ্রহ জাগিয়ে তোলার জন্যে যথেষ্ট।

# Storyline এ আগের সিজনের সাথে ধরতে গেলে কোন সম্পর্কই নেই। আবার সেই সিবিল সিষ্টেমকে চ্যালেঞ্জ, এটাকে জাজ করার প্লট, আকানে সুনেমোরির ওপর প্রেশার। ক্রাইম সিনে মারামারি কাটাকাটি যা হয় তা এই সিজনের চরিত্রগুলোর মাঝেই সীমাবদ্ধ। সম্ভবত গেন উড়োবুচি নিজের সৃষ্ট চরিত্রগুলোকে নিজহাতে খুন করতে চান।

# আগের সিজনের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্রুটাল করার চেষ্টা করেছে। এবং তাতে কিছুটা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

# ক্যারেক্টার ডিজাইন কিছুটা বিরক্তিকর। প্রায় সব ফিমেল ক্যারেক্টার দেখতে একই রকম। আমি শেষ এপিসোড পর্যন্ত তাদের চিনতে ভুল করেছি বারবার।

# শুরুর দিকে কাহিনীটা একটু জট পাকিয়ে গিয়েছিল। পরে যেটা শুধরে নেয়।

# সবশেষে আবার স্টোরিটাকে মোটামুটি ঐ সিজন ১ যেখানে শেষ হয়েছে ঐরকমই একটা পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যদিও এটা কেবল একটা অনুমান মাত্র, ঠিক নাও হতে পারে।

এবার বলি কেন আমার কাছে সাইকো পাস সিজন ২ কে ভাল লেগেছে।

# কৌগামি নেই, মাকিশিমা নেই, তো কে আছে? কিরিতো কামুই। মাকিশিমা যদি ক্রিমিনালি অ্যাসিম্পটোম্যাটিক হয়, তো কামুই আরেক আশ্চর্য বস্তু। কামুই এর কাজকর্ম দেখার জন্য হলেও এটা দেখা উচিৎ।

# স্টোরিলাইন। সিবিল সিস্টেমকে বেশ ভালভাবে সংশয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে কিরিতো। টানটান উত্তেজনাটা ধরে রাখতে পেরেছে।

# আকানে সুনেমোরি। সে যেভাবে ল’ কে প্রতিনিয়ত বুদ্ধিমত্তার সাথে রক্ষা করে যাচ্ছে, তার প্রমাণ আরও একবার পেতে ভালই লাগবে।

# আমি নিশ্চিত সুনেমোরির কালার নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন আছে। ওর কালার কি আসলেই কখনো পাল্টাবে না? Well, there is a surprize for you regarding that fact!

# নতুন ইনস্পেক্টর এবং এনফোর্সার আছে বেশ কয়েকজন, তারা যদি হঠাৎ করে মুভিতে এসে পড়ে, চিনতে কষ্ট হবে। তারওপর একরকম দেখতে, ঐ ব্যাপারটা তো আছেই।

# সিবিলকে কামুই এর শেষমূহুর্তে ছুড়ে দেয়া প্রশ্নটা। এটা মুভির সাথে সিজন ২ কে জুড়ে দিতে পারে।

# সিবিল নিজেকে কিভাবে পাল্টাবে কামুইকে জাজ করতে। এটা জানাটা বোধহয় সবারই উচিৎ।

# মাত্র ১১টা এপিসোডের মাঝে অনেক কিছুই দেখিয়ে ফেলেছে, যে সময়টা দেখতে ব্যয় হবে, তা মোটেই নষ্ট হবেনা।

সবমিলিয়ে সাইকো পাস সিজন ২ কে আমার কাছে অনেকটা ফিলার সিজনের মত মনে হয়েছে। কিন্তু এঞ্জয়েবল, ভাল স্টোরিলাইনের এবং চমৎকার ওএসটি যুক্ত একটি ফিলার এবং আমি বেশ উপভোগ করে দেখেছি। আবার বলাও যায়না, কোন না কোনভাবে মুভির কাহিনী যদি এর সাথে জুড়ে যায়, তাহলে এটা মাস্ট ওয়াচে পরিণত হবে। কাজেই, আমার মতে, মুভি আসতে আসতে একটু কষ্ট করে এটা দেখে নেয়াটাই উচিৎ।

কুরোশিতসুজি- সার্কাস পর্ব; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10734268_420565528107959_2014149067390686627_n

Genres- Comedy, Demons, Fantasy, Historical, Shounen, Supernatural
Episodes- 10
Score- 8.41
Ranked- 145

 

কুরোশিতসুজি বা ব্ল্যাক বাটলার। অ্যানিমেটির এ পর্যন্ত সর্বমোট তিনটি সিজন বেরিয়েছে; বুক অফ সার্কাস তার মাঝে তৃতীয়টি। এটি মাঙ্গার “Noah’s Ark Circus” আর্কটি অনুসরণ করে বানানো।

কাহিনীর সময়কাল সেই পরিচিত সুপ্রাচীন ভিক্টোরিয়ার আমলের অভিজাত লন্ডনে, যেখানে বাস করে ফ্যান্টমহাইভ কোম্পানির মালিক, অভিজাত এই বংশের কিশোর উত্তরাধিকারী এবং কুইন ভিক্টোরিয়ার গার্ড ডগ- সিয়েল আর্ল ফ্যান্টমহাইভ। তার পরিবার এক দুর্ঘটনায় মারা যায়, এবং নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষা করার জন্য সে ডেমন বাটলার সেবাস্টিয়ান মিখাইলস এর সাথে নিজের আত্মার বিনিময়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।

শহরে হঠাৎ করেই এসে হাজির হয় এক সার্কাস দল। অতি অল্পসময়ের মাঝে এই সার্কাস দলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। কিন্তু প্রায় একই সময়ে শহর থেকে একের পর এক ছোট ছেলেমেয়ে হারিয়ে যেতে থাকে। তাহলে কি এই সার্কাস দল এবং বাচ্চাদের হারিয়ে যাওয়ার মাঝে কোন যোগসূত্র আছে? রাণী ভিক্টোরিয়া আদেশ করেন এ ব্যাপারে তদন্ত করতে। রাণীর আদেশে সিয়েল তার ডেমন বাটলারকে নিয়ে ছদ্মবেশে ঐ সাকার্স তদন্ত করতে নামে।

কাহিনীতে বরাবরের মতই টিপটপ বাটলার সেবাষ্টিয়ানের নিখুঁত কাজের চমক এবং আনুগত্যের দেখা পাওয়া যায়, সেইসাথে পাওয়া যায় অদ্ভুতুড়ে ফ্যান্টমহাইভ সার্ভেন্টদের উল্টোপাল্টা কাজ। আর্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইন সবই প্রায় আগের মতই, তবে কিছুটা উন্নত। এই সিজনের অন্যতম আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ছদ্মবেশী সিয়েল, সার্কাসের ভেতরে সেবাষ্টিয়ান ও সিয়েলের অভিযান, গ্রীম রিপাররা এবং অবশ্যই- ফ্যান্টমহাইভ সার্ভেন্টরা! শেষের দিকে কাহিনীটা একটু ডার্ক থিমের দিকে মোড় নেয়, যার কারণে এন্ডিংটা বেশ ভাল হয়েছে এবং পুরো অ্যানিমেটাই যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়েছে। মাত্র ১০ পর্বের অতি অল্প সময়ের মাঝে খুব সুন্দরভাবে কাহিনীটা এক্সিকিউট করা হয়েছে। সেইসাথে রয়েছে মানানসই ওএসটি এবং ভয়েস অ্যাক্টরদের চমৎকার কাজ।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা বেশ উপভোগ্য হয়েছে। কুরোশিতসুজি প্রথম সিজনটির প্রথম ১৫ টি এপিসোড মাঙ্গা অনুসরণ করে; এরপর “কারি কনটেষ্ট আর্ক” এর পর থেকে বাকিটা এবং পুরো সিজন ২ মাঙ্গা অনুসরণ করে না। বুক অফ সাকার্সের কাহিনী মাঙ্গার কারি কনটেষ্ট আর্কের ঠিক পরের আর্ক থেকে শুরু, কাজেই ধরে নেয়া যায় যে এটি এপিসোড ১৫র পরের কন্টিনিউয়েশন।

তাই আমি বলব, যাদের কুরোশিতসুজির আগের সিজনগুলো ভাল লাগেনি, তারাও এই ছোট আর্কটা দেখে ফেলতে পারেন, ভালই লাগবে আশা করি!

Movie Time With Yami – Special Episode (টিং টং মুভি টাইম)

Perfect Blue

Genres: Drama, Horror, Psychological
Runtime: 80 minutes
Score: 8.13
Ranked: 375

দেখলাম সাতোশি কন এর বিখ্যাত অ্যানিমে মুভি Perfect Blue. জনপ্রিয় পপ আইডল কিশোরী মিমা স্বপ্ন দেখে বিখ্যাত অভিনেত্রী হওয়ার। সেজন্য সে যেকোন উপায়ে তার আইডল পরিচয় মুছে ফেলতে সচেষ্ট। তার ভক্তরা এই সংবাদ পেয়ে যথেষ্ট মনোঃক্ষুণ্ণ হয়। কিন্তু অভিনেত্রী হিসেবে নতুন পরিচিতি পাওয়ার আশায় বেপরোয়া হয়ে মিমা কিছু আপত্তিকর কাজ করে ফেলে, যা তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেতে থাকে। এরই মাঝে সে ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইটের সন্ধান পায়, যেখানে তার রোজনামচা একদম নিখুঁতভাবে লেখা, যেন মিমা নিজেই ওগুলো লিখছে। সবদিক থেকে আসা এত মানসিক চাপ সইতে না পেরে মিমা কল্পনা ও বাস্তবতার পার্থক্য বুঝতে অপারগ হয়ে পড়ে।

মুভিটির কাহিনী অনেক গভীর এবং থট প্রভোকিং, মুভিটির কাহিনীর পেছনে লুকানো একধরনের বার্তা আছে যা নিজে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। আর্ট একটু পুরনো, কিন্তু সবমিলিয়ে অত্যন্ত চমৎকার একটি মুভি। এক্সপ্লিসিট কন্টেন্ট আছে কিছু, তাই আমি অবশ্যই ছোটদের সতর্ক করব যে শুধু বয়স না, মানসিক পরিপক্কতা আসার আগে কেউ মুভিটি দেখো না; কিন্তু এটি মাস্ট ওয়াচ ফিল্মের পর্যায়েই পড়ে।

গিন নো সাজি- রূপার চামচের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

000

কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “অ্যানিমে কেন দেখ?” অনেক ধরণের উত্তরের মাঝে সবচেয়ে বেশি যে উত্তরটা পাওয়া যায়, তা হল, “অ্যানিমে / মাঙ্গা থেকে আমি অনুপ্রেরণা পাই।” এই উত্তরটা আমাকে সবসময় খুব অবাক করত, কারণ আমি অ্যানিমে / মাঙ্গাকে সবসময় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু অন্তত এই একটি অ্যানিমে আমার ধারণার ব্যতিক্রম ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তাই অ্যানিমেটা শেষ করার পর আমি মাঙ্গাটাও পড়ে ফেলি। তাই এই রিভিউটি গিন নো সাজির অ্যানিমে এবং মাঙ্গা দুটিই কভার করবে।

প্রথমে মাঙ্গা সম্পর্কে কিছু তথ্য দেই-
Genres: Comedy, Drama, School, Shounen
Authors: Arakawa, Hiromu (Story & Art)
Status: Publishing
Score: 8.26
Ranked: 428

Gin-no-Saji-Ep-2-Img-0016-1024x576

হাচিকেন ইয়্যুগো একজন শহুরে কিশোর। বলতে গেলে তার সারাজীবন কেটেছে চার দেয়ালের মাঝে। বাসা, স্কুল এবং পড়াশোনা ছাড়া তার জীবনে আর কিছুই ছিল না। এই শহুরে ছেলেটা হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেয়, সে কোন শহুরে হাইস্কুলে পড়বে না; বরং টোকিও থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত একটি অ্যাগ্রিকালচারাল স্কুলে পড়বে, এবং সেখানে ডর্মিটরিতে থাকবে।

স্কুলের প্রথম দিন থেকেই হাচিকেন একের পর এক উদ্ভট পরিস্থিতির সামনে পড়ে! তার সহপাঠীরা সবাই খামারের কাজে ওস্তাদ; তারা সবাই এই স্কুলে এসেছে, কারণ তারা কৃষিকাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের পরিবারকে ব্যাবসায় সাহায্য করতে চায়। সেখানে হাচিকেন জীবনে কোনদিন কাছ থেকে গবাদি পশুও চোখে দেখেনি; অন্যদের কাছে যা স্বাভাবিক ঘটনা, হাচিকেনের কাছে সেগুলোই একেকটা নতুন চ্যালেঞ্জ!

1

জীবনের টুকরা জনরার বিরূদ্ধে একটা সাধারণ অভিযোগ, এগুলো নাকি বোরিং। কিন্তু রূপার চামচের বিরূদ্ধে আমার অভিযোগ, এটা দেখতে বসলে খিদে পায়! আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে কাজগুলো শুধু করার জন্য করি, সেগুলো যে আনন্দ নিয়েও করা যায়, তা গিন নো সাজি থেকে শিখেছি। একজন শহুরে ছাত্রের অ্যাগ্রিকালচার স্কুলে পড়তে যাওয়া, সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে টিকে থাকার প্রচেষ্টা, বন্ধুত্ব এবং বাস্তব জীবনের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক কিছু কথা- সব মিলিয়ে এই গল্পটি রূপার চামচের মতই এক টুকরো সম্পদ। সামান্য ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনারও যে কতটা উপভোগ্য হতে পারে, আমরা যে পিজা দোকানে গিয়ে কিনে খাই, তা সবাই মিলে বানিয়ে খাওয়া কতটা মজার হতে পারে… একটা পশুকে নিজে হাতে যত্ন করে বড় করার পর তাকে খাদ্যে পরিণত হতে দেয়াটা একইসাথে কত কষ্টের এবং আনন্দের হতে পারে- জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলোর গুরুত্ব এই গল্পটি আমাকে মনে করিয়েছে। সেইসাথে খামার বা কৃষিকাজ করে যারা জীবন যাপন করে, তাদের জীবনের সুখদুঃখটা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন মাঙ্গাকা, আর তা পারবেনই বা না কেন! এর আগে তিনিই যে আমাদের উপহার দিয়েছিলেন ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্টের মত অসাধারণ এক গল্প!

014

মাঙ্গাটি আরাকাওয়া সেনসেই এর কাজ, কাজেই আর্ট এবং গল্প বলার স্টাইলের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই, প্রতিটা পৃষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা হয়। আর গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তিনি হালকা হাস্যরস তৈরি করেছেন, পড়ার সময় তা মনটাকে হালকা করে তোলে। সেইসাথে অ্যানিমেটিও কম যায়না, এর ঝকঝকে মন ভাল করা আর্ট এবং অসাধারণ ওএসটির কারণে।

একজন মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, সেগুলো মাঝে গল্প উপন্যাসকেও হার মানায়! সেই চ্যালেঞ্জ পার করতে “ও পারলে আমি পারব” ধরণের মানিসকতা কাজে দেয়না; বরং নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে সেখান থেকেই যা করা সম্ভব তা করতে হয়। নাকামা পাওয়ার নয়, এনিথিং ফর মাই নাকামা নয়, সাধ্যমত সাহায্য করা এবং না পারলে নিজের অক্ষমতা মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। গিন নো সাজিতে এই বার্তাটি খুব সুন্দর একটা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

তাই, পারলে আজই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গাটি এবং আবিষ্কার করুন স্লাইস অফ লাইফ জনরার একটি অমূল্য রত্ন!

10847473_407429682754877_2032844622808354923_o

বর্ষাস্নাত আইরিশ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10882306_419249071572938_7703574320598321572_n

সেই সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই মানব প্রজাতির শখ, ভবিষ্যত পৃথিবী কেমন হতে পারে তা কল্পনা করা। সেখান থেকেই উৎপত্তি ঘটেছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বা সায়েন্স ফিকশনের। কেমন হতে পারে ভবিষ্যতের পৃথিবী? কল্পকাহিনী লেখকেরা তাদের কল্পনার মাধ্যমে বারবার এই প্রশ্নের জবাব দিতে চেষ্টা করেছেন। এই কল্পনাগুলোতে যে ব্যাপারটা মোটামুটি কমন পাওয়া যায়, তা হল রোবটের আধিপত্য। বর্ষাস্নাত দিনের আইরিশের গল্পেও লেখক তার কল্পনাতে রোবটের সুখ দুঃখ পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।

নভেলটির আদ্যোপান্তের কিছু তথ্য দেয়া যাক-
Genres: Drama, Romance, Sci-Fi, Slice of Life, Psychological
Authors: Matsuyama, Takeshi (Story), Hirasato (Art)
Volumes: 1
Chapters: 5
Score: 8.40
Ranked: 243 (MyAnimeList)

গল্পটি শুরু হয় এক অজানা আশঙ্কার আভাস দিয়ে। একটি রোবটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। তার মেন্টাল সার্কিট রিড করতে থাকেন রালফ সিয়েল নামের এক ব্যক্তি। কাহিনী শুরু হয় ধ্বংসপ্রাপ্ত রোবটটির ডিসম্যান্টলিং এর ৭ দিন আগে থেকে।

গল্পটি ওভাল নামের এক আধুনিক শহরের। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির শীর্ষে পৌছেছে যে শহর। সাজানো গোছানো এ শহরটি পৃথিবীতে পরিচিত এর রোবট রিসার্চ সেন্টারের কারণে। শুধু রোবট নিয়ে গবেষণা চলে না এখানে, বরং বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার জন্য নিখুঁতভাবে রোবট তৈরিও করা হয়।

এই রিসার্চ সেন্টারের একজন প্রফেসর মিস ওয়েন্ডি ভন আমব্রেলা। অত্যন্ত সুন্দরী, মেধাবী এবং বিচক্ষণ এই প্রফেসর রোবটদের সাহায্য করার জন্য সবসময় ব্যতিব্যস্ত থাকেন। আর তার দেখভাল করার জন্য যে সবসময় ব্যস্ত থাকে, তার নাম আইরিশ রেইন আমব্রেলা।

আইরিশ হাসিখুশি এক কিশোরীর আদলে তৈরি রোবট। তাকে হঠাৎ দেখলে বোঝার কোন উপায় নেই যে সে আসলে এক হিউম্যানয়েড রোবট। সে প্রফেসর ওয়েনডির বাড়ি আমব্রেলা রেসিডেন্সে থাকে এবং তার দেখাশোনা করে। প্রফেসর ওয়েনডিও তাকে অত্যন্ত ভালবাসেন।

সবকিছুই তো ঠিকঠাক মতনই চলছিল। তাহলে কি এমন ঘটতে পারে আমব্রেলা রেসিডেন্সে? ধ্বংসপ্রাপ্ত রোবটটি কে? তার এই অবস্থা হল কিভাবে? গল্প যত এগিয়ে যায়, একের পর এক রহস্যের পরত খুলে যেতে থাকে।

গল্পটি আইরিশের।
গল্পটি অনুভূতির।
গল্পটি বেঁচে থাকার।
গল্পটি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার।
গল্পটি উপলব্ধির।

রোবটের যদি অনুভূতি থেকে থাকে, তাহলেও কি তাকে ঘরের আর দশটা যন্ত্রের মত করেই ব্যবহার করে ফেলে দেয়া যাবে? পরিবারের এক অপরিহার্য সদস্য হয়ে যে এতদিন ছিল, কাজ শেষ হলে তাকে ফেলে দিতে কি একটুও কষ্ট হবেনা?

মানুষ এবং রোবট। অনুভূতির প্রশ্ন এলে তাদের আলাদা করাটা মাঝে মধ্যে কঠিন হয়ে দাড়ায়। নভেলটি পড়তে পড়তে সবকিছু কখন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, টের পাইনি। চমৎকার বর্ণনাশৈলী, পড়ার সময় মনে হয়েছে যেন চোখের সামনে দৃশ্যগুলো ভেসে উঠছে। শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত গল্পে ডুবিয়ে রাখার সব উপাদানই আছে এতে, সেই সাথে চমৎকার এন্ডিং!

তাই, আশা করব, যারা নভেলটি পড়বেন, তাদেরও আমার মতই ভাল লাগবে এবং পছন্দের নভেলের তালিকায় যুক্ত হবে।

লাইট নভেল রিভিউ; গেক্কোউ/চন্দ্রালোক – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

800px-Gekkou-006

“Gekkou” শব্দটার অর্থ করলে দাড়ায় চাঁদের আলো। যে আলোর তেজ নেই, তারপরেও সবার নজর কেড়ে নেয় তার মোহনীয় তীব্রতা দিয়ে। চাঁদ শুধু তার আলোকিত ঝলমলে চেহারাটা সবাইকে দেখায়। তার ঔজ্জ্বল্য দেখে বাকি সবাই সবকিছু ভুলে যায়। কিন্তু চাঁদেরও একটা অন্ধকার দিক আছে। সেই দিকটা সযত্নে গোপন রাখে সে। এমন চাঁদের মত একটি মেয়ে এবং আপাতদৃষ্টিতে নির্বিকার মনে হওয়া একটি ছেলের জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় এই নভেলটির কাহিনী।

কিছু তথ্য দেয়া যাক-
Genres: Comedy, Mystery, Romance, School, Shounen
Authors: Mamiya, Natsuki (Story), Shiromiso (Art)
Volumes: 1
Chapters: 11
Score: 8.33
Ranked: 326 (MyAnimeList)

শুরুটা খুব সাদামাটা। মোটামুটি যেকোন হাইস্কুল অ্যানিমেতে খুঁজে পাওয়া যায়, এমন একটি ক্লাসরুম, দৈনন্দিন একঘেয়ে জীবনের ওপর বিতৃষ্ণ গল্পের নায়ক নোনোমিয়া এবং ক্লাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবদিক থেকে প্রায় নিখুঁত নায়িকা ইয়োকো সুকিমোরি। নোনোমিয়ার দিন কাটে তার ক্লাসের প্রতিবেশী এবং বান্ধবী উসামির সাথে ঠাট্টা করে এবং সহপাঠীদের সাথে গল্প করে, যাদের গল্পের বিষয়বস্তু বেশিরভাগ সময়ই ইয়োকো সুকিমোরি এবং তাকে নিয়ে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন গুজব।

আপাতদৃষ্টিতে ইয়োকো এবং নোনোমিয়ার মাঝে কোন ধরনের যোগসূত্র নেই এবং হওয়ার কোন সম্ভাবনাও নেই। ইয়োকো ক্লাসের সবচেয়ে নিখুঁত মেয়েটি, ঘরে বাইরে সবখানেই সে এলিগেন্ট। অপরদিকে নোনোমিয়া আপাতদৃষ্টিতে অতি সাধারণ। কিন্তু একটি ছোট্ট ঘটনা তাদেরকে একদিন গেঁথে দেয় একসূত্রে।

একদিন ক্লাস শেষে বইখাতা গুছানোর সময় নোনোমিয়া হঠাৎ দেখতে পায় মেঝেতে একটি নোটবুক পড়ে আছে। কৌতুহলবশত নোটবুকটি হাতে তুলে নেয় সে।

35488

আপনারা যা ভাবছেন তা নয়, ওটা ডেথনোট ছিল না!! ওটা ছিল ইয়োকো সুকিমোরির নোটবুক! এবং ঐ নোটবুকের ভেতর একটা কাগজ খুঁজে পায় নোনোমিয়া, যাতে হাতে লেখা বেশ কিছু পয়েন্ট গুছানো আছে। কাগজের ওপর শিরোনাম লেখা” “মার্ডার রেসিপি”.

এর মানে কি? ইয়োকোর কাছে মার্ডার রেসিপি কেন? সে কি কাউকে খুন করতে চায়? হেসেই উড়িয়ে দিল সেই সম্ভাবনাটা নোনোমিয়া। হয়ত এ ধরণের জিনিস নিয়ে গবেষণা করা ইয়োকোর শখ। কিন্তু এরপরেই একদিন সকালে ঘটল এমন একটা ঘটনা, যাতে মার্ডার রেসিপিটার দিকে নতুন নজরে তাকাতে বাধ্য হল নোনোমিয়া।

নভেলটি যখন প্রথম পড়া শুরু করি, প্রথম দুএক পৃষ্ঠা পড়ে আমি মনে করেছিলাম, হয়ত হাইস্কুলের প্লটে টিনেজ ছেলেমেয়েদের জীবনের ঘটনাগুলো নিয়ে গড়ে ওঠা নভেল হবে, এবং হ্যা, গল্পটা আসলেও তাই। কিন্তু শুধু সেটা নয়, বরং আরও কিছু। সামান্য একটা মার্ডার রেসিপি থেকে রহস্য শুরু হয়, যার কোনো ভিত্তিও হয়ত নেই, কিন্তু এখানেই লেখকের সার্থকতা। পুরোটা সময় পাঠককে উত্তেজনার মধ্যে রাখার সব উপকরণ এই নভেলে আছে, সেইসাথে রোমান্স এবং হাইস্কুল জীবনের জটিলতাগুলোও আছে।

প্রতিটা ক্যারেক্টারের এবং দৃশ্যের বর্ণনা চমৎকার, তাদের কল্পনা করে নিতে কোনই অসুবিধা হয়না। আমি নভেলটি পড়ার সময় একমূহুর্তের জন্যও বোর হইনি এবং চমৎকৃত হয়েছি বারবার!

যারা এই নভেলটি পড়েননি, আমি বলব তাড়াতাড়ি শুরু করে দিন, এবং জানুন এটি কত সুন্দর একটা রত্ন। এর কোন খুঁত আমার চোখে পড়েনি এবং আমি নিশ্চিত আর যারা পড়েছেন বা পড়বেন, তারাও খুব বেশি পছন্দ করবেন এটাকে।

Gekkou_ss1