অ্যানিমেই সাজেশন অ্যান্ড রিভিউঃ Mushishi (মুশিশি)

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=ZlbxNeOmjEE)]

Mushishi (মুশিশি)

“মুশি”; এই পৃথিবীতে জীবনের প্রাথমিক রুপ। এদের উদ্দেশ্য হচ্ছে টিকে থাকা। মুশি বিভিন্ন রঙ আর বিভিন্ন গঠনের হতে পারে, আর এদের মধ্যে অনেক মুশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঘটনা তৈরি করতে পারে। রংধনু সৃষ্টি, রোগ হিসেবে থাকা, কাউকে নকল করা, পরজীবী হিসেবে বাস করা এইরকম আরও অনেক কিছুই করতে পারে মুশি। সবাই মুশি দেখতে পারে না, যারা দেখতে পারে তারা হচ্ছে মুশিশি। এমনই এক মুশিশি হচ্ছে গিনকো। মুশিদের অস্তিত্ব আর মুশি আরও ভালোভাবে বুঝার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় মুশিশি গিনকো।

স্টোরি/ কাহিনিঃ (৯/১০)

মুশিশি এর কাহিনি এপিসোডিক। মুশিশি গিনকো বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমন করে। মুশিরা মানুষের জীবনে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে প্রতি পর্বে মুশি সংঘটিত কোন ঘটনার মুখোমুখি হয় গিনকো আর মুশিশি হিসেবে সেইসব ঘটনার সমাধান করে সে। প্রতি পর্বে একেকটা ইউনিক আর খুবই সুন্দর ঘটনার উৎপত্তি হয় আর এইসব ঘটনার মাঝেই মাঝে মাঝে লুকিয়ে থাকে অর্থবহুল আর শিক্ষণীয় বিষয়।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=hmIeGkRe0CI)]

আর্টঃ (৯/১০)

মুশিশি এর আর্ট অসাধারণ, কাহিনি এর সাথে একেবারেই মিলে যায়। মুশিশি এর আর্ট এ অনেকটা পুরানো দিনের আর গ্রামের আবহ আছে। মুশিশি এর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো অসাধারণ, ব্রেথটেকিং, গরজিয়াস। কিন্তু গিনকো ছাড়া প্রায় সব ক্যারেক্টার এর ডিসাইন প্রায় একই রকম। কিন্তু এইটাও কাহিনি এপিসোডিক হওয়ায় তেমন একটা প্রভাব ফেলে না।
অ্যালবামঃ http://imgur.com/a/UjXGH

সাউন্ডঃ (১০/১০)

মুশিশি এর সবচেয়ে বেশি অসাধারণ ক্ষেত্র হচ্ছে এর সাউন্ড। কাহিনি এর সাথে সাউন্ড এর মিল অসাধারণ। রহস্য (https://www.youtube.com/watch?v=puLnIQ-plR8), সাস্পেন্স (https://www.youtube.com/watch?v=z_GIPWwASIU) যেকোনো অবস্থার জন্য পারফেক্ট সাউন্ড আছে মুশিশি তে। মুশিশি এর ওপেনিং (https://www.youtube.com/watch?v=AapZE-LHUdI) আর এন্ডিং সং (https://www.youtube.com/watch?v=r2e7yFbDuWM) দুইটাও অসাধারণ রকমের ভালো। মুশিশি এর সাউন্ডট্র্যাক শুনলে যে কারো মন ঠান্ডা হয়ে যেতে বাধ্য। মুশিশি এর সাউন্ডট্র্যাক যে কতটা অসাধারণ তা শুধু বলে বুঝানো সম্ভব না।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=9Z8nzhKYU2w)]

ক্যারেক্টারঃ (৮/১০)

মুশিশি এর অন্যতম আকর্ষণ এর প্রধান ক্যারেক্টার গিনকো। গিনকো এর ক্যারেক্টার অনেকটা মোনোটোন মনে হতে পারে কিন্তু গিনকো যেভাবে একাত্মতা নিয়ে প্রত্যেকটা সমস্যার সমাধান করে তা দেখে বুঝা যায় যে গিনকো ক্যারেক্টার টা আসলে কতটা অসাম। কাহিনি এপিসোডিক হওয়ায় প্রতি এপিসোড এ নতুন ক্যারেক্টার আসে কিন্তু ক্যারেক্টারগুলার কাহিনি এতটাই ইউনিক যে প্রতিটা ক্যারেক্টার মনে রাখার মতো। গিনকো শুধু যেই ডাক্তার এর সাথে পরিচিত সে ছাড়া আর কোন ক্যারেক্টার ই একবারের বেশি কোনো এপিসোড এ আসে না।

এঞ্জয়মেন্টঃ (১০/১০)

প্রতিটা কাহিনি ই ইউনিক, অ্যানিমেশন আর সাউন্ড উপভোগ্য হওয়ায় পুরা সিরিস টা ই খুব এঞ্জয়এবল। প্রতিটা এপিসোড ই খুব সুথিং, কাহিনি স্লো পেসড। প্রতিটা এপিসোড ই মনে রাখার মত। একটা এপিসোড দেখে আরেকটা এপিসোড অনেকদিন পরে দেখলেও মজা কমে যায় না, কিন্তু প্রত্যেকটা কাহিনি ই এত মজার আর ইন্টারেস্টিং যে পুরা সিরিস না শেষ করে উঠতে ইচ্ছা হবে না।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=8CFdDzJaZw8)]

ওভারঅলঃ (১০/১০)

পুরা সিরিসটা এক কথায় বলতে গেলে মাস্টারপিস। মুশিশি এর কাহিনি, সাউন্ডট্র্যাক, প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোর এনিমেশন অসাধারণ। এইটা এমন একটা অ্যানিমেই যেইটা না দেখা মানেই অনেককিছু মিস করা আর এটা দেখে কখনও মনে হবে না যে সময় অপচয় হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মুশিশি অ্যানিমেই এর জগতে অন্যতম মাস্টারপিস।

MAL র‍্যাঙ্কিংঃ ২৩
MAL রেটিংঃ ৮.৮১
আমার রেটিংঃ ১০

Mushishi সিরিস এর ক্রোনোলোজি (ধারাবাহিকতা)ঃ

1. Mushishi (Oct 23, 2005 to Jun 19, 2006) MAL Rank #23
2. Mushishi Special: Hihamukage (Jan 4, 2014) MAL Rank #48
3. Mushishi Zoku Shou (Apr 5, 2014 to Jun 21, 2014) MAL Rank #22
4. Mushishi Zoku Shou Special (Aug 20, 2014) MAL Rank #104
5. Mushishi Zoku Shou 2nd Season (Oct 19, 2014 to [ongoing]) Rank #19

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=84XVtCTeBUg
https://www.youtube.com/watch?v=0-Kv2ZHgRJY
https://www.youtube.com/watch?v=chSW6_I9qpI)]

তামাকোর মোচিসমৃদ্ধ পৃথিবী; তামাকো মার্কেট রিভিউ – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tamako_Market

“কি করব, যখন হঠাৎ করে মনে হচ্ছে, আনিমু দেখে আরাম পাইতেসি না, ধাড়ুম ধুড়ুমের ঠেলায় মাথা ধরে গেল?”

দ্য আন্সার ইজ কিওঅ্যানি!!

দেখে ফেললাম কিয়োটো অ্যানিমেশনের আরেকটি চমৎকার কাজ “তামাকো মার্কেট”। মোচি প্রস্তুতকারী পরিবারের মেয়ে তামাকো। তার বাড়ি বানি মাউন্টেন শপিং ডিস্ট্রিক্ট এ, তাদের পারিবারিক মোচিশপের পেছনে। তামাকো ভালবাসে তার পরিবারকে, তাদের দোকানকে, তাদের এই শপিং ডিস্ট্রিক্টকে; আর সবচেয়ে বেশি ভালবাসে মোচি তৈরি করতে।

১২ পর্বের এ সিরিজটিতে পুরোটা সময়ই তামাকো এবং তার আশেপাশের মানুষদের প্রাণবন্ত দৈনন্দিন জীবনের উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরা হয়। হঠাৎ একদিন হাজির হওয়া রাজকীয় মোরগসদৃশ কথাবলা পাখি দেরা, দেরার হাস্যকর কাজকর্ম, তামাকোর বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে নতুন ধরণের মোচি তৈরির আইডিয়া, প্রতিবেশী বাল্যবন্ধু মোচিজৌর সাথে প্রতি রাতে কাগজের কাপ ফোনে কথা বলা, সেইসাথে তার বন্ধু এবং পরিবারের সাথে যে সুন্দর সম্পর্ক; সবমিলিয়ে যে কাউকে ভাবতে বাধ্য করবে, আমার জীবনটাও যদি তামাকোর মত হত!

অ্যানিমেটিতে বেশ কিছু মনকে ছুঁয়ে যাওয়া মূহুর্ত আছে, আবার মুড হালকা করে দেয়ার অনেক এলিমেন্ট আছে! কিওঅ্যানির আর্ট নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, প্রতিটা চরিত্রই পছন্দ করার মত। ওএসটি খুব চমৎকার, ওপেনিং এবং এন্ডিং সং- দুটোই মনে ছাপ ফেলে দেয়ার মত; আমার বেশি পছন্দ এন্ডিং সংটা।

সবমিলিয়ে বেশ রিফ্রেশিং একটা অ্যানিমে ছিল তামাকো মার্কেট, হালকা কোন অ্যানিমে দেখতে চাইলে তামাকোর সাথে ঘুরে আসতে পারেন বানি মাউন্টেন শপিং ডিস্ট্রিক্ট এ।

sam_1494scaled

 

কুরোশিতসুজি- সার্কাস পর্ব; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10734268_420565528107959_2014149067390686627_n

Genres- Comedy, Demons, Fantasy, Historical, Shounen, Supernatural
Episodes- 10
Score- 8.41
Ranked- 145

 

কুরোশিতসুজি বা ব্ল্যাক বাটলার। অ্যানিমেটির এ পর্যন্ত সর্বমোট তিনটি সিজন বেরিয়েছে; বুক অফ সার্কাস তার মাঝে তৃতীয়টি। এটি মাঙ্গার “Noah’s Ark Circus” আর্কটি অনুসরণ করে বানানো।

কাহিনীর সময়কাল সেই পরিচিত সুপ্রাচীন ভিক্টোরিয়ার আমলের অভিজাত লন্ডনে, যেখানে বাস করে ফ্যান্টমহাইভ কোম্পানির মালিক, অভিজাত এই বংশের কিশোর উত্তরাধিকারী এবং কুইন ভিক্টোরিয়ার গার্ড ডগ- সিয়েল আর্ল ফ্যান্টমহাইভ। তার পরিবার এক দুর্ঘটনায় মারা যায়, এবং নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষা করার জন্য সে ডেমন বাটলার সেবাস্টিয়ান মিখাইলস এর সাথে নিজের আত্মার বিনিময়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।

শহরে হঠাৎ করেই এসে হাজির হয় এক সার্কাস দল। অতি অল্পসময়ের মাঝে এই সার্কাস দলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। কিন্তু প্রায় একই সময়ে শহর থেকে একের পর এক ছোট ছেলেমেয়ে হারিয়ে যেতে থাকে। তাহলে কি এই সার্কাস দল এবং বাচ্চাদের হারিয়ে যাওয়ার মাঝে কোন যোগসূত্র আছে? রাণী ভিক্টোরিয়া আদেশ করেন এ ব্যাপারে তদন্ত করতে। রাণীর আদেশে সিয়েল তার ডেমন বাটলারকে নিয়ে ছদ্মবেশে ঐ সাকার্স তদন্ত করতে নামে।

কাহিনীতে বরাবরের মতই টিপটপ বাটলার সেবাষ্টিয়ানের নিখুঁত কাজের চমক এবং আনুগত্যের দেখা পাওয়া যায়, সেইসাথে পাওয়া যায় অদ্ভুতুড়ে ফ্যান্টমহাইভ সার্ভেন্টদের উল্টোপাল্টা কাজ। আর্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইন সবই প্রায় আগের মতই, তবে কিছুটা উন্নত। এই সিজনের অন্যতম আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ছদ্মবেশী সিয়েল, সার্কাসের ভেতরে সেবাষ্টিয়ান ও সিয়েলের অভিযান, গ্রীম রিপাররা এবং অবশ্যই- ফ্যান্টমহাইভ সার্ভেন্টরা! শেষের দিকে কাহিনীটা একটু ডার্ক থিমের দিকে মোড় নেয়, যার কারণে এন্ডিংটা বেশ ভাল হয়েছে এবং পুরো অ্যানিমেটাই যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়েছে। মাত্র ১০ পর্বের অতি অল্প সময়ের মাঝে খুব সুন্দরভাবে কাহিনীটা এক্সিকিউট করা হয়েছে। সেইসাথে রয়েছে মানানসই ওএসটি এবং ভয়েস অ্যাক্টরদের চমৎকার কাজ।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা বেশ উপভোগ্য হয়েছে। কুরোশিতসুজি প্রথম সিজনটির প্রথম ১৫ টি এপিসোড মাঙ্গা অনুসরণ করে; এরপর “কারি কনটেষ্ট আর্ক” এর পর থেকে বাকিটা এবং পুরো সিজন ২ মাঙ্গা অনুসরণ করে না। বুক অফ সাকার্সের কাহিনী মাঙ্গার কারি কনটেষ্ট আর্কের ঠিক পরের আর্ক থেকে শুরু, কাজেই ধরে নেয়া যায় যে এটি এপিসোড ১৫র পরের কন্টিনিউয়েশন।

তাই আমি বলব, যাদের কুরোশিতসুজির আগের সিজনগুলো ভাল লাগেনি, তারাও এই ছোট আর্কটা দেখে ফেলতে পারেন, ভালই লাগবে আশা করি!

সাইকো পাস – সিস্টেম সিবিল এবং বাস্তবতার সংঘর্ষ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

maxresdefault

 

এপিসোড সংখ্যা- ২২
জনরা- একশন​, সাই-ফাই, পুলিশ​

আমাদের পৃথিবী সাধারণত যে নিয়মটা ফলো করে- অপরাধ আগে ঘটবে, তারপর অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে। অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেয়া যাবেনা। কিন্তু কখনো কি কারও মনে হয়েছে, যদি এরকম কোন ব্যবস্থা থাকত যে কোন অপরাধ ঘটার আগেই সেটাকে কোনভাবে ঠেকানো যাবে? বা এমন কোন যন্ত্র থাকবে, যা দিয়ে স্ক্যান করে অপরাধ ঘটার আগেই অপরাধীকে সনাক্ত করে তাকে বিরত করা যাবে?

আমাদের আনিমেটির কাহিনী ভবিষ্যতে, যখন এইরকম একটি যন্ত্র আসলেই আবিষ্কৃত হয়েছে। এবং শুধু আবিষ্কার বললে ভুল হবে, জাপানে এই যন্ত্রেরই রাজত্ব চলছে। যন্ত্রের নাম সাইকো পাস, আর পুরো ব্যাবস্থাটার নাম সিবিল সিস্টেম। প্রত্যেকটা মানুষের একটা করে সাইকো পাস রয়েছে। এটা দিয়ে তাদের অপরাধ প্রবণতা পরিমাপ করা হয়। যদি অপরাধ প্রবণতা কোন কারণে বিপদসীমা অতিক্রম করে তাহলে তার সাইকো পাস ঘোলাটে হয়ে যায় এবং রাস্তায় রাস্তায় বসানো শত শত স্ক্যানারে তা ধরা পড়ে। সেই মানুষটিকে চিকিৎসা দেয়া হয়, যাতে তার সাইকো পাস ঘোলাটে থেকে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর যদি বোঝা যায় যে তার সাইকো পাস কোনভাবেই আর ক্লিয়ার হবেনা, তাহলে তাকে সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করা হয়। দেশে কোন আইন আদালত নেই, পুলিশদের হাতেও এখন আর পিস্তল বা রিভলবার নেই, আছে ডমিনেটর। এই যন্ত্র সাইকো পাসকে স্ক্যান করে অপরাধের মাত্রা নির্ধারণ করে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে। কেউ বড় কোন অপরাধ করতে চেষ্টা করলে ডমিনেটর তাকে এলিমিনেট করে দেয়, আবার অপরাধ ছোট হলে বা অন্য কোন কারণে সাইকো পাস ঘোলা হলে প্যারালাইজড করে দেয় যাতে তাকে চিকিৎসা দেয়া যায়। বিচার করার সব দায়িত্ব এখন সিবিল সিস্টেমের।

এই সময়ে জাপানের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগ দেয় আকানে সুনামোরি। এরপর সে পরিচিত হয় ডমিনেটর যন্ত্রটার সাথে এবং তার কলিগ ইন্সপেক্টর এবং এনফোর্সারদের সাথে। এনফোর্সার তাদের বলা হয়, যাদের সিবিল সিস্টেম সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করেছে, কিন্তু ইন্সপেক্টরের খবরদারিতে রেখে তাদের অপরাধ প্রবণতাকে কাজে লাগানো হয় অপরাধী ধরতে। তাদের সাথে আকানে সুনামোরি কাজ করতে থাকে এবং দক্ষতা অর্জন করতে থাকে।

কিন্তু যত সময় যেতে থাকে, সমস্যা দেখা দেয়। একটা যন্ত্র কি আসলেই অপরাধী সনাক্ত করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়, বা যন্ত্র যাকে সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করেছে, সে কি আসলেই অপরাধী, নাকি অন্য কোন কারণে তার সাইকো পাস ঘোলা হয়েছে… এই প্রশ্নগুলো উকি দিতে থাকে। আবার উল্টো প্রশ্নও সামনে এসে পড়ে। যদি কখনো এমন হয়, কোন মানুষ এমন উপায় খুঁজে বের করে ফেলেছে, যাতে তার সাইকো পাস সবসময় পরিষ্কার থাকে, তাহলে কি হবে? তার মাঝে যদি সিবিল সিস্টেম অপরাধ প্রবণতা খুঁজে না পায়, তাহলে তাকে কিভাবে ধরা হবে??

এভাবে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা প্লট নিয়ে এবং খুব চমৎকার কিছু ক্যারেক্টার নিয়ে গড়ে উঠেছে সাইকো পাস আনিমেটি। প্রতিটা ক্যারেক্টার অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আনিমেটি তার প্রমিস ধরে রেখেছে বলে আমি মনে করি। শিনিয়া কোগামি চরিত্রটি আমার পছন্দের চরিত্রের তালিকায় খুব দ্রুতই জায়গা করে নিয়েছে।

এই আনিমের আরেকটা ব্যাপার উল্লেখ না করাটা অন্যায় হবে, তা হল এর ওএসটি। প্রতিটা গান পাল্লা দিয়ে সুন্দর এবং মনে ছাপ ফেলে দেয়। আমার ব্যাক্তিগত পছন্দ প্রথম এন্ডিং সং “নামায়ে নো নাই কাইবুতসু বাই ইগোইস্ট”। শোনার পর থেকে ইনফিনিট লুপে দিয়ে রেখেছি।

খুব জলদি এই আনিমেটার সেকেন্ড সিজন বের হতে যাচ্ছে, কাজেই যারা এখনো প্রথম সিজন দেখেননি, তারা দেখে ফেলতে পারেন। আর যারা দেখেছেন তারা তো সবাই জানেনই এটা কতটা ভালো একটা আনিমে!

সাইকো পাস

যেতসুয়েন নো টেম্পেস্ট রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

394399

Genres: Action, Mystery, Drama, Fantasy, Magic, Shounen, Psychological
Score: 8.24
Ranked: 255
Episodes: 24

Yoshino_Takigawa

কাহিনীটা অদ্ভুত। ইওশিনো তাকিগাওয়া, একজন হাইস্কুল ছাত্র। একা একা ঘুরে বেড়ায় সব জায়গায়। কারো সাথেই যেন তার সম্পর্ক নেই। তার একমাত্র বন্ধু মাহিরো, যে কিছুদিন আগে নিখোঁজ হয়েছে, তার এবং তার বোন আইকার সাথে কাটানো বিভিন্ন সময়ের কথা সে বারবার মনে করতে থাকে। এমন সময় একদিন সে যখন গ্রেভইয়ার্ড ভিজিট করতে যায়, তখন হঠাত আক্রমণের শিকার হয় সে। তাকে রক্ষা করতে হঠাতই এসে হাজির হয় মাহিরো। এবং জাদুর সাহায্যে সে রক্ষা করে ইওশিনোকে।

625612-zetsuen_no_tempest___14___large_16

সমুদ্র। একটা ব্যারেল ভেসে ভেসে গিয়ে ঠেকল একটা জনমানবহীন দ্বীপে। তার ভেতর থেকে বেরোল রাজকন্যা হাকাজে, যাকে তার ক্লানেরই এক সদস্য এভাবে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। “Tree of Exodus” এর উত্থানের সময় হয়েছে, রাজকন্যা উপস্থিত থাকলে তা সম্ভব হবে না।

মাহিরো ইওশিনোকে বাঁচায়, ঠিক তখনি হঠাত কোত্থেকে হাজির হয় অনেকগুলো প্রজাপতি। তারপরেই তারা দেখতে পায় এক বিশাল আজব ফল সমুদ্রের ভেতর থেকে উঠে চোখ মেলে তাকায়। আর সাথে সাথে শহরের সব মানুষ আস্তে আস্তে ধাতুতে রূপান্তরিত হয়ে যেতে থাকে। ইওশিনো মাহিরোর কাছে জানতে চায় কি হচ্ছে সেই ব্যাপারে। ইওশিনো তাকে জানায় নির্বাসিত রাজকন্যার কথা। যার সাথে চুক্তি করেছে মাহিরো। মাহিরো তাকে সাহায্য করবে “Tree of Exodus” এর উত্থান ঠেকাতে এবং দ্বীপ থেকে ফিরে আসতে। এর বদলে রাজকন্যা মাহিরোকে সাহায্য করবে প্রতিশোধ নিতে।

Zetsuen no Tempest 01

“Tree of Genesis”. এই পৃথিবীর লজিক রক্ষা করে চলা এক শক্তি। যাকে ব্যাবহার করা হয় পৃথিবীর উপকারের জন্যে। এই ট্রিকে রক্ষা করার দায়িত্ব কুসারিবে ক্লানের। এই ক্লানেরই রাজকন্যা হাকাজে। তাকে Tree of Genesis সবসময় রক্ষা করে এবং ট্রির ক্ষমতার প্রতি হাকাজের রয়েছে অগাধ বিশ্বাস। আর তাই তার উপস্থিতিতে এর বিরুদ্ধ শক্তি “Tree of Exodus” এর উত্থান সম্ভব নয়। এজন্যেই হাকাজেকে নির্বাসনে পাঠায় “সামোন কুসারিবে”। ট্রির ক্ষমতায় আর বিশ্বাস নেই তার।

এতসব জটিলতার মাঝে কিভাবে জড়িয়ে যায় ইওশিনো? মাহিরো কিসের প্রতিশোধ নিতে চায়? শহরের মানুষ কেন ধাতুতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে? রাজকন্যা কি পারবে দ্বীপ থেকে শহরে ফিরে আসতে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে দেখে ফেলতে হবে এই চমৎকার আনিমেটা।

আনিমেটার একটা স্পেশাল দিক হল, নামের প্রতি সুবিচার করে আনিমেটায় শেকসপীয়ারের হ্যামলেট এবং দ্য টেম্পেস্ট থেকে অনেক quote ব্যাবহার করা হয়, যা আনিমেটার মূল চরিত্রদের ব্যাক্তিগত অনুভুতি এবং দুঃখ, কষ্ট, হতাশা (যা আনিমেটার একটা গুরুত্বপূর্ণ এলিমেন্ট) খুব কাব্যিকভাবে ফুটিয়ে তোলে।

একশন, রহস্য এবং তাদের লজিকাল ব্যাখ্যাই যথেষ্ট ছিল, সেই সাথে ইমোশন এবং ব্যাক্তিগত মূল্যবোধের সাথে নিজেদের লড়াই আনিমেটাকে আরও পরিপূর্ণ করেছে। প্রায় প্রতিটি পর্বেই কোন না কোন চমক, সহজেই আপন করে নেয়ার মত ক্যারেক্টার এবং একটি সুন্দর এন্ডিং … ভালো আনিমের জন্যে আর কি চাই!! সেই সাথে সুন্দর OST তো আছেই!! 

কাজেই, আশা করব যারা দেখেননি এখনো আনিমেটা, তারা সময় করে দেখে ফেলবেন। ভালো লাগবেই। আর যারা দেখেছেন তারা তো জানেনই আনিমেটা কত ভালো!

caption_753759_20121001050313

The Story of Cinderella/Cinderella Monogatari: চেনা গল্পের অচেনা মোড়; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Cinderella-cinderella-monogatari-25018918-1024-768

 

“অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে ছিল এক লক্ষ্মী মেয়ে। তার নাম সিন্ডারেলা। সিন্ডারেলার বাবা তাকে খুব ভালবাসত। তাই তিনি ব্যবসার কাজে দূরে গেলে যেন সিন্ডারেলার অসুবিধা না হয়, সে জন্যে সিন্ডারেলার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আবার বিয়ে করেন। এতে সিন্ডারেলা একজন সৎমা ও দুজন সৎবোন পায়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! বাবা দূর দেশে যাওয়ার পর সিন্ডারেলার সৎমা ও বোনেরা তাকে খুব অত্যাচার করা শুরু করল ….”

কি ভাবছেন? ওয়াল্ট ডিজনির সিন্ডারেলার কাহিনী এখানে কেন বলছি? তার কারণ হল, ওয়াল্ট ডিজনির চিরায়ত কাহিনী অবলম্বনে নব্বইয়ের দশকের তৈরি হয়েছিল চমৎকার একটা আনিমে। ছাব্বিশ পর্বের এ আনিমের নাম “সিন্ডারেলা মনোগাতারি”।

শুরুতেই মাই আনিমে লিস্ট থেকে কিছু অগুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেই-

Aired: Apr 4, 1996 to Oct 3, 1996
Genres: Adventure, Fantasy, Romance
Score: 7.52
Ranked: 1357
Episodes: 26

hqdefault (1)

কাহিনীর শুরুটা সবারই জানা। শুধু সূচনা নয়, কাহিনীর আদ্যোপান্ত প্রায় সবকিছুই আসলে ওয়াল্ট ডিজনির কল্যাণে সবারই জানা। এ কারণে এই আনিমেটা চোখের সামনে পড়লেও হয়ত অনেকেই দেখতে আগ্রহী হননি। কিন্তু মনোগাতারির মাহত্ত্ব্য এখানেই। শুরুটা হয় প্রচলিত গল্পের মত করেই। এরপর ২য় এপিসোড থেকেই মোড় ঘুরে যায় দারুণভাবে। কখনো কি এই প্রশ্নটা মাথায় এসেছে; আচ্ছা, সিন্ডারেলাকে যে ওর সৎমা তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে দিল, এরপর প্রিন্স চার্মিংকে এসেই কেন তাকে উদ্ধার করতে হবে? নিজের দুরবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি নিজেই খুঁজে নেয়া সম্ভব নয়? ঘরের কাজের মাঝে বা যে দুরবস্থাই হোক, তার মাঝে কি আনন্দ খুঁজে নেয়া যায়না? কিংবা জুতার মাপই কেন হবে একজন মানুষের জীবনসঙ্গী নির্ধারণের মাপকাঠি?? রাজকুমারের কি ভালবাসার অধিকার নেই? কেন এক রাতের সুন্দরী নাচের সঙ্গীকেই বাকি জীবনের সঙ্গী বানাতে হবে?

এই সব প্রশ্নের উত্তর আনিমেটি খুব সুন্দরভাবে দিয়েছে। রূপকথার গল্পের গতানুগতিক পথ অবলম্বন না করে আনিমেটি দেখিয়েছে, সিন্ডারেলার আত্মসম্মান কতটা মজবুত এবং সে কতটা বাস্তববাদী একটা মেয়ে। আরও দেখিয়েছে, রাজকুমার মানেই সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে না আসা বিলাসিতায় মেতে থেকে জীবন কাটানো অকর্মণ্য ব্যাক্তি নয়। আমাদের গল্পের রাজকুমার তার প্রাসাদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকে প্রজাদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে বসে থাকেনা।

 

Cinderella-cinderella-monogatari-33956575-636-462

 

সিন্ডারেলার সৎমা তার কাছ থেকে সব সুযোগ সুবিধা কেড়ে নেয়। তাতে দমে যায়না সে। বরং তার সামনে আসা চ্যালেঞ্জকে হাসিমুখে মোকাবেলা করতে বদ্ধপরিকর হয়। তাকে সাহায্য করার জন্যে তার “ফেইরি গডমাদার” মিস পল তার পোষা প্রাণীগুলোকে কথা বলার ক্ষমতা দিয়ে দেন। তাদের সাথে নিয়ে সিন্ডারেলা প্রতিদিন তার সৎমার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার আশায় ধুলো দিয়ে প্রতিটা কঠিন কাজ সঠিকভাবে করে যেতে থাকে।

রাজকুমার চার্লস। “পান্না মহল” (Emerald Castle) এ তার বাস। রাজার একমাত্র সন্তান এবং উত্তরাধিকারী। তাকে রাজ্য পরিচালনার জন্যে তৈরি করে তুলতে রাজার চেষ্টার অন্ত্য নেই। অসিচালনায় রাজকুমারের তুলনা নেই। একদিন বন্ধু অ্যালেক্সকে রাজকুমার জানায় তার মনের কথা। এভাবে গতানুগতিক পথে শিখতে তার ভালো লাগছে না। যে রাজ্যটায় সে একদিন রাজত্ব করবে, সেই রাজ্যটাকে সে কাছ থেকে দেখতে চায়। রাজ্যের মানুষদের চিনতে চায়। আর তাই অ্যালেক্সের পুরনো কাপড় ধার নিয়ে প্রহরীদের ফাঁকি দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ছদ্মবেশী চার্লস বেরিয়ে পড়ত রাজ্য পরিদর্শনে।

large

এভাবে শহরে ঘুরতে ঘুরতে একদিন রাজকুমারের দেখা হয়ে যায় সিন্ডারেলার সাথে। বিভিন্ন ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে আস্তে আস্তে তাদের দুজনের মাঝে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়।

তারা দুজন একসাথে বিভিন্ন মজার এবং ইন্টারেস্টিং ঘটনার মধ্য দিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকে। সিন্ডেরেলার অসুস্থতার সময় যেমন চার্লসকে ঘরের কাজ করা শিখতে হয়, তেমনি চার্লস সিন্ডারেলাকে শেখায় অসিচালনা।

সবশেষে বলব, যদি গতানুগতিক কাহিনীর বাইরের একটি রূপকথা দেখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এই আনিমেটি দেখে ফেলতে পারেন।

Cinderella.Monogatari_Cover

আনিমে রিভিউঃ ডেথ নোট; লিখেছেন ইফতেখার রহমান নিলয়

death note

 

Anime: Death Note

Episode Number: 37

MAL Score: 8.80

Ranked: 24

 

“ডেথ নোট” একটি নাম যেটা পৃথিবীর সকল আনিমেখোর দের কাছে খুব পরিচিত নাম। অনেকের কাছেই হয়ত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ আনিমে সিরিজ। এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক। এইরকম সাস্পেন্স, এইরকম মাইন্ড গেম আর কোন আনিমে তে আছে নাকি আমার জানা নেই। আমার আনিমে লাইফও শুরু হয় এই আনিমে সিরিজ দিয়েই। এরপরই হয়ে উঠি আনিমে খোর।

 

হাইস্কুল এর মেধাবী ছাত্র “লাইট ইয়াগামি”। সবসময় ক্লাসে টপার। চুপচাপ স্বভাবের শান্তশিষ্ট ছেলে। একদিন ক্লাসে থাকাকালীন সময় জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখতে পেলো আকাশ থেকে একটা ডায়েরী এসে স্কুলের বাগানে পড়ল। ক্লাস শেষে বাসায় যাওয়ার পথে তার মনে পড়ল ডায়েরীটার কথা। অনেক দ্বিধা কাটিয়ে ডায়েরীটা হাতে নেয় লাইট ইয়াগামি এবং ঠিক তখনি পাল্টে যায় লাইটের জীবন। বাসায় এসে ডায়েরী খুলে দেখতেই সে বুঝতে পারলো এটা কোন নরমাল ডায়েরী নয়। এটি একটি ডেথ নোট। এতে যার নাম লেখা হয় সে কিছুক্ষনের মধ্যে মারা যায়। প্রথমে বিশ্বাস না হলেও নির্দেশিকা পড়ে কাজ করার পর আর অবিশ্বাস করার কোন অবকাশ থাকে না। সে দেখতে পায় বীভৎস চেহারার এক দানবকে যার নাম “রিয়্যুক”। সে লাইটকে জানায় এই ডেথ নোটের মালিক এখন লাইট।

 

এরপর শুরু হয় লাইট এর পৃথিবী থেকে ক্রিমিনালদের মুছে ফেলার মিশন। এক এক করে হাজারো মানুষ কে মেরে ফেলে লাইট। এরই মধ্যে লাইট এর একটি ছদ্মনাম হয়ে যায় “কিরা”। হঠাৎ কাহিনীতে যোগ হয় এক্সাইটমেন্ট, যার নাম “এল”। যে পুলিশ এর হয়ে কাজ করে। এরপর যা শুরু হয় তা না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না।

 

সিরিজ এর ক্যারেক্টার ডিজাইন অনেক ভাল। এল এবং লাইট কে অসাধারন বানিয়েছে। এই দুইজন কে নিয়ে পুরো বিশ্বে চলে নানারকম কসপ্লে, ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড, মিউজিক, স্টোরি, ক্যারেক্টার সব কিছুই একেকটা মাস্টারপিস এই সিরিজের। যদিও অনেকে এই সিরিজের এন্ডিং নিয়ে সমালোচনা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয়েছে এটাই ঠিক।

 

সব শেষে বলব এই আনিমে যদি এখনো কেউ না দেখে থাকেন তাহলে আপনার আনিমে লাইফ এখনো শুরু হয় নি। জলদি দেখে ফেলুন অন্যতম সেরা এই সিরিজটি।

পার্সোনাল রেটিং > ১০/ ১০

যেসব এনিমে দেখে কখনোই পস্তাবেন না! – শাফিউল মুনীর

কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম বেস্ট ২০ কিংবা বেস্ট ২৫ টা এনিমের একটা লিস্ট বানাবো, কিন্তু সিলেক্ট করতে হিমশিম খেতে হয়, এই বিকটাকার এনিমে জগতকে এত ক্ষুদ্র পরিসরে নিয়ে আসা সাধারণ এনিমখোরদের জন্য বেশ কঠিন ব্যাপার। এই লিস্টটি বেসিকেলি আমার সবচেয়ে পছন্দের কিছু এনিমের লিস্ট, তবে এতটুকু গ্যারান্টি দিচ্ছি যে এর মধ্যে কোনটা দেখে কারো বেশি খারাপ লাগবে না, কিংবা ‘দেখে লস হয়েছে’ এমন ভাবনা আসবে না। তাই কেউ যদি কোনটা না দেখে থাকেন দ্রুত দেখে ফেলার আহবান রইল। যেহেতু আমি শৌনেন এনিমে বেশি দেখেছি, তাই লিস্টে বেশিরভাগ শৌনেন…আর এনিমেগুলোর রিভিউ কিংবা সিনোপ্সিস বলা আমার উদ্দেশ্য না, কিছুটা পাবলিসিটি করছি মাত্র। গ্রুপের ওয়েবসাইটে অনেকগুলোর রিভিউ পাওয়া যাবে, আর মাই এনিমে লিস্ট ত দেখে নিতে পারেনই, তারপরও কোন এনিমে সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চাইলে একটা কমেন্ট করতে পারেন। (এনিমেগুলো রেন্ডম সিরিয়ালে দেওয়া আছে).

১। ডেথনোটঃ অসাধারণ শ্বাসরুদ্ধকর একটা থ্রিলার, এনিমে জগতের প্রতিনিধি বলা যেতে পারে একে, যেকোন এনিমেহেটারও এটা দেখে পজিটিভ কিছু বলে যেতে বাধ্য, আপনি এনিমে দেখেন শুনলেই সবাই এর কথা প্রথমে জিজ্ঞেস করবে, মাস্ট সিন লিস্টে খুব উপরের দিকে… রেটিং- ৯/১০

২। ফুলমেটাল আলকেমিস্ট ব্রাদারহুডঃ আমার কাছে মনে হয়েছে এর থেকে পারফেক্ট কোন এনিমে হওয়া পসিবল না, যা যা থাকা দরকার সব আছে, রেটিং ১০/১০, সর্বকালের সেরা এনিমে বলে কিছু থাকলে এটাই।

৩। বাকুমানঃ আমার দেখা সেরা স্লাইস অব লাইফ, মাঙ্গাকাদের জীবন নিয়ে বানানো এই এনিমেটি দেখার পর চিন্তাভাবনার ধরণ অনেক পালটে গেছে, মাস্ট সিন একটা এনিমে, আর মাঙ্গাটা এনিমে থেকে ভালো। রেটিং – সাড়ে ৯/১০

৪। কোড গিয়াসঃ ডেথনোটের সেইম জেনারের এনিমে যেটাকে আমি পারসোনালি ডেথনোটের থেকেও এগিয়ে রাখব, কাহিনী, ক্যারেক্টার ডেভলাপমেন্ট, ফাইটিং, এন্ডিং সবই অস্থির। রেটিং- সাড়ে ৯/১০

৫। হিউকাঃ খুব সাধারণ মানের একটা সহজ সরল এনিমে, কিন্তু এর সাধারণত্বই একে অন্যরকম একটা লেভেলে নিয়ে গেছে, মিস্ট্রি, স্কুল লাইফ, স্লাইস অব লাইফ টাইপ জেনার, খুব নিরীহ, নিষ্কলুষ একটা এনিমে, একটু স্লো হলেও দেখতে খারাপ লাগবে না। রেটিং- ৯/১০

৬। স্ল্যাম ডাঙ্কঃ স্পোর্টস এনিমে অনেকেরই ভাল লাগে না, কিন্তু স্ল্যাম ডাঙ্ক সবার ভাল লাগতে বাধ্য, এটা দেখে হাসিতে গড়াগড়ি না খেয়ে কোন উপায় নেই, বাস্কেটবল গেমের পাশাপাশি অসাধারণ হিউমার, কাহিনি আর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট একে অন্যতম সেরা স্পোর্টস এনিমে হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রেটিং- ৯/১০

৭। ডি গ্রে ম্যানঃ শৌনেন এনিমের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত, কিন্তু বেশ ভাল একটা এনিমে, কাহিনী, ফাইটিং, প্লট খুব ভাল, অনেক হিউমারাস স্ট্যান্ডার্ড ডায়লগ, তবে এন্ডিং পুরাপুরি না হওয়াতে কিছুটা কমে গেছে এর আপিল, তবু না দেখার কোন কারণ নেই। রেটিং- সাড়ে ৮/১০

৮। Nura Rise of Yokai Clan নুরারিহিয়ন নো ম্যাগোঃ সম্ভবত খুব আন্ডাররেটেড একটা এনিমে, এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুনি খুব কম। একটা খুব ভাল শৌনেন এনিমের সব ধরণের এলিমেন্ট ভালমত আছে এতে, সবাই দেখতে পারেন, তবে এখানেও দুই সিজন মিলে পুরাপুরি কাহিনীর শেষ হয় নাই, তবে একটা এন্ডিং আছে…রেটিং- সাড়ে ৮/১০

৯। মেজাইঃ দ্যা ল্যাবরিন্থ অব ম্যাজিক, কিংডম অব ম্যাজিকঃ আমার খুব পছন্দের একটা এনিমে, দুইটা সিজন হয়েছে, খুব ভাল কাহিনী, ফাইটিং, আর পটেনশিয়াল অনেক, মাঙ্গায় চলমান কাহিনী বেশি জটিল, হয়ত ভবিষ্যতে খুব ভাল কিছু একটা হবার সুযোগ রয়েছে। রেটিং – ৯/১০

১০। নারুতোঃ আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের এনিমে, নারুতো আমার সবথেকে ফেভারিট ক্যারেক্টার, ফিলার ছাড়া বিবেচনা করলে নারুতো আর নারুতো শিপ্পুডেনের মত অস্থির এনিমে খুব কমই আছে…এটা না দেখে থাকলে এনিমে জগতের অনেক বিশাল একটা অংশ মিস করবেন, এটা আপনাকে মন খুলে হাসাবে আর আপনার চোখের পানি বের করে ছাড়বে, এর বেশি আর কি প্রয়োজন? বায়াসড রেটিং- সাড়ে ৯/১০

১১। Silver Spoon (গিন নো সাজিঃ এফএমএবির রাইটারের আরেকটা অদ্ভুত ব্রিলিয়ান্ট কাজ, স্লাইস অব লাইফ, স্কুল লাইফ খুব ব্যতিক্রমধর্মী একটা কাহিনির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে, দুই সিজন এসেছে, খুব মজার আর ভাল, তবে শোনা যাচ্ছে আর এনিমে হবে না, মাঙ্গা এগিয়ে চলছে, না দেখলে এখনি শুরু করুন, খুব ভালো কয়টা দিন যাবে… রেটিং- ৯/১০

১২। সাইকো পাসঃ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের জগতে আরো একটি অসাধারণ এনিমে, খুবই চিত্তাকর্ষক প্লট, প্রথম সিজন শেষ করে দ্বিতীয় সিজনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, একটা পর্ব দেখলেই টেনে ভিতরে নিয়ে যাবে আপনাকে, শেষ করার আগে বেরুতেই পারবেন না। রেটিং- ৯/১০

১৩। স্টেইন্স গেটঃ খুব ভাল সাই-ফাই, থ্রিলার, মজাটা শুরু হতে একটু টাইম নেয়, কয়েকটা এপিসোড ধৈর্য্য ধরে বসে দেখতে হবে, একবার শুরু হলে আর উঠা লাগবে না। রেটিং- ৯/১০

১৪। ফেইট জিরো-ফেইট স্টে নাইটঃ বহুল আলোচিত এনিমে, ফেইট জিরো খুব বেশি ভাল, ফেইট স্টে নাইট ও অনেক ভাল লেগেছে আমার, ফাইটিং, ক্যারেক্টার আর ট্যাকটিক্স সবকিছুই আকর্ষণীয়। রেটিং- জিরো- ৯/১০, ফেইট স্টে নাইট- সাড়ে ৮/১০

১৫। এভাটারঃ দ্যা লাস্ট এয়ারবেন্ডার, এভাটারঃ কোরাঃ এটা এনিমে জগতে প্রবেশাধিকার পায় নি, একটা কার্টুন, কিন্তু কাউকে এনিমখোর বানাতে চাইলে সবার আগে এটা দেখতে পরামর্শ দিতে পারেন, প্রথম এনিমেটা এভাটার এং এর কাহিনী, ফাইটিং, ফান সবকিছু অতি উচ্চমানের। পরের এনিমেটা ভিন্ন এক এভাটারের কাহিনী, ভাল… রেটিং, প্রথমটা- সাড়ে ৯, পরেরটা সাড়ে ৮

১৬। গিনবান কেলাইডেস্কোপঃ মাত্র ১২ এপিসোডের ডিফারেন্ট টাইপ একটা স্পোর্টস এনিমে, আর সাথে ব্যতিক্রমধর্মী রোমান্স, অবশ্যই দেখা উচিত… রেটিং- ৯

১৭। The Garden of Sinners (কারা নো কিউকাইঃ থ্রিলার, মিস্ট্রি, হরর জেনারের একটা অসাধারণ উদাহরণ, মূলতঃ ৭ টি ভিন্ন ভিন্ন মুভি মিলে এই সাত পর্বের কালেকশনটা একটা মুহূর্তের জন্যও বোরিং লাগার কথা না। রেটিং- সাড়ে ৮

১৮। ফেয়ারি টেইলঃ অতি বিতর্কিত একটা এনিমে, কাহিনী-ফাইটিং-মিউজিক-ক্যারেক্টার খুব ভাল, তবে অনেক নেগেটিভ দিক রয়েছে, দেখে সিদ্ধান্ত নেন, কন্টিনিউ করবেন কিনা, শৌনেন লাভারদের অবশ্যই ভালো লাগবে,দেখবেন… রেটিং- সাড়ে ৮

১৯। ওয়ানপিসঃ একটা মাস্টারপিস, দিনের পর দিন শুধু ভাল থেকে ভালতর হচ্ছে এই এনিমেটা, অনেকেই শুরু করতে চান না বিশাল সাইজ দেখে, আবার প্রথমদিকের কিছু পর্ব দেখে অতি আকর্ষনীয় মনে না হওয়াতে অনেকে রেখে দেন, কিন্তু বিশ্বাস করুন, ‘একজন এনিমখোরের জন্য ওয়ানপিস ই যথেষ্ট’, শুধু কষ্ট করে দেখে ফেলেন ৩০০ টার মত এপিসোড, তারপর শুধু চোখ আটকেই থাকবে না, পুরো দুনিয়া ছেড়ে ওয়ানপিসের জগতে হারিয়ে যাবেন, ফেরত আসতে পারেন কিনা সন্দেহ আছে !…রেটিং- সাড়ে ৯

২০। ব্লিচঃ বিগ থ্রির গর্বিত সদস্য, সম্ভবত সবচেয়ে সেরা ফাইটিং এনিমে বলা চলে, এই এনিমেতেই আছে এনিমে জগতের অন্যতম সেরা ভিলেন, এক একটা ডায়লগ-ফিলসফি সুপার ক্লাস, না দেখে থাকলে আপনার এনিমে ক্যারিয়ার অবশ্যই অপূর্ণ। রেটিং-৯

২১। জায়ান্ট কিলিং– ফুটবল নিয়ে নির্মিত এই স্পোর্টস এনিমেটি অনেক ব্যতিক্রমধর্মি এর স্বজনদের থেকে, ফুটবল লাভাররা অবশ্যই দেখবেন, রিয়ালিস্টিক, উত্তেজনাপূর্ণ, গতিময় আর অনেক উপভোগ্য, দেখলেই বুঝবেন কেন দেখা উচিত…রেটিং ৯

২২। গোসিকঃ মিস্ট্রি-ডিটেক্টিভ জনরার একটা ছোটখাট এনিমে, তালিকার বাকিগুলোর মত হাই প্রোফাইল না, তবে মিস্ট্রিগুলা খুব ই ভালও, দেখতে অবশ্যই ভাল লাগবে…রেটীং – সাড়ে ৮

২৩। কাতেকিউ হিটম্যান রিবর্ন- আরো একটা আন্ডাররেটেড শোনেন, খুব ভালো কাহিনী, ফাইটিং, শুরুর দিকে বেশ কিছুক্ষণ ধৈর্য্য ধরে দেখতে হবে, একটা বাচ্চা বাচ্চা টাইপ লাগতে পারে, কিন্তু মূল কাহিনী একবার শুরু হবার পর আটকে যাবেন পর্দায়, এনিমেতে একটা নির্দিষ্ট আর্ক পর্যন্ত দেখানো হয়েছে, বাকিটা মাঙ্গা পড়তে পারেন। রেটিং- ৯

২৪। কেনিচিঃ হিস্টোরিস মাইটিয়েস্ট ডিসিপালঃ মার্শাল আর্ট, ফিস্ট ফাইট জেনারের আমার দেখা বেস্ট এনিমে, ডায়লগ খুব মজার, যদিও এনিমেতে মাত্র ৫০ এপিসোডে (মাঙ্গা চ্যাপ্টার ১৪০ এর মত) শেষ করে দিয়েছে, সেগুলোও বেশ উপভোগ্য, আর মাঙ্গাটা অনেক ভাল (চ্যাপ্টার ৫৭০ এন্ড অনগোয়িং)…রেটিং- ৮

২৫। দুরারারাঃ বেশ ব্যতিক্রমধর্মী একটা এনিমে, একশন-মিস্ট্রি জেনারের, কাহিনীর ডেভেলপমেন্ট বেশ ইন্টারেস্টিং, নেরেশন আর পেসটা ভালো লাগতে বাধ্য, বেশকিছু ভালো লাগার মত ক্যারেক্টার আছে এতে, অবশ্যই দেখতে হবে এমন আরো একটি এনিমে, সম্ভবত দ্বিতীয় সিজন শীঘ্রই আসছে, অপেক্ষায় আছি… রেটিং- ৯/১০

২৬। হান্টার* হান্টারঃ অনেকেই নারুতোর সাথে এর অনেক মিল খুঁজে পেতেন প্রথমদিকে, কিন্তু বর্তমান আর্কগুলো দেখে তাদের ধারণা পাল্টাতে বাধ্য, খুব অস্থির একটা শৌনেন এনিমে, কিছুদিন আগে শেষ হওয়া এর চিমেরা এন্ট আর্কটা সম্ভবত এনিমে দুনিয়ার অন্যতম সেরা আর্কগুলোর মধ্যে একটা, প্রথম থেকেই কাহিনী, ডায়লগ, ফাইটিং সবকিছু ভালো। রেটিং- ৯/১০

২৭। সামুরাই এক্স- রুরোনি খেনশিন- আমার দেখা প্রথম এনিমে, তখন এটার মর্ম বুঝতে পারি নি, একটা মাস্টারপিস- ক্লাসিক এনিমে, সামুরাই-সোর্ড ফাইটিং লাভার না হলেও মাস্ট সিন, খেনশিন হিমুরার মত ক্যারেক্টার দেখতে পারাটাই অনেক সৌভাগ্যের, এনিমে দুনিয়ার আরেক কুল ভিলেনও আছে এতে। রেটিং- সাড়ে ৯ ২৮। গিনতামাঃ এটা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না, শুধু বলব এটা না দেখলে খুব বড় কিছু একটা মিস করবেন, বেশি বড়, তবে এটা দেখার আগে বেশকিছু এনিমে দেখে নেওয়া উচিত, তাহলে আসল মজাটা পাবেন, বিভিন্ন এনিমের নানাদিককে মাঝে মধ্যেই তুলে আনা হয়েছে এতে খুব ক্লাসিক হিউমার হিসাবে… রেটিং- ৯/১০

আরো কিছু এনিমে যা অবশ্যই দেখা উচিত- Kingdom, মনস্টার, কাউবয় বিবপ, সামুরাই চ্যাম্পলু, ব্ল্যাক ক্যাট, কিউ কারো মাউ, তরিকো, হানি এন্ড ক্লোভার, তোরাদোরা, ইউ ইউ হাকুশো, এডেন অব ইস্ট, তরিকো, মেলানকোলি অব হারুহি সুজুমিয়া, লগ হোরাইজন, স্পাইস এন্ড উলফ, ডিটেক্টিভ একাডেমি কিউ, সোল ইটার, শিনগেকি নো কিয়োজিন, নোডামে ক্যান্টিবেলে, ফ্যান্টমঃরিকোয়েম, মুশি শি, জোজোস বিজার এডভেঞ্চার, ইনিশিয়াল ডি, হাজিমে নো ইপ্পু, বার্সার্ক, ড্রাগন বল, ড্রাগন বল জি, ডিটেক্টিভ কোনান, ক্লানাড, চিহায়াফুরু, বকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসো, এইস অব ডায়মন্ড, Cross Game, One Outs, Kuroko no Basuke… … শেষ নাই শেষ নাই, ভাল এনিমের শেষ নাই… !!!

Keep calm and watch Anime… And also don’t forget, life comes first, anime is only for recreational purpose, don’t be an Otaku, that’s seriously bad.

প্রিন্সেস মনোনকি: প্রকৃতি ও প্রেমের অশ্রুত কণ্ঠস্বর by তুহিন তালুকদার

[লেখা টি পূর্বে মুখ ও মুখোশ ফিল্ম ম্যাগাজিন এ প্রকাশিত মূল লেখার লিঙ্ক]
প্রিন্সেস মনোনকি: প্রকৃতি ও প্রেমের অশ্রুত কণ্ঠস্বর

প্রকৃতির কোলে জন্ম মানুষের। অন্য সব প্রাণী, পাখি, উদ্ভিদ, জলজ, কীট পতঙ্গ আর সরীসৃপের মত মানুষও ছিল প্রকৃতির অভিন্ন সন্তান। পৃথিবীর মাটি, আলো, বাতাস, জলই ছিল তার জীবনের অনুষঙ্গ। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম ভেঙ্গে মানুষই প্রথম বেরিয়ে আসার দুঃসাহস করেছিল। আজকের এই সভ্যতা, স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎকর্ষের মূলে আছে এই দুঃসাহস। মানুষই প্রথম প্রকৃতির ইচ্ছায় নিজের জীবন যাপনের বদলে প্রকৃতিকে নিজের ইচ্ছায় নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। কিন্তু এমনই সর্বনাশা মানুষের স্বভাব যে, প্রকৃতিকে বশ করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর, তার সাথে সদ্ভাব বজায় না রেখে একে কুক্ষিগত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত লোভের বশে গড়ে তোলে অপরিকল্পিত নগর। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে দুর্যোগের রূপে মাঝে মাঝেই প্রকাশ পেয়েছে প্রকৃতির সন্তাপ। মানুষের নির্বোধ লোভের বলি হয়েছে গাছপালা, বন্য প্রাণী, বাস্তুসংস্থান এবং ফলত মানুষ নিজে। প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কহীন, একরোখা নগরায়নের অশুভ পরিণামকে চিত্রায়িত করে ১৯৯৭ সালে জাপানের স্টুডিও ঘিবলিতে নির্মিত হয় মনোনকি হিমে বা প্রিন্সেস মনোনকি অ্যানিমেশন ফিল্ম। পরিবেশ রক্ষার বহু উচ্চারিত কথাগুলো আওড়ানো হয়নি এতে। মধ্যযুগের জাপানের সংস্কৃতি, এর পৌরাণিক নির্যাস, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, বন্য প্রাণী ও বনভূমির আত্মিক সম্পর্ক, বিভিন্ন জাতির মধ্যে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ, নারীর ক্ষমতায়ন, শারীরিক অক্ষমদের পুনর্বাসন সবই উঠে এসেছে কাহিনীর পরতে পরতে। একটি সার্থক মহাকাব্যে যেভাবে চরিত্রের বিকাশ, ঘটনার প্রবাহমানতা আর সুবৃহৎ দৃশ্যপট থাকে, ১৩৩ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটিতে তাই সফলভাবে করে দেখানো হয়েছে।

ফিল্মটির পরিচালক হায়াও মিয়াযাকি অ্যানিমেশন জগতের জীবন্ত কিংবদন্তী। অর্ধশতাধিক বছর ধরে তিনি অ্যানিমেশনের সাথে জড়িত। তাঁর অ্যানিমেশন বাণিজ্যিক সাফল্য এবং সমালোচকের প্রশংসা দুই-ই অর্জন করেছে। বিখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচক রজার এবার্ট তাঁকে জাপানের জাতীয় সম্পদ (National treasure of Japan) বলে অভিহিত করেছেন। তাঁকে তুলনা করা হয় ওয়াল্ট ডিজনি এবং ব্রিটিশ অ্যানিমেটর নিক পার্কের সাথে। হাতে আঁকা অ্যানিমেশন দিয়েই তিনি বাঘা বাঘা অ্যানিমেটরকে টেক্কা দিয়েছেন, যারা প্রচুর সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছিলেন।

প্রিন্সেস মনোনকির গল্পটি জাপানের ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনীর সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে। মুরোমাশি যুগে (১৩৩৭ – ১৫৭৩ খ্রিঃ) জাপানের পূর্বাঞ্চলে এমিশি জাতির বাস ছিল। এর রাজপুত্র আশিটাকার অভিযানই গল্পের মূল প্রসঙ্গ। শুরুতেই আমরা দেখি জঙ্গলের ভেতর থেকে এক অতিকায় শূকর বেরিয়ে আসে। এর সারা শরীর সাপের মত কিলবিলে পদার্থে ভর্তি। দানবটি এমিশি গ্রামকে আক্রমণ করতে গেলে রাজপুত্র আশিটাকা তাকে ফিরে যেতে অনুরোধ করে। কিন্তু অপারগ হয়ে, তীর মেরে হত্যা করতে বাধ্য হয়। কিন্তু লড়াইয়ের সময় দানবটির সর্পিলাকার শুঙ্গ তার ডান হাতে স্থায়ী দাগ রেখে যায়।

 

শূকর দেবতা বা তাতারি গামি

শূকর দেবতা বা তাতারি গামি

গ্রামের প্রবীণ, জ্ঞানী বৃদ্ধা হিসামা পাথর ও কাঠের টুকরা দিয়ে ভবিষ্যৎ গণনা করে বলেন শূকরটি ছিল পশ্চিমের দেশের বনরক্ষী দেবতা। তার ভেতরে বিষাক্ত লোহার গুলি ঢুকে তাকে পাগল করে তোলে। তীব্র কষ্টে ও ঘৃণায় তার হৃদয় পূর্ণ হয়ে তাকে দানবে পরিণত করে। আশিটাকার হাতের দাগটি বড় হতে হতে তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়বে এবং তাকে অবর্ণনীয় কষ্ট সয়ে মরতে হবে। ক্ষতের কষ্ট সত্ত্বেও ঘৃণার বশবর্তী না হয়ে পশ্চিমের দেশে এর আরোগ্য খুঁজতে হবে। তার গোষ্ঠীর নিয়ম অনুযায়ী তাকে চুলের গোছা কেটে, গ্রামের মানুষের কাছ থেকে চিরবিদায় নিয়ে সে রাতেই বেরিয়ে যেতে হয়।

জঙ্গল, পর্বত, বন্ধুর রাস্তা, সমতল ভূমি, নদী পেরিয়ে তার যাত্রা চলতে থাকে। একটি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দেখে সেখানে খুনে সামুরাইরা লুঠ আর হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। তাদের তীর ছুঁড়তে গিয়ে লক্ষ্য করে, তার হাতে অদ্ভুত নাড়াচাড়া। তীর মেরে সে দুই সামুরাইয়ের শরীর থেকে হাত আর ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দ্রুত সরে যায়। সে নিজেই অবাক হয়ে যায় তার অভূতপূর্ব শক্তিতে। পথে এক সন্ন্যাসীর সাথে দেখা হয়। সন্ন্যাসী তাকে জানায়, পশ্চিমের দেশে পর্বতের উপর বনের দেবতা প্রধানের বাস। কিন্তু সেখানে সব প্রাণীই বিপুলাকার, তাই মানুষের জন্য বিপদজনক।

বনের কাছে ছিল নতুন শহর তাতারা বা (লৌহনগরী)। নেকড়ে দলের সাথে মানুষের লড়াইয়ে নেকড়ে প্রধান মোরো গুলিবিদ্ধ হয় এবং কয়েকজন মানুষ নিখোঁজ হয়। আশিটাকা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আহতদের স্বজনরা উল্লসিত হয় এবং আশিটাকা বীরের অভ্যর্থনা পায়। সে দেখে তাতারা বা এক বিরাট কর্মযজ্ঞের শহর। সেখানে সে জানতে পারে এর প্রধান লেডী এবোশী গণিকালয় থেকে নারীদের কিনে এনে লৌহনগরীর হাপর চালানোর কাজ দেন। এবোশীই নাগো নামের শূকর দেবতাকে গুলি করেছিলেন। তিনি কুষ্ঠ রোগীদের পুনর্বাসন করে মারণাস্ত্র তৈরীর কাজ দিয়ে রেখেছেন। তাকে লোহা প্রক্রিয়াজাত করণ ও অস্ত্র তৈরির এলাকাটি ঘুরে দেখান হয়। আশিটাকা জানতে পারে বনের অধীশ্বর শিশি গামিকে হত্যা করলে বনের রাজকন্যা প্রিন্সেস মনোনকি আবার মানুষে পরিণত হবে। এবোশী একাজে তার সাহায্য চায় এবং তার ক্ষত সারিয়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়। আশিটাকা নারী শ্রমিকদের কাজের এলাকাটিও দেখে এবং তাদের সাথে কিছুক্ষণ হাপর চালায়।

লেডি এবোশী

লেডি এবোশী

সে রাতে এবোশীকে হত্যা করার জন্য প্রিন্সেস মনোনকি শহরে আচমকা আক্রমণ করে বসে। সে ছিল নেকড়ে মোরোর পালক মেয়ে সান। সান ও এবোশী দ্বন্দ্বযুদ্ধে মুখোমুখি হলে আশিটাকা তাদের দুজনকে অজ্ঞান করে লড়াই থামায়। সানকে নিয়ে শহর ত্যাগ করার সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়। সান তাকে শিশি গামির কাছে নিয়ে গেলে তিনি গুলির ক্ষত সারিয়ে দেন কিন্তু তার হাতের দাগ আগের মতই থেকে যায়। সান মুমূর্ষু আশিটাকাকে শুশ্রূষা করে বাঁচিয়ে তোলে।

এদিকে সন্ন্যাসী জিগো বাউ বনদেবতাকে হত্যা করার জন্য তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে। কারণ, রাজ্যের সম্রাট অমরত্ব পাওয়ার জন্য শিশি গামির মাথার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। সে জানতে পারে, বনের শূকর জাতি তাদের প্রধান ওক্কোটোর নেতৃত্বে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ যুদ্ধে এবোশীর মারণাস্ত্রের সামনে শূকর জাতি টিকতে পারে না। সে সাথে নিহত হয় তাতারা বার প্রচুর মানুষ। শূকরদের হারিয়ে এবোশী জিগো বাউয়ের যোদ্ধাদের নিয়ে বনদেবতা শিশি গামিকে হত্যা করতে যায়।

এবোশীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সম্রাট আসানোর যোদ্ধারা লৌহনগরী আক্রমণ করে দখল করে নেওয়া চেষ্টা করে। আশিটাকা এই খবর নিয়ে বনদেবতার সরোবরে এবোশীর কাছে যায় এবং তাকে নিজের শহরের রক্ষার্থে ফিরে যেতে বলে কিন্তু এবোশী তার কথা শোনে না। যুদ্ধে গুরুতর আহত ওক্কোটো, সান, মোরো সবাই সরোবরে ছিল। গুলিবিদ্ধ ওক্কোটো ক্রমে তাতারি গামির মত দানবে পরিণত হতে থাকে। শিশি গামি এসে ওক্কোটো এবং মোরো উভয়ের প্রাণ নিয়ে নেয়। এবোশী গুলি করে শিশি গামির মাথা আলাদা করে ফেলেন আর জিগো বাউয়ের লোকজন সেটা বাক্সবন্দী করে নিয়ে যায়। মোরো মৃত্যুর আগ মুহূর্তে এবোশীর একটি  হাত কামড়ে ছিন্ন করে ফেলে।

মাথা হারানোর পর শিশি গামি ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ে যায়। তাঁর বিক্ষিপ্ত শরীর হন্যে হয়ে মাথাটি খুঁজতে থাকে। প্রলয় নেমে আসে চারদিকে। সেই বিক্ষিপ্ত শরীরের অংশ যাকে স্পর্শ করে সেই মারা যায়। জিগো বাউ মাথাটি নিয়ে পালাতে চেষ্টা করে। সূর্য ওঠার মধ্যে যদি শিশি গামি মাথাটি ফের না পান তাহলে তিনি আর জীবিত থাকবেন না। আশিটাকা ও সান তাঁর মাথাটি উদ্ধার করে শিশি গামিকে ফেরত দেয়। আবার সজীব হয়ে উঠেন শিশি গামি। লৌহনগরীসহ সকল প্রকৃতিবিরোধী অশুভ প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করে, বনের শ্যামলিমা ফিরিয়ে দিয়ে মিলিয়ে যান তিনি। আশিটাকা ও সানের শরীর থেকে সকল অভিশাপের দাগ সরে যায়। এবোশী নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং আশিটাকাকে নিয়ে নতুন করে আরেকটি শহর গড়ার কথা ভাবেন, এ শহরটি হবে লৌহনগরীর চেয়েও ভাল আর প্রকৃতিবান্ধব।

প্রিন্সেস মনোনকিতে অদ্ভুত সুন্দর কাহিনীর মধ্যে সন্নিবিষ্ট হয়েছে কিছু কাল্পনিক প্রাণী। শূকর দেবতা বা তাতারি গামি, যার শরীরের বাইরের দিকটা ছিল কিলবিলে সর্পিলাকার। আকাশিশি বা লাল হরিণ ইয়াক্কুল, যার শিং বাঁকানো, গলায় কেশর ও ঘোড়ার মত দৌড়ানোর ক্ষমতা। জঙ্গলের অধীশ্বর শিশি গামির দিন ও রাতের জন্য বরাদ্দ দুই রূপ। দিনে আঁকাবাঁকা একগুচ্ছ শিংযুক্ত হরিণ যার মুখটি মানুষের মত আর রাতের বেলা সুদীর্ঘ, স্বচ্ছ, নীলচে শরীর। এগুলো সবই মিয়াযাকির সৃষ্টিশীল কল্পনার ফসল।

প্রিন্সেস মনোনকির কাল্পনিক প্রাণী – ইয়াক্কুল, শিশি গামির দিন ও রাতের রূপ

প্রিন্সেস মনোনকির কাল্পনিক প্রাণী – ইয়াক্কুল, শিশি গামির দিন ও রাতের রূপ

মূলত হাতে আঁকা প্রিন্সেস মনোনকির ফ্রেমগুলো ডিজনির আধুনিকতম অ্যানিমেশনের সাথে তুলনীয়। এর সাথে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের টেক্সচার ম্যাপিং, থ্রিডি রেন্ডারিং, মরফিং, পার্টিক্যাল ও ডিজিটাল কম্পোজিশান ব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোও আঁকার মধ্যে গভীর মনোযোগ পেয়েছে। পানিতে কিছু ডুবালে সৃষ্ট তরঙ্গ, জলের নিচে পায়ের ছাপ, পাতার ফাঁকে সূর্যের আলো, জঙ্গলের ভেতর আলো ছায়ার খেলা, জলের উপর দিয়ে শিশি গামি আলতোভাবে হেঁটে গেলে সুন্দর তরঙ্গ সৃষ্টি, বাতাসে ঘাসের নড়াচড়া, পাথরে বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করলে তার রঙ বদলে যাওয়া, বৃষ্টি এলে রোদ সরে গিয়ে আঁধার ঘনিয়ে আসা, আশিটাকা চোখের নিচে কাটা নিয়ে ভারী গেইট ঠেলে খুলতে গেলে ক্ষত থেকে রক্ত ছলকে ওঠাসহ কোন কিছুই আর্ট ডিজাইন থেকে বাদ পড়েনি। ফিল্মটির ১,৪৪,০০০ অ্যানিমেশন সেলের সবই মিয়াযাকি তত্ত্বাবধান করেছেন এবং ৮০,০০০ টি নিজে সংশোধন করেছেন।

ফিল্মটিতে কণ্ঠশিল্পীরা সম্পূর্ণ দরদ দিয়ে কাজ করেছেন। এমনকি ভাষান্তরিত ইংরেজীতেও দক্ষ কন্ঠকুশলীদের নিয়ে কাজ করা হয়েছে, যারা এর ভাবগাম্ভীর্য খর্ব হতে দেয় নি এতটুকু। সিনেমাটির আবহ সঙ্গীত মন হরণ করার মত। বিখ্যাত সঙ্গীতকার জো হিসাইশি কাহিনীর গতিপ্রকৃতি হিসেবে যখন যে ধরণের সুর দরকার যেন তাই এনে হাজির করেছেন এবং প্রয়োজনবোধে করেছেন নিঃশব্দের ব্যবহার। ছবিটিতে দুটি গান ছিল। তাতারা মহিলাদের কাজের সময় সকলের সুর করে গাওয়া গান এবং কাহিনীর মূল গান বা থিম সং। দুটি গানের কথাই লিখেছেন গীতিকার মিয়াযাকি। প্রিন্সেস মনোনকি দেখতে গিয়ে তাঁর এই প্রতিভাটির কথাও জানা গেল। বনের প্রধান দেবতা শিশি গামির উপস্থিতির সময় কোন শব্দ ব্যবহার হয় নি, যেন চারদিকে সবাই সুনসান নীরবতায় তাঁকে প্রত্যক্ষ করছে, সেই সাথে আমরাও।

মিয়াযাকির ছবির বিশেষত্ব হল তিনি সাধারণত খলচরিত্র বা ভিলেন ছাড়া কাহিনী তৈরি করেন। এখানেও আপাতভাবে লেডী এবোশীকে খল মনে হলেও এ চরিত্রেরও আছে শুভ দিক। তিনি সমাজের অস্পৃশ্য কুষ্ঠরোগীদের মানুষ হিসেবে দেখেছিলেন। তিনিই প্রথম তাঁদেরকে নিজের শহরে এনে ক্ষত ধুয়ে ব্যান্ডেজ করে দেন এবং রাইফেল তৈরির কাজ দেন। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে নারী যৌনকর্মীদের সংগ্রহ করে তাতারা বা শহরে এনে লৌহশিল্পের কারখানায় হাপর চালানোর কাজ দেন। সেই কাজ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য হলেও নারীকর্মীরা বলেন, তাঁদের আগের কাজের তুলনায় একাজ অনেক বেশি মানবিক। এবোশীর মধ্যে ছিল নেতৃত্ব দানের অসামান্য যোগ্যতা। তাই তাঁর শহরের নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি উচ্চ শ্রদ্ধার আসনে স্থিত। জঙ্গলের দেবতাদেরও তিনি অকুতোভয়ে লড়াই করতেন। এক্ষেত্রে তিনি শুভ পক্ষ অবলম্বন না করলেও তাঁর সাহস প্রশংসনীয়।

আশিটাকা ও সানের প্রেমের চিত্রায়ন ছবিটির একটি বিশেষ দিক। তারা পরস্পর ভিন্ন মতের অনুসারী। সান চরম মানুষ বিদ্বেষী আর আশিটাকা যেকোনো ধরণের সহিংসতা বিরোধী। তারা প্রত্যেকেই একে অপরের প্রাণ বাঁচিয়েছিল। সানের প্রাণ বাঁচাতে আশিটাকা গুলিবিদ্ধ হয়। মুমূর্ষু আশিটাকাকে দীর্ঘদিন শুশ্রূষা করে বাঁচায় সান। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও অপদেবতায় পরিণত হওয়া ওক্কোটোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সানকে বাঁচাতে চায় আশিটাকা। কিন্তু গল্পের কোথাও কাউকে প্রেম নিবেদন করতে দেখা যায় নি। যেন একে অপরের মনের কথা এতটাই নিশ্চিতভাবে জেনে গিয়েছিল যে, মুখ ফুটে বলার প্রয়োজন হয় নি। গল্পের শেষেও তারা একত্রে থাকার কথা বলে নি। সান তার আরণ্যক জীবন বেছে নেয় আর আশিটাকা তাতারা বা শহরকে নতুনভাবে গড়তে যায়। তারা মাঝে মাঝে দেখা করার প্রতিশ্রুতি করে। প্রত্যেকে নিজের নিজের জীবনযাত্রায় থেকে প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখা পৃথিবীর যে কোন দেশের কাহিনীতেই বিরল।

পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি এখানে বার বার উচ্চারিত হয়েছে ঘৃণা পুষে না রাখার কথা। ঘৃণা হচ্ছে জ্বলন্ত কয়লার মত। যার হাতে থাকে তাকেও জ্বালায়, যাকে ছুঁড়ে মারা হয় তাকেও পোড়ায়। ভবিষ্যৎ বক্তা হিসামা আশিটাকাকে বলেছিলেন, ঘৃণার বশবর্তী না হয়ে আরোগ্য খুঁজতে। আশিটাকাও এবোশী আর বনের প্রাণীদের যুদ্ধে কোন পক্ষ না নিয়ে বার বার ঘৃণাহীন সহাবস্থানের কথা বলেছিল। সান আর এবোশীর দ্বন্দ্বযুদ্ধে সে দুজনকে থামিয়ে দিয়ে শহরবাসীর উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করে সেই অমোঘ উক্তি, যা পুরো ছবিটির সার বক্তব্য। সে বলে, ‘Look, everyone! This is what hatred looks like. This is what it does when it catches hold of you. It’s eating me alive and very soon now it will kill me! Fear and anger only make it grow faster.’

সবার অধিকার রক্ষা করে মানবিক নগর গড়ার বার্তাই এখানে দেওয়া হয়েছে। মানুষ প্রকৃতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজের কষ্টই শুধু বাড়িয়েছে। ছবিটিতে বনের প্রাণীরা পরস্পরের ব্যাপারে যতটা শ্রদ্ধাশীল, মানুষের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী একে অন্যের ব্যাপারে ততটা নয়। নেকড়ে ও শূকর জাতি একে অন্যকে অপছন্দ করত, তাই এড়িয়ে চলত। কিন্তু মানুষেরা রাজ্য দখল করে ধ্বংস করে দিত প্রতিদ্বন্দ্বী জাতিকে। কিছু কিছু মূল্যবোধকে মানুষ পুরনো বা সেকেলে আখ্যা দিয়ে ফেলে দেওয়ার আক্ষেপ থেকে থেকে প্রকাশ পেয়েছে।

অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রিন্সেস মনোনকি জ্বলজ্বলে নক্ষত্রের মত। রটেন টোমাটোসের ৮৪ জনের পর্যালোচনার ভিত্তিতে এটি এখনো ৯৪% তরতাজা। আই. এম. ডি. বি শীর্ষ ২৫০ সিনেমার তালিকায় ১০ এর পূর্ণমানে ৮.৪ পেয়ে এটি ৯৩ তম অবস্থানে আছে। মেটাক্রিটিক আবার ২৯ জনের পর্যালোচনায় একে ১০০ তে ৭৬ নম্বর দিয়েছে। রজার ইবার্ট ১৯৯৯ সালের সকল চলচ্চিত্রের উৎকর্ষের ক্রমে একে ৬ষ্ঠ অবস্থানে রেখেছেন।

ফিল্মটি ১৯৯৮ সালে জাপানীজ একাডেমীর সেরা চলচ্চিত্র, ২০০১ সালের স্যাটার্ন পুরস্কার, ব্লু রিবন ও হোচি ফিল্ম পুরস্কারসহ বিভিন্ন বিভাগে অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে নেয়। এছাড়াও অনেক আসরে বিভিন্ন বিভাগে মনোনয়ন পায়।

২৪০ বিলিয়ন জাপানীজ ইয়েনে প্রস্তুত ছবিটি বক্স অফিসেও সফল হয়। ১৯৯৭ সালে জাপানের মধ্যে এটিই ছিল সর্বাপেক্ষা ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র, পরে টাইটানিক একে ছাড়িয়ে যায়। ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যানিমেশন ছবির মধ্যে এটি ছিল সর্বাধিক বিক্রিত। এর কাহিনী অবলম্বনে পরে মঞ্চনাটক, কমিক্স বই ও টিভির জন্য কার্টুন সিরিয়াল তৈরি হয়।

অবশ্য দ্রষ্টব্য চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রিন্সেস মনোনকি সামনের দিকে থাকার মত। কারণ, এখানে আছে প্রকৃতির কথা, শাশ্বত প্রেমের কথা, মানুষের কথা, মানবতার কথা আর অভিশপ্ত জীবনের যাতনার কথা। কোন চোখ ঝলমলে নগর যেন মানুষের স্বাভাবিক দেখার চোখকে অন্ধ করে না দেয়, তাই বার বার অনুরোধে আকুতিতে বলার চেষ্টা করা হয়েছে। ছবিটি দেখতে দেখতে কবিগুরুর কবিতার চরণগুলো বার বার মনে পড়ে,

দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,
লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর
হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী,
দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি,
… … …
চাই স্বাধীনতা, চাই পক্ষের বিস্তার,
বক্ষে ফিরে পেতে চাই শক্তি আপনার,
পরানে স্পর্শিতে চাই ছিঁড়িয়া বন্ধন
অনন্ত এ জগতের হৃদয়স্পন্দন।

শেয়ার! 

Hyouka – The Curious Case of Chitanda Eru~~ লেখক রেড এলার্ট

[Writer’s Note: With little editing and cropping writer directly translated this from an English version of this review which belongs to him as well as the Bangla version. So you may find some English word/sentence in between. Writer begs pardon for this inconvenience.]

 ব্যক্তিগত ভাবে আমার পছন্দ হলেও, বহুবার বহু আনিমেকে রিভিউর স্বার্থে কম রেটিং দিতে হয়েছে। আমি মনে করি একটি রিভিউ লিখার সময় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কথা না ভেবে আনিমেটির প্রাপ্য মূল্যায়ন করা উচিত। আমি নিজেও যে সব সময় তা মেনে চলতে পারি সেটা নয় তবে চেষ্টা করি। শুরুতেই এসব বলার কারণ হল এই Hyouka রিভিউ দেখে অনেকে আমায় মনে মনে গালমন্দ করতে পারেন। তবুও আপনার যদি মনে হয় আমি Hyouka অপছন্দ করি, দেন ইউর আর্গুমেন্ট ইজ ইনভেলিড। ¯(ツ)/¯

 Hyouka_2What do you think they are looking at?

২০১০ সালের দিকে একটা আজিব SUBGENRE গজিয়ে উঠে যেটাকে এর আগে কেউ তেমন একটা পাত্তা দেয়নি, কিন্তু হঠাৎই এই SUBGENRE এর আনিমে তৈরিতে প্রোডাকশন হাউসগুলোর মাঝে একরকম হুলুস্থুল বেধে যায়। ললি (Loli) গোয়েন্দার দল আর তাদের খাঁজুরে রহস্য গল্প, এই হল সেই SUBGENRE এর মূল কনসেপ্ট। খুবই অল্প সময়ে ব্যাঙের ছাতার মতো চারদিকে ভরে যাওয়া এই আনিমেগুলোর মধ্যে কয়েকটা উল্লেখ্যযোগ্য হলঃ

        Un-Go by BONES STUDIO

        Loups=Garous by IG PRODUCTION

        Dusk Maiden of Amnesia by SILVER LINK

        Heaven’s Memo Pad by JC STAFF

        Dantalian by GAINAX (I love you but, fuck this shit GAINAX!)

        Tantei Opera Milky Holmes by JC STAFF

        Gosick by BONES STUDIO

উল্লেখ করা দরকার যে এগুলো আমি নিজে দেখেছি, এসব ছাড়াও আরও কত এই টাইপের আনিমে আছে কে জানে। এই আনিমেগুলোর কোনটাই আর দশটা গড় মানের আনিমে থেকে ভাল নয় এবং দর্শকদের জন্য নতুন কিছু নিয়ে আসতে পারেনি। এ ধরনের একেকটা আনিমে বের হয়, হইরই হয়, এবং যথারীতি কয়েক মাস পর ফ্যানদের হইচই স্তিমিত হয়ে আসে। তারপর আবার অন্য কোন প্রোডাকশন স্টুডিও আরেকটা আনিমে বের করে, এভাবেই চলতে থাকে এই অশুভ চক্র। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যে স্টুডিওগুলো একত্র হয়ে বাজি ধরেছে কে কত নিকৃষ্ট ললি গোয়েন্দা আনিমে তৈরি করতে পারে। এবং সেই বাজির খেলায় সর্বশেষ সংযোজন কিওটো এনিমেশন (Kyoto Animation) এবং তাদের Hyouka। এবার দেখা যাক খেলায় তারা জেতে নাকি হারে।

 Hyouka_1

প্রথমত, যদি আপনি K-ON প্রসূত MOE স্টাইলের ফ্যান হয়ে থাকেন তবে এই আনিমে আপনার পছন্দ হবে। আনিমেটির বাজেট আকাশ ছোঁওয়া এবং দেখতেও অত্যন্ত ডিটেইল্ড, জীবন্ত, পরিষ্কার এবং কাওয়াই দেসু~। ভয়েস অ্যাক্টিং আর মিউজিকও তাদের কাজ সফল ভাবে করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আপনি যদি নতুন কিছু চান তবে তা এখানে খুজে পাবেন না। হাইস্কুল MOE জিনিষটার শুরু হারুহি সুজুমিয়ার দ্বারা। আর খামখেয়ালি MOE এর উদ্ভব K-ON থেকে। এবং এই দুটোর মিশ্রণ হল Hyouka। Hyouka-র সেই একই স্কুল গ্রাউন্ড আর MOE স্টাইল আর্টওয়ার্ক যেটা ২০০৬ সালে হারুহি সুজুমিয়া থেকে শুরু করে গত প্রায় এক দশক ধরে বহু আনিমেতে আমরা দেখে আসছি, তাই আমার মাঝে মাঝে মনে হয়েছে এই আনিমেগুলোর কোন একটাতে না আবার হারুহি এসে হাজির হয়। যেহেতু আর্ট তো আছেই, এমনকি দৃশ্যপটগুলোও হুবহু প্রায় একরকম, তো কেন নয়? এবং অবশ্যই আমি বলছিনা যে এই স্টাইল কুৎসিত কিংবা বিরক্তিকর; একই স্টুডিও KyoAni-র অন্যান্য টাইটেলগুলোর সাথে Hyouka-র এত মিল যে মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আগের আনিমেগুলোকেই ঘসে-মেজে আবার দেখাচ্ছে, এই আর কি। তাই KyoAni-র এবার প্রয়োজন নতুন ধাঁচের কিছু করা।

তবে লাখ টাকার হাতি কিনা। বিক্রি করবে কে।

আনিমেটির কাহিনী হচ্ছে চার কাওয়াই টিনএজার, তাদের দৈনিক জীবন ও কিছু “নেই কাজ তো খই ভাজ” জাতিও রহস্য ঘিরে যেগুলো নিয়ে কোন স্বাভাবিক ব্যক্তি ২ মিনিটের বেশী ভাববে না। রহস্যগুলো কেমন তা এক কথায় বর্ণনা করতে গেলে বলতে হয় সেগুলো অনেকটা এরকম, “Why did the chicken cross the road?” এবং সমাধান হল “Because it saw a worm on the other side”।

তো সর্বকালের সবেচেয়ে বোরিং রহস্যগল্প অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী… Hyouka!!

 Hyouka_3

আর বাকি নন-মিস্টরি সময়টায় এর চরিত্রসমূহ আর তাদের পারসোনালিটি সম্পর্কে আমাদের জানার সুযোগ হয়। আনিমেটির মূল চরিত্র ওরেকির কাছে সবকিছু একঘেয়ে মনে হয় তবুও নতুন কিছু করতে সে আগ্রহী নয়। জীবন সম্পর্কে সে উদাসীন ও অলস। হঠাৎই এক কিউট মেয়ে চিতান্দার উদয় হয় এবং তাকে ক্লাব কর্মকাণ্ডে যোগদান আর নানারকম রহস্য সমাধান করতে উৎসাহিত করতে চেষ্টা করে। যদিও ওরেকি তাকে সবসময় এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে কিন্তু চিতান্দা তার “কেন মুরগী রাস্তা পাড় হয়” জাতিও রহস্য দ্রুততার সাথে সমাধান করবার অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা দেখে যারপরনাই মুগ্ধ। বিধায় ওরেকি কে চিতান্দা সর্বদা জ্বালাতন করে।

আপনি কি একজন অ্যান্টি-সোসিয়াল, যার জীবন সুখী কিন্তু একঘেয়ে? আপনি কি মনে করেন আপনি খুবই ক্যারিশম্যাটিক এবং বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের উচিত আপনার প্রতি আরও আগ্রহী হওয়া, যদিও আপনি ভাব ধরে রাখেন যে আপনি কারও ব্যাপারে কেয়ার করেন না এবং অন্য সবাই এ কারণে আপনাকে নিয়ে পরিশ্রান্ত? তাহলে Hyouka আপনার জন্যই! টা-ডা!

জী না। ওটা কোনও কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন ছিল না।

 Hyouka_4

আমি বলবোনা যে পুরো জিনিষটাই আমার অপছন্দ হয়েছে, যেহেতু আনিমেটি শুধুই কমেডি আর গল্পহীন কিউটনেস নয়। প্রত্যেকটা পর্বেই কাহিনীর খানিকটা হলেও অগ্রগতি হয় এবং চরিত্রদের সম্পর্কেও কিছুটা জানা যায়। ব্যাপারটা হল, অগ্রগতিটা বেশ অপ্রতুল এবং যতটুকু হয় তার বেশীর ভাগই খামখেয়ালী আর MOE-MOE। যখনি চিতান্দা তার উজ্জ্বল চোখ জোড়া নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকাবে আপনার মন চাইবে তাকে জড়িয়ে ধরতে। এই অনুভূতি থেকে রক্ষা পাবার কোন উপায় নেই। তাই এই আনিমেটা দেখতে হলে একটা নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেল থেকে এগোনো গুরুত্বপূর্ণ; একদল MOE চরিত্র টানটান উত্তেজনাময় রহস্যের সমাধান করছে এই হিসেবে নয়, বরঞ্চ খাঁজুরে সব রহস্যগল্প আর কিছু কিউট খেয়ালী চরিত্র নিয়ে একটা MOE আনিমে হিসেবে দেখতে হবে।

প্লট তেমন একটা নেই আগেই বলেছি, এন্ডিংটাও নিরেট হয়েছে বলে আমার মনে হয়নি। আবার প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব আর পটভূমি তিন লাইনে বর্ণনা করে দেয়া সম্ভব। তো Hyouka হল সেই আনিমেগুলোর মতো, যেগুলো আয়েশ করে বসে দেখা যায়, দেখতে দেখতে মাথায় নানারকম উদ্ভট চিন্তা খেলে যায়না এবং দু’ মিনিট পরপর চিতান্দা-র নানান কাওয়াই মুখভঙ্গি দেখে মোহাবিষ্ট হয়ে ওঠা যায়। আর অন্যসব ললি গোয়েন্দা আনিমে থেকে এ কারণেই Hyouka শতগুণে উত্তম। এখানে কোন ম্যাজিকাল কিংবা টেকনোলজিক্যাল নন্সেন্স নেই, অথবা কেউ কোন মার্ডার রহস্য ১০ মিনিটে সমাধান করে বসে থাকে না। রহস্য যা আছে তা আসলে চরিত্রগুলোকে কিছু একটা করতে দেবার জন্য হালকা একটা অজুহাত মাত্র, ফলে তারা যাতে স্কুলে লেখাপড়া করা ও একঘেয়ে জীবন থেকে রক্ষা পাওয়ার একটা সুযোগ ও লক্ষ্য পায়। তবে সেটাও Hyouka খুবই সুক্ষ ও সুন্দর ভাবে করেছে। তাই কোন NEET ললি গোয়েন্দা গোপন ক্যামেরা দিয়ে লোকের উপর গুপ্তচরগিরি করে বেড়াচ্ছে কিংবা কোন ছেলে মেয়ে সেজে  অভিযুক্ত আসামীকে ব্রেইনওয়াশ করে তার মুখ থেকে স্বীকারোক্তি বের করছে এই ধরণের আবর্জনা থেকে Hyouka হাজারোগুনে ভাল নয় কি? আর হ্যাঁ, ওই দুই ধরণের আনিমে দেখবার দুর্ভাগ্য আমার আসলেই হয়েছে।

Hyouka_5

তো KyoAni সবচেয়ে বাজে ললি গোয়েন্দা আনিমে তৈরির প্রতিযোগিতায় শেষ স্থান লাভ করেছে। দ্যাটস রাইট, এই SUBGENRE এর অন্যসব আনিমে থেকে Hyouka তার মূল কনসেপ্ট সঠিক ভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে, সুতরাং সব কিছু লেজগোবরে না করে ফেলবার জন্য Hyouka পাশ মার্ক পেয়ে যাবে। তবে যেহেতু রহস্যগল্প হিসেবে আনিমেটায় সত্যিকারের উত্তেজনা, বিপদ কিংবা কোন বৃহৎ লক্ষ্য নেই তাই লেজগোবরে করে ফেলবারও আসলে কোন সুযোগ নেই। এটাই MOE-র অসম শক্তি, MOE কখনই ভুল হতে পারেনা। শুধু মাত্র অত্যন্ত একঘেয়ে, যা মিলিওন মিলিওন মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। প্রতিটি দিন নানান এক্সাম, বোরিং ক্লাস, ক্লাসের মস্তান টাইপ ছেলে, ডিমান্ডিং টিচার, বসের ঝাড়ি, কাজের চাপ আর ফেরার সময় রাস্তার হইহুল্লোর ইত্যাদি সামলে বাসায় এসে কম্পিউটারের সামনে আয়েশি ভঙ্গিতে বসে কেন মুরগীটা রাস্তা পাড় হল এই চিন্তা করা ছাড়া আর তেমন মাথা খাটাতে হয়না এমন একটা রিলাক্সিং আনিমে দেখতে নেহাতই মন্দ লাগেনা। আর হ্যা, যতবার চিতান্দা স্ক্রিনের দিকে চেয়ে মুচকি হাসবে ততবার গলে পানি হয়ে যাবার কথা বাদ দিব কেন।

যদি আপনি কোন টানটান উত্তেজনাপূর্ণ আনিমে দেখতে চান যেটা দেখতে দেখতে আপনার মাথায় শত রকমের চিন্তা খেলে যাবে তাহলে Hyouka থেকে দূরে থাকুন। তবে Slice of Life ফ্যানদের জন্য আনিমেটি উপভোগ্য হবে।

Hyouka_6

আমি চিতান্দাকে অত্যন্ত পছন্দ করি, তাই নিম্নের রেটিং দেখে আপনার যদি মনে হয় আমি অবিচার করছি, দেন কুল স্টোরি ব্রো, আই এম জাস্ট বিইং ফেয়ার অ্যান্ড স্কয়ার।

  • ART SECTION: 9/10

General Artwork 2/2 (well made, looks awesome)

Character Figures 1/2 (generic but ok)

Backgrounds 2/2 (basic but fitting with the feeling of the series)

Animation 2/2 (very smooth)

Visual Effects 2/2 (nice cinematic)

  • SOUND SECTION: 9/10

Voice Acting 3/3 (fitting perfectly with the feeling of the series)

Music Themes 3/4 (not great but fitting with the feeling of the series)

Sound Effects 3/3 (not great but good, fine support in cinematic)

  • STORY SECTION: 2/10

Premise 0/2 (boring as fuck)

Pacing 1/2 (slow as shit)

Complexity 1/2 (what?)

Plausibility 0/2 (who?)

Conclusion/Ending 0/2 (where?)

  • CHARACTER SECTION: 6/10

Presence 2/2 (super cute)

Personality 2/2 (cheesy but well founded)

Backdrop 1/2 (generic and simplistic but it’s there)

Development 1/2 (subtle but it’s there)

Catharsis 0/2 (doesn’t exist)

  • VALUE SECTION: 3/10

Historical Value 0/3 (none)

Rewatchability 1/3 (low because of too little plot)

Memorability 2/4 (a well made slice of life show but nothing worthy to remember it past that)

  • ENJOYMENT SECTION: 4/10

Art 1/1 (looks great)

Sound 1/2 (sounds ok)

Story 0/3 (what story?)

Characters 2/4 (sweet but that is all)

  • TOTAL: 6/10 [DECENT]