নাগি নো আসুকারা
জানরাঃ ফ্যান্টাসি, রোমান্স, ড্রামা
পর্ব সংখ্যাঃ ২৬
সোর্সঃ ওরিজিনাল
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৩৮
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯.৫/১০
অনেক দিন আগে মুহম্মদ জাফর ইকবালের “জলমানব” নামের একটা সায়েন্স ফিকশন পড়েছিলাম। সেখানে মানুষ মূলত পানিতে বাস করত। এই থিমটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল। পানিতে থাকতে পারলে কি মজাটাই না হত! তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিলাম এই ভেবে যে, ‘ইশ… এটার যদি একটা মুভি বা এরকম কিছু থাকতো তাহলে সরাসরি পানিতে ঘুরে বেড়ানো দেখতে পেতাম’। নাগি নো আসুকারা এই থিমের উপর ভিত্তি করে তৈরি শুনে আনন্দ লাগছিল। আমার ইচ্ছা পূরণ হইছে!! ইয়েএএএএ!!! আমার সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম আনিমেতে দেখতে পাব তার উপর সাথে আবার আমার প্রিয় রোমান্স জানরা। আমাকে আর পায় কে! কিন্তু শুরুতে আশাও করিনি আনিমেটা এতটা ভালো হবে। রোমান্স জানরার আনিমের নাম চাইলে সবাই বহু সাধারণ আনিমের নাম বলে কিন্তু এটার কথা কাউকে বলতে দেখি না। এরপরের বার দেখার জন্য রোমান্স আনিমে খুঁজতে চাইলে সোজা আগে এটা দেখবেন!
গল্পঃ অনেক আগে মানুষ সমুদ্রে বসবাস করত। সাগরের দেবতার দেওয়া “এনা” নামের মাছের আঁশের মত ত্বকের উপর এক ধরণের স্তর মানুষকে পানিতে বেঁচে থাকার ক্ষমতা দান করে। কিন্তু অনেক মানুষ সমুদ্র ছেড়ে মাটিতে উঠে আসে বাইরের পৃথিবীকে দেখার জন্য। অনেকে সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করে। ফলাফলস্বরূপ তারা এনা হারিয়ে ফেলে। এনাহীন প্রজন্ম মাটির উপরেই জীবনযাপন করে এবং নিজেদের পরিবার নিয়ে বংশবৃদ্ধি করে। মানবজাতি দু ভাগে ভাগ হয়ে যায়। জলে “শিওশিশিও” গ্রাম আর স্থলে “ওশিওহশি”।
আনিমেটি শুরু হয় ৪ মিডেল স্কুল পড়ুয়া ছোটবেলার বন্ধু হিকারি সাকিশিমা, মানাকা মুকাইদো, চিসাকি হিরাদাইরা আর কানামে ইসাকি’কে নিয়ে। তাদের শিওশিশিও’র মিডেল স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয় ওশিওহশি’র স্কুলে আসতে। পথিমধ্যে দেখা হয় সুমুগু কিহারা নামের এক ছেলের সঙ্গে যে কিনা একজন জেলে এবং তাদের নতুন সহপাঠী।
এদিকে সাগর পাড়ের মানুষদের সাগর দেবতার প্রতি একটি দায়িত্ব ওফুনেহিকি নামের এক ধরণের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা যেখানে একজন কুমারীকে এবং অন্যান্য বলি দেবতার প্রতি উৎসর্গ করা হয়। কিন্তু দুই মানবজাতির মাঝে অন্তর্দ্বন্দ যেন বাড়তে বাড়তে তুঙ্গে পৌঁছেছে। বহুকাল যাবত ওশিওহশি’র লোকেরা ওফুনেহিকির আয়োজন করে না। সাগর দেবতা তাই তাদের উপর ব্যাপক অসন্তুষ্ট। সতর্কতা জারি করা হয় যে ওশিওহশি নোনা তুষারে ঢাকা পরে যাবে যদি না খুব শীঘ্রই ওফুনেহিকি পালন করা হয়। এর উপর অসম্ভব রকম ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করবে। সাগর ধীরে ধীরে জমে যাবে। কিন্তু এত কিছুর পরও কলহ-বিবাদের কারণে ওফুনেহিকি’র আয়োজন আবারো ভেস্তে যায়। হিকারি ঠিক করে যেভাবেই হোক এটার সমাধান করতে হবে। মানাকা, চিসাকি আর কানামেকে নিয়ে সে কাজে লেগে পড়ে। সাথে যোগ দেয় সুমুগু। তাদের উৎসাহ দেখে তাদেরকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে আরো নতুন সহপাঠীরা।
এই চার বন্ধু নতুন করে আবিষ্কার করে নতুন পৃথিবীটাকে, মুখোমুখি হয় দুই মানবজাতির দ্বন্দ্বের, খুঁজে পায় একই সাথে মিষ্ট আবার তিক্ত অনুভূতি, জানতে পারে সাগর দেবতার ইতিহাস আর বেড়িয়ে পরে নতুন এক অভিজ্ঞতায়!
আর্ট এবং অ্যানিমেশনঃ নাগি-আসু’র ব্যাপারে সবার আগে বোধ হয় এটা বলা অবশ্যকর্তব্য! এর অ্যানিমেশন এতটা অসাধারণ! যদিও পি.এ. ওয়ার্কসের অ্যানিমেশন এমনিতেও সেরা মানের। সেরা অ্যানিমেশনের আনিমের তালিকা করলে এটা নির্ঘাত অনেক উপরে থাকবে। তবে সুন্দর অ্যানিমেশন আসলে বহু আনিমেতেই আমরা অহরহ দেখি এখন। কিন্তু নাগি-আসু একটু ব্যতিক্রম এই দিক থেকে যে পানি নিয়ে কাজকারবার অন্য আনিমেতে খুব একটা নেই নদী, লেক, সুইমিং পুল আর হটস্প্রিং দেখানো ছাড়া। কিন্তু এখানে পানির প্রভাব অনেক বেশি। আনিমেটা দেখতে বসলে মনে হবে আপনি নিজেই যেন সমুদ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিংবা আপনার আশেপাশে মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে। পরিষ্কার টলটলে পানির নিচে সূর্য বা চাঁদের আলোয় ঝিকমিক করা শিওশিশিও গ্রামটা দেখতে আসলেই খুব ভালো লাগে। আর ওশিওহশি শহরটাও কম যায় না। তুষার ঢাকা শহরটার দিকেও তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করবে। মোটকথা, এরকম আনিমে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয়টা নেই তাই আপনি হাই কোয়ালিটি দেখেন আর না দেখেন এটা অবশ্যই পারলে ৭২০ বা ১০৮০ পিক্সেল বা এইচডি কোয়ালিটিতে দেখবেন।
এবার আসি ক্যারেক্টার ডিজাইনে। পুরা “মোয়ে মোয়ে” চোখ জলমানবদের! অনেকেরই এটা অপছন্দ। তাই মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে অনেকেই। কিন্তু তাদের আকাশী নীল রঙের চোখজোড়া আমার কাছে ভালোই লেগেছে। চরিত্রগুলোও এক কথায় “সুন্দর”। বিশেষ করে কানামে আর চিসাকি!
মিউজিক এবং সাউন্ডঃ প্রথমে ভয়েস অ্যাক্টিংয়ের কথা বলি। সেইয়ূ নির্বাচন যথাযথ হয়েছে। প্রতিটা চরিত্রের সাথে কণ্ঠগুলো মানিয়ে গেছে বেশ। কণ্ঠ শুনেই সবার ব্যক্তিত্ব ও স্বভাবচরিত্র বুঝা যায়। ওএসটি-এর ক্ষেত্রেও বেশ ভালো কাজ করেছে। শুরুতে জিন আকেতাগাওয়া ছিল সাউন্ডট্র্যাকের দায়িত্বে। পরে গুণী কম্পোজার ‘দেওয়া ইয়োশিয়াকি’কে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাই কি আশা করতে পারেন সেটা বুঝতেই পারছেন। আনিমে দেখার সময় কাহিনীতে বুঁদ হয়ে থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অতটা খেয়াল নাও করতে পারেন। তাই ইয়ুটিউবে শুনে নিতে পারেন ওএসটি। ওপেনিং আর এন্ডিং গানগুলোও ভালো আছে। নাগি ইয়ানাগি’র “অ্যাকুয়া টেরারিয়াম” আর রে’র “এব এন্ড ফ্লো” পছন্দ হবে বেশী। সাউন্ড নিয়ে আরেকটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সাগরতলে যখন সাঁতার কাটা হয় তখনকার পানি প্রবাহের শব্দ আর বিভিন্ন জলজীবের শব্দগুলোও কেমন জানি মোহিত করে রাখে।
ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ নাগি-আসু’র প্রাণ হচ্ছে এর চরিত্রগুলো। প্রায় প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে তার নিজস্ব ভূমিকা। এদের ছাড়া আনিমেটা অসম্পূর্ণ থেকে যেত। প্রধান চরিত্র শুধু সেই ৪-৫ জন ছেলে-মেয়ে না। আরও কিছু চরিত্র পরে এসে যোগ হয় যাদের অনেকেই প্রধান চরিত্র বা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যক্তিগতভাবে আমি অত খুঁতখুঁতে না তাই কাউকে নিয়েই আমার তেমন আপত্তি নাই। তবে হিকারি অনেক বদমেজাজি প্রধান চরিত্র হিসেবে। কিন্তু ধীরে ধীরে ওর মাঝে অনেক পরিবর্তন আসে তাই সেটা মাফ করা যায়। কিন্তু সমস্যা হল মানাকা আর সুমুগুকে নিয়ে। বেশির ভাগ মানুষ এই দুজনকে অপছন্দ করে। কেননা কাহিনীর ঝামেলা শুরুই এই দুইটার হাত ধরে এবং একেবারে শেষ পর্যন্ত এরাই গল্পটা নিয়ন্ত্রণ করে যায়। অথচ মানাকা পুরো একটা ছিঁচকাঁদুনে, আনমনা, আর বেহুঁশ মেয়ে যেটা খুব বেশী পরিচিত আনিমের প্রধান মেয়ে চরিত্র হিসেবে। আর সুমুগু চার বাল্যবন্ধুর মাঝে ঝড়ের মত এসে বাগড়া বাধায়। সুমুগু বাগড়া না বাধালে শেষে অনেক ভক্তের একটা ইচ্ছা পূরণ হত কিন্তু সেটা স্পয়েল না করার স্বার্থে আর বলছি না। মাঝে মাঝেই এই দুজনকে ধরে থাপড়ানোর প্রবল ইচ্ছা জেগে উঠলেও কিছু করার নেই! আবার সুমুগুকেই লাগতে পারে সবচেয়ে পরিপক্ক চরিত্র! চিসাকিকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আমার কাছে চিসাকিকে অনেক ভালো লেগেছে কারণ সে আশেপাশের সবার বিষয়ে অবগত, চিন্তাভাবনা করে সিধান্ত নেয় আর মানসিকভাবে পরিপক্ব হয়। মিউনা হল সেই “ভালো মেয়ে” যে কিনা প্রধান চরিত্রের একজন হয়ে কত কিছু করার পরেও পার্শ্ব চরিত্রের মত থেকে যায়। মিউনাও পছন্দনীয়। তবে আমার মতে সেরা চরিত্র দুটি হল কানামে আর সায়ু। দুঃখের বিষয় হল সবচেয়ে কম স্ক্রিনটাইম আর গুরুত্ব পেয়েছে এরাই। সবসময় কাহিনীর পেছনে ফেলে রাখা এই দুজনেই চুপচাপ সব পর্যবেক্ষণ করে এবং এদের অনুভূতিগুলো মনকে নাড়া দেয়ার মত। তবে যত যাইহোক, বিভিন্ন রকমের চরিত্র আছে যারা ঠিক গতানুগতিক হতে গিয়েও অগতানুগতিক। কোন কারণে আমার অগাধ বিশ্বাস বাস্তবে আসলেই মানাকা, চিসাকি, মিউনা আর সায়ু’র মত হয় মেয়েরা (মোর এই উক্তি মানিয়া লইয়া চলিলে অতঃপর আপনার জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছুলে মুই দায়ি নহে)। আর হ্যাঁ, এত গুরুগম্ভীর নাটকীয়তার মাঝে একটু হাসাতে ও মজা দিতে পিচ্চি আকিরা তো আছেই!
এঞ্জয়মেন্টঃ এবার আসি আসল রিভিউয়ে। শুরুতেই বলে দিয়েছি এই আনিমেটা অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো। কিন্তু কেন? নাগি-আসু দেখলে শুরুতে এটিই মাথায় ঘুরবে। হয়ত পানিতে থাকাটা নতুনত্ব কিন্তু ঘুরেফিরে তো আবার সেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়েই। তার উপর এরা আবার মাত্র মিডেল স্কুলে পরে। বাচ্চা পোলাপান! আরও বেশী বাচ্চামি করে বেড়াবে আর সব জগাখিচুড়ি পাকাবে! কথাটা কিছুটা সত্য। কিন্তু নাহ, এর থেকে বড় ভুল ধারণা নাগি-আসুকে নিয়ে আর হতেই পারে না। ডোন্ট জাজ অ্যান আনিমে বাই ইট’স পোস্টার! আপনি যদি ভেবে থাকেন এটা আর ১০টা রম-কম আনিমের মত বা এটা তার থেকে বাজে হবে তাহলে বিশাল ভুল করছেন। আপনি যদি রোমান্স আনিমের উপর পিএইচডি-ও করেন তাও লাভ নাই! নাগি-আসু এক কথায় “ওয়ান অফ এ কাইন্ড”। আমি নিজে বস্তায় বস্তায় রোমান্স আনিমে দেখেছি কিন্তু কোনটাই এটার ধারের কাছে নাই। অন্য কোন আনিমের সাথেও এর মিল নাই। আমি প্রতিবার হারেম থেকে রিভার্স হারেম কিংবা সাধারণ রোমান্স এমনকি নন-রোমান্স সবখানেই কে কাকে পছন্দ করে, জুটি কারা হবে সব কিছু হওয়ার আগেই অনুমান করে বসে থাকি আর লাফালাফি করি যখন সেগুলো আসলেই সত্যি হতে দেখি। কিন্তু এই এক নাগি-আসু’র ক্ষেত্রে কিছুই বুঝা সম্ভব না। কারা কারা জুটি হবে বা অন্য যেকোন কিছুই হোক সেটা, আপনাকে অবাক করার মত বহু কিছুই আছে। এটার গল্পটার আসলে দুইটা আর্ক বা অংশ আছে। প্রথম অংশও ভালো কিন্তু দ্বিতীয় অংশটায় পুরো কাহিনীর মোড় ঘুরে যায় এবং এখান থেকেই আনিমেটা জমজমাট হতে শুরু করে। তাই শুরুটুকু খুব সাধারণ লাগলে বলব যে একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। এখানে চমকের পর চমক অপেক্ষা করছে। এটা দেখতে মজাও আছে এজন্য। আপনি কত ভাল আন্দাজ করতে পারেন তারও একটা পরীক্ষা হয়ে যেতে পারে।
সমস্যা হল এই একই কারণে নাগি-আসু ভালো নাও লাগতে পারে। আপনি যেই জুটি সমর্থন করেছেন তা না দিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটা জুটি দিয়ে যখন আপনাকে বিস্মিত করে দিবে তখন সেটা মোটেও ভালো লাগবে না! খুবই স্বাভাবিক। আর নাগি-আসুতে এমনটা হওয়াই খুব স্বাভাবিক! এখানে যে প্যাঁচ আছে তার কোন তুলনা হয়না! আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, ১০০% অতুলনীয়! অন্য আনিমেতে ভালোবাসার চতুর্ভুজ বা পঞ্চভুজ পেতে পারেন খুব বেশী হলে। এখানে যে পুরা সপ্তভুজ এনে ছেড়েছে! তাছাড়া, সাধারণত কারা কারা এক সাথে হবে এটা আগে থেকেই বলে দেওয়া যায়। কিন্তু এখানে বাকি সময়ের মত শেষে কি হবে এটা মোটেও আগে থেকে বুঝে ফেলা সম্ভব না। এজন্যই প্রিয় জুটি দেখার সৌভাগ্য না হওয়ার সম্ভবনাও অনেক বেশি। শেষে গিয়ে তাই অনেকেই আশাহত হয়। তাই আনিমেটা বাজেও লাগতে পারে। আমার প্রিয় জুটিগুলোও একসাথে আমি দেখতে পারিনি। খারাপ লেগেছিল খুব। কিন্তু এরকম লাগলে আমি বলব যে পুরো ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখবেন যে, যদি শেষটা একটুও আলাদা হত তাহলে কাহিনী কতটা অন্যরকম হয়ে যেত। যেহেতু এখানে প্যাঁচ বেশি তাই একটা জুটি পরিবর্তন করলে বা একটা চরিত্রেরও যদি অনুভূতি বা সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয় তো পুরা আনিমেটাই অন্যরকম হয়ে যাবে। সেই পরিবর্তন খুব আজগুবিও হত। একটু চিন্তা করলেই দেখবেন বাকি সম্ভাব্য জুটিগুলো আসলে অনেক উদ্ভট লাগত। তাই সমাপ্তিটা আসলে উপযুক্তই হয়েছে।
শুধু রোমান্স না, নাগি-আসু’র অনেক বড় একটা অংশ জুড়ে আছে ফ্যান্টাসি। ‘সমুদ্রে মানুষের বসবাস’-শুধু এখানেই ফ্যান্টাসির কাজ শেষ না। সাগরের দেবতা বা উমিগামির আছে এক নিজস্ব ইতিহাস। উমিগামি-সামা’র গল্পটা শুনলে মনে হবে আপনি কোন কিংবদন্তী লোককথা শুনছেন। উরোকো-সামা, জলমানব আর স্থলমানবদের মাঝের বিবাদ-কলহ যোগ করেছে প্লট টুইস্ট। আরেকটা বিষয় হল আমরা মাটির উপরে যা যা করি তার সব পানির মধ্য করা সম্ভব না। যেমন পানিতে আগুন ধরাবেন কিভাবে? পানিতেও কি তুষার পড়ে? সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ কি পানিতেও হতে পারে? এই জিনিসগুলো কিছুটা পরিমার্জন করে নতুন জগতটার সাথে মানিয়ে নেয়া হয়েছে। এরকম নতুন একটা সেটআপকে এত চমৎকারভাবে তুলে ধরার জন্য পি.এ. ওয়ার্কসকে কৃতিত্ব দিতেই হয়।
সবমিলিয়ে নাগি নো আসুকারা সত্যিই আনিমে জগতে নতুনত্ব এনেছে। রোমান্স আর ফ্যান্টাসির নিখুঁত সংমিশ্রণে তৈরি এমন আনিমে সহজে পাবেন না। রোমান্স আনিমে ভক্তদের জন্যে এটা মাস্ট ওয়াচ। জানি না কেন এটা যতটা জনপ্রিয়তা পাওয়ার যোগ্য ততটা জনপ্রিয়তা পায়নি। এনিমখোর টপচার্ট ২০১৪-এর অ্যাডমিনস চয়েসে কিন্তু নাগি-আসু’ই ছিল সেরা রোমান্স আনিমে ক্যাটাগরির বিজয়ী। তাই সময় পেলে অবশ্যই দেখে ফেলবেন আনিমেটি।
পিএসঃ আকাশসমান প্রত্যাশা থাকলে যেকোনো কিছুই আশাহত করতে পারে। তাই আশার মাত্রাটা একটু কমিয়ে নিয়ে দেখতে বসলে দেখবেন উপভোগ করতে পারছেন বেশ! ধন্যবাদ।













