Baby Steps [রিভিউ] — Arafin Shanto

Baby Steps

Anime: Baby Steps (শিশুর পদক্ষেপ)
Genre: Sports, Romance, School, Shounen 
Episode: 50 (season 1 + season 2)
Rating: MAL- season 1:- 7.95, season 2:- 8.19
Personal- season 1:- 7, season 2:- 8(Higher)

সারসংক্ষেপ-
Honor student বা সন্মানিত শিক্ষার্থী শব্দটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত।শ্রেণীকক্ষের সবচাইতে বুদ্ধিমান চরিত্র বলা যায় তাদের।
তাদেরকে আমরা বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে দেখি।কারো মতে সে যেমন শ্রেণীকক্ষের সবচাইতে আদর্শ চরিত্র আবার অনেকেই একবাক্যেই বলে দেই এদের চেয়ে একঘেয়ে,রসকসহীন প্রজাতি দ্বিতীয়টি পাওয়া দুষ্কর। (আমি দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গের মধ্যে পড়ি 😛) সবকিছুতেই তারা অস্বাভাবিকভাবে পার্ফেক্ট।

তেমনি একজন নার্ভে ওঠা সন্মানিত ছাত্রকে নিয়েই গড়ে উঠেছে শিশুর পদক্ষেপ এনিমের গল্প।আরেকটু ভদ্রভাবে বললে “একজন পেশাদার নার্ড থেকে পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হয়ে ওঠার গল্প।”

Maruo Eiichiro আমাদের গল্পের নায়ক।অন্যান্য পেশাদার নার্ডের মত সেও শ্রেণীকক্ষের সবচাইতে ব্যাস্ত চরিত্র। তার তৈরি করা নোটবুকগুলো নাকি শিক্ষকের লেকচার তো বটেই পাঠ্যবইয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর। (SFX;Kill him -_-)

এখন প্রশ্ন সে কিভাবে টেনিস খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত হল!

না, তার টেনিস খেলার কোন ইচ্ছাই ছিল না। সে তার জীবনেই সুখী ছিল। এমনকি উচ্চ বিদ্যালয়ে ওঠার আগ পর্যন্ত সে জানতোও না টেনিস নামের কোন খেলা পৃথিবীতে আছে। মারুয়ো কেবল তার ব্যাস্ত জীবনের মাঝে কিছুটা সময় বের করে প্রাত্যহিক শরীরচর্চা করতে চেয়েছিল।কি করা যায় সেটা চিন্তা করতে করতে ঘটনাচক্রে টেনিস খেলার সাথে পরিচিত হয় এবং টেনিসকেই তার প্রাত্যহিক শরীরচর্চার জন্য ব্যাবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।(মূলত এক সুন্দ্রী টেনিস প্লেয়ারের রূপে মুগ্ধ হয়ে ._.)

Baby Steps 2

নিজস্ব ভাবনা-
আমি স্পোর্টস এনিমে খুব বেশি দেখেছি বলা যায় না, যে কয়েকটা দেখেছি বেশিরভাগই দলগত খেলাভিত্তিক। কারণ স্পোর্টস এনিমের ক্ষেত্রে আমি সবসময় দলগত খেলাকেই প্রধান্য দিয়ে থাকি।একক কোন খেলোয়াড়ের গল্প থেকে দলগত খেলা বেশি ইন্টারেস্টিং এজন্যই হয়তবা।
কিন্তু শিশুর পদক্ষেপ দেখার পর আমার মত আপনারও সে ধারণা পালটে যেতে বাধ্য।একক খেলাতেও যে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখা যায় শিশুর পদক্ষেপ তার অনন্য উদাহরণ। টেনিস এমনিতেই টেনিস খুবই একটি মজার খেলা এবং সময়ে সময়ে যথেষ্ট ইন্ট্যান্স। আমরা সবাই টেনিসের সাথে কমবেশি পরিচিত।কিন্তু আপনি যদি আগে টেনিস নাও দেখে থাকেন বিচলিত হবার কিছু নেই।এনিমের মধ্যেই টেনিসের প্রতিটি নিয়মকানুন সুন্দরভাবে ধাপে ধাপে বিশ্লেষন করা হয়েছে। এতই সুন্দর এবং গোছানোভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে আপনি টেনিস সম্পর্কে ধারণা তো পাবেনই সাথে টেনিসের খুটিনাটি এমন অনেক বিষোয় সম্পর্কে জানতে পারবেন যা হয়ত আপনি রাফায়েল নাদাল কিংবা রজার ফেদেরারের খেলার নিয়মিত দর্শক হয়েও জানতেন না বা খেয়াল করেননি কোনদিন। 😛
একজন টেনিস খেলোয়াড়ের প্রতিটা শটের পেছনে কতটা শ্রম,কত আবেগ ও তাৎপর্য লুকিয়ে থাকে আপনি সেটাও খুব ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন।তাই এনিমে শেষ করার পর একজন ডাই-হার্ড টেনিস ফ্যান হয়ে গেলেও অবাক হবার কিছুই থাকবে না। xD

এই এনিমের আর্ট নিয়ে অনেকেই কিছুটা নেগেটিভ রিভিউ দেন। কিন্তু আমার কাছে তেমন নিম্নমানের কিছু মনে হয়নি। আহামরি কিছুও নয়। খেলা চলাকালীন ব্যাকগ্রাউন্ডের দর্শকদের দিকে তাকালে কিছুটা আজব অনুভূতি হতে পারে এই যা। গল্পের মাঝে ঢুকে গেলে এগুলো চোখে পড়বে না।

শিশুর পদক্ষেপের সবচাইতে বড় সফলতা হল এটি তার গল্পের প্রতিটি চরিত্রকে খুব সুন্দরভাবে পোট্রে করতে পেরেছে। মারুয়োর চরিত্র অনেক টিপিক্যাল শৌনেন স্পোর্টস এনিমের মূল চরিত্র থেকে অনেকক্ষেত্রেই আলাদা। তাছাড়া এই এনিমের আরেকটি সুন্দর দিক হল তারা চরিত্রগুলোকে এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে গল্পে যেই চরিত্রের তেমন কোন প্রয়োজন নেই তাকেও আপনি অনেকদিন মনে রাখবেন।

এনিমের চরিত্রগুলোর ডেভেলাপমেন্ট চোখে পড়ার মত। বিশেষত গল্পের নায়ক মারুয়োর চরিত্রের উন্নতি খুব সুন্দরভাবে ধাপে ধাপে করা হয়েছে। মারুয়োর সাথে অন্যান্য খেলোয়াড়ের সম্পর্ক,তার বন্ধুমহলের সাথে সম্পর্ক খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের একটা অসাধারণ দিক হল অনেক স্পোর্টস এনিমের মত এখানে মূল চরিত্রের পরিবারকে দৃশ্যপটের বাইরে ফেলে রাখা হয়নি।বরঞ্চ গল্পের প্রতিটি মোড়ে বিশাল কিছু ভূমিকা দেয়া হয়েছে। যার কারণে আপনার জন্য হয়ত গল্পের সাথে আত্মিক একটা সম্পর্ক তৈরি করে নিতে সহজ হবে।

রোমান্স ট্যাগ টা দেখে প্রশ্ন জাগতে পারে কিভাবে বা কেমনভাবে দেখানো হয়েছে রোমান্স।আপনাক আশ্বস্ত করতে পারি মোটেই ক্রিঞ্জি ভাইবটা নেই। এনিমেতে স্পোর্টসের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। স্পোর্টসের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই রোমান্স ফ্যাক্ট টা তুলে ধরা হয়েছে। ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ছিল ততটুকুই রাখা হয়েছে।

শিশুর পদক্ষেপের সাউন্ডট্র্যাকগুলো সত্যিকার অর্থে অসাধারণ না বলা গেলেও যথেষ্ট ভাল। গল্পে মজে গেলে হয়ত ওএস্টির দিকে তেমন মনোযোগ দিবেন না কিন্তু একইসাথে এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। ঠিক অন্য কথা বলা যায় ওপেনিং এবং ইন্ডিং গান নিয়ে। বিশেষত Mao Abe এর গাওয়া “Believe in Yourself” গানটি একবারও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব তো নয়ই কিছুক্ষেত্রে লুপেও শুনতে বাধ্য হবেন।

শিশুর পদক্ষেপ এনিমেটি তার নামের সাথে মিল রেখেই গল্প ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে। একটি শিশু যেমন প্রথম হাঁটতে শেখে এবং সেই শেখার মাঝে যে আনন্দ খুজে পায়।এভাবে চেষ্টার মাধ্যমে সবার উৎসাহে একসময় হাঁটতে সমর্থ হয়, আমাদের গল্পের নায়ক মারুয়োও ঠিক একই গাইডলাইন ফলো করেছে টেনিসের ক্ষেত্রে।

শিশুর পদক্ষেপ এনিমেটির অন্যতম বড় দিক হল এর বাস্তবধর্মী এপ্রোচ। গল্পের কোন জায়গাতেই ফোর্স করে মূল চরিত্রকে জিতিয়ে দেয়ার কোনরকম চেষ্টাই করা হয়নি। এমন কোন টেকনিক বা ট্যাকটিক যুক্ত করা হয়নি যার কোন ব্যাখ্যা নেই। মূল চরিত্র তার ম্যাচগুলো আবেগ দিয়ে নয় বরং এনালাইজ করে খেলে। উড়ে এসে জুড়ে বসা কোন মুভ দেখবেন না আপনি। খেলার মাঝে নেয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই পূর্বপরিকল্পিত। তাই অসাধারণ গল্পের সাথে বাস্তবধর্মী এবং একইসাথে ইন্ট্যান্স স্পোর্টস এনিমের অভাব যদি বোধ করতে থাকেন দেরি না করে দেখতে বসে যান শিশুর পদক্ষেপ।

এখন এনিমেটি শুরু করার আগে আপনাকে যে বিষয়ে ভাবতে হবে তা হল আপনার হাতে কতটা অলস সময় আছে!কারণ একবার শুরু করলে বারবার নেক্সট এপিসোড ক্লিক না করে আপনি থাকতে পারবেন কিনা সেটা ভাববার বিষয়। :3

পুনশচঃ (যদি এই রিভিউ পড়ে এনিমেটা দেখেন,দ্বিতীয় সিজন শেষ করার পর আপনার কাছ থেকে ধন্যবাদ পাই আর না পাই গালি ঠিকই খাইতেসি এইটা আমি শিওর। not because of story. কারণটা ভিন্ন। তাই উহ্যই থাক। 😛)

Kimi ni Todoke [রিভিউ] — Arafin Shanto

Kimi ni Todoke 1

Kimi ni Todoke
Genre: Romance/Drama
Format: 25 episodes+13 episodes
MAL Rating: S1: 8.19 and S2: 8.17
Personal Rating: 8.0 and 9.0

কুরোনোমা সাদাকো। দু;খিত নামটা কি ভুল বলে ফেললাম? মনে হচ্ছে না। সবাই তো তাকে এই নামেই ডাকে।
যার সাথে চোখাচোখি হলে আপনার জীবনে দুর্যোগ নেমে আসবে, যার চোখের দিকে তিন সেকেন্ডের বেশি তাকিয়ে থাকলে তৎক্ষণাত ডায়রিয়া-আমাশয় সহ নানাবিধ ব্যাধি আপনাকে আক্রমণ করবে,যে মহা মহা তান্ত্রিকদের মত ভূত দেখতে পারে,ভূতের সাথে কথা বলতে পারে তাকে আপনি সাদাকো না ডেকে সাওয়াকো ডাকবেন কেন! বরং তার সাথে দেখা হওয়া মাত্রই আপনার উচিত তৎক্ষণাত তার কাছে ক্ষমা চাওয়া।

কিন্তু কেউ একজন মনে হয় জনসাধারণের এই থিওরিতে বিশ্বাস করেননি। কারণ থিওরি শোনার আগে উনি সম্ভবত প্র্যাকটিকেলি সাদাকোর ভুবন ভোলানো হাসি দেখতে পেয়েছিলেন।আর প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গেলেন। কিন্তু তিনি কে!
তিনি আর কেউ নন, ক্লাসের সবচাইতে জনপ্রিয় চরিত্র কাজেহায়া। প্রথম দেখাতেই তিনি বুঝে ফেলেন ভূত টুত কিছু নয়, সাদাকো সরি সাওয়াকো আসলে অতিমাত্রায় সহজ-সরল। ফ্রেন্ডশীপ করা তো দূরে থাক, সকল প্রকার জোকস তার মাথার উপর দিয়ে যায়। যার পরিণতি তো শুরুতেই দেখলেন।
তো সাদাকো সরি সাওয়াকোর প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া কাজেহায়া সিদ্ধান্ত নেয় যেভাবেই হোক সাওয়াকোকে টিপিক্যাল নারী চরিত্রে পরিণত করতে হবে। মূলত তার চেষ্টায় সাওয়াকো বন্ধু-বান্ধবী পেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ঈদের বাজারের লিস্টের মত বাড়তে থাকে সেই সংখ্যা।
আচ্ছা কাজেহায়া যে সাওয়াকোর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে? সেটার কি হবে?
যেই মেয়ে সামান্য স্যারকাজম বুঝে না, সে আবার প্রেমের কি বুঝবে! Example:
Kazehaya: Will you go out with me, Sawako?
Sawako: Where?
বাদ দিন। এনিমেটা দেখে নিজেরাই বুঝে নিন এদের ফিউচার কি!

Kimi ni Todoke 3

এটা কি টিপিক্যাল শৌজো? হ্যা অবশ্যই। আমার তো শৌজো ভাল্লাগে না। দেখব কেন? সাদাকোর হাসির জন্য দেখবেন। নোতো মামিকোর কণ্ঠের জাদু শোনার জন্য দেখবেন। কাজেহায়ার মাথায় হাত দেয়া দেখার জন্য দেখবেন। চিজুর পাগলামির জন্য দেখবেন। রিয়ুর স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড উত্তর শোনার জন্য দেখবেন। চরিত্রগুলোকে আপনি ভালবাসতে বাধ্য। সেটা কুরুমিজাওয়ার মত ডাবল-মাইণ্ডেড চরিত্র হলেও। সব বাদ দিন একমাত্র সাওয়াকো চরিত্রটি আপনাকে এতটাই মোহিত করে রাখবে, ড্র্যাগ ডাউন করা হিন্দি সিরিয়ালের মত হওয়া সত্ত্বেও এনিমেটা আপনাকে একটুও বোর করবে না।

Kimi ni Todoke 2এই এনিমের সবচাইতে স্ট্রং পয়েন্ট হল মিউজিক। যদি বলেন ওপেনিং-ইন্দিং ভাল্লাগে নাই তাহলে আর কী বলব। এত ফিলস দেয়া ওপেনিং-এন্ডিং সহজে পাওয়া যায় না এনিমেগুলোতে। বিজিএম গুলো অস্থির লেভেলের।

আর্টওয়ার্ক সাধারণ। শৌজো এনিমেগুলোর মতই আকাশ থেকে বাবল(bubble) পড়ার দৃশ্য অহরহ।

Special A [রিভিউ] — Arafin Shanto

Special A 1

Anime:- Special A / S.A
Genre:- Romance ; Comedy
Format:- 24 episodes
Mal rating(anime):- 7.8
Personal rating:- 8.3

জীবনে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে কে না আরোহণ করতে চায়!প্রায় সব মানুষের ই ইচ্ছা থাকে যেকোন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পজিশন টা তার হোক। সবাই যেন তাকে সময়ের সেরা মানুষ বলে বিবেচনা করে বা চেনে। খুব সহজভাবে বললে; কোন ক্লাসের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ছাত্র যেমন চায় সে প্রথম স্থান অধিকারী ছাত্রকে টপকে ক্লাসের সর্বোচ্চ স্থান দখল করবে; তেমনি ক্লাসের সবচাইতে অমনোযোগী ছাত্রের মনের মাঝেও কি কখনো উঁকিঝুঁকি দেয় না ক্লাস সেরা হওয়ার স্বপ্ন? অবশ্যই দেয়…. কিন্তু সবার ট্যালেন্ট কি এক! সবাই কি একইরকম পরিশ্রম করতে পারদর্শী! হয়ত না।

কিছুটা এ ধরণের সিচ্যুয়েশন থেকে শুরু হয় স্পেশাল এ এনিমেটি।

এনিমের শুরুতেই আপনি দেখতে পাবেন এনিমের প্রধান মেয়ে চরিত্র হানাজোনা হিকারির বাল্যকাল। সেখানে দেখা যায়; ছোটকাল থেকেই সে তার বাবার কাছে আত্মরক্ষার কৌশল শেখে।মূলত হিকারি তার বাবার ইচ্ছেতেই শেখে যেন সে
নিজেকে যেকোন পরিস্থিতিতে রক্ষা করতে পারে। আরো দেখা যায় হিকারির বাবা তার আত্মরক্ষার কৌশল যাচাই করার জন্য অনেক শক্তিশালী মানুষের সাথেও হিকারিকে
মোকাবিলা করতে বলে। হিকারি প্রায় অনায়াসেই তাদের পরাজিত করে। মূলত তখন থেকেই সে নিজেকে সবার চেয়ে সেরা হিসেবে দেখতে চায় কিংবা মনে করে।কিন্তু
একদিন হিকারির বাবা একটি ছেলেকে হিকারির সামনে দাড় করিয়ে দেন।সে
হিকারির বয়সের ই।কিন্তু তিনি শুনেছেন ছেলেটি শক্তিশালী এবং স্কিলফুল।সেই
আমাদের প্রধান ছেলে চরিত্র তাকাশিমা কেই।

গল্পের মূল শুরুটা এখানেই।

হিকারি ছেলেটির সাথে চ্যালঞ্জে পরাজিত হয়। তখন থেকেই হিকারির দ্বিতীয় স্থান অর্জিত জীবনের শুরু। হিকারি ;; যতবার যে জায়গাতেই তাকাশিমাকে চ্যালেঞ্জ করুক
না কেন প্রতিবার ই তার অবস্থান দ্বিতীয়। সেটা হোক পড়ালেখায় বা রেসলিং এ……
সে তাকাশিমাকে পরাজিত করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ভর্তি হয় তাকাশিমার
স্কুলে। স্কুল থেকে মনে পড়ল ; হিকারির ক্লাসের ছাত্র সংখ্যা মাত্র সাতজন।কিন্তু কেন?
মূলত ক্লাসের সর্বোচ্চ লেভেলের প্রথম সাতজন ছাত্র নিয়ে গঠিত এই বিশেষ
ক্লাস। এই বিশেষ ক্লাস এর সবকিছুই বিশেষ। তাদের ক্লাসরুম থেকে শুরু করে পোশাক পর্যন্ত যেন তাদের বিশেষত্বকেই তুলে ধরে…..আসলেই সেই ছাত্ররা মোটামুটি এক একজন অলরাউন্ডার।
তাই
সেই ক্লাসের এক নম্বর ছাত্রকে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।সেখানে আরো
আছে; বিশিষ্ট সংগীত পরিচালকের দুই সন্তান-জুন ইয়ামামতো ও মেগুমি
ইয়ামামতো….এমনকি স্কুল ডাইরেক্টর এর ছেলে এবং গাড়ির কোম্পানির সিইও ছেলের মত উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা।সেখানে হিকারির
অবস্থান সেই দুই নম্বর। যার কারণে তাকাশিমা তাকে মোটামুটি রেগুলারলি
টিজ করে। কিন্তু তারা পরস্পরের রাইভাল হলে কি হবে তাদের এই রাইভারির মধ্যে
রয়েছে অসাধারণ সুন্দর কিছু না বলা রোমান্টিক মুহূর্ত। সেদিকটা আপনারাই
এনিমে দেখে অনুভব করুন…. নিজের রাইভালের প্রেমে পড়া কিন্তু নতুন কিছু নয়
এনিমেতে ; তারপর ও এনিমেটির কমেডি- রোমান্স এই দুটো জন্রার অসাধারণ মিক্সাপ আপনাকে এনিমেটি পছন্দ করতে
বাধ্য করবে।এনিমেটির বেশ কিছু অসাধারণ হার্ট টাচিং দৃশ্য রয়েছে; যেগুলো আপনার
হৃদয়ে গেথে থাকবে।

এটি একটি টিপিক্যাল শৌজো এনিমে। কিন্তু এর রোমান্টিক -কমেডির ধরণ
স্বতন্ত্র।এটাকে ট্রেডিশনাল শৌজোর দিকে ফেলবেন কি-না সেটা আপনার উপর
ডিপেন্ড করে।এনিমের ক্যারেক্টার ডিজাইন; আর্টওয়ার্ক খুবই সাধারণ।

মিউজিক নিয়ে বলব;ওপেনিং/ইন্ডিং ডিসেন্ট… আমার ভালই লেগেছে।বলার মত
বিশেষ কিছু নেই কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো আপনার মন ছুয়ে যাবে।এতটুকু গ্যারান্টি দেয়া যায়……

আমি বলব না এটা মাস্টারপিস জাতীয় কিছু।খুব অন্য লেভেলেরও কিছু না।কিন্তু
কিছু এনিমে থাকে না; যেগুলো অত্যাধিক লেভেলের কিছু না হলেও মন ভরিয়ে দিয়ে
যায়।আপনি দেখতে বসলে বুঝবেন এনিমেটা আপনাকে কিভাবে টানছে।একবার চেষ্টা
করতে দোষ কি!

সাধারণ লাভ স্টোরি কিন্তু অনেকক্ষেত্রে রোমিও-জুলিয়েট টাইপের লাভ স্টোরি থেকেও বেশি মন ছুঁয়ে যায়………..
ধন্যবাদ।

Special A 2

Hanasaku Iroha [রিভিউ] — Arafin Shanto

Hanasaku Iroha 1Anime: Hanasaku Iroha
Genre: Slice of life; Romance
Studio: P.A.Works
Episode: 26
MAL RATING: 8/10
PERSONAL RATING: 8.57/10

কাজ! বা প্রফেশন! এটা আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, কাজ ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনাতীত! আমাদের জীবনে বেচে থাকার অন্যতম এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়েই রয়েছে কাজ! কিন্তু প্রশ্ন হল আমরা আমাদের কাজ বা প্রফেশন কে কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকি! কতটা উপভোগ করি আমাদের প্রফেশনকে! আমাদের কাজের উপর শুধু আমাদের নয়; আরো অনেকের জীবন নির্ভর করতে পারে; কিন্তু আমরা কি সেই কাজটিকে নিজের মনের মত করে উপভোগ করছি!!!

অনেকটা এই ধরণের কাহিনী নিয়ে হানাসাকু ইরোহা এনিমেটি। যেখানে এনিমের প্রধান চরিত্র ১৬ বছরের বালিকা ওহানা মাতসুমায় কে তার মা টোকিও থেকে ওহানার নানীর কাছে পাঠিয়ে দেয়, কারণটা উহ্যই থাক!

ওহানার নানী আবার বিশাল এক হোটেলের মালকিন, যে হোটেলকে এনিমেতে আপনি কিসুই নামে চিনবেন, তো ওহানাকে বাধ্য হয়ে সেখানে যেতে হয় এবং সে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হয় যাতে তাকে তাড়িয়ে দেয়া না হয়! ওহানা স্বভাবতই কিছুটা চঞ্চল এবং বাচাল প্রকৃতির, তাই সেই হোটেলে বন্ধু পেতে তার তেমন কষ্ট হয় না!! সেই সাথে চলতে থাকে তার কাজ। কিন্তু কিসুই তে কাজ করা মোটেও সহজ ব্যাপার নয়, কিসুই এর কর্মচারীর সংখ্যা অনেক কম, যদিও সেই কমসংখ্যক কর্মচারীদের মধ্যে যে একতা ও বন্ধুত্ব তা অনেক হোটেল এ দেখা যায় না, কিন্তু আসলেই কি শান্তিতে আছে কিসুই ইনন!! আশে-পাশের অন্যান্য বিশাল বিশাল হোটেলগুলোর চেয়ে ব্যাবসা ও পাবলিসিটির ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে কিসুই। শুধু একতা বা সেবার মান দিয়ে কতদিন চলে! তার উপর কোন একজন সাংবাদিক কিসুই নিয়ে বিরূপ আর্টিকেল লিখে তাদের আরো বিপদে ফেলে দেয়!!! কি তার উদ্দেশ্য? কিসুই কি পারবে তার জায়গা পুন:প্রতিষ্ঠা করতে? কিন্তু কিভাবে?

জানতে হলে আপনাকে দেখতেই হবে এনিমিটি!!!

নিজের কাজকে কতটা উপভোগ করে করা যায়! এতে কেমন সাফল্য আসবে তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এনিমেটিতে! এনিমেটিতে রোমান্স ফ্যাক্টরটিকেও সুন্দরভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যেমন ওহানার টোকিও তে থাকা বয়ফ্রেন্ড কো, হোটেলের শেফ মিনচির সাথে আরেক শেফ তোহুরু এর একপেশে প্রেমের কাহিনী! কিছুক্ষেত্রে এনিমেটি কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে; যেমন গল্পে ওহানাকে একটু বেশিই ফোকাস করা হয়েছে! আবার ওহানার ক্যারেক্টার ডেভেলাপিং নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে:-

ওহানাকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে একজন সাধারণ বালিকা থেকে ম্যাচিউরড ওমেন এ রূপান্তর করাটা একটু বাড়াবাড়িই ছিল বটে। ওহানা ছাড়া অন্য চরিত্রগুলোকে মোটামুটি কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে! এসব ছোটখাট জিনিস বাদ দিলে এনিমিটি উপভোগ যোগ্য। এনিমিটির দুটো করে ওপেনিং ও এন্ডিং গান সবগুলোই আপনার ভাল লাগতে বাধ্য!!!

Hanasaku Iroha 2

Usagi Drop [রিভিউ] — Arafin Shanto

Usagi Drop

Anime:- Usagi Drop
Genre:- Comedy;; Slice Of Life
MAL rating:-8.6
personal rating:-8.9

এনিমেতে সাধারণত চাইল্ডকেয়ার বিষয়টি উপরে উঠে আসে না;
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখানো হয় দীর্ঘ সূত্রের পারিবারিক বন্ধন।যেখানে বাবা-মা না থাকলেও হয়ত সন্তান টি বড় হয়ে ওঠে পরিবারের অন্যান্যদের ছত্রছায়ায় ;;
সেদিক থেকে উসাগি ড্রপ সম্পূর্ণ আলাদা;;
যেখানে দেখা যায় ; দাদার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে গিয়ে গল্পের নায়ক দাইকিচি একটি অপিরিচিত; ছোট মেয়েকে দাদার বাড়ির আংিনায় দেখতে পায়। প্রথম দেখাতে মেয়েটি হতচকিত হয়ে দাইকিচির আড়ালে চলে যায়;;
পরে দাইকিচি পরিবারের অন্যান্যদের সূত্রে জানতে পারে; মেয়েটি তার দাদার সন্তান; যদিও অবৈধ ;; মেয়েটি সবার আড়ালে চুপচাপ থাকতেই বেশি পছন্দ করে;;

যাইহোক দাদার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে পারিবারিক সভা ডাকা হয় মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য;;খুভ সাভাবিক ভাবেই সবাই মেয়েটির দায়িত্ত নিতে অসীকৃতি জানায়; যখন অমিমাংসিত সভায় মেয়েটিকে চাইল্ডকেয়ারে দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়াটাই চূড়ান্ত হচ্ছিল;তখন মুখ খোলে দাইকিচি;
সে মেয়েটিকে দত্তক নিতে চায়;
আর এভাবেই শুরু হয় দাইকিচি-রিনের জীবনের নতুন পথচলা;;
দাইকিচির জীবনে আসতে থাকে পরিবর্তন;
সে রিন কে তার প্রয়োজন এর তাগিদে ডে-কেয়ার এ ভর্তি করায়;;
সে অফিসের ওভারটাইম করা বন্ধ করে দেয়;;ছেড়ে দেয় বন্ধুদের সাথে আড্ডা;;

আরো অনেক আনন্দ-হাসি-কান্নার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে দাইকিচি-রিনের জীবন;;

মাংগা নিয়ে আপত্তি থাকলেও আমি এনিম টা নিয়ে বলতে চাই এক কথায় অসাধারণ;
এখানে একজন সাধারণ বাবা-মেয়ের মতই দাইকিচি-রিনের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে ;;
এনিমের ড্রয়িং মোটামুটি ভালই ;
মিউজিক কোয়ালিটি যথেষ্ট ভাল;
ওপেনিং – ইন্ডিং বিশেষত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আপনাকে নিয়ে যাবে অন্যরকম ভাললাগার দুনিয়ায়।

তাই দেরি না করে তাড়াতাড়ি দেখে ফেলুন ১১ এপিসোডের এই সোল এনিমটি ;;

ধন্যবাদ