কিছু কিছু এনিমে দেখার পর মনে হয় এনিমেটা না দেখাই হয়তো স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলকর ছিল। বিখ্যাত পরিচালক সাতোশি কনের একমাত্র টিভি সিরিজ হওয়ায় অনেকদিন ধরেই প্যারানয়া এজেন্ট ওয়াচলিস্টে ছিল। তের পর্বের এনিমেটা দ্রুত গতিতেই শেষ করেছি কিন্তু তারপরও মনে হয়েছিল এনিমেটা আরো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলেই ভাল হত।
*
কাহিনীর শুরুটা কিছুটা আর্বান লেজেন্ড ঘরানার। টোকিও শহরে Lil’ Slugger (জাপানিজে Shonen Bat) নামের এক কিশোর অপরাধীর আবির্ভাব ঘটে। একাধিক নগরবাসী লিটল স্লাগারের আক্রমণের শিকার হয়। লিটল স্লাগার কে এবং কোথা থেকে কি উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণ করে তা কেউ জানে না।শুধুমাত্র ভিক্টিমরা এটাই বলতে পারে যে আনুমানিক সিক্সথ গ্রেডে পড়া এক কিশোরই আক্রমণকারী। কিশোরের মাথায় একটা লম্বা ক্যাপ পড়া থাকায় চেহারা ঠিকমত দেখা যায় না। ভিক্টিমরা আরো মনে করতে পারে যে লিটল স্লাগার সোনালি রঙের রোলার স্কেটে করে পেছন থেকে সোনালি রঙেরই একটা বাঁকানো বেসবল ব্যাট দিয়ে আক্রমণ চালায়। লিটল স্লাগারের প্রথম আক্রমণের শিকার হয় সুকিকো সাগি নামের একজন ক্যারেকটার ডিজাইনার। তারপর বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন বয়সের মানুষ র্যান্ডমলি রাস্তাঘাটে লিটল স্লাগারের আক্রমণের শিকার হয়। লিটল স্লাগারের পরিচয় উদঘাটনের জন্য পেছনে লাগে দুই গোয়েন্দা ইকারি আর মানিওয়া।
*
প্যারানয়া এজেন্টের কাহিনী প্রথমদিকে ডিটেকটিভ উপন্যাসের মতই আগাচ্ছিল। জিজ্ঞাসাবাদ, অপরাধের স্থানে ক্লু খোঁজা ইত্যাদি আরকি। তবে আক্রমণের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবনে যখন আলোকপাত করা শুরু হয় তখনই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হই। কিছু চরম অসুস্থ মানুষের চরম অসুস্থ চিন্তাভাবনার চিত্রায়ন হল প্যারানয়া এজেন্ট। লিটল স্লাগারের ভিক্টিমদের মধ্যে কোন আন্তঃসম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে তদন্ত এগোনোর সময় আবিষ্কৃত হয় যে লিটল স্লাগারের আক্রমণের সময় ভিক্টিমরা সবাই কোন না কোনভাবে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিল। একেকজন ভিক্টিমের মানসিক অস্থিরতাকে কাভার করে কয়েকটা পর্ব রচিত হয়েছে। আবার লিটল স্লাগারের আবির্ভাবের গুজব আর সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাব নিয়ে কয়েকটা পর্ব বানানো হয়েছে। তবে লিটল স্লাগারের একেকজন ভিক্টিমের আত্মকাহিনী দেখলে ঘৃণায় গা রি রি করে উঠতে বাধ্য। ভদ্রলোকের মুখোশ পড়ে রাখা পশুর সংখ্যা সমাজে উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়াকে সাতোশি কন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। এই মুখোশ পরে রাখা লোকের মধ্যে রয়েছে স্কুলশিক্ষিকা থেকে শুরু করে পুলিশ অফিসার থেকে এলিমেন্টারি স্কুলবালক পর্যন্ত। জাপানের নাগরিক জীবনের অন্ধকার দিক যেগুলো কখনোই অন্য এনিমেতে সচরাচর দেখানো হয় না তারও চিত্রায়ন করেছেন সাতোশি কন উনার মুভিগুলোর মতই। পারফেক্ট ব্লু মুভিতে অনেক ডার্ক মুহূর্ত থাকলেই প্যারানোয়া এজেন্টে এর চেয়ে অনেক বেশি ডার্ক ডেভেলপমেন্ট আছে। তাই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এনিমেটা দেখা উচিত।

