Hibike! Euphonium:নো-ওয়েইস্টেড-শট! — Fahim Bin Selim

 

hibike__euphonium_wallpaper_hd_by_corphish2-d8ngduu

একটা ভালো অ্যাডাপ্টেশন হওয়ার জন্য কী প্রয়োজন? অনেক বেশি সংখ্যক অ্যানিমে ফ্যান, এবং সামগ্রিকভাবেই ভিজুয়াল ফিকশনের ফ্যানরাই ভালো অ্যাডাপ্টেশন বলতে সম্ভবত বুঝে তার সোর্স ম্যাটেরিয়ালকে পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করাকে। কিন্তু সেটা কি তার গল্প বলায় একটা সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে না? কারণ শেষ পর্যন্ত, “অ্যাডাপ্টেশন” মানেই তো নতুন পরিস্থীতি, নতুন মাধ্যমের সাথে মানিয়ে নেওয়া – গল্পের বিন্যাস, কাঠামো আর বর্ণনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে হলেও। কারণ, অবশ্যই, বইয়ের পাতার লেখার মাধ্যমে গল্প বলা, আর টেলিভিশন, সিনেমার পর্দায় ছবি আর শব্দের মিলনে তা বলার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য আছে। একই সাথে পার্থক্য আছে, আসলেই গল্প “বলাতে”, এবং তা  কেবল “দেখানো”-র মাঝেও। ছবি আর শব্দের মেলবন্ধন – আর তা যদি ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়, অ্যানিমেশনের সম্ভাবনা অসীম, তৈরি হয় আসলেই ত্রিমাত্রিক অনুভূতির এক জগৎ। কিন্তু অবশ্যই এক্ষেত্রে গল্প বলার ক্ষেত্রে পরিচালকের কল্পনাশক্তির প্রাচুর্য্য থাকা জরুরী, যেহেতু  ছবি এবং শব্দের উপস্থিতি দর্শকদের নিজেদের কল্পনাশক্তি ব্যবহারের সুযোগ অনেকাংশে কেড়ে নিচ্ছে। এবং এটা আরো বিশেষভাবে, যখন একটা উপন্যাসকে অ্যাডাপ্ট করা হয়। কারণ এখানে মাঙ্গার মত আর চরিত্রদের চেহারা, তাদের অঙ্গভঙ্গি কিংবা তাদের আশেপাশের জায়গাগুলোর টেমপ্লেট আগে থেকেই দেওয়া থাকেনা। পুরোপুরিই পরিচালকের নিজের ইন্টারপ্রেটেশনের উপর নির্ভর করে। একজন পরিচালকের প্রতিভার পরিচায়ক তো কেবল সুন্দর কোন গল্প বলাতে নয়, কোন গল্পকে সুন্দরভাবে বলাতেই!

vlcsnap-2016-11-05-01h07m20s868

এখানে আর বাকি সব কিয়োঅ্যানির অ্যানিমের মত সুন্দর অ্যানিমেশন আর ভিজুয়াল উপস্থিত, হয়তো মাঝে মাঝে তুলনামূলক কম ভালোও। কিন্তু Hibike-’র শক্তি বরং এর গল্পবর্ণনায়। এর মূল গল্প বড় এক নভেল সিরিজ থেকে নেওয়া, একারণে গল্প আর চরিত্র – উভয়ের গভীরতাই তুলনামূলক বেশি। কিন্তু এই কারণেই বরং তার পুরোটা টিভির পর্দায় ফুটিয়ে তোলা আরো অনেক, অনেক বেশি কঠিন! কিয়োঅ্যানির ফ্ল্যাগশিপ পরিচালক তাৎসুইয়া ইশিদার কাছ থেকে আসায় যদিও এর সাফল্য নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু তার পরও, ইশিদার বাকি সব অ্যানিমের চেয়ে Hibike আলাদা। Air, Clannad, Haruhi -‘র মত Hibike-তে বড় এনসাম্বলের কাস্ট থাকলেও, এর গল্প অনেক বেশি কানেক্টেড, কমপ্যাক্ট…বাস্তবিক! ফ্যান্টাসি জনরা গায়ে না লেগে থাকা একটা বড় কারণ, কিন্তু এটা বাদ দিলেও Hibike-’র প্রতিযোগীতা, সাফল্য আর ব্যর্থতার গল্প পরিচিত। গল্পবর্ণতাতে আছে আলাদা একটা নিজস্বতা। কেবল “দেখানো”-তেই সীমাবদ্ধ না, Hibike তার গল্পের বড় একটা অংশ “বলে” তার ভিজুয়াল দিয়ে।

“ক্যামেরা”-’র ব্যবহারটাই চিন্তা করা যাক, Hibike-তে ফোকাসিংকে কাজে লাগানো হয়েছে শিল্পের পর্যায়ে। পুরোটা সময় ঘোলাটে ব্যাকগ্রাউন্ড আর চরিত্রদের চেহারার উপর পূর্ণাঙ্গ ফোকাসই বলে দিবে মনোযোগটা কোথায় রাখা জরুরী। কিয়োঅ্যানিমের আর বাকি সব অ্যানিমে থেকেও তো একে এই এক বিষয় দিয়ে আলাদা করা যায়! কুমিকো গল্পের ন্যারেটর, তার স্বগোক্তিতেই সব বলা, প্রতি পর্ব শুরু আর শেষও তা দিয়ে। তার মাথার ভেতর, বিক্ষিপ্ত চিন্তাভাবনা আর স্মৃতি, কুইক-কাট ট্রানজিশনে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিয়ে যায়। কুমিকো যদিও বেশিরভাগ সময়ই আশেপাশে চলমান ঘটনার পার্শ্বচরিত্র; প্রভাবক, নীরব দর্শক আর গুপ্ততথ্যের রক্ষক। She sees everything and she understands. একজন ওয়ালফ্লাওয়ার! যার জন্য উপন্যাসের পাতা ভর্তি লেখা প্রয়োজন, তার জন্য এখানে একটি শব্দেরও প্রয়োজন হয় না; চরিত্রদের মুখের অভিব্যক্তি আর প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করলেই হবে। নো-ওয়েইস্টেড-শট!

vlcsnap-2016-11-05-01h07m20s868

দ্বিতীয় সিজনের তৃতীয় পর্ব এর একটি ভালো উদাহরণ। এই পর্বের শুরুটা কুমিকোর মনোলোগ দিয়ে, কানসাই কম্পিটিশনের আগে শেষ প্রস্ততি পর্ব। কুমিকো আর আসুকার ছোট কথোপকথনের পরবর্তী ৩ঃ১৬-৩ঃ১৬ এ তিন সেকেন্ডের ট্রানজিশন, আর তার সাথে সাথে কুমিকোর এক্সপ্রেশন, সম্পূর্ণ ভিন্ন দুইটি সময় আর জায়গার মধ্যে সংযুক্তি। কোন এবরাপ্ট কাট না যেটা গল্পের গতি নষ্ট করে দিবে, অথবা কোন দীর্ঘায়িত অপ্রয়োজনীয় শট না, বরং দুটো একত্রে মিলিয়ে দেওয়া, গল্পের প্রবাহ বজায় রাখার জন্য! অথবা তার পরবর্তী দৃশ্য, আসল পারফর্মেন্সের আগে শেষবারের মত সব পারফর্মারদের একসাথে থাকা শেষ দৃশ্য। নিয়ামা আর হাশিমোতো-সেনসেই এর বিদায়ী ভাষন, উপদেশ। ক্যামেরা একজনের থেকে আরেকজনের পারস্পেকটিভে বদলাতে থাকে অনবরত, কার কোন কোন দূর্বলতা জানান দেয়, এবং তার সাথে সাথে পারফর্মারদের প্রতিক্রিয়া। কুমিকোর চেহারার অবিশ্বাস, আনন্দ, ভয় এবং একই সাথে অস্থিরতা ইউফোনিয়াম সোলোর অংশ হওয়ার খবর পাওয়ায়, রেইনার সন্তুষ্টির অভিব্যক্তি। কিংবা ইয়োরোইযুকার চোখে হাতের ওবোর দিকে স্থির, রোবোটিক দৃষ্টি, যখন হাশিমোতো তাকে যান্ত্রিকভাবে বাজানো বাদ দিয়ে আরো বেশি “এক্সপ্রেসিভ” হওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তার জন্য তো “এক্সপ্রেস” করা সব সময়ই কষ্টকর ছিলো, সংগীত কিংবা শব্দ দিয়েও। তা তার গতবাঁধা জবাবেই আটকানো, “I’ll try to do better.” ব্যাকগ্রাউন্ড ফোকাসে ইউকোর চেহারায় অনিশ্চয়তা! প্রিয় মানুষের জন্য!

vlcsnap-2016-11-08-11h43m53s360  vlcsnap-2016-11-08-11h44m53s455vlcsnap-2016-11-05-01h13m11s868

গল্পটা কুমিকোর মাথার ভেতরে, তাই তো সবকিছু সামনে থেকে দেখা হয় না। রেইনা যখন তাকি-সেনসেইকে নিয়ামা-সেনসেইয়ের সাথে তার সম্পর্কের কথা জানতে চেয়ে প্রশ্ন করে, আগুনের অপর পাশে। তাদের কথা শোনা যায় না, পর্দায় কেবল দূর থেকে রেইনা আর তাকির শব্দহীন অভিব্যক্তি। কিন্তু অবশ্যই Hibike এই মুহূর্তটা অপচয় করবে না। বরং এপাশে সমান্তরালে হাশিমোতো-সেনসেইয়ের সাথে কুমিকোর কথোপকথন চলতে থাকে। তাকি-সেনসেই এরই অতীত নিয়ে! একই সাথে শব্দ আর ছবি দিয়ে দুটো আলাদা গল্প বলা! কনসার্টেশনে, কোনভাবেই ইনফরমেশনের ওভারফ্লো না, ইকোনমিক! কিংবা আসুকাকে আঁকড়ে ধরা নস্টালজিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত, হাইস্কুলের শেষ বছরে এসে। যদিও তা মুখ ফুটে কেবল বেরোয় না সরাসরি। ক্লাবকে আগলে রাখার প্রতিটি চেষ্টায়, প্রতিটি ধাপ পেরোনোর আনন্দের বিহবল হওয়ার পরবর্তী নীরবতায়, অবশ্যম্ভাবী বিদায়ের কথা মনে পড়ায়, গ্রাস করা বিষাদ ঠিকড়ে বেরোয় তার হাসির পেছন থেকে, আর যখন সে বলে,  “I wish this summer would never end”।

vlcsnap-2016-11-05-01h34m13s058 vlcsnap-2016-11-05-01h31m48s174

কিন্তু সবচেয়ে বড় উদাহরণ অবশ্যই এর পারফর্মেন্সের দৃশ্যগুলো! মিউজিক অ্যানিমের সাফল্যের জন্য তো অসাধারণ সঙ্গীতেরই দরকার সবার আগে! Hibike এইক্ষেত্রে বরং Showa Genroku-’র সাথে তুলনীয়। Hibike-’র সঙ্গীতের বিচারক দর্শক নিজেরাই! কোন শর্টকাট না, এমনকি ৮ মিনিটের লম্বা পারফর্মেন্সেও! প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি বিট অ্যানিমেটেড। আর মনে রাখার মত ব্যাপার, অন্যান্য আর বেশিরভাগ অ্যানিমের মত Hibike-’র সঙ্গীত একক পরিবেশনা না, দলীয়! কন্ডাকটরের হাতের নির্দেশনা, প্রতিটি পারফর্মারের চলমান হাত অথবা মুখ, অথবা দুটোই, সঙ্গীতের সাথে মূর্ছনায়; নড়তে থাকা, সামনে, ব্যাকগ্রাউন্ডে একসাথে; ট্রামবোন, ট্রামপেট, টিউবা, ক্ল্যারিনেট, হর্ন, ট্রিমপানি, চাইম, টামবুরিন, ওবো, ফ্লুট, বেস, ইউফোনিয়াম! একসাথে চলতে থাকা! কোন স্ট্যাটিক শট না! আবার যখন রেইনার সোলোর দৃশ্য আসে, তখন পর্দায় রেইনার কল্পনায় ভেসে স্টেজ আর পাহাড়ের কিনারায় মিশে এক হয় কুমিকোর সাথে ফেস্টিভালের সেই রাতের দৃশ্য, কারণ এই পারফর্মেন্স তো তার জন্যই! অথবা ইয়োরোইযুকার কল্পনায় নোজোমি। কাওশিমার সামনে রাখা স্ট্যান্ডে বন্ধুদের সাথে তার ছবি। তাকি-সেনসেইয়ের সামনে তার স্ত্রীর। সবারই আলাদা আলাদা গল্প!

vlcsnap-2016-11-13-02h22m50s007

সামনে বসে থাকা দর্শকরা ফোকাসের বাইরে, পেছনে ব্যাকস্ট্যাজে বন্ধুদের বিচলিত পায়ের নড়াচড়া কেবল। আর এই দূর্দান্ত পরিবেশনার পরের দৃশ্যটাই কী? প্রথমে সবার হাঁপাতে থাকা চেহারা, বন্ধুদের কান্নার দৃশ্য, আর সবার শেষে দর্শকদের করতালি। আর তা ক্ষীন হতে হতে সরাসরি এন্ড ক্রেডিট। কারণ শেষ পর্যন্ত এটা তো তা-ই ছিলো, যা উপন্যাসের পাতায় কখনোই বোঝানো সম্ভব না, পাতার পর পাতা বাক্য দিয়ে ভরে ফেললেও, একইসাথে শব্দ আর চিত্রের পরিবেশনায়ঃ শ্বাসরুদ্ধ, চিত্তসম্মোহিত আর হতবিহবল করা।

নো-ওয়েইস্টেড-শট!

Studio Monogatari: Episode 03

Kyoto Animation (KyoAni)

1. Kyoto Animation Logo

এই সময়ের সেরা কয়েকটি আনিমে স্টুডিওর নাম বলতে গেলে একদম উপরের সাড়িতে যেসব নাম চলে আসবে তার মধ্যে কিয়োঅ্যানি অন্যতম। মুশি-প্রো ছেড়ে আসবার পর ১৯৮১ সালে Hideaki Hatta ও তার স্ত্রী Yoko Hatta মিলে এই স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এর নাম ছিল Kyoto Anime Studio. লোগোর ভিত্তি হিসাবে kyō-এর কাঞ্জি (京) ব্যবহার করা হয়। শুরুর দিকে তারা বিভিন্ন আনিমে মুভি ও অন্যান্য আনিমে সিরিজের জন্যে cell painting ও বিভিন্ন কমিশন কাজ করতো। এরকম চলতে থাকার পর ১৯৮৫ সালে তারা একটি লিমিটেড কম্পানি হিসাবে এবং ১৯৯৯ সালে কর্পোরেশন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে, আর তাদের অফিশিয়াল নাম হয় Kyoto Animation. এই সময়ে কিছু বড় প্রোজেক্টের সাথে তারা কাজ করে, যেমন Cowboy Bebop, গান্দাম সিরিজ, এমনকি কিছু জীবলি মুভিতেও তারা সাহায্য করেছে।

১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এই ৩০+ বছর সময়ে তাদের কাজ মাত্র ২২টি টিভি সিরিজ ও ৯টি ফিল্ম। এর কারণ তাদের প্রথম নিজস্ব কাজ আসে ২০০৩ সালে, যখন স্টুডিও গনজোর Full Metal Panic! এর সিকোয়েল সিরিজ Full Metal Panic! Fumoffu তৈরির দায়িত্ব পায় তারা। অবশ্য রিলিজ পাওয়া হিসাবে তাদের সর্বপ্রথম নিজস্ব কাজ OVA সিরিজ Munto. Munto তৈরি করেছিল তারা স্টুডিও হিসাবে নিজেদের ক্ষমতা দেখাবার জন্যে, আর Full Metal Panic! Fumoffu এর সাফল্যের কারণে সিরিজটির পরবর্তী এন্ট্রিগুলিও তৈরির দায়িত্বও তাদেরকে দেওয়া হয়।

কিয়োঅ্যানির অধীনে ২০০০ সালে Animation Do নামের একটি সাবসিডিয়ারি অ্যানিমেশন স্টুডিও তৈরি হয়, এই স্টুডিও কিয়োঅ্যানিরই একটি অংশ হিসাবে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে থাকে।

আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে কিয়োঅ্যানির রয়েছে অভূতপূর্ব সাফল্য। এই সাফল্য প্রমাণ করার জন্যে একটি মজার তথ্য দেওয়া যাক-

২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে কিয়োঅ্যানির চেয়ে বেশি সফল হতে পারে নি অন্য কোন স্টুডিও। এই সময়ের মধ্যে ২০টি সিরিজ রিলিজ দেয় কিয়োঅ্যানি, যার ১৮টিরই DVD-Bluray বিক্রয়ের সংখ্যা ৩০০০ ছাড়িয়ে যায়। শতকরা হিসাবে ৯০% সাফল্যের হার, যা ২য় স্থানে থাকা ৬৯% সাফল্য নিয়ে Shaft-এর সাথে পার্থক্যটা চোখে পরার মত!

2. 2005-2014 success

আনিমে স্টুডিও হলেও জাপানের তথাকথিত আনিমে স্টুডিও হতে কিয়োঅ্যানি অনেক আলাদা। এই আলাদাভাবে কাজকর্ম এগিয়ে নিয়ে যাবার কারণে তাদের সাফল্যের ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়-

  • আভ্যন্তরীণ কাজ: সবচাইতে বড় কারণ হল, কিয়োঅ্যানি তাদের সব কাজ আভ্যন্তরীণভাবে করে থাকে। ডিরেক্টিং, অ্যানিমেশন, রাইটিং – সবকিছু কিয়োঅ্যানি নিজেদের স্টুডিওর ভেতরেই করে থাকে। অন্যান্য আনিমে স্টুডিওগুলির ক্ষেত্রে যেখানে ডিরেক্টর কিংবা অ্যানিমেটর-এর জন্যে ফ্রিল্যান্স কিংবা অন্য কোন স্টুডিওর কাছে যেতে হয়, সেখানে কিয়োঅ্যানি সবকিছু নিজেরা নিজেরাই করে থাকে। আর এর সুফলও পায় কিয়োঅ্যানি – যেহেতু নিজেদের মধ্যেই সব কাজ হয়ে থাকে, তাই আনিমে প্রস্তুতকর্তাদের মধ্যে একটা ভাল যোগাযোগ থাকে। একজন আরেকজনকে ভালমত বুঝতে পারে, ঠিকমত জেনে যায় কে কেমন কাজ চাচ্ছে, কেমন ফলাফল আশা করছে।
  • অ্যানিমেশন স্কুল: অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে নিজেরা নিজেরা করবে – এই ব্যাপারটা নিয়ে কিয়োঅ্যানির এতই কড়াকড়ি যে তারা নিজেরাই একটি স্কুল খুলেছে যেখানে অ্যানিমেটরদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিয়োঅ্যানির Kyoukai no Kanata-এর প্রায় সবটুকু অ্যানিমেশনই কিয়োঅ্যানির সেই স্কুলের গ্র্যাজুয়েটদের করা।
  • পারিশ্রমিক: একটি বড় কারণ কিয়োঅ্যানির পেমেন্ট সিস্টেম। কিয়োঅ্যানি তাদের স্টাফদেরকে বেতন হিসাবে পারিশ্রমিক দেয়, যেখানে অন্যান্য স্টুডিওর ক্ষেত্রে  স্টাফদেরকে কমিশন হিসাবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এই কাজটা কিয়োঅ্যানির নিজেদের সাফল্যেরও একটা অন্যতম বড় কারণ, যেহেতু মাসিক বেতনের কারণে স্টাফরা নিজেদের কাজ ঠান্ডা মাথায় চিন্তাহীনভাবে করতে পারে। কোন এক আনিমে তৈরির জন্যে কাজে তাড়াহুড়া করা লাগে না, নিজেদের সময় নিয়ে সুন্দরমত কাজ শেষ করতে পারে।
  • অ্যানিমেশন প্রস্তুতি: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিয়োঅ্যানি তাদের কোন আনিমের অ্যানিমেশনের সব কাজ সিরিজটি টিভিতে প্রচার শুরুর বেশ আগেই প্রস্তুত করে ফেলে। এর ফলে তারা সময় নিয়ে অনেকরকমের ডিটেইলস নিয়ে কাজে লেগে যেতে পারে – যে কারণে কিয়োঅ্যানির সব সিরিজই দেখতে খুবই সুন্দর হয়ে থাকে।
  • LN প্রকাশণাস্বতন্ত্র স্টুডিও হিসাবে তাদের সাফল্যের আরেকটি বড় কারণ বিভিন্ন লাইট নোভেল প্রকাশনা। নিজেদের প্রতিষ্ঠান হতে প্রতিবছর একটি লাইট নোভেল কম্পিটিশনের আয়োজন করে তারা, এবং এখান থেকে উঠে আসা ভাল লাইট নোভেলের উপর ভিত্তি করে আনিমে বের করে তারা। এই ব্যাপারটি অন্য সব আনিমে স্টুডিও থেকে তাদেরকে অনেক উপরে নিয়ে রেখেছে একটি ব্যাপারে – কাজের নিশ্চয়তা। অন্যান্য আনিমে স্টুডিওগুলিকে কোন এডাপশনের জন্যে একধরণের নিলামে জিতে নিতে হয়, প্রতিপক্ষ স্টুডিওগুলিকে হারিয়ে দখল করতে হয় কোন LN, VN বা মাঙ্গা এডাপশনের অধিকার। এরকম কাজ না পেতে থাকলে এক সময়ে স্টুডিওটি বিলুপ্তির পথেও পরতে হতে পারে [খুব সাম্প্রতিক এমন ঘটনা দেখা হয়েছে Studio Manglobe-এর ক্ষেত্রে, বেশি কাজ না পেতে পেতে দেউলিয়া হয়ে যায় তারা]। কিয়োঅ্যানির এখানে সবচেয়ে বড় বাজিমাত – নিজেদের প্রকাশণা থেকে LN বের হয় বলে তাদের হাতে সবসময়েই কোন না কোন এডাপশনের সত্য থাকে, কাজ ফুরিয়ে যাবার চিন্তা থাকছে না আর [অবশ্য নিজেদের LN বাদেও বাইরের কোন LN থেকেও তারা এডাপশন নিয়ে আসে মাঝেমধ্যে, যেমন Amagi Brilliant Park, Hibike! Euphonium]। আবার এই সুযোগে নিজেদের LN-এরও বিজ্ঞাপন হয়ে যায় – সবদিক থেকেই Win-Win অবস্থা কিয়োঅ্যানির।
  • Visual Storytelling: কিয়োঅ্যানির একটি স্ট্রং পয়েন্ট হল ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং। একজন ন্যারেটর বা কোন ক্যারেক্টার কথার মাধ্যমে কোন ঘটনা কিংবা কারও চরিত্রের কোন দিক বুঝিয়ে দেওয়ার থেকে বরং দর্শকদেরকে চাক্ষুষরূপে একটা ঘটণা বা চরিত্রের দিক তুলে ধরা হল ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং। কোন ক্যারেক্টারের নরণ-চরণ, আচার-আচরণ, ইন্ট্যার‍্যাকশন, সিনেমাটোগ্রাফি ইত্যাদির মাধ্যমে কোন একটা ব্যাপার দর্শকদের অবচেতন মনে ঢুকিয়ে দেবার এই কাজটা কিয়োঅ্যানি অনেক ভালভাবে করতে পারে। যার জন্যে Moe চরিত্র দিয়ে আনিমে ভরিয়ে রাখলেও এবং কোন বিশেষ ঘটনা না থাকলেও একটা গল্প অনেক মন ছোঁয়ার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে কিয়োঅ্যানি।

এক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন আসে, কিয়োঅ্যানি এরকম সব পদক্ষেপ নিয়ে এত সফল হলে অন্যান্য স্টুডিও কেন এরকম করছে না?

  • ভাগ্য। কিয়োঅ্যানির সৌভাগ্য যে তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলি ঠিকমত সফল হতে পেরেছে।
  • কিয়োঅ্যানিও একসময়ে অন্যান্য স্টুডিওর মত কাজ করতো, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা Kadokawa-এর সাথে পার্টনারশিপে ছিল। এ সময়ে তারা বেশ কয়েকটি VN এর key adaption করে, নিয়ে আসে অন্যান্য প্রোজেক্টের এডাপশন যেমন Haruhi Suzumiya, Lucky☆Star ।
  • ২০০৯ সালে তারা এক বিশাল জুয়াখেলা খেলে। নিজেদের নামে একটি কম্পিটিশনের আয়োজন করে যাতে বিজয়ী LN-এর আনিমে আডপশন করবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এই প্রোজেক্ট সাফল্যের মুখ দেখতে পাওয়ায় পরবর্তীতে এই কন্টেস্টের এন্ট্রিগুলির মধ্য থেকে Chuunibyo, Tamako Market, Free! এর এডাপশন নিয়ে আনে কিয়োঅ্যানি।

কিয়োঅ্যানির কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

3. KyoAni Collage

কিয়োঅ্যানির এই সাফল্যের পথটার একটা ছোট্ট বিবরণ দেওয়া যাক-

  • ২০০৫ সালকিয়োঅ্যানির জন্যে বছরটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এই বছরই তারা নিয়ে আসে তাদের প্রথম VN adaption: Air. এয়ার আনিমেটি ছিল সেই সময়ের নতুন বাড়ন্ত Moe ট্রেন্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং একই সাথে VN adaptation-এর জনপ্রিয় হয়ে উঠার সময়ের অন্যতম এন্ট্রি। এয়ার আনিমেটি কিয়োঅ্যানিকে আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে শক্ত স্থানে নিয়ে আসতে সাহায্য করে।
  • ২০০৬ সালআরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বছর কিয়োঅ্যানির জন্যে, এ বছর তারা নিয়ে আসে তাদের ২য় VN adaption: Kanon. তবে ২০০৬ সালে কিয়োঅ্যানি স্পটলাইট কেড়ে নেয় যেই সিরিজটি দিয়ে তা হল The Melancholy of Haruhi Suzumiya. এমনিতেই হারুহি সুজুমিয়ার ফ্যানবেজ বেশ বড় ছিল তখন, তার উপর অল্প কয়েকটি আনিমে নিয়ে আসা কিয়োঅ্যানির জন্যে ব্যাপারটি ছিল অনেক বড় চাপের। বলাই বাহুল্য, চাপকে উড়িয়ে দিয়ে সাফল্যের মুখ দেখতে পায় তারা।
  • ২০০৭ সাল৩য় VN adaption নিয়ে আসে কিয়োঅ্যানি: Clannad, একই সাথে আরেকটি জনপ্রিয় Moe Comedy সিরিজLuckyStar নিয়ে হাজির হয় তারা। দুটি সিরিজই কিয়োঅ্যানির জন্যে ব্যবসাসফল ছিল।
  • ২০০৯ সালহারুহি সুজুমিয়া ফিরে আসে এই বছর, এবং নতুন সিরিজটির কুখ্যাত/বিখ্যাত Endless Eight-এর জন্যে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় কিয়োঅ্যানির উপর দিয়ে। কন্ট্রোভার্শিয়াল হয়ে থাকলেও সিরিজটির ব্লুরে বিক্রয় বেশ ভাল হয়। একই সাথে এই বছর থেকেই তারা LN এর পাবলিশার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে বছরটি কিয়োঅ্যানির জন্যে বিশেষ কিছু ছিল কারণ এই বছরেই তারা নিয়ে আসে K-On! যার ব্লুরে বিক্রয় সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়!
  • ২০১১ সালNichijou এই বছরে আসে, এবং এর ব্লুরে বিক্রয় ৩০০০ ছাড়ালেও তা কিয়োঅ্যানির জন্যে খুব বেশি ছিল না। তবে তারপরেও সংখ্যাটা অন্যান্য স্টুডিওর হিসাবে বেশ বড় একটা সংখ্যা।
  • ২০১২: পরবর্তী বছরগুলিতেও একই ট্রেন্ড দেখা যায়। Hyouka, Chuunibyo বেশ ভাল বিক্রয় হলেও কিয়োঅ্যানির জন্যে সেটা খুব বেশি ছিল না।
  • ২০১৩ সালTamako Market বেশ বড় ধরণের হতাশার কারণ হয় কিয়োঅ্যানির জন্যে। তবে এই বছরই এমন এক সিরিজ নিয়ে আসে কিয়োঅ্যানি যা তাদের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজে পরিণত হয়: Free!. সিরিজটি রিলিজ পাবার আগে থেকেই হিট হয়ে যায় একদম, আর এর ২য় অ্যাড মুক্তি পাবার পর তা একদম ভাইরাল হয়ে যায় নেটজুড়ে।
  • ২০১৪ সাল: বছরটা তেমন ভাল ছিল না কিয়োঅ্যানির জন্যে। Kyoukai no Kanata তেমন ভাল ব্যবসা করতে পারে না, আর Amagi Brilliant Park তার চাইতে অল্প কিছু ভাল ব্যবসা করতে পারে।
  • ২০১৫ সালHibike! Euphonium অনেকটা K-On ধাঁচের বানানোর চেষ্টা করা হয়, সিরিজটা বেশ জনপ্রিয় হয়।
  • ২০১৬ সালএ বছরে এই মুহুর্তে এয়ার হচ্ছে Musaigen no Phantom World, সিরিজটি নিয়ে এই মুহুর্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

কিয়োঅ্যানির কাজকর্মের ধরণ নিয়ে কয়েকটি মজার তথ্য-

  • Snarky Male Leads: কিয়োঅ্যানির আনিমেগুলিতে খামখেয়ালী, মুডি ধরণের নায়ক চরিত্র রাখবার একটা প্রবণতা দেখা যায়: Air-এর Yukito, Haruhi Suzumiya-এর Kyon, Kanon-এর Yuuichi, Clannad-এর Tomoya, Hyouka-এর Houtarou এবং কিছুক্ষেত্রে Free! এর Haruko ও Kyoukai no Kanata-এর Akihito.
  • Carbon-Copy: কিয়োঅ্যানির বিপক্ষে একধরণের নালিশ আছে যে তারা একই রকম দেখতে সব চরিত্র তৈরি করে থাকে। চুলের স্টাইল বাদ দিলে মুখের গড়ণ, চোখের স্টাইল, সবকিছু হুবহু একইরকমের হয়ে থাকে কিয়োঅ্যানির আনিমেগুলিতে।

4. Carbon Copy

শুধু তাই নয়, বরং তাদের আনিমের চরিত্রগুলির ডিজাইন দেখতে গেলে একটা মজার ব্যাপার দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের সময়টাতে তাদের সবগুলি সিরিজের চরিত্র দেখতে প্রায় একইরকম ছিল:

5. Evolution

  • Cute Girls Doing Cute Things: Moe চরিত্র, কোন প্লট বা গল্প নাই, খালি cute girls doing cute things – এরকম কারণ দেখিয়ে অনেক দর্শকই কিয়োঅ্যানির আনিমে দেখতে চায় না, তবে এই ট্রেন্ডটা এখন অনেক জনপ্রিয়। আর একে জনপ্রিয় করার পিছনে কিয়োঅ্যানিই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। Lucky☆Star, K-On!, Nichijou ইত্যাদি এই ধরণের আনিমে শুধু বড় সাফল্যই পায় নি কিন্তু, বরং পরবর্তীতে একই ঘরানার অনেক আনিমের জন্যে পথ দেখিয়ে গিয়েছে। Non Non Biyori, Gochuumon ধরণের সিরিজগুলি এই জাতীয় আনিমের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। অবশ্য এরকম আনিমে তৈরি করে কিয়োঅ্যানি যে পরিমাণ সাফল্য পেয়েছে অন্যান্য স্টুডিও তার খুবই সামান্য অংশ অর্জন করতে পেরেছে মাত্র!
  • 1st Doesn’t Win: কিয়োঅ্যানি ঘটা করে তাদের LN কন্টেস্ট আয়োজন করে থাকলেও সেখান থেকে আনিমে এডাপশন করার ক্ষেত্রে বিজয়ী এন্ট্রিকে তারা গ্রহণ করে নাই!! Chuunibyo, Kyoukai no Kanata, Free!, Musaigen no Phantom World – সব ক্ষেত্রেই যেগুলি আনিমে এডাপশন পেয়েছে তা হল কন্টেস্টের Special Mentionগুলি।

 

কিয়োঅ্যানির কাজ নিয়ে সমালোচনা যতই হোক, একটা জিনিস অবশ্যই মানতে হবে – তাদের তৈরি আনিমেগুলি বেশ ভালই সফল। তারা জানে কিভাবে জনপ্রিয় আনিমে তৈরি করতে হয়, এবং সেটাই তারা করে আসছে।

লাইট মিউজিক ক্লাবের পথচলা: K-ON!! Anime Review by ইশমাম আনিকা

জনরাঃ কমেডি, মিউজিক, স্কুল, স্লাইস অফ লাইফ
সিজনঃ ২ টি; সিজন ১- ১৩ এপিসোড, সিজন ২- ২৬ এপিসোড

আনিমে জিনিসটা কি, তা আমি প্রথম জানতে পারি এই আনিমেটি দেখে, কাজেই প্রথম দেখা আনিমে হিসেবে এটি আমার কাছে অনেক স্পেশাল। তবে অ্যানিম্যাক্সে দেখা প্রথম অ্যানিমে বলে শুধু নয়, কে-অন আমার কাছে স্পেশাল কারণ আমি আমার নিজের লাইফের সাথে এর প্রচুর মিল খুঁজে পাই।

পাঁচজন স্কুলপড়ুয়া বালিকার হাইস্কুল লাইফ নিয়ে এই আনিমের কাহিনী। জাপানের হাইস্কুলে স্টুডেন্টদের জন্যে ক্লাব জয়েন করা মোটামুটি বাধ্যতামূলক, তাই হাইস্কুলে ওঠার পর ইউয়ি তার জন্যে উপযোগী একটা ক্লাব খুঁজতে থাকে। এবং এই খোঁজাখুঁজি করতে গিয়েই তার সাথে দেখা হয় আনিমেটির বাকি চরিত্রগুলোর সাথে, যারা বিভিন্ন সিলি এবং কিউট কাজকর্ম করতে করতে একসময় দাড় করিয়ে ফেলে লাইট মিউজিকের এক চমৎকার ক্লাব।

কাহিনীটি খুবই সাধারণ, হাইস্কুলের এয়ারহেড বালিকাদের সিলি কাজকর্ম ছাড়া আনিমেটিতে আর কিছুই নেই। কিন্তু খুঁজে দেখলে আমাদের আশেপাশের দৈনন্দিন জীবনের সাথে আনিমেটির খুব মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। উয়ি এবং ইউয়ির আজব ছোটবোন-বড়বোন কম্বিনেশন, মিস সাওয়াকোর মত একইসাথে আদর এবং শাসন করা টিচার, বয়সে ছোট কিন্তু সবচেয়ে পরিণত আচরণের আজুনিয়ান- সবই দর্শকের মনকে ছুঁয়ে দিয়ে ঠোঁটে ফুটিয়ে তুলবে মৃদু হাসি। দেখতে দেখতে কখন যে ওদের সুখ দুঃখ হাসি কান্নার সাথে মিশে যেতে হয়, টেরও পাওয়া যায় না। আর অনুপ্রেরণার জন্যও আনিমেটি খুব চমৎকার।

1661718_264205767077270_244751108_n

প্রথম সিজনের আর্ট উল্লেখযোগ্য কিছু না, কিন্তু সিজন ২ এবং মুভির আর্ট ভয়াবহ রকমের সুন্দর। কে-অন এর কারনেই মূলত আমি কিয়োটো অ্যানিমেশন এর ফ্যান হয়েছি। আমি দেখা শুরু করেছিলাম সেকেন্ড সিজন এর মাঝখান থেকে, উজ্জ্বল আর্ট এবং মিউজিকগুলো নজর কেড়েছিল। কিন্তু সিজন ১ ও তাই বলে ফেলনা নয়, চরিত্রগুলোর বন্ধুত্ব এবং সবচেয়ে বড় কথা, লাইট মিউজিক ক্লাবের গড়ে ওঠার মজার দিনগুলি এখানে দেখানো হয়, যা খুবই এঞ্জয়েবল।

এয়ারহেড হাইস্কুল গার্ল দের সিলি কাজকর্ম দেখে শৌনেন ফ্যানদের বোরিং লাগবে জানি, তাই সচরাচর এটা আমি সাজেস্ট করিনা কাউকে, তবে যদি হালকা মেজাজের এবং মনকে শান্তি দেয়ার মত কোন হাসিখুশি অ্যানিমে দেখতে চান এবং মুচকি হাসতে চান, সেইসাথে মজার এবং মনকে ছুঁয়ে যাওয়া ওএসটি শুনতে চান, তাহলে কে-অনকে একটা চান্স দিতে পারেন।

Movie Time With Yami – 43

maxresdefault

Name: Tamako Love Story
Duration: 1 hr. 18 min.
MAL Score: 8.21
Ranked: 296
Genres: Comedy, Romance, Slice of Life

এই মুভিটি তামাকো মার্কেট নামক ১২ এপিসোডের আনিমেটির সিক্যুয়াল। আনিমে না দেখে থাকলে যদিও কাহিনী বুঝতে অসুবিধা হবে না, তবে আনিমেটি দেখা থাকলে ভাল, কারণ এতে পুরো মজাটা পাওয়া যাবে। বলা যায়, আনিমের কাহিনী এই মুভিতে শেষ হয়েছে।

বানি মাউন্টেনে সবার জীবন স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে চলেছে। সবাই নিজের নিজের জীবনে এগিয়ে যেতে ব্যাস্ত। তামাকো এবং তার বন্ধুদের হাইস্কুল জীবন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। জীবনের মোড়ে আরেকটি নতুন পথে পা বাড়ানোর জন্যে সবাই আস্তে আস্তে তৈরি হচ্ছে।

আর সবার মতই মোচিজৌ ও তৈরি হচ্ছে জীবনের পথ খুঁজে নিতে। তার ইচ্ছা টোকিও তে গিয়ে পড়াশুনা করবে। কিন্তু যাওয়ার আগে সে কোনকিছু অপূর্ণ রেখে যেতে চায় না। অত্যন্ত জরুরী একটা কাজ তাকে করে যেতে হবে। তার বাল্যবন্ধু তামাকোকে তার মনের কথাগুলো জানাতে হবে।

মুভিটির সবচেয়ে ভাল দিক হল, এটি আনিমেটির অসমাপ্ত কাহিনীটিকে বেশ সুন্দরভাবে শেষ করে। আনিমেতে তামাকোর বাল্যবন্ধু মোচিজৌ তেমন স্ক্রীনটাইম পায়নি, কিন্তু মুভিটিতে মোচিজৌ এর অনুভূতি, তামাকোর প্রতি তার ভাললাগা, তার দায়িত্ববোধ; সবকিছুই সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। মোটামুটি সবগুলো চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট হয়েছে, এটা আরেকটা ভাল দিক। তামাকোর কিউটনেস এবং এয়ারহেড স্বভাবেরও ডেভেলপমেন্ট হয়েছে, যা দেখে আরও ভাল লেগেছে!!! সেইসাথে প্রোপোজ সিনটা আমার খুব পছন্দের দৃশ্যগুলোর মাঝে একটি। কিয়োটো অ্যানিমেশনের চমৎকার আর্ট এবং মানানসই সাউন্ডট্র্যাক মুভিটিকে আরও সুন্দর করেছে। আর সেইসাথে দেরা চানের গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স তো আছেই!

তাই, তামাকো মার্কেট আনিমেটি দেখে নিয়ে এই মুভিটি দেখে ফেলুন, আর এয়ারহেড তামাকোর কিউটনেস উপভোগ করুন!!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Tamako-Love-Story

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 39

1245139452_1366x768_cute-pom-poko-wallpaper-for-computer

Name: Pom Poko / Heisei Tanuki Gassen Ponpoko
Duration: 1 hr. 51 min.
MAL Score: 7.45
Ranked: 1705
Genre: Kids

 

নাট্যকার মুনীর চৌধুরী তার রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে একটা কথা বলেছিলেন, “মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়।” কিন্তু এই বদলের প্রভাবে আমাদের আশেপাশের পরিবেশের কি অবস্থা হয়, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখি??

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে মানব সমাজ সব সময়ই নিজেদের ও আশেপাশের পরিবেশকে পরিবর্তন করেছে। জাপান এর টোকিও শহরও এর ব্যাতিক্রম নয়। নগরায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে পাহাড় কেটে রাস্তা বানানো হচ্ছে,,বনভূমি কেটে তৈরি হচ্ছে আবাদি জমি।

কিন্তু এতে অসুবিধায় পড়ছে বনে বসবাসরত জন্তু জানোয়ার। তাদের বাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, তাদের খাবার কমে যাচ্ছে। এরকম সংকটময় অবস্থা দেখে বনের একদল তানুকি ঠিক করল, তারা এই নগরায়ন প্রকল্প যে করেই হোক, বাধাগ্রস্ত করবে। তানুকিদের কাছে আছে এক বিশেষ ক্ষমতা, তারা নিজেদের শরীরকে যেকোন কিছুতে পরিণত করতে পারে। তারা এই ক্ষমতা ব্যাবহার করে শুরু করল মানুষের কাজে বাধা সৃষ্টি করা।

মুভিটিতে পরিবেশের ক্ষতি করার কুফল সম্পর্কিত একটি পরিস্কার বার্তা রয়েছে, তবে আমার মনে হয়েছে, আরেকটি খুব জরুরী বার্তা মুভিটিতে দেয়া হয়েছ, তা হল পৃথিবীতে কালের বিবর্তন এর সাথে পরিবর্তন আসবেই। সেই পরিবর্তনের সাথে যে যত তাড়াতাড়ি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে, ততই তার মঙ্গল হবে। বৃদ্ধ তানুকিরা এখানে বৃদ্ধ মানুষদের একটি রূপ, যারা পুরনো সংস্কৃতিকে আকড়ে ধরে রাখতে চায়, কিন্তু কালের কবলে তারাও একসময় পরিবর্তন মেনে নিতে বাধ্য হয়।

ডিরেক্টর হিসেবে তাকাহাতা ইসাও এর নাম সকল মুভিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত, তার চমৎকার পরিচালনায় মুভিটি হয়ে উঠেছে অসাধারণ। তানুকিদের হাসিখুশি দুস্টুমি, নাচগানের মধ্য দিয়ে উপভোগ্যভাবে একটি খুব গভীর বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে, যা মুভি শেষে সকলকেই ভাবিয়ে তুলবে। মুভিটির নামের সাথে কিয়োটো অ্যানিমেশন এবং স্টুডিও জিবলীর মত ভারী দুটি নাম রয়েছে, কাজেই আর্ট এবং গ্রাফিক্স বা সাউন্ডট্রাক নিয়ে সন্দেহ থাকার কোন অবকাশ নেই।

তাই হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে দেখে ফেলতে পারেন এই চমৎকার মুভিটি।

Movie Download Link-

http://kissanime.com/Anime/Pom-Poko

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

তামাকোর মোচিসমৃদ্ধ পৃথিবী; তামাকো মার্কেট রিভিউ – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tamako_Market

“কি করব, যখন হঠাৎ করে মনে হচ্ছে, আনিমু দেখে আরাম পাইতেসি না, ধাড়ুম ধুড়ুমের ঠেলায় মাথা ধরে গেল?”

দ্য আন্সার ইজ কিওঅ্যানি!!

দেখে ফেললাম কিয়োটো অ্যানিমেশনের আরেকটি চমৎকার কাজ “তামাকো মার্কেট”। মোচি প্রস্তুতকারী পরিবারের মেয়ে তামাকো। তার বাড়ি বানি মাউন্টেন শপিং ডিস্ট্রিক্ট এ, তাদের পারিবারিক মোচিশপের পেছনে। তামাকো ভালবাসে তার পরিবারকে, তাদের দোকানকে, তাদের এই শপিং ডিস্ট্রিক্টকে; আর সবচেয়ে বেশি ভালবাসে মোচি তৈরি করতে।

১২ পর্বের এ সিরিজটিতে পুরোটা সময়ই তামাকো এবং তার আশেপাশের মানুষদের প্রাণবন্ত দৈনন্দিন জীবনের উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরা হয়। হঠাৎ একদিন হাজির হওয়া রাজকীয় মোরগসদৃশ কথাবলা পাখি দেরা, দেরার হাস্যকর কাজকর্ম, তামাকোর বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে নতুন ধরণের মোচি তৈরির আইডিয়া, প্রতিবেশী বাল্যবন্ধু মোচিজৌর সাথে প্রতি রাতে কাগজের কাপ ফোনে কথা বলা, সেইসাথে তার বন্ধু এবং পরিবারের সাথে যে সুন্দর সম্পর্ক; সবমিলিয়ে যে কাউকে ভাবতে বাধ্য করবে, আমার জীবনটাও যদি তামাকোর মত হত!

অ্যানিমেটিতে বেশ কিছু মনকে ছুঁয়ে যাওয়া মূহুর্ত আছে, আবার মুড হালকা করে দেয়ার অনেক এলিমেন্ট আছে! কিওঅ্যানির আর্ট নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, প্রতিটা চরিত্রই পছন্দ করার মত। ওএসটি খুব চমৎকার, ওপেনিং এবং এন্ডিং সং- দুটোই মনে ছাপ ফেলে দেয়ার মত; আমার বেশি পছন্দ এন্ডিং সংটা।

সবমিলিয়ে বেশ রিফ্রেশিং একটা অ্যানিমে ছিল তামাকো মার্কেট, হালকা কোন অ্যানিমে দেখতে চাইলে তামাকোর সাথে ঘুরে আসতে পারেন বানি মাউন্টেন শপিং ডিস্ট্রিক্ট এ।

sam_1494scaled

 

Movie Time With Yami – 36

226651

Name: K-On! Movie
Duration: 1 hr. 50 min.
MAL Score: 8.39
Ranked: 161
Genres: Comedy, Music, Slice of Life

সাকুরাগাওকা হাইস্কুলে তৃতীয় বর্ষে পড়ুয়া চার বান্ধবী ইউয়ি, রিতসু, মুগি এবং মিও। তারা একই মিউজিক ক্লাবের সদস্য, তাদের সাথে এই ক্লাবে পাঁচ নম্বর একজন সদস্য আছে, যার নাম আজুসা। আজুসা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

ক্লাবের তৃতীয় বর্ষের সদস্যদের গ্রাজুয়েশন ডে ঘনিয়ে আসছে। তাই তারা সবাই মিলে ঠিক করে যে তারা একটি সুন্দর স্মৃতি তৈরি করার জন্যে গ্রাজুয়েশন ট্রিপ এ যাবে। বিভিন্ন মজার মজার পদ্ধতি অবলম্বনের পর তারা ঠিক করে, এ ট্রিপটির জন্য তারা লন্ডনে যাবে। লাইট মিউজিক ক্লাবের সদস্যদের লন্ডন ভ্রমণের আগে পরের বিভিন্ন মজার ঘটনা নিয়ে কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে।

কখনো কোন অ্যানিমে দেখে নষ্টালজিয়াতে ভুগেছেন? বা কোন অ্যানিমে দেখে মনে হয়েছে, এই অ্যানিমেটাতে আসলে আছেটা কি, ভাল লাগছে আসলে কেন? কেঅন ঠিক সেরকম একটা অ্যানিমে। পাঁচজন হাইস্কুল পড়ুয়া মেয়ের বন্ধুত্ব, তাদের দৈনন্দিন জীবন এবং মজার মজার কাজকর্ম যে কারও মনকে ভাল করে দিতে পারে। কিয়োটো অ্যানিমেশনের আর্ট আমার খুব বেশি পছন্দ, কাজেই কেঅনের আর্টওয়ার্ক আমার কাছে অতিরিক্ত ভাল লেগেছে। যেহেতু জনরাতে মিউজিক ট্যাগটা আছে, কাজেই এতে বেশ কিছু গান অবশ্যই থাকবে, সবকয়টা গানই চমৎকার, এর মাঝে “টেনশি নি ফুয়েতে ও” গানটি আমার অসম্ভব সুন্দর লেগেছে। কাহিনীর গতি কিছুটা ধীর, তবে তা বরং উপভোগের ক্ষেত্রে সহায়ক।

এ মুভিটি যদিও কেঅন নামের অ্যানিমেটির সিক্যুয়াল, কেউ যদি মুভিটি আগে দেখতে চান, তার কোনই অসুবিধা হবে না।

তাই, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে দেখে ফেলতে পারেন আমার অত্যন্ত পছন্দের এ চমৎকার মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/K-On-Movie

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Hyouka / Koten-bu Series রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

অ্যাডভেঞ্চার অথবা মিস্ট্রি জনরা চোখে পড়লে সাধারণত আমাদের মনে একধরণের ধারণা আসে, এই নভেলটির কাহিনী সেই ধারণার সাথে একেবারেই খাপ খায়না। কিন্তু তারপরেও, এই নভেলটি একটি নয়, বরং অনেকগুলো চমৎকার রহস্যের কাহিনী উপহার দিয়েছে পাঠকদেরকে।

প্রথমে কিছু তথ্য উপাত্ত দেয়া যাক-
Genres: Adventure, Mystery, School
Authors: Yonezawa, Honobu
Status: Publishing
Published: Oct 31, 2001
Score: 8.44
Ranked: 205 (MyAnimeList)

সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, হাইস্কুল জীবন হল একজন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। পড়াশোনা, খেলাধুলা, বন্ধুবান্ধব অথবা নতুন কোন অভিজ্ঞতা অর্জন- সবকিছু মিলিয়ে এই জীবনটার জন্য প্রচলিত কথাটি হল “Rose-coloured life”. এবং, ধরে নেয়া হয় যে, এই গোলাপ রঙা জীবনই যেকোন মানুষের সবচেয়ে আরাধ্য বস্তু।

কিন্তু কারও যদি এই রোজ কালারড লাইফ ভাল না লাগে? কারও যদি এই সবকিছুকে শুধু শক্তির অপচয় বলে মনে হয়, তাহলে তার জীবনকে কি বলা যায়? “Grey coloured”?

ওরেকি হোতারু নিজেকে তেমনই মনে করে। সে এই রোজ কালারড লাইফের প্রতি কোন আকর্ষণ অনুভব করেনা। এমন নয় যে সে যারা এভাবে জীবনযাপন করে তাদের অপছন্দ করে। তবে সে নিজে এসব থেকে দূরে থেকে নিজের শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে চায়, কারণ, নিজের সম্পর্কে তার নিজের বক্তব্য হল, সে একজন “Energy Saver”.

Hyouka-hyouka-33509469-1024-768

হোতারুর জীবনের motto হল, “If I don’t have to do it, I won’t do it, If I have to do it, make it quick”. যদিও এই ব্যাপারটা নিয়ে তার একমাত্র কাছের বন্ধু সাতোশি ঠাট্টা করার সুযোগ পেলে কখনো ছাড়েনা। সাতোশি নিজে হল ডেটাবেইস। পৃথিবীর যতধরণের তথ্য, সবই সাতোশির ঝুলিতে সযত্নে সংরক্ষিত থাকে। আর যেকোন কিছুতে বিশ্বাসযোগ্য ঠাট্টা করতে তার জুড়ি নেই। হোতারুর সম্পর্কে তার ধারণা, হোতারু নিজের ক্ষমতাকে ঠিকমত ব্যবহার করে না। করলে সে অনেক কিছু খুব সহজেই অর্জন করতে পারত।

এই নির্বিবাদ, শক্তি সঞ্চয়কারী হোতারুর জীবন পাল্টে দিল, বেনারস থেকে আসা একটি চিঠি।

হোতারুর বড়বোন তোমোয়ে হোতারুকে চিঠি পাঠায় একটি অদ্ভুত অনুরোধ (অথবা আদেশ) করে। হোতারুর বড়বোন হাইস্কুলের যে ক্লাবের সদস্য ছিল, সেই ক্লাবটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হবে। হোতারুর মত এনার্জি সেভারের জন্য এটা খুবই অপ্রয়োজনীয় একটি অনুরোধ, তাও বড়বোনের কথায় রাজি হয়ে হোতারু পা বাড়ায় ক্লাসিকস ক্লাবকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে।

কিন্তু ক্লাবরুমে পা দেয়ার সাথে সাথে হোতারুর জীবন ওলটপালট হয়ে যায়। কে জানত, স্পেশাল ব্লকের চারতলার শেষমাথার ঐ গোধূলীর স্নিগ্ধ আলোয় স্নান করা আলোকিত ঘরের কোনায় দাড়িয়ে থাকা এলিগেন্ট দেখতে বড় বড় কৌতুহলী চোখের শান্তশিষ্ট মেয়েটি এভাবে ঝড় তুলে দেবে ওরেকি হোতারুর জীবনে! কে জানত, এনার্জী কনসার্ভিং হোতারু একের পর এক কাজ করে যাবে চিতান্দা এরুর ইচ্ছায়, যা তার স্বভাবের পুরো বিপরীত! কি এমন আছে সেই মিষ্টি স্বরের “কিনিনারিমাস” এ?!

আমার মতে, নভেলটির একইসাথে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দুর্বল দিক হল এর ট্যাগ। আমি নিজে যখন প্রথম শুরু করেছিলাম, আমার এক্সপেকটেশন ছিল মিস্ট্রি জনরার অন্যান্য কাহিনীর মতই মাথা ঘুরিয়ে দেয়া এবং প্লট টুইস্ট যুক্ত কোন কাহিনী হবে এবং পড়তে গেলে প্রতিটা লাইন গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে ক্লু বোঝার জন্য। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা আসলে একেবারে উল্টো। একদম চিন্তাভাবনা ছাড়া হালকা মেজাজে যেকোন অবস্থায় পড়ার উপযোগী একটি নভেল এটি। প্রতিটা ক্যারেক্টারের নিজস্ব চার্ম আছে এবং আলাদাভাবে মনে ছাপ ফেলে দেবে। তাদের কথাবার্তা, কাজকর্ম নিজের অজান্তেই মনে একটা প্রশান্তির ভাব এনে দেবে। কিন্তু একইসাথে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বলে মনে হওয়া সমস্যাগুলো যখন খুব সহজে সমাধান হতে দেখা যায়, চমৎকৃত না হয়ে পারা যায়না।

এর একটা দুর্বল দিক হল, ট্যাগ দেখে এক্সপেকটেশন নিয়ে পড়তে শুরু করার পরে প্রথম কয়েকটা চ্যাপ্টার একটু ধীরগতির এবং বোরিং মনে হতে পারে, যদি আপনি ধীরগতির কাহিনীতে অভ্যস্ত না হন। কিন্তু যত কাহিনী যত এগিয়ে যাবে, পাঠককে এর ভেতরে তত বেশি টেনে নেবে, তা নিশ্চিত।
নভেলটির এ পর্যন্ত তিনটি ভলিউম ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে, তবে আশার কথা হল, এর অনুবাদ এখনো চলছে, তাই আশা করছি এটা সম্পূর্ণ অনূদিত হবে কোন একদিন।আরেকটা কথা না বললেই নয়, এর অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন প্রায় নিখুঁত। স্টোরিতে দুএকটা ছোটখাট পার্থক্য আছে, তবে দুটো থেকেই একইরকম আবহ পাওয়া যায়।

কাজেই, আমার মতে, সকলের জন্য, বিশেষ করে যারা কখনো লাইট নভেল পড়েননি, তাদের শুরু করার জন্য এ নভেলটি আদর্শ। যদি পড়ে না থাকেন তাহলে আজই পড়া শুরু করে দিতে পারেন।

বি. দ্র. – “হিওকা” এই নামটিই একটি বড় রহস্য।