অ্যানিমে রিভিউঃ বারটেন্ডার; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

lunar-bartender-01-x2641280x7201639e648-mkv_snapshot_04-25_2011-03-19_02-30-54

আজ দেখে শেষ করলাম “বারটেন্ডার”। রাফিউলের ভাষায় বলি, “বাউরে বাউ, কি যে দেখলাম এইটা!!” হার্ড লিকারের উপর কেউ পিএইচডি করতে চাইলে এই অ্যানিমে দেখা আবশ্যক!!

সাসাকুরা রিউ একজন বারটেন্ডার। টোকিও শহরের গিনজা নামক এলাকায় অবস্থিত তার বার, “এডেন হল।” রিউ অত্যন্ত দক্ষ একজন বারটেন্ডার, যে কারণে তার তৈরি করা ককটেলকে বলা হয় “গ্লাস অফ গড”। প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যারেক্টারিস্টিকের এবং ভিন্ন ভিন্ন সোশ্যাল স্ট্যাটাসের মানুষ আসে বারে, আর এক গ্লাস ককটেলের সাথে উঠে আসে তাদের সুখ-দুঃখের গল্প। সাসাকুরা রিউ নৈপুণ্যের সাথে ককটেলের গ্লাসে ফুটিয়ে তোলে তার শিল্পকর্ম, আর সেইসাথে এর সাথে সম্পর্কিত একেকটি অদ্ভুত গল্প দিয়ে মুগ্ধ করে অতিথিকে, কারণ, একজন বারটেন্ডারের যে দায়িত্ব এটা, অতিথি যেন যাওয়ার সময় একটি সুন্দর সময়ের স্মৃতি সাথে করে নিয়ে যান।

অ্যানিমের কাহিনী এপিসোডিক, প্রতিটা পর্বে বিভিন্ন ধরণের ককটেল আর তার সৃষ্টির ইতিহাস বেশ ইন্টারেস্টিংভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সাসাকুরা রিউ যখন ককটেলগুলো বানায়, ঐ দৃশ্যটা বেশ অ্যামেজিং। আর প্রতিটা মানুষের মনের ভেতরের কথা সে যেভাবে টেনে বের করে আনে, এটাও ইন্টারেস্টিং।

অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অনেক ভাল, সঙ্গত কারণেই “ডেথ প্যারেড” এর কথা বারবার মনে পড়ছিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন চমৎকার, আর ওএসটিও বেশ ভাল। এন্ডিং সংটা একবারও স্কিপ করতে পারিনি।

সবমিলিয়ে খুবই এক্সেপশনাল এবং ইন্টারেস্টিং একটি অ্যানিমে এটি, ১১ টা এপিসোড বেশ উপভোগ করেছি।

12022554_555071621324015_3926291896555078707_o

কে প্রজেক্ট; কলিযুগের রাজতন্ত্র- লিখেছেন ইশমাম আনিকা

611081

জনরাঃ অ্যাকশন, সুপার পাওয়ার, সুপারন্যাচারাল
পর্বসংখ্যাঃ ১৩

অ্যানিমেটির কাহিনী অল্টারনেটিভ সেটিং এর জাপানে; প্রযুক্তি যেখানে বর্তমান পৃথিবীর তুলনায় অনেক এগিয়ে। সেখানকার একটি শহর শিজুমে সিটিতে একটি দ্বীপের ওপর অবস্থিত স্কুল আশিনাকা হাইস্কুল। এই স্কুলেরই এক সাধারণ ছাত্র ইসানা ইয়াশিরো। খামখেয়ালি, কেয়ারলেস এবং ফ্রেন্ডলি স্বভাবের “শিরো-কুন” কে ওর ক্লাসের সবাই বেশ পছন্দ করে। সেজন্য সারাক্ষণ ফাঁকিবাজি করে বেড়ানোটা শিরোর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

ওদিকে শহরের অন্য প্রান্তে রেড কিং এর অধীনস্থ হোমুরা গ্যাং তান্ডব চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য, তাদের এক গ্যাং মেম্বারের খুনিকে খুঁজে বের করা। কিন্তু এদের সাথে শিরোর সম্পর্ক কি! স্কুল ফেস্টিভালের জন্য জিনিস কিনতে শহরে এসেই হোমুরা গ্যাং এর রোষের সামনে পড়ল শিরো। কোনমতে তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রাণ নিয়ে পালাতে পালাতে সে গিয়ে পড়ল আরেক বিপদের মুখে। ইয়াতোগামি কুরোহ, বা কুরোইনু নামে পরিচিত এই ব্যক্তিটি হল পূর্ববর্তী কালারলেস কিং এর ফলোয়ার, যার বর্তমান উদ্দেশ্য নতুন কালারলেস কিংকে খুঁজে বের করে তাকে হত্যা করা।

মোটামুটি এভাবে একটি প্রমিজিং স্টোরিলাইন নিয়ে শুরু হয় কে প্রজেক্ট অ্যানিমেটির কাহিনী। এরপরে কাহিনী আরও ডালপালা মেলতে থাকে, একে একে বেরিয়ে আসে প্রতিটি ক্যারেক্টারের ব্যাকস্টোরি। জাপানের আবহাওয়ার ওপর প্রভাব খাটানো “কিং” দের ও তাদের ক্ল্যানসম্যানদের সাথে দর্শকের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, এগোতে থাকে কাহিনী। হোমুরা গ্যাংকে ঘিরে অসম্ভব সুন্দর ও ইমোশনাল কিছু দৃশ্য রয়েছে, এই অংশগুলো আমার নিজের অসম্ভব ভাল লেগেছে।

Homra-k-32742846-1280-720

অ্যানিমেটির সেটিংটা যথেষ্ট ভাল, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে মাঝে মাঝে এক্সপ্লানেশনগুলো কেমন যেন অসম্পূর্ণ। অনেক ব্যাপারে আরও বেশি ব্যাখ্যা আশা করেছিলাম, যা মুভিটিতেও দেয়া হয়নি, তবে আশা করছি সামনের আপকামিং সিজনে সেগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে। এছাড়া কাহিনীটা সহজেই মনকে ছুঁয়ে যাওয়ার মত, বেশ কয়েকটি ক্যারেক্টারের প্রতি মায়া জন্মে গিয়েছে খুব সহজেই। আন্না কুশিনা এবং ইয়াতোগামি কুরোহ- এই দুটি চরিত্রকে আমার খুবই ভাল লেগেছে, তবে ভাল লাগার মত আরও অনেক চরিত্র আছে অ্যানিমেটিতে।

অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক খুব বেশি সুন্দর, চোখ ধাঁধানো অ্যানিমেশন আর খুব চমৎকার ক্যারেক্টার ডিজাইনের কারণে দেখার সময় অনেক শান্তি লেগেছে, ফাইট সিনগুলো খুব ভাল, আর উজ্জ্বল অ্যানিমেশনের জন্য এই সিনগুলো আরও উপভোগ্য হয়েছে। সেইসাথে সাউন্ডট্র্যাকও অতিরিক্ত সুন্দর; প্রতিটি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আমার মনে ছাপ ফেলেছে। ক্যারেক্টারগুলোর সাথে মানানসই থিম, ইমোশনাল দৃশ্যতে চমৎকার মন ছুঁয়ে যাওয়া ট্র্যাক এবং ফাইট সিনগুলোতে এক্সাইটিং মিউজিক- সবমিলিয়ে এই অ্যানিমেটার প্রতিটি ট্র্যাকই সুন্দর। এর মাঝে আমার সবচেয়ে পছন্দের ট্র্যাক হল “কিস অফ ডেথ”। (https://youtu.be/ceWxUIQyDaw?list=RDceWxUIQyDaw)

তবে অ্যানিমেটির যে ব্যাপারটি আমার কাছে অতিরিক্ত বিরক্তিকর লেগেছে, তা হল প্রতিটি নারী চরিত্রই ফ্যানসার্ভিসের শিকার হয়েছে। এই ব্যাপারটি না থাকলে অ্যানিমেটি আরও উপভোগ্য হত বলে আমার মনে হয়েছে।

1362421840014-2

Tokyo Godfathers: মুভি রিভিউ – আসিফুল হক

 

কি দেখলামঃ Tokyo Godfathers

পরিচালকঃ সাতোশি কন
মানুষর জীবনের চিত্রনাট্যটা বড়ই অদ্ভুত। খুব অল্প সময়ের ব্যাবধানেই সব হিসেবনিকেশই উলট পালট হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় এক দিন; শুধু একদিন; মানুষের গোটা জীবনটাকেই এলোমেলো করে দিতে পারে। আমরা যতই অতীতকে চিন্তা করে ভবিষ্যতের ভাবনায় বুঁদ হয়ে থাকি না কেন, আমাদের বসবাস সবসময়েই বর্তমানে, যে কারণে বেশিরভাগ সময়েই নিজেদের ভেতরের, নিজেদের জীবনের আমুল পরিবর্তনগুলো অনেক সময়েই টের পাই না।

যারা এই মুহূর্তে এই পোস্ট পড়ছেন কম বেশি সবাই-ই হয়ত নিজের রুমে অথবা অফিসে আরাম করে বসে বা শুয়ে পোস্টটা পড়ছেন। এই অবস্থায় আসলে চিন্তা করা কষ্টকর; তাও একটা দৃশ্যর কথা চিন্তা করুন। ধরুন এই মুহূর্তে আপনি গৃহহীন; রাস্তায় রাস্তায় দিন কাটে। ভিক্ষা করে, কুড়িয়ে – যেভাবে পারেন এটা সেটা যোগাড় করে বেঁচে থাকেন। একদিন প্রচন্ড শীতের রাতে আবর্জনার ভিতর খাবার কুড়োতে গিয়ে একটা বাক্সের ভিতরে খুঁজে পেলেন এক শিশুকে। কি করবেন তখন? পুলিশের হাতে তুলে দিবেন, যখন আপনি জানেন যে তার জায়গা হবে কোন এতীমখানায় অথবা মায়াদয়াহীন কোন পরিবারে? নাকি বাচ্চার বাবা মা কে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করবেন? অথবা নিজেদের ছোট্ট খুপড়ি ঘরে রেখে বড় করে তোলার কথা চিন্তা করবেন?

সাধারণত শিবুইয়া; ইকেবুকোরোর মতন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিংবা রোপ্পঞ্জি বা আকিহাবারার মতন বিনোদন এলাকাগুলো দেখতে দেখতে জাপানের আরেক্টা পাশ আমাদের অজানাই রয়ে যায়, ঘনবসতিপূর্ণ টোকিও; আর সেখানকার অভিভাসী শ্রমিকদের ঘিঞ্জি বস্তি এলাকা; কিংবা বাস্তুহারা লোকদের জীবন যাপন; যারা নিয়মিত পদে পদে লাঞ্চিত হয়; হয়রানি হয়; বেঁচে থাকার জন্য প্রবল সংগ্রামে লিপ্ত হয়।
মুভিটির গল্প আবর্তিত হয় মুলত তিন গৃহহীনকে ঘিরেঃ মিয়ুকি – দলের সবচেয়ে নবীন সদস্য। হানা – ড্র্যাগ কুইন, যে কি না তার মেয়েলি ধাঁচের কথা বার্তা এবং কাজকর্ম দিয়ে সবসময় মনোযোগের কেন্দ্রে থাকার চেষ্টা করে। গিন – হতাশ মদ্যপ বয়স্ক ভদ্রলোক; যে সব সময়েই তার নিজের জীবন নিয়ে হাহুতাশ করতে থাকে।

আপাত দৃষ্টিতে খুব অচিত্তাকর্ষক এই তিনটি চরিত্রের পেছনে লুকিয়ে থাকা সত্যগুলো, তাদের রাস্তায় নামার কারণগুলো একে একে আমাদের সামনে উন্মোচিত হতে থাকে। এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বোধহয় হানার চরিত্রটিই। এনিমে ড্র্যাগ কুইন ধাঁচের চরিত্রগুলোর মুল লক্ষ্যই থাকে কমিকাল রিলিফ; তাদের জীবনের পিছনের গল্প, সংগ্রাম বা মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো ঘুরে দেখার চেষ্টা থাকে খুব কমই। এই মুভিটা অবশ্য সে পথে না হেঁটে হানার নিজেকে খুজে পাওয়ার সংগ্রামটা দেখিয়েছে যথেষ্ট যত্নের সাথেই।

গল্পের মাঝখানে একটা দৃশ্যে মিয়ুকি স্প্যানিশ এক মহিলার কাছে তার দুঃখগুলো, স্মৃতির কথাগুলো বলতে থাকে, জাপানিজে। ভদ্রমহিলা স্প্যানিশে তাকে সান্ত্বনা দিতে থাকেন। কারো কথাই কেউ বুঝতেসে না; অথচ কে কি বলতে চাচ্ছে আন্দাজ করে নিতে মোটেও কষ্ট হচ্ছে না। দৃশ্যটা আমার কাছে পুরো মুভির হাইলাইট হয়েই থাকবে।

তবে একটা জিনিস কিছুটা চোখে লাগার মতন – একদিনের মধ্যে সব ঘটনার দৃশ্যপ্রবাহ দেখাতে গিয়ে মুভিটা নিয়মিতই কোইন্সিডেন্সকে কাজে লাগিয়েছে। শুরুতে ব্যাপারটা আকর্ষণীয় থাকলেও শেষ দিকে এসে খানিকটা একঘেয়ে হয়ে যায়। এবং এই জিনিসটা চরিত্রগুলোর ক্রেডিবিলিটিও খানিকটা খাটো করে দেয় বৈকি।

আর্টওয়ার্ক এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজ চমৎকার। চরিত্রগুলোর ফেশিয়াল এক্সপ্রেশন বেশ কিছু জায়গাতেই অতিরঞ্জিত হলেও অভিব্যাক্তি ফুটিয়ে তুলেছে চমৎকারভাবেই।

দিনশেষে টোকিও গডফাদার ঘরছাড়া একদল ছন্নছাড়া মানুষের গল্পকে ছাপিয়ে হয়ে উঠেছে ঘরের গল্প, পরিবারের গল্প, ভালবাসা আর মানবতার গল্প।

অ্যানিমে রিভিউঃ আন-গো; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

UN-GO.full.890295

 

জনরাঃ মিস্ট্রি, সুপারন্যাচারাল
পর্বসংখ্যাঃ ১১

ভবিষ্যতের যুদ্ধ-পরবর্তী বিধ্বস্ত জাপান। দেশটির শাসনের ভার মিলিটারীর হাতে, সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কঠোরভাবে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্র নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মাঝে ইন্টারনেট ও তথ্য সরবরাহের সকল উৎসও রয়েছে।

এরকম সময়ে টোকিওতে বাস করে ইউকি শিনজুরৌ। তার সম্পর্কে প্রচলিত কথাটি হল, “ডিফিটেড ডিটেকটিভ”, যদিও সে নিজেকে “লাস্ট গ্রেট ডিটেকটিভ” বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। এই অস্থিতিশীল জাপানের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চুনোপুঁটি থেকে শুরু করে রুই-কাতলারা পর্যন্ত করতে থাকে বিভিন্ন চক্রান্ত, যার মাঝে হত্যা থেকে শুরু করে ক্ষমতা দখলের লড়াই পর্যন্ত সবই অন্তর্ভূক্ত। ইউকি শিনজুরো তার অদ্ভুত সঙ্গী ইংগা কে সাথে নিয়ে প্রতিটি রহস্যের তলানি পর্যন্ত যায়, যদিও এর জন্য তাকে বিভিন্ন সময়ে অনেকের রোষানলের কবলে পড়তে হয়। তাও তাকে চালিয়ে যেতে হবে সত্যের অনুসন্ধান, নাহলে যে এক ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে ইংগা! এই পথে ইউকির সাথে কখনো বন্ধু, আবার কখনো প্রতিযোগী হিসেবে কাজ করেন কাইশৌ রিনরোকু, একটি বড় কোম্পানির ডিরেক্টর তিনি, ঘরে বসে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ক্রাইম সিন পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

১১ পর্বের অ্যানিমে, খুব বেশি ডেভেলপমেন্টের আসলে তেমন সুযোগ নেই, তবে তারপরেও আস্তে আস্তে প্রধান চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরি রিভিল হয়, ব্যাপারটা ভালভাবেই এক্সিকিউট করা হয়েছে। মিস্ট্রির অংশটা আসলেই অনেক ভাল, হত্যা, চুরি-ডাকাতি বা ষড়যন্ত্র, যাই হোক না কেন, প্রতিটি পর্বেই নতুন নতুন কেস আনা হয়েছে, এবং শেষের দিকে কয়েকটি কেসকে একসূত্রে গেঁথে একটি বড় মিস্ট্রি বানানো হয়েছে, ব্যাপারটা বেশ ভাল লেগেছে। প্রোটাগনিস্ট হিসেবে ইউকি শিনজুরৌ খারাপ না, যদিও মাঝে মাঝে তার আচরণ একটু খাপছাড়া লেগেছে আমার কাছে।

প্রশংসার সাথে সাথে খুঁত জিনিসটাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এই অ্যানিমেও তার ব্যাতিক্রম নয়! শুরু থেকেই যে জিনিসটা আমার কাছে বিরক্তিকর লেগেছে, তা হল “ইংগা” নামের চরিত্রটি। আপনারা যারা অ্যানিমেটি দেখেছেন, তারা হয়ত বুঝতে পারবেন আমি কি বলতে চাচ্ছি, আমার মনে হয়েছে, শুধুমাত্র ঐ একটা প্রশ্ন করার জন্য এরকম একটা ক্যারেক্টারের আসলে খুব দরকার পড়েনা, অপরাধীর মুখ খোলানোর আরও হাজারটা উপায় রয়েছে। তারপরেও সে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ অ্যানিমেটির, তাই অস্বস্তিটাও বেশি লেগেছে। এছাড়া মিস্ট্রি যখন সলভ করা হয়, মাঝে মাঝে এক্সপ্লানেশনগুলো খাপছাড়া লেগেছে, কিছু ক্ষেত্রে আরেকটু ডিটেইলড এক্সপ্লানেশন জরুরী ছিল।

অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক ভাল, ওএসটিও মন্দ নয়, মাঝে পপ আইডল “ইয়োনাগাহিমে” নিয়ে একটি কেস ছিল, সেই কেসটিতে এই (https://youtu.be/mf6VOxXKqus) গানটি ব্যবহার করা হয়, আমার বেশ দারুণ লেগেছে এটি। কাহিনীর গতি ভাল, তবে মাঝে মাঝে একটু বেশিই দ্রুত এগিয়েছে বলে মনে হয়েছে আমার কাছে।

সবমিলিয়ে মিস্ট্রি অ্যানিমে হিসেবে এটি ভালই, ১১ পর্বের ছোট একটা অ্যানিমে, তাই অল্প সময়ের মাঝেই শেষ করা সম্ভব, সিনোপসিস পড়ে ভাল লাগলে একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন।

UN-GO.full.887252

আনিমে রিভিউ- ইয়ামাতো নাদেশিকো শিচি হেঙ্গে; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

জনরা- কমেডি, শৌজো
এপিসোড সংখ্যা- ২৫৪ জন সুদর্শন হাইস্কুল ছাত্রের ওপর তাদের ল্যান্ডলেডী দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেন, তার অসামাজিক ভাতিজিকে সমাজে চলার উপযোগী এবং আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হবে। কাজটা করতে পারলে তাদের জন্য দারুণ পুরস্কার !! কিন্তু কাজটা না করতে পারলে শাস্তি হিসেবে তাদের বাড়িভাড়া বেড়ে হবে তিনগুণ !!

চার তরুণ ভাবল, সুন্দরী ল্যান্ডলেডীর ভাতিজিই তো, কতই বা কঠিন হবে তাকে সামাজিক করে তোলা ? রাজি হয়ে গেল তারা এই প্রস্তাবে।

কিন্তু তারা আসলে স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি, নাকাহারা সুনাকো আসলে কি জিনিস। সুনাকোকে দেখে চোখ কপালে উঠে গেল ওদের। লম্বা চুল দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে কেন সে? তার উপস্থিতি এতটা ভৌতিক কেন? তার খেলার সাথীরাও বা এত ভয়ঙ্কর কেন? পুরস্কার পাওয়া তো দূরের কথা, নিজেদের থাকার জায়গা বাঁচানোর চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠল চার তরুণ।

এভাবে চার তরুণ এবং ওয়ালফ্লাওয়ার সুনাকোকে ঘিরে এক মজার কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে আনিমেটি। একটু পুরানো আনিমে, আর্টওয়ার্ক অবশ্যই এখনকার মত অত উন্নত না, তবে আমার কাছে এ ধরণের আর্টওয়ার্ক কেন যেন ভাল লাগে। কাহিনী এপিসোডিক, তাই ভাবনা চিন্তা ছাড়া দেখতে পেরেছি। আর সুনাকোর “খেলার সাথী” রাও যথেষ্ট মজার !!

আনিমেটি কেন দেখবেন- আপনি কি সারাক্ষণ ঘরে বসে আনিমে দেখার কারণে সৌন্দর্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন? কিন্তু সমস্যা সমাধানের জন্য কষ্ট করতে মন চাইছে না? তাহলে এই আনিমেটি দেখা আপনার জন্য আবশ্যক! এর প্রতিটি এপিসোডেই আপনি পাবেন, সৌন্দর্যবর্ধনের টিপস থেকে শুরু করে গৃহ ব্যবস্থাপনা এবং কমন সেন্সের ব্যাপারে মূল্যবান উপদেশ! বিশেষ করে আদর্শ নারী হয়ে উঠতে চাইলে এই অ্যানিমেটি দেখা আবশ্যক!

আমি জানিনা এ ধরণের আনিমে সবার পছন্দ হবে কিনা, তবে আমার মনে হয় একটা এপিসোড ট্রাই করে দেখলে ভালই লাগবে।

আনিমে রিভিউঃ নন নন বিয়োরি- লিখেছেন ইশমাম আনিকা

জনরা- কমেডি, স্কুল, সেইনেন, স্লাইস অফ লাইফ

জাপানের কোন এক প্রান্তে পাহাড়ের ধারে অবস্থিত কোন এক গ্রাম। আধুনিক পৃথিবীর সব সুযোগ সুবিধা যেখানে এখনো পৌঁছায়নি। কিন্তু তাই বলে গ্রামটির ঐশ্বর্য কোন অংশে কম নয়! এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ, বনাঞ্চল, পরিস্কার টলটলে পানির নদী, তাজা সবজীর ক্ষেত এবং কিছু সুন্দর মনের মানুষ। আর আছে একটি অদ্ভুত স্কুল, এবং তারচেয়েও অদ্ভুত এই স্কুলের ছাত্রছাত্রী।

বাবার চাকরির সুবাদে এলিমেন্টারী স্কুলের ছাত্রী হোতারুকে টোকিও ছেড়ে আসতে হয় এই গ্রামে। সে এসে ভর্তি হয় এই আজব স্কুলে। হাসিখুশি হোতারু খুব সহজে মিশে যায় গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশের সাথে। গল্প এগিয়ে চলে তাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট হাসিকান্নায় ভরা মজার মজার ঘটনা এবং খুনসুটি নিয়ে।

non-non-biyori-stars

আনিমেটির কাহিনী খুব সহজ সাধারণ, কিছুটা ধীরগতিতে এগিয়ে চলে, আর এই ধীরগতিই এর প্রকৃত সৌন্দর্যকে বের করে আনে। গ্রামের সবুজ সুন্দর প্রকৃতিকে খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে প্রতিটি এপিসোডে, চোখ ধাঁধানো অ্যানিমেশন দিয়ে। আনিমেতে চরিত্রগুলোর কাজকর্ম দেখতে দেখতে কখন যে নিজেকে তাদের পাশে আরেকটি চরিত্র হিসেবে আবিস্কার করতে হয়, বোঝা যায়না। সেইসাথে আছে মনকে শান্তি দেয়ার মত মানানসই ওএসটি, ব্যস্ত শহুরে জীবনের ফাঁকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও আনিমেটি মনটাকে তরতাজা করে তোলে।

আমি নিজে এইধরণের আনিমে বেশি পছন্দ করি, তাই শুরু থেকেই এটি আমার খুব সুন্দর লেগেছে, যারা একটু ফাস্ট পেসড আনিমে পছন্দ করেন, তাদের কাছে শুরুর দিকে কিছুটা স্লো লাগতে পারে, তবে একবার এই গতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আনিমেটির ১২ টি পর্ব শেষ না করে উঠতে পারবেননা, এটুকু বলতে পারি।

maxresdefault

মৃত্যু পরবর্তী জীবনের টুকরো – Angel Beats! by ইশমাম আনিকা

angel-beats-angel-beats-17469079-1920-1200

জনরা- অ্যাকশন, কমেডি, ড্রামা, ফ্যান্টাসি, ট্র্যাজেডি।
ম্যাল রেটিং- ৮.৫৬

প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু অপূর্ণতা থাকে। কেউ কেউ সেগুলো পূরণ করতে পারে, কেউ কেউ এত সৌভাগ্যবান হয় না, অপূর্ণতা পূর্ণ করার আগেই জীবনের পাঠ শেষ করে পরপারে চলে যেতে হয়।

কিন্তু তারপর? কি হয় তারপর? অতৃপ্ত আত্নাগুলোর কি হয়? তারা কি শান্তি লাভ করতে পারে অপূর্ণতা নিয়ে? নাকি সেগুলো পূর্ণ করার চেষ্টা করতে থাকে মৃত্যুর পরেও??

ওতোনাশি একদিন হঠাত নিজেকে আবিষ্কার করে একটা স্কুলের সামনে। তার নিজের পরিচয় বা কোথায় থাকে এ ব্যাপারে তার কিছুই মনে পড়ে না। সেখানে তার পরিচয় হয় ইউরির সাথে, যে মেশিনগান নিয়ে কারও ওপর নজর রাখছিল। সে ওতোনাশিকে জানায় যে এই জায়গাটা হল জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি একটা জায়গা বা আফটার লাইফ। যেসব মানুষ তাদের জীবনে কোন অপূর্ণতা নিয়ে মারা গিয়েছে, তারা এখানে এসে পৌছায়। এখানে তারা সবাই আফটারলাইফ স্কুলের স্টুডেন্ট। এখানে কেউ যদি শান্তি লাভ করতে পারে, তাহলে তার আত্মা Pass on করে যায়। তাই এখানে টিকে থাকতে হলে প্রতি মূহুর্তে স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট এঞ্জেলের বিরূদ্ধে লড়াই করতে হয়।

ইউরি আরও জানায়, ওরা, আফটারলাইফ ব্যাটলফ্রন্টের সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে এঞ্জেলকে ফাইট করে এবং ওতোনাশিকে আমন্ত্রণ জানায় ওদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য। স্মৃতিভ্রষ্ট ওতোনাশি কি করবে কোথায় যাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে ওদের সাথে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

অ্যানিমেটি এগিয়েছে একেকটা ক্যারেক্টারের জীবনের অপূর্ণতা, আকাংখা, স্বপ্নের পরিণতি এবং ওতোনাশির জীবনের এবং আফটার লাইফের কর্মকান্ড নিয়ে। সেইসাথে কিছু অসম্ভব সুন্দর ইমোশনাল অংশ, মজার মূহুর্ত এবং ফাইটিং অ্যানিমেটাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক অসম্ভব সুন্দর, ফাইট সিনগুলোর অ্যানিমেশন খুব ডিটেইলড, সেইসাথে এতে ইংরেজি ও জাপানী, দুই ভাষাতেই সেইয়্যুরা চমৎকার কাজ করেছেন। ওএসটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ওপেনিংটা কানে ধরেছে।

তাই, সময় পেলে জলদি দেখে ফেলুন এই ছোট্ট অ্যানিমেটি। ১৩ পর্বের অ্যানিমে এবং ১টি ওভা দেখে ফেলতে আশা করি খুব বেশি সময় লাগবে না।

1920x1080

লাইট মিউজিক ক্লাবের পথচলা: K-ON!! Anime Review by ইশমাম আনিকা

জনরাঃ কমেডি, মিউজিক, স্কুল, স্লাইস অফ লাইফ
সিজনঃ ২ টি; সিজন ১- ১৩ এপিসোড, সিজন ২- ২৬ এপিসোড

আনিমে জিনিসটা কি, তা আমি প্রথম জানতে পারি এই আনিমেটি দেখে, কাজেই প্রথম দেখা আনিমে হিসেবে এটি আমার কাছে অনেক স্পেশাল। তবে অ্যানিম্যাক্সে দেখা প্রথম অ্যানিমে বলে শুধু নয়, কে-অন আমার কাছে স্পেশাল কারণ আমি আমার নিজের লাইফের সাথে এর প্রচুর মিল খুঁজে পাই।

পাঁচজন স্কুলপড়ুয়া বালিকার হাইস্কুল লাইফ নিয়ে এই আনিমের কাহিনী। জাপানের হাইস্কুলে স্টুডেন্টদের জন্যে ক্লাব জয়েন করা মোটামুটি বাধ্যতামূলক, তাই হাইস্কুলে ওঠার পর ইউয়ি তার জন্যে উপযোগী একটা ক্লাব খুঁজতে থাকে। এবং এই খোঁজাখুঁজি করতে গিয়েই তার সাথে দেখা হয় আনিমেটির বাকি চরিত্রগুলোর সাথে, যারা বিভিন্ন সিলি এবং কিউট কাজকর্ম করতে করতে একসময় দাড় করিয়ে ফেলে লাইট মিউজিকের এক চমৎকার ক্লাব।

কাহিনীটি খুবই সাধারণ, হাইস্কুলের এয়ারহেড বালিকাদের সিলি কাজকর্ম ছাড়া আনিমেটিতে আর কিছুই নেই। কিন্তু খুঁজে দেখলে আমাদের আশেপাশের দৈনন্দিন জীবনের সাথে আনিমেটির খুব মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। উয়ি এবং ইউয়ির আজব ছোটবোন-বড়বোন কম্বিনেশন, মিস সাওয়াকোর মত একইসাথে আদর এবং শাসন করা টিচার, বয়সে ছোট কিন্তু সবচেয়ে পরিণত আচরণের আজুনিয়ান- সবই দর্শকের মনকে ছুঁয়ে দিয়ে ঠোঁটে ফুটিয়ে তুলবে মৃদু হাসি। দেখতে দেখতে কখন যে ওদের সুখ দুঃখ হাসি কান্নার সাথে মিশে যেতে হয়, টেরও পাওয়া যায় না। আর অনুপ্রেরণার জন্যও আনিমেটি খুব চমৎকার।

1661718_264205767077270_244751108_n

প্রথম সিজনের আর্ট উল্লেখযোগ্য কিছু না, কিন্তু সিজন ২ এবং মুভির আর্ট ভয়াবহ রকমের সুন্দর। কে-অন এর কারনেই মূলত আমি কিয়োটো অ্যানিমেশন এর ফ্যান হয়েছি। আমি দেখা শুরু করেছিলাম সেকেন্ড সিজন এর মাঝখান থেকে, উজ্জ্বল আর্ট এবং মিউজিকগুলো নজর কেড়েছিল। কিন্তু সিজন ১ ও তাই বলে ফেলনা নয়, চরিত্রগুলোর বন্ধুত্ব এবং সবচেয়ে বড় কথা, লাইট মিউজিক ক্লাবের গড়ে ওঠার মজার দিনগুলি এখানে দেখানো হয়, যা খুবই এঞ্জয়েবল।

এয়ারহেড হাইস্কুল গার্ল দের সিলি কাজকর্ম দেখে শৌনেন ফ্যানদের বোরিং লাগবে জানি, তাই সচরাচর এটা আমি সাজেস্ট করিনা কাউকে, তবে যদি হালকা মেজাজের এবং মনকে শান্তি দেয়ার মত কোন হাসিখুশি অ্যানিমে দেখতে চান এবং মুচকি হাসতে চান, সেইসাথে মজার এবং মনকে ছুঁয়ে যাওয়া ওএসটি শুনতে চান, তাহলে কে-অনকে একটা চান্স দিতে পারেন।

বাতাসের গুঞ্জন; কাযে নো স্টিগমা – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Kaze_No_Stigma_wallpaper

জনরাঃ অ্যাকশন, ফ্যান্টাসি, ম্যাজিক, রোম্যান্স, শৌনেন
ম্যাল স্কোরঃ ৭.৬১
এপিসোডঃ ২৪

ফায়ার ম্যাজিক ইউজার কানাগী পরিবারের প্রাইডের শিকার নিরীহ ছেলে কাজুমার জাপানে ফিরে আসা দিয়ে কাহিনী শুরু, কাজুমা জাপানে ফেরার সাথে সাথে কানাগী ফ্যামিলিতে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা নিয়ে ওর সাথে কানাগীদের বিরোধ, এবং বিভিন্ন রহস্যময় ঘটনা নিয়ে জমে উঠছিল এনিমেটা। আস্তে আস্তে পরিবারের সাথে বিরোধ মেটার আভাস ও বড় একটা ঘটনার শেষ হওয়ার সাথে সাথে হঠাৎ এনিমে শেষ হয়ে যায়; মাঙ্গাকার মৃত্যুর কারণে।

কিন্তু যতটুকু হয়েছে খুব ভালো কাহিনী এবং ২৪ নম্বর এপিসোড দেখে ফেলার পর আফসোস হতে বাধ্য যে আরও নেই কেন। আর্ট স্টাইল মোটামুটি, ওএসটি বেশ ভাল। “হিতোরিকিরি নো সোরা” ট্র্যাকটা আমার অন্যতম পছন্দের এন্ডিংগুলোর মাঝে একটা। সেইসাথে জাপানিজ এবং ইংলিশ; দুই ভাষাতেই সেইয়্যুরা চমৎকার কাজ করেছেন।

তবে আয়ানোর সবকিছুতে অতিরিক্ত ন্যাকামো মাঝে মাঝে বিরক্ত ধরিয়ে দেয়।

অ্যানিমেই সাজেশন অ্যান্ড রিভিউঃ Natsume Yuujinchou (নাতসুমে ইউজিনচো)

Natsume Yuujinchou (নাতসুমে ইউজিনচো)
English: Natsume’s Book of Friends

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=Jpmb-X12HG8)

অনেক ছোটবেলা থেকেই টিনেজেড Natsume Takashi (নাতসুমে তাকাশি) ইয়োকাই (জাপানে ইয়োকাই হচ্ছে ভূত, প্রেত) দেখতে পায়। বাবা-মা হারা নাতসুমে এই কথা সবার কাছ থেকে গোপন রাখে। অনেক আত্মীয়ের বাসা-বাসায় থেকে অবশেষে নাতসুমে যখন তার বাবা-মার এর এক ভালো আত্মীয়ের বাসায় স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করে সেখানে সে তার দাদির রেখে যাওয়া একটা বই পায় যেখানে অনেক ইয়োকাই এর নাম লেখা। স্পিরিচুয়াল শক্তির অধিকারি নাতসুমের দাদি নাতসুমে রেইকো এইসব ইয়োকাই দের হারিয়ে তাদের আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে তাদের নাম এই বই এ রেখে দিয়েছিল। এই বই পাওয়ার পর থেকে তার কাছে একে একে সব ইয়োকাই রা আসতে থাকে তাদের নাম ফেরত নিতে। এমনই এক ইয়োকাই এর কাছে থেকে পালানোর সময় তার দেখা হয় এক শক্তিশালী ফক্স স্পিরিট “মাদারা” এর সাথে। ঘটনাক্রমে তার বডিগার্ড মাদারা এর সাথে নাতসুমে এর সব ইয়োকাইদের নাম ফিরিয়ে দেয়ার যাত্রা শুরু হয় ।

স্টোরি/ কাহিনিঃ (১০/১০)

“Thank you…for not growing to hate humans.”

নাতসুমে ইউজিনচো এর কাহিনি এপিসোডিক। প্রতি পর্বে একটা করে নতুন ইয়োকাই আসে নাতসুমে এর কাছ থেকে তার নাম নিতে আর তাদের নাম ফিরিয়ে দেয়ার মধ্যে দিয়েই কাহিনি নাতসুমে ইউজিনচো এর। শুধু নাম ফিরিয়ে দেয়াই না, মাঝে মাঝে বিভিন্ন ইয়োকাই রা বিভিন্ন অনুরোধ নিয়ে আসে নাতসুমে এর কাছে আর নাতসুমে তাদের সাহায্য না করে ফিরিয়ে দিতেও পারে না।
নাতসুমে ইউজিনচো মানুষ-মানুষের, মানুষ-ইয়োকাই দের বন্ড এর উপর জোর দেয়। এই সিরিস এর প্রতিটা কাহিনি ই ইউনিক আর গভীর অর্থ বহন করে। মানুষ কেন ইয়োকাই দের প্রতি টান অনুভব করে, ইয়োকাই রা কেন মানুষদের প্রতি টান অনুভব করে সবকিছুই এইখানে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আর প্রতিটা ইয়োকাই এর নাম ফিরিয়ে দেয়ার সময় তাদের নাম নেয়ার সময়কার স্মৃতি নাতসুমে দেখতে পায় যার প্রতিটা অংশই খুব ইমোশোনাল। প্রতিটা গল্প শেষেই মন একটু খারাপ হয়ে গেলেও একটা উষ্ণ অনুভূতি থেকে যায় যেই কারণে পিছে ফিরে বার বার গল্পটা মনে করতে ইচ্ছা করে।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=xrbfAU2UZqI)]

আর্টঃ (১০/১০)

নাতসুমে ইউজিনচো এর আর্ট খুবই সুন্দর। কান্ট্রিসাইড এ কাহিনির সেটআপ হওয়ায় প্রাকৃতিক দৃশ্য অনেক বেশি। আর এই দৃশ্যগুলো আর্ট আর অ্যানিমেশন এর সৌন্দর্যের কারণে অনেক ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। প্রতিটা কাহিনি এর আর্ট খুবই ভালোভাবে মানিয়ে গেছে। গাছ-গাছালি, গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো আসা, মাঠ-ঘাট সবই এত ভালভাবে মানিয়ে গেছে যে একেকটা এপিসোড দেখলেই মন ঠাণ্ডা হয়ে যায়।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=aD3AVIsBaSs)]

সাউন্ডঃ (১০/১০)

নাতসুমে ইউজিনচো এর অন্যতম মনে রাখার মত বিষয় হচ্ছে এর সাউন্ডট্র্যাক। নাতসুমে ইউজিনচো এর OP (https://www.youtube.com/watch?v=FDbfgSlSw58) আর ED টা অনেক বেশি সুন্দর, বিশেষ করে ED টা (https://www.youtube.com/watch?v=55hO1nR0b-I), ED টা আমার অনেক বেশি পছন্দের, অনেক পিসফুল একটা গান, শুনলে মন একবারে শান্ত হয়ে যায়। নাতসুমে ইউজিনচো এর প্রতিটা কাহিনি এর আবহ এর সাথে এর সাউন্ডট্র্যাকগুলো অনেক বেশি সুন্দরভাবে মানিয়ে গেছে যেটা অ্যানিমে দেখার অনুভুতিটাকে আরও অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=pFMZ0xTmNcY)]

ক্যারেক্টারঃ (৯/১০)

নাতসুমে ইউজিনচো ইউনিক, ইন্টারেস্টিং আর মেমোরেবল ক্যারেক্টার দিয়ে পরিপূর্ণ। নাতসুমে এর যত ইয়োকাই এর দেখা হয় তারা সবাই ইউনিক, শুধু তাদের পারসোনালিটি না এমনকি তাদের কাহিনিগুলাও মেমোরেবল, হার্ট ওয়ার্মিং, তাদের সমস্যাগুলাও খুব ভালোভাবে চিন্তা করা। নাতসুমে এর পাওয়ার এর জন্য সে অনেকটা সবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল, সেই আবার সবাইকে বিশ্বাস করতে শিখে। মাদারা যে কিনা শুধু বইটা নেয়ার জন্যই নাতসুমে এর সাথে থাকে সে ও একসময় বই এর চেয়ে বেশি নাতসুমে এর জন্যই কেয়ার করতে শুরু করে। বেশিরভাগ ক্যারেক্টার ই যদিও এক পর্বের বেশি থাকে না তাও বেশ কয়েকটা ক্যারেক্টার অন্য এপিসোডগুলাতেও আসে আর এদের সাথে নাতসুমে এর সম্পর্ক আরও ভালভাবে ফুটে উঠে।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=l_95XcbjgU8)]

এঞ্জয়মেন্টঃ (১০/১০)

নাতসুমে ইউজিনচো এর প্রতিটা কাহিনি ই দেখতে বেশ মজার, ২০ মিনিট এর কাহিনি কখন শেষ হয়ে যাবে টের ই পাওয়া যাবে না। আর এরই সাথে ইউনিক ক্যারেক্টার, অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক, আর ইন্টারেস্টিং স্টোরি দেখতে বোর লাগবে না কখনই। প্রতিটা এপিসোড এমন একটা ভাইব আছে যে একটা এপিসোড দেখলেই মনে এক অন্য ধরনের শান্তি চলে আসে। বিকালে বাইরে বসে এই সিরিস দেখার সাথে অন্য কোন অনুভুতির তুলনাই হয় না।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=EJolEPJzxaA)]

ওভারঅলঃ (১০/১০)

এককথায় বলতে গেলে নাতসুমে ইউজিনচো সিরিসটা মাস্টারপিস। এই সিরিসটা দেখে এই সিরিসটার প্রেমে না পড়াটা অসম্ভব। অনেক ইমোশোনাল ইউনিক কাহিনি একই সুতায় গাথা এই সিরিস টাতে। এই সিরিস এর প্রতিটা সাইড ই আমাকে অবাক করেছে, কখনই হতাশ করেনি। সুপারন্যাচারাল স্লাইস আভ লাইফ হিসেবে এই অ্যানিমেই টা আরেকটা মাস্টারপিস।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=NgKRd8ATy_U)]

MAL র‍্যাঙ্কিংঃ ১২০
MAL রেটিংঃ ৮.৪৫
আমার রেটিংঃ ১০

Natsume Yuujinchou সিরিস এর ক্রোনোলোজি (ধারাবাহিকতা)ঃ

1. Natsume Yuujinchou (Jul 8, 2008 to Sep 30, 2008) MAL Rank #120 [13 episodes]
2.Zoku Natsume Yuujinchou (Jan 6, 2009 to Mar 31, 2009) MAL Rank #46 [13 episodes]
3. Natsume Yuujinchou San (Jul 5, 2011 to Sep 27, 2011) MAL Rank #42 [13 episodes]
4. Natsume Yuujinchou Shi (Jan 3, 2012 to Mar 27, 2012) MAL Rank #28 [13 episodes]
5. Natsume Yuujinchou: Itsuka Yuki no Hi ni (Feb 1, 2014) MAL Rank #131 [1 episode]

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=mLOOUz3LWfA
https://www.youtube.com/watch?v=v1eLNNmOvmw
https://www.youtube.com/watch?v=xikpxunpvv4
https://www.youtube.com/watch?v=suLGzcL9eNs)]