Shakugan no Shana [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Shakugan no Shana 1

এনিমে: Shakugan no Shana
পর্ব: ৭২ + specials
সিজন: তিন (২৪+২৪+২৪)
স্টুডিও: J.C. Stuff
জনরা: ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন, সুপারন্যাচারাল

লাইট নভেল থেকে বানানো এনিমেগুলা খুবই দুর্ভাগা হয়। অ্যানিমেটররা বার-তের পর্বের একটা সিজন বানিয়ে সেটাকে নভেলের বিক্রি বানানোর টোটকা হিসেবে বাজারে ছেড়ে দেন। এরপর ফ্যানদের শত আবদার-আকুতি তাদের কানে ঢোকে না।
তো শাকুগান নো শানা এনিমেটার নাম কালেভদ্রে গ্রুপে দেখেছিলাম। সবাই পজিটিভ মন্তব্যই করতো এনিমেটা নিয়ে কিন্তু আগ্রহ খুঁজে পাই নি দেখার।

দেখার আগ্রহ এক মুহূর্তে বেড়ে যায় যখন জানতে পারি এনিমেটা তার সোর্স ম্যাটেরিয়াল অর্থাৎ এলএনকে পুরোপুরি অ্যাডাপ্ট করেছে। এলএনের পুরো এনিমে হওয়া জিনিসটা অমাবস্যার চাঁদের মত। এ পর্যন্ত মাত্র দুটো সিরিজ পেয়েছি এই গোত্রের: Durarara! ও Golden Time. পরে দেখি সিজন তিনটা, পর্বও অনেক, ৭২টা! এই বাণিজ্যের যুগে তো এমন জিনিস দেখা যায় না! তাই দেরী না করে দেখা শুরু করে দেই।

প্লট: শানার শুরুটা একেবারেই মার্কামারা। হাইস্কুল পড়ুয়া কিশোর সাকাই ইউজির জীবন ঠিকঠাক মতই চলছিল। একগাদা বন্ধু, ঢাল বেয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া, বাসায় ফিরে আসা এইতো। কিন্তু একদিন হুট করে ইউজি নিজেকে এক বিশাল অতিপ্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে আবিষ্কার করে। ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে বাসায় ফেরার সময় ইউজি একদিন দেখতে পায় তার চারপাশের সব মানুষ স্থির হয়ে গেছে। দুঃস্বপ্নের মত সে দেখতে পায় তার চারপাশের সব মানুষকে কিছু দানব খেয়ে ফেলছে। ইউজি দৌড়ে পালাতে গেলে সে একটা দানবের নজরে পড়ে যায় এবং পাকড়াও হয়। দানবের দাঁত আর সে যখন কয়েক ফুট দূরে তখন কালো একটা অবয়ব দৌড়ে এসে তাকে রক্ষা করে। ধীরস্থির হওয়ার পর ইউজি দেখতে পায় অবয়বটা তার সমবয়সী একটা লালচুলো মেয়ের। মেয়েটার হাতে ইয়া লম্বা এক কাতানা ও গলায় একটা লকেট। লকেট থেকে আবার কণ্ঠস্বরও ভেসে আসছে একটা!

শীঘ্রই ইউজি জানতে পারে সে হাজার বছর ধরে লুকিয়ে থাকা এক সত্য জানতে পেরেছে। দানবগুলোকে তোমগারা বলা হয় যারা Guze নামের এক প্যারালাল ইউনিভার্সের বাসিন্দা। তারা তাদের খিদে মেটানোর জন্য এই দুনিয়াতে এসে মানুষের আত্মা খেয়ে যায়। আর এই তোমোগারাদের ঠেকানোর জন্য আছে মেয়েটির মত আরো অনেক যোদ্ধা। এই যোদ্ধাদের Flame Haze বলে। ফ্লেইম হেইজ, তোমোগারাদের মেরে পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় রাখে। কাতানাওয়ালা মেয়েটি নিজেকে Red Hot Eyed Burning Haired Shana বলে পরিচয় দেয়।

ইউজি আরো জানতে পারে তার মধ্যে একটি বিশেষ অস্ত্র আছে যার কারণে দলে দলে তোমোগারা তার পেছনে ছুটে আসতে পারে। তোমোগারারা পৃথিবীতে আসলেই Fuzetsu নামের এক ধরণের জাদু প্র‍য়োগ করে। যার ফলে গুজে ও পৃথিবীর মধ্যে একটা মাঝামাঝি জায়গার উদ্ভব হয়। সাধারণ মানুষ ফুজেতসুর মধ্যে চলাফেরা করতে পারে না তাই শিকার করা সহজ হয়। ইউজি ফুজেতসুর মধ্যেও নড়তে পেরেছিল সেই বিশেষ জিনিসের জন্যই। শানা জানায় ইউজি একজন মিস্টেস (Mistes). আস্তে আস্তে শানা ও ফ্লেইম হেইজদের দুনিয়ার মধ্যে ইউজি জড়িয়ে পড়তে থাকে। অন্যান্য ফ্লেইম হেইজ ও তোমোগারাদের মধ্যের দ্বন্দ্বে ইউজি ও শানার ভূমিকা নিয়েই এনিমেটার কাহিনী।

Shakugan no Shana 2

আসলে এত ছোট সিনোপসিস দিয়ে শানার কাহিনী বোঝানো সম্ভব নয়। ছাব্বিশ ভলিউমের লাইট নভেলকে এনিমে বানানো হয়েছে তাই গল্পের গভীরতা অনেক বেশী। পুরো নারুতো সিরিজের কাহিনী যেমন স্পয়লার ছাড়া বোঝানো সম্ভব নয়, শানার ব্যাপারেও তা প্রযোজ্য।

শাকুগান নো শানার মধ্যে একসাথে স্লাইস অফ লাইফ ও ফ্যান্টাসি, দুই এলিমেন্টের চর্চাই করা হয়েছে। প্রথম দিকে দুটো জিনিস ভালমত খাপ খাচ্ছিল না কেন জানি। খুব গতানুগতিক মনে হচ্ছিল এনিমেটা। ইউজিকে মনে হচ্ছিল বোকাসোকা, ভোলাভালা টাইপের গতানুগতিক এলএন নায়কগুলোর মত। শানাকেও সুন্দেরে গোছের মাথা গরম পিচ্চি ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছিল না। খারাপ ইমপ্রেশনটা বাড়ানোর জন্য এনিমেটার ক্যারেকটার আর্টও দায়ী। সবার চেহারা এত বাবু মার্কা যে বিশ্বাসই হচ্ছিল না এই দুনিয়াতে প্রতিনিয়ত মানুষের আত্মা দানবদের পেটে যাচ্ছে।

এনিমেটার উন্নতি ঘটে নতুন নতুন চরিত্র আসার পরে। প্রথম ভিলেন হান্টার ফ্রিয়াগনের সাথে লড়াই পর্যন্ত এনিমেটা দেখে নিয়মিত হাই তুলছিলাম সত্য বলতে। নয়া ফ্লেইম হেইজরা আসার পরে সিরিজটার রস বাড়ে। তাদের বর্ণনায় আস্তে আস্তে গুজে ও পৃথিবীর মেকানিজম উঠে আসে দর্শকদের সামনে। সুন্দরী কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন ফ্লেইম হেইজ মারজরী দো আর শানার অভিভাবিকা উইলহেলমিনা কারমেলের আগমনের পরে সিরিজটা প্রাণ পায়। নতুন নতুন ভিলেনরাও আসতে শুরু করে। এক ফাঁকে শানার ব্যাকস্টোরিও দেখানো হয়। তাই এক পর্যায়ে হাই তোলা বন্ধ করে মনযোগ দিয়ে এনিমেটা দেখা শুরু করি।

শাকুগান নো শানার যেসব গুণাবলি আমার চোখে পড়েছে তা পয়েন্ট আকারে নিচে উল্লেখ করছি:

১. রহস্য ও অজানাকে লুকিয়ে রাখা। এই জায়গায় এনিমেটা খুবই সার্থক। তিন সিজন জুড়ে যখনই ভেবেছি আর কিছু নিশ্চয়ই বাকী নেই, তখনই নতুন একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে এনিমের গল্পটা।

২. পাওয়ার সিস্টেমের কোন বালাই না থাকা। বিষয়টা নেতিবাচক হলেও শাকুগান নো শানার ব্যাপারে খুবই কাজে দিয়েছে। এনিমেটাতে ফাইট সিনের অভাব নেই কিন্তু কোনটাতেই আগে থেকে বলা যায় নি অমুকের চেয়ে অমুক বেশী শক্তিশালী। তুরুপের তাস বের করা চলতেই থাকে কিন্তু দুই পক্ষই এত পাওয়ারফুল যে সমস্যা হয় না তেমন কোন। লেভেল আপ নামের কিছুই নেই এনিমেটাতে কারণ তোমোগারা ও ফ্লেইম হেইজদের বয়স কয়েকশো বছর। তাই তাদের ক্ষমতার কৌশলগত ব্যবহারটাই ছিল মুখ্য।

৩. ভিলেনদের বিল্ডআপ জিনিসটা শানাতে দুর্দান্ত হয়েছে। সাধারণত ফ্যান্টাসি এনিমেতে প্রথমে ছোট ছোট তারপর শেষে একেবারে ভিলেন অর্গাইনাইজেশনের রাঘব বোয়ালদের সাথে লড়াই শুরু হয়ে যায়। ফলে দেখা যায় প্রত্যাশা জাগিয়েও রাঘব বোয়ালরা দর্শকদের অনুভূতির জায়গাটায় স্থায়ী হয়ে থাকতে পারেন না। শানাতে মেইন ভিলেনরা একেবারে শুরুর দিকেই ধর্না দিয়ে যায়। তারপর বারবার তাদের আগমন ঘটতেই থাকে। কোনবারেই তাদের অনেক শক্তিশালী আবার একেবারে দুর্বল দেখানো হয় নি। ফলে তাদের ক্ষমতা নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা গড়ে উঠলেও দর্শকরা নিশ্চিত হতে পারেন এই ভেবে যে তাদের হারানো সম্ভব।

৪. শানাতে ফ্লেইম হেইজ ও তোমোগারাদের মধ্যে খণ্ড যুদ্ধ প্রচুর হলেও লেখক আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন যে কোন লড়াইই বিচ্ছিন্ন নয়। দৃশ্যপটের আড়ালে যে বিশাল কোন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ভিলেনরা করে যাচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছিল। প্রতিটা লড়াইয়েই ভিলেনদের গুপ্ত উদ্দেশ্য ছিল তাই যতবারই তারা হেরে যাক না কেন তাদের বৃহৎ পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয় নি। পরে এর ব্যাপকতা টের পাওয়া যায় থার্ড সিজনে।

৫. শাকুগান নো শানা ঐ ধরণের এনিমের অন্তর্গত যার গল্প সময়ের সাথে সাথে ভাল হতে থাকে। বর্তমান সময়ের লম্বা এনিমেগুলা ভয়াবহ ভাবে এই গুণবর্জিত। সেকেন্ড সিজনে কাহিনীটা বেশ জমজমাট হয়ে যায়। তারপরেও সমাপ্তিটা বেশ ম্যাড়মেড়ে লাগছিল। বন্ধু তখন মুখ চেপে হেসে খালি বলেছিল থার্ড সিজনের প্রথম পর্ব দেখে তাকে একটু জানাতে। দেখে তো পুরো মাথা ঘুরে যাওয়ার মত অবস্থা। পুরো এনিমের প্রেক্ষাপটই বদলে গিয়েছিল। কে ভিলেন কে নায়ক তা ঠাহর করা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সাধারণ একটা গল্প যে in universe build up এর কারণে অসাধারণ হতে পারে তা টের পেলাম।

৬. আর সবচেয়ে ভাল লাগা ব্যাপার হল শেষ ভিলেনের দুর্দান্ত ফিলোসফি। বেশী কথা বললে স্পয়লার হয়ে যাবে তাই এতটুকুই বলে রাখি, মাদারা উচিহার সাথে বেশ মিল আছে ভিলেনের। মিলটা আদর্শিক ও ক্ষমতা দুই জায়গাতেই আছে। এন্ডিংটাই একেবারে সলিড, সন্তুষ্টি নিয়েই শেষ করতে পেরেছে। নারুতো শিপ্পুডেনের সমাপ্তিটা এরকম সন্তোষজনক করতে পারলে মন্দ হতো না।

Shakugan no Shana 3

অ্যানিমেশন নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক। ফুজেতসুর সময় একটা নির্দিষ্ট রঙের প্রাধান্য থাকে বলে অপার্থিব ভাবটা খুব ভালভাবে ফুটে উঠে দুই দুনিয়ার সংঘর্ষের সময়। পুরো এনিমের বাজেট আসলে ফাইট সিনের পেছনেই খরচ করা হয়েছে বোঝা যায়। বেশীরভাগ অ্যাকশনই শূণ্যে তাই কোরিওগ্রাফির বালাই ছিল না। থার্ড সিজনে প্রচুর সিজি ছিল। খারাপ লাগে নি যদিও তবে গড অফ ডেস্ট্রাকশনের মূল বডির অ্যানিমেশন জঘন্য ছিল। সেইরেই-দেনকে এমন ভাবে সাজিয়েছিল যে মনে হচ্ছে সাইন্স ফিকশন কোন এনিমে দেখছি। প্রতিটা ফ্লেইম হেইজের ব্যাটল গিয়ারে পরিবর্তিত হওয়ার জায়গাগুলা খুব ডিটেইলে বানানো হয়েছে। বিশেষ করে শানার অগ্নিবর্ণ চুলের ফুলকি ছড়ানো দেখার মত ছিল।
অন্যদিকে সব বাজেট এইদিকে নিমগ্ন হওয়ায় বাসাবাড়ি ও হাইস্কুলের অ্যানিমেশনগুলা একেবারেই মার্কামারা ছিল। পিচ্চি পিচ্চি ক্যারেকটার ডিজাইন দেখে বিপুল বিরক্ত হয়েছি।

চরিত্রদের ব্যাপারে বলতে গেলে লিখে শেষ করা যাবে না। ভিলেন এবং নায়ক, উভয় দিকেই বিশাল সংখ্যাওয়ালা কুশীলব ছিল। এমনিতে শানা আর ইউজিকে সবারই ভাল লাগার কথা। থার্ড সিজনে দুজনের মানসিক পরিপক্বতার প্রদর্শনী খুব উপভোগ করেছি। ইয়োশিদা কাজুমিকে প্রথম দিকে বিরক্তিকর লাগলেও পরে ভালই লেগেছে। মারজরি সান আর মার্কোশিয়াসের রসায়ন চমৎকার ছিল। ইউজির বন্ধুদেরও ভাল লেগেছে। তবে আসল ওয়াইফু ছিল উইলহেলমিনা কারমেল, তার প্রেমে বিভোড় ছিলাম পুরো সিরিজটা দেখার সময়। (অবশ্যই কারণ, একজন অনুগত ব্যাটল মেইডের চেয়ে ভাল আর কিছু হতে পারে না। )
ভিলেনদের মধ্যে বেশী ভাল লেগেছে বেল-পেওল আর সাবরাককে। সাবরাক একেবারে আসল অ্যান্টি-হিরো ছিল। ওর ব্যাকস্টোরিটা আরো দেখাতে পারতো।
আর অবশ্যই ফাইনাল ভিলেন, তাকে ভাল না লেগে উপায় নেই। Seeking Researcher, Dandalion সেই বিনোদনের একটা চরিত্র ছিল। ডমিনোওওও বলে যে কি চিল্লাচিল্লিগুলা করতো। 

মিউজিক ডিরেক্টর Kow Otani. ভদ্রলোকের কাজ দেখেছিলাম এর আগে Another এ। শানাতেও বেশ কিছু ভৌতিক টেনশন জাগানিয়া ট্র‍্যাক আছে। তবে তার ব্যাটল থিমগুলাই ভাল লেগেছে বেশী। পুরনো পুরনো ভাব ছিল সাউন্ডট্র‍্যাকগুলাতে। ভায়োলিন ভিত্তিক মিউজিক ছিল বেশী। থার্ড সিজনে choir মিউজিকের আমদানি ঘটানোয় বলতে পারি এনিমের সাথে সাথে এর ওএসটিরও ক্রমাগত উন্নতি হয়েছে।

ওপেনিং-এন্ডিং ছিল একগাদা। সবচেয়ে ভাল লেগেছে থার্ড সিজনের ফার্স্ট ওপেনিং Light My Fire. গানের বিটের তালে তালে শানার দৌড়ানোর দৃশ্যটা চমৎকার ছিল।

সব মিলিয়ে ফ্যান্টাসি এনিমে হিসেবে শাকুগান নো শানা বেশ ভাল একটা অভিজ্ঞতা দিয়ে গেল। হাইস্কুলপড়ুয়া একগাদা চরিত্র, নায়ককে নিয়ে মেয়েদের মধ্যে টানাটানি ইত্যাদি নেতিবাচক দিক থাকলেও আস্তে আস্তে কাহিনীর জোরে সব অতিক্রম করে ভাল একটা অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে। ফ্লেইম হেইজ হওয়ার কারণে ভালবাসার মত একটি মানবিক অনুভূতি শানার অজানা ছিল। এটি আবিষ্কার করতে গিয়ে অনেক ক্লিশে দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল এনিমেটার প্রথম দিকে। অথচ শেষে ইউজি আর শানার আলিঙ্গনের দৃশ্য দেখে বুঝতে পারি কোন কিছুই বৃথা যায় নি। এই একটা ঘটনাই এনিমেটার ধাপে ধাপে উন্নতির বড় একটা সাক্ষী। সব মিলিয়ে মনে রাখার মত একটা অভিজ্ঞতা দিয়ে গেল এনিমেটা। এরকম ভাল এন্ডিংওয়ালা আরো ফ্যান্টাসি এনিমে আসুক এই প্রত্যাশা করি।

রেটিং: ৮/১০
থার্ড সিজন রেটিং: ৯/১০

Comments

comments