Ajin [এনিমে রিভিউ] — Amor Asad

Ajin 1

Ajin: অসাধারণ! মাইন্ডব্লোয়িং!
*** (স্পয়লার নেই ) ***

মানবজাতির টলারেন্সের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। যেকোন যুগে যখনই কোন অজ্ঞাত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, কঠোর, ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্ধযুগ আগে ইউরোপজুড়ে উইচ হান্টের স্বীকার হয়েছিল হাজারে হাজারে নারী; বিভিন্ন নতুন নতুন রোগ আর মহামারীর পিছে জাদুটোনার কালোহাত দেখিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে তাঁদের – তাও চার্চের সম্মতি বা ইশারা থাকায় পবিত্র দায়িত্ব মনে করে।
বিজ্ঞানের যাত্রার শুরু থেকেই প্রাচীন বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের অত্যাচার থেকে হত্যা পর্যন্ত করা করেছে। এ উপমহাদেশেও অতীতে বহুত প্রচলিত রীতি ছিলো যা এখন শুনলে গা শিউড়ে ওঠে। বর্তমান পৃথিবীতে এমনকি আমাদের দেশেই কাছাকাছি ঘটনা থেকে সাদৃশ্যতা দেখানো যাবে – সেদিকে আর না যাই।

মোট কথা, মানুষ যেটা বোঝে না – সেটাকে দুমড়ে মুচড়ে ধ্বংস করে ফেলতে উপক্রম হয়; অনেকে এতে তুষ্টিও খুঁজে পায়। ব্যপারটা আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ঠুর আর অবিবেচক বলে মনে হলেও; এই রেসপন্সের মূল কারণ হচ্ছে – ভয়।
অগ্রসরমান সভ্যতা আর সামাজিক শুভবোধের দোঁহাই দিয়ে নিজেদের আসল বৈশিষ্ট্য ধামাচাপা দিয়ে রাখি বটে, কিন্তু আদতে আমরা এই গ্রহের টপ প্রিডেটর। তাই যদি অন্য কোন স্পেসিস বা এনটিটি আমাদের অবস্থানের জন্যে হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় – সম্মিলিত ভয় থেকে সমস্বরে ‘kill them all” উচ্চারিত হওয়া আমাকে অবাক করবে না।

এধরণের একটা প্লটে নির্মিত Ajin, পার্থক্য হচ্ছে এখানে মানবজাতির জন্যে হুমকিস্বরূপ প্রজাতি আসলে মানুষের বিবর্তিত একটা রূপ, যেখানে এই আলাদা মানুষরা অমরনশীল – না, ঠিক অমর নয়, মৃত্যুর পর পরই পুনঃজীবন লাভ করে। এদের আলাদা একটা ক্ষমতাও রয়েছে।

ইমরটালিটি বা অমরনশীলতা অর্জনের চেষ্টা প্রাচীনকাল থেকে বহু সভ্যতার বিভিন্ন কাল্ট, ব্লাক ম্যাজিক চর্চাকারীদের মধ্যে প্রচলিত। স্বভাবতই সাহিত্য, সিনেমা বা অন্যান্য শিল্প মাধ্যমেও উঠে এসেছে। স্রেফ অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেই বহুত রেফারেন্স দেয়া যাবে। Ajin কোন দিক দিয়ে আলাদা?

ইমরটালিটির বেশীরভাগ চিত্রায়নের সাথে আজিনের পার্থক্য হচ্ছে এটা ভিত্তিহীন ফ্যান্টাসি না; বরঞ্চ সাইন্স ফিকশন – এবং গল্পকথন একেবারেই স্বতন্ত্র। পরিচালক এবং লেখক খুব যত্নের সাথে সবকিছু ব্যাখ্যা করতে না গিয়ে অর্ধেকটা দর্শকের দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর ক্ষমতার উপর ছেঁড়ে দিয়ে গল্পের প্রয়োজন অনুসারে কাহিনী এগিয়েছেন। এধরণের অ্যানিমেতে এই চর্চাটা খুব উপভোগ্য হয়।
সেই সাথে প্রতি এপিসোডের মেকিং প্রায় নিখুঁত বলা যায় – সাসপেন্স/মিস্টেরি আর সাই-ফাই সিরিজ হিসেবে প্রতি এপিসোডে টান টান উত্তেজনা বজায় রেখেছে Ajin. সেই সাথে যোগ হয়েছে রক্তে দোলা দেয়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।

এছাড়াও Ajin পছন্দ করার আরো কিছু কারণ আছে।
অপ্রয়োজনীয় চরিত্র একেবারেই নেই বলতে গেলে, পার্শ্ব চরিত্রগুলোর প্রতি ফোকাস করা হয়নি বিনা দরকারে, প্রধান চরিত্রকে দুনিয়ার সেরা মানব আর শুভবুদ্ধির ডিপো হিসেবে দেখানো হয়নি, হাঁটতে চলতে দুধের বাচ্চাদের কড়া জীবনবোধ মার্কা দর্শন চিপকাতেও দেখা যায় না। এসব জিনিষ অ্যানিমেতে কষ্ট করে সহ্য করে যাই; বলাই বাহুল্য Ajin দেখতে গিয়ে তৃপ্তির হাঁসি কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আমার রেটিং – ৮.৫/১০

পুনশ্চঃ সিরিজের ভিলেনকে আমার কাছে অ্যান্টিহিরো মনে হয়। তাঁর দৃষ্টিকোণ একেবারে ফেলনা না এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারি।
পুনশ্চ ২ঃ Don’t care about the art style, never did, never will. This is a trivial issue and we really don’t watch animes to praise animation style, do we?

Ajin 2

Comments