অরেঞ্জ [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Orange

অরেঞ্জ
জানরাঃ ড্রামা, সাই-ফাই, স্কুল, শৌজো, রোমান্স
ভলিউমঃ ৫
চ্যাপ্টারঃ ২৭
মাঙ্গাকাঃ তাকানো ইচিগো
মাইআনিমেলিস্ট র‍্যাঙ্কিং: ২৩
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৮২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

অনুশোচনা-শব্দটি বলা যতটা সহজ অনুভব করা বোধ হয় ততটা সহজ নয়। প্রত্যেক মানুষই জীবনে ভুল করে। ছোট্ট একটা কর্ম বা সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের বড় একটা অংশ নির্ধারন করে ফেলতে পারে। কখনও তা হয় মঙ্গলজনক কখনও বা নিজের অজান্তেই আমরা জীবনটিকে অশুভ কিছুর দিকে ঠেলে দেই। তারপর অসহনীয় অনুশোচনার আগুনে পুড়ি। বারবার মনে হয়; যদি ফিরে যেতে পারতাম অতীতে, শুধরে নিতে পারতাম ভুলগুলো। দুঃখের বিষয় সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। কিন্তু কেমন হত যদি আপনার অতীতের সত্তাকে আগেভাগে জানিয়ে দিতে পারতেন সামনে কি আসতে যাচ্ছে, কি করা উচিৎ? কিংবা বলা যাক, আপনার ভবিষ্যতের সত্তা আপনাকে হঠাৎই জানিয়ে দিল সামনে কি হবে এবং আপনার কি করা উচিৎ?

তাকামিয়া নাহোর জীবনে ঠিক এমনটিই ঘটে। হঠাৎ একদিন নাহো তার ১০ বছর পরের ভবিষ্যতের নাহোর কাছ থেকে একটি চিঠি পায়। স্বাভাবিকভাবেই সে ধরে নেয় কেউ তার সাথে ঠাট্টা করছে। কিন্তু নাহো অবাক হয়ে লক্ষ্য করে চিঠির কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে ফলছে। চিঠির কথা মতই তার ক্লাসে আসে একজন নতুন ছেলে, যার নাম নারুসে কাকেরু। এবং সে নাহোর পাশের সিটে বসে ঠিক যেমনটা চিঠিতে বলেছে। এরপর একের পর এক ঘটনা সাক্ষ্য দিয়ে দেয় যে আর যাইহোক চিঠিটিতে মিথ্যা কিছু বলা নেই। কিন্তু তবু নাহোর মন থেকে সন্দেহ আর দ্বিধা দূর হয় না। ভবিষ্যতের নাহোর অনুরোধ সে শুরুতে রাখতে পারে না। এই চিঠি যেহেতু তার ভাগ্যের কথাই বলে দেয় তাই তার মনে চিঠিটি পড়তে এক প্রকার ভয় তৈরী হয়। কিন্তু কাকেরু যখন স্কুলে আসে না অনেক দিন তখন নাহো ভাবে চিঠিতে হয়ত এর উত্তর পাওয়া যাবে। এরপর চিঠিতে পাওয়া অনুরোধগুলো মেনে চলে নাহো দেখল এতে বরং ভালো ফলাফল পাচ্ছে সে। এভাবে চিঠি পড়তে পড়তেই সে আবিষ্কার করল কেন ভবিষ্যৎ থেকে সে নিজেকে এভাবে লিখেছে। ১০ বছর পরে কাকেরু আর তাদের সাথে থাকবে না। চিরতরে সে চলে যায় পৃথিবী ছেড়ে। কাকেরুকে চিরতরে হারিয়ে ফেলাসহ জীবনের ছোট ছোট কিন্তু মূল্যবান অনেক মুহুর্ত হেলায় হারিয়ে ফেলে নাহো অনুতপ্ত বোধ করে। তাই সে অতীতে নিজের কাছে চিঠি লেখে যাতে অতীতের নাহো ভবিষ্যতের নাহোর মত একই ভুলগুলো না করে। নিজের কাছেই নাহোর একটাই অনুরোধ, জীবনের মূল্যবান সময়গুলোকে আক্ষরিক অর্থেই মূল্য দিয়ে এবং কাকেরুকে রক্ষা করে নিজেকে অনুশোচনামুক্ত করা।

এ পর্যন্ত পড়ে যে কেউই বুঝতে পারবে অরেঞ্জ মাঙ্গাটির কেন এত সুনাম আর ভালো স্কোর। আর তা হল শৌজো মাঙ্গা হিসেবে এর গল্পে রয়েছে নতুনত্ব। আজব ধরণের মেয়ে সুন্দর ছেলের প্রেমে পড়বে কিংবা একটু দুঃখের অতীত, মানসিক আঘাত, বুলিং, বিষণ্ণতা ইত্যাদি হয়তোবা খুব অপরিচিত গল্প নয়। কিন্তু প্রধান চরিত্র ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছে আগেভাগে সামনে কি হবে জেনে এরকম গল্প অহরহ দেখা যায় না। আর দেখে গেলেও এ ধরণের গল্পগুলো হয় খুব আকর্ষণীয়। অরেঞ্জও তার বাইরে নয়। এই মাঙ্গার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল এর কাহিনীটি। একদম শুরু থেকেই আপনি গল্পে বুঁদ হয়ে যাবেন। আর সামনে কি হতে যাচ্ছে এই প্রশ্নটা আপনাকে একের পর এক চ্যাপ্টার টানা পড়ে যেতে বাধ্য করবে। বিশেষ করে শেষের দিকের চ্যাপ্টারগুলো একটু বেশিই উত্তেজনাপূর্ণ। তাই শৌজো হলে কি হবে, অরেঞ্জকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না পড়লে আপনি নিজেই পস্তাবেন। এই মাঙ্গাটি অনেক বেশি রোমাঞ্চকর।

তবে গল্পের কথাই যদি বলা হয় তো আমি কিছু কথা তুলতে চাই। মানুষকে শৌজো মাঙ্গা নিয়ে ‘শৌজো মাঙ্গায় কোন নতুনত্ব নেই’, ‘শৌজো মাঙ্গায় নাটকীয়তা বেশি’, ‘শৌজো মাঙ্গা একঘেয়ে”, শৌজো এই শৌজো সেই ইত্যাদি সমালোচনা করতে দেখা যায় খুব। শুধু অরেঞ্জের বেলায় সবার মুখে মুখে প্রশংসা শোনা যায়। ব্যাপারটা দেখে বরং আমার হাসিই পায়। কেন জানেন? কারণ অরেঞ্জ মোটেও নতুন কিছু না!! ভাবছেন কিভাবে এটা সম্ভব যখন একটু আগেও বললাম এটার গল্পে নতুনত্ব আছে? ব্যাখাটা এই যে এটার নতুনত্ব শুধু ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা এই অংশটুকু। বাদ বাকি নতুন কিছুই না। আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ শৌজো মাঙ্গা পড়ে থাকেন তবেই এই কথাটার মর্ম বুঝবেন। কাকেরুর যে কাহিনী রয়েছে তা ইতিমধ্যেই আমার আও হারু রাইড, বকুরা গা ইতা, ওওকামি শৌজো তো কুরো ঔজি ইত্যাদি মাঙ্গায় পড়া শেষ। কাকেরুর পরিস্থিতি কৌ, ইয়ানো বা কিওয়ার থেকে একটুও আলাদা নয়। সে জনপ্রিয় শৌজো মাঙ্গার নায়কদের মতই ছকে বাঁধা। অন্য মাঙ্গায় এই অবস্থাটা মানিয়েছিল কিন্তু কাকেরুর গল্প যতটা রাশভারী ধরণের তাতে তার পেছনের গল্পটায় আরও গভীরতা থাকলে ভালো হত। তাই আপনি যদি হন শৌজো মাঙ্গার ভক্ত তবে একটু আশাহত হলেও হতে পারেন।

এই মাঙ্গার দ্বিতীয় বড় সমস্যাও এর গল্পে। পুরো কাহিনী শুরু হয় যেদিন নাহো প্রথম চিঠিটা পায়। ভবিষ্যতের নাহোর যদি এতটাই অনুশোচনা থাকে তবে কেন সে প্রথম দিনেই সবকিছু খোলাসা করে ঠিক মত যুক্তি দিয়ে বা জোর দিয়ে কাকুতিমিনতি করে অতীতের নাহোকে বোঝালো না যাতে সে তার কথা অনুযায়ী কাজ করে? শুরুতেই সব ঠিক করে দিলে হয়ত মাঙ্গার গল্পটাই আর থাকত না যেটা সত্য। কিন্তু তারপরেও ব্যাপারটা যুক্তিযুক্ত হত। তখন পুরোপুরি আলাদাভাবে অতীতের ঘটনাগুলো ঘটত যেটা মাঙ্গাটিকে আরও বেশি অনিশ্চিত আর রোমাঞ্চকর করে তুলত। এবং এই মাঙ্গার তৃতীয় ও সবচেয়ে বড় ত্রুটিও এর গল্পে!! চিঠিটা ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে আসল কিভাবে? অরেঞ্জ পড়ার আগেই আমার সন্দেহ ছিল একটি শৌজো মাঙ্গায় আদৌ এটার ভালো ব্যাখা থাকবে না। অত্যন্ত দুঃখের সাথেই জানাচ্ছি যে আমার সন্দেহ শতভাগ সত্যি হয়েছে! এটার সাই-ফাই ব্যাখাটি ছিল নিতান্তই হাস্যকর। আর সাই-ফাইই যদি বানাবে তবে মাঙ্গাকা মাঙ্গাটি সম্পূর্ণরূপে সাই-ফাই করলেই পারত। কিংবা বিষয়টা ফ্যান্টাসি বা সুপারন্যাচারাল বানালেও হত। কিন্তু কাহিনী বানাতে হবে বলে গাঁজাখুরি যাচ্ছেতাই ঢুকানো আমার মোটেও পছন্দ নয়। গোঁড়ায় গলদ না থাকলে মাঙ্গাটি প্রায় ত্রুটিহীন হত।

চরিত্রায়নের দিক থেকে কাকেরু সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যেহেতু পুরো গল্পটি তাকে ঘিরেই। তবে সেই গুরুত্ব এতই বেশি যে যত যাইহোক অন্যান্য চরিত্রদের অনেকটা উপেক্ষা করেই পুরো মনোযোগ তার উপরে দেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে এতে একটু খারাপ লাগলেও কাকেরুকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টার কারণে বুঝাই যায় কেন বাকি চরিত্রগুলো গুরুত্ব পায়নি। চিনো, মুরাসাকা, হাগিতা প্রধান ফ্রেন্ড সার্কেলের অংশ হলেও এরা পার্শ্ব চরিত্র হিসেবেই ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এদের বন্ধুত্বটা সত্যিই খুব সুন্দর। ওদের দেখলে ক্ষণে ক্ষণেই আপনার মনে হবে ‘এত বেশি ভালো বন্ধু যদি আমার জীবনেও থাকত!’। তবে নাহোকে আমার নায়িকা হিসেবে অযোগ্য লেগেছে বেশ। নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির জীবন যখন মৃত্যুর মুখে তখন এই মেয়ে কিভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে আর প্রায়ই কোন পদক্ষেপ না নিয়ে চুপচাপ থাকে তা আমি ভেবে পাই না।

এখন বলব এই মাঙ্গার সেই জিনিসটার কথা যেটা না বললেই নয়। কি সেটা? সুওয়া হিরোতো! সুওয়া হল এখানে তৃতীয় প্রধান চরিত্র এবং দ্বিতীয় নায়ক। তবে সেটা তার আসল পরিচয় না। তার আসল পরিচয় হল সে এই মাঙ্গার সেরা চরিত্র এবং খুব সম্ভবত শৌজো মাঙ্গার ইতিহাসেও সেরা একজন চরিত্র। আপনি হয়ত উসুই(মেইড-সামা), কেই(স্পেশাল এ), কুরোসাকি(ডেনগেকি ডেইযি) ইত্যাদি অবাস্তবতার কাছাকাছি সুদর্শন সব তথাকথিত “মিস্টার পার্ফেক্ট” ছেলে দেখেছেন। কিন্তু যা দেখেননি তা হল সুওয়ার মত ছেলে। সে সুদর্শন কোন নিখুঁত ছেলে না। কিন্তু তার মন এবং হৃদয়টা অনেক বড়। কথাটা শুনে এখন আহামরি কিছু নাও মনে হতে পারে কিন্তু মাঙ্গাটা পড়ার সময় বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা আসলে কত বড়। সুওয়ার জন্য মেয়েরা হয়তবা সেই পরিমাণ পাগলামি করে না কিন্তু মন থেকে তার জন্য শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা চলে আসবে ঠিকই। আমি নিজে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যার জীবনে সুওয়ার মত মানুষ আছে তার কপালটা অনেক ভালো। সুওয়া এতটাই অসাধারণ! কাকেরুর জন্য নয় বরং সুওয়ার জন্যেই অরেঞ্জ পড়া উচিৎ।

অনেক কিছুই তো জানলেন অরেঞ্জ নিয়ে। এবার কি ভাবছেন এটা পড়বেন কি পড়বেন না? আপনি শৌজো ভক্ত হোন বা না হোন অরেঞ্জ অবশ্যই পড়বেন। কম হলেও খুঁত তো সবকিছুরই থাকে। অরেঞ্জের খুঁত এড়িয়ে যেতে পারলে মাঙ্গাটি অনেক উপভোগ করবেন। টাইম প্যারাডক্স, সুন্দর আর্ট, দারুণ বন্ধুত্ব, সুওয়ার মত চরিত্র, অল্প কিছু চ্যাপ্টার- আর কি লাগে?! সামনেই সামার ২০১৬ সিজনে আসছে এর আনিমে। আনিমে যে সাধারণত মাঙ্গার ধারের কাছেও যেতে পারে না তা তো এখন জানা কথা। তাই তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি। আর ২৭ চ্যাপ্টার হলেও ২২ চ্যাপ্টারেই মূল গল্প শেষ। বাকি ৫টি চ্যাপ্টার এখনো স্ক্যানলেশনের অপেক্ষায়। তবে শেষটা কেমন হবে তা জিজ্ঞেস করবেন না। ওটার জন্যেই না এত প্রতীক্ষা! অরেঞ্জ পড়ে চোখের কোণে অশ্রু আসতেও পারে নাও আসতে পারে। কিন্তু অন্যরকম বিষাদময় ভালোলাগার এক তৃপ্তি অনুভব করবেন। কেননা “অরেঞ্জ” নামেই তো লুকিয়ে আছে এর ভাবার্থ। কমলা-শত হতাশার মাঝেও হার না মেনে ঝুঁকি নিয়ে হলেও আশাবাদী হয়ে, আস্থার সাথে, উদ্দ্যমতা নিয়ে জীবনে এগিয়ে চলার প্রতীকী রঙ!

সেইশুন কৌরয়াকুহন (Seishun Kouryakuhon) [রিভিউ] — Fatiha Subah

Seishun Kouryakuhon

সেইশুন কৌরয়াকুহন (Seishun Kouryakuhon)
জানরাঃ শৌজো, স্লাইস অফ লাইফ
ভলিউমঃ ১
চ্যাপ্টারঃ ৮
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.০৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

শৌজো মাঙ্গাগুলোতে সাধারণত মেয়েরাই হয় প্রধান চরিত্র। মেয়েগুলোও আবার সব একই রকম ব্যক্তিত্বের। যে কারণে ঘুরেফিরে সবগুলো মাঙ্গাই একই রকম লাগে এবং অনেকেই, বিশেষ করে ছেলেরা পড়তে চায় না। তাই আপনাদের ছোট একটা শৌজো মাঙ্গার কথা জানাব যেটা শুধু ছেলেদেরকে নিয়েই। অনেকটা নিজীরো ডেইয ধাঁচের। নিজীরো ডেইযের তো ভালোই প্রশংসা শোনা যায়। তাই আশা করছি এটা পড়তেও আগ্রহী হবেন।

মাঙ্গাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ৪ জন বন্ধুকে নিয়ে। একেকটি চ্যাপ্টার এদের একেক জনকে নিয়ে বানানো। প্রথমে কাহিনী শুরু হয় যখন ইসেযাকি একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে পাশের মেয়েদের স্কুলের বিল্ডিংয়ের জানালায় একটা মেয়েকে পানি খেতে দেখে হা করে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটি ইসেযাকিকে লক্ষ্য করে কঠোর দৃষ্টিতে তাকালে ইসেযাকি ভড়কে গিয়ে শুধু হাত নাড়ে। মেয়েটিও উত্তরে ইসেযাকির দিকে হাত নাড়ে। এরপর থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ইসেযাকি কাগজে লিখে লিখে মেয়েটির সাথে কথা বলে। নাগিসে, ইসেযাকি’র সিনিয়র মেয়েটি পড়ে মেয়েদের সাকুরানো হাই স্কুলে যেখানে মেয়েদের ছাত্রীনিবাসে থেকে পড়ালেখা করতে হয়। ইসেযাকি পড়ে ঠিক তার পাশের ছেলেদের কামিয়ামা প্রাইভেট হাই স্কুলে। কিন্তু এই দুই স্কুলের মাঝে বিশাল বড় দেয়াল তৈরি করে আলাদা করে রাখা। নাগিসের সঙ্গে ইসেযাকির দেখা করা সম্ভব না। এর উপর হঠাৎ করেই নাগিসের আর দেখা পাওয়া যায় না। সাকুরানোর আরেকটি নিয়ম হল সিনিয়ররা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ছাত্রীনিবাস ছেড়ে চলে যায় এবং স্কুলে আসে না। এটা আগে না জানা থাকায় ইসেযাকির মাথায় হাত! এখন সে কিভাবে তার ম্যাডোনার দেখা পাবে?! আর ১০টা ছেলে যেমন মরিয়া হয়ে উঠত ইসেযাকিরও ঠিক তাই হয়। সে বুদ্ধি করে আসছে গ্র্যাজুয়েশন সেরেমোনির সময় নাগিসে যখন প্রথম হেঁটে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরবে তখন ইসেযাকিও তার সঙ্গে হাঁটবে। কিন্তু ঠিক সেদিনই আবার তার পরীক্ষা পরে। পরীক্ষা দিয়ে বহু বাধা পেরিয়ে পৌঁছুতে পৌঁছুতে ততক্ষণে অনুষ্ঠানই শেষ হয়ে যাবে! ভাগ্য তার সহায় হয় না। তাই বলে ভালবাসার শক্তিকে অবমুল্যায়ন করা ঠিক না মোটেও! এই দুই স্কুলের মাঝে একমাত্র যোগসূত্র হল একটি কমন ইমার্জেন্সি হলওয়ে যেটা সবসময় বন্ধ রাখা। আরও আছে সাকুরানোর বিশাল গেট আর দেয়াল। এতকিছুর বাধা পেরোতে ইসেযাকি তার দুই বন্ধু নোগামি, উয়েমুরা আর ক্লাসমেট ইয়ুইয়ের সাহায্য চায়। কিন্তু কিভাবে কি করবে তারা…?

উত্তরটা আমি বলব না অবশ্যই। প্রথমে মনে হতে পারে এটার একটু বেশিই লুতুপুতু কাহিনী। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তেমন না। এরপরের চ্যাপ্টারগুলো কোনটা শুধু বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে আবার কোনটা আরেকটি প্রেমের গল্প নিয়ে। ইসেযাকি আর তার বন্ধুদের কান্ডকির্তী দেখে আমি হেসেছি পাগলের মত। পুরোটা পড়ার সময় শুধু একটা জিনিসই মাথায় ঘুরত। ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এরকম দৈনন্দিন জীবনের ঘটনাগুলো দেখা যে এত মজার তা কখনো ভাবিইনি। আর প্রেম কাহিনী হলে তো কথাই নেই! মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের চিন্তাভাবনাগুলোর সাথে অত পরিচিত না। তাই আপনি যদি মেয়ে হয়ে থাকেন এবং এসব জানতে আগ্রহী হন তাহলে বলব অবশ্যই অবশ্যই এটা পড়তে। ছেলেরা প্রেমে পড়লে কি করে তা একদম দেখার মত জিনিস! আর ছেলে হলে তো ছোটবেলায় করে আসা কোন অকাম-কুকামের সাথে মিল খুঁজে পেলেও পেতে পারেন! ইসেযাকির দলটার পাগলামি দেখে মাঝে মাঝে মনে হবে আপনিও তাদের সাথে কোন অ্যাডভেঞ্চারে বেড়িয়ে পরেছেন। কিসমাঙ্গাতে আক্ষরিক অর্থেই এটার জন্য অ্যাডভেঞ্চার ট্যাগ মারা আছে! এরকম মজার আর অ্যাডভেঞ্চারাস হলে শৌজো মাঙ্গার মত কাহিনী যে কেউই চাবে তার জীবনে।

মাঙ্গাটির আর্টও বেশ সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আমি মাঙ্গাটি প্রথম পড়তে গিয়েছিলাম শুয়ে থাকা অবস্থায়। তারপরেও মাঙ্গার কভার দেখে মনে হল আমি উল্টায় গেলাম! হতে পারে সেটা ফ্যানগার্ল ফিলিং। কিন্তু ছবিগুলো আসলেই খুব সুন্দর। আর হবে নাই বা কেন? এ যে আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমের মাঙ্গাকার আঁকা! যারা আকা-শিরা পরেছেন তারা তো আকিযুকি সোরাতার আর্ট আর গল্পের ধরণের সাথে পরিচিত। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন আমি এত এই মাঙ্গার প্রশংসা করছি। বিশেষ করে আর্টের দিক থেকে তার আঁকাআকির ছাপ স্পষ্ট। ইসেযাকিকে দেখে পুরো ‘যেন উইস্তালিয়া’র মত লাগে। আবার উয়েমুরা দেখতে পুরোই ওবির মত। ইয়ুই আর নোগামির মাঝেও এই ভাবটা কিছুটা হলেও আছে।

বেশির ভাগ স্লাইস অফ লাইফ গল্প বুলিং, দুঃখ, কষ্ট, সংগ্রাম ইত্যাদির কথা বলে। আর শৌজোগুলো শুধু সুদর্শন ছেলে x একটু অন্যরকম মেয়ের গল্প বলতে ব্যস্ত। সেখানে সেইশুন কৌরয়াকুহন কিশোর বয়সের ছেলেদের ছোট ছোট ঘটনার মাঝে খুঁজে পাওয়া উন্মাদনার চিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এটার থিমটা যদি মনে ধরে কিংবা আপনি যদি নিজীরো ডেইয, কিমি তো বকু’র ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে এই মাঙ্গাটি পড়তে ভুলবেন না।

সাতৌগাশি নো দানগান ওয়া উচিনুকেনাই: এ ললিপপ অর এ বুলেট [রিকমেন্ডেশন] — Fatiha Subah

সাতৌগাশি নো দানগান ওয়া উচিনুকেনাই: এ ললিপপ অর এ বুলেট
ইংরেজি নামঃ সুগার ক্যান্ডি বুলেটস ক্যান্ট পিয়ারস এনিথিং
জানরাঃ সাইকোলজিক্যাল, শৌনেন, ড্রামা, স্কুল
ভলিউমঃ ২টি
চ্যাপ্টারঃ ১৩টি
অবস্থাঃ সমাপ্ত
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৩
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

সাধারণত আমি রেকমেন্ডেশন লেখার চেয়ে রিভিউ লেখাটা ভালো মনে করি। একটা সিরিজ নিয়ে যদি লিখবই তবে ভাল-খারাপ সব খুঁটিনাটি নিয়ে একটা রিভিউই লিখি। রেকমেন্ডেশনের কাজটা তো ওটার সাথেই হয়ে যায়। কিন্তু এই মাঙ্গাটার ক্ষেত্রে কথাটা খাঁটাতে পারছি না। সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার-স্যাপার এর আগেও কিছু দেখেছি, পরেছি। মনস্তত্বের উদ্ভট সব জিনিস সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু কোনটাই আমাকে এই মাঙ্গাটার মত বাকরুদ্ধ করতে পারেনি। এতটাই বাকরুদ্ধ হয়েছি যে আজো সেই বাকরুদ্ধ ভাব থেকে বেড়িয়ে আসতে পারিনি। এরকম একটা মাঙ্গা নিয়ে ঠিক কিভাবে রিভিউ লিখলে সেটার একটা সুন্দর বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে পৌঁছাবে তা আমার জানা নেই। তাই বলে এত ভালো একটা মাঙ্গা সবার চোখের আড়ালে থেকে যাওয়াটাও হবে দুঃখজনক। তাই এটা নিয়ে একটা রেকমেন্ডেশনই লিখে ফেললাম।

গল্পের শুরুটা হয় সাদামাটা ভাবে। আমাদের খুব বেশি পরিচিত একটা প্রেক্ষাপটঃ ক্লাসে বদলি হয়ে আসা নতুন স্টুডেন্ট প্রধান চরিত্রের সাথে কোনভাবে জড়িয়ে যাবে। ক্লাসের সব ছেলেমেয়েরা যখন পড়ালেখা করবে না কিন্তু সুন্দর ইউনিফর্ম পড়ে কোন হাই স্কুলে যাবে এই স্বপ্নে বিভোর তখন নাগিসা ইয়ামাদা’র সময় কিংবা ইচ্ছা কোনটাই নেই সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেবার। একই বয়সের বাকি সবাই যখন কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে ব্যস্ত তখন নিষ্ঠুর বাস্তবতা নাগিসাকে বাধ্য করে তার পরিবার আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে। নাগিসার বাবা মারা গেছেন। বাবার রেখে যাওয়া ইনস্যুরেন্সের টাকা ফুরিয়ে গেছে। তার পুরো পরিবার তার মায়ের একার পার্ট-টাইম জবের আয়ের উপর নির্ভরশীল। পুরো পরিবার বলতে আর আছে নাগিসার বড় ভাই তোমোহিকো যার কিনা কথা ছিল পরিবারের দেখাশোনা করার। হাই স্কুলে থাকাকালে উজ্জ্বল ছাত্র হলেও তোমোহিকো পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ঘরকুনো হয়ে যায়, সে এখন শুধু অদ্ভুত সব জিনিস সংগ্রহ করে আর বই পড়ে। ভাইয়ের এই দ্বায়িত্বহীনতার কারণে সব চাপ নাগিসার ঘাড়ে এসে পড়লেও সে তবু তার ভাইকে অনেক শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে। তার এখন লক্ষ্য শুধু একটাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিডেল স্কুল পাশ করে তার ছোট্ট শহরের সীমান্তে অবস্থিত সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সে যোগদান করবে। সে হতে চায় “বুলেট”। বুলেটের মত সজরে নিজের শক্তিতে বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে ছুটে যাবে। সাধারণ মেয়েরা যে মিষ্টি মিষ্টি বা “সুগারি” ধরণের বিলাসিতা করে সেসব তার জন্য নয়।

একদিন নাগিসার ক্লাসে আসে একটি নতুন মেয়ে। মেয়েটির নামটা অদ্ভুত, উমিনো মোকোযু। “উমি নো মোকোযু” এর অর্থ হল সামুদ্রিক শৈবালের ক্ষুদ্র বর্জ্য অংশ। আর শুধু “মোকোযু” শব্দটার মানে “সাগরে মৃত্যু”। এই অদ্ভুত নামের মেয়েটা তার চেয়েও অদ্ভুত। সে সোজা সবাইকে বলে দেয় সে নাকি কোন মানুষ না। সে একজন মৎস্যকন্যা! সে তার পরিবার, জাপানের সাগরের মাছদের কাছে শুনেছে মানুষ নাকি একটা বোকা, মুর্খ প্রজাতির প্রাণী যারা অনুভূতির বশে হারিয়ে যায়। কিন্তু মানুষেরা ঠিক কতটা বোকা? তাদের জীবনের কি কোন মূল্য আছে? তারা মরে গেলেই কি বেশি ভালো হত? এসবের উত্তর জানতেই সে সাগর থেকে মানুষের পৃথিবীতে চলে এসেছে। সবাই বলাবলি করতে থাকে মোকোযু এক সময়ের জনপ্রিয় একজন সেলেব্রিটি উমিনো মাসাচিকার মেয়ে যেটা মোকোযু অস্বীকার করে। বাস্তববাদী নাগিসা স্বভাবতই পাগলাটে মোকোযুকে পাত্তা দেয়না। কিন্তু বিধিবাম। মোকোযু নাগিসার পিছে লাগে। তাকে অনুসরণ করতে থাকে। সে নাগিসাকে বলে যে তার আসল লক্ষ্য নাকি অন্য। সে একটি সত্যিকারের বন্ধু খুঁজতে এসেছে। একজন ভালো বন্ধু যে কিনা তার জন্য সবকিছু করতে রাজি থাকবে। যদি তার এই ইচ্ছা পূরণ না হয় তাহলে সে সামুদ্রিক শৈবালে পরিণত হয়ে ফেনায় হারিয়ে যাবে। নাগিসার শহরটায় প্রতি ১০ বছরে একটা করে বড় ঝড় হয় যেটা আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয় না। শীঘ্রই আসছে সে ঝড়ের আগেই মোকোযুকে খুঁজে বের করতে হবে একজন বন্ধু। সে চায় নাগিসাই হবে সেই বন্ধুটা। একে তো মোকোযু আবলতাবল অবাস্তব সব কথা বলে তার উপরে ঠিক ১০বছর আগে এমন এক ঝড়ই কেড়ে নিয়েছিল নাগিসার বাবাকে। প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে নাগিসা মোকোযুকে এড়িয়ে যেতে থাকে। তবু মোকোযু নাগিসার পিছু ছাড়ে না। “সুগার বুলেটের” মত মোকোযুর কথাগুলো বিঁধতে থাকে নাগিসাকে। অনেক অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু কারণে নাগিসাকে জড়িয়ে যেতে হয় মোকোযুর সাথে। নিজের ভাইয়ার সাথে মোকোযুকে নিয়ে কথা বলে, মানুষের মানসিকতার কিছু আজব তথ্য জানে। এরপর সে নিজের অজান্তেই জড়িয়ে যায় মোকোযুর জীবনের সাথেও। সবসময় হাসিখুশি, আজগুবি আর পাগলামো আচরণ করা মেয়েটার পেছনের কারণটা কি? আর মোকোযুর বাবা মাসাচিকার মৎস্যকন্যা নিয়ে গাওয়া প্রথমে রোমান্টিক কিন্তু পরে পাশবিক হয়ে যাওয়া ওই গানটারই বা রহস্য কি?

মাঙ্গাটি একই নামের একটি লাইট নোভেল থেকে রূপান্তরিত। মাঙ্গাটির আর্ট ভালো আছে। তবে স্লাইস অফ লাইফের মত কাহিনী খুব ধীর গতিতে শুরু হয়। প্রথমে এমনও মনে হয় যে এতে তো কোন নতুনত্ব নেই। কিন্তু এরপরে গিয়ে আস্তে আস্তে সব প্রকাশ হতে থাকে। আর শেষে যা অপেক্ষা করছে ওটা একটা বিশাল বড় ধাক্কা। একদম লাইটহার্টেড মাঙ্গাটা শেষে গিয়ে ডার্ক হয়ে যায় যেটা হতভম্ব করে দিবে। তাই শুরুতে বোরড হলেও ড্রপ করবেন না। মাত্র ১৩টি চ্যাপ্টারই তো।

শেষ করব তোমোহিকোর একটি ধাঁধা দিয়ে। একজন লোকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তার এক সহকর্মীর সাথে তার স্ত্রীর দেখা হয়। খুব তাড়াতাড়ি তাদের মাঝে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। বরং বলা উচিত তাদের মাঝে পারস্পরিক আকর্ষণ তৈরি হয়। ঠিক সেই রাতেই মৃত লোকটির ছেলেটিও খুন হয়। জানা যায় খুনিটি ছিল সেই স্ত্রী। সে হঠাৎ করেই তার ছেলেকে খুন করল। কিন্তু কেন? আপনি কি ভাবছেন তা আমি ধারণা করতে পারি। কিন্তু উত্তরটা তা না। তোমোহিকোর ভাষ্যমতে ভুল উত্তর দেওয়ার মানে হল আপনি একজন স্বাভাবিক মানুষ। আর যারা ঠিক ধারণা করেছেন তারা হতে পারেন ভবিষ্যতের বড় বড় খুনি!! কিন্তু কি সেই উত্তরটা? মানসিকতায় কি এমন তফাৎ? জানতে হলে পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি।

Lollipop or Bullet

নাগি নো আসুকারা [রিভিউ] — Fatiha Subah

নাগি নো আসুকারা
জানরাঃ ফ্যান্টাসি, রোমান্স, ড্রামা
পর্ব সংখ্যাঃ ২৬
সোর্সঃ ওরিজিনাল
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৩৮
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯.৫/১০

nagiasu 1

অনেক দিন আগে মুহম্মদ জাফর ইকবালের “জলমানব” নামের একটা সায়েন্স ফিকশন পড়েছিলাম। সেখানে মানুষ মূলত পানিতে বাস করত। এই থিমটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল। পানিতে থাকতে পারলে কি মজাটাই না হত! তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিলাম এই ভেবে যে, ‘ইশ… এটার যদি একটা মুভি বা এরকম কিছু থাকতো তাহলে সরাসরি পানিতে ঘুরে বেড়ানো দেখতে পেতাম’। নাগি নো আসুকারা এই থিমের উপর ভিত্তি করে তৈরি শুনে আনন্দ লাগছিল। আমার ইচ্ছা পূরণ হইছে!! ইয়েএএএএ!!! আমার সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম আনিমেতে দেখতে পাব তার উপর সাথে আবার আমার প্রিয় রোমান্স জানরা। আমাকে আর পায় কে! কিন্তু শুরুতে আশাও করিনি আনিমেটা এতটা ভালো হবে। রোমান্স জানরার আনিমের নাম চাইলে সবাই বহু সাধারণ আনিমের নাম বলে কিন্তু এটার কথা কাউকে বলতে দেখি না। এরপরের বার দেখার জন্য রোমান্স আনিমে খুঁজতে চাইলে সোজা আগে এটা দেখবেন!

nagiasu 2

গল্পঃ অনেক আগে মানুষ সমুদ্রে বসবাস করত। সাগরের দেবতার দেওয়া “এনা” নামের মাছের আঁশের মত ত্বকের উপর এক ধরণের স্তর মানুষকে পানিতে বেঁচে থাকার ক্ষমতা দান করে। কিন্তু অনেক মানুষ সমুদ্র ছেড়ে মাটিতে উঠে আসে বাইরের পৃথিবীকে দেখার জন্য। অনেকে সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করে। ফলাফলস্বরূপ তারা এনা হারিয়ে ফেলে। এনাহীন প্রজন্ম মাটির উপরেই জীবনযাপন করে এবং নিজেদের পরিবার নিয়ে বংশবৃদ্ধি করে। মানবজাতি দু ভাগে ভাগ হয়ে যায়। জলে “শিওশিশিও” গ্রাম আর স্থলে “ওশিওহশি”।
আনিমেটি শুরু হয় ৪ মিডেল স্কুল পড়ুয়া ছোটবেলার বন্ধু হিকারি সাকিশিমা, মানাকা মুকাইদো, চিসাকি হিরাদাইরা আর কানামে ইসাকি’কে নিয়ে। তাদের শিওশিশিও’র মিডেল স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয় ওশিওহশি’র স্কুলে আসতে। পথিমধ্যে দেখা হয় সুমুগু কিহারা নামের এক ছেলের সঙ্গে যে কিনা একজন জেলে এবং তাদের নতুন সহপাঠী।

nagiasu 3

এদিকে সাগর পাড়ের মানুষদের সাগর দেবতার প্রতি একটি দায়িত্ব ওফুনেহিকি নামের এক ধরণের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা যেখানে একজন কুমারীকে এবং অন্যান্য বলি দেবতার প্রতি উৎসর্গ করা হয়। কিন্তু দুই মানবজাতির মাঝে অন্তর্দ্বন্দ যেন বাড়তে বাড়তে তুঙ্গে পৌঁছেছে। বহুকাল যাবত ওশিওহশি’র লোকেরা ওফুনেহিকির আয়োজন করে না। সাগর দেবতা তাই তাদের উপর ব্যাপক অসন্তুষ্ট। সতর্কতা জারি করা হয় যে ওশিওহশি নোনা তুষারে ঢাকা পরে যাবে যদি না খুব শীঘ্রই ওফুনেহিকি পালন করা হয়। এর উপর অসম্ভব রকম ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করবে। সাগর ধীরে ধীরে জমে যাবে। কিন্তু এত কিছুর পরও কলহ-বিবাদের কারণে ওফুনেহিকি’র আয়োজন আবারো ভেস্তে যায়। হিকারি ঠিক করে যেভাবেই হোক এটার সমাধান করতে হবে। মানাকা, চিসাকি আর কানামেকে নিয়ে সে কাজে লেগে পড়ে। সাথে যোগ দেয় সুমুগু। তাদের উৎসাহ দেখে তাদেরকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে আরো নতুন সহপাঠীরা।

nagiasu 4

এই চার বন্ধু নতুন করে আবিষ্কার করে নতুন পৃথিবীটাকে, মুখোমুখি হয় দুই মানবজাতির দ্বন্দ্বের, খুঁজে পায় একই সাথে মিষ্ট আবার তিক্ত অনুভূতি, জানতে পারে সাগর দেবতার ইতিহাস আর বেড়িয়ে পরে নতুন এক অভিজ্ঞতায়!

nagiasu 5

আর্ট এবং অ্যানিমেশনঃ নাগি-আসু’র ব্যাপারে সবার আগে বোধ হয় এটা বলা অবশ্যকর্তব্য! এর অ্যানিমেশন এতটা অসাধারণ! যদিও পি.এ. ওয়ার্কসের অ্যানিমেশন এমনিতেও সেরা মানের। সেরা অ্যানিমেশনের আনিমের তালিকা করলে এটা নির্ঘাত অনেক উপরে থাকবে। তবে সুন্দর অ্যানিমেশন আসলে বহু আনিমেতেই আমরা অহরহ দেখি এখন। কিন্তু নাগি-আসু একটু ব্যতিক্রম এই দিক থেকে যে পানি নিয়ে কাজকারবার অন্য আনিমেতে খুব একটা নেই নদী, লেক, সুইমিং পুল আর হটস্প্রিং দেখানো ছাড়া। কিন্তু এখানে পানির প্রভাব অনেক বেশি। আনিমেটা দেখতে বসলে মনে হবে আপনি নিজেই যেন সমুদ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিংবা আপনার আশেপাশে মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে। পরিষ্কার টলটলে পানির নিচে সূর্য বা চাঁদের আলোয় ঝিকমিক করা শিওশিশিও গ্রামটা দেখতে আসলেই খুব ভালো লাগে। আর ওশিওহশি শহরটাও কম যায় না। তুষার ঢাকা শহরটার দিকেও তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করবে। মোটকথা, এরকম আনিমে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয়টা নেই তাই আপনি হাই কোয়ালিটি দেখেন আর না দেখেন এটা অবশ্যই পারলে ৭২০ বা ১০৮০ পিক্সেল বা এইচডি কোয়ালিটিতে দেখবেন।
এবার আসি ক্যারেক্টার ডিজাইনে। পুরা “মোয়ে মোয়ে” চোখ জলমানবদের! অনেকেরই এটা অপছন্দ। তাই মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে অনেকেই। কিন্তু তাদের আকাশী নীল রঙের চোখজোড়া আমার কাছে ভালোই লেগেছে। চরিত্রগুলোও এক কথায় “সুন্দর”। বিশেষ করে কানামে আর চিসাকি!

nagiasu 6

মিউজিক এবং সাউন্ডঃ প্রথমে ভয়েস অ্যাক্টিংয়ের কথা বলি। সেইয়ূ নির্বাচন যথাযথ হয়েছে। প্রতিটা চরিত্রের সাথে কণ্ঠগুলো মানিয়ে গেছে বেশ। কণ্ঠ শুনেই সবার ব্যক্তিত্ব ও স্বভাবচরিত্র বুঝা যায়। ওএসটি-এর ক্ষেত্রেও বেশ ভালো কাজ করেছে। শুরুতে জিন আকেতাগাওয়া ছিল সাউন্ডট্র্যাকের দায়িত্বে। পরে গুণী কম্পোজার ‘দেওয়া ইয়োশিয়াকি’কে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাই কি আশা করতে পারেন সেটা বুঝতেই পারছেন। আনিমে দেখার সময় কাহিনীতে বুঁদ হয়ে থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অতটা খেয়াল নাও করতে পারেন। তাই ইয়ুটিউবে শুনে নিতে পারেন ওএসটি। ওপেনিং আর এন্ডিং গানগুলোও ভালো আছে। নাগি ইয়ানাগি’র “অ্যাকুয়া টেরারিয়াম” আর রে’র “এব এন্ড ফ্লো” পছন্দ হবে বেশী। সাউন্ড নিয়ে আরেকটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সাগরতলে যখন সাঁতার কাটা হয় তখনকার পানি প্রবাহের শব্দ আর বিভিন্ন জলজীবের শব্দগুলোও কেমন জানি মোহিত করে রাখে।

nagiasu 7

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ নাগি-আসু’র প্রাণ হচ্ছে এর চরিত্রগুলো। প্রায় প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে তার নিজস্ব ভূমিকা। এদের ছাড়া আনিমেটা অসম্পূর্ণ থেকে যেত। প্রধান চরিত্র শুধু সেই ৪-৫ জন ছেলে-মেয়ে না। আরও কিছু চরিত্র পরে এসে যোগ হয় যাদের অনেকেই প্রধান চরিত্র বা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যক্তিগতভাবে আমি অত খুঁতখুঁতে না তাই কাউকে নিয়েই আমার তেমন আপত্তি নাই। তবে হিকারি অনেক বদমেজাজি প্রধান চরিত্র হিসেবে। কিন্তু ধীরে ধীরে ওর মাঝে অনেক পরিবর্তন আসে তাই সেটা মাফ করা যায়। কিন্তু সমস্যা হল মানাকা আর সুমুগুকে নিয়ে। বেশির ভাগ মানুষ এই দুজনকে অপছন্দ করে। কেননা কাহিনীর ঝামেলা শুরুই এই দুইটার হাত ধরে এবং একেবারে শেষ পর্যন্ত এরাই গল্পটা নিয়ন্ত্রণ করে যায়। অথচ মানাকা পুরো একটা ছিঁচকাঁদুনে, আনমনা, আর বেহুঁশ মেয়ে যেটা খুব বেশী পরিচিত আনিমের প্রধান মেয়ে চরিত্র হিসেবে। আর সুমুগু চার বাল্যবন্ধুর মাঝে ঝড়ের মত এসে বাগড়া বাধায়। সুমুগু বাগড়া না বাধালে শেষে অনেক ভক্তের একটা ইচ্ছা পূরণ হত কিন্তু সেটা স্পয়েল না করার স্বার্থে আর বলছি না। মাঝে মাঝেই এই দুজনকে ধরে থাপড়ানোর প্রবল ইচ্ছা জেগে উঠলেও কিছু করার নেই! আবার সুমুগুকেই লাগতে পারে সবচেয়ে পরিপক্ক চরিত্র! চিসাকিকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আমার কাছে চিসাকিকে অনেক ভালো লেগেছে কারণ সে আশেপাশের সবার বিষয়ে অবগত, চিন্তাভাবনা করে সিধান্ত নেয় আর মানসিকভাবে পরিপক্ব হয়। মিউনা হল সেই “ভালো মেয়ে” যে কিনা প্রধান চরিত্রের একজন হয়ে কত কিছু করার পরেও পার্শ্ব চরিত্রের মত থেকে যায়। মিউনাও পছন্দনীয়। তবে আমার মতে সেরা চরিত্র দুটি হল কানামে আর সায়ু। দুঃখের বিষয় হল সবচেয়ে কম স্ক্রিনটাইম আর গুরুত্ব পেয়েছে এরাই। সবসময় কাহিনীর পেছনে ফেলে রাখা এই দুজনেই চুপচাপ সব পর্যবেক্ষণ করে এবং এদের অনুভূতিগুলো মনকে নাড়া দেয়ার মত। তবে যত যাইহোক, বিভিন্ন রকমের চরিত্র আছে যারা ঠিক গতানুগতিক হতে গিয়েও অগতানুগতিক। কোন কারণে আমার অগাধ বিশ্বাস বাস্তবে আসলেই মানাকা, চিসাকি, মিউনা আর সায়ু’র মত হয় মেয়েরা (মোর এই উক্তি মানিয়া লইয়া চলিলে অতঃপর আপনার জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছুলে মুই দায়ি নহে)। আর হ্যাঁ, এত গুরুগম্ভীর নাটকীয়তার মাঝে একটু হাসাতে ও মজা দিতে পিচ্চি আকিরা তো আছেই!

nagiasu 8

এঞ্জয়মেন্টঃ এবার আসি আসল রিভিউয়ে। শুরুতেই বলে দিয়েছি এই আনিমেটা অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো। কিন্তু কেন? নাগি-আসু দেখলে শুরুতে এটিই মাথায় ঘুরবে। হয়ত পানিতে থাকাটা নতুনত্ব কিন্তু ঘুরেফিরে তো আবার সেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়েই। তার উপর এরা আবার মাত্র মিডেল স্কুলে পরে। বাচ্চা পোলাপান! আরও বেশী বাচ্চামি করে বেড়াবে আর সব জগাখিচুড়ি পাকাবে! কথাটা কিছুটা সত্য। কিন্তু নাহ, এর থেকে বড় ভুল ধারণা নাগি-আসুকে নিয়ে আর হতেই পারে না। ডোন্ট জাজ অ্যান আনিমে বাই ইট’স পোস্টার! আপনি যদি ভেবে থাকেন এটা আর ১০টা রম-কম আনিমের মত বা এটা তার থেকে বাজে হবে তাহলে বিশাল ভুল করছেন। আপনি যদি রোমান্স আনিমের উপর পিএইচডি-ও করেন তাও লাভ নাই! নাগি-আসু এক কথায় “ওয়ান অফ এ কাইন্ড”। আমি নিজে বস্তায় বস্তায় রোমান্স আনিমে দেখেছি কিন্তু কোনটাই এটার ধারের কাছে নাই। অন্য কোন আনিমের সাথেও এর মিল নাই। আমি প্রতিবার হারেম থেকে রিভার্স হারেম কিংবা সাধারণ রোমান্স এমনকি নন-রোমান্স সবখানেই কে কাকে পছন্দ করে, জুটি কারা হবে সব কিছু হওয়ার আগেই অনুমান করে বসে থাকি আর লাফালাফি করি যখন সেগুলো আসলেই সত্যি হতে দেখি। কিন্তু এই এক নাগি-আসু’র ক্ষেত্রে কিছুই বুঝা সম্ভব না। কারা কারা জুটি হবে বা অন্য যেকোন কিছুই হোক সেটা, আপনাকে অবাক করার মত বহু কিছুই আছে। এটার গল্পটার আসলে দুইটা আর্ক বা অংশ আছে। প্রথম অংশও ভালো কিন্তু দ্বিতীয় অংশটায় পুরো কাহিনীর মোড় ঘুরে যায় এবং এখান থেকেই আনিমেটা জমজমাট হতে শুরু করে। তাই শুরুটুকু খুব সাধারণ লাগলে বলব যে একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। এখানে চমকের পর চমক অপেক্ষা করছে। এটা দেখতে মজাও আছে এজন্য। আপনি কত ভাল আন্দাজ করতে পারেন তারও একটা পরীক্ষা হয়ে যেতে পারে।

nagiasu 9

সমস্যা হল এই একই কারণে নাগি-আসু ভালো নাও লাগতে পারে। আপনি যেই জুটি সমর্থন করেছেন তা না দিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটা জুটি দিয়ে যখন আপনাকে বিস্মিত করে দিবে তখন সেটা মোটেও ভালো লাগবে না! খুবই স্বাভাবিক। আর নাগি-আসুতে এমনটা হওয়াই খুব স্বাভাবিক! এখানে যে প্যাঁচ আছে তার কোন তুলনা হয়না! আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, ১০০% অতুলনীয়! অন্য আনিমেতে ভালোবাসার চতুর্ভুজ বা পঞ্চভুজ পেতে পারেন খুব বেশী হলে। এখানে যে পুরা সপ্তভুজ এনে ছেড়েছে! তাছাড়া, সাধারণত কারা কারা এক সাথে হবে এটা আগে থেকেই বলে দেওয়া যায়। কিন্তু এখানে বাকি সময়ের মত শেষে কি হবে এটা মোটেও আগে থেকে বুঝে ফেলা সম্ভব না। এজন্যই প্রিয় জুটি দেখার সৌভাগ্য না হওয়ার সম্ভবনাও অনেক বেশি। শেষে গিয়ে তাই অনেকেই আশাহত হয়। তাই আনিমেটা বাজেও লাগতে পারে। আমার প্রিয় জুটিগুলোও একসাথে আমি দেখতে পারিনি। খারাপ লেগেছিল খুব। কিন্তু এরকম লাগলে আমি বলব যে পুরো ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখবেন যে, যদি শেষটা একটুও আলাদা হত তাহলে কাহিনী কতটা অন্যরকম হয়ে যেত। যেহেতু এখানে প্যাঁচ বেশি তাই একটা জুটি পরিবর্তন করলে বা একটা চরিত্রেরও যদি অনুভূতি বা সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয় তো পুরা আনিমেটাই অন্যরকম হয়ে যাবে। সেই পরিবর্তন খুব আজগুবিও হত। একটু চিন্তা করলেই দেখবেন বাকি সম্ভাব্য জুটিগুলো আসলে অনেক উদ্ভট লাগত। তাই সমাপ্তিটা আসলে উপযুক্তই হয়েছে।

nagiasu 10

শুধু রোমান্স না, নাগি-আসু’র অনেক বড় একটা অংশ জুড়ে আছে ফ্যান্টাসি। ‘সমুদ্রে মানুষের বসবাস’-শুধু এখানেই ফ্যান্টাসির কাজ শেষ না। সাগরের দেবতা বা উমিগামির আছে এক নিজস্ব ইতিহাস। উমিগামি-সামা’র গল্পটা শুনলে মনে হবে আপনি কোন কিংবদন্তী লোককথা শুনছেন। উরোকো-সামা, জলমানব আর স্থলমানবদের মাঝের বিবাদ-কলহ যোগ করেছে প্লট টুইস্ট। আরেকটা বিষয় হল আমরা মাটির উপরে যা যা করি তার সব পানির মধ্য করা সম্ভব না। যেমন পানিতে আগুন ধরাবেন কিভাবে? পানিতেও কি তুষার পড়ে? সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ কি পানিতেও হতে পারে? এই জিনিসগুলো কিছুটা পরিমার্জন করে নতুন জগতটার সাথে মানিয়ে নেয়া হয়েছে। এরকম নতুন একটা সেটআপকে এত চমৎকারভাবে তুলে ধরার জন্য পি.এ. ওয়ার্কসকে কৃতিত্ব দিতেই হয়।

nagiasu 11

সবমিলিয়ে নাগি নো আসুকারা সত্যিই আনিমে জগতে নতুনত্ব এনেছে। রোমান্স আর ফ্যান্টাসির নিখুঁত সংমিশ্রণে তৈরি এমন আনিমে সহজে পাবেন না। রোমান্স আনিমে ভক্তদের জন্যে এটা মাস্ট ওয়াচ। জানি না কেন এটা যতটা জনপ্রিয়তা পাওয়ার যোগ্য ততটা জনপ্রিয়তা পায়নি। এনিমখোর টপচার্ট ২০১৪-এর অ্যাডমিনস চয়েসে কিন্তু নাগি-আসু’ই ছিল সেরা রোমান্স আনিমে ক্যাটাগরির বিজয়ী। তাই সময় পেলে অবশ্যই দেখে ফেলবেন আনিমেটি।

পিএসঃ আকাশসমান প্রত্যাশা থাকলে যেকোনো কিছুই আশাহত করতে পারে। তাই আশার মাত্রাটা একটু কমিয়ে নিয়ে দেখতে বসলে দেখবেন উপভোগ করতে পারছেন বেশ! ধন্যবাদ।

nagiasu 12 nagiasu 13

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩১: Shigatsu wa Kimi no Uso — Fatiha Subah

“এনিমখোর রিভিউ কন্টেস্ট [২০১৫] – প্রথম স্থান অধিকারী এন্ট্রি”

————————————————————————————————————-

শিগাতসু ওয়া কিমি নো উসো

জানরাঃ মিউজিক, শোউনেন, স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০       

“আই মেট দা গার্ল আন্ডার ফুল-ব্লুমড চেরি ব্লসমস অ্যান্ড মাই ফেট হ্যাস বিগান টু চেঞ্জ”-সিরিজটার নামের নিচের এই শিরোনামটি পড়লে মনে হয় এটি সেই চিরাচরিত “বয় মিটস গার্ল অ্যান্ড ফল ইন লাভ” ধরনের কাহিনী। কথাটা মানুষকে দেখার জন্যে আকর্ষণও করতে পারে আবার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণও হতে পারে। একই সাথে ব্যাপক প্রশংসিত এবং ওভার রেটেড খেতাব পাওয়া আনিমেটা তাই বেশ বিভ্রান্তিকরই বটে। কিন্তু এত দ্বিমত কেন? চলুন জেনে আসি

গল্পঃ ১৪ বছর বয়সী মিডল স্কুল পড়ুয়া আরিমা কোউসেই এক অসাধারণ পিয়ানো বাদক। কিন্তু যার হাত ধরে পিয়ানোর হাতেখড়ি হয়, ২ বছর আগে সেই মায়ের মৃত্যুতে শোকে বিপর্যস্ত হয়ে সে পিয়ানো বাজানো ছেড়ে দেয়। আরিমার ভাষ্যমতে সে অন্যদের পিয়ানোর সুর শুনতে পেলেও নিজেরটা শুনতে অক্ষম। বাল্যকালের বন্ধু ওয়াতারি আর বান্ধবী সুবাকি’র সাথে কোনমতে দিন পার করে। মনমরা আর বিমর্ষ আরিমাকে দেখে বিরক্ত সুবাকি ওয়াতারির সাথে আরিমাকে জোর করে নিয়ে যায় এক মেয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। কাওরি মিয়াজোনো, একজন ভায়োলিনিস্ট যে আরিমার জীবনে অনেকটা ঝড়ের মতই হাজির হয়ে সব ওলটপালট করে দেয়, যেই মেয়ে তার জীবনে বসন্ত আনে কিন্তু দুঃখজনকভাবে ওয়াতারিকে পছন্দ করে, তার হাত ধরে গল্পের শুরু।

আর্ট এবং অ্যানিমেশনঃ এই সিরিজটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল এর অসম্ভব সুন্দর অ্যানিমেশন। সব আনিমেই তো রঙিন হয়। কিন্তু এই শব্দটি যেন নতুন করে শিখবেন এখানে। বিশেষ করে শুরুর আর শেষের দিকের কিছু পর্বে এতই রঙের খেলা আছে যা বলাই বাহুল্য। এটা নাকি এপর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বাজেটওয়ালা স্লাইস অফ লাইফ আনিমে। মজার বিষয় হল এখানে অন্য আনিমের মত চরিত্রগুলোর মুখ শুধু একটা দাগ দিয়ে দেখানো হয়নি বরং আসলেই ঠোঁট আছে! তবে ২ বছরের ব্যবধানে এত বেশি ছোট আর বড় দেখানো হয়েছে চরিত্রগুলোকে যেটা অসামাঞ্জস্য। আরিমার চশমার ডাটি সাইড থেকে দেখায় না। এ জিনিসগুলোর জন্যে মাঝে মাঝে বেশ আজগুবিও লাগে।

মিউজিক এবং সাউন্ডঃ ক্লাসিক্যাল মিউজিক নির্ভর আনিমে তাই মিউজিক নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। বেয়টোভেন, শোপান প্রমুখ মিউজিসিয়ানদের মিউজিক পিসের উপস্থিতি আছে ভালভাবেই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, ওপেনিং-এন্ডিং সবই শ্রুতিমধুর।

চরিত্রঃ আমার মতে মানুষ যদি ইয়ুনোর জন্যে মিরাই নিক্কি দেখতে পারে তাহলে শুধু কাওরির জন্যে হলেও শিগাতসু দেখা উচিৎ। আমরা যেটাকে শেষ বলে মনে করি সেটাই কি শেষ? নাকি সেটা নতুন কিছুর শুরু? জীবনের ঠিক কোনখানে গিয়ে হাল ছাড়ার অধিকার আছে? নাকি সেই মুহূর্তে গিয়ে আবার পূর্ণউদ্দ্যমে লেগে পরা উচিৎ? মিথ্যা বলা কি আসলেই খারাপ? ভালোবাসার মানে কি কাউকে নিজের কাছে চাওয়া নাকি তাকে সুখী জীবনে ছেড়ে দেওয়া? কাওরির কাছে জীবনকে নিয়ে শেখার অনেক কিছুই আছে। আপনি যদি হতাশায় ডুবে থাকেন তাহলে কাওরি হতে পারে আপনার বড় অনুপ্রেরণা। এছাড়া ওয়াতারি বাদে বাকি প্রায় ছোট-বড় সব চরিত্রের বেশ ভালো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়েছে।

খারাপ দিকগুলোর মাঝে রয়েছে সবসময় দুঃখ-দুঃখ ভাব থাকা সত্ত্বেও অসময়ে কমেডি আনার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। শুরুতে আর শেষে বেশ দ্রুত আগালেও মাঝে কাহিনী স্থবির হয়ে যায়। শুনতে খুব রূঢ় শোনালেও সত্যি বলতে একে ওভার রেটেড বলার কারন এখানে একটা সিরিজকে জনপ্রিয় বানানোর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে। গল্পটা অনেকটা তেমনই। তবু সেই গল্পটা শেষ পর্যন্ত উপস্থাপন করা হয়েছে খুব সুন্দরভাবে। নইলে কেন শেষ পর্ব দিয়ে ম্যাল রাঙ্কিংয়ের টপ ৫০ থেকে ১৩ নাম্বারে আসবে!

যাদের ভালোবাসার অনুভুতি আছে এমন কাহিনীযুক্ত বাস্তবতা নির্ভর মিউজিক্যাল আনিমে পছন্দ তাদের জন্যে এটা আদর্শ আনিমে।

31 Shigatsu

When Marnie Was There রিভিউ — Fatiha Subah

2

হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার
জানরাঃ মিস্ট্রি, সাইকোলজিক্যাল
ডিউরেশনঃ ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট
ম্যাল রেটিং: ৮.৪৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

স্টুডিও জিব্লির প্রতিটি মুভিই অসাধারণ এবং অনেক জনপ্রিয়। বিখ্যাত ডিরেক্টর হায়াও মিয়াযাকির কল্যাণেই যে এটা সম্ভব হয়েছে তা সবার জানা কথা। কিন্তু এত সব ভালো ভালো মুভির মাঝে স্টুডিও জিব্লির বানানো আমার সবচেয়ে প্রিয় দুটি মুভিরই ডিরেক্টর ছিলেন অন্য কেউ। তাই এই মুভি দুটো নিয়ে আলোচনাও কম হয় এবং অনেকেই মুভি দুটো চিনে না। এর মাঝে একটি হল “হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার”।

একদিকে হায়াও মিয়াযাকি ডিরেক্টর না অন্যদিকে স্টুডিও জিব্লি তখন অনেক চরাই-উতরাই পার হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই তাই আমার মুভিটা নিয়ে তেমন একটা প্রত্যাশা ছিল না। শুধু মুভির পোস্টারটা খুব পছন্দ হয়েছিল। অনেকটা হুট করেই দেখে ফেলি মুভিটি। দেখার সময় শুধু একটা কথাই মাথায় ঘুরছিল। কেন এই মুভিটা আরও আগে দেখলাম না!! যদি আরও পরে দেখতাম তো সারাজীবনের একটা আফসোস থেকে যেত।

1

কাহিনীটি আন্না নামের একটি মেয়ের হাত ধরে শুরু যে অ্যানাক্সাইটি অ্যাটাকে ভুগছে। স্কুলে কারো সাথে সে খুব একটা মিশতে পারে না। নিজের প্রতি তার প্রচণ্ড ঘৃণা। তাকে নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকে তার মা। কিন্তু কষ্টের বিষয় আন্না একজন দত্তক নেয়া সন্তান। তাই মায়ের এই দুশ্চিন্তা, মমতা কিংবা ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ সবই যেন আন্নার কাছে অর্থহীন ও মিথ্যার বেড়াজালে লুকানো অভিনয় বলে মনে হয়। চুপচাপ, মনমরা আন্নাকে তাই ডাক্তারের পরামর্শে তার মা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাসায় পাঠিয়ে দেন গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে। সেখানে গিয়েও সে বিমর্ষ ছিল। না, গ্রামের কোন মানুষের সাথে মিশে সে তার আগের উৎফুল্ল জীবনে ফিরে যায়নি। বরং কিছু ঝামেলাই বাধিয়ে ফেলে। কিন্তু আন্নার জীবন এবং কাহিনী পাল্টে দেয় অন্যকিছু। নিশ্চুপ আর শান্ত সাগরের পাড়ে বসে ছবি আঁকতে গিয়ে আন্না আবিষ্কার করে সাগরের ওপারে রয়েছে এক সুন্দর বাড়ি। বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত। কিন্তু শুধু একটি ঘরের জানালায় আলো দেখা যায়। আন্না কল্পনায় বা ঘুমের মাঝে সেই জানালার পাশে একটি সোনালি চুলের মেয়েকে দেখতে পায়। কেমন যেন এক অচেনা অনুভুতি তাকে টানে। এই রহস্যময় বাড়ির এক মেয়ে মারনির সাথে আন্নার বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু মারনির পরিচয়ও অনেক রহস্যময়।

কেউ যদি এ পর্যন্ত পড়ে ভেবে থাকেন এটা আমেরিকান কোন ভূতের গল্প তাহলে বড় ভুল করবেন। জানরায় যেমনটা বলা হয়েছে, আনিমেটা সাইকলজিক্যাল। সাথে কিছুটা ফ্যান্টাসি বা সুপারন্যাচারালের মিশেল। আমেরিকান ভূতের গল্প না হলেও গল্পটি ব্রিটিশ লেখক জোয়ান জি. রবিনসনের একই নামের উপন্যাস থেকে নেওয়া। তাই আগেকার আমলের ইংরেজি সংস্কৃতির স্বাদ পাবেন বেশ ভালোই। যারা পুরাতন ইংরেজি গল্প, উপন্যাস বা তখনকার আমলের জীবনাচরণ পছন্দ করেন তাদের মুভিটি ভালো লাগবে বলে আমার ধারণা।

3

মুভিটি পুরোটা দেখে কাহিনী বুঝার পর ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমার একবারে শুরু থেকেই কাহিনীর ভিতরে না ঢুকতেই অনেক ভালো লাগতে শুরু করেছিল। আমার আবার “ভিজুয়ালি প্লিজিং” আনিমে পেলে আর কিছু লাগে না। মুভিটির অ্যানিমেশন অসম্ভব সুন্দর। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। নিরিবিলি গ্রাম, শান্ত প্রকৃতি, পাখির কলকাকলি, সবুজ পাহাড়, তুলোর মত মেঘ আর নীলাকাশ, বালুচর, সাগরের ঢেউ পাড়ে আছড়ে পড়া, সাগরে নৌকা ভাসানো, বিরাট ম্যানশন, পূর্ণিমা রাত কিংবা বৃষ্টি, সোনালি চুলের গাউন পড়া একটি মেয়ে… দৃশ্যগুলো আপনাকে সম্মোহিত করে রাখবে। ছোটবেলায় পড়া রূপকথার বইয়ের ছবিগুলোর মত। সাথে তো বাকগ্রাউন্ড মিউজিক আছেই। আর আন্নার অ্যাডভেঞ্চার গল্পের মাঝে ঢুকিয়ে নিবে। যদিও আমি ধীর গতির দৈনন্দিন জীবনের কাহিনী নিয়ে আনিমে দেখে অভ্যস্ত তারপরেও আমার কাছে কেন জানি শুরুতে গল্পটা বেশ ধীর গতির লাগছিল। কেননা শুরুর আধ ঘণ্টায়ও মুভিটি মূল গল্পে প্রবেশ করে না। অনেক সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে আগায়। যারা ধুমধাড়াক্কা মারামারি বা শুধু মাত্র একটা নির্দিষ্ট গল্পের জন্যই আনিমে দেখেন তাদের একটু অধৈর্য লাগার সম্ভবনা আছে শুরুতে। কিন্তু পরে গিয়ে গল্পে বেশ উত্তেজনা আসে। তাই একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে উপভোগ করতে পারবেন। আর সমাপ্তিটা বেশ হৃদয়গ্রাহী। এখানে একই সাথে দুটি মেয়ের জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। শেষের দিকে কিছু চমক অপেক্ষা করছে।

মুভিটির একই সাথে যত ভালো দিক রয়েছে তাতে এর আরও বেশি নামডাক বা জনপ্রিয়তা পাওয়া উচিত ছিল। তাই লেখাটি পড়ে যদি আপনার রুচির সাথে মিলে যায় তবে অবশ্যই দেখতে ভুলবেন না “হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার” বা “ওমোইদে নো মারনি”।

7 8 9 5 6 4

Anohana রিভিউ — Fatiha Subah

1

আনোহানা
জানরা : স্লাইস অফ লাইফ, সুপারন্যাচারাল, ড্রামা, ট্রাজেডি
পর্ব: ১১+ ১ টা মুভি
বয়স রেটিং: ১৩+
ব্যক্তিগত স্কোর: ৯/১০

কত জানরা, কত কি কিছু নিয়েই তো অ্যানিমে তৈরি হয়। একটা খুব সাধারণ বিষয় হিসেবে অনেক অ্যানিমেতেই বন্ধুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। তবে কেউ যদি কোন অ্যানিমে দেখতে চায় যেটা শুধুমাত্রই বন্ধুত্বকে উৎসর্গ করে তৈরি করা তাহলে তার জন্যে আনোহানা একটি আদর্শ অ্যানিমে। পুরো নাম “আনো হি মিতা হানা নো নামায়ে য়ো বকুতাচি ওয়া মাদা শিরানাই”। অনেক বিশাল নাম তাই না?! ইংরেজিতে নাম “উই স্টিল ডোন্ট নো দ্যা নেম অফ দ্যা ফ্লাওয়ার উই সও দ্যাট ডে”। সংক্ষেপে “আনোহানা: দ্যা ফ্লাওয়ার উই সও দ্যাট ডে।“
কাহিনীটি গড়ে উঠেছে ছয়জন ছোটবেলার বন্ধুকে ঘিরে। জিনতা ইয়াদোমি (জিনতান), মেইকো হোনমা (মেনমা), নারুকো আনজোও (আনারু), আৎসুমু মাৎসুয়ুকি (য়ুকিইয়াতসু), চিরিকো সুরুমি (সুরুকো), তেৎসুদো হিসাকাওয়া (পোপ্পো); এই ছয়জনের একটা দল ছিল যার নাম সুপার পিস বাসটারস্। বনের মত এক জায়গায় রয়েছে তাদের গোপন আস্তানা যেখানে ছোটবেলায় হাসি-আনন্দ, হইহুল্লোর, ছুটে বেড়ানো আর খেলায় কাটত তাদের দিনগুলো। কিন্তু সেই সুখের দিনগুলো হারিয়ে যায় যখন মেনমা এক দুর্ঘটনায় পানিতে পড়ে মারা যায়। তাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠে হাই স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েগুলো পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে যায়। ইয়ুকিয়াতসু আর সুরুকো চলে যায় এক স্কুলে। পোপ্পো স্কুল ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরায় এবং পার্ট-টাইম জব করে টাকা আয় করে। আনারু আর জিন্তানও পড়ে একই হাই স্কুলে। কিন্তু জিন্তান মেন্মার মৃত্যুতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। স্কুলে, মানুষের মাঝে না গিয়ে নিজেকে ঘরের মাঝে বন্দী রাখতেই সে বেশি সাছন্দ্য বোধ করে। সেই জিন্তানের সামনে এক গ্রীষ্মে হাজির হয় মেন্মা। জিন্তান ব্যাপারটিকে তার মানসিক চাপ থেকে তৈরি নিছক কল্পনা হিসেবে ধরে নেয়। কিন্তু জিন্তান বুঝতে পারে মেন্মা তার কল্পনা থেকে সৃষ্টি কেউ নয়। সে আসলেই তার সামনে এসেছে একটি অনুরোধ নিয়ে। মেন্মা জানায় সে একটি অপূর্ণ ইচ্ছে নিয়ে মারা গিয়েছিল। যেটার কারণে তার আত্মা স্বর্গে প্রবেশ করতে পারছে না। মেন্মার আত্মা পৃথিবী থেকে চলে যেতে পারবে যদি তার সেই ইচ্ছে পূরণ হয়। কিন্তু কি সেই ইচ্ছে? মেন্মা সেটাই মনে করতে পারে না। সে জিন্তানকে অনুরোধ করে তার সেই ইচ্ছে পূরণ করে দেয়ার জন্যে। তবে তাতে অবশ্যই লাগবে তাদের সেই ছোটবেলার বন্ধুদের সাহায্য।
কি করবে জিন্তান? খুঁজে কি পাবে বিছিন্ন হয়ে যাওয়া বন্ধুদের? যাদের সাথে এত দূরত্ব তৈরি হয়েছে পারবে কি তাদের মাঝের দূরত্ব আবার কমিয়ে ফেলতে? ফিরে পাবে সেই হারানো দিনগুলো? জোড়া লাগবে কি তাদের বন্ধুত্ব? মেন্মা কি স্বর্গে যেতে পারবে? উত্তরগুলো জানা নেই জিন্তানের…
অ্যানিমেটিতে বন্ধুদের মাঝের মান-অভিমান, বিরোধ, কিছু চাওয়া-পাওয়ার জন্যে স্বার্থপর আচরন, অপরাধ বোধ, ভালবাসার মানুষকে না পাওয়ার বেদনা, ছোট থেকে বড় হয়ে উঠে মানসিকতার পরিবর্তন, জীবনে কাছের মানুষের মৃত্যুর প্রভাব ইত্যাদি বিষয়গুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গল্পের অগ্রগতির সাথে সাথে প্রতিটা প্রধান চরিত্রই বিকশিত হয়েছে। আর এই সিরিজটি নিয়ে কথা বলতে গেলে এর এন্ডিং সং “সিক্রেট বেস” বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অসম্ভব সুন্দর এই গানটি। গানটির কথাগুলোও অপূর্ব। অ্যানিমে ফ্যানদের কাছে এই গানটি অতি জনপ্রিয়।
মাত্র ১১ পর্বেই অ্যানিমেটির কাহিনীর সমাপ্তি হয়। কিন্তু সব অ্যানিমে এটার মত সন্তোষজনক সমাপ্তি দিতে সক্ষম হয় না। আনোহানা এক অসাধারণ অ্যানিমে যা মনে গভীর দাগ কেটে রাখবে। খুব কম মানুষই আছে যারা এটা দেখে কাঁদেনি। তবে না কাঁদলেও চোখের কোণে এক ফোঁটা অশ্রু আসবেই এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি! এর মুভিটিতে কাহিনী বেশি আগায়নি বরং সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পুনরায় দেখায়।
এই ব্যস্ত জীবনে এখন আমাদের সময় কই পুরনো দিন আর বন্ধুদের নিয়ে ভাবার? তবু কেউ যদি সময় পান তো দেখে ফেলতে ভুলবেন না এই ছোট অ্যানিমেটা। আর যদি বন্ধুদেরও সাথে পান তাহলে তো বাজিমাত! বন্ধুরা মিলে একত্রে বন্ধুত্ব নিয়ে অ্যানিমে দেখার চেয়ে ভালো আর কিই বা হতে পারে?! যারা ইতিমধ্যে এটা দেখে ফেলেছেন এবং আনোহানা’র মত আরও অ্যানিমে দেখতে চান তারা দেখে ফেলতে পারেন “আনো নাতসু দে মাত্তেরু” বা “ওয়েটিং ইন দ্যা সামার”।