যা কিছু পছন্দের…….. এনিমেশন! লেখক ব্লগার স্বাধীনতার বার্তা

আমার পছন্দের তালিকাতে সবসময় এনিমেশন এর প্রাধান্য থাকে। আজ আপনাদের সাথে আমার পছন্দের এনিমেশনগুলো শেয়ার করব। এক্ষেত্রে আমি কিছু ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিয়েছি (আমার নিজস্ব মত অনুসারে)।
তো আসুন আমার বোরিং পছন্দের দুনিয়া থেকে ঘুরে আসি।

Action/Thrillar: Darker Than Black

Darker Than Black

কোন সন্দেহ ছাড়াই আমি বলতে পারি এটা আমার দেখা অন্যতম সেরা এনিমেশনগুলোর একটি। এটা দেখেছি স্যাটেলাইট চ্যানেল Animax এ। প্রথমে কমার্শিয়ালটা দেখে খুব একটা পছন্দ হয়নি। “ওই এক্স মেন এর মত অনেক সুপার পাওয়ার ওলা মানুষদের নিয়ে একটা এনিমে।” তাই ভেবেছিলাম। কিন্তু এইসব সুপার পাওয়ার নিয়ে জাপানীজদের কাহিনীটা যে এত মানবিক হবে তা কল্পনা করি নি। সুপার হিরো ক্যাটাগরিতে আমেরিকানরা একই গৎবাঁধা কাহিনী সারাজীবন দেখাচ্ছে। সে জায়গায় এটা খুবই উঁচু মানের। প্রথম ২টা পর্ব দেখে বাকি সবগুলো গিলেছি এক এর পর এক।

এটার ডাউনলোড লিঙ্ক Click This Link

Action/Science Fatasy: Fullmetal Alchemist

FMA

পাওলো কয়েলহোর এলকেমিস্ট এর নাম শুনেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। কিন্তু না। এটা পাওলো কোয়েলহোর এলকেমিস্ট এর এডাপ্টেশন নয়। এটা জাপানীজ Manga Artist Hiromu Arakawa এর গ্রাফিক নোভেল এর এডাপ্টেশন। Dragon Ball Z এর পর মনে হয় এই এনিমেটাই একই সাথে টিভি ও ডিভিডি সেল এ সারা দুনিয়াতে অসাধারন সাফল্য পায়। অসাধারন কাহিনী, অসাধারন স্টোরিটেলিং, এবং একই সাথে অসাধারন ক্যারাক্টার ডিজাইনিং। পুরো কাহিনীটা দুভাই Edward Elric ও Alphonse Elric এবং কিছুটা তাদের ছোটবেলার বন্ধু Winry Rockbell এর জীবনের ট্র্যাজেডি হলেও এতে আছে তীব্র যুদ্ধবিরোধী চেতনা। যারা এনিমেশনকে শুধু ছোটদের বলে মনে করেন তারা এটা চেখে দেখতে পারেন। গ্যারান্টি দিতে পারি পস্তাবেন না। আর এর মুভিটাও যথেষ্ঠ ভালো।

Comedy/Slice of Life: Phineas and Ferb

Phineas and Ferb

অনেকে হয়ত এটা দেখে হাসতে শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু এটা আমার দেখা সবচেয়ে হাসির কার্টুন, এবং পুরো কার্টুনটাই ডায়ালগনির্ভর। এনিমেশন স্টাইলটা দেখে ভেবেছিলাম এটা দেখবো না। পিচ্চিদের জিনিশ। কিন্তু একদিন আমার এক ছোট কাজিন এর সাথে একটা পর্ব দেখে ফেললাম। আর এর পর থেকে প্রায় সবগুলোই দেখেছি। Disney Channel এ দেখায়। কাহিনীটা অবশ্যই চাইল্ডিশ, সহজ, আর অবশ্যি অনেক মজার।

Epic: Avatar – The Last Airbender

Avatar

সারা পৃথিবীতে এপিক ক্যটাগরিতে এর চেয়ে ভালো কোন এনিমেশন নেই বলেই বিশ্বাস করি। পৃথিবীর প্রতিটি কোনায় এনিমেশনপ্রেমীদের কাছে এটা একটা রোল মডেল। ১৬টি এওয়ার্ড নমিনেশনের মধ্যে ১৪টিই জিতে নেয় এই এনিমেশনটি। এর মধ্যে ৭টি সম্মানজনক এনি এওয়ার্ড। আমার পছন্দের স্টুডিও এর কথা বলা হলে, আমি আগে Nickelodeon এর নাম মাথায়ই আসতো না। কিন্তু এখন Nickelodeon অবশ্যই প্রথম সারিতে থাকে। ১০০ বছরের রিএনিমেশন প্রসেস থেকে উঠে আসা বালক Aang, তথা এভাটার দেখে যে তার অনুপস্থিতিতে সমস্ত পৃথিবীর শক্তি ভারসাম্য উলট পালট হয়ে গেছে। ফায়ার লর্ড প্রায় সমস্ত পৃথিবী দখল করে নিয়েছে। এখন Aang ই পারবে এই পৃথিবীকে ফায়ার লর্ড এর হাত থেকে মুক্ত করতে। কিন্তু এর আগে তার চারটি উপাদান এর বেন্ডিং মাস্টার হতে হবে। ফলে সে তার জন্য শিক্ষক খোঁজার অভিযানে নেমে পড়ে। আর এই অভিযানে তার সঙ্গী হয় ওয়াটার ট্রাইব এর বালিকা Katara ও তার ভাই Sokka। ধীরে ধিরে এই দলে যোগ হয় আর্থ কিংডম এর Toph ও ফায়ার নেশন এর প্রিন্স Zuko। শিক্ষক খোঁজার এই অভিযানটি শেষে রূপ নেয় এক অবশ্যম্ভাবী মহাযুদ্ধে।

Mecha/Comedy Science Fiction: Megas XLR

Megas xlr

এই ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে মজার এনিমেশন হল Megas XLR। ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে এক এলিয়েন রেস পৃথিবীতে হামলা করে। পৃথিবীকে দখল করাই তাদের লক্ষ্য। আর মানবজাতি তাদের সর্বোচ্চ টেকনোলজি দিয়ে তৈরি করে একটা Meche Prototype। এই প্রোটোটাইপটির নামই Megas। একটি দুর্ঘটনার ফলে প্রোটোটাইপের টাইম ড্রাইভ এর মাধ্যমে তা চলে আসে ১৯৩৬সালের পৃথিবীতে। এটার জায়গা হয় একটি জাঙ্কইয়ার্ডে। ২০০৪সালে জাঙ্কইয়ার্ডথেকে টো টো কোম্পানীর ম্যনেজার Coop মাত্র ২ডলারে কিনে নেয় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র। আর এরপর একটির পর একটি হাসির ঘটনা ঘটতে থেকে।

Romantic Comedy : Love Hina

Love Hina

এই ক্যাটাগরির খুব বেশি কিছু আমার দেখা হয়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩টা দেখেছি। তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে।

Science Fiction: Jyu-Oh-Sei (English Title: Planet of The Beast King)

Jyu-Oh-Sei

দুই জময ভাই Thor ও Rai এর বাবা-মাকে হত্যা করা হয় ও তাদেরকে এস্কেপ ক্যাপস্যুল এ করে স্পেস কলোনী জুনো থেকে মহাশুন্যে ছুড়ে মারা হয়। কাইমেরা নামক প্রিজন প্ল্যানেটএ ক্যাপস্যুলটি অবতরন করে। অসহায় দুই ভাইকে এখানে একই সাথে মানুষ ও প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বাঁচতে হবে। কিন্তু অতিদ্রুত Rai এর মৃত্যু হয়। আর Thor প্রতিজ্ঞা করে সে এই গ্রহ থেকে বের হয়ে যাবে, তার পরিবারের মৃত্যুর কারন বের করবে। আর এজন্য তাকে হতে হবে বিস্ট কিং, প্ল্যানেট এর রাজা। তাই ধীরে ধীরে সে গ্রহটির অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। আর সবশেষে যখন সে বিস্ট কিং হয় তখন তার মনে হয় সে বিস্ট কিং না হলেই ভালো ছিল।

Detroit Metal City by Shaikh Mohammad Habib

সোয়িচি নেগিশি যার স্বপ্ন একজন পপ গায়ক হওয়া,সে ঘটনাচক্রে হয়ে যায় ডেথ মেটাল ব্যান্ড “Detroit Metal City” এর লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল। যেখানে সে Johannes Krauser II নামে এক অল্টার ইগো তৈরি করে। এই Johannes Krauser II সম্পর্কে নানা গুজব রটে যায়, যার বর্ণনা দেয়ার কিছু খুজে পাচ্ছিনা -_- , তাই উইকি থেকেই কিছু অংশ তুলে দিলাম – “rumored to be a terrorist demon from hell, to have killed his parents, to wield his giant death penis with abandon, and other menacing tales being said about him after each public performance.” অনেক কমেডি জেনারের অ্যানিমে দেখেছি, কিন্তু এই অ্যানিমের মত এত মজা কোথাও পাই নাই। মাত্র ১২টা এপিসোড, তার ওপর প্রত্যেকটা এপিসোড ১৩ মিনিট করে 🙁 , এই সিরিজ নিয়ে একটা লাইভ অ্যাকশন মুভিও আছে। যারা এখনো দেখননি তাদের জন্য আমার রিকমেন্ডেশন থাকবে এই সিরিজটা দেখার। আর আরেকটা বিষয়, ডেথ মেটাল ব্যান্ড নিয়ে করা এই সিরিজের প্রত্যেকটা গানই আমার কাছে খুব ফাটাফাটি মনে হয়েছে। আর গানের সাথে থাকে নেগিশি/Johannes Krauser II এর স্টেজ পারফর্মেন্স 😉

DMC

Azumanga Daioh! – হাইস্কুল কমেডি — লেখক ব্লগার স্বাধীনতার বার্তা

 

AMD 1

এনিমে নিয়ে লেখার ইচ্ছা ছিল অনেক দিন থেকেই। কিন্তু লেখি লেখি করে হচ্ছিল না। আজকে লেখতে বসে পড়লাম। দেখা যাক।
যে এনিমেটা নিয়ে লেখার ইচ্ছা সেটার নাম Azumanga Daioh, কথাটির ইংরেজী অনুবাদ দাঁড়ায় Great King Aumanga. এনিমেটা এডাপ্ট করা হয়েছে একই নামের জাপানীজ কমিক বুক থেকে। কমিক বুক এর রাইটার Kiyohiko Azuma (কিওহিকো আজুমা)।

নামকরন
নামকরন কীভাবে হল সেটা একটু বলে নেয়া যাক। রাইটার এর নামের Azuma আর জাপানিজ কমিক বুক এর জেনেরিক নাম Mangaকে একত্র করে লেখক নিজেই কয়েন করেন Azumanga শব্দটি। আর Daioh নেয়া হয়েছে যে ম্যাগাজিনে এই মাঙ্গাটা সর্বপ্রথম সিরিয়ালাইজ করা হয় সেটা থেকে। ম্যাগাজিনটার নাম Dengeki Daioh। আর এনিমে এর একপর্বে গ্রেট কিং বুঝাতে Daioh শব্দটি ব্যাবহার করা হয়েছে। সেখান থেকে এই শব্দটির ইংরেজী অনুবাদ করা হয়েছে গ্রেট কিং। Azumanga Daioh এই আর্টিস্ট এর সবচেয়ে বিখ্যাত মাঙ্গা। এবং এই মাঙ্গা থেকেই এই লেখকের যেকোন মাঙ্গাকে Azumanga বলা হয়। আর যখন Azumanga Daioh উচ্চারন করা হয় তখন এই মাঙ্গাটিকে বুঝানো হয়। যাই হোক, আমার আসল টপিক হল এনিমেটা। সেটাতে ফেরত যাচ্ছি।

কাহিনী সংক্ষেপ
কাহিণী গড়ে উঠেছে কয়েকজন হাইস্কুল পড়ুয়া মেয়ে ও তাদের টিচারদের নিয়ে। শুরু হয় এভাবে, টিচার ইউকারি টার্মের প্রথমদিন ক্লাস নিতে যাওয়ার সময় লেট হয়ে যাচ্ছেন। এমন সময় তার সাইকেল এর চেইন পড়ে যায়। অন্যদিক এ আরেক স্টুডেন্ট তাকে দেখে ভাবে, সে যদি টিচার এর সাথে লেট করে তাহলে তার কোন সমস্যা হবে না। তাই টিচার কে চেইন ঠিক করে দেয়ার জন্য এগিয়ে আসে। সে যখন সাইকেল এর চেইন ঠিক করছিল, ততক্ষনে ইউকারি স্টুডেন্টের সাইকেল নিয়ে স্কুলের দিক এ রওনা হয়ে গিয়েছে।
এরকমই ছোট ছোট ক্লিপ দিয়ে গড়ে উঠেছে ২৪পর্বের এ কমেডি সিরিজটি। প্রতিটি ক্লিপের দৈর্ঘ্য ৫-৭ মিনিট। একটি পর্বে ৩-৫টি ক্লিপ থাকে। আচ্ছা এখন ক্যারেক্টারগুলোর বর্ননা দেয়া যাক কিছু। সেখানে কিছু ঘটনা যোগ করলে স্টোরি সম্পর্কে আরো জানা হবেঃ

Chiyo Mihama (চিও মিহামা)

AMD 2

একজন চাইল্ড প্রডিজি। যে ৫ম গ্রেড থেকে সরাসরি ১০ম গ্রেড এ প্রমোশন পায়। সব কাজেই তার সমান ইফিশিয়েন্ট আর কেউ নেই। ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী হিসেবে দ্রুতই ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে মনোনীত হয়। এক ক্লাসে সে স্যারের হোমওয়ার্ক না করায় সে প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায়, তখন সে লখ্য করে ক্লাসের অন্য কেুও হোমওয়ার্ক করেনি কিন্তু কারো কোন চিন্তা নেই  ; অন্যদিকে সে চিন্তায় অস্থির।

Tomo Takino (টোমো টাকিনো)

AMD 3

ক্লাসের হাইপারএক্টিভ আর এনার্জেটিক ক্যারেক্টার। পড়া ফাঁকি, ক্লাস ফাঁকি সবই তার মাধ্যমে হয়; যদিও সে স্বপ্ন দেখে যে সে চিও কে টপকিয়ে ফার্স্ট হবে আর সাকাকির (এর সম্পর্কে পড়ে আসা হবে) চেয়ে ভালো এথল্যাট হবে। তার সম্পর্কে একটা ঘটনা না বললেই নয়। একবার মিডটার্ম এক্সাম এর আগে সে কিছুই পড়েনি। পরীক্ষার দুইদিন আগে যখন দেখল পাহাড় পরিমাণ পড়া জমে গিয়েছে, তখন সে “Tomo’s picks for exam” নাম দিয়ে বই এর যেগুলো ইম্পর্ট্যান্ট মনে হয় সেগুলো দাগিয়ে রাখল এবং পরীক্ষার আগের দিন তার কোন চিন্তা নাই বলে পুরো ক্লাসে চিল্লিয়ে তার পিকস থেকে একটা কোয়েশ্চেন বলল যেটা কালকে অবশ্যই আসবে। এরপর কি হল সেটা আর বলব না।

Koyomi “Yomi” Mizuhara (কোয়োমি “ইয়োমি” মিজুহারা)

AMD 4

পড়াশোনা নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস এক ক্যার‍্যাক্টার। টোমো এর ছোটবেলার বন্ধু। কিন্তু দুইজনের ক্যারাক্টারিস্টিকস পুরাই আলাদা। সে চিন্তা করে পায় না, কীভাবে টোম তার সাথে একই হাইস্কুল এ চান্স পেল (জাপানে সম্ভবত হাইস্কুল ভর্তি পরীক্ষা আছে)। আবার এটা নিয়ে টোমো খুবই গর্ব করে। পুরো এনিমে জুড়ে টোমোকে নানা ধরনের উপদেশ দেয়াই ছিল এর প্রধান কাজ।

Sakaki (সাকাকি)

AMD 5

উচ্চতায় ক্লাসের সবচেয়ে বড়, তাই এথল্যাট হিসেবে স্কুলে খুব সুনাম। বিড়াল, স্টাফড এনিমেল খুব পছন্দ করে, কিন্তু তার মত কোন মেয়েকে এসব পছন্দ করতে দেখেনি, তাই সবসময়ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে। ক্লাসে সবসময়ই কম কথা বলে। আর রাস্তার বিড়ালটাকে আদর করতে গেলেই বিড়াল্টি তার হাতে কামড় দেয়, তাই অনেকেই মনে করে সে কোন এক জায়গা থেকে মারামারি করে এসেছে।

Ayumu “Osaka” Kasuga (আইয়ুমু “ওসাকা” কাসুগা)

AMD 6

বলা হয়ে থাকে ক্লাসের সবচেয়ে ডাম্ব ক্যার‍্যাক্টার। ক্লাস করতে করতে ঘুমিয়া পড়া তার নিত্যদিনের স্বভাব। সবাই বলে সে “স্পেসি”-বা যে নিজের মধ্যে ডুবে যায়। কিন্তু ধাঁধা সমাধান করতে সবচেয়ে ফাস্ট। এবং অনেক উদ্ভট চিন্তা করতে তার জুড়ি নেই। এই এনিমেতে আমার ফেবারিট ক্যারাক্টার। এর নাম শুধু আইয়ুমু কাসুগা। কিন্তু ওসাকা থেকে মাইগ্রেটেড বলে ক্লাসের সবাই তাকে ওসাকা ডাকে। সে ক্লাসে যুক্ত হয় চিও এর কয়েকদিন পরে। আর সে আসার পরেই চিও স্পোর্টস এ শেষ এর দিক থেকে দ্বিতীয় হওয়া শুরু করল।
এর সম্পর্কে একটি ঘটনা বলা যায়, তার অনেক দিনের শখ যে সে ফ্রাইং প্যান এ চামচ দিয়ে বাড়ি দিয়ে সবাইকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলবে, কিন্তু সে সবার শেষে ঘুম থেকে উঠে বলে তার এ শখটা কখনো পূরণ হয় না। একদিন, এক ট্রিপে যাওয়ার পর সে দেখতে পায়, সে জাগার পরও তাদের টিচার ইউকারি এখনো ঘুমে। তখনই সে তার শখটা পূরণ করার জন্য রান্নাঘরে যায়। কিন্তু ঘুমের ঘোরে ফ্রাইং প্যান এর বদলে একটা ছুড়ি নিয়ে আসে। এরপরের ঘটনা আর বললাম না।

Kagura (কাগুরা)

AMD 7

কাগুরা এই গ্রুপের সাথে যুক্ত হয় দ্বিতীয়বর্ষে। সে সুইমিং ক্লাব এর সদস্য। আর দ্বিতীয় বর্ষে স্কুল স্পোর্টস ফেস্টিভাল জেতার স্ট্র্যাটেজি হিসাবে ইউকারি তাকে তার ক্লাসে নিয়ে আসে। ক্যার‍্যাক্টারিস্টিকস এর দিক দিয়ে সে টোমো এর মত কিছুটা। টোমো, ওসাকা আর কাগুরা এই তিনজনকে ক্লাসে একসাথে ডাকা হয় “দ্যা নাকলহেডস”।

Kaorin (কাওরিন)

AMD 8

সাকাকিকে অত্যন্ত পছন্দ করে। এস্ট্রোনমি ক্লাবের সদস্য বলে সে কোন ছুটিতেই গ্রুপের সাথে বেড়াতে বের হতে পারে না। এজন্য তার দুঃখের অন্ত নেই। এনিমেতে যে কয়েকটি সিনে উচ্চস্বরে হেসে উঠবেন, তার অনেকগুলোতেই কাওরিন এর উপস্থিতি আছে।

এবার আসা যাক শিক্ষকদের কথায়। তিনজনকে নিয়মিত দেখা যায়ঃ
Yukari Tanizaki (ইউকারি তানিজাকি)

AMD 9

যে ক্লাস নিয়ে আমাদের কাহিনী সেই ক্লাসের ক্লাস টিচার, স্কুলের ইংরেজী টিচার হট হেডেড। কালচারাল ফেস্টিভাল এর সময় যখন শুধু হন্টেড হাউজ বা ক্যাফে এর কথা এসেছিল তখন সে স্টুডেন্টদের তিরস্কার করে যে, তাদের মাথায় কোন ক্রিয়েটিভ আইডিয়া নেই। কিন্তু একটু পরেই সে যখন দেখে যে নিজেও আইডিয়া দিতে পারছে না তখন বলে উঠে, হন্টেড হাউজ আর ক্যাফে খুবই সুন্দর আইডিয়া। কথায় কথায় বাজি ধরা তার স্বভাব, আর হেরে গেলে তাকে পাওয়াই যায় না।

Minamo “Nyamo” Kurosawa (মিনামো “নিয়ামো” কুরোসাওয়া)

AMD 10

মিনামো কুরোসাওয়া আর ইউকারি একই স্কুল থেকে বের হয়েছে। কিন্তু মিনামো P.E. টিচার আর এই কারনে ইংরেজি টিচার ইউকারি এর ভাব এর কমতি থাকে না। অন্যদিকে মিনামো এর দুঃখ হল তার কোন বয়ফ্রেন্ড নেই।

Mr. Kimura (মিস্টার কিমুরা)

AMD 11

এটা এনিমে এর একমাত্র নিয়মিত পুরুষ ক্যার‍্যাক্টার, আর এ হল পরিমল। ক্লাসিক্যাল জাপানীজ পড়ান। কিন্তু এনিমেতে এর উপস্থিতি থাকে সেমি-পার্ভার্টেড ডায়ালগ দিতে। যদিও বাসায় একজন বউ আছে, সে কাওরিন এর প্রেমে পাগল, এবং দ্বিতীয় বর্ষে সে কাওরিনকে নিজের ক্লাসে নিয়ে নেয়। আর কাওরিন এর কাছে এই লোক একটা জমের নাম।

এই তো গেল ক্যার‍্যাক্টারগুলোর কথা।
এই সিরিজটার ক্ষেত্রে যেটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটা হল, সিরিজটা শেষ করার এক/দুই পর আমার নিজের হাইস্কুল/কলেজ লাইফের এর কথা অনেক মনে পড়ে গিয়েছে। যদিও সিরিজটা দেখার সময় সেটা কখনই মনে হয় নি।

সিরিজটার কিছু ভিডিও এখানে যোগ করে দিলাম।

এটার ডাউনলোড লিঙ্ক দিলাম। টরেন্ট। :)
Torrent

Baccano! – জাপানিজ এনিমে এর পাল্প ফিকশন —- লেখক ব্লগার স্বাধীনতার বার্তা

মূল লেখা http://www.somewhereinblog.net/blog/Hyperactive/29653634

Baccano
এনিমে সিরিজ নিয়ে কিছু পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা ছিল বেশ কয়েক মাস ধরে। কয়েক মাস আগে একটা দিয়েছিলাম। আজকে আরেকটা নিয়ে হাজির হলাম। দেখা যাক কেমন হয়।
যে এনিমেটা নিয়ে লেখা ইচ্ছা তার নাম Baccano! এটি মূলত সেম নামের একটা লাইট নভেল সিরিজ এর এডাপ্টেশন। এখানে লাইট নভেল নিয়ে কিছু বলা প্রয়োজন। এটার বাংলাদেশ কাউন্টারপার্ট এর সাথে তুলনা করলে বলা যায় সেবা প্রকাশনীর বইগুলোর মত যা তরুন বা কিশোর/কিশরীদের দিকে লক্ষ্য রেখে বাজারে ছাড়া হয়। কিন্তু সেবার বই গুলো ভাবানুবাদ হলেও জাপানিজ লাইট নভেল তাদের অনন্যতার জন্য বিখ্যাত আর সাইজ ২০০ পৃষ্ঠা এর আশেপাশে বা বেশি হয়। এমনকি অনেক নতুন নতুন আইডিয়া লাইট নভেল রাইটার দের কাছ থেকে বের হয় বলে শোনা যায়।
Baccano! এর রাইটার এর নাম Ryohgo Narita। সারাজীবনে ৫টা সিরিজ লিখছেন। সেগুলো হল Baccano!, Vamp!, Durarara!!, Ersusa Ohashi, Hariyama-san. এর মধ্যে Baccano! আর Durarara!! জাপানে বেস্টসেলার। ইউএস এও মার্কেটেড হয়েছে।

নামকরন

Baccano একটি ইটালিয়ান শব্দ। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Silly Commotion বা Stupid Commotion। বাংলায় আক্ষরিক অনুবাদ করলে হবে হালকা ঝামেলা। তবে সম্ভবত উটকো ঝামেলা বললে ভাল শোনায়।

এনিমে এডাপ্টেশন

একচুয়াল লাইট নভেল চলেছে ২০০৩ সাল থেকে। সিরিজটি এখনো চলছে জাপানে। এর মধ্যে কয়েকটা বই এর এডাপ্টেশন হল এনিমে সিরিজটি। যে বইগুলো থেকে এটার কাহিনী নেয়া হয়েছে সেগুলো নিচে দিয়ে দিলামঃ

#১। 1930 The Rolling Bootlegs
#২। 1931 Local Chapter The Grand Punk Railroad
#৩। 1931 Express Chapter The Grand Punk Railroad
#৪। 1932 Drug & The Dominos

এখান থেকে মোট ১৬পর্বের একটা ছোট সিরিজ তৈরি করা হয়েছে।
বাকি ১৩টা বই এখনো আন এডাপ্টেড অবস্থায় পড়ে আছে। যারা অলরেডি দেখে ফেলেছেন তাদের জিভে নিশ্চয় জল আসছে। যদি বাকিগুলো এডাপ্টেড হত!

কাহিনী সংক্ষেপ

সাল অনুসারেই কাহিনিগুলো বর্ননা করি।

১৭১১

এখানে দেখা যায় Advenna Avis নামক এক জাহাজে একদল এলকেমিস্ট শয়তান কে পৃথিবীতে নামিয়ে নিয়ে আসে। তাদের সবারই অমরত্ম লাভ করার ইচ্ছা। শয়তান তাদেরকে দেয় গ্র্যান্ড প্যানাসিয়া বা এলিক্সার অব ইমর্টালিটি। ফলে সবাই ইমর্টাল হয়ে যায়। আর যে এলকেমিস্ট এর মাধ্যমে শয়তান নেমে আসে সেই Maiza কে বানানোর প্রক্রিয়া জানিয়ে দেয় এবং আকজন ইমর্টালকে শুধু আরেকজন ইমর্টালই মারতে পারবে। Maiza ঠিক করে, কাউকেই বলবে না কীভাবে এটা বানানো সম্ভব। অন্যদিকে আরেক ইমর্টাল এলকেমিস্ট Szilard Quates এই এলিক্সার বানানোর প্রক্রিয়া জানতে মরিয়া হয়ে উঠে।

১৯৩০

নিউ ইয়র্কে এক বাবার বখাটে সন্তান Dallas Genoard এলাকায় বিভিন্ন মাফিয়া পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে খেতে থাকে। এদিকে এই ছেলের সাথে অন্যান্য মাফিয়ে গোষ্ঠির একটা ক্যাচাল লেগে যায়। এই ক্যাচালেয় একসময় ইমর্টালরা জড়িয়ে পড়ে। নাকি ইমর্টালদের ক্যাচালে মাফিয়া জড়িয়ে পড়ে????? শুরু হয় স্টুপিড কমোশান!

১৯৩১

এ সময় দেখা যায় ট্রান্সকন্টিনেন্টাল ট্রেন The Flying Pussyfoot নিউ ইয়র্ক সিটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু একই সময়ে ট্রেন এ উঠে পড়ে একদল রেবেল যারা এ ট্রেনকে জিম্মি করে তাদের নেতাকে ছাড়িয়ে আনার স্বপ্ন দেখে। আরেকদল সন্ত্রাসী – যারা শুধু একটা ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য ট্রেনে আসে। এদের নেতা Ladd Russo। একজন প্রফেশনাল হিটম্যান যে খুন করতে করতে সাইকোতে পরিণত হয়েছে। আরেকদল ডাকাত যাদের উদ্দেশ্য ট্রেনে ডাকাতি করা। আরো আসে একজন এসাসিন, আরেকজন ইনফর্মেশন ব্রোকার এবং একজন ইমর্টাল। সবাই মিলে আরেকটা স্টুপিড কমোশান সৃষ্টি করে!

১৯৩২

Eve Genoard তার নিঁখোজ বড় ভাই Dallas Genoard কে খুজে বের করার জন্য ইনফর্মেশন ব্রোকারদের সাহায্য নেয়। অন্তদিক এক মাফিয়া বস হঠাৎ করেই আরেক মাফিয়ে ফ্যামিলি এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। কিন্তু এই অভিযানের সাথে কোন একভাবে ডালাস জড়িত। কীভাবে? আরেকটা ছোট স্টুপি কমোশান শুরু হয়।

ক্যারেক্টার এর বর্ননা দিলাম না। দিতে গেলে পুরা কাহিনী বলে দিতে হবে। এর চেয়ে ক্যার‍্যাক্টারদের একটা স্নিক পিক নেন নিচের ছবি থেকেঃ

Baccano 2

এভালুয়েশন

বইগুলো একের পর এক প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ একটা বই এর কাহিনীর সাথে অন্য বই এর কাহিনী এর সামান্য যোগসূত্র ছাড়া আর কিছু নেই। কিন্তু এনিমে এডাপ্টেশন পুরাই অন্য লেভেলের হয়েছে। ১৯৩০-৩২ এর তিনটে কাহিনীই একসাথে শুরু হবে। একটু পর পর স্টোরির একেকটা লেয়ার আনলক হতে থাকবে। আর শেষে গিয়ে সবগুলো স্টোরি ভিউয়ার দের কাছে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
অন্য কোন এনিমে এর সাথে এটার তুলনা চলে না। সম্ভবত এটার তুলনা হয়েছে সিনেমা জগতের দিকপাল পাল্প ফিকশন এর সাথে। বলা হয়েছে কিছুটা এভাবে, “পাল্প ফিকশন যেভাবে সিনেমার স্বাদকে পরিবর্তিত করেছে ঠিক সেভাবে বাক্কানো হবে এমন একটা এনিমে যা এনিমে দেখার স্বাদ পরিবর্তিত করবে…… শুরু থেকে শেষ হয়ে শেষ না হওয়া এনিমেটা একটা ক্রেজি রাইড এ দর্শকদের নিয়ে যাবে…… বাক্কানো এনিমেতে সত্যিই ইউনিক কিছু প্রদান করে।”
এবং আমি বলছি এটার ইউনিকনেস মোটেও মিথ্যে না।
১৬ পর্বের ছোট এই সিরিজটা আমি একটানা বসে দেখে ফেলেছি। বলা যায় মন্ত্রমুগ্ধের মত।

যারা দেখতে চান তাদের জন্য ডাউনলোড লিঙ্কঃ
ডিভিডি রিপঃ http://thepiratebay.se/torrent/4940044/
৭২০পিঃ http://thepiratebay.se/torrent/6746582/

আমার প্রিয় কিছু অ্যানিমে -লেখক– ব্লগার অপরিচিত আবির

মূল লেখা – http://www.somewhereinblog.net/blog/major_fuad/28939084

 

আমি জানি না কতজন এখানে অ্যানিমের সাথে পরিচিত। Anime বা অ্যানিমে হল অ্যানিমেশনের জাপানিজ প্রতিশব্দ। Manga বা ম্যাংগা হল ঐ অ্যানিমের কমিকবুক ভার্সন। একসময়ে শুধু জাপানে চালু থাকলেও অ্যানিমেগুলোর ক্রিয়েটিভিটি এবং অনন্য উপস্থাপনা ও অসাধারণ আইডিয়ার কল্যাণে সারা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিরিজগুলোর মাঝে হরহামেশাই অ্যানিমেগুলোর নাম খুঁজে পাওয়া যায়। এগুলোকে আবার সাধারণ কার্টুন ভেবে বসবেন না কিন্তু। সাধারণ কার্টুন সিরিজের সাথে অ্যানিমের বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
প্রখমত, অ্যানিমেগুলো প্রধানত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরী। এর স্টোরিলাইন এবং ডায়ালগ মোটেও বাচ্চাদের জন্য নয়।
দ্বিতীয়ত, এগুলো চিরাচরিত কার্টুনগুলোর মতো সিঙ্গেল এপিসোড নয় বরং একটা সুনির্দিষ্ট কাহিনী নিয়ে একটা সিরিজ চলতে থাকে।
এবং অ্যানিমেতে অ্যানিমেশন কোয়ালিটির থেকে কাহিনী এবং ক্যারেক্টারের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। অব্শ্য নতুন অ্যানিমেগুলোতে অ্যানিমেশনের কোয়ালিটিও অসাধারণ হয়ে উঠছে।

যাই হোক, আমার এতো প্যাচাল শুনে কাজ নেই – বরঞ্চ আমি বলব আমার দেখা কিছু সেরা অ্যানিমের লিস্টির অ্যানিমেগুলো আপনারা ট্রাই করে দেখতে পারেন। তবে সাবধান! ছোটদের নিয়ে কখনোই বসবেন না। অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট এবং ফিজিকাল-ভার্বাল ভায়োলেন্সের মাত্রা অনেক বেশি।

Death Note:

যারা কোনদিনও অ্যানিমেশন দেখেন না তাদেরকেও অন্তত একবার আমি ডেথ নোট দেখতে অনুরোধ করবো। এরকম দারুণ কাহিনী যে আর কোথাও পাবেন না এটা আমার কাছ থেকে লিখে নিতে পারেন।

Full Metal Alchemist:

দুই ভাইয়ের মাঝে সম্পর্ক এবং যুদ্ধবিরোধী মানসিকতার সাথে অপূর্ব কাহিনী। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে হাই রেটেড অ্যানিমেগুলোর একটি।

Elfen Lied:

হরর অ্যানিমে। যারা সাইকো মুভি দেখতে পছন্দ করেন বা ভায়োলেন্সের ভক্ত তাদের কখনোই এটা মিস করা উচিত হবে না।

Monster:

পুরোপুরি রিয়েলিস্টিক কাহিনীর ওপর নির্মিত সবচেয়ে দারুণ অ্যানিমে।

Initial D:

যারা মোস্ট ওয়ান্টেড, কার্বন, আন্ডারকভারের ফ্যান তাদের জন্য এটা দেখা বাধ্যতামূলক। এতো উত্তেজনাপূর্ণ এবং ডিটেইলড অ্যানিমে খুব একটা নেই।

কারো যদি এসব সিরিজের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে সন্দেহ হয় তবে সোজা আইএমডিবি তে গিয়ে সার্চ করে দেখতে পারেন। আর যদি ফুল ইনফো চান তবে যেতে পারেন এখানে –

Click This Link

ডাউনলোড করতে চাইলে যান এখানে –

http://www.realitylapse.com/

 

Scrapped princess – জীবন নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো এক দুখী রাজকন্যার গল্প লেখক মো আসিফুল হক

লিনেওয়ান রাজ্যে একদিন গ্রেন্ডেলের প্রত্যাদেশ থেকে দৈববাণী আসে যে রাজকন্যা, যে কিনা একটি দুষ্ট নক্ষত্রের ছায়ায় জন্ম নিয়েছে; সে তার ১৬ তম জন্মদিনে পুরো পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হবে। গ্রেন্ডেলের ভবিষৎবাণী কখনই মিথ্যে হয় নি। সেই কারণে প্রজাবৎসল রাজা তার রাজ্যের কথা চিন্তা করে তার সেনাবাহিনীর একজন নাইটকে দায়িত্ব দেন তার কন্যাকে হত্যা করার জন্য। সেই নাইট যে কোন কারণেই হোক; রাজকন্যাকে হত্যা করতে ব্যার্থ হয় এবং এক দম্পতি তাকে কুড়িয়ে পেয়ে বড় করে তোলে। এভাবেই কেটে যায় ১৫টি বছর। এখন এই “Scrapped princess” বা বিতারিত রাজকন্যা pacifica cassul তার পালক ভাই Shannon Cassul এবং বোন Raquel Cassul এর সাথে পালিয়ে বেড়াচ্ছে; দেশের পর দেশ; গ্রামের পর গ্রাম; শুধু আততায়ী আর বাউন্টি হান্টারদের হাত থেকেই নয়; বরং রাজার এলিট গার্ড ফোর্স এর হাত থেকেও যারা কি না “poison that will destroy the world” কে হত্যা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এদিকে আবার সরকার এবং চার্চের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠছে; আরেকদিকে সরকারের একটা অংশ চালিত হচ্ছে God like পিসমেকারদের ইশারায় যারা কিনা মানুষকে নিজেদের ইচ্ছা মত ব্যাবহার করতে পারে। কে এই পেসিফিকা কাসুল? দৈববাণী কি আসলেই সঠিক ছিল? ১৬তম জন্মদিনে কি ধরণের দুর্যোগ বয়ে আনবে বিতারিত রাজকন্যা? এই পিসমেকাররাই বা কারা? কি অপেক্ষা করছে রাজকন্যার ভাগ্যে?

স্ক্রেপড প্রিন্সেস ক্লাসিকাল ফ্যান্টাসি; ড্রামা এবং সায়েন্স ফিকশনের এক অসাধারণ মিশ্রণ। প্লট যথেষ্ট immersive এবং বিশ্বাসযোগ্য। এনিমটির চরিত্রগুলো যথেষ্ট যত্ন নিয়ে তৈরি করা; সেই সাথে আনন্দদায়ক এবং ওয়েল রিটেন। মাঝখানে সায়েন্স ফিকশনের প্রবেশ মোটেও কাহিনীকে cliché করা কিংবা গল্পের চরিত্রগুলোর বন্য উদ্দামতায় জিনিসপত্র ধ্বংসের উপাদান হিসেবে ব্যাবহার হয় নি; বরং গল্পের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ন “হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞান” উপাদানটি প্লটকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।

গল্পের মুল প্লট আবর্তিত হয় পেসিফিকা কাসুল চরিত্রটিকে ঘিরে; যে কিনা এইটুকু জানে যে তাকে হত্যার জন্য অনেকেই সচেষ্ট; কিন্তু তার ভুমিকা কিংবা সে আসলেই কে এই নিয়ে তার বিভ্রান্তি এবং তার কারণে সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে তার অসহায় আর্তনাদ এনিমে সেইরকম মেলোড্রামার তৈরি করে নি। খানিকটা ইচড়ে পাকা , এনার্জেটিক, খানিকটা spoiled; পেসিফিকা না angsty না bratty. ব্যাপারটি ফুটিয়ে তোলার জন্য চমৎকার মুন্সিয়ানার দরকার; সেক্ষেত্রে এর লেখক খুব সুন্দরভাবে চরিত্রটিকে উপস্থাপনের কৃতিত্বের দাবি করতেই পারেন।

পাশাপাশি পাসিফিকার দত্তক ফ্যামিলি ; তার বড় ভাই শানন যে কিনা একজন মাস্টার সোর্ডসম্যান এবং বোন রাকুএল যে বেশ ভাল জাদুকর এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া গল্পের প্লটকে সবসময়েই প্রানবন্ত রেখেছে । এর পাশাপাশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লেওন শুরু করে পাশের রাজ্যের সেন্সেস; কিংবা গির্জার ভ্রমণরত তদন্তকারী বারগেইন্স – প্রত্যেকটি পার্শচরিত্রই “fun to watch.”
একটা জিনিস বলে রাখা ভাল; প্রথম বর্ণনা শুনে যেই রকম মার মার কাট কাট ভাব মনে আসতেছে এনিমটা মোটেও সেইরকম না। মাঝে মাঝেই আকর্ষণীয় মারামারির দৃশ্য আছে; তবে সাধারণত এনিমটা বেশ স্লো এবং soothing একটা পেইসে এগিয়ে গিয়েছে।

কালারফুল পরিবেশ, সহজ কিন্তু সুন্দর চরিত্র রুপায়ন, রক্তের অনুপস্থিতি, এবং আকর্ষণীয় পোশাক আশাকের এনিমটিতে একশন সিকুয়েন্সের মধ্যে ড্রাগুন এবং পিসমেকারদের ফাইটগুলো যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং। এছাড়া শুরু এবং শেষের গানগুলোতে ব্যাগপাইপের ব্যাবহার যথেষ্ট কানের জন্য শ্রুতিমধুর করে তুলেছে। এছাড়া অন্যান্য এনিমের চেয়ে এই এনিমের এন্ডিংটা কিঞ্চিত আলাদা। কিভাবে? সেটা দেখতেই তো বসবেন। এক কথায় বলা যায় আপনি যদি ভাল স্টোরিলাইন, সুন্দর একটি মেসেজ, ভাল ডায়লগ এবং আকর্ষণীয় চরিত্র নিয়ে বানানো even paced ফান এবং সিরিয়াসনেসের মিশেলে কোন এনিম দেখতে চান; তবে scrapped princess আপনার জন্যই…

মেগা রোমান্টিক এনিম রিভিউঃ Tora Dora, Lovely Complex, Kaichou Wa Maid Sama লেখক মো আসিফুল হক

কয়দিন আগে এক এনিম বিশেষজ্ঞ ফ্রেন্ডরে গুতাইতেসি সাজেশনের জন্য। যেইটার নামই কয় হয় দেখসি নয়ত পছন্দ হইতেসে না। এক পর্যায়ে কইল, “তুই তো রোমান্টিক এনিম দেখসই না; এইবার একটা দেইখা দেখ, কেমন লাগে।” আমিও “কি আছে জীবনে” বইলা ভাব্লাম এইবার দেইখাই ফেলি। B-)B-)B-)B-)
শুরু করলাম তোরাদোরা দিয়া; এরপর লাভলি কমপ্লেক্স এবং সর্বশেষ কাইচৌওয়া মেইড সামা।

Tora Dora: এই এনিম দিয়া রোমান্টিক এনিম ধরাটা একটা মহা ভুল হইসে। এখন আর কোন রোমান্টিক এনিমই আর সেইরকম ভাল লাগে না। তোরাদোরা এক কথায় অসাধারন। কাহিনী, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট, ট্র্যাক, কমেডি, রোমান্স – সবকিছু। রিয়ুজি এবং তাইগা – দুই মেরুর দুই বাসিন্দা।

একজন রিয়ুজি শান্তশিষ্ট লেজবিশিষ্ট টাইপ আর অন্যদিকে তাইগা মার মার কাট কাট টাইপ। কিন্তু রিয়ুজির চেহারায় এমন কিছু আছে যা তাকে গুন্ডা গুন্ডা ভাবতে বাধ্য করে; এইজন্য লোক জন তার সাথে খুব একটা মিশে না। রিয়ুজি তাইগার এক ফ্রেন্ডকে এবং তাইগা রিয়ুজির এক ফ্রেন্ডকে মনে মনে পছন্দ করে। দুইজন দুইজনের জন্য ম্যাচ করতে গিয়ে এক পর্যায়ে একজন আরেকজনকে পছন্দ করে ফেলে। তারপর? তারপরেই টুইস্ট। ঘটনার অনেকদুর পর্যন্ত আমার মনে হইতেছিল টিপিকাল হিন্দি সিনেমা স্টাইলেই আগাইতেসে; শেষে কি হইব তা তো বুঝতেই পারতেসি; দেইখা কি হইব? কাহিনীর শেষে মনে হইসে গালে কইসা চড় খাইসি – এইরকম টুইস্ট। :):):):):)

রোমান্টিক এনিমে মাঝে মাঝেই কাহিনী খুব ঝুলাইয়া ফেলে; অনেক অবাস্তব কিছু দেখায়; কিন্তু তোরাদোরা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটা সেনিটি বজায় রাখসে। দুইটা জিনিস অনেক দিন মনে থাকব – রোমান্টিক এনিমে one of the best kiss scene আরএই সাউন্ডট্র্যাকটা । গানটা সিমপ্লি মাই ফেভারিট এনিম সাউন্ডট্র্যাক।:D:D:D

আমার রেটিং: ৮.৭/১০।

Lovely Complex: হালকা ধাঁচের খুব সুন্দর একটা রোমান্টিক এনিম। ছেলে চরিত্র অতানি এবং নারী চরিত্র রিসা। রিসা অতানির চেয়ে বেশ খানিকটা লম্বা। এদের মাঝে সারাদিনই খুনসুটি লেগে থাকে। সাধারনভাবে এরা সবার কাছে “হানশিন কিওশিন” ( কমেডি ক্যারেক্টার) নামেই পরিচিত। এইভাবে ঝগড়া করতে করতে আর মজা করতে করতে একদিন মেয়েটা বুঝতে পারে সে অতানিকে ভালবেসে ফেলেছে। অনেক সাহস সঞ্চয় করে এবং সংকোচ ফেলে দুইবার অতানিকে প্রপোজও করে ফেলে। কিন্তু অতানি মনে করে এইটা বোধহয় রিসা মজা করতেসে এবং সেও দুইবারই রিজেক্ট করে।

আরেকটা টিপিকাল হিন্দি সিনেমা কাহিনী মনে হচ্ছে? দেখতে থাকুন, আশা করি শেষ অংশ দেখে হতাশ হবেন না।:):):):)

আমার রেটিং: ৭.৫/১০।

Kaichou Wa Maid Sama:শোজো এনিম বা রোমান্টিক এনিমের যে কয়টা লিস্ট দেখা যায় তার অধিকাংশের মধ্যেই এইটা লিস্টের প্রথম দিকে থাকে। দুইটা মেইন চরিত্র উসুই তাকুমি এবং মিসাকি – অসম্ভব এপেলিং ক্যারেক্টার। বিশেষ করে মেইল ক্যারেক্টার উসুই তাকুমির জন্য তো দুনিয়ার প্রায় সব নারী এনিমখোররা এক কথায় পাগল !!!B-)B-)B-)B-)

এছাড়া মিসাকি ক্যারেক্টারটাও অসাধারন। কিন্তু আমার মনে হইসে এনিমটা লেখক নিজ হাতে ধ্বংস করার জন্য লেখসেন। অত্যন্ত ঝুলে যাওয়া কাহিনী। মিসাকি একটা মেইল ডমিনেটেড স্কুলের স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট, স্কুলের পরিবেশ ঠিক রাখার ব্যাপারে প্রচন্ড স্ট্রিক্ট; স্কুলের ছেলেদের কাছে মাঝে মাঝেই ভয় এবং বিরক্তির কারণ। তবে ছাত্র ছাত্রী এবং শিক্ষকরাও তাকে সমীহ করে চলে। কিন্তু তার পরিবার অনেক গরীব হওয়ায় তাকে একটা মেইড ক্যাফেতে কাজ করতে হয়। মিসাকি এই ঘটনা স্কুলের সবার কাছ থেকে গোপন রাখে। এর মাঝে মিসাকি মাঝে মাঝেই বিপদে পড়লে উসুই তাকে উদ্ধার করে। এর বাইরে কাহিনী উদ্ধার বা লেখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় নাই। কমেডি আছে; তবে cliche. তবে এই মতামত একান্তই আমার ব্যাক্তিগত; অনেককেই বলতে শুনেছি কাহিনী তাদের খুব একটা খারাপ লাগে নাই, সুতরাং একটা ঝুকি নিয়ে দেখে ফেলতেই পারেন। তবে আমার মনে হয় না দেখে খুব লাভ আছে। :|:|:|:|:|

আমার রেটিং: ৪/১০।

তবে আর দেরি কেন? দেখা শুরু করেন এই এনিমগুলি। আর এনিম নিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে চলে আসুন এই গ্রুপে ।

একটু অন্যরকম একটি স্পোর্টস এনিম – Dan Doh !! লেখক মোঃ আসিফুল হক

২৬ পর্বের এই এনিমটা মাত্র দেখে শেষ করলাম। কাহিনী – গলফ নিয়ে। গলফের নাম শুনেই কপাল কুঁচকে উঠলো তো? উঠারই কথা; আমার দেখামতে যারা গলফ খুব ভাল বোঝেন এবং নিয়মিত খেলেন তারা ছাড়া বাকি প্রায় সবার কাছেই গলফ টপ ৫ বোরিং গেইমের লিস্টে থাকবে। তবে ভয় পাবেন না; জাপানীরা আর যাই করুক; স্পোর্টস এনিম খারাপ বানায় না; যদি খারাপ লেগে থাকে তবে সেটা খেলার দোষ, এনিমের নয়।:) :)

কাহিনি খুবই সহজ সরল। Aoba Tadamichi aka Dandoh বেইসবল খেলোয়াড়, কিছুটা গরীব। একদিন সে জানতে পারে গলফ খেলায় প্রচুর পয়সা; এক টুর্নামেন্টেই সে লাখ টাকা কামাইতে পারবে। এই মোটিভেশনে এবং স্কুলের হেডমাস্টারের অনুপ্রেরণায় সে গলফ খেলায় আগ্রহী হয়। তার জন্মগত বেশ কিছু প্রতিভা ছিল; সেই সুত্রে খুব অল্পদিনেই সে খেলাটায় বেশ পারদর্শী হয়ে ওঠে।

ওভারঅল Dan Doh এনিমটা কেমন লেগেছে? – আমার মতামত – ভালই; খারাপ না। তবে অনেক গুলো জায়গায় অনেকগুলো সমস্যা বা বাজে দিক চোখে পড়েছে। সেগুলো আগে একে একে বলা যাক।

যারা Prince of Tennis দেখেছেন তারা এই এনিমটার সাথে বেশ কিছু বিষয়ে মিল পাবেন। প্রথম বিষয় – কথা নাই বার্তা নাই খুব বেশি জিনিয়াসের আগমন; যেইটা আমার প্রচন্ড বিরক্ত লাগে। ২য় বিষয় হচ্ছে; মাত্র ২৬ পর্ব হওয়ায় ক্যারেক্টারগুলো খুব বেশি ডেভেলপ করতে পারে নি; আমার মতে খুব সহজেই এইটা ৭০+ পর্ব করা যেত। এতে যেটা হয় ক্যারেক্টারগুলোর প্রতি খুব একটা মায়া জন্মায় না। কেমন যেন একটা ছাড়া ছাড়া ভাব ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে।

৩য় বিষয় হচ্ছে স্টরিলাইন বেশ কিছু জায়গা খাপছাড়া। যেমন এক জায়গায় রোমান্টিক করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কাহিনী বলে দিচ্ছি না; তবে দেখলেই বুঝবেন জায়গাটা একটু খাপছাড়া মনে হয়েছে; কেন জানি মনে হচ্ছিল কাহিনীতে ওইটার প্রয়োজন ছিল না ।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে আবেগের ঘাটতি। ব্যাপারটা কেমন একটু ব্যাখ্যা করি।ফুটবল, টেনিস এমনকি বক্সিং ( হাজিমে নো ইপ্পো) নিয়েও প্রায় সব স্পোর্টস এনিমেই একটা পার্ট দেখায় যেখানে খুব গরীব কেউ শুধু খেলাটার টানে খেলে যায়। গলফ এম্নিতেই যথেষ্ট ব্যয়বহুল খেলা হওয়ায় ওই রকম কোন পার্ট ছিল না; আর স্পোর্টস এনিমে অইরকম পার্ট না থাকলে কেমন যেন খালি খালি লাগে। B-)B-)

ভাল দিক বলতে আকানো নামে একটা ক্যারেক্টার এর একটা আর্ক আছে; ওইখানে কাহিনীটা বেশ ইন্টারেস্টিং। সে একজন প্রো গলফার, তবে বেশ কিছু কারণে তার ক্যারিয়ার ধ্বংসের পথে; ওইখানে তার নবজাগরণ ঘটে। এছাড়া মাঝে Dan Doh এর বাবাকে নিয়ে হালকা টুইস্ট টাইপ কিছু জায়গা আছে; সেটা খুব একটা উল্লেখের বিষয় না অবশ্য।

আর্ট স্টাইল, কাহিনী, সাউন্ড, স্টোরি, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট – সবগুলোই মোটামুটি এভারেজ লেভেলের। Over the moon কোন সাইড অবশ্য এই এনিমের নাই।

এখন অবশ্য জিজ্ঞেস করে বসতে পারেন পুরা রিভিউতে শুধু নেগেটিভ ছাড়া একটা পজেটিভ দিক বলেন নাই; দেখুম কেন? ভাল প্রশ্ন। উত্তর হইল, গলফের মত এইরকম একটা বোরিং খেলারেও যে ইন্টারেস্টিং বানাইছে এইটাইতো বহুত। আর সব মিলিয়ে এনিমটা আমার খুব একটা খারাপ লাগে নাই। তবে সেইটা আমার সামনে পরীক্ষা বইলাও হইতে পারে, আমি Die Hard Sports Anime ফ্যান বইলাও হইতে পারে, আবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্রও হইতে পারে !!!!!

Slam dunk: পিওর কমেডি, গ্যাং ফাইট, বাস্কেটবল আর one sided love এর এক অসাধারণ গল্প — লেখক মো আসিফুল হক

কমেডি, গ্যাং ফাইট, বাস্কেটবল – এনিমের জন্য একটা বেশ ইউনিক কম্বিনেশন। কিন্তু slam dunk খুব সফল আর সাবলিলভাবে এই কম্বিনেশনকে উপস্থাপন করতে পারছে। এই এনিমে যখন যেইটা করতে চাইছে খুব সফলভাবেই সেইটা করতে পারছে। যখন ফানি করতে চাইছে; it was pretty damn funny; যখন সিরিয়াস কিছু দেখাইতে চাইছে; it was pretty serious. কিন্তু এনিমটার মুল সফলতা পিওর সাস্পেন্স ভর্তি ম্যাচগুলায়। যদিও অন্য অনেক স্পোর্টস এনিমের মত এইটাতে খুব “ফেন্সি” “কুল” মুভ নাই; কিন্তু এই রিএলিজমের টাচটাই বরং এনিমটাকে বেশি সফল করছে।

মেইন ক্যারেক্টার সাকুরাগি হানামিচি এনিমটার প্রাণ বলা যায়। তার চরিত্র যদি এক বাক্যে বলতে হয় তবে বলা যায়, সাকুরাগি টেক্টলেস, রাফ, স্টুপিড, ফানি, লয়াল, স্ট্রং, ডেডিকেটেড , অধৈর্য, হট টেম্পারড এবং লাউড – একটা এনিমকে ফানি এবং ইন্টারেস্টিং করার জন্য যা দরকার সবগুলার একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। :) :)

হানামিচির বাস্কেটবল খুবই অপছন্দের খেলা। কিন্তু তার মনে মনে পছন্দ করা হারুকোর বাস্কেটবল খুবই প্রিয়; পাশাপাশি হারুকোর বড় ভাই আকাগি স্কুলের বাস্কেটবল টিমের ক্যাপ্টেন। হারুকোকে ইম্প্রেস করতে সাকুরাগি বাস্কেটবল টিমে যোগ দেয়। একই বছরে ভর্তি হওয়া রুকাওয়াও যোগ দেয় টিমে যে কিনা সমগ্র স্কুলে নারী সম্প্রদায়ের কাছে বিপুল জনপ্রিয়; সেই সাথে হারুকোর কাছেও। স্বাভাবিক ভাবেই সাকুরাগি রুকাওয়াকে তার ১ নাম্বার প্রতিদ্বন্দ্বী ধরে নেয়। যারা নিয়মিত স্পোর্টস এনিম দেখেন বা দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই এর পর কাহিনী কোন দিকে যাবে তা আন্দাজ করে ফেলেছেন। :) :)
well, মোটামুটি ওইরকমই আগায় কাহিনী; যদিও কিছু কিছু জায়গায় অল্প টুইস্ট আছে। তবে শেষ পর্যন্ত আর ৮-১০ টা স্পোর্টস এনিমের মত এইটাতে সাকুরাগি রাতারাতি রুকাওয়াকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায় না; বরং নিজের মত করে সফল হয়।:) :)

টিমের বাকি মেম্বার- আকাগি, মিতসুই, মিয়াগি, কগুরে- সব গুলো চরিত্রই অসাধারণ এবং প্রত্যেকেরই নিজস্ব গল্প, স্বপ্ন,স্ট্রাগল- খুব সুন্দর ভাবে এনিমে দেখানো হয়েছে। প্রত্যেকটা ক্যারেক্টারই নিজের মত করে ইউনিক। :) :)

একমাত্র অপছন্দের দিক ছিল দুই একটা ম্যাচ বেশ লেংদি ছিল; ৬ দিনে পুরা সিজন শেষ করায় কিছু কিছু জায়গায় এই লম্বা ম্যাচগুলা বিরক্ত লাগছিল। তবে শেষে আমি খুব আশা করছিলাম আরও কিছু পর্ব থাকুক; হানামিচি এবং সবগুলা ক্যারেক্টার এবং স্টোরিটা এত পছন্দ হইছিল। এছাড়া আর্ট স্টাইল কিছুটা রাফ – কিন্তু এনিমের সময়কাল (১৯৯৩-৯৬) চিন্তা করলে এইটা মাফ করে দেওয়াই যায়। :) :)

এনিমটার সবচেয়ে বেস্ট দিক আমার কাছে এর কমেডি পার্ট। স্পোর্টস এনিমগুলা সাধারণত খুব সিরিয়াস টোনের হয়; ফান থাকলেও খুব বেশি থাকে না; কিন্তু এই এনিমটা জাস্ট ফুল অফ ফান এন্ড কমেডি। নিঃসন্দেহে সাকুরাগি আমার ফেভারিট এনিম ক্যারেক্টারের লিস্টে একটা জায়গা দখল করতে পারবে।

তাহলে আর দেরি কেন? এখনই দেখা শুরু করে দিন এই অসাধারণ এনিমটি।

হ্যাপি এনিমিং !!! :) :)

Fate/stay night – সব ছাপিয়ে একটি অসাধারণ রোমান্টিক এনিম — লেখক মো আসিফুল হক

পর্বঃ ২৪
জেনারঃ: একশন, ফেন্টাসি, ম্যাজিক, রোমান্স, শোনেন
ডিরেক্টরঃ ইউজি ইয়ামাগুচি

কমেডি, একশন, রোমান্স, ম্যাজিক – সব কিছুর মিশেলে মুটামুটি পরিপূর্ণ একটা এনিম। শুরুটা অনেক প্রমিজিং হওয়ায় ভেবেছিলাম বেশ খানিক্টা টেনে নিয়ে যাবে এনিমটা; কিন্তু হতাশ করে মাত্র ২৪ পর্বেই থেমে গেল। তবে অনেকের কাছে লম্বা সিরিজ বিরক্ত লাগে, তাদের জন্য এই এনিমটি আদর্শ।

গল্পের প্লটটা এইরকমঃ হোলি গ্রেইল একটা পাওয়ারফুল ম্যাজিক। এইটা যে কোন ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। এই হোলি গ্রেইল হাত করার জন্য ৭ জন ম্যাজিশিয়ান তাদের সারভেন্টকে সাথে নিয়ে যুদ্ধ করে; জয়ী মাস্টারের কাছে হোলি গ্রেইল ধরা দেবে – এইটাই হইল যুদ্ধের নিয়ম। এই যুদ্ধ কিন্তু আবার ওই এরিনার মধ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে যুদ্ধ না, মাস্টাররা সবাই যার যার নর্মাল লাইফ লিড করে; একজন সুযোগ পেলে আরেকজনকে এটাক করে পরাজিত করে।

এমিয়া শিরোউ এই এনিমের প্রধান চরিত্র; এতিম হয়ে যাওয়ার পর এমিয়া কিরিতসুগু তাকে বড় করে তোলে; তার নামেই এমিয়ার শেষনাম। কিরিতসুগু নিজে অনেক বড় ম্যাজিশিয়ান হলেও এমিয়া সেই ক্ষেত্রে অনেকাংশেই ব্যারথ। হোলি গ্রেইলের ফাইটে অংশ নেওয়া কিংবা তার সারভেন্ট সেবারকে সামন করা – প্রায় সব কিছুই সে নিজের অজান্তেই করে ফেলে। গল্পের শেষদিকে অবশ্যম্ভাবী ভাবে এমিয়া কিছু পাওয়ার গেইন করে – তবে সেটাতেও অনেক ঘাটতি থাকে। ৭ জন মাস্টার নিজ নিজ সারভেন্টকে নিয়ে একে অপরের সাথে ফাইট করে এবং ধীরে ধীরে কাহিনী এগিয়ে যায়। গল্পের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে ইলিয়া এবং রিন অসাধারণ। বিশেষ করে রিনের ক্যারেকটারটা বেশি জোস। :) :)

এবার দেখা যাক, এই এনিমটা কেন দেখবেন? অন্য এনিম থেইকা এইটার বিশেষত্ব কি? অন্যান্য এনিম থেকে আলাদা একটা লিড রোল এবং খুবই ডিসেন্ট একটা রোমান্স বেইসড স্টোরি এবং সংলাপ। আমি এম্নিতে রোমান্টিক এনিম দেখি না; এইটা আমার দেখা অল্প কএক্টার একটা। শেষ দিকে এসে বেশ ভাল একটা টুইস্ট আছে, দেখে ভালই লাগল। এছাড়া এমিয়া আর ৮-১০ টা মেইন কেরেক্টারের মত কুল টাইপ না, পাওয়ারও খুব বেশি নাই; শেষ দিকে যাইয়াও সেইটার খুব একটা পরিবর্তন হয় না; ফাইটগুলা করে মেইনলি তার সারভেন্ট – সেবার। এই জিনিসটা অনেকের ভাল নাও লাগতে পারে; তবে its not that bad for a change. :):):):)

সাউন্ডট্র্যাক গুলা সত্যিই অসাধারণ; কিছু কিছু জায়গায় আমার আবার টেনে পিছিয়ে গিয়ে দেখতে হয়েছে, গান শোনায় এইরকম হারিয়ে গিয়েছিলাম। এছাড়া ফাইটগুলা বেশ ডিসেন্ট; যদিও অন্যান্য বড় বড় নামের ফাইট এনিমগুলার সাথে তুলনীয় নয়।

তো আর দেরি কেন? এখনই জোগাড় করে দেখতে বসে যান এই অসাধারণ এনিমটি। আর এনিম নিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে; কিছু জানতে এবং জানাতে চাইলে চলে আসুন এই গ্রুপে

হ্যাপি এনিমিং !!! :) :)