Anime of The Year 2015 as Baka-kun Says — Maruf Raihan

প্রাচীনকালে যখন এক দেশের রাজা অন্য রাজ্যের সাথে সন্ধিতে আবদ্ধ হতে চাইতেন তখন ভোজসভায় আহবান করাই ছিল পন্থা।অর্থাৎ ভোজনরস মন জয় করার সর্বোত্তম উপায়।বাস্তবিকই খাবারের স্বাদের কাছে পৃথিবী অসহায়।আর যখন এই খাবার বানানোর কৌশল শিল্পে রূপ নেয় তখন তার চেয়ে মোক্ষম অস্ত্র আর কি হতে পারে!!

তাই বছর ২০১৫ কে নিজের করে নিতেই বোধহয় J.C. Staff  বেছে নিল ইয়ুতো সুকুদা’র মাঙ্গা শোকুগেকি নো সোমা’কে।আর তাদের হাত ধরেই এল বছরের কমবেশি সবার দেখা,সবারই ভালো লাগা আর ক্ষুধা উদ্রেক এক এনিমে সিরিজ “Shokugeki no Souma:Food Wars”

Shokugeki

 

২৪ এপিসোডের এই এনিমেটির এয়ারিং শেষ হয় ’১৫ এর সেপ্টেম্ব্রে।বের হওয়ার পর পরই বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।যদিও এচ্চি হেটাররা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি,কিন্ত পরবর্তীতে তারাও স্বীকার করেছেন “এনিমেটা মন্দ নয়”

গল্প শুরু এক বরাবরই এক ছেলে যে সেই ছোট্টবেলা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত রান্নার মাধ্যমে তার ফ্যামিলি রেস্টুরেন্টের ক্রেতাদের খুশি করাকেই জীবনের মূলমন্ত্র বলে শেখে।আর বাবার কাছে রান্না শেখা,কিন্তু বাবার সাথে প্রতি সপ্তাহে রান্নার লড়াই করত সে,যদিও একবারও বাবাকে হারানো হয়নি তার।

এই ছেলের নাম ইউকিহিরা সোউমা।বাবা ইউকিহিরা জোউইচিরো।শহরতলীর একপ্রান্তে থাকা তাদের ফ্যামিলি রেস্তোরাঁ ইউকিহিরা থেকে বাবার সাহচর্যে(চাপে বলাই ভাল) পাড়ি জমায় সোউমা ততসুকি কালিনারি একডেমিতে,যা কিনা জাপানের সবচেয়ে বিখ্যাত রন্ধন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এই একাডেমি কে ঘিরেই গল্প অন্য দিকে মোড় নেয়,একডেমিতে প্রবেশের পরপরই আলোড়ন সৃষ্টি করে সে।তবে বাধা-বিপত্তিও কম ছিল না এই পথে।আর এভেবেই শুরু হয় সোউমার ততসুকিতে টিকে থাকার যাত্রা……

রান্না নিয়ে এনিমে – খাবারের লোভনীয় উপস্থিতির মধ্যেই কেবল সীমাবদ্ধ নয়,প্রতিটি ডিশের প্রণালী ও এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগও দেখানো হয়েছে এতে।আর “Shokugeki” বা রান্নার প্রতিযোগিতাই পুরো এনিমের উল্লেখযোগ্য হাইপ হওয়ার মত অংশ।রান্নায় বিশ্বভ্রমণের দেখাও মেলে এতে, শুধু জাপানি নয় আমেরিকান হার্ডকোর বিফ কুকিং,ইটালিয়ান পরিছন্ন রেসিপি,ফ্রেঞ্চ কুইসিনের জাদুকরি ছোঁয়া এমনকি ভারতবর্ষের মসলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর উপস্থাপনা এক কথায় অতুলনীয়………

চরিত্রের বাহারি সমাহারও আছে।নাকিরি এরিনা(যার নাম অনেক এনিমেখোরের ক্রাশলিস্টে উঠে আছে),তাদোকোরো মেগুমি(২০১৫ এর সেরা ওয়াইফু),নাকিরি এলিস,আরাতো হিসাকো(২য় ওয়াইফু)ইত্যাদি……

আর ইউকিহিওরা সোউমা ছাড়াও ইশিকি সাতোশি(দ্যা Cool Dude অফ ২০১৫),আলদিনি ব্রাদার্স,দোউজিমা গিন এর মত কিছু হেভিওয়েট চরিত্র দেখা গেছে।

আর আর্ট ও এনিমেশন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।এনিমেশন ও আর্টের ব্যাপারে পুরো সিরিজে ব্রিলিয়ান্সি ও Consistency  থাকায় সিরিজটিকে প্লাস পয়েন্ট দিতেই হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল খাবারগুলো এমন সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে দেখে সত্যিকারের খাবার মনে হয়েছে।তবে একটা জিনিসই Awkward  লেগেছে আর তা হল ক্যারেক্টারগুলোর শরীরে রেড স্পট।

আর এনিমেটি খুবই খুবই এন্টারটেইনিং,আর চরিত্রগুলোর Interaction  এত ভালোভাবে স্টোরিলাইনের সাথে খাপ খেয়েছে যে যতক্ষণ এনিমেটি দেখবেন বোর হবেন না অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়……

এচ্চি নিয়ে অনেকেই এনিমেটাকে কিছু মাইনাস পয়েন্ট দিয়েছেন আবার অনেকে বলছেন “এচ্চির জন্যই বেশি ভালো লেগেছে”।যাই হোক আমি মধ্যমপন্থীর মত দিয়েই বলি—“শুরুতে এচ্চি বেশি থাকলেও গল্প যতই এগিয়েছে এচ্চি গল্পের সাথে একাকার হয়ে গেছে”

আর ওপেনিং এর সময় জানিনা কয়জন খেয়াল করেছেন রাইস প্লেটের কারি’র ডিজাইন প্রায় প্রতি এপিসোড অন্তরই চেঞ্জ হয়ে যায়,আর এ কারণেই আমি আর আমার ছোট বোন একবারও ওপেনিং স্কিপ মারতাম না,এনিমের চেয়েও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত আজ প্লেটে কি ডিশ দেখায় সেটা।১ম ওপেনিং টা এক নজরে দেখে ফেলুন—

https://www.youtube.com/watch?v=rCvvjpzQkyY

ব্যাকগ্রাঊন্ড মিউজিক খুবই ভাল, বিশেষ করে শোকুগেকি চলার সময় ওস্তাদের শেষ মার(অর্থাৎ লড়াই এর উইনিং মুভ) এর সময় যে মিউজিক টা দেয় তা এখনো কানে বাজে।

MAL রেটিং – ৮.৬৭
ব্যক্তিগত রেটিং – ৯.২

যদি এখনো দেখে না থাকেন তবে এখনই দেখে ফেলুন বছরের অন্যতম সেরা এনিমে Shokugeki no Souma

 

অনন্য মাঙ্গা আসর — ৩ (Our Happy Hours)

জীবনে মানুষ যখন চলে যায় মধ্যবয়সে তখন চাওয়া পাওয়ার হিসেব করতে শুরু করে সবাই। কিন্তু যাদের জীবনটা এতটা স্বাভাবিক নয়,তাদের গল্পটা কেমন? তা আড়ালে থেকে যায় । অনিয়মিত “অনন্য মাঙ্গা আসরে” আরেকবার স্বাগতম । জানি অনেকেই ভুলেও গেছেন সেগমেন্টটার কথা । আজকেও আয়তনে অতি ছোট এক মাঙ্গা নিয়ে কথা বল্ব।বিখ্যাত কোরিয়ান লেখিকা Gong Ji-Young এর লেখা উপন্যাস “Our Happy Hours” এর জাপানি অনুবাদ করেন হাইসুকে কারোউ । আর সেই অনূদিত উপন্যাসের সারমর্ম রূপে মাঙ্গা অঙ্কনের কাজ করেন সাহারা মিজু । MAL এ গিয়ে মাঙ্গা টপ  সাজেশনের মধ্যে “Watashitachi no Shiawase na Jikan” নামে একটা মাঙ্গা খুঁজে পাবেন । বলছি সেই মাঙ্গার কথাই।

দৃশ্যপট

একবার নয়,দুবার নয়,তিন তিন বার সুইসাইড করার চেষ্টা করেও মরতে পারেননি জুরি মুতোউ । জীবনের প্রতি ঘেন্না চলে এসেছিল । কিন্ত কেন?……………………………

একজন বা দুজন নয়,তিন তিন জন জলজ্যান্ত মানুষকে খুন করেছে ইউ। আর এজন্য সে আফসোসও করে না বিন্দুমাত্র । কিন্ত কেন?…………………………………

কি হয়েছিল তাদের জীবনে ,তা নিয়েই শুরু হয় গল্পের । সিস্টার মনিকার সাহচর্যে কারগারে ইউউ এর কাউন্সেলিং এর দায়িত্ব পায় জুরি । কিন্ত যে নিজেই জীবনকে গলা টিপে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল সে একজন খুনিকে কিভাবে জীবন চেনাবে ??

মনে জমে থাকা কষ্ট আছে দুজনেরই , যেন একে অন্যের প্রতিবিম্ব …………

এই সুবাদে ইউউ আর জুরি এর প্রতি  বৃহস্পতিবার দেখা হত। ছিন্ন ভিন্ন কিছু কথা আর অনুভূতি ভাগাভাগি আর কি………………

safe_image

জনরা

রোমান্স, মিউজিক, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা, সেইনেন ।

কেন পড়বেন

খুদে হলেও মাঙ্গাটি ব্যাপক প্রশংসার দাবিদার । জীবন নিয়ে ধারণাই পাল্টে দেওয়ার মত মোটিভেটিভ এটি । তবে আবেগের জায়গা আছে ব্যাপক । আপনি যদি এটাকে শোউজো স্টাইলের রোমান্স মনে করে থাকেন তবে বড় ভুল করবেন। রোমান্টিক হলেও মনে রেখাপাত করার মত ।কারণ অনেকেই একটানা মাঙ্গা পড়তে পছন্দ করেন না । কিন্তু আয়তন ছোট হওয়ায় পড়তে কোন বাঁধা নেই। তবে এন্ডিং কেমন সেটা না হয় পাঠকদের জন্যই থাকুক………

আর্টওয়ার্ক

আঁকা ব্যতিক্রমী না হলেও খারাপ নয়। মানে আঁকা খুব বেশি দৃষ্টিনন্দন না হলেও একেবারে খ্রাপ নয়।

অনুভূতি

Exaggerating নয় সত্যিই অনেক ভালো লাগার মত একটা মাঙ্গা । শর্ট মাঙ্গার থেকে এর বেশি আশা করাটাই যেন অন্যায়। আর মাঙ্গাটিতে এমন কিছু Quote আছে যা দেখেই বোঝা যায় এ কোন জ্ঞানী লেখকের কাজ। আর সবাইকেই বলব পড়ে ফেলতে কারণ মাত্র ৮ চাপ্টারের মাঙ্গাটি পড়তে কতক্ষণই বা লাগবে…… অল্প সময় খরচ করে পড়ে ফেলুন ,সময়ের দাম উসুল হয়ে যাবে। মাঙ্গা পড়বেন,অন্যকেও পরতে বলবেন এই প্রত্যাশা রইল ।

মাঙ্গাটি পড়েছিলাম অনেক আগে , তবে উপন্যাসটা পরখ করে না দেখে লিখতে চাইছিলাম না তাই যা দেরি । আর সাহারা মিজু-সানের উপন্যাসটি পড়ার পর অনুভূতি দিয়েই আজকের লেখা শেষ করছি ………

“I remember the time when I first read the original novel.  It was the beginning of summer in 2007. I feel as though it taught me that,because of mankind we are burdened by terrible hurt,but the way we’re able to find relief from this hurt is also through mankind……….”

                                                                        —-Sahara Mizu                                                                                                                              November,2008

উমারুপাখ্যান — Maruf Raihan

–ভাইয়া,আজকে কিন্ত আমাকে তুমি বারবির স্টিকার কিনে দিবাই দিবা!! নাইলে?!!

–নাইলে কি? আমি মাত্র কুইজ দিয়া বাসায় আসছি। এখন আমার মরা দাদা কবর ফেড়ে বাইর হইলেও এই সোফা থেকে নড়তেছি না।

–ওই,ওই,(চুল টানারত) এত্ত ঘাড়ামি কইরো না… ওই! ওই!

–আরে ধুর,আনতেসি……

এটা হল আমার আর আমার ছোট বোনের ক্লান্ত বিকেলের কথোপকথন। জ্বালাতন বললেও বলতে পারেন তবে দিনশেষে অসুস্থ হলে ঘুমের ঘোরে কোমল হাতে ঠিকই জলপট্টি দিতে তাকে দেখা যায়।যদিও সুস্থ হবার পরে তার বক্তব্য — “হুহ! ঠেকা পড়ছে তোমার মাথায় পানি দিতে আমার”

যাদের ছোট বোন নেই,তারা হয়ত সেন্টিমেন্টটা ধরতে নাও পারেন।কিন্তু ছোট বোন আর ভাইয়ের সম্পর্কের কেমিস্ট্রি Maze Box এর চেয়েও অস্পষ্ট।

এত্তগুলা কথা বললাম ১২ পর্বের এক এনিমে সিরিজ এর কথা বলার জন্য।মাশাহিকো ওহতা পরিচালিত “Himouto! Umaru-Chan”,যা ইতোমধ্যেই বছরের সেরা কমেডি সিরিজের খেতাবের বেশ ভালো দাবিদারে পরিণত হয়েছে। পুরো গল্পটা প্রিয় উমারু দোমা কে নিয়ে। সুশীলা,সুন্দরী,মেধাবী আর পরিপাটি মেয়ে হিসেবে স্কুলে,ঘরে ,বাহিরে তার নাম-ডাক। কিন্তু চারদেয়ালের ভেতর মানুষের আসল চেহারা বোঝা যায় তো……

উমারুর কথা

১২ এপিসোডের হাস্যরসাত্নক,পাগলাটে এই এনিমেটা নিয়ে লিখতে গেলে বলতে হয় উমারু চ্যান এর কথোপকথন আর কাজ-কারবার,তার এহেন সব কান্ড কারখানাই দর্শক জমিয়ে রাখতে যথেষ্ট।আরেক চরিত্র তাইহেই দোমা,উমারুর (হতভাগা নাকি ভাগ্যবান) ওনি-চ্যান।গল্প শুরু হয় উমারুর বিখ্যাত প্রত্যাবরতন(স্কুল থেকে বাসায়)।কিভাবে সেকেন্ডের মধ্যে দীপ্তিময়ী পারফেক্ট হাইস্কুল আইডল গুটি গুটি হাত পা আর ডিম্বাকার মুখ নিয়ে পরিণত হয় অন্যরকম এক চরিত্রে।উমারুর কম্পিউটারের কীবোর্ডের জন্য বড্ড মায়া হয়- কেননা এ ব্যাটার ওপর দিয়ে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার যায়।আর কোকা-কোলা,পেপসি কোম্পানিগুলোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তো উমারু-চ্যান নিজেই।উমারু চ্যানের সাথে সাক্ষাত পেতে চটজলদি শুরু করে দিন উমারু-চ্যান।

umarup

উমারু ছাড়া আর কি কেউ নাই??

“উমারু ছাড়া কি আর কোন চরিত্র নাই?” না,আছে।অবশ্যই আছে,আমাদের মধ্যে যারা ওয়াইফুখোর(এচ্চিখোর আর হারেমখোর) আছেন তারা এবিনা নানা চরিত্রটির সাথে অবশ্যই পরিচিত।গ্রাম থেকে টোকিও তে পড়ালেখার জন্য আসা,সর্বক্ষণ ভুলত্রুটির চিন্তায় ব্যস্ত,ঠিকমত কথা গুছিয়ে উঠতে না পারা,Dialect বা উপভাষা পাছে মুখ ফসকে বেরিয়ে না যায় সেজন্য সর্বদা তটস্থ থাকা— এমন দিকগুলোর কারণে চরিত্রটি চোখে লাগার মত।

তবে উমারুর পরপরই আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হল মতোবা বোম্বার।বিশেষত তার চুলের স্টাইলটাই বেশি ভালো লেগেছে।আর কথায় কথায় তার মুখভঙ্গি আর সংলাপের তো কথাই নেই……
আর বিরক্তিকর লেগেছে তাচিবানা সিলফিনফোরডকে।তার চোখের আইরিস,কথাবার্তা,মনে হয় এখনই লাফ দিয়া পানিতে পড়বে এমন উদ্ভট-চাঞ্চল্য থাকায় যতক্ষণ এনিমেটা দেখেছি,এই চরিত্রটি আসলেই— “দরকার ছিল এই চরিত্রটার!! -_-
আরেকটা কথা বলে রাখা ভাল,উমারু-চ্যান আবার অতিমাত্রায় অলরাউন্ডার,দিনরাত গেইম,এনিমে,মুভি আর খাওয়া নিয়ে পরে থাকলেও এনিমু লজিক অনুসারে তিনি ১০০ তে ১০০ বরাবরই পান।আর প্যারোডির কথা বলতেই হয়।জুন পিস মাঙ্গার বড় ভক্ত উমারু তাই স্ট্র হ্যাট পরা অবস্থায়ও দেখা গেছে তাকে। আর উমারু-চ্যানের গেমিং স্কিল তো লাজবাব।

OST

ওপেনিং টা নিয়ে বলতে গেলে—-
“এনিমেটা দেখার সময় একটা এপিসোডেও ওপেনিং স্কিপ করা হয়নি”
অর্থাৎ ওপেনিং টা না দেখলে চলেই না। দেখে ফেলুন ওপেনিংটা—

এন্ডিং টাও বেশ ভালো।
https://www.youtube.com/watch?v=H-5L6Ffp2Ko

উমারুপাখ্যান ও কিছু কথা—

সাম্প্রতিক সময়ে উমারু নিয়ে এনিমখোরে কিছু মন্তব্য—

“আমি তাইহেই এর জায়গায় থাকলে থাপরাইয়া উমারুর গাল ফাটায়া দিতাম”

“উমারু ইজ লাভ,উমারু ইজ লাইফ”

“উমারু চ্যান হল Double-Bladed Sword”

“উমারুকে ঘৃণা করা মানে যে নিজের এক সত্ত্বাকে ঘৃণা করা তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন??”

“উমারু-চ্যান সারক্ষণ গেইম খেইলাও ১০০ পায় আর আমি।হায়রে!!”

এখন কাজের কথায় আসা যাক,উমারু-চ্যানের ভক্তের অভাব নেই,আমি নিজেই তাদের মধ্যে একজন। আর উমারুর প্রতি বিরক্ত আর উমারু-হেটারও আছেন অনেকে।আমরা গণতান্ত্রিক সমাজে বসবাস করি(যদিও সরকার হয় ভোট ছাড়া) তাই সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কিছু কথা বলা যাক।আপনার যদি ছোট বোন না থাকে তাহলে আপনার কাছে উমারু বিরক্তিকর লাগতেই পারে।কারণটা শুরুতে বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে।যারা ছোট বোন আছেন,এবং বড় ভাই আছেন তাদের ব্যপারে উমারু খারাপ লাগার কারন—

১।ভাইয়ের কাছে ইচ্ছামত আবদার ………
২।আমি আমার ভাইরে জ্বালাতন করে কিছু আদায় করতে পারলাম না সারাজীবন আর এই উমারু কিনা………
৩।অসামাজিক বা ঘরকুনো জীবনযাপন পছন্দ করেন না
৪।অজানা কারণ –“কেন জানি উমারুকে ভালো লাগে নাই” এই কারণ

উমারু নিয়ে এত কথা বললাম কেন,হ্যা কেন……
ছোট বোন বড় ভাইকে জ্বালাবে বা আবদার করবে সেটা সহজাত ব্যাপার।এটাকে সহজভাবে নিতে না পারাটা ব্যরথতা,আর উমারু-চ্যান এনিমের শেষের দিকের কয়েকটা এপিসোড দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন উমারু চ্যান এতটাও খারাপ না যতটা ভাবছেন।
রেটিং-(ব্যক্তিগত) ৭.৮
গল্প- ৭.২ চরিত্র- ৮.৮

অনন্য মাঙ্গা আসর – ২ (Harem Lodge)

সাসাহারা মিদোরি নামের এক মেয়ের প্রবাসী বাবা মেয়ের জন্য জীবনসঙ্গী ঠিক করে রেখেছেন এবং ,মেয়েকে ভবিষ্যৎ স্বামীর কাছে প্রেরণও করেছেন। সেই ছেলেটি হল তেতসুয়া কাতাগিরি। এক্সপ্রেশনলেস সহজ সরল এক ছেলে। আর যে বাড়িতে গিয়ে তারা ঊঠল তা রেন্টাল এপার্টমেন্ট “Harem Lodge” …………………

 

আর এভাবেই শুরু হয়ে যায় মিদোরি-তেতসুয়ার গল্প নিয়ে শর্ট লেন্থের মাঙ্গা “Harem Lodge” . ৯ চাপ্টারের শৌজো রোমান্টিক মাংগাটি সর্বোপরি ভালো। ক্যারেক্টার সাজানো,চোখে লাগার মত ব্যাকস্টোরি থাকায় গল্পরস পূর্ণ।

oma 1

 

রোমান্টিক ভাইব ও এনভারোমেন্ট মাঙ্গার প্রথম চাপ্টার থেকেই পাওয়া যাবে। আর হারেম লজের বসবাসকারীরা নিতান্তই স্বাভাবিক নন,অদ্ভুত সব চরিত্রের অবতারণা করা হয়েছে এখানে।

 

আয়ুমু ওয়াকাতসুকি যাকে অনেক সময় মানুষ মেয়ে ভেবে ফেলেন,আসলে উনি ছেলে …

 

শুইচি ওডা,এনার ব্যাপারে বললে স্পয়লার হয়ে যাবে তবে  ছবি দুটো দেখলেই বুঝতে পারবেন ক্যারেক্টার টা কেমন …

oma 2

তবে মাঙ্গার প্রথমদিকে কোরিয়ান মানহয়ার মত সরলরৈখিক রোমান্স মনে হলেও পরবর্তীতে হালকা প্লট টুইস্ট আছে,ব্যাকস্টোরী আর ফ্লাশব্যাক দিয়ে পুরো মাঙ্গার ধরনকেই যেন পালটে দেওয়া হয়েছে। আর হারেম লজের অধিবাসীদের প্রতিদিনকার জীবন এর জায়াগাগুলোয় হালকা হাসির খোরাক পেতেই পারেন।

 

আর মাঙ্গার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে এই মাঙ্গাটির ঘাটতি ব্যাপক। “””আর্টওয়ার্ক”””

 

মাংগাটির আঁকা মিশ্র,কভার ও গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলোতে আঁকা নিয়ে কোন সমস্যা না থাকলেও,ফ্ল্যাশব্যাক ও ব্যাকস্টোরির সময় তেতসুয়া আর মিদোরির চেহারা দেখলে রীতিমত মেজাজ খারাপ হয়ে যেতে পারে। এত্ত সিরিয়াস অংশে এসে মাঙ্গাটির আঁকার এ বেহাল দশা কেন?? তাই আঁকা নিয়ে অতি উৎসাহী ও “দেখতেই ভালো লাগে না চেহারা তাই এটা ভালো না” এধরনের দর্শকদের ভালো লাগা সুনিশ্চিত না।

 

আর খুব তাড়াহুড়া করে মাঙ্গাটি শেষ করা হয়েছে বলে স্টোরিলাইনকে কেবল “ভালো” , আঁট ভাষায় “মোটামুটি” বললে তর্কের জায়গা নেই।

 

মাঙ্গাটি একদিন ফ্রি টাইম পেলে পড়ে ফেলতে পারেন,আশা করি ভালো লাগবে।

 

মাঙ্গাটির রচয়িতা শিজুকি ফুজিসাওয়া, মাইএনিমেলিস্টে রেটিং দেওয়া হয়েছে ৭.৬৯  ……

 

সামনে আরো একটা মাঙ্গা নিয়ে হাজির হব , সে পর্যন্ত সাইয়োনারা ^_^

 

মাঙ্গা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন………

অনন্য মাঙ্গা আসর – ১ (Major)

এনিমে বের হয়েছে,নিউ সিজন,এই এনিমের গ্রাফিক্সের কাজ,কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তা নিয়ে মাতামাতি,আলোচনার অন্ত নেই।অথচ যেই মেধাবী শিল্পীদের হাতে তৈরি মানগা হতে এনিমের এডপ্টেশন হয়,তারা গুরুত্ব পান বটে,তবে মানগা পড়ার প্রতি আকর্ষণ কম।অথচ মাঙ্গাতে কাহিনীর সুসজ্জিত বিবরণ আর সুন্দর উপস্থাপনা পাওয়া যায় যার অনেকাংশ এনিমেতে কেটে ফেলে দেওয়া হয়।

তাই,গ্রুপে মানগা নিয়ে আলোচনা করা হয় মাঝে মধ্যে,একটু আধটু।তাই মানগা পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে মানগার প্রতি ফ্যানডম এর প্রসারে হাজির হলাম “অনন্য মানগা আসর” নিয়ে। অনেক শ্রদ্ধেয় সেনপাইরা অনেক মানগা পড়েছেন,জানেন অনেক কিছু। তাই যেকোন ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর ১৮ বছরের ছোট্ট জীবনে নিয়মিত কিছু করতে পেরেছি বলে মনে পড়ে না,তাই এই সেগমেন্টের কোন নিয়মিত ডেটলাইন দিতে পারছি না।

আজকের মানগা মেজর। স্পোর্টস সিরিজ নিয়ে আলোচনায় স্লামডাঙ্ক,কুরোকো,হাজিমে নো ইপ্পো,ক্রস গেম,এইস অফ ডায়মন্ড ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হলেও এই মাস্টারপিস নিয়ে তেমন আলোচনা পাই নি। তাই আজকে কথা হোক Major নিয়ে।

magur

গোরোউ হোন্ডা নামের এক কিন্ডারগার্টেন পড়ুয়া ছেলের বেসবল খেলার আদ্যোপান্ত গল্পের মূল অংশ। এদিক দিয়ে উপরোক্ত যেকোন স্পোর্টস সিরিজের মধ্যে ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্টের ব্যাপারে এটা চ্যাম্পিয়ন। কিন্ডারগার্টেন এর প্লেগ্রাউন্ড থেকে ডিস্ট্রিক্ট ,ডিস্ট্রিক্ট থেকে ন্যাশনাল এভাবে মারাত্নক উদ্দীপনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই মাঙ্গাটি। আর্টের ধরন ভালো কি না বলব না,বরংচ বলি এথলেটিক। খেলার মাঝে কি হচ্ছে তা বোঝার জন্য আর্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

অনেকেই বলেন মেইন ক্যারেকটার এর খেলা শেষ হয়ে গেলে গল্পও শেষ,এটা তাদের পছন্দ না।তাদের জন্য একট ছোট্ট ——- স্পয়লার (((((হোন্ডার পর হোন্ডার ছেলেকেও দেখতে খেলায় দেখতে পাবেন এখানে))))))

মানগা প্রথম সিজনে ৭৮ টি ভলিউম আছে। কিন্তু সিজন ২ এখনো অনগোয়িং…

রচয়িতা- তাকুয়া মিতসুদাজেনরা – কমেডি,শোউনেন,স্পোর্টস MAL রেটিং- ৮.৩৯খেলাগুলোর মধ্যে সেইশুর সাথে ম্যাচ আর বেসবল বিশ্বকাপ এর ম্যাচগুলো উল্লেখ করার মত। মাঙ্গাতে খেলাগুলোর উপস্থাপন ভালো হলেও এনিমেতে স্পোর্টস থিমের চেয়ে শোউনেন বা ইন্টিমিডেটিং কিছু দৃশ্য দেওয়া হয়েছে যা মাঙ্গাতে নাই।মেজর মাঙ্গাতে ধাপে ধাপে বেসবল বিশ্বকাপ,মেজর লিগ,হাইস্কুল টুর্নামেন্ট এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে স্পোর্টস এর আসল থিম বা চেতনাকে।

সবচেয়ে মজার বিষয় ক্লাবের নয় দেশে দেশের মধ্যকার খেলাও রয়েছে এই মাঙ্গাতে। আরো আছে সলিড ডিটেইলিং যা খেলার উত্তেজনা বারিয়ে দিয়েছে।শিগেহারু,হোশিনো সেনসেই,সাতো এবং শিমিজুর মত কিছু চরিত্র থাকায় মানগাটির চরিত্রে বৈচিত্র্য ও চোখে পড়ার মত।আলোচিত এক চরিত্র হল জো গিবসন। মাঙ্গাটি পড়লেই বুঝতে পারবেন Major না পড়লে ওনেক কিছু মিস ;-)আজকের মত মাঙ্গা আসর এ পর্যন্তই থাকুক…সামনে ভালো কোন মাঙ্গাতে নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে।লেখা লম্বা করলাম না,কারন তাতে স্পয়লার মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে।মানগা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন 🙂

Kyoukai no Kanata রিভিউ — Maruf Raihan

KyoAni শব্দটির সাথে কমবেশি আমরা অনেক এনিমখোরই পরিচিত। যাদের জানা নেই তাদের জন্য বলে রাখা ভালো – ‘KyoAni’ মূলত ‘Kyoto Animation’ স্টুডিও এর সংক্ষিপ্ত রূপ। KyoAni এর অনন্য কাজ নিয়ে আজকে আলোচনা করা যাক।

“Kyoukai no Kanata” ১২ এপিসোডের একটি এনিমে,যা আর পাঁচটা শর্ট লেন্থ এনিমের মত আপনার স্মৃতির এলবামের পিছনের দিকে ঢাকা পড়ে যাবার মত নয়। ভালো গ্রাফিক্স,খুব মনোরঞ্জক কিছু চরিত্র,উপস্থাপনা ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, অসাধারণ OST এর কারণে যারা দেখেছেন তাদের অনেকেরই পছন্দের প্রথম সারিতে এনিমেটি রয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।

এনিমে: Kyoukai no Kanata (Beyond The Horizon)

এপিসোড : ১২

জেনরা: ফ্যান্টাসি,স্লাইস অফ লাইফ,সুপারন্যাচারাল

স্টুডিও ও প্রযোজনা: কিয়োতো এনিমেশন, পনি ক্যানিয়ন, টিবিএস

লাইট নোভেল রচয়িতা : নাগোমু টেরি

এনিমে পরিচালনা: টাইচি ইশিদাতে

Kyoukai no Kanata 1

প্রথমত,এনিমেটা দেখা শুরু করলে প্রথমে একটু কৌতূহল জাগবে। এক মেয়েকে ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্নহত্যা হতে বাঁচাতে এগিয়ে গেল এক ছেলে,অথচ সেই মেয়েই কিনা ছেলেটার বুকে ছুরি ঢুকিয়ে দিল। মানুষের ভাবনা ও চিন্তাশক্তি এসকল অস্বাভাবিক
ঘটনার প্রতি সংবেদনশীল।তাই নিছক আগ্রহ নিয়ে ঘটনাটা কী- সেটা দেখার জন্য হলেও অজান্তেই দেখা শুরু করে দিতে পারেন এনিমেটা ।

প্রথমে কোন পরিচিতিমুলক অংশ নেই।যেমন-বিশেষভাবে চরিত্র পরিচিতি,সুপারন্যাচারাল পাওয়ার গুলোর সংজ্ঞা ,প্লটটার ভিত্তি ইয়াদি আলাদা করে দেখানো হয়নি।এজন্যই অনেকের কাছে প্রথম প্রথম কিছুটা বিরক্তিকর বা বিব্রতকর লাগতে পারে।
“আরে ভাই দেখা শুরু করলাম,বলা নেই কওয়া নেই,স্পীরিট হান্টার,Youmu,এগুলা কী?!” আমার ক্ষেত্রেও তেমনটা ঘটেছিল। তবে মজার বিষয় হল এই যে, ধৈর্য সহকারে দেখতে থাকলে নিজেই এগুলোর মানে বুঝে নিতে পারবেন,যা আরো বেশি
আনন্দদায়ক হবে।

চরিত্রগুলার কথায় আসা যাক।যারা এনিমেটি দেখেননি,তারাও বিভিন্ন ওয়েবসাইট,গ্রুপ ও ব্লগে লাল ফ্রেমের বাদামী চশমা পড়া ভারী কাওয়াই একটা এনিমে ক্যারেক্টারের ছবি হয়ত দেখে থাকবেন।অধিকাংশ রোমান্টিক AMV তেও তার উপস্থিতি দেখা যায়।
সে আর কেউ নয়, KnK এর কুরিয়ামা মিরাই। আমার দেখা সেরা Female ক্যারেক্টারগুলার মধ্যে অন্যতম।তার চশমা পরা অবস্থায় মুখের হাসি কোন অংশে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্ছির মোনালিসার হাসির চেয়ে কম নয়।

গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র কানবারা আকিহিতো। চরিত্র না বলে গল্পের সমস্ত ঘটনার উৎস বললেও অত্যুক্তি হবে না।গল্পের শুরু থেকেই আকিহিতো চরিত্রটিকে অন্ধকারে রেখে একটা সাসপেন্স তৈরি করা হয়েছিল,যা চরিত্রটির বিশেষায়ণে সাহায্য করেছে।

আর অন্যান্য চরিত্রগুলোর মধ্যে আমার বিশেষভাবে ভালো লেগেছে কানবারা ইয়াওই কে । সে আকিহিতোর মা। আর সত্যি কথা বলতে বাস্তবে এরকম মা থাকলে যে কীরকম হত তা কল্পনা করতেই কষ্ট হয়।যারা এনিমেটি দেখেছেন তারা বোধ হয় কথাটির
মানে বুঝতে পেরেছেন। :v

এনিমেটির শেষের দুই এপিসোড খুবই বিচিত্র।এই আপনি আবেগপ্রবন হয়ে পড়লেন,চোখে জল চলে এল,এই আবার মুখের কোণে মুচকি হাসি। আর বলা বাহুল্য,এনিমেটির কোনো দুঃখজনক এন্ডিং নেই। [এটা স্পয়লার হইল নাকি?]

অসাধারণ কম্বিনেশনের তিনটি গান (একটি ওপেনিং,একটি এন্ডিং,Future Star) থাকায় সেরা মিউজিক ধারী এনিমেগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে এটি থাকবে। গানগুলি চয়েজ যিনি বা যারা করেছেন তাদেরকে ১০০ তে ১০০ দিতেই হবে।
ওপেনিং টা “মিনোরি চিহারা” র গাওয়া । পুরোপুরি বিমূর্ত ধরনের লিরিক্স থাকায়,এনিমেটির প্রতি আকর্ষণ এই গানটিই জাগিয়ে দেয়।

গানটি এখনই দেখে ফেলুন–
https://www.youtube.com/watch?v=g-_4piNFe4M

এন্ডিং টা ওপেনিং কেও ছাড়িয়ে গেছে। কারণ এন্ডিংটার ভোকাল ও লিরিক্স টা এনিমের প্লটের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় মনে বেশি রেখাপাত করেছে।আর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হল এই যে ,এনিমেটা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে কখন যে এন্ডিংটার
মিউজিক শুরু হয়ে যায় তা টেরই পাওয়া যায় না। আমার শোনা সেরা জাপানিজ গানগুলোর মধ্যে একটা

দেখে ফেলুন–
https://www.youtube.com/watch?v=nMlwer-lbow

এনিমেটা দেখে ফেলুন। ১২ এপিসোডে অনেক কিছু পাবেন যা অনেক সময় ২২০ এপিসোডেও পাওয়া যায় না——-

~~~অনন্য রিকমেন্ডস~~~

Kyoukai no Kanata 2

Ghost Hunt রিভিউ — Maruf Raihan

অন্ধকার ঘরে একা থাকলে অনেকেই অজানা কারণে ভয় পেয়ে যান বা তটস্থ হয়ে যান। ভূত!! হ্যা,আমি সেই চিরন্তন সত্তার কথা বলছি যাতে অনেকে শক্তভাবে বিশ্বাস করেন আবার অনেকে লেইম গুজব বলে উড়িয়ে দেন।

এখনই হয়ত ভূত আছে কি নেই তাই নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়ে যেতে পারে তাই সেদিকে না যাওয়াই ভাল। তবে এই আত্না,ভূত, প্রেত আর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলো নিয়ে একটি এনিমের কথা বলা যাক। ৮৯,৯৪ এর লাইট নোভেল থেকে ২০০৭ এর ‘Ghost Hunt’। নাম শুনে যা ভাবছেন,এনিমেটা অনেকটা সেরকমই।

Ghost Hunt

সম্মিলিত কোন কাহিনী হিসেবে নয় এর গল্পের আবর্তন হয় কেস/ফাইল ভিত্তিতে। এক একটি ফাইল যেন স্বতন্ত্র মুভির মত,আর ফাইলগুলোর মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক তেমন নেই।মোট ফাইল আছে ৮ টি। এনিমের প্রতিটি এপিসোড শুরু হয় তারিখ আর বার দিয়ে। প্রকৃতপক্ষে একে ‘SPR’ এর দিনপঞ্জিকা বলাও যায়। ‘SPR’ এটা আবার কী- ‘শিবুয়া সাইকিক রিসার্চ’ এর সংক্ষিপ্তরুপ। গল্পের প্রধান চরিত্র শিবুয়া কাজুয়া, SPR এর প্রধান। এই প্রতিষ্ঠানটির কাজই হল এসকল অশরীরী ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে গবেষণা আর তদ্রুপ অস্বাভাবিক ভুক্তভোগীদের সমস্যা সমাধানে অর্থ এর বিনিময়ে কাজ করে। গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র তানিয়ামা মাই এর স্কুলই ভাগ্যক্রমে SPR এর ১ম কেসের ঘটনাস্থল হয়ে দাড়ায়। সেখান থেকেই অনেকটা নাটকীয়ভাবেই মাইকেও বেশ জোর করেই SPR এর সদস্য বানায় শিবুয়া।

অনেকেই ভাবছেন ‘খুইজা খুইজা ভূত ধইরা বেড়ায়। ধুর! এই এনিমে আর রিভিউ – দুইটাই ফালতু। ভাবনাটি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে ফেলুন কেননা আর পাচটা সাধারণ ভূত ধরা ও তাড়ানো সিরিজের মত এই এনিমেটা নয়। ২৫ এপিসোডের এই এনিমেতে সুপারন্যাচারাল একটিভিটির পাশাপাশি খ্রিষ্টীয় ক্যাথলিকদের আত্নাশুদ্ধি থেকে শুরু করে বৌদ্ধ ধর্মতাত্ত্বিক রিচুয়াল এমনকি উপমহাদেশীয় সমাতন প্রেতাচার কেও তুলে ধরা হয়েছে। আর ডিটেকটিভ আর সাইকোলজিক্যাল ভাইব থাকায় এনিমেটা ফার্স্ট ক্যালিবারের নি:সন্দেহে।

শেষের দিকের ফাইলগুলো দেখে বেশ ভয় পেতে পারেন,যদি কঠিন যকৃতের মানুষ না হন। বিশেষ করে ফাইল নং ৭ (The Bloodstained Labyrinth) রাত জেগে না দেখার রিকমেন্ড করবো।

চরিত্রগুলোর মধ্যে শিবুয়া কাজুয়া আর তানিয়ামা মাই ছাড়া তেমন কোন ব্যতিক্রমী এনিমে ক্যারেক্টার নেই। তবে প্রথম দিকে কিছু কিছু চরিত্রকে অথর্ব ও শুধু সং সাজিয়ে রাখা হয়েছে ভাববেন শেষের দিকে তাদের কন্ট্রিবিউশন দেখে অবাক হয়ে যাবেন।

অত্যধিক আন্ডাররেটেড এই এনিমেটি আমার কাছে অত্যধিক ভালো লেগেছে। দেখে ফেলুন,ভালো লাগলে জানাবেন আর ভয় পেলে বা কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে রিভিউদাতা কোনক্রমেই দায়ী থাকবে না :v

—-অনন্য রিকমেন্ডস—-

পুরো এনিমে দেখতে না চাইলে ফাইল ফাইল ভাগ করে দেখতে পারেন:::

ফাইল-১:( এপি. ১-৩)

‘Filled with Evil Spirits?!!’ @Mai’s School

ফাইল-২:( এপি. ৪-৬)

‘Doll House’

ফাইল-৩:( এপি. ৭-১০)

‘The One who curses after School’

ফাইল-৪:( এপি. ১১)

বি:দ্র: না দেখলেও চলবে
A Ghost Story in the Path

ফাইল-৫:( এপি. ১২-১৩)

‘Silent Christmas’

ফাইল-৬:( এপি. ১৪-১৭ )

‘The Forbidden Play’

ফাইল-৭:( এপি. ১৮-২১ )

‘The Bloodstained Labyrinth’

ফাইল-৮:( এপি. ২২-২৫ )

‘The Home of the Curse’

Noragami রিভিউ — Maruf Raihan

অনেক সুপার হাইপ এনিমে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যদি গিয়ে থাকেন তবে একটু শর্ট ঠাণ্ডা গল্পের এনিমে দেখলে ক্ষতি কি!!

কম্পিউটার অন রেখে একবার বাইরে গেলাম ফ্লেক্সিলোড করতে।এসে দেখি আমার ৭ বছর বয়সী খালাতো ভাই কম্পিঊটারে কি জানি একটা ভিডিও ছেড়ে হা করে দেখছে,গিলছে বললেও ভুল হবে না। আমি ওকে বুঝতে না দিয়ে পিছন থেকে উকি মেরে দেখতে লাগলাম যে কি দেখছে ও,দেখি এনিমে চলছে কোন একটা,কালো কাপড় পড়া একজন বিশাল লম্বা এক তলোয়ারের মত কিছু একটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে সামুরাই টাইপ মিউজিক। আর এভাবেই আমার দেখা শুরু Noragami……

এনিমের গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হল প্রধান চরিত্র ইয়াতো-গামি।আরও রয়েছে ইকি হিয়োরি,ইউকিনে সহ আরো অনেক মুখ……

ইয়াতো এক ভবঘুরে গড যে তার উপাসক ও ভক্তের খোঁজে আত্নভোলা,তার স্বপ্ন। আর এজন্য সে বিড়াল খোঁজা থেকে শুরু করে বাথরুমের ট্যাপ ও ঠিক করার কাজ করতেও রাজি। আর অনেকটা অদ্ভুতভাবেই ইকি হিয়োরি সহ অন্যান্য চরিত্রের আগমন ঘটে।

এনিমের শুরুটা বেশ অগোছালো লাগলেও পরবর্তীতে তা অনেকটা মানানসই হয়ে গেছে।কিন্তু এই এনিমের প্রথম এপিসোড দেখার পর ‘খারাপ না তো।পরের এপিসোড টা দেখা যাক’ এটা ভেবেই এনিমেটা দেখা শুরু করতে পারেন,অন্তত আমার সাথে এমিনটিই হয়েছে।

মানগাতে আহামরি কোন অতিরিক্ত ডিটেইলিং নেই।আর এনিমেটির ক্যারেক্টার গুলোর মুখমণ্ডল অনেকটা ছোকলা ছাচা নাশপাতির মত দেখতে,কিছু কিছু দৃশ্যে মনে হবে যেন নাককাটা পড়েছে সবার।

এনিমেটির শেষের দিকে একটি অনন্য প্লট টুইস্ট আছে যা শুরুর দিকে ইয়াতো চরিত্রের ইমেজ আপনার কাছে পুরোপুরি পালটে দেবে এবং ১২ পর্বের এনিমেটি উপভোগ করতে শুরু করবেন।

১২ এপিসোড গল্পের তুলনায় খুবই কম সময়।তাছারা অতি সমালোচকরা তো MAL এ রীতিমতো একে ‘অল্প এপিসোডের জগাখিচুড়ি’ বলেছেন,তবে আশ্বস্ত করতে পারি এতটা খাপছাড়া এই এনিমেটা নয়।

আর যাই হোক…. টাইম ওয়েস্ট মনে হবে না…..

আর দৃঢ় ইচ্ছা ও প্রতীক্ষা থাকলেও Noragami ২য় সিজন বের হবে কি না তা এখনও অস্পষ্ট……

#এনিমে: Noragami
#এপিসোড: ১২
#জেনরা: একশন,এ্যাডভেন্চার,শোউনেন,সুপারন্যাচারাল
#স্টুডিও: বোনস মাল্টিমিডিয়া
#MALস্কোর: ৮.১৫
#ব্যক্তিগত_রেটিং: ৭.৪

Noragami

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৪: Parasyte -the maxim- — Maruf Raihan

[NOTE: রিভিউতে বেশ বড় কিছু স্পয়লার আছে, তাই আনিমেটি দেখে না থাকলে রিভিউ পড়বার সময়ে সতর্ক থাকুন। – Animekhor Admin Panel]

———————————————————————————————–

এনিমে : প্যারাসাইট দ্যা ম্যাক্সিম (কিসেইজু-সেই নো কাকুরিতসু)
এপিসোড : ২৪ টি
MyAnimelist Score : 8.67
জেনার: অ্যাকশন, সাইকোলজিক্যাল, সাই-ফাই,ড্রামা
প্রযোজনা: ম্যাডহাউজ ও ভিওপি

শর্ট সিরিজ এনিমের মাঝে যারা অতিরিক্ত মাত্রায় উত্তেজক আর ড্রামাটিক গল্প খুজে বেড়াচ্ছেন,তাদের জন্যই যেন রয়েছে প্যারাসাইট দ্যা ম্যাক্সিম। হিতোশি ইওয়াকির সাইন্স ফিকশনাল মানগা ‘কিসেইজু-সেই নো কাকুরিতসু’ এর আলোকে  এই এনিমেটি বানানো হয়েছে।।

১৭ বছর বয়সী এক তরুণ শিনিচি ইজুমি প্রতিদিনকার মত ডিনার সেরে আইপড আর কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ নাকে অস্বস্তি অনুভব করলে হাচি দিয়ে তার ঘুম ভাঙ্গে।সে দেখতে পায় একটি ক্ষুদ্র জীব তার হাত ভেদ করে উপরের দিকে উঠছে। এমতাবস্থায় সে ইয়ারফোন এর তার দিয়ে তার হাতের উপরের অংশ বেধে ফেলে,যাতে সেটি আর উপরে উঠতে না পারে। এই জীবগুলোই এনিমের প্রধান প্রকরণ পরজীবী প্যারাসাইট। এরা ভ্রুনাবস্থায় মুক্ত হয়ে নিকটবর্তী মানুষের মস্তিষ্ক হরণের চেষ্টা করে। কিন্তু শিনিচির ক্ষেত্রে তার প্যারাসাইট শুধু হাতের অংশে বৃদ্ধি লাভ করে।আর এভাবেই সাধারণ হাইস্কুল ছাত্র শিনিচি ইজুমি জড়িয়ে পড়ে এক রক্ত-রহস্যের খেলায়।

টোকিও তে নানা জায়গায় মানুষের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া শুরু হয়।বলা বাহুল্য প্যারাসাইট এর শিকার ইজুমি একা নয়,অনেকেই হয়েছিল। যারা পুরোপুরি প্যারাসাইট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তারাই জড়িত ছিল এই হত্যাকান্ডগুলোতে।

গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র মুরানো সাতোমি(ইজুমির সহপাঠী ও বন্ধু), ইজুমির মাঝে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করে। ফলে ইজুমিকে বাইরের কাছ থেকে প্যারাসাইট এর গোপনীয়তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

অত:পর আবির্ভাব হয় তামিয়া রেইকো নামের এক প্যারাসাইটিকের,যে প্যারাসাইট আর মানুষের মধ্যে জীববৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে গোতোউ এর মত শক্তিশালী প্যারাসাইট তৈরিতে সক্ষম হয়। সে শিনিচির স্কুলে গণিতের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে। একই সময়ে শিনিচির বাবা-মা ভ্রমণ করতে গেলে সেখানেই এক প্যারাসাইটিকের হাতে শিনিচির মায়ের মৃত্যু হয়। তারপর ঘটনাচক্রে শিনিচির মআমায়ের প্যারাসাইটের হাতেই শিনিচি জখম হয়, কিন্ত শিনিচির প্যারাসাইট মিগির সহায়তায় প্রাণে বেচে যায় সে। কিন্ত মিগির  হৃৎপিন্ড  প্রতিস্থাপন এর ফলে শিনিচির মাঝে কিছু সুপারন্যাচারাল শক্তি দেখা যায়। এদিকে হিরামা নামের এককজনকে টোকিও মেয়র নির্বাচন এপ্রার্থী বানিয়ে প্যারাসাইটিকের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার নীলনকশা করে। বিচিত্র ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হতে থাকে।

কিন্ত এনিমেটিতে আবেগময় ও কান্নার দৃশ্যও রয়েছে, যা এনিমেটিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। কানা কিমিশিমার দুর্ভাগ্যজনক ট্রাজিক মৃত্যু যেকোনো দর্শক এর হৃদয়স্পর্শ করবে।  কানা তার অন্তিমকালে শিনিচির কাছে তার ভালোবাসার কথা প্রকাশ যেন এতো রক্তাক্ত বাস্তবতার মাঝেও আবেগী রোমান্টিসিজমের অবতারণা করেছে।

কিন্ত পরিস্থিতি বেশি খারাপের দিকে যেতে শুরু করলে সরকার অঅনুমোদিত বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনী মুখোমুখি আক্রমণ পরিহার করে এসল্ট হিডেন পরিকল্পনায় অগ্রসর।  গল্পের বাকিটা এনিমখোরদের জন্যই থাক।

অনেকেই বলে শর্ট সিরিজের এনিমে লং সিরিজের এনিমের মত মনে রেখাপাত করতে পারে না।তাদের জন্য বলবো,প্যারাসাইট এনিমেটি দেখুন। এটি আমার দেখা সেরা ১০ এনিমের মধ্যে একটা।তাই এই এনিমের প্রতিটি এপিসোড শেষে আপনি পরের এপিসোডে কি হবে তা ভেবে হাত বা আংগুল কামড়ানো, চুল ছেড়া ইত্যাদি করতে পারেন।

আর এনিমের শুরুতে ‘Fear & Loathing inn Las Vegas ‘ এর ‘Let me Hear’ গানটি এনে দেবে অন্যরকম উন্মাদনা।

সুতরাং, আর দেরি কেন,আজই শুরু করে দিন প্যারাসাইট দ্যা ম্যাক্সিম, ভালো না লাগা রীতিমতো অসম্ভব।

প্যারাসাইট সংক্রান্ত কিছু লিনক:

http://www.imdb.com/title/tt3358020/

http://www.crunchyroll.com/parasyte-the-maxim

https://www.youtube.com/watch?v=9ho1ZRZv6aQ

https://www.youtube.com/watch?v=yGvyH4hh4SY

http://myanimelist.net/anime/22535/­Kiseijuu:_Sei_no_Kakuritsu

14 Parasyte

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১০: Hyouka — Maruf Raihan

এনিমে : হীওকা
জেনার:স্লাইস অফ লাইফ,হাইস্কুল, রহস্য
কিয়োতো এনিমেশন
MyAnimelist Point : 8.21

স্লাইস অফ লাইফ জেনারের এনিমে যাদের কাছে বোরিং মনে হয় তাদের জন্য একটি অসাধারণ মাস্টারপিস হল ‘হীওকা’। ইয়োনেজাওয়া হোনবুর “কোতেন বু সিরিজ” নামের লাইট নভেলের অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন, মাঙ্গাটি পরে তৈরি করা হয়েছে। গল্পের শুরুটা কিছুটা সাদাসিধে মনে হলেও এই এনিমের মাঝে লুকিয়ে আছে ব্যাপক মনস্তাত্ত্বিক ঘটনার প্রবাহচিত্র এবং চিন্তা ও দ্বন্দ্ব এর কিছু বিমূর্ত ঘটনা। কামিয়ামা হাইস্কুল একটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সহশিক্ষা কার্যক্রম এর জন্য এতে বহু সংঘ আর ক্লাবের বিচিত্র সমাহার রয়েছে। এই স্কুলে নবীন প্রবেশকারী দের কেউ মেধাবী ছাত্র, কেউ ভালো খেলোয়াড়, কেউ ভালো সামাজিক নেতৃত্ব দানে অগ্রসর।

কিন্ত এদের মাঝেও এমন একজন আছে যে শক্তি সঞ্চয়ে বিশ্বাসী, অতিরিক্ত তো দূরের কথা স্বাভাবিক কাজ এও সে উৎসাহ ছাড়া অনেক গাছারা ভাবভঙ্গি নিয়ে করে। সে আর কেউ নয়, আমাদের গল্পের প্রধান চরিত্র ওরেকি হোতারো। তথাপি তার বড় বোন তমোয়ে ওরেকির দূর ভারত হতে লেখা চিঠিতে করা অনুরোধ এর জন্য সে যোগদান করে ক্লাসিক্স ক্লাবে। সেখানেই তার সাথে দেখা হয় আরেক প্রধান চরিত্র চিতান্দা এরু’র সাথে। অত:পর ওরেকির মিডল স্কুলের বন্ধু সাতোশি ও মায়াকা কেও দেখা যায় ক্লাসিকস ক্লাবে।

ওরেকি হোতারোর জীবনের মূলমন্ত্র ছিল-

“যা করা অপ্রয়োজনীয়, তা আমি করি না।
আর যা আমায় করতে হবে,তা করবো দ্রুত”

কিন্ত তার এ দৃঢ় চেতনা বারবার পরাজিত হয় চিতান্দার কৌতূহলী সত্ত্বার কাছে। ওরেকি শক্তি সঞ্চয়ী অলস প্রকৃতির হলেও চিতান্দার কৌতূহলীচোখের দীপ্তির কাছে ওরেকি যেন অসহায়। সাতোশি আর মায়াকার মাঝে ভালোবাসার যে জায়গা ছিল তাকে খুব পরিচ্ছন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এনিমে টায়। চিতান্দার আংকেলের রহস্য উন্মোচন, সিনিয়র ক্লাসের মুভির ধাধা, স্কুলের সাংস্কৃতিক মেলায় অস্বাভাবিক ঘটনার বিশ্লেষণ এর মত হাই-টেম্পারড রহস্যাবরণ রয়েছে ২২ এপিসোড এর এনিমে টায়।

মানসিক প্রবৃত্তি, একমুখি চিন্তার অসারতা, আপনা আপনি গড়ে ওঠা সম্পর্ক, কোন ঘটনার সাথে একাত্ন হয়ে তার অনুসন্ধান করার উপায় ইত্যাদি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের উপস্থাপনা থাকায় হীওকা সত্যিই অনন্য একটা এনিমে।

ধৈর্য সহকারে এনিমে উপভোগের মনোভাব নিয়ে সবাইকে “হীওকা” দেখার আহবান জানাই। আশা করি অবশ্যই ভালো লাগবে।

হীওকা সংক্রান্ত কিছু লিনক:

http://myanimelist.net/anime/12189/Hyouka

http://www.imdb.com/title/tt2340841/

10 Hyouka