~Hibike! Euphonium~
Cute girls doing cute things— দেখার আগে তা-ই মনে করেছিলাম। এছাড়া কোন পুরুষ প্রধান চরিত্র না থাকায় (আমাকে সেক্সিস্ট মনে করবেন না, যে কোন এক লিঙ্গের প্রধান চরিত্রের অ্যানিমেগুলো আমি বরাবরই এড়িয়ে চলতাম, অন্তত এটা দেখার আগপর্যন্ত) এবং গ্রুপে তেমন আলোচনায় থাকতে না দেখে সেভাবে ভরসা পাচ্ছিলাম না। ওয়েল, কি আর বলা যায়? না দেখলে অনেক ভালো একটা জিনিস মিস করে ফেলতাম। আমি কিছুটা সারপ্রাইজড এ ভেবে যে গ্রুপ পোলে এ অ্যানিমের উপস্থিতি এত নীরব ছিল কেন।
মিউজিক নিয়ে অ্যানিমেগুলো বরাবরই ভালো লাগে। তবে কমেডি খুব একটা ভালো না লাগায় মিউজিক ট্যাগ থাকা সত্ত্বেও অনেকগুলো সিরিজ এড়িয়ে গেছি। কিন্তু অন্যান্য মিউজিক রিলেটেড অ্যানিমেগুলো থেকে এটি একটু ভিন্ন। তাই বলে ফানি মোমেন্ট যে নেই তা নয়। অনেক আছে; কিছু দৃশ্যে হাসি থামিয়ে রাখতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছ। আবার কিছু ক্ষেত্রে যে চোখে (অলমোস্ট) পানি চলে এসেছে। যা-হোক, এখানে মিউজিক সাব-জনরা নয়। পুরো অ্যানিমের প্রধান ফোকাস মিউজিক এবং তার সাথে জড়িত মানুষগুলো।
প্রতিযোগিতা, অধ্যবসায়, ব্যক্তিগত দ্বন্ধ– এগুলোর উপস্থিতি দেখে কারো কাছে অ্যানিমেটি টিপিক্যাল মনে হতে পারে। কিন্তু বিশেষ কয়েকটি জিনিসের কারণে এটি আমার কাছে অনন্য। সোলো মিউজিকাল, যেমন পিয়ানো, গিটার, ভায়োলিন, এগুলোর নিয়ে না হয়ে Ensemble নিয়ে হওয়ায় অনেক কিছু নিরীক্ষা করার সুযোগ ছিল সিরিজটিতে। এবং শেষ করার পর বলতেই হচ্ছে, সিরিজটি অনেক নতুনত্ব দিতে সক্ষম হয়েছে।
‘হিবিকে! ইউফোনিয়াম’ সিরিজটির মূল কাহিনী এক হাইস্কুলের Wind Ensemble নিয়ে। কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে অন্যতম প্রধান চরিত্র ঔমায়ে কুমিকো-র দৃষ্টিকোণ থেকে, যদিও প্রয়োজনে অন্যান্য চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখানো হয়েছে। মিডল স্কুল শেষে নতুন করে শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে বন্ধুহীন কিতাউজি হাইস্কুলে ভর্তি হয় কুমিকো। অন্যান্য চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে কুমিকোর বন্ধু কাতৌ হাজুকি, কাওয়াসিমা স্যাফায়ার -থুক্কু মিদোরি- এবং রেইনা কৌসাকা (এ চরিত্রটি বেশ এলিগ্যান্ট এবং ক্লাসি; স্ক্রিন টাইম তুলনামূলক কম হলেও আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র)।
মিউজিক গ্রুপ নিয়ে হওয়ায় এখানে টিমওয়ার্কের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে বেশ ভালোভাবেই। যখন একটা গ্রুপে ৬০ জন মানুষ থাকে, সমস্যার সম্মুখীন হওয়াটা স্বাভাবিক। এর মধ্যে কেউ হয়তো মিউজিকের প্রতি সত্যিই প্যাশনেট এবং বেশ সিরিয়াস, অনেকেই হয়তো নেয় ফান হিসেবে, আবার কারো উদ্দেশ্য হয়তো হাইস্কুলের সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চরিত্রগুলোর মধ্যকার অনিশ্চয়তা, প্রত্যয় যেভাবে তুলে আনা হয়েছে তা খুবই রিলেটেবল।
So, what makes this anime different?
একেবারে শুরুতেই চাপা একটা আর্জেন্সি টের পাওয়া যায় যার কারণে একবার দেখা শুরু করলে ছেড়ে ওঠা মুশকিল। প্রথম এপিসোডেই দেখি যে It is never too late to try something new. ইচ্ছা থাকলে এবং ভালোবাসা খুঁজে নিতে পারলে মানুষের দ্বারা যেকোন কিছুই সম্ভব। যেমন মিডল স্কুলে টেনিস ক্লাবে থাকা হাজুকি এবার যোগ দিয়েছে মিউজিক ক্লাবে। বাদ্যযন্ত্র ছুঁয়ে দেখার পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও কেবল ভালোবাসা দিয়ে কেউ কিভাবে মিউজিককে আপন করে নেয় তা সত্যিই টাচ করার মত। অ্যাডভাইজর তাকি-সেনসেই এর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার লক্ষণীয়। শুরুতে এ ফিল্ডে আসার ইচ্ছে না থাকলেও, উপভোগ করে এমন কিছুকে জব হিসেবে নেয়া কতটুকু সুখকর তা শুরু না করলে বোঝার উপায় নেই। টিমওয়ার্কের কথা বলেছিলাম। গ্রুপ মিউজিকে টিউনিং এবং সিঙ্ক্রোনিসিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে দু-এক জনের অবহেলায় পুরো গ্রুপকেই ভুগতে হয়। এর ফলে যে অভ্যন্তরীণ অসামঞ্জস্যতা এবং পলিটিক্স এর কমতি হয় না তা দেখেছি আমরা। এটি কিভাবে একটি গ্রুপকে ধ্বংস করে দিতে পারে বা কিভাবে একাত্ন করে তুলতে পারে- দুই-ই উঠে এসেছে সিরিজটিতে। একজনের সমস্যা কিভাবে পুরো গ্রুপের মোর্যাল কমিয়ে দেয় বা অন্যদের পারফর্মেন্সে প্রভাব ফেলে; ব্যক্তিগত অনুভূতি কিভাবে জাজমেন্টে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, একগুঁয়েমি আর denial কতটুকু মাত্রাছাড়া হয় তাও দেখেছি। একসাথে কাজ করার ফলে ক্লাসমেট, এমনকি জুনিয়ররাও, যে শ্রদ্ধা এবং অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে তার আদর্শ উদাহরণ সম্ভবত এ সিরিজটি।
এত কিছু ছাপিয়েও যে ব্যাপারটি আমাকে সবচেয়ে নাড়া দিয়ে গেছে, তা হল কঠিন একটা সত্যের চমৎকার উপস্থাপনা। খেলায় বা কোন প্রতিযোগিতায় আমরা পারফর্মেন্সটাই দেখি। বিজয়ীদের নিয়ে উল্লাস করি; পরাজিতদের ভুলে যাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। হয়তো তাদের প্রচেষ্টাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করি, কিন্তু দিনশেষে আমাদের কাছে কে জয়ী হলো তা-ই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। পরাজিতরাও যে স্বপ্ন নিয়ে আসে এবং তা অর্জনের লক্ষ্যে বিজয়ীদের চেয়ে কোন অংশেই কম পরিশ্রম করে না তা অনুধাবন করতে পারলে বিজয়ীদের নিয়ে উল্লাস করাটা অনেক অনেক কঠিন হয়ে যেতো। যেমন কাওরি আর কৌসাকার ক্ল্যাশে দর্শকরা সবাই নিশ্চিতভাবেই কৌসাকার পক্ষ নিলেও কাওরি-র ডেডিকেশন অ্যাপ্রিশিয়েট না করে পারা যায় না। তার হয়তো এটা শেষ সুযোগ সোলো পারফর্ম করার, কিন্তু তাই বলে আবেগী হয়ে কৌসাকা তাকে ছাড় দিলে তা হত আমার কাছে ক্ষমার অযোগ্য। দিনশেষে যে আবেগের স্থান খুব একটা নেই তাই তুলে আনা হয়েছে। It is the better one that wins, or should win.
কতটুকু প্যাশনেট হলে সামান্য সেলফ-ডাউটের কারণে মৃত্যুকামনা করতে পারে কেউ? Higher Target যে আসলেই মানুষকে বেটার হতে সাহায্য করে তা দেখা যায় শুরু থেকেই সংশয়ে ভুগেও পরবর্তীতে dead serious হয়ে যাওয়া কুমিকো-র চরিত্র থেকে। হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে না দিয়ে কুমিকো-র ইম্প্রুভ করার চেষ্টা করে যাওয়াটা এ গল্পের সবচেয়ে প্রেরণাদায়ক দৃশ্য। রেইনা কৌসাকা-র ভাষায়, নিজেকে স্পেশাল ভাবলেই হবে না, নিজের লক্ষ্যে সফল হতে চাইলে স্পেশাল হতে হবে, হওয়ার চেষ্টা করতে হবে, এতে অন্যদের চক্ষুশূল হতে হলেও।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার অ্যাড্রেস করা হয়েছে, যা আমাদের দেশে প্রায়শই দেখা যায়। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। পড়ালেখা করে ভালো ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগেরই অটোমেটিক চয়েস, যেজন্য বাধ্য হয়ে অনেকই প্যাশনকে দূরে ঠেলে দেয়।। কিন্তু এর উল্টোটাও হয়। আওই-এর অংশটুকুর মাধ্যমে এ ব্যাপারটি বেশ সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রায়োরিটি ঠিক করা, যতই আউট অফ প্লেস হোক, স্রোতের বিপরীতে গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট সাহস থাকা চাই। সমাজ বা অন্যরা যতই আপসেট হোক না কেন, ফার্ম ডিসিশন নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে কোন রিগ্রেট থাকবে না।
You know it’s a good anime when you finish all episodes in one sitting and re-watch your favorite moments over and over. বিশেষভাবে কোন দুর্বল দিক আমার চোখে পড়েনি। একটা মিউজিক গ্রুপ কিভাবে এক হয়ে বেড়ে ওঠে তা এরচেয়ে ভালোভাবে দেখানো সম্ভব না। আর কিছুটা রোমান্স-এর ছোঁয়া থাকলেও কোন সাব-প্লট না রেখে সম্পূর্ণরূপে মিউজিকে ফোকাস করার কারণে সন্তুষ্টি আরো বেড়ে গেছে। মিউজিক জনরা পছন্দ করে এমন যে কারো জন্য একটা মাস্ট-ওয়াচ অ্যানিমে।
দেখতে গিয়ে আমার বারবার Whiplash মুভিটির কথা মনে হয়েছে। I wouldn’t compare the two, but I kind of liked Hibike! Euphonium more.


