Gedo Senki (Tales from Earthsea) রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

 

Gedo 1

কি দেখলাম – Gedo Senki (Tales from Earthsea)

স্টুডিও – জিবলী।
সময় – ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট।

হায়াতো মিয়াজাকির ছেলে গোরো মিয়াজাকির ডেব্যু মুভি। Ursula K. Le Guin এর তিনটে বই এর মুভি এডাপশন; যার কাহিনী আবর্তিত হয় এমন এক পৃথিবীতে; যেখানে খুব অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটা শুরু হয়। দুর্ভিক্ষ, জনগনের অদ্ভুত আচরন – এসব কিছুর সাথে যুক্ত হয় ড্রাগনের আবির্ভাব; যারা কিনা কখনই মানুষের সীমানায় প্রবেশ করে না। এরই মাঝে যাদুকর Sparrowhawk এর দেখা হয় ১৭ বছরের এক ছেলের সাথে; যার নিষ্পাপ চেহারার পিছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীত।

জিবলীর মুভিগুলোর মধ্যে গেডো সেনকি খুব উপরের দিকে থাকবে না সম্ভবত। তার পিছনের কারণগুলোও যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। গেডোকে Ursula বলেছিলেন – ‘It is not my book. It is your movie. It is a good movie’; কিন্তু শেষমেশ তিনি তার অসন্তুষ্টিই প্রকাশ করেছিলেন মুভি নিয়ে। তিনটে বই এর এডাপশন হলেও শেষ বইটাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে; আগের বইগুলো থেকে আসা এলিমেন্টগুলো বেশিরভাগই ব্যাখ্যা করা হয়নি যথাযথভাবে।

মুভিটা রীতিমত একগাদা প্রশ্নের উত্তর অসম্পূর্ণ রেখে দিয়েছে। খুনের রহস্য কি, শহরে দাস কেন, কে দাস হতে পারবে আর কে পারবে না; Sparrowhawk এর সাথে টেনারের সম্পর্ক কি এবং তার ভিত্তি আসলে কি (আমাকে রক্ষা করেছে – আসলে খুব সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না); থেরুর অতীত কি জন্য এতো অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল; যাদুকর কারা হতে পারে; তাদের সংখ্যা কত আর এই ক্ষমতার উৎসই বা কি – এরকম অনেক প্রশ্ন এবং অনেক এঙ্গেলই মুভিটা গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন বোধ করেনি।

Gedo 2

তাছাড়া চরিত্রগুলো এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি খুবই অসম্পূর্ণ। Sparrowhawk প্রধান যাদুকর এটুকুই শুধু জানা যায়; তার পিছনের আর কোন কাহিনীই আমাদের জানা নাই; অথচ তার চেহারার দাগ ইঙ্গিত দেয় যে এখানে অনেক কিছুই ব্যাখ্যা করার অবকাশ ছিল। তাছাড়া মুভির মেইন ক্যারেক্টার আরেনের চরিত্র অসম্ভব রকমের সোজাসাপ্টা। পুরো মুভিতে আমি এমন কিছু পাই নি তার চরিত্রে যেটা তাকে পছন্দ করতে সাহায্য করবে। পুরো মুভিতেই সে ভয়াবহ বিভ্রান্ত এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তিকর চরিত্র হিসেবেই সামনে এসেছে।
মুভিটা তার যে মেসেজ সেটাতে ট্রু ছিল শেষপর্যন্তই; কিন্তু জিবলীর অন্য মুভিগুলোর মতন গল্পের আড়ালে মেসেজ না দিয়ে রীতিমত গিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছিল কিছু জায়গায়; যেটা মোটেও সুখকর ছিল না।

মুভির সাফল্যও ছিল কিছু। মধ্যযুগীয় কল্পনারাজ্যর যে সেটিং মুভি দিতে চেয়েছিল তাতে এটা পুরোপুরি সফল। ব্যাকগ্রাউন্ড, শহরের দৃশ্য – দুর্দান্ত; যদিও চরিত্র রুপায়ন আরেকটু ভাল হতে পারত। কিংবা এটাই হয়ত পরিচালক চেয়েছিলেন। সবচেয়ে শক্তিশালী দিক বোধহয় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। মাঝখানে একটা সময়ে কোন রকম ইন্সট্রুমেন্ট ছাড়া একটা গান আছে – যেটা আপাতত আমার নিউজিক প্লেয়ারে রিপিট অন করে বাজতেসে।
(লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=1hN3iGc1uW8)

ইন্টারনেট অবশ্য অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর একটা ব্যাখ্যা দেয় এই বলে যে, বইগুলো পড়ে নিতে হবে আগে; তাতে অনেক প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বসা যাবে; মুভিটা পুরোপুরি উপভোগও করা যাবে। কিন্তু যে মুভি দেখে বোঝার জন্য আমাকে তিনটে বই পড়ে নিতে হয়; সেটা যে তার উদ্দেশ্য পুরণে এবং নির্বর্তনে কিছুটা হলেও ব্যর্থ – একথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

Gedo 3

 

Hal — মোঃ আসিফুল হক

যা দেখলাম – Hal.

এক ঘন্টার একটা মুভি।

রোবট আর রোমান্স – মেইনলি। কোন একজনের মৃত্যুর পর তার জায়গাটা রোবট নিয়ে নিলে কি হবে না হবে – টাইপ কাহিনী। স্টোরিতে টুইস্ট আছে একটা; স্টোরি বেশি বলতে গেলে সেই টুইস্ট রিভিল করে দেওয়ার চান্স বেশি। সো; বাকিটা দেখে নিলেই বোঝা যাবে।

Hal 1

ভাল লাগার পার্টঃ ছেলে মেয়ে দুইজনই তাদের উইশ রুবিক্স কিউবে লিখে স্ক্র্যাম্বল করে আরেকজনকে দেয়। পছন্দের মানুষের কোন ইচ্ছে পূরণ করতে হলে সল্ভ করতে হবে রুবিক্স কিউব – বোথ ইন্টেলিজেন্ট এন্ড রোমান্টিক – নাইস।

মুভিটা অনেকটাই এই রুবিক্স কিউবের পাজলের মতন। একেবারে শুন্য থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে একটু একটু করে সব কিছু রিভিল করতে থাকে।

সবচেয়ে স্ট্রং দিক – ভিজ্যুয়াল। সিমপ্লি দুর্দান্ত। প্রচুর কালারের ব্যবহার, দারুণ ক্যারেক্টার ডিজাইন – এক মুহূর্তের জন্যও চোখ ফেরানোর জো নেই।

সাউন্ডট্র্যাকও সুন্দর; কাজ চালানোর মতন। ভয়েস এক্টিং বেশ ভাল।

Hal 2

হাল অতীতকে ফিরে পাবার এবং একজন আরেকজনের কাছে আসার রোমান্টিক একটা গল্প; যেটা আমাদেরকে এই মেসেজ দেয় যে প্রিয়জনের খুতগুলো, কিংবা কম আকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোকে মেনে নেওয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত ভালবাসা এবং বোঝাপড়ার সূচনা হয়। ভালবাসা হটাত করেই থেমে যেতে পারে; নির্মমভাবে সমাপ্তি ঘটতে পারে; কিংবা খুব অন্যায়ভাবে দূরত্ব তৈরি হতে পারে; কিন্তু সেই জিনিসগুলো মেনে নিয়েই প্রিয় মুহূর্তগুলোকে সাথে করে নির্মম বাস্তবতাকে মুখোমুখি ফেইস করাটাই সেই ভালবাসার সার্থকতা।

হাতে ঘন্টাখানেক সময় থাকলে বসে যেতে পারেন দেখতে; সময়টা খারাপ কাটবে না আশা করি।

হ্যাপি এনিমিং !

Hal 3

স্বপ্নযাত্রা – Shirobako এনিম রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

1

রোজকার মতন ফাইল ঠেলাঠেলি করে আর বসের ঝাড়ি খেয়ে লোকাল বাসে ঝুলতে ঝুলতে কখনও কি মনে হয়েছে “ব্যাস, অনেক হয়েছে; আর না?” মাঝে মাঝে কিছুটা একাকী সময়ে কি মনে হয়েছে এখন যেটা করছেন হয়ত সেটা করার কথা ছিল না কখনও? কিংবা হয়ত সেই সময় এখনও আসে নি; হয়ত এখনও ছাত্রজীবন পার করছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন একটা সাব্জেক্টে বছর দুয়েক পার করে ফেলেছেন; হটাত করেই কোন এক নির্ঘুম রাতে সোডিয়াম আলোয় ফাঁকা রাস্তায় হাটতে হাটতে মনে হল “এরপর কি?” ভবিষ্যতে আসলে কি করবেন বা কি করতে চান সেই সমন্ধে আপনার পরিষ্কার কোন ধারণাই নেই। হয়ত ক্লাসে ফলাফলের দিক থেকে আপনার অবস্থান ততটা আশাপ্রদ না; খুব চেষ্টা করে যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ঠিক যে পরিমাণ ফলাফল আসার কথা তার কিছুই পাচ্ছেন না? সবকিছু ছেড়েছুড়ে দেবার; দু’টো বছর আগে ফিরে যাবার; আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করার প্রবল ইচ্ছেটা মাঝে মাঝেই একগাদা সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ফেরত আসে সুযোগ পেলেই?

হুম, জীবনের কোন না কোন সময়ে অথবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক সময়েই এইরকম সময়ের মুখোমুখি হই আমরা সবাই। কিন্তু কঠোর বাস্তবতা হল বেশিরভাগ সময়েই এইসব প্রশ্ন বা ইচ্ছের কোন জবাব থাকে না। শুধু নিজের উপর বিশ্বাস ধরে রেখে সামনে আগাতে হয়, পথের শেষটা দেখার জন্য; জীবন সেই পথের শেষে কোন বিস্ময় লুকিয়ে রাখে কি না তা খোঁজার জন্য। ঠিক এমনই একটা থিমকে কেন্দ্র করে দাঁড় করানো এনিম সিরিজ “shirobako”.

 

2

আওই, এমা, সিজুকা, মিসা এবং মিদোরি – হাইস্কুলের এনিমেশন ক্লাবের পাঁচ বান্ধবী স্কুলের ফেস্টিভালের জন্য ছোট্ট একটা এনিমেশন তৈরি করার সময়েই বুঝতে পারে যেভাবেই হোক এনিমের জগতই হবে তাদের ভবিষ্যতের ঠিকানা। সকলে মিলে লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলে একটা; একদিন না একদিন তারা একসাথে খুব বড় কিছু একটা সৃষ্টি করবে। কিন্তু তারা যেমনটা ভেবেছিল বাস্তবতা আসলে ততটা সহজ নয়। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে সবাই-ই টিকে থাকার সংগ্রাম আর নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয় প্রতিদিন। কিন্তু তার পরেও কেউ হাল ছেড়ে দেয় নি। সবাই সবাইকে অবলম্বন করে একটু একটু করে এগিয়ে যায় তাদের স্বপ্নের পথে।

পুরো সিরিজটা মোটামুটি ভাবে আবর্তিত হয়েছে আওইকে ঘিরে, যে তার ক্যারিয়ার শুরু করে বড় একটা এনিম কোম্পানির প্রোডাকশন সেক্টরে। একটা এনিম তৈরি করা বিশাল হ্যাপার কাজ; ডিরেক্টরের স্টোরি বোর্ড ড্রয়িং থেকে শুরু করে এনিমেশন, মোশন, সিজি ইফেক্ট, সাউন্ড ইফেক্ট, ব্যাকগ্রাউন্ড, ভয়েস এক্টিং থেকে ফিনিশিং কিংবা ডেলিভারি – প্রতিটা এপিসোডই এক একটা বিরাট কর্মযজ্ঞ। প্রোডাকশনের দায়িত্ব এই সকল কাজের জন্য আলাদা আলাদা টিমের মাঝে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, তাদের শিডিউল তৈরি করা, ইন হাউজ প্রোডাকশনে না কুলালে বাইরে থেকে কাজ করিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় দেখভালের। আওইর পারস্পেক্টিভ থেকে আমরা তাই একটা এনিম তৈরি করতে কি পরিমাণ এফোর্ট এবং টানাপোড়েন চলে তার প্রায় পুরো ছবিটাই স্পষ্ট দেখতে পাই। সেই সাথে ক্রিয়েটিভ লোকজনের পারস্পরিক ইগো ক্ল্যাশ, নিজের সাথে যুদ্ধ, নিজেকে দিন দিন নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম; স্বপ্ন, আশা; বাস্তবতার সাথে কল্পনার জগতের ব্যালেন্স করার লড়াই – সব কিছুই খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সিরিজটায়।

সিরিজটার শক্তির জায়গাগুলোর একটা হল বেশিরভাগ প্রোটাগোনিস্ট চরিত্রই মেয়ে হলেও তাদের কেউই ট্রেডিশনাল এনিম সিরিজের ড্রামাকুইন ক্যারেক্টার না; বরং তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা স্বপ্ন পুরণে তারা সকল সন্দেহ আর প্রতিবন্ধকতার সাথে লড়াই করে যায় নিরন্তর। প্রত্যেকটা চরিত্রই ভীষণ রকম বিলিভেবল, একটু খুজলেই আমাদের আশেপাশেই পাওয়া যাবে এমন লোকজন। এরা প্রত্যেকেই হোঁচট খায়, মাঝে মাঝেই সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে দেবার চিন্তা ভর করে মাথায়; এবং সেই চিন্তাগুলো দূরে সরিয়ে আবারও যার যার কাজে নেমে পড়ে।

 

3

কিছু ছোটখাট পয়েন্টঃ
১) রোজার দিন সিরিজটা দেখা খানিকটা কষ্টকর। নাহ; ফ্যানসার্ভিস না; ফ্যানসার্ভিস বলে একটা বস্তু পুরো সিরিজে একেবারেই নাই (থ্যাঙ্ক গুডনেস); বরং কিছুক্ষণ পর পরই কেউ না কেউ কিছু না কিছু মজাদার খাবার খেতে থাকে। :(

২) বিপুল পরিমাণ চরিত্রের উপস্থিতি। আবছা আবছাভাবে সবার নাম আর একজনের সাথে আরেকজনের সম্পর্কগুলো বুঝে উঠতেই আমার ৪-৫ পর্ব লেগে গেছে। এই দিকটার জন্য প্রথম প্রথম সিরিজটার সাথে তাল মিলাতে কষ্ট হতে পারে; কিন্তু একবার এই Phase পার হয়ে গেলেই আসল মজাটা পাওয়া যাবে। :)

৩) ম্যাল এ সিরিজটায় দুটো ট্যাগ দেওয়া; একটা ড্রামা, আরেকটা কমেডি। পুরো সিরিজে কমেডি এসেছে মুলত লোকজনের পারস্পরিক ইন্টারেকশনে, খুব ন্যাচারালি; কোথাও খুব বেশি অতিরঞ্জন নেই; জোর করে হাসানোর চেষ্টাও নেই। তারপরেও হেসেছি, দম ফাটায়েই হেসেছি, খুব দুর্দান্ত কিছু সিচুয়েশনাল কমেডি এবং ওভারঅল সিরিজের লাইট থিমের জন্যই।

সিরিজটার সাউন্ডট্র্যাক অত আহামরি কিছু না; তার কারণ পুরোটাই সংলাপ নির্ভরতা এবং দ্রুতগতি। প্রায় পুরোটা সিরিজেই টেকনিকাল টার্ম এক্সপ্লেনেশন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা সেক্টরের কাজকর্ম, দায়িত্ব ব্যাখ্যা করেছে খুব সুন্দর করে, এবং সেটা সিরিজের ফ্লো-তে কোনরকম বিঘ্ন না ঘটিয়েই।

P.A. Works এর এনিমেশন এবং ডিজাইন, এবং তারা তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছে পুরোপুরিই। প্রত্যেকটা চরিত্রের এক্সপ্রেশন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দুর্দান্তভাবে; যেটার উপর অনেকটাই সিরিজটার সাফল্য – ব্যার্থতা নির্ভর করছিল।

ছাত্রজীবনের প্রায় শেষ দিকে থাকার দরুণ ব্যাক্তিগত জীবনে আমি নিজেও বেশ খানিকটা ধাঁধার মধ্যে আছি, ভবিষ্যৎ, ক্যারিয়ার, স্বপ্ন, পরিবার – সব কিছু নিয়েই। সে দিক থেকে সিরিজটার সাথে খুব সহজেই নিজেকে রিলেট করতে পেরেছি, উপভোগ করতে পেরেছি, প্রত্যেকটা চরিত্রের স্ট্রাগল দেখে তার মাঝে নিজেকে খুজেছি, তারা কি করে সেখান থেকে উৎরে আসে সেটা দেখেছি আগ্রহভরে, তাদের সাথে তাদের সাফল্যে আমিও হেসেছি। বেশ কিছুদিন ধরেই দুই দিনে ২৪ পর্বের একটা সিরিজ শেষ করা আমার জন্য খুব দুর্লভ, shirobako আমাকে সেই দুর্লভ মুহূর্তের সাথে আবারও দেখা করিয়ে দিয়েছে। :)

I simply loved it !

4

 

Tokyo Ghoul রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

4

১) মাঙ্গা পড়ি নাই (পড়বও না); সুতরাং “মাঙ্গাটা এনিমটা থেকে হাজার গুণ ভাল” জাতীয় কথা শুনতে আগ্রহী না; ওই ইতিহাস বহু আগেই জানা আছে।
২) এইখানে সেইখানে গুড়াগাড়ি স্পয়লার থাকতে পারে; বেশি ডরাইলে পইরেন না। পরে আবার কইয়েন না আমি সাবধান করি নাই।
৩) আন্সেন্সর্ড ভার্শন দেখসি। আলোচনা সেইটা নিয়েই।

রিভিউঃ টোকিও ঘুল

কানেকি কেন শান্ত শিষ্ট সারাক্ষণ বইয়ে ডুবে থাকা একটা ছেলে। যে কোন ভাবেই হোক, সে একবার রিজে কামিশিরো নামক ভয়াবহ এক সুন্দরীর সাথে ডেট জুটিয়ে ফেলে; যে কিনা তার মতনই বইপড়ুয়া। রিজের আরেকটা বড় পরিচয় সে একজন ঘুল। ঘুল হচ্ছে এক ধরণের মানুষের মতন জীব; যাদের জীবন ধারণের একমাত্র উপায় নরমাংস ভক্ষণ। স্বাভাবিক খাবার খেলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডেটের শেষটা অবশ্য খুব সুখকর হয় না। এক কন্সট্রাকশন বিল্ডিং এর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কিছু বীম মাটিতে পড়ে গেলে তার আঘাতে রিজে মারা যায়। গুরুতর আহত কানেকি নিজেকে আবিস্কার করে হাসপাতালের বিছানায়, রিজের শরীরের কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ট্রান্সপ্লান্ট অবস্থায়; যা কিনা তাকে আধামানুষ আধাঘুল বানিয়ে দেয়। এই অবস্থায় কানেকি মনুষ্য সমাজেও ফিরে যেতে পারে না; ঘুল সমাজও তাকে গ্রহণ করে না। এই অবস্থায় কানেকির আভ্যন্তরীণ লড়াই; বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প নিয়েই টোকিও ঘুল।

2

সিরিজটার প্রথমেই যে জিনিসটা দৃষ্টি আকর্ষণ করবে সেটা হল ওপেনিং সং। ওয়ান অফ দা বেস্ট এনিম ওপেনিং। চমৎকার কাজ। 🙂

এনিমেশন বেশ চমৎকার, বিশেষ করে ফাইটগুলোতে। কাগুনে, কুইঙ্কিগুলোর ডিজাইন বেশ ভাল ছিল। আক্ষরিক অর্থেই রক্তাক্ত লড়াই ছিল; গ্যালন গ্যালন রক্ত বয়ে গেসে একেক্টা ফাইটে। 😀

গল্প বেশ ভাল; বিশেষ করে মানুষ এবং ঘুল দুই দিকের সাইকোলোজিই পাশাপাশি শো করার চেষ্টাটা বেশ আকর্ষণীয় ছিল। ঘুল রা যে শুধুই মানুষখেকো জন্তু না; তাদেরও ইমোশন আছে; পরিবার আছে; আন্তেকুর মতন কিছু কিছু ঘুলরা যে মৃত মানুষ খেয়ে মানুষের সাথে মিলে মিশে বাস করছে; করতে চেষ্টা করছে – এই ব্যাপারগুলার চিত্রায়নের ব্যাপারটা ভাল ছিল।

আরেকটা চমৎকার দিক বোধহয় ভয়েস এক্টিং। বেশ গোছানো এবং চিত্তাকর্ষক কাজ।

১২ এপির সিরিজ; তাই “খুব বেশি ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট হয় নি” বলাটাও বোধহয় আন্ডারস্টেটমেন্ট হয়ে যায়। মোটামুটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা রাশড এন্ডিং দিয়ে সিরিজটা শেষ হয়ে গেসে। মাঝে হিনামি সহ কিছু কিছু চরিত্র “ঘুলরাও মানুষ” ধরণের আইডিয়া দেওয়া ছাড়া গল্পে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে নাই।

3

সো সব মিলিয়েঃ
পজেটিভঃ ওপেনিং সং, কিছু ফাইট সিন, কুইঙ্কি ডিজাইন, স্টোরি প্রেমিজ, ভয়েস এক্টিং।
নেগেটিভঃ রাশড এন্ডিং, আন্ডার ডেভেলপড ক্যারেক্টার, কিছু কিছু চরিত্রের অতি নাটুকেপনা।

মনে রাখার মতন কিছু না হোক, মাঙ্গার জন্য অপমানজনক এডাপশন হোক, ওভারহাইপড হোক; শুধু এঞ্জয় করার জন্য কোন একটা সিরিজ দেখতে তো সমস্যা থাকার কথা না। মাঙ্গা না পড়া যে কেউই সিরিজটা এঞ্জয় করবেন বলেই আমার বিশ্বাস ! 🙂

5

Hotarubi no Mori e রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

স্মৃতি কি আমারও আছে?

স্মৃতি কি গুছিয়ে রাখা আছে
বইয়ের তাকের মত,
লং প্লেইং রেকর্ড-ক্যাসেটে
যে-রকম সুসংবদ্ধ নথীভুক্ত
থাকে গান, আলাপচারীতা?

আমার স্মৃতিরা বড় উচ্ছৃঙ্খল,
দমকা হাওয়া যেন
লুকোচুরি, ভাঙাভাঙি,
ওলোটপালটে মহাখুশি
দুঃখেরও দুপুরে গায়,
গাইতে পারে, আনন্দ-ভৈরবী।

সময় খুব নিষ্ঠুর সত্ত্বা। তার কাজ শুধু বয়ে যাওয়া; সে কারো জন্যই অপেক্ষা করে না; না ঝিঁঝিঁ ডাকা তপ্ত গ্রীষ্মের দুপুরের জন্য, না শরতের ঝড়ে পড়া পাতার জন্য, না জীর্ণ শীর্ণ নিরুত্তাপ শীতের জন্য। কোন একদিনের ঝুম বৃষ্টি আর মাটির সোদা গন্ধ পরমুহুরতেই স্মৃতি হয়ে যায়।

Hotarubi no Mori e এর চরিত্রগুলো ঠিক এমন করেই সময়ের পাকে বাঁধা। ছেলেটি মানুষের ছোঁয়ায় বিলীন হয়ে যাবে বলে পাহাড়ী দেবতার বন ছাড়তে পারে না। মেয়েটি পুরো একটি বছর পার না করে তাকে দেখতে পায় না। তাই প্রতি গ্রীষ্মেই মেয়েটি ছুটে যায় ছেলেটির কাছে; কোন একদিন হটাত করেই আর এই ছুটাছুটির দরকার পড়বে না – এটা খুব ভালভাবে জেনেই।

Hotarubi no Mori e “ফিজিকাল ভালবাসা”র কনসেপ্টটা জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ভালবাসার যে আসল নির্যাস তাকে খুজে ফিরেছে। যে ভালবাসাকে আমরা খুজে পাই যখন আমরা প্রিয়জনের কাছাকাছি থাকি; কিঞ্চিত দুষ্টুমিতে তার মুখের হাসিটুকু দেখি; যখন কি বলব তা খুজে না পেয়ে দম বন্ধ হয়ে আসে; কিংবা দুজনে পাশাপাশি নিরিবিলি বসে থাকি। ভালবাসা সব সময় সরব হতে হয় না; মাঝে মাঝে নীরবতায়, অনেক কিছু না বলাতেও ভালবাসা লুকিয়ে থাকে। Hotarubi no Mori e সেই থিমের উপর দাঁড়িয়েই আমাদের একটা ভালবাসার গল্প শোনায়; যে ভালবাসাটা কোন রকম চাওয়া পাওয়া বিবর্জিত; যে ভালবাসাটা খুব স্নিগ্ধ।

পুরো মুভিটার পরতে পরতে দুর্দান্ত আর্টওয়ার্ক; চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর দুটো ভিন্ন জগতের বাসিন্দার কথোপকথন – ৪২টা মিনিট যে কোন দিক দিয়ে পার হয়ে যাবে টেরও পাওয়ার কথা না। “ভাল না বাসাটা দুঃখের, ভাল বাসতে না পারাটা বোধহয় তার চেয়েও বেশি” – স্প্যানিশ কবি মিগুয়েলের কথাগুলো যেন এক হয়ে যায় মুভিটার সাথে।

শুরুটা করেছিলাম পুর্নেন্দ পত্রীর একটা কবিতায়। শেষ করি নির্মলেন্দু গুণের কবিতার কয়েকটা লাইন দিয়ে –

কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।
তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও
কতবার যে আমি সে কথা বলিনি
সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।

এমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে
কল্পনা করেছি, সে-কথা আমার ঈশ্বর জানেন।

1

Time of Eve রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

7

“Are you enjoying the time of eve?”

কিছু গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। হলিউড মুভির গল্প না; একেবারে নিখাদ বাস্তব জীবনে ঘটতে থাকা কিছু গল্প। জাপানের চুকিও ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক কিছু বাচ্চাকাচ্চা রোবট বানিয়েছেন। এই রোবটগুলো একেবারে মানুষের বাচ্চার মতন; হাসে, কাঁদে ঘুমায়ে যায়। ওল্ড হোমে থাকা নিঃসঙ্গ মানুষগুলোকে একটু সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতেই এই প্রজেক্টের উদ্ভব। ওদিকে টেরাসেম মুভমেন্ট নামে একটা সংগঠন মানুষের স্মৃতি, ব্যাক্তিত্ত, আবেগ – এগুলো রোবটের মধ্যে জমায়ে রাখার কাজ শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই। আবার হোন্ডা বানাচ্ছে হাটতে চলতে সিড়ি বাইতে পারে এমন রোবট।

এতো গেল গায়ে গতরে খাটানো যায় এমন রোবট নিয়ে প্যাচাল। টেক্সাস অস্টিন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা রীতিমত কম্পিউটারকে স্কিতজোফ্রেনিকই বানিয়ে ছেড়েছেন। আর জর্জিয়া টেক স্কুলের রোনাল্ড আরকিন তো বানিয়েছেন মিথ্যেবাদী রোবট। এই রোবটে মিথ্যে আগে থেকে প্রোগ্রাম করা থাকে না; সে নিজে নিজেই পরিবেশ দেখে মিথ্যে বলাটা আয়ত্ব করে নেয় !!!

8

জি হ্যা; এতক্ষণে বোধহয় এতো রোবট আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কচকচানির উদ্দেশ্য বুঝে যাবার কথা। যে মুভিটা নিয়ে লিখতে বসেছি সেটা মানুষ, রোবট আর মনুষ্যত্ব, বুদ্ধিমত্তা – এইসব কনসেপ্টকে নিয়েই বানানো।

দেখলাম “Time of eve”. ১০৬ মিনিটের এই মুভির সেটিংস নিকট ভবিষ্যতে; যেখানে মানুষ এবং হিউম্যানয়েড রোবট “এন্ড্রয়েড” এর পাশাপাশি সহাবস্থান। বাস্তবের রোবটরা না করলেও গল্প সিনেমার বেশিরভাগ রোবটই আসিমভ সাহেবের তিনটে সুত্রই মেনে চলে; এখানেও তার ব্যাতিক্রম নয়। তবে সেখানে একটা “কিন্তু” থেকে যায়। আসিমভের ল গুলোতে “রোবট তাকে দেওয়া আদেশের বাইরে কিছু করা যাবে না” কিংবা “রোবট মিথ্যে বলতে পারবে না” এই ধরণের কোন বাইলজ নেই। আমাদের এই গল্পে বেশিরভাগ মানুষই রোবটকে “শুধু মেশিন” হিসেবে দেখে যেভাবে ট্রিট করার কথা – স্বার্থপর, ঠান্ডা এবং নিষ্ঠুর – সেভাবেই ট্রিট করে। কিন্তু এর মাঝেও কিছু কিছু মানুষ থাকে; যারা আসলে “শুধু মেশিন” এর ধারণার বাইরে গিয়ে এন্ড্রয়েডদের আলাদা “সত্ত্বা” হিসেবে দেখার চেষ্টা করে; বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু কেন? রোবটদেরকে অধিক বুদ্ধিমত্তা দিলে সেটা কি মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে না অভিশাপ? একটা খেলনা গাড়ির প্রতিও কিছুদিন পরে একটা মায়া, একটা ভালোবাসা জন্মে যায়; সেখানে একটা বাচ্চাকে লালন পালনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোন রোবটের হাতে ছেড়ে দিলে সম্পর্কটা কি হতে পারে? মানবিক আবেগ কি শুধু মানুষের করায়ত্ত থাকবে? মানুষ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটা সত্ত্বার সাথে মানবিক আবেগের সম্পর্কের মাত্রাটা কি হবে? এ ধরণের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে মুভিটিতে।

6

মুভিটা দেখার সময় আমার বার বার যে কথাটা মনে হয়েছে সেটা হল “স্নিগ্ধ”। মুভিটার সেটিং সিম্পল, আমাদের বর্তমান পৃথিবীর সাথে সমান্তরাল, কিন্তু তার মাঝেও খুব সূক্ষ্ম একটা পার্থক্য আছে; যেটা মুভির অদেখা কিন্তু সম্ভাব্য ভবিষ্যতে প্লট সাজাতে সাহায্য করে। চরিত্র রুপায়ন, তাদের চলাফেরা, চারপাশের পরিবেশ এতটাই বাস্তবের সাথে মিল যে খুব সহজেই নিজের চেনাজানা জগতের সাথে মিলিয়ে ফেলতে পারবেন। কিন্তু তার মাঝেই, এই এত শত বাস্তবতার ভীড়েও ফুটপাথের বিষণ্ণ ছায়ায় কি যেন লুকনো রহস্য কিংবা উজ্জ্বল সূর্যালোকে ঝলমলে কিন্তু প্রাণহীন শহরের পথ অথবা ধূসর বাদামী আবহ অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দেয় যেন !!

চরিত্র, গল্প অথবা সাউন্ডট্র্যাক – কোন কিছুই নিয়েই আর আলাদা করে তেমন কিছু একটা বলার নেই আসলে। শুধু এইটুকু প্রমিজ করতে পারি মুভিটা দেখা শুরু করলে সবকিছু ভুলে গিয়ে কোন দিক দিয়ে সময়টা পার হয়ে যাবে টেরই পাবেন না !

9

Rainbow: Nisha Rokubou no Shichinin: রিভিউ/রিয়েকশন — মোঃ আসিফুল হক

Rainbow 1

“অরেতাচি নাকামাতাচি সুগোই কাক্কই দেসু” মূলমন্ত্র নিয়েই তৈরি হওয়া সিরিজটার পটভুমি ১৯৫৫ সালের যুদ্ধ পরবর্তী জাপানে। নানা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ৬ টিনএজ ছেলের জায়গা হয় এক বিশেষ সংস্কার স্কুলের একই সেলে; যেখানে তাদের সঙ্গী হয় আগে থেকেই সেই সেলে থাকা সাকুরাগি রকুরোতা। সাকুরাগির কল্যাণে এই ছেলেগুলো কাছাকাছি আসতে থাকে; একে অপরের বন্ধু হতে থাকে; নৃশংস, অন্ধকারাচ্ছন্ন সেই প্রকোষ্ঠে পরস্পরকে বাচার প্রেরণা যোগায়, সাহস যোগায়। সেই অন্ধকার ছেড়ে যখন ছেলেগুলো সমাজে ফিরে আসে তখনও সাকুরাগির শিক্ষা আর স্মৃতি বুকে নিয়ে নিজেদের স্বপ্নকে ধাওয়া করে চলে নিরন্তর।

চমৎকার স্টোরি, অন্তত শুরুর দিকটায় সেটিং চমৎকার; প্রত্যেকটা চরিত্র নিয়েই কম বেশি এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পর্যাপ্ত। একেবারে শুরুর কয়েক মিনিটেই সিরিজটা মনোযোগও ধরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এবং শুরুর কয়েক পর্বেই প্রত্যেকটা চরিত্রেরই কম বেশি ব্যাক স্টোরি পেয়ে যাই আমরা; এবং সেটাও যথেষ্ট রিচ। So far, so good. কিন্তু বাদ সাধে এর পরেই। সিরিজটা একেবারে পুরোপুরি মনোটোনাস আর একমুখী হাঁটা শুরু করে দেয়। চরিত্র নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার যে সুযোগটা ছিল, সেটা একেবারে জলে ফেলে দেওয়া হয়। সবগুলো চরিত্র একেবারে দাগ টেনে সাদা কালো দলে ফেলে দেওয়া সম্ভব হয়ে যায়। খুব বেশি জটিলতায় না গিয়ে সহজ কথায় বলি, সেলে থাকা ৭ টা চরিত্রগুলো খুব ভাল; তারা কোন রকম খারাপ কাজ করতে পারে না; সেটা যে কোন পরিস্থিতিতেই হোক, একেকজন দেবতার অবতার, বন্ধুঅন্তপ্রান, নীতিবান, সৎ, নিপাট ভদ্রলোক। আর বাকি চরিত্রগুলো সব খারাপ। শুধু খারাপ না; একেবারে সাক্ষাৎ ইবলিশ। এরা স্যাডিস্টিক, শিশু নির্যাতনকারী, ঘুষখোর, খুনী, ষড়যন্ত্রকারী। মানবতার ছিটেফোঁটাও নাই এদের মধ্যে। এইরকম প্লেইন চরিত্রগুলো কিছুদুর যাওয়ার পর আসলে বিরক্তিরই উদ্রেক করে।

এনিমটার মেসেজ আর প্রশ্নগুলোও বড্ড একঘেয়ে। বন্ধুত্ব কি, ফ্যামিলি কি, মানবিকতা, নীতি, ভালবাসা এবং এই জিনিসগুলোর জন্য একটা মানুষ কতটুকু আত্মত্যাগ স্বীকার করতে পারে সেই উত্তরগুলোই খোজার চেষ্টা হয়েছে; সেই উনিশশো কটকটি সাল থেকে এখন পর্যন্ত সিরিজগুলোর মতনই।

আরেকটা নেগেটিভ দিক হল মেলোড্রামা। মোটামুটি শেষ ৮-৯ টা পর্ব হিন্দী সিনেমার লেভেলে নিয়ে গেসে সিরিজটাকে। কেউ কিছু একটা করে বিপদে পড়বে, এবং বাকি বন্ধুরা পারলে নিজেদের জীবনটাকে বাজি রেখে তাদেরকে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করবে, তাদের মুখে হাসি নিয়ে আসবে – এই জিনিসটাকেই ৬ বারের মতন সেইম লুপে ফালায়ে ভ্যারিয়েবল চেইঞ্জ করে দেখানো হয়। পিওর মেলোড্রামা। তার সাথে যোগ করে নিন প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর একবার করে ধারাবিবরণী। পরিচালক মহোদয় বোধহয় ধরেই নিয়েছেন প্রত্যেকটা দর্শক গর্ধভ শ্রেণীর লোক, কোন একটা ইমোশনাল সিচুয়েশন তারা নিজেদের বুদ্ধি খাটায়ে বুঝে নিতে পারবে না; সুতরাং কিছু একটা ঘটার সাথে সাথে পুরো ফ্রেম ফ্রিজ করে দিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ সহ সেই সময় প্রতিটা চরিত্র কি ভাবতেসিল, তাদের চোখে জল ছিল কি না, এবং থাকলে তার পরিমাণ সহ ব্যাখ্যা আমাদের সরবরাহ করেছেন।
আমরা কৃতজ্ঞ।

কিছু কিছু এনিম বোদ্ধারা এই সিরিজটাকে বিগিনারদের জন্য সাজেস্ট করতে চেষ্টা করেন। সিরিজটা দেখার পর আমি তাদের পোয়েটিক সারকাজমের জায়গাটা অবশ্য ফিল করতে পারতেসি। ডার্ক থিম এবং সেটিং এ এইরকম হালকা ধাঁচের সিরিজ পাওয়াটা আসলেই দুষ্কর।

ভয়েস এক্টিং, সাউন্ডট্র্যাক, এনিমেশন, আর্ট – সবগুলো দিক দিয়েই রেইনবো বেশ ভাল কাজ দেখাইসে। কোনটা নিয়েই কোন আপত্তি নাই। বিশেষ করে ভয়েস এক্টিং বেশ পছন্দ হইসে।

বটমলাইন, রেইনবো খুব ভিন্ন ধরণের কিছু না; বরং পুরনো বোতলে নতুন মদের মতন ডিফারেন্ট প্লট সেটিং এ শৌনেন সিরিজে পরীক্ষিত ফর্মুলা আর আইডিয়োলোজিগুলোরই এক্সিকিউশন মাত্র।

রেইনবো কেমন সিরিজ? খুব খারাপ? মোটেই না। মাস্টারপিস? কখনই না। পুরো সিরিজটা দেখে একটা শব্দই মাথায় আসে – “হতাশাজনক।” বিশাল প্রমিজ নিয়ে শুরু করা একটা সিরিজকে এইরকম প্রেডিক্টেড পথে চলতে দেখাটা আসলেই হতাশাজনক। আর প্রথম দিকের পর্বগুলো তাও বেশ উপভোগ্য, দ্বিতীয় ভাগের পর্বগুলো তার পিওর মেলোড্রামাটিক সেইম রিপিটিভ স্টোরি দিয়ে পুরো সিরিজেরই বারোটা বাজায় দিসে।

এখন রিকমেন্ডেশনঃ প্রথম ১৩টা পর্ব দেখেন। এইগুলা মোটাদাগে বেশ ভাল। ভাল লাগবে আশা করতেসি। পরের ১৩টা দেখতে চাইলে নিজ দায়িত্বে দেখবেন। মেলোড্রামা ভাল না লাগলে অইগুলা এভয়েড করাটাই সমীচীন হবে বোধকরি।

Rainbow 2

Kingdom রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

অনেক অনেএএএএক ছোটবেলায় যখন সমাজ বইয়ে বঙ্গদেশের ইতিহাসে পড়তাম “বখতিয়ার খিলজী মাত্র ১৮ জন ঘোড়সওয়ার নিয়ে নদীয়া প্রাসাদ আক্রমণ করে বাংলা বিজয় করেন” তখন মনে হইত, আইসসালা, সিরাম কাবিল লুক তো ! কি সুন্দর সিস্টেমে ১৫-২০ জন নিয়া একটা দেশ গাপ কইরা দিল। তারপর কিছুদিন পরে বিটিভিতে “সোনারগাঁয়ের পথে পথে” নামক একটা ধারাবাহিক নাটক প্রচার হইসিল, ২০০৫-০৬ এর দিকে সম্ভবত। বন্ধু বান্ধবদের পচানি শুনেও নিয়ম করে ওইটা দেখতাম। মোদ্দাকথা হইল, মুখস্ত করার পেইনের না থাকলে আমার ইতিহাস ভাল্লাগে, বিশেষ কইরা যুদ্ধের ইতিহাস, ট্যাক্টিক্সের ইতিহাস। নিজে ভাল রকম ভীতু মানুষ দেইখাই হয়ত – বীরত্বের কাহিনী বড় ভাল্লাগে, সেইটা খিলজী ভাইয়ের চিপা দিয়া বাংলা ঘাপায় নেওয়ার কাহিনী হোক, কিংবা কড়া নিরাপত্তার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের আশেপাশে একটু বুমা টুমা মাইরা আওয়াজ তোলার কমান্ড পাইয়া ক্র্যাক প্লাটুনের একেবারে হোটেলে হামলা করার মতন এপিক কাহিনী হোক।

আসল কিচ্ছায় ফেরত আসি। কিংডম এনিমটা দেখলাম; প্রথম সিজন। ইতিহাস ভিত্তিক একটা সিরিজ, তবে জাপানের না, চায়নার ইতিহাস। পটভুমি ৪৭৫ খ্রিস্টপূর্ব যুদ্ধপ্রবণ চায়না। শিন(Xin/Shin) এবং হিয়ো(Pyou/Hyou) কিন(Qin) রাজ্যের দুই অনাথ শিশু। যুদ্ধে বাবা মা নিহত হবার পর তাদের ঠাই হয় এক বড়লোকের বাড়িতে, দাস হিসেবে। দুজনের মনে স্বপ্ন, একদিন বড় জেনারেল হয়ে নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করার; তাও যে সে জেনারেল না; দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জেনারেল। তাদের ভাগ্যে কি ঘটল, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র আর যুদ্ধপ্রবণ সময়ে Qin এর রাজা সেই (Zheng) কীভাবে পাহাড়ী লোকজনের সহায়তায় সৎভাই এর হাত থেকে রাজ্য উদ্ধার করলেন, ধীরে ধীরে পরিণত রাজা হয়ে উঠতে লাগলেন – এইরকম বেশ কিছু গল্প নিয়েই তৈরি করা হয়েছে সিরিজটি।

পুরো সিরিজটা বেশ খানিকটাই আপডাউনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তবে নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখলে খারাপ লাগার এলিমেন্টই খুজে পাওয়া যাবে বেশি। একে একে ব্যবচ্ছেদ করা যাক। তবে তার আগে একটা জিনিস পরিষ্কার করে নেওয়া ভাল; আমি শুধু প্রথম সিজন শেষ করেছি। নিচে অনেকগুলো নেগেটিভ দিকের কথা এসেছে; যেগুলোর অনেকটাই নাকি দ্বিতীয় সিজন কাটিয়ে উঠেছে। আর মাঙ্গা নাকি মোটামুটি এপিকের পর্যায়ে চলে গিয়েছে। নিচের রিয়েকশন শুধু প্রথম সিজনের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সিরিজের সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক CGI এনিমেশন। বাজেট সঙ্কটের কারণে হোক কিংবা এক্সপেরিমেন্টাল পারপাসে হোক, 3D এনিমেশন দেখলে মনে হয়েছে যেন বহু পুরোনো কোন ভিডিও গেইমের ক্লিপ দেখছি। সব কিছুই কেমন যেন আর্টিফিশিয়াল আর ক্রুড। কিছু কিছু ফাইট সিনে ব্যাপারটা ভাল লাগলেও ওভারওল ভাল রকম বিরক্তি উদ্রেক করেছে সারা সিরিজ জুড়ে।

সাউন্ডট্র্যাক খুবই সাধারণ মানের। দ্বিতীয়বার শোনার বদার করার কথা না কারো।

ভয়েস এক্টিং সিরিজের চমৎকার একটা দিক। শিনের ভয়েস এক্টর ইচিগোর ভয়েস এক্টর, আর সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড ধারাভাষ্যকার খুব সম্ভবত ওয়ান পিসের জন; সুতরাং ভয়েস এক্টিং নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট।

প্রচুর একশন সিন থাক্লেও সবই বেসিক। এবং বেশির ভাগ একশন সিনই জঘন্য CGI এর জন্য বিরক্তির উদ্রেক করেছে। মেইন ক্যারেক্টারগুলোর ফাইটগুলো যথেষ্ট ইলাবোরেট এবং ভাল হলেও সাইড ক্যারেকটারদের মুড়ি মুড়কির মতন উড়ে যাওয়াগুলো ভয়াবহ রকমের আনরিয়েলিস্টিক ছিল। লাখে লাখে সৈনিক যুদ্ধ করলেও এবং মারা যেতে থাকলেও মোটেও সেই ফিলটা আসে নি; খুব সম্ভবত এনিমের টার্গেট অডিয়েন্স ইয়াং টিনএজার ছিল। রেজাল্ট? কিঞ্চিত লেইম ব্যাটেলস। তবে চালায়ে নেওয়া যায়; আহামরি না হলেও এভারেজ মার্ক্স দেওয়া যাবে।

স্টোরি – পুরো সিরিজটা এক নিঃশ্বাসে দেখেছি এবং রিভিউও লিখতে বসেছি – একমাত্র কারণ বোধহয় স্টোরি। প্রায় বাস্তব একটা ইতিহাসের গল্প আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা খুব চাট্টিখানি কথা না; সেটা বেশ মুন্সিয়ানার সাথেই করতে পেরেছে এই সিরিজ। যুদ্ধের ময়দানে ব্যাবহার করা ট্যাক্টিক্স, মুহূর্তে মুহূর্তে রঙ বদলানো যুদ্ধে কমান্ডিং জেনারেলদের বুদ্ধি, ক্ষমতা আর স্ট্র্যাটেজির খেলা – চমৎকার স্টোরি। যদিও স্টোরির উৎকর্ষতা যুদ্ধের ঘটনার সাথেই শেষ; ক্যারেকটারগুলোর ব্যাক স্টোরি দেখানোর বা তাদেরকে লাইকেবল করার জন্য মোটেও চেষ্টা করা হয় নি সিরিজে। ফলাফল – শিন ছাড়া আর কোন ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্ট একেবারে শূন্যর ঘরে। বিশেষত ভিলেনগুলো মনে ভীতি বা শ্রদ্ধা এধরণের অনুভুতির বদলে চরম বিরক্তির উদ্রেক করে। এছাড়া যুদ্ধ বা স্ট্যান্ড এলোন ব্যাটলের সময় ক্যারেকটারগুলোর বন্ধু বান্ধবদের লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ উপভোগ এবং ধারাভাষ্য বর্ণনা – খুব ভাল ইম্প্রেশন ফেলে না।

এখন বার্নিং কোশ্চেন। সিরিজটা দেখা উচিত কি না? I absolutely loved the series; mostly because of its story, war tactics and history. এই জিনিসগুলো সমন্ধে আলাদা করে ইন্টারেস্ট না থাকলে এবং আর্টস্টাইল এবং সাউন্ডট্র্যাক এর মতন বিষয়গুলো নিয়ে নমনীয় না হলে আমার পরামর্শ থাকবে না দেখার জন্য।

Working! এনিম রিয়েকশন — মোঃ আসিফুল হক

প্রথমেই দুইটা জোক্সঃ

১) There are two types of people in this world:… Those who can extrapolate from incomplete data.
২) A Roman walks into a bar, holds up two fingers, and says: “Five beers, please.”

কি বললেন? একটুও হাসি আসে নাই? জানেন, আমারও না। কিন্তু আমার এক বন্ধু আছে; সে এই জোকসগুলায় হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাইসে। :/
কথা হইল; সেই আজাইরা প্যাচাল এইখানে ক্যান? কারণ হইল কমেডি ট্যাগওয়ালা একখান সিরিজ দেখসি। আর হাসি জিনিসটা বড়ই অদ্ভুত; কার যে কিসে হাসি আসবে বোঝা বড় মুশকিল !! যেই যেই এলিমেন্টে হাসতে হাসতে চোখে পানি চলে আসার কথা; বেশিরভাগ জায়গায় উলটা ক্যান জানি বরং মেজাজ খারাপ হইসে। চোখ মুখ কুচকায়ে স্ক্রিনের দিকে তাকায় মনে মনে ভাবসি, “huai man, huai?” -_-

সিরিজটার নাম ওয়ার্কিং। উপরের বর্ণনা শুইনা মনে হইতে পারে আমি বুঝি সিরিজটায় মহা বিরক্ত; ব্যাপারটা আসলে তেমন না। ঘটনা ভাইঙ্গা বলি তাইলে। নায়ক তাকানাশি আর নায়িকা ইনামি। সমস্যা হইল এই ইনামিরে নিয়া। এতো বৈচিত্র্যহীন আর মনোটোনাস ক্যারেকটার !! অথচ স্ক্রিনটাইম পাইসে সে-ই সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে সাতৌ বা ইয়ামাদার মতন ইন্টারেস্টিং ক্যারেকটার অর্ধেক জায়গাও পায় নাই।

সিরিজের সেটিং একটা ফ্যামিলি রেস্টুরেন্টে কাজ করা কিছু মানুষ এর ডে-টু-ডে লাইফ নিয়া। এদের একেকজনের একেক রকম উদ্ভট সমস্যা আছে; ভাললাগা আছে। সেইগুলা নিয়াই কমেডি দিয়া চালানো সিরিজ। কোন এনিমেরই কাহিনী সংক্ষেপ বলতেও ভাল লাগে না; শুনতেও মনে হয় না কারো ভাল লাগার কথা। দেখলেই কাহিনী বুইঝা যাবেন; অথবা না-ও যাইতে পারেন; কারণ কাহিনী থাকলে তো বুঝবেন !!

এইবার চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রথম রিয়েকশনঃ নায়িকাডা এতো এনয়িং না হইলেই হইত। ওভারঅল – মজাই আছে। হাল্কা ধরণের জিনিস। মাঝখানে রোমান্টিক কিছু পার্ট ঢুকানোর চেষ্টা করসে; বেহুদা। কিছুই হয় নাই। ১৩ পর্ব শেষ কইরা সেই রোমান্স ঘুইরা ফিরা সেইম জায়গাতেই ফেরত আসছে। -_-
ক্যারেকটার ডিজাইন ভাল; এটলিস্ট একজন থেইকা আরকজনরে আলাদা করতে পেইন হয় না।
এনিমেশন ভাল; সাউন্ডট্র্যাক চলে।
ক্যারেকটার এর ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি মোর ওর লেস ব্যাখ্যা করার ট্রাই করসে; সো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টে ভাল মার্ক্স।
কিছু কিছু জোকস মাঝে মাঝেই ওভারইউজড; ভ্যারিয়েশন কম। এক টপিকস নিয়ে চাইলে অনেক রকম জোকসই করা যাইত, সেইদিকে কিছু মার্ক্স কাটা। :/
ভয়েস এক্টিং এর ব্যাপারে আমার আইডিয়া খুবই কম; তবে শুনে মনে হইল ভাল পাবলিকরাই ভয়েস দিসে। শুইনা ভাল লাগে।

তো ইন শর্ট; ইনামির পেইনগুলা বাদ দিলে এঞ্জয়েবল। স্লাইস অফ লাইফ কমেডি ঘরানার সিরিজ পছন্দ করা লোকজনের জন্য অবশ্যই রিকমেন্ডেড; আর বাকিদের জন্য “দেখতে ইচ্ছে হইলে দেখেন, না হইলে থাকুক।”

Coffee with Asif (CWA) – পর্ব ১১ – (Games Corner – No game No life)

No Game No Life

আকাশ মিয়া(সোরা) আর সাদাবানু(শিরো) দুই ভাই বোইন। সারাডা দিন কাটে ভিড্যু গেইম খেইলা খেইলা। দিন নাই রাত নাই – সারাডা দিন খেলে। খারাপও খেলে না; “ব্ল্যাঙ্ক” ইউজার নেইম নিয়া দুই ভাই বোনে চাইরটা ক্যারেক্টার সমানতালে চালায় হাজার হাজার প্লেয়ার শোয়ায় দিতেসে কথা ছাড়াই। মানুষজনের সাথে যোগাযোগ নাই, দেখা নাই, কথা সাক্ষাত নাই; ঘরের বাইরে বাইরাইলে টিকতে না পারা এই দুই ভাই বোনের এই দুনিয়া অসহ্য লাগে; শুধু খেলা ছাড়া। হটাত একদিন আরেক জগতের কামিসামা এই দুইজনরে উঠায় নিয়া গেল তার দুনিয়ায়; ভদ্রলোক নিজেও নাকি গেমার ! সেই দুনিয়া বড়ই মজার – যা কিছু করবা সব গেইম দিয়া। কাইজ্জা করবা? একটা গেইম খেলা সমাধান কর। কোন একটা জিনিস দরকার? খেল গেইম।

দুনিয়াটার আরেকটু বর্ণনা দেই। ১৬ টা জাতি। কেউ ম্যাজিক ইউজ করতে পারে; কেউ পারে না। একেকজনের একেক রকম এবিলিটি। কিন্তু একটা জিনিস কমন। এরা একজন আরেকজনের সাথে যুদ্ধ করে, সাম্রাজ্য বাড়ায়, কাইজ্জাকাটির মিমাংসা করে – সব গেইম খেইলা। একজন আরেকজনরে চ্যালেঞ্জ করে; কিছু জিনিসপাতি বেট রাইখা। এই ১৬ জাতির মধ্যে মানব জাতির অবস্থা বেশি ছ্যাড়াব্যাড়া। পণ্ডিতি করতে গিয়া আগের রাজা খেলায় হারতে হারতে প্রায় অর্ধেক রাজ্য হারায় ফেলসে। ঘটনাক্রমে শিরো আর সোরার কপালে পড়ে এদের উদ্ধার করার দায়িত্ব। কেম্নে, কেন, তারা কি কি করে আর তাদের আসল লক্ষ্য উদ্দেশ্যই বা কি – জানতে দেইখা ফেলেন মাত্র ১২ পর্বে শেষ হওয়া এই এনিমটা !

এইবার সিরিয়াস মোটামুটি অগুরুত্বপূর্ণ কথা বার্তা। শুরুতেই সতর্কবাণী। সিরিজের জেনার এর একটা হল এচ্চি। মাইল্ড ন্যুডিটি আছে। সুতরাং; অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চাকাচ্চারা দূরে থাক (যদিও এই সতর্কবাণী কেউ যদি শুনতো তাইলে তো হইসিলই!) এছাড়া সিসকন এবং ললিকনের মৃদুমুন্দ আছর তো আছেই, সুতরাং সাধু সাবধান !

সিরিজের আপসাইডগুলা কি কি? সারটেনলি কমেডি, কাহিনীর কোথাও ঝুলে না যাওয়া (১২ পর্বে আর কি ঝুলবো? ), শিরো আর সোরার ইন্টারএকশন, চমৎকার আর্টওয়ার্ক।

আর ডাউনসাইড? প্রত্যেকটা ফিমেইল ক্যারেক্টারের ফ্যান সার্ভিসের শিকার হওয়া। মনে রাখা ভাল; শিরোর বয়স সিরিজ মতে ১১। এছাড়া মাঝে মাঝে রুলস এবং কিছু ইনফো এতো দ্রুত ন্যারেট করে যে কোপ আপ করতে খবর হয়ে যায়।

তো ফাইনাল মতামত? আমার মতন সুশীলতা সংক্রান্ত প্রবলেম না থাকলে thoroughly enjoyable এবং সম্ভবত ’১৪ এর অন্যতম ব্লকবাস্টার একটা সিরিজ, দেখাটা অবশ্যই আসে।

– CWA প্রচারিত হচ্ছে কালে ভদ্রে; বৃহস্পতি শুক্রবারের দিকে; এনিমখোরে !! আমাদের আর কোথাও কোন শাখা নেই !!! স্পোর্টস এনিম নিয়ে(মাঝে মাঝে অন্য জেনারের সিরিজ নিয়েও) আপনার যে কোন আবদার; আবেদন; আহ্লাদ; হুমকি; জিজ্ঞাসা – সব কিছুই জানাতে পারেন আমাদের; আমরা তার সমাধান দেবার চেষ্টা করব কোন না কোন সময় ইনশাল্লাহ !!! আমাদের সাথেই থাকুন !!!