Ajin [রিভিউ] — Nazmus Sakib Oyon

Ajin

আনিমের নাম : Ajin
এপিসোড : ১৩
ম্যাল রেটিং- ৭.৮৯
ব্যক্তিগত রেটিং- ৮.৪
জনরা – Seinen, Action, Horror, Mystery, Supernatural

সিনপ্সিস : আজিন নামক এক ধরনের বিশেষ প্রজাতি আবিষ্কৃত হয় আফ্রিকাতে সতের বছর আগে। এর পর পুরো দুনিয়া জুড়ে আরও বেশ কিছু সংখ্যক আজিন আবিষ্কৃত হয়। আজিনরা অমর এবং অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী। আনিমের প্রধান চরিত্র কেই, একজন সাধারণ হাই-স্কুলের ছাত্র। অবশ্য একটি ঘটনা তার পুরো জীবন কে পাল্টে দেয়।

চরিত্রসমূহ: কেই নাগাই নামের একজন ছাত্র আনিমেটার প্রধান চরিত্র। এছাড়াও কেই এর বাল্যবন্ধু কাইতো, বোন এরিকো, হেলথ মিনিস্ট্রি এর অফিসার তোসাকি, আজিন সাতউ ইত্যাদি চরিত্র সহকারী রুপে থাকে এবং কাহিনীর এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

আর্ট এন্ড এনিমেশন : আনিমেটার আর্ট বেশ পরিচ্ছন্ন ও সাবলীল। চরিত্র ও ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এনিমেশন এর ক্ষেত্রে CGI এনিমেশন ব্যবহার করা হয়েছে।

সাউন্ড : আনিমেটার ওপেনিং সং ভালো। এন্ডিং মোটামুটি। কিন্তু এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অসাধারণ। আনিমের হরর এবং সুপারন্যাচারাল আবহ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এর মাধ্যমে খুব ভালোভাবে ফুটে উঠেছে।

আনিমেটার যে দিকগুলো ভালো লেগেছে :

১। প্রধান চরিত্র ” I have done nothing wrong” ঘরানার হলেও এই ধরনের অন্য চরিত্রগূলো হতে বেশ আলাদা। যেখানে এই ধরনের চরিত্রসমূহ সহজে নিজেদের পরিবর্তনের
সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না, কেই সেদিক দিয়ে অনেকটাই ভিন্ম। সে বেশ চালাক এবং সহজেই খাপ খাইয়ে নেয়। বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও সে নিজ বুদ্ধি খাটিয়ে বেরিয়ে আসে।

২। CGI এনিমেশনের ব্যবহারের ফলে আনিমেটার ভূতুড়ে আবহ বেশ ভালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

৩। অসাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পুরো আনিমেটাকেই ভিন্মমাত্রা দিয়েছে।

আনিমের যে দিকগুলো খারাপ লেগেছে :

১। CGI এনিমেশনের ফলে চরিত্রগুলোর চলাফেরা কিছুটা আড়ষ্ট এবং ধীরগতির মনে হয়েছে। ফলে এর বেশ ভালো একশন দৃশ্যগুলো পুরোপুরিভাবে ফুটে উঠেনি।

সবশেষে একটা কথাই বলবো, আনিমেটা বেশ ভালো। দেখে টাইম ওয়েস্ট বলে মনে হবে না।

Ajin [এনিমে রিভিউ] — Amor Asad

Ajin 1

Ajin: অসাধারণ! মাইন্ডব্লোয়িং!
*** (স্পয়লার নেই ) ***

মানবজাতির টলারেন্সের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। যেকোন যুগে যখনই কোন অজ্ঞাত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, কঠোর, ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্ধযুগ আগে ইউরোপজুড়ে উইচ হান্টের স্বীকার হয়েছিল হাজারে হাজারে নারী; বিভিন্ন নতুন নতুন রোগ আর মহামারীর পিছে জাদুটোনার কালোহাত দেখিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে তাঁদের – তাও চার্চের সম্মতি বা ইশারা থাকায় পবিত্র দায়িত্ব মনে করে।
বিজ্ঞানের যাত্রার শুরু থেকেই প্রাচীন বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের অত্যাচার থেকে হত্যা পর্যন্ত করা করেছে। এ উপমহাদেশেও অতীতে বহুত প্রচলিত রীতি ছিলো যা এখন শুনলে গা শিউড়ে ওঠে। বর্তমান পৃথিবীতে এমনকি আমাদের দেশেই কাছাকাছি ঘটনা থেকে সাদৃশ্যতা দেখানো যাবে – সেদিকে আর না যাই।

মোট কথা, মানুষ যেটা বোঝে না – সেটাকে দুমড়ে মুচড়ে ধ্বংস করে ফেলতে উপক্রম হয়; অনেকে এতে তুষ্টিও খুঁজে পায়। ব্যপারটা আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ঠুর আর অবিবেচক বলে মনে হলেও; এই রেসপন্সের মূল কারণ হচ্ছে – ভয়।
অগ্রসরমান সভ্যতা আর সামাজিক শুভবোধের দোঁহাই দিয়ে নিজেদের আসল বৈশিষ্ট্য ধামাচাপা দিয়ে রাখি বটে, কিন্তু আদতে আমরা এই গ্রহের টপ প্রিডেটর। তাই যদি অন্য কোন স্পেসিস বা এনটিটি আমাদের অবস্থানের জন্যে হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় – সম্মিলিত ভয় থেকে সমস্বরে ‘kill them all” উচ্চারিত হওয়া আমাকে অবাক করবে না।

এধরণের একটা প্লটে নির্মিত Ajin, পার্থক্য হচ্ছে এখানে মানবজাতির জন্যে হুমকিস্বরূপ প্রজাতি আসলে মানুষের বিবর্তিত একটা রূপ, যেখানে এই আলাদা মানুষরা অমরনশীল – না, ঠিক অমর নয়, মৃত্যুর পর পরই পুনঃজীবন লাভ করে। এদের আলাদা একটা ক্ষমতাও রয়েছে।

ইমরটালিটি বা অমরনশীলতা অর্জনের চেষ্টা প্রাচীনকাল থেকে বহু সভ্যতার বিভিন্ন কাল্ট, ব্লাক ম্যাজিক চর্চাকারীদের মধ্যে প্রচলিত। স্বভাবতই সাহিত্য, সিনেমা বা অন্যান্য শিল্প মাধ্যমেও উঠে এসেছে। স্রেফ অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেই বহুত রেফারেন্স দেয়া যাবে। Ajin কোন দিক দিয়ে আলাদা?

ইমরটালিটির বেশীরভাগ চিত্রায়নের সাথে আজিনের পার্থক্য হচ্ছে এটা ভিত্তিহীন ফ্যান্টাসি না; বরঞ্চ সাইন্স ফিকশন – এবং গল্পকথন একেবারেই স্বতন্ত্র। পরিচালক এবং লেখক খুব যত্নের সাথে সবকিছু ব্যাখ্যা করতে না গিয়ে অর্ধেকটা দর্শকের দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর ক্ষমতার উপর ছেঁড়ে দিয়ে গল্পের প্রয়োজন অনুসারে কাহিনী এগিয়েছেন। এধরণের অ্যানিমেতে এই চর্চাটা খুব উপভোগ্য হয়।
সেই সাথে প্রতি এপিসোডের মেকিং প্রায় নিখুঁত বলা যায় – সাসপেন্স/মিস্টেরি আর সাই-ফাই সিরিজ হিসেবে প্রতি এপিসোডে টান টান উত্তেজনা বজায় রেখেছে Ajin. সেই সাথে যোগ হয়েছে রক্তে দোলা দেয়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।

এছাড়াও Ajin পছন্দ করার আরো কিছু কারণ আছে।
অপ্রয়োজনীয় চরিত্র একেবারেই নেই বলতে গেলে, পার্শ্ব চরিত্রগুলোর প্রতি ফোকাস করা হয়নি বিনা দরকারে, প্রধান চরিত্রকে দুনিয়ার সেরা মানব আর শুভবুদ্ধির ডিপো হিসেবে দেখানো হয়নি, হাঁটতে চলতে দুধের বাচ্চাদের কড়া জীবনবোধ মার্কা দর্শন চিপকাতেও দেখা যায় না। এসব জিনিষ অ্যানিমেতে কষ্ট করে সহ্য করে যাই; বলাই বাহুল্য Ajin দেখতে গিয়ে তৃপ্তির হাঁসি কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আমার রেটিং – ৮.৫/১০

পুনশ্চঃ সিরিজের ভিলেনকে আমার কাছে অ্যান্টিহিরো মনে হয়। তাঁর দৃষ্টিকোণ একেবারে ফেলনা না এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারি।
পুনশ্চ ২ঃ Don’t care about the art style, never did, never will. This is a trivial issue and we really don’t watch animes to praise animation style, do we?

Ajin 2

মাঙ্গা এবং আনিমে সাজেশন: Ajin — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Ajinঅমরত্ব! মানুষের জীবধনের সবচেয়ে আকাঙ্খিত জিনিস। প্রাচীনকালে নরবলি, রক্তপান, দেবতার পূজা, শয়তানের পূজা, আলকেমি কত কিছুর না মানুষ আশ্রয় নিয়েছে অমরত্ব পাবার জন্য। কিন্তু একদল লোক দুনিয়াতে জন্ম নিল যারা অমর। রোলার দিয়া চাপা দিন, বড় ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন, পুড়িয়ে দিন। লাভ নেই, আবার বেচে উঠবে। এদের আর্সেনালে আরেক অস্ত্র আছে। কালো ভূত যা সাধারণ মানুষের কাছে অদৃশ্য। তো এই আজিনদের অমরত্বের কারণে তাদের মানুষ বলে বিবেচনা করা হয় না। এদের ধরে টর্চার চালানো হয় যা সবচেয়ে স্যাডিস্ট সাইকোও ভেবে বের করতে পারবে না। তো এইরকম একজন আজিন কেই কে নিয়েই কাহিনী যে সদ্য ট্রাকচাপা পড়ে আবিষ্কার করে সে আজিন।
তো এসব বকর বকর বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি। আপনি আজিন দেখবেন বা পড়বেন কেন!? পড়বেন সাতোউয়েয় জন্য। দেখতে নিরীহ বুড়ো ভালমানুষ। যেন এইমাত্র মর্নিংওয়াক করে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরবে। কিন্তু এই ভালো মানুষ সাউতো একজন স্যাডিস্ট সাইকো যার হাতে ইমারটলিটির গিফট এবং ক্ষুরধার বুদ্ধি আছে। কেই কে রিসার্চ সেন্টার থেকে বের করে আনা, ভালো মানুষ মার্কা অভিনয়, এবং রক্তপিপাসা আপনার কাছে ভালো লাগতে বাধ্য। মাঙ্গায় তার প্লেন নিয়ে তেলেসভাতি কখোনো ভুলবো না। সাউতোর লক্ষ্য কি?! আসলে কোন লক্ষ্য নাই। নোলানের ডার্ক নাইটে আলফ্রেডের এক বিখ্যাত উক্তি “কিছু লোক দুনিয়াতে খালি জ্বলতে দেখেতে চায়, আর কিছু না,,। সাইতো আর জোকার একই ঘরের মানুষ। ভায়োলেন্স এদের প্রেরণা।

এনিমেটা CGI বলে অনেকে পছন্দ করছে না কিন্তু এই ইফেক্টই আজিনের উপযোগি। বিশেষ করে এনিমের হরর বা গোথিক টাইপের সাউন্ডট্র্যাক। বিষেষ করে আজিন প্রাণ ফিরে পাবার সময় যে কড় কড় শব্দ হয়। এই এনিমের মেইন ক্যারেকটার কেই আর অন্যগুলোও অস্থির। মাঙ্গাটা অবশ্যই ফলো করবেন। আর্ট কাহিনী অনেক ভালো। টোকিও ঘুউল রে এর পরে সবচেয়ে অস্থির সাইকো হরর মাঙ্গা পড়ছি আজিন!
মাঙ্গা অনগোয়িং, আনিমে কমপ্লিট তবে এন্ডিং চেইন্জ কর দিসে। ফলো করার মত জিনিস এটা।
দশে এটা নয় সহজেই পাবে। আশা করি সবার ভালো লাগবে!