Hibike! Euphonium:নো-ওয়েইস্টেড-শট! — Fahim Bin Selim

 

hibike__euphonium_wallpaper_hd_by_corphish2-d8ngduu

একটা ভালো অ্যাডাপ্টেশন হওয়ার জন্য কী প্রয়োজন? অনেক বেশি সংখ্যক অ্যানিমে ফ্যান, এবং সামগ্রিকভাবেই ভিজুয়াল ফিকশনের ফ্যানরাই ভালো অ্যাডাপ্টেশন বলতে সম্ভবত বুঝে তার সোর্স ম্যাটেরিয়ালকে পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করাকে। কিন্তু সেটা কি তার গল্প বলায় একটা সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে না? কারণ শেষ পর্যন্ত, “অ্যাডাপ্টেশন” মানেই তো নতুন পরিস্থীতি, নতুন মাধ্যমের সাথে মানিয়ে নেওয়া – গল্পের বিন্যাস, কাঠামো আর বর্ণনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে হলেও। কারণ, অবশ্যই, বইয়ের পাতার লেখার মাধ্যমে গল্প বলা, আর টেলিভিশন, সিনেমার পর্দায় ছবি আর শব্দের মিলনে তা বলার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য আছে। একই সাথে পার্থক্য আছে, আসলেই গল্প “বলাতে”, এবং তা  কেবল “দেখানো”-র মাঝেও। ছবি আর শব্দের মেলবন্ধন – আর তা যদি ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়, অ্যানিমেশনের সম্ভাবনা অসীম, তৈরি হয় আসলেই ত্রিমাত্রিক অনুভূতির এক জগৎ। কিন্তু অবশ্যই এক্ষেত্রে গল্প বলার ক্ষেত্রে পরিচালকের কল্পনাশক্তির প্রাচুর্য্য থাকা জরুরী, যেহেতু  ছবি এবং শব্দের উপস্থিতি দর্শকদের নিজেদের কল্পনাশক্তি ব্যবহারের সুযোগ অনেকাংশে কেড়ে নিচ্ছে। এবং এটা আরো বিশেষভাবে, যখন একটা উপন্যাসকে অ্যাডাপ্ট করা হয়। কারণ এখানে মাঙ্গার মত আর চরিত্রদের চেহারা, তাদের অঙ্গভঙ্গি কিংবা তাদের আশেপাশের জায়গাগুলোর টেমপ্লেট আগে থেকেই দেওয়া থাকেনা। পুরোপুরিই পরিচালকের নিজের ইন্টারপ্রেটেশনের উপর নির্ভর করে। একজন পরিচালকের প্রতিভার পরিচায়ক তো কেবল সুন্দর কোন গল্প বলাতে নয়, কোন গল্পকে সুন্দরভাবে বলাতেই!

vlcsnap-2016-11-05-01h07m20s868

এখানে আর বাকি সব কিয়োঅ্যানির অ্যানিমের মত সুন্দর অ্যানিমেশন আর ভিজুয়াল উপস্থিত, হয়তো মাঝে মাঝে তুলনামূলক কম ভালোও। কিন্তু Hibike-’র শক্তি বরং এর গল্পবর্ণনায়। এর মূল গল্প বড় এক নভেল সিরিজ থেকে নেওয়া, একারণে গল্প আর চরিত্র – উভয়ের গভীরতাই তুলনামূলক বেশি। কিন্তু এই কারণেই বরং তার পুরোটা টিভির পর্দায় ফুটিয়ে তোলা আরো অনেক, অনেক বেশি কঠিন! কিয়োঅ্যানির ফ্ল্যাগশিপ পরিচালক তাৎসুইয়া ইশিদার কাছ থেকে আসায় যদিও এর সাফল্য নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু তার পরও, ইশিদার বাকি সব অ্যানিমের চেয়ে Hibike আলাদা। Air, Clannad, Haruhi -‘র মত Hibike-তে বড় এনসাম্বলের কাস্ট থাকলেও, এর গল্প অনেক বেশি কানেক্টেড, কমপ্যাক্ট…বাস্তবিক! ফ্যান্টাসি জনরা গায়ে না লেগে থাকা একটা বড় কারণ, কিন্তু এটা বাদ দিলেও Hibike-’র প্রতিযোগীতা, সাফল্য আর ব্যর্থতার গল্প পরিচিত। গল্পবর্ণতাতে আছে আলাদা একটা নিজস্বতা। কেবল “দেখানো”-তেই সীমাবদ্ধ না, Hibike তার গল্পের বড় একটা অংশ “বলে” তার ভিজুয়াল দিয়ে।

“ক্যামেরা”-’র ব্যবহারটাই চিন্তা করা যাক, Hibike-তে ফোকাসিংকে কাজে লাগানো হয়েছে শিল্পের পর্যায়ে। পুরোটা সময় ঘোলাটে ব্যাকগ্রাউন্ড আর চরিত্রদের চেহারার উপর পূর্ণাঙ্গ ফোকাসই বলে দিবে মনোযোগটা কোথায় রাখা জরুরী। কিয়োঅ্যানিমের আর বাকি সব অ্যানিমে থেকেও তো একে এই এক বিষয় দিয়ে আলাদা করা যায়! কুমিকো গল্পের ন্যারেটর, তার স্বগোক্তিতেই সব বলা, প্রতি পর্ব শুরু আর শেষও তা দিয়ে। তার মাথার ভেতর, বিক্ষিপ্ত চিন্তাভাবনা আর স্মৃতি, কুইক-কাট ট্রানজিশনে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিয়ে যায়। কুমিকো যদিও বেশিরভাগ সময়ই আশেপাশে চলমান ঘটনার পার্শ্বচরিত্র; প্রভাবক, নীরব দর্শক আর গুপ্ততথ্যের রক্ষক। She sees everything and she understands. একজন ওয়ালফ্লাওয়ার! যার জন্য উপন্যাসের পাতা ভর্তি লেখা প্রয়োজন, তার জন্য এখানে একটি শব্দেরও প্রয়োজন হয় না; চরিত্রদের মুখের অভিব্যক্তি আর প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করলেই হবে। নো-ওয়েইস্টেড-শট!

vlcsnap-2016-11-05-01h07m20s868

দ্বিতীয় সিজনের তৃতীয় পর্ব এর একটি ভালো উদাহরণ। এই পর্বের শুরুটা কুমিকোর মনোলোগ দিয়ে, কানসাই কম্পিটিশনের আগে শেষ প্রস্ততি পর্ব। কুমিকো আর আসুকার ছোট কথোপকথনের পরবর্তী ৩ঃ১৬-৩ঃ১৬ এ তিন সেকেন্ডের ট্রানজিশন, আর তার সাথে সাথে কুমিকোর এক্সপ্রেশন, সম্পূর্ণ ভিন্ন দুইটি সময় আর জায়গার মধ্যে সংযুক্তি। কোন এবরাপ্ট কাট না যেটা গল্পের গতি নষ্ট করে দিবে, অথবা কোন দীর্ঘায়িত অপ্রয়োজনীয় শট না, বরং দুটো একত্রে মিলিয়ে দেওয়া, গল্পের প্রবাহ বজায় রাখার জন্য! অথবা তার পরবর্তী দৃশ্য, আসল পারফর্মেন্সের আগে শেষবারের মত সব পারফর্মারদের একসাথে থাকা শেষ দৃশ্য। নিয়ামা আর হাশিমোতো-সেনসেই এর বিদায়ী ভাষন, উপদেশ। ক্যামেরা একজনের থেকে আরেকজনের পারস্পেকটিভে বদলাতে থাকে অনবরত, কার কোন কোন দূর্বলতা জানান দেয়, এবং তার সাথে সাথে পারফর্মারদের প্রতিক্রিয়া। কুমিকোর চেহারার অবিশ্বাস, আনন্দ, ভয় এবং একই সাথে অস্থিরতা ইউফোনিয়াম সোলোর অংশ হওয়ার খবর পাওয়ায়, রেইনার সন্তুষ্টির অভিব্যক্তি। কিংবা ইয়োরোইযুকার চোখে হাতের ওবোর দিকে স্থির, রোবোটিক দৃষ্টি, যখন হাশিমোতো তাকে যান্ত্রিকভাবে বাজানো বাদ দিয়ে আরো বেশি “এক্সপ্রেসিভ” হওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তার জন্য তো “এক্সপ্রেস” করা সব সময়ই কষ্টকর ছিলো, সংগীত কিংবা শব্দ দিয়েও। তা তার গতবাঁধা জবাবেই আটকানো, “I’ll try to do better.” ব্যাকগ্রাউন্ড ফোকাসে ইউকোর চেহারায় অনিশ্চয়তা! প্রিয় মানুষের জন্য!

vlcsnap-2016-11-08-11h43m53s360  vlcsnap-2016-11-08-11h44m53s455vlcsnap-2016-11-05-01h13m11s868

গল্পটা কুমিকোর মাথার ভেতরে, তাই তো সবকিছু সামনে থেকে দেখা হয় না। রেইনা যখন তাকি-সেনসেইকে নিয়ামা-সেনসেইয়ের সাথে তার সম্পর্কের কথা জানতে চেয়ে প্রশ্ন করে, আগুনের অপর পাশে। তাদের কথা শোনা যায় না, পর্দায় কেবল দূর থেকে রেইনা আর তাকির শব্দহীন অভিব্যক্তি। কিন্তু অবশ্যই Hibike এই মুহূর্তটা অপচয় করবে না। বরং এপাশে সমান্তরালে হাশিমোতো-সেনসেইয়ের সাথে কুমিকোর কথোপকথন চলতে থাকে। তাকি-সেনসেই এরই অতীত নিয়ে! একই সাথে শব্দ আর ছবি দিয়ে দুটো আলাদা গল্প বলা! কনসার্টেশনে, কোনভাবেই ইনফরমেশনের ওভারফ্লো না, ইকোনমিক! কিংবা আসুকাকে আঁকড়ে ধরা নস্টালজিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত, হাইস্কুলের শেষ বছরে এসে। যদিও তা মুখ ফুটে কেবল বেরোয় না সরাসরি। ক্লাবকে আগলে রাখার প্রতিটি চেষ্টায়, প্রতিটি ধাপ পেরোনোর আনন্দের বিহবল হওয়ার পরবর্তী নীরবতায়, অবশ্যম্ভাবী বিদায়ের কথা মনে পড়ায়, গ্রাস করা বিষাদ ঠিকড়ে বেরোয় তার হাসির পেছন থেকে, আর যখন সে বলে,  “I wish this summer would never end”।

vlcsnap-2016-11-05-01h34m13s058 vlcsnap-2016-11-05-01h31m48s174

কিন্তু সবচেয়ে বড় উদাহরণ অবশ্যই এর পারফর্মেন্সের দৃশ্যগুলো! মিউজিক অ্যানিমের সাফল্যের জন্য তো অসাধারণ সঙ্গীতেরই দরকার সবার আগে! Hibike এইক্ষেত্রে বরং Showa Genroku-’র সাথে তুলনীয়। Hibike-’র সঙ্গীতের বিচারক দর্শক নিজেরাই! কোন শর্টকাট না, এমনকি ৮ মিনিটের লম্বা পারফর্মেন্সেও! প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি বিট অ্যানিমেটেড। আর মনে রাখার মত ব্যাপার, অন্যান্য আর বেশিরভাগ অ্যানিমের মত Hibike-’র সঙ্গীত একক পরিবেশনা না, দলীয়! কন্ডাকটরের হাতের নির্দেশনা, প্রতিটি পারফর্মারের চলমান হাত অথবা মুখ, অথবা দুটোই, সঙ্গীতের সাথে মূর্ছনায়; নড়তে থাকা, সামনে, ব্যাকগ্রাউন্ডে একসাথে; ট্রামবোন, ট্রামপেট, টিউবা, ক্ল্যারিনেট, হর্ন, ট্রিমপানি, চাইম, টামবুরিন, ওবো, ফ্লুট, বেস, ইউফোনিয়াম! একসাথে চলতে থাকা! কোন স্ট্যাটিক শট না! আবার যখন রেইনার সোলোর দৃশ্য আসে, তখন পর্দায় রেইনার কল্পনায় ভেসে স্টেজ আর পাহাড়ের কিনারায় মিশে এক হয় কুমিকোর সাথে ফেস্টিভালের সেই রাতের দৃশ্য, কারণ এই পারফর্মেন্স তো তার জন্যই! অথবা ইয়োরোইযুকার কল্পনায় নোজোমি। কাওশিমার সামনে রাখা স্ট্যান্ডে বন্ধুদের সাথে তার ছবি। তাকি-সেনসেইয়ের সামনে তার স্ত্রীর। সবারই আলাদা আলাদা গল্প!

vlcsnap-2016-11-13-02h22m50s007

সামনে বসে থাকা দর্শকরা ফোকাসের বাইরে, পেছনে ব্যাকস্ট্যাজে বন্ধুদের বিচলিত পায়ের নড়াচড়া কেবল। আর এই দূর্দান্ত পরিবেশনার পরের দৃশ্যটাই কী? প্রথমে সবার হাঁপাতে থাকা চেহারা, বন্ধুদের কান্নার দৃশ্য, আর সবার শেষে দর্শকদের করতালি। আর তা ক্ষীন হতে হতে সরাসরি এন্ড ক্রেডিট। কারণ শেষ পর্যন্ত এটা তো তা-ই ছিলো, যা উপন্যাসের পাতায় কখনোই বোঝানো সম্ভব না, পাতার পর পাতা বাক্য দিয়ে ভরে ফেললেও, একইসাথে শব্দ আর চিত্রের পরিবেশনায়ঃ শ্বাসরুদ্ধ, চিত্তসম্মোহিত আর হতবিহবল করা।

নো-ওয়েইস্টেড-শট!

Hibike! Euphonium [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Hibike! Euphonium 1

~Hibike! Euphonium~

Cute girls doing cute things— দেখার আগে তা-ই মনে করেছিলাম। এছাড়া কোন পুরুষ প্রধান চরিত্র না থাকায় (আমাকে সেক্সিস্ট মনে করবেন না, যে কোন এক লিঙ্গের প্রধান চরিত্রের অ্যানিমেগুলো আমি বরাবরই এড়িয়ে চলতাম, অন্তত এটা দেখার আগপর্যন্ত) এবং গ্রুপে তেমন আলোচনায় থাকতে না দেখে সেভাবে ভরসা পাচ্ছিলাম না। ওয়েল, কি আর বলা যায়? না দেখলে অনেক ভালো একটা জিনিস মিস করে ফেলতাম। আমি কিছুটা সারপ্রাইজড এ ভেবে যে গ্রুপ পোলে এ অ্যানিমের উপস্থিতি এত নীরব ছিল কেন।

মিউজিক নিয়ে অ্যানিমেগুলো বরাবরই ভালো লাগে। তবে কমেডি খুব একটা ভালো না লাগায় মিউজিক ট্যাগ থাকা সত্ত্বেও অনেকগুলো সিরিজ এড়িয়ে গেছি। কিন্তু অন্যান্য মিউজিক রিলেটেড অ্যানিমেগুলো থেকে এটি একটু ভিন্ন। তাই বলে ফানি মোমেন্ট যে নেই তা নয়। অনেক আছে; কিছু দৃশ্যে হাসি থামিয়ে রাখতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছ। আবার কিছু ক্ষেত্রে যে চোখে (অলমোস্ট) পানি চলে এসেছে। যা-হোক, এখানে মিউজিক সাব-জনরা নয়। পুরো অ্যানিমের প্রধান ফোকাস মিউজিক এবং তার সাথে জড়িত মানুষগুলো।

প্রতিযোগিতা, অধ্যবসায়, ব্যক্তিগত দ্বন্ধ– এগুলোর উপস্থিতি দেখে কারো কাছে অ্যানিমেটি টিপিক্যাল মনে হতে পারে। কিন্তু বিশেষ কয়েকটি জিনিসের কারণে এটি আমার কাছে অনন্য। সোলো মিউজিকাল, যেমন পিয়ানো, গিটার, ভায়োলিন, এগুলোর নিয়ে না হয়ে Ensemble নিয়ে হওয়ায় অনেক কিছু নিরীক্ষা করার সুযোগ ছিল সিরিজটিতে। এবং শেষ করার পর বলতেই হচ্ছে, সিরিজটি অনেক নতুনত্ব দিতে সক্ষম হয়েছে।

‘হিবিকে! ইউফোনিয়াম’ সিরিজটির মূল কাহিনী এক হাইস্কুলের Wind Ensemble নিয়ে। কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে অন্যতম প্রধান চরিত্র ঔমায়ে কুমিকো-র দৃষ্টিকোণ থেকে, যদিও প্রয়োজনে অন্যান্য চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখানো হয়েছে। মিডল স্কুল শেষে নতুন করে শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে বন্ধুহীন কিতাউজি হাইস্কুলে ভর্তি হয় কুমিকো। অন্যান্য চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে কুমিকোর বন্ধু কাতৌ হাজুকি, কাওয়াসিমা স্যাফায়ার -থুক্কু মিদোরি- এবং রেইনা কৌসাকা (এ চরিত্রটি বেশ এলিগ্যান্ট এবং ক্লাসি; স্ক্রিন টাইম তুলনামূলক কম হলেও আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র)।

মিউজিক গ্রুপ নিয়ে হওয়ায় এখানে টিমওয়ার্কের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে বেশ ভালোভাবেই। যখন একটা গ্রুপে ৬০ জন মানুষ থাকে, সমস্যার সম্মুখীন হওয়াটা স্বাভাবিক। এর মধ্যে কেউ হয়তো মিউজিকের প্রতি সত্যিই প্যাশনেট এবং বেশ সিরিয়াস, অনেকেই হয়তো নেয় ফান হিসেবে, আবার কারো উদ্দেশ্য হয়তো হাইস্কুলের সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চরিত্রগুলোর মধ্যকার অনিশ্চয়তা, প্রত্যয় যেভাবে তুলে আনা হয়েছে তা খুবই রিলেটেবল।

So, what makes this anime different?

একেবারে শুরুতেই চাপা একটা আর্জেন্সি টের পাওয়া যায় যার কারণে একবার দেখা শুরু করলে ছেড়ে ওঠা মুশকিল। প্রথম এপিসোডেই দেখি যে It is never too late to try something new. ইচ্ছা থাকলে এবং ভালোবাসা খুঁজে নিতে পারলে মানুষের দ্বারা যেকোন কিছুই সম্ভব। যেমন মিডল স্কুলে টেনিস ক্লাবে থাকা হাজুকি এবার যোগ দিয়েছে মিউজিক ক্লাবে। বাদ্যযন্ত্র ছুঁয়ে দেখার পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও কেবল ভালোবাসা দিয়ে কেউ কিভাবে মিউজিককে আপন করে নেয় তা সত্যিই টাচ করার মত। অ্যাডভাইজর তাকি-সেনসেই এর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার লক্ষণীয়। শুরুতে এ ফিল্ডে আসার ইচ্ছে না থাকলেও, উপভোগ করে এমন কিছুকে জব হিসেবে নেয়া কতটুকু সুখকর তা শুরু না করলে বোঝার উপায় নেই। টিমওয়ার্কের কথা বলেছিলাম। গ্রুপ মিউজিকে টিউনিং এবং সিঙ্ক্রোনিসিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে দু-এক জনের অবহেলায় পুরো গ্রুপকেই ভুগতে হয়। এর ফলে যে অভ্যন্তরীণ অসামঞ্জস্যতা এবং পলিটিক্স এর কমতি হয় না তা দেখেছি আমরা। এটি কিভাবে একটি গ্রুপকে ধ্বংস করে দিতে পারে বা কিভাবে একাত্ন করে তুলতে পারে- দুই-ই উঠে এসেছে সিরিজটিতে। একজনের সমস্যা কিভাবে পুরো গ্রুপের মোর‍্যাল কমিয়ে দেয় বা অন্যদের পারফর্মেন্সে প্রভাব ফেলে; ব্যক্তিগত অনুভূতি কিভাবে জাজমেন্টে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, একগুঁয়েমি আর denial কতটুকু মাত্রাছাড়া হয় তাও দেখেছি। একসাথে কাজ করার ফলে ক্লাসমেট, এমনকি জুনিয়ররাও, যে শ্রদ্ধা এবং অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে তার আদর্শ উদাহরণ সম্ভবত এ সিরিজটি।

এত কিছু ছাপিয়েও যে ব্যাপারটি আমাকে সবচেয়ে নাড়া দিয়ে গেছে, তা হল কঠিন একটা সত্যের চমৎকার উপস্থাপনা। খেলায় বা কোন প্রতিযোগিতায় আমরা পারফর্মেন্সটাই দেখি। বিজয়ীদের নিয়ে উল্লাস করি; পরাজিতদের ভুলে যাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। হয়তো তাদের প্রচেষ্টাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করি, কিন্তু দিনশেষে আমাদের কাছে কে জয়ী হলো তা-ই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। পরাজিতরাও যে স্বপ্ন নিয়ে আসে এবং তা অর্জনের লক্ষ্যে বিজয়ীদের চেয়ে কোন অংশেই কম পরিশ্রম করে না তা অনুধাবন করতে পারলে বিজয়ীদের নিয়ে উল্লাস করাটা অনেক অনেক কঠিন হয়ে যেতো। যেমন কাওরি আর কৌসাকার ক্ল্যাশে দর্শকরা সবাই নিশ্চিতভাবেই কৌসাকার পক্ষ নিলেও কাওরি-র ডেডিকেশন অ্যাপ্রিশিয়েট না করে পারা যায় না। তার হয়তো এটা শেষ সুযোগ সোলো পারফর্ম করার, কিন্তু তাই বলে আবেগী হয়ে কৌসাকা তাকে ছাড় দিলে তা হত আমার কাছে ক্ষমার অযোগ্য। দিনশেষে যে আবেগের স্থান খুব একটা নেই তাই তুলে আনা হয়েছে। It is the better one that wins, or should win.

কতটুকু প্যাশনেট হলে সামান্য সেলফ-ডাউটের কারণে মৃত্যুকামনা করতে পারে কেউ? Higher Target যে আসলেই মানুষকে বেটার হতে সাহায্য করে তা দেখা যায় শুরু থেকেই সংশয়ে ভুগেও পরবর্তীতে dead serious হয়ে যাওয়া কুমিকো-র চরিত্র থেকে। হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে না দিয়ে কুমিকো-র ইম্প্রুভ করার চেষ্টা করে যাওয়াটা এ গল্পের সবচেয়ে প্রেরণাদায়ক দৃশ্য। রেইনা কৌসাকা-র ভাষায়, নিজেকে স্পেশাল ভাবলেই হবে না, নিজের লক্ষ্যে সফল হতে চাইলে স্পেশাল হতে হবে, হওয়ার চেষ্টা করতে হবে, এতে অন্যদের চক্ষুশূল হতে হলেও।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার অ্যাড্রেস করা হয়েছে, যা আমাদের দেশে প্রায়শই দেখা যায়। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। পড়ালেখা করে ভালো ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগেরই অটোমেটিক চয়েস, যেজন্য বাধ্য হয়ে অনেকই প্যাশনকে দূরে ঠেলে দেয়।। কিন্তু এর উল্টোটাও হয়। আওই-এর অংশটুকুর মাধ্যমে এ ব্যাপারটি বেশ সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রায়োরিটি ঠিক করা, যতই আউট অফ প্লেস হোক, স্রোতের বিপরীতে গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট সাহস থাকা চাই। সমাজ বা অন্যরা যতই আপসেট হোক না কেন, ফার্ম ডিসিশন নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে কোন রিগ্রেট থাকবে না।

You know it’s a good anime when you finish all episodes in one sitting and re-watch your favorite moments over and over. বিশেষভাবে কোন দুর্বল দিক আমার চোখে পড়েনি। একটা মিউজিক গ্রুপ কিভাবে এক হয়ে বেড়ে ওঠে তা এরচেয়ে ভালোভাবে দেখানো সম্ভব না। আর কিছুটা রোমান্স-এর ছোঁয়া থাকলেও কোন সাব-প্লট না রেখে সম্পূর্ণরূপে মিউজিকে ফোকাস করার কারণে সন্তুষ্টি আরো বেড়ে গেছে। মিউজিক জনরা পছন্দ করে এমন যে কারো জন্য একটা মাস্ট-ওয়াচ অ্যানিমে।

দেখতে গিয়ে আমার বারবার Whiplash মুভিটির কথা মনে হয়েছে। I wouldn’t compare the two, but I kind of liked Hibike! Euphonium more.

Hibike! Euphonium 2