Only Yesterday [মুভি রিভিউ/রেকোমেন্ডেশন] — Towhid Chowdhury Faiaz

Omoide Poroporo 1

Only Yesterday (Omoide Poroporo)
পরিচালক: ইসাও তাকাহাতা
প্রযোজনা: স্টুডিও জিব্লি

অনেকেই হয়তবা ইতিমধ্যে শুনেছেন যে স্টুডিও জিব্লির সহ-নির্মাতা এবং গ্রেভ অফ দা ফায়ারফ্লাইস, টেইল অফ দা প্রিন্সেস কাগুয়া খ্যাত পরিচালক ইসাও তাকাহাতা আমাদের মধ্যে আর নেই। বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার মৃত্যুতে তাকে শ্রদ্ধা করে আমি তার করা ছবিগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় ছবিটাকে নিয়ে কথা বলতে চাই।

“আমাদের শৈশবকাল আমাদের স্মৃতি থেকে বিস্মৃত হইয়া গেলেও,
শৈশবকালের স্মৃতি হইতে আমরা বিস্মৃত হই নাই”

কোনো এক কালে স্কুলে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোনো এক গল্পে যেন পড়েছিলাম এই জিনিসটা।আমাদের জীবনের পথে যত দিন আমরা পার করি ততই আমরা অতীতের দিনগুলোকে ভুলে যাই।ছোটবেলার ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা আমরা ত্যাগ করি বড় হবার এই জীবনের বাস্তবতার জন্যে।

স্টুডিও জিব্লির বেশির ভাগ ছবিগুলোর মতো এখানে কোনো কাল্পনিক কিংবা অতিপ্রাকৃত কিছু নেই এই ছবিতে। তায়েকো অকাজিমা ২৭ বছর বয়সী একজন সিঙ্গেল চাকরিজীবী যে শহরে সবার মতোই সাদামাটা একটি জীবন বসবাস করছে। ছবিটা শুরু হয় সে তার বোনের জামাইয়ের গ্রামে ছুটি কাটাতে যাচ্ছে এমন একটি সময় থেকে। তার নিজের কোনো কাছের আত্মীয় গ্রামে থাকে না বলে তাকে তার বোনের জামাইয়ের গ্রামে যেতে হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে এতটুকুই গল্পের মূল কাহিনী। বাকি পুরোটা সময় আমরা তায়েকোর সাথে তার স্মৃতিচারণা এবং তার অভিজ্ঞতার একজন যাত্রী হিসেবেই কাটাই।

Omoide Poroporo 2

“আমি আশা করি নি যে আমার পঞ্চম শ্রেণীর আমিকেও আমি এই যাত্রায় নিয়ে যাবো” এভাবেই তায়েকো পুরো যাত্রাজুড়েই নিজের পঞ্চম শ্রেণীর শৈশবেই হারিয়ে যায়। কিছু স্মৃতি মিষ্টির মতো মধুর হলে কিছু স্মৃতি আবার বিজড়িত করে এমন।জীবনের প্রথম পিরিয়ড হওয়া থেকে শুরু করে তার জীবনের প্রথম পছন্দ হওয়া সবকিছুই যেন তার মনে পড়তে শুরু করে। তখন তায়েকোই নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে এটা কেন হচ্ছে। হয়তবা শৈশবের তায়েকো এই ব্যস্ত শহুরে চাকরিজীবী তায়েকোকে জীবন উপভোগ করার নতুন উপায় শিখাচ্ছে।

ছবিটিতেই কোনো বড় কোনো দৃষ্টি আকর্ষণীয় কিছু নেই। ছবিটা এর হৃদয়ে একটি মেয়ের স্মৃতিচারণা এবং বাঁচতে শিখা নিয়েই তৈরি। নেই কোনো প্রেম কিংবা ধরণের প্যাঁচ বরঞ্চ ছবিটা আমাদের জীবনের একটি বাস্তব এবং মিষ্টি প্রতিচ্ছবি। ছবিটা দেখে অসম্ভব নিজের শৈশবকালে হারিয়ে না যাওয়া। দেখতে দেখতে কখন যে আপনি আপনার নিজের জীবনের শৈশবে ফিরে যাবেন তা টেরই পাবেন না।

Omoide Poroporo 3

ছবিটার একটি চমৎকার দিক হচ্ছে এর স্মৃতিচারণার দৃশ্যগুলো। আপনি খেয়াল করে দেখেন যে ১০-১৫ বছর আগের কথা আপনি মনে করতে গেলে আপনি কতটুকুই বা মনে করতে পারবেন।কেবল নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা কিন্তু আপনি যখন ওই স্মৃতির আশে পাশের জিনিসগুলো মনে করবার চেষ্টা করবেন তখন দেখবেন যে জিনিসগুলো স্মৃতির সাথে সাথেই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।ইসাও তাকাহাতা টার বিচক্ষন পরিচালনার মাধ্যমে অসম্ভব রকমের সৌন্দর্যের সাথে ফুটিয়ে তুলেছে।ছবির মিউজিকাল স্কোর আমার জীবনের শোনা সবচেয়ে প্রশান্তপূর্ণ স্কোর। প্রতিটি গান আপনাকে আপনার শহুরে বাস্তব জীবন থেকে শিথিল করবে। মুভিটার শেষ গানটি আমি আজও বৃষ্টির দিনে বারান্দায় বসে শুনি।আমার অসম্ভব রকমের প্রিয় একটি গান।

Omoide Poroporo 4

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইংরেজি ডাব নাকি অরিজিনাল জাপানিজ ভাষারটা দেখবো? ব্যাক্তিগতভাবে অামি জাপানিজটা দেখতে বলবো কারণ ডাবের রেন্ডারিং একটু সমস্যা অাছে যদিও ডেইসি রিড্লের কন্ঠ অভিনয় জাপানিজ মিকি ইমাই থেকে ভালো হয়েছে।

আমি কোনো চলচিত্রবোদ্ধা কিংবা বিশ্লেষক নই কিন্তু আমি বলবো যে Only Yesterday আমার জীবনের দেখা সেরা চলচিত্রগুলোর মধ্যে একটি।আশা করি না দেখে থাকলে ছবিটি দেখে নিবেন।ছবি শেষে আপনার ঠোঁটে মুচকি একটি হাসি ফোটাতে ছবিটি ব্যর্থ হবে না বলেই আমি আশা করি।

Studio Monogatari: Episode 06

আজকের পর্বে থাকছে এমন এক স্টুডিও নিয়ে গল্প, যা আনিমের একদম প্রথম দিক থেকে শুরু করে বর্তমান যুগেও দাপটের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আজ থাকছে তোয়েই অ্যানিমেশনের গল্প।

Toei Animation

1. Toei Animation logo

১৯৪৮ সালে প্রথম যখন স্টুডিওটি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এর নাম ছিল Japan Animated Films (Nihon Douga Eiga, সংক্ষেপে Nichidou Eiga)। ১৯৫৬ সালে Toei Company Ltd. এটি কিনে নেবার পর নাম হয়ে যায় Toei Douga, তবে তখনও ইংরেজি নাম ছিল Toei Animation Co. Ltd., ১৯৯৮ সাল থেকে পুরাপুরিভাবে স্টুডিওটির নাম পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান নামের রূপ নেয়। ১৯৫৬ সালে তোয়েই দৌগা নামে যাত্রা শুরু পর সে সময়ে অনেক নামীদামী ও গুণী ব্যক্তি এখানে কাজ করে। Osamu Tezuka, Hayao Miyazaki, Isao Takahata, Yoichi Kotabe, Leiji Matsumoto, Yasuo Otsuka-এর মত নামকরা ব্যক্তিদের কর্মজীবনের শুরুর দিকটা কাটিয়েছিল তোয়েই দৌগায়। তোয়েই অ্যানিমেশনের ম্যাস্কট হিসাবে যেই বিড়ালটা দেখা যায় তার নাম Pero, তোয়েই-এর এক আনিমে ফিল্ম Puss in Boots (1969)-এর এই বিড়াল চরিত্রটিই তাদের ম্যাস্কট হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আনিমে দেখার জন্যে দর্শকদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল Animax-এর শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অন্যতম বড় নাম তোয়েই অ্যানিমেশন [সাথে আরও রয়েছে Sunrise, TMS Entertainment, Sony, Nihon Ad Systems]। আনিমে ইন্ডাস্ট্রিকে আসলে তোয়েই অ্যানিমেশনে কাছে ঋণী হয়ে থাকতে হবে আজীবন, কারণ বিশালাকার মেকা, স্পেস অপেরা, শৌনেন, ম্যাজিকাল গার্ল-এর যে বর্তমান ধারণা সেটাকে জনপ্রিয় করার জন্যে তোয়েই অ্যানিমেশনই সবচেয়ে বড় দাবীদার।

2. Toei Big Names

তোয়েই অ্যানিমেশনের উপহার দেওয়া কিছু “প্রথম”:

  • The Tale of the White Serpent: প্রথম রঙিন আনিমে মুভিই শুধু নয়, এটি একইসাথে ছিল প্রথম রঙিন আনিমে। আমেরিকাতে প্রথম ৩টি আনিমে ফিল্ম হিসাবে যেগুলি মুক্তি পায় তার মধ্যে অন্যতম এই মুভিটি।
  • Mazinger Z: মাজিঙ্গার যি-কে প্রথম সফল মেকা আনিমে হিসাবে ধরা হয়। এর আগেও মেকা আনিমে ছিল, কিন্তু ১৯৭২ সালে শুরু হওয়া এই সিরিজই প্রথম মেকা জনরাকে জনপ্রিয় করে তুলে।

3. Toei Firsts

এবার আসি তোয়েই অ্যানিমেশন সবচেয়ে জনপ্রিয় যেসব কাজের জন্যে দর্শকদের কাছে পরিচিত সেই প্রসঙ্গে। এক দৃষ্টিতে নিচের নামগুলি পড়ে যেতে থাকুন, তাহলেই বুঝবেন দর্শক মহলে জনপ্রিয় হবার কারণ হিসাবে তোয়েই অ্যানিমেশনের সবচেয়ে বড় শক্তি কোথায়:

  1. Dragon Ball
  2. Dragon Ball Z
  3. Sailor Moon
  4. Kinnikuman (Muscleman)
  5. Transformers
  6. Pretty Cure
  7. Saint Seiya
  8. One Piece
  9. Yu-Gi-Oh!
  10. Digimon
  11. Toriko
  12. World Trigger

নামগুলি দেখে এতক্ষণে হয়তো জেনে গিয়েছেন আসল কাহিনী। সব ক্যাশকাউ ফ্র্যাঞ্চাইজির বেশিরভাগই তোয়েইয়ের দখলে। উপরের সবগুলি নাম সমান জনপ্রিয় না হলেও একটা দিক থেকে ভাল মিল আছে এদের মধ্যে – সবগুলি সিরিজই অনেকগুলি পর্বের এবং এদের অনেকগুলিই একাধিক সিজনে বিভক্ত যার প্রত্যেকটিতেই রয়েছে ৫০ থেকে ১০০ করে পর্ব। লম্বা সময় ধরে এয়ার হয়ে গিয়েছে বা এয়ার হচ্ছে এগুলি, এবং দর্শক জনপ্রিয়তা না পেলে সেটা ঠিকমত সম্ভব হতও না।

4. Toei Big Shots

তবে শুধু এগুলিই তোয়েই অ্যানিমেশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজ ভাবলে ভুল করবেন। দেখে নিন গত প্রায় ৫৫ বছরের সময়কালে তোয়েইয়ের রেখে যাওয়া জনপ্রিয় কিছু কাজ:

  • ১৯৬০ এর দশক: এই সময়টাতে তাদের বেশিরভাগ কাজই ছিল ডিজনি ধাঁচের বা ডিজনি অনুপ্রাণিত, শুধু কাহিনীর পটভূমি ছিল ট্রেডিশনাল জাপানিজ কালচার: Arabian Nights: Sinbad no Bouken, Samurai Kid, Space Patrol Hopper, Rainbow Sentai Robin, Cyborg 009, Mahou Tsukai Sally, GeGeGe no Kitaro series, Akane-chan, Himitsu no Akko-chan, Tiger Mask
  • ১৯৭০ এর দশক: Kick no Oni, Mahou no Mako-chan, Sarutobi Ecchan, Devilman, Mazinger Z, Cutie Honey series, Getter Robo series, Candy Candy, Space Pirate Captain Harlock, Galaxy Express 999, Dangard Ace, Jetter Mars, The Guardian of Space
  • ১৯৮০ এর দশক: Mahou Shoujo Lalabel, Ganbare Genki, Dr. Slump, Galactic Whirlwind Braiger, Asari-chan, Patalliro!, Ai Shite Knight, Kinnikuman, Stop!! Hibari-kun!, Hokuto no Ken (Fist of the North Star), Dragon Ball, Dragon Ball Z, Ginga Nagareboshi Gin, Saint Seiya, Bikkuriman series, Transformer series, Sakigake!! Otokojuku
  • ১৯৯০ এর দশক: Sailor Moon series, Marmalade Boy, Dragon Ball GT, Aoki Densetsu, Kindaichi Shounen no Jikenbo, Slam Dunk, Yu-Gi-Oh!, Phantom Thief Jeanne, Ojamajo Doremi series, One Piece, Digimon series
  • ২০০০ এর দশক: Kanon (কিয়োঅ্যানির আগে ২০০২ সালে তোয়েই কানোনের একটি আনিমে অ্যাডাপশন নিয়ে আসে), Air Master, Nadja of Tomorrow, Bobobo-bo Bo-bobo, Pretty Cure series, Air Gear, Lovely Complex, Ayakashi: Samurai Horror Tales, Mononoke, Demashita! Powerpuff Girls Z
  • ২০১০ ও এর পরবর্তী সময়: Toriko, Kyousou Giga, Marvel Disk Wars: The Avengers, Majin Bone, World Trigger
  • মুভি: The Tale of the White Serpent, Magic Boy, Alakazam the Great, Arabian Nights: The Adventures of Sinbad, The Little Prince and the Eight-Headed Dragon, Gulliver’s Travels Beyond the Moon, The Puss in the Boots trilogy, Himitsu no Akko-chan, 30000 Miles Under the Sea, Flying Phantom Ship, Ali Baba and the Forty Thieves, Interstella 5555, এবং তাদের প্রায় সব বড় ফ্র্যাঞ্চাইজগুলির প্রত্যেকটির একগাদা মুভি।

5. Toei Anime

তোয়েই অ্যানিমেশন অনেকগুলি ওয়েস্টার্ন অ্যানিমেশন ও কার্টুন সিরিজ নির্মাণে সহযোগিতা করে, যেমন: The Smokey the Bear Show (1969), Spider-Man (1981), The Pink Panther (1981), The Wizard of Oz (1981), G.I. Joe: A Real American Hero (1983–1986), Inspector Gadget (1983), Dungeons and Dragons (1983–1985), My Little Pony (specials) (1984–1985), The Transformers (1984–1987), Defenders of the Earth (1986–1987), The Smurfs (1987–1988), Dennis the Menace (1988), Superman (1988) ইত্যাদি। তাছাড়া তোয়েই অ্যানিমেশনের নিজস্ব ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির গেমসহ বেশ কিছু গেমের অ্যানিমেশনেও কাজ করেছে। এসব গেমের মধ্যে রয়েছে One Piece-এর গেমগুলি, Dragon Ball-এর গেমগুলি, Sailor Moon-এর গেম, Chrono Trigger, Ninja Hayate, Cobra Command ইত্যাদি।

তোয়েই আনিমেশনের কাজের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

  • ক্যাশকাউ ফ্র্যাঞ্চাইজ: One Piece, Sailor Moon, Dragon Ball, Transformers, Digimon, Pretty Cure ইত্যাদি জনপ্রিয় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি তোয়েইয়ের জন্যে আর্থিক দিক থেকে বেশ লাভজনক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। একারণে সিরিজ শেষ হয়ে গেলেও আমরা সেইলর মুনের রিব্যুট পেলাম গতবছর, সামনে এর আরও অনেক সিকোয়েল আসবে; ড্রাগন বল জি পুরাটা নতুন করে ড্রাগন বল কাই আকারে বের করা হয়েছে এবং এখন চলছে ড্রাগন বল সুপার; অনেক বছর চোখের আড়ালে থেকে আবার জেগে উঠলো ডিজিমন ফ্যাঞ্চাইজ; আর ওয়ান পিস তো সামনের আরও ১০-১৫ বছর আরামসে চলবে, সাথে প্রায় প্রতি এক-দুই বছরের মধ্যে এর একটি করে মুভিও রিলিজ হয়ে থাকে।
  • অ্যানিমেশন কোয়ালিটির পতন: Dragon Ball, One Piece, World Trigger, Sailor Moon – প্রায় সব বড় বড় সিরিজগুলিতে অ্যানিমেশন কোয়ালিটির অবনমন চোখে পরার মত। এর কারণও অবশ্য সিরিজগুলির পর্বের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। শত-শত পর্বের একেকটা সিরিজ বলে এগুলির প্রতি পর্বের পিছে বাজেটের পরিমাণও আর দশটা স্বাভাবিক আনিমের চাইতে কম থাকে।
  • লং রানিং আনিমে: অন্যান্য স্টুডিওগুলি যেখানে দুই কোরের বড় আনিমে সিরিজ করার কথা ভাবেই না সাধারণত, কপাল ভাল থাকলে নতুন সিজন পাওয়া যায় কোন আনিমের, সেখানে তোয়েই অ্যানিমেশন দোর্দন্ড প্রতাপে এখনও শতাধিক পর্বের একেকটি সিরিজ নিয়ে আসছে। World Trigger এখন ৭৩ পর্বে শেষ হয়ে গেলেও কিছুদিন পরেই হয়তো সিকোয়েলের ঘোষণা আসবে। ড্রাগন বল সুপার তো ১০০ পর্বের সিরিজ হবে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওয়ানপিস তো আর কয়েক বছর পরেই হাজার পর্বের ক্লাবে পা রাখবে।
  • লাইসেন্সে অনাগ্রহ: বেশ অনেক বছর থেকেই তোয়েই অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় নিজেদের সিরিজগুলির বাইরের দেশে লাইসেন্স দেওয়াতে অনীহার ব্যাপারটা। Sailor Moon-এর ক্ষেত্রে প্রায় বিশ্বের অনেক দেশেই লাইসেন্স দেবার পর দেখা যায় লংকাকান্ড। একেক দেশে একেকধরণের ট্রান্সলেশন কোয়ালিটি, সেন্সরিং, ভুল ট্রান্সলেশন, ইচ্ছামত এডিটিং ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের কারণে লাইসেন্সিং-এর উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে তোয়েই অ্যানিমেশন। আবার One Piece-এর 4kids ডাবিং ও এডিটিং ভয়াবহ অবস্থায় রূপ নেয়। এই নতুন এডিটিং করার পর দেখা যায় তলোয়ার মানুষকে কাটে না, সিগারেটের জায়গায় চরিত্ররা ললিপপ “ফুঁকে”! মদ জাতীয় পানীয়র জায়গায় জ্যুস, পিস্তলের জায়গায় হাতুড়ি, এমনকি কোন চরিত্রের মৃত্যুর ব্যাপারটা পরিবর্তিত করে দেখানো হয় তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। বাচ্চাদের মনে আঘাত যেন না দেয় এই অজুহাতে এরকম এডিটিং করার ব্যাপারটা অনেক সমালোচিত হয়। এসব বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তোয়েই অ্যানিমেশন বাইরের দেশে নিজেদের শো-গুলি লাইসেন্সিং-এর ব্যাপারে তেমন বেশি আগ্রহ দেখায় না।
  • স্পেস অপেরা: তোয়েই আনিমেশের প্রস্তুত করা আনিমে সিরিজের অনেকগুলি স্পেস অপেরা: Space Pirate Captain Harlock, Galaxy Express 999 ও এর মুভিগুলি, Space Patrol Hopper, Captain Future, Space Emperor God Sigma ইত্যাদি।
  • মেকা আনিমেপ্রীতি: মেকা জনরার আনিমে তৈরিতে তোয়েই অ্যানিমেশনের আগ্রহ চোখে পরার মত: Mazinger Z, Transformers, Getter Robo, Gaiking, Magne Robo Gakeen, RoboDz Kazagumo Hen, Space Emperor God Sigma, Robot Girls Z ইত্যাদি।

তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে দিয়ে এর বিভিন্ন প্রাক্তন স্টাফ-মেম্বাররা পরে যেসব আনিমে স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন:

  • Mushi Production: কন্ট্রাক্ট শেষ হয়ে যাবার পর ওসামু তেজুকা তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে চলে আসেন এবং ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মুশি প্রোডাকশন।
  • Studio Ghibli: ১৯৮৫ সালে তোয়েই-এর প্রাক্তন সদস্য হায়াও মিয়াজাকি ও ইসাও তাকাহাতা প্রতিষ্ঠা করেন স্টুডিও ঘিবলি।

 

তুলনামূলক খারাপ কোয়ালিটির অ্যানিমেশনের জন্যে তোয়েইয়ের কিছুটা বদনাম থাকলেও এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, অল্প বাজেট নিয়েও একের পর এক বিশালাকার এবং জনপ্রিয় আনিমে তৈরি করে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, তাও আবার ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে, যেখানে কিনা অনেক জনপ্রিয় স্টুডিও হলেও বেশ কিছু স্টুডিও সময়ে সময়ে দেউলিয়া ঘোষিত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়!

Movie Time With Yami – 41

yamada

Name: Tonari no Yamada-kun / My Neighbors the Yamadas
Duration: 1 hr. 44 min.
MAL Score: 7.43
Ranked: 1780
Genres: Comedy, Slice of Life

 

আচ্ছা, আমরা সবাই তো কোন না কোন পরিবারে বাস করি, তাই না? সকলের পরিবারেরই নিশ্চয় কোন না কোন বিশেষত্ব রয়েছে! কিন্তু তারপরেও, সব পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের মাঝে রয়েছে এক অদ্ভুত মিল! আর সেই কমন বৈশিষ্ট্যগুলোকেই মজাদার এবং উপভোগ্য করে তুলে ধরা হয়েছে স্টুডিও জিবলী প্রযোজিত এবং ডিরেক্টর ইসাও তাকাহাতা পরিচালিত ১৯৯৯ সালের এই মুভিটিতে।

মুভিটির কোন নির্দিষ্ট ধরাবাঁধা কাহিনী নেই। মূলত ইয়ামাদা পরিবারের পাঁচ সদস্যের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট এবং খুব সাধারণ সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনী এগিয়ে চলে। চাকুরীজীবি বাবা, গৃহবধূ মা, অলস ছেলে, চঞ্চল মেয়ে এবং ধারালো কথাবলা দাদী – ইয়ামাদা পরিবার এই পাঁচ সদস্য নিয়ে গঠিত। তাদের জীবনের সামান্য হাসিঠাট্টা, ভুলভ্রান্তি, এবং অন্যান্য কাজকর্ম দেখে একদিকে যেমন মজা লাগবে, অন্যদিকে তেমনি নিজের পরিবারের সাথে কোথায় যেন একটা মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যে ঘটনাগুলো প্রায়শই আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়, হঠাৎ করে সেগুলোর গুরুত্ব নজরে আসবে। এটি এমনই একটি মুভি, যা পুরো পরিবারের একসাথে বসে দেখা উচিৎ।

ডিরেক্টর ইসাও তাকাহাতা বরাবরই তার ব্যাতিক্রমধর্মী আর্ট স্টাইলের জন্য পরিচিত, ইয়ামাদার ক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য। মুভিটি দেখলে মনে হবে, কোন কমিক স্ট্রিপ এর চরিত্রগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। মুভিটির সহজ সরল কাহিনীর সাথে এই আর্ট স্টাইলটা খুবই মানানসই। মিউজিক হিসেবে খুব সাধারণ ক্যাচি মিউজিকের পাশাপাশি বিখ্যাত কম্পোজারদের সৃষ্টিও ব্যাবহৃত হয়েছে। মুভিটিতে শেষের দিকে মি: ইয়ামাদা যে বক্তৃতাটি দেন, তা যেন আমাদের সবার জীবনকেই বর্ণনা করে।

তাই হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে দেখে ফেলতে পারেন এই চমৎকার মুভিটি।

Movie Download Link-

http://kissanime.com/Anime/My-Neighbors-the-Yamadas

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 39

1245139452_1366x768_cute-pom-poko-wallpaper-for-computer

Name: Pom Poko / Heisei Tanuki Gassen Ponpoko
Duration: 1 hr. 51 min.
MAL Score: 7.45
Ranked: 1705
Genre: Kids

 

নাট্যকার মুনীর চৌধুরী তার রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে একটা কথা বলেছিলেন, “মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়।” কিন্তু এই বদলের প্রভাবে আমাদের আশেপাশের পরিবেশের কি অবস্থা হয়, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখি??

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে মানব সমাজ সব সময়ই নিজেদের ও আশেপাশের পরিবেশকে পরিবর্তন করেছে। জাপান এর টোকিও শহরও এর ব্যাতিক্রম নয়। নগরায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে পাহাড় কেটে রাস্তা বানানো হচ্ছে,,বনভূমি কেটে তৈরি হচ্ছে আবাদি জমি।

কিন্তু এতে অসুবিধায় পড়ছে বনে বসবাসরত জন্তু জানোয়ার। তাদের বাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, তাদের খাবার কমে যাচ্ছে। এরকম সংকটময় অবস্থা দেখে বনের একদল তানুকি ঠিক করল, তারা এই নগরায়ন প্রকল্প যে করেই হোক, বাধাগ্রস্ত করবে। তানুকিদের কাছে আছে এক বিশেষ ক্ষমতা, তারা নিজেদের শরীরকে যেকোন কিছুতে পরিণত করতে পারে। তারা এই ক্ষমতা ব্যাবহার করে শুরু করল মানুষের কাজে বাধা সৃষ্টি করা।

মুভিটিতে পরিবেশের ক্ষতি করার কুফল সম্পর্কিত একটি পরিস্কার বার্তা রয়েছে, তবে আমার মনে হয়েছে, আরেকটি খুব জরুরী বার্তা মুভিটিতে দেয়া হয়েছ, তা হল পৃথিবীতে কালের বিবর্তন এর সাথে পরিবর্তন আসবেই। সেই পরিবর্তনের সাথে যে যত তাড়াতাড়ি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে, ততই তার মঙ্গল হবে। বৃদ্ধ তানুকিরা এখানে বৃদ্ধ মানুষদের একটি রূপ, যারা পুরনো সংস্কৃতিকে আকড়ে ধরে রাখতে চায়, কিন্তু কালের কবলে তারাও একসময় পরিবর্তন মেনে নিতে বাধ্য হয়।

ডিরেক্টর হিসেবে তাকাহাতা ইসাও এর নাম সকল মুভিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত, তার চমৎকার পরিচালনায় মুভিটি হয়ে উঠেছে অসাধারণ। তানুকিদের হাসিখুশি দুস্টুমি, নাচগানের মধ্য দিয়ে উপভোগ্যভাবে একটি খুব গভীর বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে, যা মুভি শেষে সকলকেই ভাবিয়ে তুলবে। মুভিটির নামের সাথে কিয়োটো অ্যানিমেশন এবং স্টুডিও জিবলীর মত ভারী দুটি নাম রয়েছে, কাজেই আর্ট এবং গ্রাফিক্স বা সাউন্ডট্রাক নিয়ে সন্দেহ থাকার কোন অবকাশ নেই।

তাই হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে দেখে ফেলতে পারেন এই চমৎকার মুভিটি।

Movie Download Link-

http://kissanime.com/Anime/Pom-Poko

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 28

1407136376_f5-600x335

Name- Only Yesterday / Omohide Poroporo
Duration- 2 hours
MAL Score: 7.65
Ranked: 1093
Genres: Drama, Romance, Slice of Life

স্টুডিও জিবলীর নাম শুনলেই সাধারণত আমাদের চোখে যে ছবিটা ভেসে ওঠে, এ মুভিটি তার থেকে একেবারেই আলাদা। শহুরে ব্যস্ত জীবন, গ্রামীণ সবুজ পরিবেশ এবং একজন মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘটে যাওয়া কিছু সুখদুঃখের স্মৃতি নিয়ে তৈরি হওয়া একটি চমৎকার এবং বাস্তবধর্মী মুভি এটি।

তায়েকো ওকাজিমা একজন শহুরে মহিলা। একটি অফিসে চাকরি করেন তিনি। অফিসের কর্মব্যস্ত জীবন থেকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নেয়ার জন্য তিনি ছুটি নিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। যাত্রাপথের সময়টুকুতে তিনি তার শৈশবের স্মৃতি রোমান্থন করতে থাকেন। স্কুলে পড়ার সময়কার বিভিন্ন ঘটনা, বন্ধুবান্ধব, বাড়িতে পরিবারের সুখদুঃখ, পাওয়া না পাওয়ার অভিমান, আবার একসাথে বসে ডিনার খাওয়ার আনন্দ- এসব মনে করে আনমনা হয়ে পড়েন।

গ্রামে পৌছে তিনি তার আত্নীয়দের বাড়িতে আতিথ্য গ্রহন করেন। এবং তাদেরকে খামারের এবং মাঠের কাজে সাহায্য করেন। তার ছোটবেলার পুরনো বন্ধুর সাথেও দেখা হয়। এসব অভিজ্ঞতা তাকে নতুন করে জীবনের অর্থ বুঝতে সাহায্য করে।

মুভিটির আর্টওয়ার্ক জিবলীর অন্যান্য মুভির মতই পরিচ্ছন্ন, গ্রামের পরিবেশটা খুব সুন্দরভাবে দেখান হয়েছে। আর এর ওএসটি খুবই মনকাড়া, বারবার শুনতে ইচ্ছে করে। আর মুভিটি দর্শককে জীবনের ব্যাপারে একটি অন্যরকম ধারণা প্রদান করবে।

তাই, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলুন এই চমৎকার মুভিটি!

Movie Download Link-

http://kissanime.com/Anime/Only-Yesterday

 

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 23

m23

Name- The Tale of The Princess Kaguya / Kaguya Hime no Monogatari
Duration- 2 hr. 17 min.
MAL Score- 8.41
Ranked- 144
Genres- Historical, Fantasy
 
অনেক অনেক দিন আগের কথা। প্রাচীন জাপানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জঙ্গলের ধারের এক কুঁড়েতে বাস করত এক ব্যাম্বু কাটার এবং তার স্ত্রী। সে জীবিকা নির্বাহ করত জঙ্গল থেকে বাঁশ কেটে সংগ্রহ করে।
 
একদিন সকালবেলা জঙ্গলে বাঁশ কাটার সময় হঠাৎ সে দেখতে পায়, একটি কচি বাঁশের ভেতর থেকে আলো ছড়াচ্ছে। কৌতুহলী হয়ে সে এগিয়ে যায় সামনে। তখন দেখতে পায়, কচি বাঁশটির মধ্যে থেকে একটি ছোট্ট রাজকন্যার মত মেয়ে তারদিকে তাকিয়ে হাসছে!
 
ব্যাম্বু কাটারের মনে হল, তার কাছে স্বর্গের বাসিন্দাদের আশীর্বাদ রূপে এই রাজকন্যা এসে পৌছেছে। সে তাকে নিয়ে গেল নিজের স্ত্রীর কাছে। নিঃসন্তান স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই আনন্দের সীমা রইল না মেয়েটিকে পেয়ে।
 
কিছুদিনের মধ্যেই সবাই দেখতে পেল, বাঁশের কুঁড়ি থেকে জন্ম নেয়া এ মেয়েটি বাঁশের মতই অতি দ্রুত বেড়ে উঠছে। আশেপাশের বাচ্চারা এজন্য তার নাম দেয় তাকেনোকো, যার অর্থ কচি বাঁশ।
 
তাকেনোকোকে নিয়ে তার বাবার চিন্তার শেষ নেই। তার ধারণা, তাকেনোকো এই গ্রামে পড়ে থাকলে স্বর্গের দেবতারা তার ওপর অখুশি হবে। তাই একরাতে সে একটি কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।
 
এই মুভিটি দেখা শুরু করার ৫ মিনিটের মাঝেই যে জিনিসটা প্রথম নজর কাড়ে, এটার চমৎকার, দৃষ্টিনন্দন আর্টওয়ার্ক। বর্তমান যুগের চোখ ধাঁধানো গ্রাফিক্স এবং যন্ত্রে আঁকা ক্যারেক্টার ডিজাইনের ভীড়ে আমরা জলরঙের সৌন্দর্য প্রায় ভুলতে বসেছি- এই মুভিটি তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়। পুরো মুভিটা দেখে মনে হয়েছে, যেন কোন শিল্পী তার প্রিয় ক্যানভাসে একের পর এক দৃশ্য ফুটিয়ে তুলছেন যত্ন নিয়ে। এই ব্যতিক্রমী স্নিগ্ধ আর্টওয়ার্ক শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত তার মোহ ধরে রাখে। সেইসাথে প্রাচীন জাপানের দৃশ্যপট, জীবনধারা, তাদের লোকগাঁথা- সবই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মনে হয়েছে, ২ ঘন্টা ১৭ মিনিট সময়ের মাঝে যেন প্রাচীন জাপান থেকে ঘুরে এলাম।
 
তাই, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই ছুটিতেই দেখে ফেলুন এই অত্যন্ত চমৎকার মুভিটি।
 
Movie Download Link-
 
 
Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 16

m16

Name- Kiki’s Delivery Service / Majo No Takkyuubin
Duration- 1 hour 45 minutes
MAL Score- 8.24
Ranked- 265
Genres- Adventure, Comedy, Drama, Fantasy, Magic, Romance

স্টুডিও জিবলীর আরেকটি সুন্দর এবং অনুপ্রেরণাদায়ক মুভি এটি।

ছোট্ট সুন্দরী উইচ কিকি, তার পরিবারের সাথে একটি গোছানো গ্রামে থাকে এবং জাদুবিদ্যা চর্চা করে। কিকির পরিবারের নিয়ম, সব উইচকেই তেরো বছর বয়সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে একবছরের জন্য অনেক দূরের কোন একটি এলাকায় থাকতে হবে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। পোষা বিড়াল জিজিকে সাথে নিয়ে কিকি তাই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমণে।

জাদুর লাঠিতে চড়ে প্রতিকূল পরিবেশ পার হয়ে অবশেষে সমুদ্রের ধারে এক গোছানো শহরে এসে পৌছায় সে। এখানে এসে অনেক ঘটনা এবং সমস্যার সম্মুখীন হয় সে। জীবিকা নির্বাহের জন্য কিকি শুরু করে এক স্পেশাল ডেলিভারী সার্ভিস। এবং এই কাজ করার মাঝেও অনেক রকম অভিজ্ঞতা অর্জন করে সে।

হায়াও মিয়াজাকির ডিরেকশনে তৈরি যেকোন মুভিই আসলে চমৎকার, কিছু বললে কমই বলা হয়। ক্যারেক্টারগুলো খুবই সুন্দর এবং যত্ন নিয়ে তৈরি, দেখতে দেখতে একটা কানেকশন তৈরি হয়ে যায় খুব সহজেই। আর্টওয়ার্ক অত্যন্ত সুন্দর, চোখ জুড়িয়ে যায়।

আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে সাজানো গোছানো শহরের ছবি এবং কিকির স্পিরিট। পুরো মুভিটাই প্রতিটি মূহুর্ত উপভোগ করে দেখেছি।

কাজেই, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলতে পারেন এই সুন্দর মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Majo-no-Takkyuubin

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 07

 

gXTAi

Name- Nausicaä of the Valley of the Wind / Kaze no Tani no Nausicaa
Duration- 1 hour 57 minutes
MAL Score- 8.48
Ranked- 105
Genre- Adventure, Fantasy

কাহিনীর শুরু একটি ভয়াবহ যুদ্ধের ১০০০ বছর পরে, যেই যুদ্ধের পরিণতিতে পৃথিবী ৭ দিন আগুনে পুড়েছে, ধ্বংস হয়েছে সভ্যতা। বেশিরভাগ এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিষাক্ত জঙ্গল, যেখানে বাস করে বড় বড় ভয়ংকর কীট। এই জঙ্গলের কোন কিছুর স্পর্শ মানুষের জন্য বয়ে আনতে পারে করুণ পরিণতি। অল্প কিছু জায়গা, যা এখনো বিষের কবলে পড়েনি, সেসব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাস করে মানুষ।

এরকমই একটা এলাকা হল ভ্যালি অফ উইন্ড। এখানে বাস করে একটি গোত্র, যারা একটি লিজেন্ডে বিশ্বাস করে। তাদের যখন চরম বিপদ এসে হাজির হবে, তাদের রক্ষাকর্তা আসবে নীল পোষাক পরে, সোনালী মাঠের ওপর দিয়ে।

এই গোত্রের রাজকুমারী নওসিকা। চটপটে, প্রাণবন্ত নওসিকাকে তার গোত্রের সবাই ভালবাসে। সে তার নিজের গ্লাইডারে চড়ে বিষাক্ত জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়, আর খুঁজে বের করতে চেষ্টা করে দূষণ থেকে পরিত্রাণের উপায়।

নওসিকাদের এলাকায় একদিন হঠাৎ আক্রমণ করতে আসে অন্য আরেকটি গোত্র। তারা ভ্যালি অফ উইন্ড এবং এর কাছে অবস্থিত কীটের জঙ্গলের শান্তি নষ্ট করে, তান্ডব চালায় ইচ্ছামত। নওসিকার ওপর দায়িত্ব পড়ে নিজের গোত্রকে বাঁচানোর এবং একইসাথে তাদের এলাকাকে ধ্বংস থেকে বাঁচানোর।

মুভিটি প্রকৃতি এবং মানুষের সম্পর্ক, অযথা কলহের পরিণতি এবং একইসাথে মন থেকে আসা ইচ্ছার শক্তিকে খুব সুন্দরভাবে দেখিয়েছে। জিবলীর রাজকুমারীরা বরাবরই অসাধারণ, নওসিকাও তার ব্যতিক্রম নয়। আমার সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে লিজেন্ডের অংশটুকু, বেঁচে থাকার জন্য সবারই এমন একটা আশা প্রয়োজন।

১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত এ মুভিটিকে ধরা হয় অনেকটা স্টুডিও জিবলীর ভিত্তি হিসেবে। এই মুভির সাফল্যের হাত ধরেই যাত্রা শুরু হয় এই বিখ্যাত স্টুডিওর।

সুতরাং, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলতে পারেন চমৎকার এই মুভিটি।

Movie Download Link –
http://kissanime.com/Anime/Kaze-no-Tani-no-Nausicaa

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 04

Grave-of-the-Fireflies_background_wallpaper

 

Name- Grave of the Fireflies/Hotaru no Haka 
Duration- 1 hour 28 minutes 
MAL Score- 8.60 
Ranked- 65 

আমরা সবাই সাধারণত আনিমে দেখি মজা পাওয়ার জন্যে, মন ভালো করার জন্যে অথবা রুঢ় বাস্তবতাকে ভোলার জন্যে। কিন্তু আনিমেও মাঝে মাঝে আমাদের আরও কঠিন বাস্তবতার সামনে দাড়া করিয়ে দিতে পারে। রিয়ালিটি চেক যাকে বলে আরকি। এমনই একটা মুভি এটি। 

কাহিনীর পটভূমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপানে, মানবতার অবক্ষয় ঘটেছে যেখানে। যখন তখন বম্বার প্লেন এসে বোমা ফেলে যাচ্ছে এখানে সেখানে, আর প্রাণহানি ঘটছে অসংখ্য মানুষের, স্বজনহারা হচ্ছে মানুষ। তেমনি এক বালক সেইটা। সে তার মা ও ছোট বোন সেতসুকোকে নিয়ে থাকত। তার বাবা একজন সৈনিক এবং তিনি তার কাজের জন্যে দূরে থাকেন। বোমার আঘাত থেকে বাঁচতে ছোট বোনকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সেইটা। শারীরিক অসুবিধার কারণে তাদের মা বের হতে পারেনা এবং বোমার আঘাতে খুব বাজেভাবে আহত হয়ে তিনি মারা যান। এরপর আশ্রয়হীন সেইটা ও তার ছোট বোনের ঠাই হয় একজন আত্মীয়ের বাড়িতে। এরপর অভাব, অবহেলা এবং অসহায়তার মাঝে দিন কেটে যেতে থাকে তাদের। বেঁচে থাকার এবং নিজেদের আত্মসম্মান রক্ষার কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হয় দুই ভাইবোন। 

আমার কাছে মুভিটার যা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, মানুষের জীবনে হঠাত করে কখন কি বিপর্যয় আসতে পারে এবং বাস্তবতা মাঝে মাঝে কতটা কঠিন হতে পারে, এটা খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। কিছুক্ষণের জন্যে থমকে দাড়িয়ে চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছিলাম। 

১৯৮৮ সালের এপ্রিল মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত এ মুভিটি জাপানে বেশ কয়েকটি পুরষ্কার জিতেছে। স্টুডিও জীবলির অন্যতম সেরা মুভিগুলোর একটি এটি। 

সুতরাং, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলতে পারেন চমৎকার এই মুভিটি। 

Movie Download Link – 
http://kissanime.com/Anime/Grave-of-the-Fireflies 

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 02

Laputa

Name- Laputa: Castle in the Sky / Tenkuu no Shiro Rapyuta
Duration- 2 hr. 5 min.
MAL Score- 8.38
Ranked- 164
Genres- Adventure, Fantasy, Romance, Sci-Fi

প্রথমেই যে কথাটা অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়, এটা স্টুডিও জিবলীর মুভি, হায়াও মিয়াজাকি পরিচালিত। আর মিয়াজাকি মানেই অসম্ভব সুন্দর পরিচালনা!!

ছোট্ট মেয়ে শীটাকে কিডন্যাপ করেছে মুশকা এর লোকেরা। এয়ারশিপে করে তাকে নিয়ে যাচ্ছে কোন এক জায়গায়। এমন সময় হঠাত এয়ারশিপ আক্রমণ করল দস্যুরা। তাদের লক্ষ্যও শীটাকে নিজেদের কব্জায় নেয়া। কিডন্যাপার ও দস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে চেষ্টারত শীটা হাত ফস্কে পড়ে গেল এয়ারশিপ থেকে। কোন সে অলৌকিক উপায়, যা শীটাকে রক্ষা করে বিপদ থেকে?

শীটার সাথে দেখা হয় পাজুর। যার স্বপ্ন গুজব ছড়ানো ভাসমান দুর্গ লাপুতা খুঁজে বের করে তার বাবার কথাকে সত্য প্রমাণ করা। পাজু বিপদাপন্ন শীটাকে দস্যু ও কিডন্যাপারদের হাত থেকে রক্ষা করতে চায়। আর শীটা পাজুকে লাপুতা খুঁজে বের করতে সাহায্য করতে চায়। এভাবে দুজন জড়িয়ে পড়ে এক রূদ্ধশ্বাস অভিযানে।

আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে যেটা, উড়োজাহাজের অসম্ভব উত্তেজনাকর কিছু মূহুর্ত আছে, দম বন্ধ করে দেখেছি। আর লাপুতার দৃশ্য অসম্ভব সুন্দর, মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা হয়।

মুভিটি বিভিন্ন সময়ে জাপানে অনেকগুলো পুরষ্কার জিতেছে। এর সাবড এবং ডাবড ভার্সনে কিছুটা পার্থক্য আছে যা হায়াও মিয়াজাকির অনুমতিপ্রাপ্ত।

সুতরাং, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলতে পারেন চমৎকার এই মুভিটি।

Movie Download Link –
http://kissanime.com/Anime/Tenkuu-no-Shiro-Laputa

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!