Children Who Chase Lost Voices (Hoshi wo Ou Kodomo) [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Children Who Chase Lost Voices - 1

মুভি: Children Who Chase Lost Voices ( Hoshi o Ou Kodomo)
জনরা: অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি
সাল: ২০১১
স্টুডিও: CoMix Wave Films
দৈর্ঘ্য: ১১৫ মিনিট
MAL রেটিং: ৭.৮
IMDB রেটিং: ৭.৩

মৃত্যুর পরের দুনিয়া নিয়ে আমাদের বরাবরই একটা নিষিদ্ধ আগ্রহ রয়েছে। ছোট বেলায় এই নিষিদ্ধ সত্য থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাবা-মা আমাদের মানুষ মারা যাওয়ার পর তারা অথবা চাঁদে চলে যায় এধরণের গল্প শোনাতেন। বড় হওয়ার পর যখন এই ছেলেভুলানো কথার ভ্রান্ততা সম্পর্কে অবগত হই তখন আবার মৃত মানুষকে ইহধামে ফিরিয়ে আনার অনিয়ন্ত্রিত ফ্যান্টাসি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এই সারমর্মকেই কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে Fullmetal Alchemist এর মত কালজয়ী এনিমে।
শিল্প-সাহিত্য-কল্পকথায় প্রিয় মানুষকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেকবারই মানুষের পাতালে যাওয়ার কথা বর্ণিত আছে। যেমন: সাপের দংশনে মারা যাওয়া স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য অর্ফিয়ুসের পাতাল গমন এবং সন্তান জন্মদানের সময় পরলোকগামী হওয়া স্ত্রী ইজানামিকে ফিরিয়ে আনার জন্য দেবতা ইজানাগির পাতাল অভিযান। তো ডিরেক্টর মাকাতো শিনকাই সাহেব বরাবরই তার সিনেমাতে দুটো মানুষের দূরত্বকে আলোকপাত করেন। কিন্তু Children Who Chase Lost Voices এ তিনি সেই দূরত্বকে দুনিয়াবি সীমানা থেকে বের করে এনেছেন। অন্য সিনেমাগুলোতে তিনি মানুষের মধ্যে দূরত্বের মাধ্যম হিসেবে টেনে এনেছেন মহাকাশ, শারীরিক অসক্ষমতা, যোগাযোগব্যবস্থার অপ্রতুলতা, বয়স ও মানসিকতার পার্থক্য এবং খোদ টাইম ও স্পেসকে। কিন্তু এই মুভিতে শিনকাই সাহেব দুটো মানুষের মধ্যে দূরত্ব হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন ইহকাল ও পরকালের মধ্যের সীমাকে!

Children Who Chase Lost Voices - 2

প্লট: কাহিনী আবর্তিত হয়েছে পনের বছর বয়সের বালিকা আসুনা ওয়াতাসেকে ঘিরে। অন্য অনেক এনিমে মুভির মত আসুনাও মফস্বল এলাকার মেয়ে। আসুনা পিতৃহীন, তার মাও নার্সিং পেশার কারণে মেয়েকে বেশি সময় দিতে পারেন না। স্কুল ছুটির পরের অবসর সময়গুলা আসুনা কাটায় পাহাড়ের গায়ে আবিষ্কৃত তার সিক্রেট প্লেসে। আসুনার বাবার উপহার দেওয়া একটা ক্রিস্টাল রেডিওর মাধ্যমে শুধুমাত্র ঐ হাইডআউটেই আসুনা একটি রহস্যময় সুর শুনতে পায়। একদিন স্কুল থেকে হাইডআউটে ফেরার সময় আসুনা এক ভয়ংকর জন্তুর আক্রমণের শিকার হয়। কিন্তু রহস্যময় এক কিশোর এসে ঘটনাক্রমে আসুনাকে ঐ জন্তুর হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে ঐ কিশোর নিজেকে Shun নামে পরিচয় দেয় এবং জানায় যে সে Agartha নামক এক ভিনদেশ থেকে এসেছে। শুন আসুনাকে আশীর্বাদ করে এবং বলে যে তার ইচ্ছা যে, আসুনা যেন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। শুনের অদ্ভুত আচরণে লজ্জিত আসুনা প্রতিশ্রুতি দেয় দেয় যে সে পরের দিন একই জায়গায় দেখা করবে শুনের সাথে। শুন তারার দিকে তাকিয়ে থাকে এবং পাহাড়ের ঢাল থেকে ঝাপ দেয়!
পরের দিন আসুনা তার মার কাছ থেকে জানতে পারে পাহাড়ি নদীর তীরে এক ছেলের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। অবিশ্বাস আর দুশ্চিন্তাভরা চাহনি নিয়ে আসুনা স্কুলের দিকে রওয়ানা দেয়। ক্লাসে আসুনার নতুন শিক্ষক মিঃ মোরিসাকি পরকালের কিছু স্থানের নাম উল্লেখ করেন। সেই স্থানগুলোর নামের মধ্যে Agartha নাম দেখে আসুনা যারপরনাই অবাক হয় এবং ক্লাস ছুটির পরই মিঃ মোরিসাকির সাথে দেখা এই বিষয় নিয়ে আলাপ করার জন্য। আলাপ শেষে আসুনা পাহাড়ের হাইড আউটে গিয়ে আসুনা শুনকে আবিষ্কার করে আশ্বস্ত হয়। কিন্তু এই শুন আসুনাকে চিনতে পারে না এবং পূর্ব সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। তখনই সেখানে আক্রমণ করে একদল সশস্ত্র যোদ্ধা এবং তারা ধাওয়া করে আসুনা আর শুনকে। তারা পাহাড়ের তলদেশে লুকায় একপর্যায়ে আগার্থার প্রবেশপথে চলে আসে। শুন জানায় যে সে আগার্থার নাগরিক এবং আগার্থার মধ্যেই আছে Gate of death and life যার মধ্য দিয়ে মৃত মানুষকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে সশস্ত্র দলের কমান্ডার আসুনাকে জিম্মি করে আগার্থার গেইট দিয়ে প্রবেশ করে। কে এই কমান্ডার? কিবা তার উদ্দেশ্য? সে কি শুধুমাত্র আগার্থার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের সংস্থার শক্তিবৃদ্ধি করতে চায় নাকি তার অন্য কোন
লক্ষ্য আছে? আর আসুনারই বা কি হবে এই পাতাল জগতে!

Children Who Chase Lost Voices - 3

এটি মাকাতো শিনকাইয়ের চতুর্থ মুভি এবং আমার দেখা তার বানানো মুভিগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। শিনকাইয়ের বানানো ছয়টি মুভির মধ্যে এই মুভিটি যথেষ্ট স্বতন্ত্র। বরাবরের মত এই মুভির ভিজুয়ালও ঝকঝকে ছিল। তবে এই মুভির দৃশ্যগুলাতে কিছুটা জিবলি জিবলি ভাব রয়েছে। বিশেষ করে আগার্থার দৃশ্যগুলার অ্যানিমেশনে এক টুকরো জিবলিকে খুঁজে পেয়েছি। শিনকাইয়ের মুভিতে যেইরকম কিছু কমন দৃশ্যপট থাকে তা এই মুভিতেও রয়েছে। ফিনিস টেরার যে ছবিটা আপলোড করেছি সেটার সাথে কিমি নো নাওয়ার গোধূলিলগ্নের দৃশ্যের সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়। এই মুভির ক্যারেকটার ডিজাইনও বরাবরের মত চকচকে তবে আসুনার ডিজাইনে জিবলির ছাপ আবারো খুঁজে পেলাম। খেয়াল করে দেখলাম When Marnie Was There(2014) এর Annar এর চেহারার সাথে আসুনার চেহারার ভাল মিল আছে। মুভির মিউজিক আগেরগুলার মতই ভাল ছিল। অন্য মুভিগুলোর মতই এই মুভির শেষেও ছিল একটি অসাধারণ থিম সং ‘Hello Goodbye & Hello’.

আর এই মুভির ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও বলার কিছু আছে। মানে আমি কাহিনী কোনদিকে যাবে তা নিয়ে যে সিদ্ধান্তেই পৌছেছি, কাহিনী ঠিক তার উল্টোদিকে গড়িয়েছে। জায়গায় জায়গায় ধরা খেয়ে আমি শেষপর্যন্ত প্রিডিকশন করা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিছু জায়গায় এসে ঠাহর করতে পারছিলাম না যে এই মুভির এন্ডিং দেওয়া যাবে কী করে!

তাই এই মুভির এন্ডিং নিয়ে কিছু কথা বলা যেতে পারে। শিনকাইয়ের অনেক মুভিতে অস্পষ্ট এন্ডিং দেওয়া হয় এবং প্রধান চরিত্রগুলোর নিয়তি দর্শকদের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই মুভিতে একটি সলিড এন্ডিং রয়েছে যা না হলে আমি কম খুশি হতাম না। মানে, সেন্সেইয়ের ইচ্ছা পূরণ হলেই আমি বেশি খুশি হতাম। কিন্তু কাহিনী অন্যদিকে চলে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষুদ্ধই হয়েছি। তবে শেষে সেন্সেইয়ের উদ্দেশ্যে শিনের বলা কথাগুলো ভাল ছিল।

এই মুভিতে Shakana Vimana (রাবণের পুষ্পরথ) বা Quetzalcoatl (মেসোআমেরিকান/অ্যাজটেক দেবতা) এর মত কিছু পৌরাণিক টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাপারটা ডিরেক্টর হিসেবে শিনকাইয়ের অগাথ জ্ঞানেরই পরিচয় দেয়। জিনিসগুলা একেবারেই অপরিচিত ছিল আমার কাছে তবে মুভিটা দেখার মাধ্যমে কিছু জিনিস জানারও সুযোগ হল।

Children Who Chase Lost Voices - 4

Children who chase Lost voices [মুভি রিভিউ] — Urmi Nishat Nini

Children who chase Lost voices

মুভিঃ Children who chase Lost voices
Director: Makoto Shinkai
IMBD rating: 7.3/10
Personal rating : 7.9/10
Production company: CoMix Wave

জীবনের একটা অংশ হল মৃত্যু। কিন্তু হঠাৎ করে প্রিয় কেউ মারা গেলে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন। তারপরও, যারা বেঁচে আছে তাদের নিয়ে জীবনে খুশি থাকা উচিত, এই বার্তাটাই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা এই ছবিতে।

Director Makoto Shinkai, যিনি “Garden of Words”, ” Five centimeters per second” তৈরি করেছেন। ছবির শুরু আসুনা নামের এক middle স্কুলের মেয়েকে দিয়ে, যে তার মা’র সাথে থাকে, বাবা মারা গিয়েছে। মা হাসপাতালে কাজের জন্য বাসায় থাকেন না প্রায় সময় ই। আসুনা একা থাকে, একাই সব কাজ করে। তার বাসার পাশে পাহাড়ে নিজস্ব একটা জায়গা আছে, যেখানে সে তার অবসর সময় কাটায়। হঠাৎ একদিন আসুনা স্কুল থেকে আসার পথে মুখমুখি হয় এক প্রানির, যা আকারে বিশাল, উদ্ভট। সুন নামের এক অদ্ভুত ছেলে তাকে বাঁচায় এই প্রানির হাত থেকে। পরে আসুনা জানতে পারে , সুন এসেছে “Agartha” নামক এক জায়গা থেকে। ওইদিন ই সুন মারা যায়। সুন মারা যাওয়ার পর স্কুলের নতুন আসা শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই এর কাছ থেকে খবর মিলে “Agartha” নামক জায়গা আসলেই আছে, যা মাটির নিচে, মৃত মানুষকে ফিরে পাওয়া যায় ওখানে। এই শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই তাঁর স্ত্রিকে হারিয়েছেন ১০ বছর আগে। তিনি তাঁর স্ত্রী কে ফিরিয়ে আনতে চান। এর মধ্যে ঘটনাপ্রবাহে আসুনা, মরিসাকি সেন্সেই প্রবেশ করে “Agartha” তে। আসুনা ফিরিয়ে আনতে চায় সুন কে, আর মরিসাকি সেন্সেই তাঁর অকালে মৃত্যুবরণ করা স্ত্রী কে। শুরু হয় ২ জনের adventure.

নানা ঘটনা, আর উত্তেজনার মধ্যে চলে পুরো সময় কাহিনি। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শোনার মত। দেখে ভালো লাগে। সময় থাকলে দেখে ফেলতে বলব এইটা।

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২৪: Children Who Chase Lost Voices from Deep Below — Amor Asad

Children Who Chase Lost Voices from Deep Below (2011)
Original Title: Hoshi wo Ou Kodomo
Mal: 7.87

সম্ভবত সবারই একটা গল্প থাকে, গল্পগুলির মধ্যে মিল থাকার প্রতিশ্রুতি নেই; তবে সব গল্পেই আছে ইচ্ছে পূরণের আকুতি। জীবনের প্রায় পুরোটা সময় আমরা একে অন্যের উপর নির্ভরশীল হই, কারণে অকারণে, চেতনে অবচেতনে। কিন্তু দিনশেষে সবার লক্ষ্য আলাদা, চাওয়া পাওয়া গুলোও। কারোটা হয়ত কষ্টসাধ্য, কারোটা ধোঁয়াশা মাত্র। তবু স্বপ্ন পূরণে মানুষ অক্লান্ত চেষ্টা করে যায়। এটাই জীবনের সৌন্দর্য্য, এতেই জীবনের মহত্য।

Children Who Chase Lost Voices (2011) অ্যানিমের দর্শন বোধকরি অনেকটা কাছাকাছি। পিতৃহীন কঠিন পরিবেশে বড় হয়ে ওঠায় আর দশজন থেকে Asuna’র জন্যে বরং চারপাশের জগতের উপর নিয়ন্ত্রণ একটু বেশিই, তবু অপ্রাপ্তি আর আকাঙ্ক্ষা তার চরিত্রের বড় একটা অংশ। অচেনা কোন জগত থেকে উদয় হওয়া Shunঅথবা, ভারপ্রাপ্ত রহস্যময় শিক্ষক Morisaki’র গল্পেও আকাঙ্ক্ষার প্রবল আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।

গল্পের দিক দিয়ে Hoshi wo Ou Kodomo এককথায় অনন্যসাধারন। মনে আছে, ছেলেবেলায় ছোটখাটো যন্ত্রাংশ, মটর চালিত নৌকা ইত্যাদির উপর দারুণ আগ্রহ ছিলো। এই নিয়ে পড়ে থাকতাম। হোমমেইড রেডিওটা দেখে ছটফটে, কৌতূহলী মেয়ে Asuna’কে তাই সহজেই ভালো লেগে গেলো। স্কুল ছুটি, দে ছুট… পাহাড়ের ঢালে তার ব্যক্তিগত ছোট্ট এক ঘর আর তার ভিতর ঠাসা দুনিয়ার জিনিষপত্র। পাশের টিলায় প্রতিদিন শেষ বিকেলের রোদে পা এলিয়ে দিয়ে রেডিওটায় সুর খুজে বের করা Asuna’র সখ। কে জানত রেডিওতে অচেনা, অন্যরকম এক সুর তার সামনে অ্যাডভেঞ্চারের এক নতুন দুনিয়া খুলে দিবে? Asuna’র পরিচয় হয় কিশোর Shun এর সাথে। শীঘ্রই Asuna জানতে পারে Shun এজগতের কেউ না, বরং সবাই যাকে রুপকথাত জগত ভাবত, সেই আগাথা বা পাতালপুরী থেকে এসেছে। কথিত আছে, Agathaএমন এক যায়গা, যেখানে মৃত মানুষকে ফিরিয়ে আনা যায়। মৃত প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে যুগে যুগেAgatha’র ঠিকানা খুজে মরেছে মানুষ। ঘটনাক্রমে Shun’এর মৃত্যু হয়, শুরু হয় পাতালপুরীতে Asuna’র রোমহর্ষকর অভিযান। তবে এ যাত্রায় Asuna কিন্তু একা নয়।

অ্যানিমে নির্মাতা মাকোতো শিনকাই। এই লোকের রঙয়ের ব্যবহার বরাবরই মুগ্ধ করে। তার অ্যানিমেগুলোর আর্ট খুবই উঁচুদরের এবং দেখলে  যেন রীতিমত চোখের ব্যায়াম হয়, দারুণ প্রশান্তি লাগে। তার অন্য কাজ 5 Centimeters Per Second, Garden of Words  ইত্যাদির মতো এখানেও গ্রাফিক্সের কাজ দেখার মতো। যদি শুধু সিনেম্যাটোগ্রাফির দিক দিয়ে বিচার করতে বসি, Children who chase lost voices দশে পাক্কা দশ পাবে।  সেই সাথে আছে দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। কাহিনীর ভিতরে ঢুকিয়ে দিতে চেষ্টার কোন কমতি নেই যেন। আর মাকোতো শিনকাই’তো আছেনই তার পরিচালনার মুন্সিয়ানায় এ দু’য়ের সাথে গল্পের মিশ্রণ ঘটাতে।

কল্পনার পঙ্খীরাজ ওড়ানো ফ্যান্টাসি, অ্যাডভেঞ্চার অ্যানিমের মধ্যেও শিনকাই সিরিয়াস কিছু দর্শন আর প্রশ্ন তুলেছেন। সত্যিই যদি মৃতের দুনিয়ায় গিয়ে আপনজনকে ফেরানো যেত,  আমরা কতখানি স্যাক্রিফাইস করে আপনজনের সাথে মিলিত হবার বাসনাকে উজ্জীবিত রাখতাম?

অথবা, নিজের বা নিজ জাতির আধিপত্য পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত করতে কতটা মানুষের নিষ্ঠুরতা কেমন হতে পারে? ইতিহাসের স্বার্থান্বেষী, মারকুটে, মানবতার কলঙ্ক শাসকদের চরিত্রায়নও করেছেন পরিচালক একটুক্ষণের জন্যে।

যাইহোক, একেবারে খাঁটি সোনা কিন্তু নয় CWCLVFDB, ক্যারেক্টার বিল্ড আপে কিছু ত্রুটি ছিলো। প্রথমাংশ এবং ৩০ মিনিট পর যেভাবে দৃশ্যপট পালটে গেলো, একটু বেমানান লেগেছে। কোথাও যেন কাহিনী একটু জোর করে মিলিয়ে দেয়া হয়েছে; আবার কোথাও ডায়লগ উপযুক্ত ছিলো না। তবে এসব যদি এড়িয়ে যাওয়া যায়, এটা নিঃসন্দেহে সেরা অ্যাডভেঞ্চার/ফ্যান্টাসি অ্যানিমের তালিকায় যায়গা করে নিতে পারবে। জিবলি স্টুডিওর Spirited Away এর মত এই অ্যানিমেটা একই ঘরানার। মিয়াজাকির স্পিরিটেড অ্যাওয়ে যারা পছন্দ করেছেন, তাদের জন্য অবশ্যই দেখতব্য।

আমার রেটিং ৮.৫/১০

24 Children Who Chase Lost Voices

Children Who Chase Lost Voices রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

Children Who Chase Lost Voices – মুলত জাপানিজ একটা উপকথার উপর ভিত্তি করে তৈরি মুভি, যেখানে গল্পের দুই প্রধান চরিত্র তাদের প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে রওনা হন মৃতদের দেশে।

অন্ধকারে অদ্ভুত আওয়াজ আর ক্রিস্টাল রেডিও থেকে ভেসে আসা অপার্থিব এক সুর – শুধু এইটুকুর উপর ভর করেই আসুনার যাত্রা শুরু হয় পৃথিবীর নিচে হারিয়ে যাওয়া কিংবদন্তীর জগতে। অদ্ভুত প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত আর রহস্য ঘেরা এক বালকের মাধ্যমে উদ্ধার পাওয়া আসুনা নিজেকে আবিস্কার করে শতাব্দী পুরোনো এক রহস্যের মাঝে; যেটা কিনা তাকে দাঁড় করিয়ে দেয় এমন এক সত্যের মুখোমুখি যেটার সাথে জড়িত আছে খোদ জীবন আর মৃত্যুর রহস্য।

আসুনা পাহাড়ী এক গ্রামের সাধাসিধে কিন্তু মেধাবী এক মেয়ে। বাবা নেই; মায়ের কর্মক্ষেত্রে বিশাল ব্যস্ততার কারণে মোটামুটি একাকীই দিন কাটে আসুনার। পড়াশুনায় ভীষণ মেধাবী আসুনা তাই সময় পেলেই মাঝে মাঝে ছুটে যায় পাহাড়ে, ক্রিস্টাল রেডিও আর একটা বিড়ালকে সঙ্গী করে একাকী সময় কাটায় দূরদেশের সুর শোনার অপেক্ষায়।

গল্পের অন্য মুল চরিত্র রিউজি – যিনি আসুনার স্কুলে বদলি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। স্ত্রীর মৃত্যুর ১০ বছর পরেও তার স্মৃতি আর শোক বয়ে চলা ভদ্রলোকের অন্যতম লক্ষ্যই হল মৃতদের জগত থেকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা। এই নিয়ে সব রকম গবেষণা এবং খোঁজাখুঁজিতেই সময় কাটে তার। রিয়ুজির চরিত্রের মাঝে সব সময়েই আমরা একটা অন্তদ্বন্দ্ব দেখতে পাই। সে তার লক্ষে অটল, কিন্তু সেটা পাগলামির পর্যায়ে না; কিন্তু আবার অবসেসডও। এর মাঝেও সে আসুনার দিকে খেয়াল রাখে, দেখাশুনা করে; তাকে রক্ষা করে।

মৃত ব্যাক্তিকে মৃতদের রাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনা কিংবা পুনর্জন্ম – চলে যাওয়া প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনার চিরন্তণ যে মানব আকাঙ্ক্ষা; তার কথা ঘুরে ফিরে এসেছে সব ধর্মেই, সব কালেই, সব পুরোকথাতেই। জাপানিজ, গ্রীক কিংবা রোমান – সব মিথোলজিতেই অনেক আকর্ষণীয় গল্প আছে এই বিষয়টা নিয়ে।

জাপানিজ শ্রুতিমতে, ইজানাগি আর ইজানামি জাপান এবং এর সব দেবতাদের সৃষ্টিকর্তা। এই জুটি প্রথমে আটটা ফুটফুটে বাচ্চার জন্ম দেন, যারা কিনা পরে জাপানের আটটা দ্বীপে পরিণত হন। ইজানাগি ইজানামি এর পর একে একে জন্ম দেন পাহাড়, উপত্যকা, জলপ্রপাত, ঝর্ণা, বাতাস, এবং অন্যান্য দেবতার। সমস্যাটা বাঁধে আগুনের দেবতা কাগুতসুচি(Kagutsuchi)র জন্মের সময়; ইজানামি খুব বাজেভাবে আগুনে পুড়ে যান। তারপরেও থেমে থাকেন নি ইজানামি; এই অবস্থাতেও আরও দেবতার জন্ম দিতে থাকেন এবং কিছুদিনের মাঝেই মারা যান।

মৃত্যুর পর ইজানামির জায়গা হয় ইয়োমি সু কুনি(Yomi-tsu Kuni)তে। তাকে ফিরিয়ে আনতে ইজানাগি রওনা হন ইয়োমির পথে। সেখানে ইজানামি অন্ধকারের মাঝে তাকে বরণ করে নেন। ইজানামি তাকে অনুরোধ করেন যতক্ষণ না ইয়োমির দেবতার কাছ থেকে অনুমতি আদায় করতে পারেন ততক্ষণ যেন তার দিকে না তাকান ইজানাগি। কিন্তু স্ত্রীকে দেখার পরম আকাঙ্ক্ষায় ইজানাগি আলো জ্বেলে ইজানামিকে দেখতে উদ্যত হন। কিন্তু ইজানামির পচা গলা মৃতদেহ দেখে আতঙ্কিত ইজানাগি পালিয়ে আসেন ইয়োমি থেকে।

ফিরে এসে ইজানাগি নিজেকে পবিত্র করার জন্য স্নানের ব্যাবস্থা করেন। এ সময় ইজানাগির কাপড় এবং শরীর থেকে আরও কিছু দেবতার সৃষ্টি হয় যাদের মধ্যে ছিল সূর্যদেবী আমাতেরাসু ( Amaterasu), চন্দ্রদেবতা সুকিয়মি(Tsuki-yomi) এবং ঝড়ের দেবতা সুসানো (Susano-ô) – যাদের মাঝে পরে ইজানাগি তার রাজত্ব ভাগ করে দেন।

মুভির ঘটনাপ্রবাহ যথেষ্ট সহজ সরল এবং কিছুটা একমুখী। এবং বেশ কিছু জায়গায়ই অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টাও করে নি। ক্লাভিস নিয়ে মুভিতে এতো ঘটনা ঘটল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লাভিস কি জিনিস (“মাটির নিচের পৃথিবীর চাবি” – শুধু এইটুকুতে আসলে সব প্রশ্নের উত্তর হয় না) কিংবা আসুনা কি করে ক্লাভিসের অংশ হাত করে নিল – সেই প্রশ্নের কোন জবাব নেই গোটা মুভি জুড়ে। আসুনা আর রিয়ুজি একবার আগার্থায় (By the way, মাটির নিচের পৃথিবীর আরেক নাম আগার্থা) প্রবেশ করার পর উপরের পৃথিবীর কথা একেবারে বেমালুম ভুলে গেল সবাই। উপরে আসুনার মায়ের কি হল, রিয়ুজির সাথে থাকা সঙ্গী সাথীদের কি হল – মুভির শেষেও এইরকম কোন কিছুরই উত্তর পাওয়া যায় না। মুভির কিছু কিছু জায়গায় পানি সংক্রান্ত জটিলতাও ছিল; কিছু পানিতে শ্বাস নেওয়া যায়, কিছু জায়গায় সেভাবে যায় না; আগার্থার যে যে জায়গায় দরকার সেখানে সেখানে ভিটা আকুয়া(শ্বাস নেওয়া যায় এমন পানি)র ব্যাবস্থাটা খানিক্টা হলেও কাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।

মুভিটা প্রথম প্রায় ৩০ মিনিট ব্যয় করে চরিত্রগুলোকে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে; এবং এই ৩০ মিনিটে আমরা আসলে কোন আভাসই পাই না সামনে কি হতে যাচ্ছে। এবং এই প্রথম পর্বে আমরা আসুনার জীবন যাপন দেখতে পাই, তার চারপাশের পরিবেশ দেখতে পাই – যেটার আসলে বাকি মুভিতে মোটেও খুব একটা গুরুত্ব নেই। এবং এই সময়ের মাঝে এমন গুরুত্বপূর্ণ কিছুও ঘটে না যেটা আসলে বাকি মুভিতে তেমন প্রভাব ফেলে। দু’তিনটে চরিত্রকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এতো লম্বা সময় নিয়ে নেওয়াটা খানিকটা হতাশাজনকই ছিল।

মুভিটা চরিত্রনির্ভরতার বদলে পুরোপুরিই গল্প নির্ভর ছিল। সমস্ত সময় জুড়েই আসুনা এবং রিয়ুজির অভিযানই ফোকাসে ছিল, চরিত্রগুলো নয়। সেই কারণে কোন চরিত্রই খুব বেশি স্বতন্ত্রতার সুযোগ পায় নি। মাঝে মাঝে ফ্ল্যাশব্যাক এবং পিছনের ঘটনার যে সব বর্ণনা এসেছে তাও গল্পের প্রয়োজনেই।

শিনকাই এর অন্যান্য মুভির মতন এই মুভিরও আর্টওয়ার্ক খুবই চমৎকার; যদিও “হারিয়ে যাওয়া জগত” কিংবা “মাটির নিচের রাজ্য” চেনাজানা পৃথিবীর মতনই ছিল অনেকটা। এনিমেশন খুব ফ্লুইড, সিজি থেকে শুরু করে সব কাজই খুব যত্ন নিয়ে করা ছিল; কোথাও কোন কিছু বেখাপ্পা লাগে নি। চরিত্র রুপায়ন অবশ্য খুব একটা আহামরি ছিল না; আসুনা, শিন, শুন বা রিয়ুজি – সবগুলো চরিত্রের ডিজাইনই কম বেশি একমুখী ছিল। তবে মিমি এবং গেটকিপারদের ডিজাইন ছিল খুব রিফ্রেশিং। আর সিমপ্লিসিটি থাকার কারণে প্রত্যেকটা চরিত্রকেই আলাদা করা গিয়েছে খুব সহজেই। কিছু কিছু দৃশ্য, বিশেষ করে আগার্থার চম্পকরথ কিংবা রাতের আকাশ অথবা সামনের খোলা প্রান্তরের নিখুঁত চিত্রায়ন – রীতিমত শ্বাসরুদ্ধকর। আরেকটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হল পুরো মুভি জুড়েই উজ্জ্বল রঙের ছড়াছড়ি – পুরো গল্পটাকে একেবারে জীবন্ত করে তুলেছে যেন !

সাউন্ডট্র্যাকও বেশ ভাল ছিল, বিশেষ করে থিম সং “Hello, Goodbye and Hello” দুর্দান্ত ছিল।

খুব আহামরি কোন কিছু হয়ত না; কিন্তু শিনকাইর নামই বোধহয় জানিয়ে দেয় একটা দুর্দান্ত সেটিং এ স্নিগ্ধ একটা গল্পের কথা। দুটো চমৎকার ঘন্টা কাটাতে এর চেয়ে বেশি আর কি লাগে? :)

Movie Time With Yami – 21

m21

Name- Children Who Chase Lost Voices / Hoshi Wo Ou Kodomo
Duration- 1 hour 56 min.
MAL Score- 7.89
Ranked- 656
Genres- Adventure, Fantasy, Romance

বিখ্যাত ডিরেক্টর মাকোতো শিনকাই পরিচালিত মুভি এটি, এবং দেখার সময় পুরো মুভিতেই এই ডিরেক্টরের ছোঁয়া খুব ভালভাবেই বুঝতে পারা যায়।

আসুনা (তলোয়ার শিল্পের আসুনা না) একজন স্কুলছাত্রী। তার বাবা নেই। সেজন্য তার মাকে সংসার চালানোর জন্যে অনেকটা সময় বাইরে কাজ করে কাটাতে হয়। যে কারণে তিনি ঘরের দিকে তেমন খেয়াল রাখতে পারেন না। আসুনাকে তাই এই অল্প বয়সে ঘর সামলানোর দায়িত্ব পালন করতে হয়, পড়াশোনার পাশাপাশি। তাই সে কিছুটা একাকীত্বেও ভোগে।

প্রতিদিন আসুনা স্কুল থেকে ফিরে ঘরের সব কাজ শেষ করে চলে যায় জঙ্গলের দিকে। সেখানে একা বসে সে তার বাবার দিয়ে যাওয়া ট্রান্সমিটারে একটা ঝকমকে পাথর রেখে শুনতে পায় অদ্ভুত এক গান। আর কেউ কোনদিন যে গান শুনতে পায়নি।

একদিন ঘটনাক্রমে তার সাথে দেখা হয় শুন এর। একটা বিপদ মোকাবেলা করার সময় পরিচয় গাঢ় হয় তাদের। শুন আসুনাকে জানায় সে এসেছে আগার্থা নামের এক দেশ থেকে। কিন্তু শুনের ব্যাপারে এর বেশি কিছু জানতে পারেনা আসুনা।

পরেরদিন স্কুল থেকে ফেরার পর মায়ের কাছে এমন এক সংবাদ পায় আসুনা, যাতে তার পৃথিবী টলে ওঠে।

আগেই বলেছি, মাকোতো শিনকাই এর মুভি এটা, কেউ না বলে দিলেও অন্তঃত আগার্থায় পৌছানোর পর সেখানকার বিস্তৃত জনশূণ্য মাঠের পর মাঠ, আকাশে অপূর্ব রঙের মেঘের ছড়াছড়ি, চমৎকার দৃশ্যায়ন, এমনকি পানির নিচের অংশগুলোও চোখ ধাঁধাঁনো- দেখে নিজের অজান্তেই মনে একটা ধারণা চলে আসে।

কাহিনীটা শুরুর দিকে অন্য যেকোন মুভির মত টিপিক্যাল কাহিনীর মনে হতে পারে, তবে যত এগিয়ে যায়, মুভিটি এর দর্শকদের তত বেশি চমক উপহার দেয়।

তাই, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলুন এই মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Children-who-Chase-Lost-Voices

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Children Who Chase Lost Voices – Anime movie review by Torsha Fariha

ডিরেকটর- মাকোতো শিনকাই
আইএমডিবি রেটিং- ৭.৩/১০

যারা মাকোতো শিনকাই এর নাম শুনেই ৫ সিএম পার সেকেন্ড কিংবা কোতোনোহা নো নিওয়া’র মত ম্যাচিউরড অ্যানিমেশন মুভি আশা করছেন তাদের বলছি এই মুভিটা ফিকশনাল( অনেকটা মিয়াজাকির ঘিবলি মুভিগুলার মত)। তাঁর নরমাল কাজের তুলনায় বেশি লাইভলি, অ্যাডভেঞ্চারাস। তবে একেবারে বাচ্চাদের কাহিনী এটা না। বোঝার, ফীল করার, কষ্ট পাবার, শূন্যতা অনুভব করার সব উপকরণই আছে। 

এই কাহিনীর নায়িকা আসুনা নামের একটা মিডল স্কুলে পড়া মেয়ে। আসুনার বাবা মারা যায় ছোট থাকতেই আর মা নার্স। যেহেতু কাজের চাপে মা খুব একটা সময় দিতে পারে না আসুনাকে। তাই দিনের অনেকটা সময়ই সে একা একা তার বাবার দেয়া ক্রিস্টাল রেডিও শুনে কাটায়। মাঝে মাঝেই সে খুব অদ্ভুদ সুর শুনতে পেত রেডিওতে। খুব সুরেলা কিন্তু কেমন যেন মনকে বিষাদ করে দেয়া একটা ভিনদেশী গান।
একদিন ক্লাব হাউজে যাবার পথে আসুনাকে হঠাৎই একটা অদ্ভুত জন্তু আক্রমন করে বসে। এবং তাকে বাঁচায় শুন নামের এক রহস্যময় ছেলে। এভাবেই দেখা হয় শুন আর আসুনার।
পর পর দুইদিন দেখা হয় তাদের। আসুনা শুনকে তার হাইড আউটে নিয়ে আসে, তার ক্ষত পরিষ্কার করে দেয়, তাকে ক্রিস্টাল রেডিওতে সেই অদ্ভুত গান শুনায়।

শুন জানায় সে আগার্থা নামের এক দেশ থেকে এসেছে একটা জিনিস খুঁজতে। শেষ দিন শুন বিদায় নেয়ার সময় আসুনার কপালে কিস করে ব্লেসিং হিসেবে। আসুনা তো লজ্জায় লাল হয়ে কোন মতে পরের দিন আসবে বলে পালিয়ে আসে।

কিন্তু পরের দিন তার মা তাকে জানায় পাহাড়ের কাছে এক ছেলের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এবং দেখা গেল সেটা শুনের মৃতদেহ ছিল। আসুনা কোনভাবেই বিশ্বাস করে না শুন মারা গেছে। 
সে এরপর একদিন ক্লাসে আগার্থা নামে দেশের কথা জানতে পারে তাদের নতুন টিচারের কাছ থেকে। আগার্থা হল মৃতদের দেশ। এর কিছুদিন পর তার সাথে শুনের জমজ ভাইয়ের সাথে দেখা হয় যে শুনকে খুঁজতে এসেছিল।

যাহোক ঘটনাক্রমে আসুনা জানতে পারে তাদের নতুন টিচার মুরাসাকি আগার্থায় যেতে চায় তার মৃতা স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। এভাবেই আসুনা, শুনের যমজ ভাই আর মুরাসাকি সেন্সেই এর আগার্থা অভিযান শুরু হল। একদিকে সেই গানের রহস্য অন্যদিকে শুনের অন্তর্ধানের রহস্য- সব কিছুর সমাধানে বিপদ সংকুল পথে পা বাড়ায় আসুনা।

মোটামুটি এটাই হল কাহিনী। চমৎকার একটা মুভি। যদিও আমি প্রথমে বলেছি ঘিবলির হাসিখুশি মুভির মত এটা । প্রথমে হয়তো যে কারোই সেরকম মনে হবে। কিন্তু দেখা শুরু করলে বোঝা যাবে মাকোতো শিনকাই এর হাতের কাজ কতটা ইউনিক… কতটা অন্যরকম!