BECK: Mongolian Chop Sqad [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

beck_mongolian_chop_squad

Anime: BECK: MONGOLIAN CHOP SQUAD
Genre: Music, Slice of life, Comedy-drama
Episode: 26
Year: 2004
Studio: Madhouse
¤
কুরবানির ছুটিতে কিছুদিন বাড়িতে ছিলাম। একটা এনিমে দেখবো দেখবো করছিলাম। এক সিনিয়রের পরামর্শে বেক নামালাম ও দেখলাম। মিউজিক বোধহয় আসলেই জীবনের কথা বলে আর এজন্যই সব মিউজিক ভিত্তিক এনিমেগুলা ভালো হয়। BECK ও এর ব্যতিক্রম নয়। ছাব্বিশটা পর্ব আর হাতে সময় ছিল সাত দিন। কিন্তু ডেটলাইন শেষ হওয়ার দুই দিন আগেই এনিমেটা দেখে শেষ করি। ক্লাসিকাল মিউজিক নিয়ে কিছু এনিমে দেখা হলেও রক মিউজিক নিয়ে এটাই প্রথম অভিজ্ঞতা। শিগাতসুর পর আরেকটা এনিমে পেলাম যার মধ্যে অনেকগুলো ভালো ভালো অরিজিনাল সং আছে।
¤
কাহিনী আবর্তিত হয় তানাকা কয়ুকি নামক এক নিরীহ মিডল স্কুল বালককে ঘিরে। ক্রমাগত বুলিংয়ের শিকার হওয়া কয়ুকি যখন পৃথিবীর সব ধরণের এলিমেন্টের উপর আকর্ষন হারিয়ে ফেলছিল ঠিক তখনই ঘটনাচক্রে BECK নামক এক অদ্ভুত দর্শন কুকুরের সাথে তার দেখা হয়ে যায়। কিছু অল্প বয়স্ক বালকের কবল থেকে কুকুরটাকে রক্ষা করার পর কুকুরটির মালিক রিয়ুসকে মিনামি তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানায়। পরবর্তিতে বন্ধু মারফত কয়ুকি জানতে পারে যে, রিয়ুসকে নিজেকে বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড ‘THE DYING BREED’ এর লিড গিটারিস্ট এডি লি এর বন্ধু বলে দাবি করে। রিয়ুসকে আট বছর USA এ তে কাটানোতে জাপানিজের চেয়ে ইংরেজিতেই বেশি দক্ষ। তারপর কয়ুকি আবিষ্কার করে যে, রিয়ুসকে আসলেই একজন প্রতিভাবান গিটারিস্ট এবং তাকে নেকস্ট জিমি পেইজ নামে ডাকা হয়। রিয়ুসকে ‘SERIAL MAMA’ নামক একটা ব্যান্ডের সদস্য যারা কিনা বিভিন্ন কনসার্ট হলে লাইভ পারফরম্যান্স করে থাকে।কিন্তু ব্যান্ডের আরেক সদস্য এইজির সাথে রিয়ুসকের দ্বন্দ্ব বাঁধে এবং এই দ্বন্দ্বের জের ধরে সিরিয়াল মামা ব্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়। রিয়ুসকে ও এইজি উভয়েই একটি আল্টিমেট ব্যান্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ নেয় এবং সেই লক্ষ্যে নতুন মেম্বার খোঁজা শুরু করে। রিয়ুসকে তায়রা কুন নামের এক প্রতিভাবান বেসিস্টকে বেস গিটারিস্ট হিসেবে পাশে পায়। নিমরাজি হওয়ার পরও চিবা কুনকে সে দলে নেয় ভোকাল হিসেবে যে কিনা কারাতেতেও পারদর্শী। আর কোগা সান নামক একজনকে ড্রামার হিসেবে ব্যান্ডে নেওয়া হয়। ব্যান্ডের নাম দেওয়া হয় রিয়ুসকের অদ্ভুতদর্শন কুকুর BECK এর নামে। এই ফাঁকে রিয়ুসকের সাথে কয়ুকির ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে ও এরই প্রভাবে সারাজীবন আইডল মার্কা গান শোনা কয়ুকি রক মিউজিকের দিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করে। সে BECK এর বিভিন্ন লাইভ শো তে উপস্থিত থাকা শুরু করে। এরকম এক শো তেই রিয়ুসকে তার চতুর্দশী কিশোরি বোন মাহো মিনামির সাথে কয়ুকির পরিচয় করিয়ে দেয়। সমবয়সী হওয়ায় মাহো আর কয়ুকির মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। পশ্চিমা সংষ্কৃতির স্পর্শে বেড়ে উঠা মাহোর সাহসী চলাফেরা কয়ুকির মনে ভালোবাসার অনুভূতির সঞ্চার করে। মাহো নিজেও খুব ভালো গায়কির অধিকারী কিন্তু তারপরও সে মিউজিকে ক্যারিয়ার গড়তে চায় না। একদিন রিয়ুসকের আস্তানা হতে ফেরার সময় সুইমিং পুলের পানিতে চাঁদের পূর্ণ প্রতিবিম্ব দেখে অদ্ভুত সুরেলা কণ্ঠে মাহো ‘THE DYING BREED’ এর ‘MOON ON THE WATER’ গাওয়া শুরু করে। সঙ্গে থাকা কয়ুকিও তখন আবেগবশত গানটির প্রথম চার লাইন গেয়ে উঠে। তখনই মাহো কয়ুকির প্রতিভা অনুধাবণ করতে পারে এবং কয়ুকিকে BECK এ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রিয়ুসকেকে অনুরোধ করে। ইতোমধ্যে কয়ুকি সাইটো সান নামক এক সাবেক সাঁতারু ও সঙ্গীতপ্রেমীর কাছে গিটারের তালিম নেওয়া শুরু করে। পরবর্তিতে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কয়ুকি BECK এর সদস্যপদ পায়। সাথে সঙ্গী হিসেবে পায় ট্রান্সফার হওয়া স্কুল ফ্রেন্ড সাকুরাই ওরফে সাক্কুকে যাকে কিনা কোগা সানের বদলে ড্রামার হিসেবে দলে নেওয়া হয়। শুরু হয় একদল নবীন অভিযাত্রী কাঁটাভরা পথে দুর্গম যাত্রা…
¤
বেক নিয়ে কথা বলতে গেলে এর গ্রাফিক্স নিয়ে কিছু কথা বলতেই হবে। এনিমেটা যে ম্যাডহাউজের তা একটুও আন্দাজ করতে পারি নি। এনিমেশন খুবই পুরনো ধাঁচের তবে তাতে পশ্চিমা সংষ্কৃতির ধাঁচটা ভালোভাবেই উঠে এসেছে। আর ক্যারেকটার ডিজাইন খুবই সাদামাটা। এতই সাদামাটা যে কোন চরিত্রকে অনিন্দ্যসুন্দর করে উপস্থাপন করার চেষ্টাই করা হয় নি (মানে এক দৃষ্টিতে ক্রাশ খাওয়ার মত করে কাউকে ডিজাইন করা হয় নি)। তবে গিটারগুলোর ডিজাইনে অসাধারণ কম্পিউটার গ্রাফিক্সের ব্যবহার করা হয়েছে। গিটারগুলোকে অনেকটা বাস্তবই মনে হয়েছে বটে। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে Lucille আর White Falcon এর ডিজাইন দুটো।
¤
বেক এনিমেটার মূল আকর্ষনই হল মিউজিক যেখানে অরিজিনাল সংগুলাই মূখ্য, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকই বরং গৌণ। অসাধারণ একগাদা অরিজিনাল সং ব্যবহৃত হয়েছে এনিমেটাতে। বেক মূলত হিপহপ ও ওল্ড ব্লুজ রক ঘরানার গান পরিবেশন করে থাকে। এর মধ্যে চিবা কুনের গাওয়া ‘BRAINSTORM’ ও ‘SPICE OF LIFE’ গান দুটো উপভোগ্য। তবে মূল আকর্ষন হল কয়ুকির গাওয়া ব্লুজ রক গানগুলো। তার গাওয়া ‘FACE’, ‘MOON ON THE WATER’, ‘SLIP OUT’ গানগুলো আন্তর্জাতিক মানের বলে মনে করি। আর সাথে আছে একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকে গাওয়া দ্য বিটলসের ‘I’ve got a feeling’ অসাধারণ গিটারওয়ার্কও এনিমেটার অন্যতম প্লাসপয়েন্ট।আর BEAT CRUSEDARS এর গাওয়া ওপেনিং ‘HIT IN THE USA’ গানটা একেবারেও স্কিপ করতে পারবেন না। প্রথম এন্ডিং ‘MY WORLD DOWN’ গানটাও ভালো মানের।
¤
সর্বোপরি এনিমেটাকে আমি মাস্টারপিসের ক্যাটাগরিতে রাখতে চাইবো। কারণ এরকম একটা অপরিচিত সংষ্কৃতিকে কেন্দ্র করে শক্ত কাহিনীর গাঁথুনি দিয়ে এনিমেটাকে অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে এবং কাজটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাসপেন্স, থ্রিল, হালকা মিস্ট্রি, রোমান্স, ম্যাচিউরড কনটেন্ট, ব্যাকস্টেজ পলিটিকস সবকিছুই অত্যন্ত পরিমাণমত দেখানো হয়েছে। এনিমেটা সাবে দেখলেও এত বেশি ইংরেজি সংলাপ আছে যে মাঝে মাঝে মনে হত ইংলিশ ডাব দেখছি। আর মাহো আর কয়ুকির রিলেশন দেখে একটা জিনিসই শিখেছি আর তা হল, “বামুন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে নেই।” আর মাহোর প্রতি রিয়ুসকের দায়িত্বপরায়ণতা দেখে আমি পুরা তব্দা খাইছি।

এনিমে রিভিউ: বেক: মঙ্গোলিয়ান চপ স্কোয়াড — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আজকালকার যান্ত্রিকযুগে সবাই ব্যাস্ত । কেউ অফিসে , কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবাই কোন না কোন কাজে ব্যাস্ত । ফলে স্বভাবতই স্ট্রেস , ক্লান্তি , হতাশা এগুলো বড়সমস্যা । কিন্তু এগুলো কাঁটানোর সবচেয়ে ভালো উপায় কি তাহলে ? তা হল সঙ্গীত । মিউজিকের চেয়ে স্ট্রসরিলিভার আর কিছু হয় না । গল্পের বই পড়ছেন পাশে চলছে হেমন্ত অথবা মান্নাদের ক্ল্যাসিকাল ধ্রুপদ গান । বাসে দাড়িয়ে আছেন কানে বাজছে এড শিরান অথবা কোল্ডপ্লে আবার সারাদিনের ঝামেল শেষ করে স্ট্রেস থেকে মুক্তির জন্য আমার মতো মেটালহেডরা ডুব দি আয়রন মেইডন অথবা এলুভিটির দুনিয়ায় । এখন এই মিউজিকাল স্লাইস অফ লাইফ নিয়ে বহুত এনিমে হয়েছে , কিন্তু তার ৯০শতাংশ ক্ল্যাসিকাল ।রকব্যান্ড নিয়ে যে কয়টি এনিমে হয়েছে তার মধ্যে সেরা এবং সম্ভবত মিউজিকাল জানরার মধ্যে অন্যতম সেরা এনিমে হল বেক ।

Beck 1
কাহিনী : এই কাহিনী যাকে ঘিরে , তার নাম য়ুকিয়ো তানাকা বা সংক্ষেপে কোয়ুকি । সে একজন অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্র এবং তার দৈনন্দিন জীবনের উপর বিরক্ত , কোন শখ বা টার্গেট না থাকলে যা হয় আর কি ! তো একদিন একটি অদ্ভূত দেখতে কুকুরকে শয়তান ছোকরাদের হাত থেকে বাঁচানোর সময় পরিচয় হয় বেক নামক কুকুরের মালিক মিউজিশিয়ান গিটারিস্ট রিয়ুসকের সাথে । এবং এই রিয়ুসকেই ধীরে ধীরে বদলে দেয় কোয়ুকির জীবন । রিয়ুসকের ফলে কোয়ুকি ধীরে ধীরে পশ্চিমা রক সঙ্গীতের দিকে আকর্ষিত হতে থাকে । সে একসময় গিটার শেখা শুরু করে এবং তার সুন্দর কন্ঠ এবং নিষ্ঠার ফলে একসময় রিয়ুসকের নবগঠিত ব্যান্ড বেকে যোগদেয় । এবং এর সদস্য চিবা , টারিয়া ,সাকুরাই এবং রিয়ুসকের সত্‍ বোন মাহোর সাথে কোয়ুকির দৈনন্দিন জীবন এবং বেকব্যান্ডের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা নিয়েই এই এনিমে । একটা রকব্যান্ডকে যে কত বাধাবিপত্তি সমস্যার মুখে পড়তে পারে এবং মিউজিশিয়ানদের স্ট্রাগল এবং ব্যান্ডের ভাঙ্গাগড়া নিয়েই এই এনিমের প্লটলাইন ।

Beck 2
প্রথম কথা হল ব্যাকের এনিমে এডাপ্টেশন করেছে ম্যাডহাউজ ,সুতরাং এনিমেশন কোয়ালিটি ভালো । এবং এর মূল আকর্ষন হল এর রিয়েলিস্টিক স্টোরিলাইন । সাধারনত মিউজিকাল এনিমেতে কিছু ফ্ল্যাশি সিন থাকে কিন্তু বেক দেখিয়েছে বাস্তবতাকে এবং সকল প্রকার ফ্ল্যাশি সিন বিবর্জিত আরও যে ব্যান্ড গঠন করলেই সব হয় না , তা ধরে রাখতে হয় । এখানে প্রত্যেক ক্যারেকটারের দৈনন্দিন জীবন নিখুত ভাবে দেখানো হয়েছে । এখন আসি সাউন্ডট্রাকের কথায় । এ ব্যান্ড হল ওয়ের্স্টান রকসঙ্গীত দ্বারা প্রভাবিত . তো বেকের ট্র্যাকগুলো ইংরেজিতে । তত্‍কালিন জাপানে ফ্রেডি , বিটলস , জিমি হেনড্রিক্স , লেড জ্যাপলিন এদের সঙ্গীত যে প্রভাব বিস্তার করেছিল তা এই এনিমে দেখলেই বোঝা যাবে । এবং এরা এই এনিমেতে একবার দেখাও দেয় !ট্রাকগুলো খুবই সুন্দর তবে আহামরি নয় । কোন ব্যান্ড গঠিত হলেই যে অসাধারন গান করতে হবে এমন কোন কথা আছে নাকি !?
এনিমে পর্ব মাত্র ২৬টি । এবং এই এনিমে অবশ্যই ডাবে দেখার চেষ্টা করবেন । আর এই এনিমে দেখার পর যখন অর্থহীন , শূন্য ,আর্টসেলের বা অন্য ব্যান্ডের গান শুনতে যাবেন , তখন হয়ত এই ব্যান্ডগুলোর শুরুর দিকে কি স্ট্রাগল করতে হয়েছে তা আপনার কল্পনায় উঁকি দিয়ে যাবে এবং সাক্ষী হবেন এক মিউজিশিয়ানের বেড়ে ওঠা , তো সময় থাকলে দেখে ফেলুন বেক মঙ্গোলিয়ান চপ স্কোয়াড !
আমার রেটিং ৯/১০

Ending theme: http://www.youtube.com/watch?v=HFOnL-XnCEM

Beck মাঙ্গা রিভিউ — Asfina Hassan Juicy

1

‘BECK’
প.স.- আমি এনিমেটা দেখিনাই তাই খালি মাঙ্গার রিভিউ দিলাম।

অনেকদিন ধরে শখ একটা গিটার কিনবেন?যারা গিটার বাজায় তাদেরকে কার না ‘কুল’ লাগে তাইনা?শেষ পর্যন্ত একটা গিটার কিনেই ফেললেন।এখন ‘গিটার’ এর সাথে ‘ব্যান্ড’ শব্দটাতো আসেই।তো আর কি,একে ওকে ধরে একটা ব্যান্ডও বানিয়ে ফেললেন।বুকে ভালোবাসা সঙ্গীতের প্রতি আর চোখে স্বপ্ন সবার হৃদয় ‘আপনার গান’ দিয়ে ছুঁয়ে দেয়ার।তারপর কিছুদিন পর দেখলেন ভার্সিটির এক্সাম হলে বসে মাথার চুল ছিঁড়ছেন আর চোখে দেখছেন খালি সরষে ফুল।“ব্যান্ড?সেটা আবার কি?”
একটা মিউজিক ব্যান্ড কত শখ,কত স্বপ্ন থেকেই শুরু হয়।কিন্তু কয়টা ব্যান্ড সেই উচ্চ আলোকিত স্টেজে উঠে তাদের সৃষ্ট ‘মিউজিক’দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে?কয়জন পারে মানুষের হৃদয় চিন্তার সাথে তাদের ‘মিউজিক’ একাত্ম করে তাদের ভালোবাসা কেড়ে নিতে?মিউজিকের সাথে মানুষের অন্তরের সম্পর্ক অনেক গভীর।নিজের হৃদয়ের সুগভীরের অনুভূতি,কথা আরেকজনের মনে সুর তুলে তাকেও তা অনুভূত করানোটাকি একটু জাদুময়ী না?
মিউজিকের এমন চমৎকার জগত সম্পর্কে একদমই অবগত ছিলনা জাপানের এক ‘boring’ এবং ‘good for nothing’ বাবু চেহারার স্কুল স্টুডেন্ট কোয়ুকি।মিউজিক বলতে সে খালি বোঝে জাপানি আইডলদের গান।একদিন তার পুরনো ক্রাশ এবং সেনপাইয়ের বদৌলতে তার পরিচয় ঘটে ওয়েস্টার্ন এক বিখ্যাত রক ব্যান্ডের মেম্বারের বন্ধু গিটারিস্ট রিয়ুসুকের সাথে।এই পরিচয় থেকেই কোয়ুকির প্রবেশ ঘটে রক মিউজিকের পৃথিবীতে।তারপর কোয়ুকি রিয়ুসুকের ব্যান্ডে যোগ দিল আর কিছুদিন পরেই পৃথিবী মাতিয়ে দিল?না।‘Beck’ এনিমে/মাঙ্গার চমৎকারত্ব এখানেই।
‘Beck’ কোয়ুকির গল্প।
‘Beck’ একটা ব্যান্ডের গল্প।
‘Beck’ মিউজিকের গল্প।
‘Beck’ বাধা এবং স্ট্রাগলিং-এর গল্প।
‘Beck’ স্বপ্ন এবং হৃদয়ের সুরের গল্প।
আবার ‘Beck’ একটা ভালোবাসার গল্পও।
তো কেন এমন চমৎকার একটা পিস দেখবেন না/পড়বেন না?এখনি বসে পড়ুন আর অংশ নিন ‘Beck-Mongolian Chop Squad’ নামক ব্যান্ডের সেই উচ্চ আলোকিত স্টেজে উঠে মানুষের হৃদয় স্পর্শের যাত্রায় যেখানে আছে আনন্দ,হতাশা,বাধা,জাদুময়ী মিউজিক জগতের কিছু অন্ধকার দিক এবং জীবনের স্বপ্ন পূরণের অসাধারণ উদ্যম।আরেকটা জিনিস হল ‘Beck’ মেইন্সট্রিম মিউজিককে ফোকাস না করে ক্লাসিক রক বা ইন্ডির দিকে ফোকাস করে।একজন ক্লাসিক রক ফ্যান হয়ে থাকলে অবশ্যই নিজের কাছের এক কাহিনী মনে হবে এবং অবশ্যই নিজের পছন্দের অনেক ব্যান্ড এবং গায়কের প্রচুর রেফারেন্স পাবেন।
সবশেষে ‘Beck’ এর একটা কুয়োট দিয়ে যাই-
“If you’ve never been at the bottom, you can’t get to the top.. If you’ve never been to the right, you can’t go to the left.. If you’ve never lost hope, you can’t understand what is truly important.”
MAL Rating: মাঙ্গা-৮.৭৩
এনিমে-৮.৪৫
আমার রেটিং : নাই কারণ আমি দ্বিধা দ্বন্দে ভুগি।

2

Dude, Dat’s Deep (BECK) – By Kuro-Hat no “Deep”to Haque

Anime: BECK
Episodes: 26
Genre: Music, Drama, Slice of Life
Year: 2004
বেক এনিমেটা একটা উঠতি মিউসিশিয়ান ও ব্যান্ডকে নিয়ে। এতে প্রতি পর্বের আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে নানা রেফারেন্স, নানা মৃত রকস্টারদের প্রতি ট্রিবিউট। যাদের জীবনে মিউসিক অনেক বড় অংশ জুড়ে আছে, তাদের জন্য একটা পারফেক্ট এনিমে হল বেক (যদিও এর কাহিনী পুরাটুকু জানার জন্য মাঙ্গা পড়তে হবে…)

#Characterizations:

১। Yoshiyuki Taira: বেক ব্যান্ডের বেসিস্ট। একে পোট্রে করা হয়েছে সম্পূর্ণভাবে Red Hot Chilli Peppers ব্যান্ডটির বেসিস্ট Michael “Flea” Balzary এর উপর ভিত্তি করে। দুজনের বেইজ গিটার বাজানোর স্টাইল একরকম, দুজনেরি ব্লিচড চুল ও খালি গায়ে পারফরমেন্স করার অভ্যাস।

২। Tsunemi Chiba: বেক ব্যান্ডের ভোকাল (র‍্যাপার)। তার র‍্যাপিং ও গান গাওয়ার স্টাইলের সাথে Rage Against the Machine ব্যান্ডের Zack De La Rocha এর অনেক মিল পাওয়া যায়। বাই দা ওয়ে, দুজনেরই AFRO আছে…

৩। Eddie Lee: রিউসকে এর বড় ভাই এর মত। Dying Breed ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট। একে দেখতে অনেকটা Kurt Cobain এর মত।

৪। Matt Reed: Dying Breed ব্যান্ডের ভোকালিস্ট। The Smashing Pumpkins ব্যান্ডের ভোকাল ও সং রাইটার Billy Corgan যদি সানগ্লাস পড়ত, তাইলে ওরে ম্যাটের মত দেখাইত…

৫। Beck(কুত্তা), Page(কাকাতুয়া) and Keith(আরেকটা কুত্তা): এদের নাম যথাক্রমে Jeff Beck (Guitarist, The Yardbirds), Jimmy Page (Guitarist of Led Zeppelin) এবং Keith Richards (Guitarist of The Rolling Stones) এর নাম থেকে এসেছে।

# কোইউকির স্বপ্নঃ

না এখানে কোইউকির বড় মিউজিশিয়ান হওয়া বা মাহোকে কাছে পাওয়ার স্বপ্নের কথা বলা হচ্ছে না।

এপিসোড ১৪ তে কোইউকির জ্বর হয় ও তখন ঘুমের ঘোড়ে সে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে। এতে দেখা যায় অনেক আজব কিছু ব্যাক্তি বিশাল এক মাঠে ময়লা পরিষ্কার করছে। এরা আসলে প্রত্যেকেই নানা মৃত রকস্টার। তাদের নাম নিচে এপেয়ারেন্স অনুসারে দেয়া হলঃ

i) John Lennon : চশমা পড়া লম্বা চুলের ভদ্রলোক। The Beatles এর ফাউন্ডিং মেম্বার ও আমার প্রিয় মিউসিক ব্যাক্তিত্ব। নিজের কনসার্টে নিজেরই একজন ভক্তের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন।

ii) Freddie Mercury: সাদা প্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরা মোচওয়ালা গে-ইশ পুরুষ। Queen ব্যান্ডের ভোকাল ও এখন পর্যন্ত বিশ্বের সেরা ভোকাল (Scientifically Proven!)। বাইসেক্সুয়াল ছিলেন ও এইডস এ মারা যান।

iii) Jim Morrison: আওড়া কাওড়া কালো চুলের তরুণ। The Doors ব্যান্ডের ভোকাল ও পিয়ানিস্ট। The Lizard King নামেও পরিচিত। এও মাত্র ২৭ বছর বয়সে (সম্ভবত অতিরিক্ত ড্রাগস নেয়ার জন্যই) মারা গেছে।

iv) Kurt Cobain: সোনালি চুলের হ্যান্ডসাম যুবক। Nirvana ব্যান্ডের গিতারিস্ট ও ভোকাল। মাত্র ২৭ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যু নিয়ে অনেক গুজব ও রহস্য রয়েছে।

v) Sid Vicious: চেহারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভচকা করে রাখা খাড়া চুলের তরুণ। The Sex Pistols ব্যান্ডের বেসিস্ট ও টেকনিকালি পাঙ্ক এর জনক। ইনি প্রেমিকার মৃত্যুশোকে আত্মহত্যা করেন।

vi) দুঃখিত… ইনাকে চিনতে পারতেসি না…

vii) Jimi Hendrix: কোঁকড়ানো চুলের বিড়ি খেতে থাকা লোক। এও মাত্র ২৭ বছর বয়সে অতিরিক্ত ড্রাগস নেয়ার জন্য মারা গেছে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট হিসেবে বিবেচিত। একে Guitar God ও বলা হয়ে  থাকে।

#Lucille:

Lucille হল বেক এনিমেতে রিউসকের ব্যবহার করা গিটার। এতে অনেকগুলা গুলির গর্ত আছে। এনিমেতে বলা হয়, এটা আসলে Sonny Boy এর গিটার। কিন্তু ঘটনা অন্য জায়গায়…

Lucille নামে আসলেই একটা গিটার আসে, এবং সেটা B. B. King এর। সেটার ইতিহাস হলঃ

একবার এক বারে (Random Word pun) বসে বি বি কিং গিটার বাজাচ্ছিলেন। এমন সময় ২ ব্যক্তির মধ্যে লুসিল নামের এক মেয়েকে নিএ বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ব্যাপারটা ভয়াবহ আকার ধারন করে ও বারে আগুন লেগে যায়।

অগ্নিস্নাত বার থেকে বি বি কিং বের হয়ে আসার পর বুঝতে পারলেন যে উনি উনার মাত্র ৩০ ডলারের(গিটারের জন্য অনেক কম) গিবসন গিটারটি ফেলে এসেছেন। তাই, উনি আবার সেই জ্বলন্ত বারে আবার ঢোকেন সেই গিটারটি আনার জন্য।

সেই গিটারটি ফেরত পাবার পর এই ঘটনাকে স্মরণীয় করার জন্য গিটারটির নাম দেন “লুসিল”।

(বাই দা ওয়ে, সনি বয় নামে আসলেই একজন ব্লুস মিউজিসিয়ান ছিলেন… কিন্তু এই ঘটনার সাথে উনার কন সম্পৃক্ততা খুজে পাওয়া যায় নি…)

#বিবিধঃ

১। এনিমেতে ক্যারেক্টারদের গায়ে প্রায়ই নানা ব্যান্ডের টি-শার্ট দেখা যায়, যেমন- The Rammones, The Pixis, The Who, etc.

২। মাহো আর কোইউকির পুনর্মিলন যে রেলস্টেশনে হয়, ডার্টফোর্ডের ঠিক একই রকম এক স্টেশনে Mick Jagger ও Keith Richards এর রিইউনিয়ন হয়, আর সেখান থেকেই The Rolling Stones নামের এক বিখ্যাত ব্যান্ড তৈরি হয়।

আশা করি কোন ভুল ইনফো দেই নাই। কোন কারেকশান এর প্রয়োজন বোধ হলে জানাতে ভুলবেন না।

I hope you all liked it!

ও, অলমোস্ট ফরগট, Beck নামে আসলেও একটা ফেমাস মিউজিশিয়ান আছে, যার পুরা নাম Beck Hansen. (এর বিখ্যাত গান “Loser” শুনে দেখতে পারেন… )

beck

এফ এ সি ৩০

রান্ডম টপিক

পম্পাদৌর[Pompadour]

 

 

আনিমেতে ডেলিনকোয়েন্টদের পছন্দের চুলের স্টাইল এর উত্পত্তি কিন্তু ফ্রান্সে, রাজা চতুর্দশ লুই এর রক্ষিতার নামানুসারে। পরবর্তীতে এলভিস প্রিসলি এই স্টাইলটাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। আপনি চাইলে বাড়িতে বসে এই স্টাইল করতে পারেন, কয়েক কেজি জেল লাগবে আরকি।

 

 

আনিমে সাজেশন

বেক[Beck]

 

ঘটনাচক্রে কোয়ুকির পরিচয় হয়ে গেলো রিউস্কের সাথে। তারা একটা ব্যান্ড খুলল, নাম বেক।এই গল্প বেকের সদস্যদের, তাদের স্বপ্ন, তাদের অনুভূতি, আশা আকাঙ্ক্ষা, আর সেই সাথে আছে কয়েক চিমটি রোমান্স।

 

কেন দেখবেন; মিউজিক জন্রার আনিমের কথা বললে বেকের নাম একদম শুরুর দিকেই আসবে। সাবলীল কাহিনী, শক্তিশালী ক্যারেক্টার, ভালো মিউজিক। এছাড়া আমার খুব পছন্দের একটা ফিমেইল ক্যারেক্টার আছে এই আনিমেতে, এমন স্ত্রং উইলড ফিমেইল ক্যারেক্টার সচরাচর দেখা যায় না।

কেন দেখবেন নাঃ মূলত স্লাইস অব লাইফ মিউজিক জন্রার আনিমে এটা, তুলনামূলক স্লো পেইসড। কাজেই শুধু শউনেন জন্রার ফ্যানরা পছন্দ করবেন বলে মনে হয় না।

 

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৪৭

আমার রেটিং ৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

স্ল্যাম ডাঙ্ক[Slam Dunk]

 

 

বাস্কেটবল ক্লাবে যোগ দেয়ার পিছনে হানামিচি সাকুরাগির কারণ ছিল একটাই, আর তা হল ক্লাবের ক্যাপ্টেন তাকেনরির বোনের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে পারা। ভয়াবহ ধরনের শো-অফ এই স্বঘোষিত জিনিয়াস কিভাবে শেষ পর্যন্ত তাঁর দু চোখের বিষ বাস্কেটবল খেলাটাকে ভালবেসে ফেলল?

 

 

কেন পড়বেনঃ আপাতদৃষ্টিতে প্লটটা বেশ সাধারণ, এবং বহুল ব্যবহৃত।  কিন্তু এর মধ্যেই তাকেহিকো ইনউয়ে তাঁর অসাধারণ মুনশিয়ানায় স্কুল লাইফ, বাস্কেটবল, রোমান্স, কমেডি, এই সব কিছুর দারুন সুন্দর সম্মিলন ঘটিয়েছেন। ভীষণ ডিটেইলড আঁকা, ম্যাচগুলো অসাধারণ, রিসেন্টলি মহা জনপ্রিয় হওয়া একটা বাস্কেটবল আনিমের মত এখানকার প্লেয়াররা জাদুবিদ্যা ব্যবহার করে না। ম্যাচগুলো এত আকর্ষণীয়, এত টুইস্ট আর টার্ন, কিছু ক্ষেত্রে দম বন্ধ করে থাকতে হয়। যারা আনিমে দেখেছেন, তাদেরও মাঙ্গা পড়া উচিত, কারণ সবচেয়ে এঞ্জয়েবল ম্যাচগুলোর একটা আনিমেতে দেখানো হয়নি। মোটের উপর, না পড়লেই মিস।

কেন পড়বেন নাঃ কোন কারণ নেই।

 

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৯৩

আমার রেটিং ১০

BECK : Anime Review from Fahim Bin Selim

 

কার কেমন লাগছে জানি না কিন্তু এইটা আমার দেখা মোটামুটি সবচেয়ে সত্যের কাছাকাছি থাকা অ্যানিমে। 
হঠাত করেই কোন ব্যান্ড তৈরী হইল আর সাথে সাথে সবাই অসাধারণ মিউজিশিয়ান হয়ে গেল – এমন না হয়ে আস্তে আস্তে যে স্টোরি ডেভেলপমেন্ট হইসে, সাথে ব্যান্ড আর তার সদস্যদের যে ডেভেলপমেন্ট হইসে(মানসিকভাবে+স্কিলের দিক দিয়ে) সেইটা অসাধারণ! 
২০০৪ সালের বলে অ্যানিমেশন ততটা আহামরি কিছু না, ফেস ইম্প্রেশনও মাঝেমাঝে অনেক উদ্ভট লাগছে। কিন্তু লেজেন্ডারি সব ব্যান্ডদের রেফারেন্স, পপ মিউজিককে মাঝে মাঝে পচানি আর মাথা নষ্ট করা সব গানের কাছে ওগুলা গোনায় ধরার মত না। রক/ক্লাসিক রক গানের ভক্তদের জন্য এর থেকে ভালো অ্যানিমে আর নাই। 

এইটা দেখার পর তিনটা জিনিস হইসেঃ
#১ আরেকবার আমার মাই অ্যানিমে লিস্টের রেটিং চেঞ্জ করলাম। 
#২ আমি অনেক অ্যানিমের ওএসটি শুনি নাই, কিন্তু আমার কাছে এখন এইটাই সবচেয়ে সেরা।
#৩ এইটা এখন আমার সবচেয়ে প্রিয় স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে।

মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিং: ৮.৪৮ (#৯৬)
আমার রেটিং: ৯(শেষ পর্বটা আরেকটু ভালো হইলে ১০ দিয়া দিতাম)