Major [রিভিউ] — Rahat Rubayet

Major 2

এনিমেঃ মেজর 
সিজনঃ ৬ টা সিজন + ২টা এক্সট্রা এপিসোড (আরো কিছু আছে এদিক সেদিক)

অনেকদিন পর এনিমে দেখতে বসা। মানে শুরু করে শেষ করা আরকি। বেশ বড়সড় একটা সিরিজ। গড়ে ২৫ এপি ধরে ২৫*৬= ১৫০ এর কমবেশি।
বেশ আশা নিয়ে দেখতে বসা, যেখানে বেজবল নিয়ে এর আগে দেখা ২ টা এনিমেতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। সেদিকে না যাই।
প্রতি সিজনেই কত রকম কথা মনে হয়েছে যা রিয়েকশান হিসেবে লিখতে চেয়েছি, কিন্তু ৬ টা সিজন শেষ করে অনেক কিছুই মাথায় আসছে না।

>> মেজর-
মেইন ক্যারেক্টার এর নিজেকে ভাঙ্গা গড়ার এনিমে। বন্ধুত্বের ভিতকে আগলে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা নয়, বরং বন্ধুদের ক্রমাগত রাইভালে পরিনত করতে করতে এগিয়া যাওয়ার গল্প।
না, এই জায়গাটায় আমার কোন সমস্যা নেই- বরং ভালই লেগেছে গোরোর জার্নিটা।
>>মেইন ক্যারেক্টার কে কিছু এপিসোড পরে থেকেই পিটানোর ইচ্ছা দমন করে রেখেছি, কারন তা সম্ভব না। না, সে ইরিটেটিং ক্যারেক্টার মোটেই না। হিরো তো বটেই, চিৎকার করে ডান হাত বাম হাত দিয়ে যে কামানের গোলা ছোড়ে তাকে হিরো না বলে…. সে যাক।
ক্লিশে ব্যাপারে আমার খুব যে সমস্যা আছে তা না, বরঞ্চ মূল চরিত্রের এথলেটিক বডি বিল্ডিং টা বেশ করে দেখিয়েছে শুরুতেই।
কেন যেন থেকে থেকে মূল চরিত্রের সেলফ ডেস্ট্রাক্টিভ কাজকর্মে মেজাজ চড়ে গেছিল। (নিজেকে গোরোর বাবার চরিত্রে কল্পনা করেছি কি? হতে পারে, হতেই পারে)
এমন পোলাপানকে সকালে বিকালে ২ ঘা দেয়া দরকার।
যদিও অনেকের কাছে মনে হতে পারে, প্যাশনের জন্য নিজেকে উজার করে দেয়া, হ্যান-ত্যান….. পারসোনালি আমার তাকে পিটাতে ইচ্ছা করেছে।
যদিও, ছেলে ভালো, শুধু নিজের ভালমন্দ বুঝে না- এই আরকি।

Major 1

>> মেজর এনিমেতে একটা নির্দিষ্ট ডেথের ইন্সিডেন্ট খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছে। মানে আমার কাছে খুবই খুবই সুন্দর লেগেছে জায়গাটা। (মৃত্যুর আবার সুন্দর কি? মৃত্যু মানেই তো অসুন্দর)
মানে, কোন একটা ক্যারেক্টার এর ডেথ আর তাতে সবার প্রতিক্রিয়া বেশ নাটকীয় ভাবে উপস্থাপন ছিল। আমার ভাল লেগেছে।

>> অপেনিং সং ২ টা (২ নং আর ৬ নং) বেশ, বেশ……বেশ ভালো লেগেছে। এখনো Saraba Aoki Omokage লুপে চলছে। লুপে চলার মতন?
কম্পোজিশন, লিরিক আর মূলভাব যদি ঠিকমতন ফুটে ওঠে, তখনই এমন সাউন্ডট্র্যাক পাওয়া যায় কেবল।
লিরিকের কয়েকটা লাইন দিই এখানে যেটা এনিমের ভেতর এমন ট্রান্সলেশনে পাবেন, কিন্তু গুগলে সার্চ দিলে দায়সারা ধাচের ট্রান্সলেশন।
what should i see, when i close my eyes?
will surely be- shining you there.
let your passion rise now,
until your despair becomes hope
get yourself fired up with a golden vow
you can face a challenge without end

>> মেজরের ফিমেইল ক্যারেকটার প্রায় সবগুলো কেই ভালো লেগেছে শুধু শিমিজু আর তার বান্ধবী বাদে। তার বিশেষ টোনে ‘হোন্দা’ বলে চুপসে যাওয়াটা বোধহয় একমাত্র ভাল লাগার দিক।
সবথেকে ভালো লেগেছে বোধহয় Ryoko , Momoko আর Sophia কে।
আর কেন যেন, সোফিয়ার মাঝে হালকা রকমের নাচ্চানের(বেবি স্টেপ্স) ছায়া পেলাম। আচার ব্যবহার+ চেহারা সুরতে মিল আছে সম্ভবত।

>> মেজর বোধ হয় একমাত্র এনিমে আমার জন্য, যেই এনিমের মূল ক্যারেকটার কে মাটিতে পরে যাবার জন্য বারবার প্রে/উইশ করছিলাম।
সিরিয়াসলি!
‘অমুক দলে’র বিপক্ষে ‘অমুক ম্যাচে’ বারবার করে চাইছিলাম – ‘ব্যাটা পর, পরে হস্পিটালাইজড হ, আর সহ্য করা যাচ্ছে না’
>> গিবসন
গিবসন আর গোরো সম্ভবত যুগ্মভাবে আমার পছন্দের চরিত্র এই এনিমেতে।
কেন? দেখলেই বুঝবেন।
>> কোন খারাপ দিক নেই?
আছে, প্রচুর আছে। যেমন সময়ে সময়ে বোরিং লাগতে পারে অনেকের কাছে (আমার লাগে নি মোটে)। ক্লিশে ব্যাপার এর ঘাটতি খুব একটা ছিল না।
তবে, অমুক তমুক এনিমের মতন, মেইন ক্যারেক্টারের সবকিছু জিতে ফেলার মতন ঘটনা ঘটে নি।
>> একটা জিনিষ বলা দরকার।
অনেক অনেক এনিমেতে দেখা যায় অনেক এপিসোড খরচ করে মূল চরিত্রের ছোট থেকে বড় হওয়াটা দেখায় (যদিও আরো অনেক বিষয় থাকে- মানা করছি না), কিন্তু মেজরে ১৫০ এপিসোড যদিও অনেক, তবু এর মাঝেই প্রধান চরিত্রের এত পরিবর্তন যা আবার দৃষ্টিকটু লাগে নি- প্রশংসনীয়।

আর হ্যাঁ, মেজর বোধ হয় যারা ধুম ধারাক্কা থ্রিলিং স্পোর্টস এনিমের খোঁজে আছেন, তাদের চাহিদা মেটাবে না।
পছন্দের স্পোর্টস এনিমে লিস্টে ৩ বা ৪ এ থাকবে মেজর। সিজন ৭ এর অপেক্ষায় রইলাম।

অনেক কিছু বলার ছিল, আঙ্গুলে ঝাল আর শীতে স্থবিরতা এনে দিয়েছে, এই পর্যায়ে।

Major 3

অনন্য মাঙ্গা আসর – ১ (Major)

এনিমে বের হয়েছে,নিউ সিজন,এই এনিমের গ্রাফিক্সের কাজ,কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তা নিয়ে মাতামাতি,আলোচনার অন্ত নেই।অথচ যেই মেধাবী শিল্পীদের হাতে তৈরি মানগা হতে এনিমের এডপ্টেশন হয়,তারা গুরুত্ব পান বটে,তবে মানগা পড়ার প্রতি আকর্ষণ কম।অথচ মাঙ্গাতে কাহিনীর সুসজ্জিত বিবরণ আর সুন্দর উপস্থাপনা পাওয়া যায় যার অনেকাংশ এনিমেতে কেটে ফেলে দেওয়া হয়।

তাই,গ্রুপে মানগা নিয়ে আলোচনা করা হয় মাঝে মধ্যে,একটু আধটু।তাই মানগা পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে মানগার প্রতি ফ্যানডম এর প্রসারে হাজির হলাম “অনন্য মানগা আসর” নিয়ে। অনেক শ্রদ্ধেয় সেনপাইরা অনেক মানগা পড়েছেন,জানেন অনেক কিছু। তাই যেকোন ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর ১৮ বছরের ছোট্ট জীবনে নিয়মিত কিছু করতে পেরেছি বলে মনে পড়ে না,তাই এই সেগমেন্টের কোন নিয়মিত ডেটলাইন দিতে পারছি না।

আজকের মানগা মেজর। স্পোর্টস সিরিজ নিয়ে আলোচনায় স্লামডাঙ্ক,কুরোকো,হাজিমে নো ইপ্পো,ক্রস গেম,এইস অফ ডায়মন্ড ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হলেও এই মাস্টারপিস নিয়ে তেমন আলোচনা পাই নি। তাই আজকে কথা হোক Major নিয়ে।

magur

গোরোউ হোন্ডা নামের এক কিন্ডারগার্টেন পড়ুয়া ছেলের বেসবল খেলার আদ্যোপান্ত গল্পের মূল অংশ। এদিক দিয়ে উপরোক্ত যেকোন স্পোর্টস সিরিজের মধ্যে ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্টের ব্যাপারে এটা চ্যাম্পিয়ন। কিন্ডারগার্টেন এর প্লেগ্রাউন্ড থেকে ডিস্ট্রিক্ট ,ডিস্ট্রিক্ট থেকে ন্যাশনাল এভাবে মারাত্নক উদ্দীপনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই মাঙ্গাটি। আর্টের ধরন ভালো কি না বলব না,বরংচ বলি এথলেটিক। খেলার মাঝে কি হচ্ছে তা বোঝার জন্য আর্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

অনেকেই বলেন মেইন ক্যারেকটার এর খেলা শেষ হয়ে গেলে গল্পও শেষ,এটা তাদের পছন্দ না।তাদের জন্য একট ছোট্ট ——- স্পয়লার (((((হোন্ডার পর হোন্ডার ছেলেকেও দেখতে খেলায় দেখতে পাবেন এখানে))))))

মানগা প্রথম সিজনে ৭৮ টি ভলিউম আছে। কিন্তু সিজন ২ এখনো অনগোয়িং…

রচয়িতা- তাকুয়া মিতসুদাজেনরা – কমেডি,শোউনেন,স্পোর্টস MAL রেটিং- ৮.৩৯খেলাগুলোর মধ্যে সেইশুর সাথে ম্যাচ আর বেসবল বিশ্বকাপ এর ম্যাচগুলো উল্লেখ করার মত। মাঙ্গাতে খেলাগুলোর উপস্থাপন ভালো হলেও এনিমেতে স্পোর্টস থিমের চেয়ে শোউনেন বা ইন্টিমিডেটিং কিছু দৃশ্য দেওয়া হয়েছে যা মাঙ্গাতে নাই।মেজর মাঙ্গাতে ধাপে ধাপে বেসবল বিশ্বকাপ,মেজর লিগ,হাইস্কুল টুর্নামেন্ট এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে স্পোর্টস এর আসল থিম বা চেতনাকে।

সবচেয়ে মজার বিষয় ক্লাবের নয় দেশে দেশের মধ্যকার খেলাও রয়েছে এই মাঙ্গাতে। আরো আছে সলিড ডিটেইলিং যা খেলার উত্তেজনা বারিয়ে দিয়েছে।শিগেহারু,হোশিনো সেনসেই,সাতো এবং শিমিজুর মত কিছু চরিত্র থাকায় মানগাটির চরিত্রে বৈচিত্র্য ও চোখে পড়ার মত।আলোচিত এক চরিত্র হল জো গিবসন। মাঙ্গাটি পড়লেই বুঝতে পারবেন Major না পড়লে ওনেক কিছু মিস ;-)আজকের মত মাঙ্গা আসর এ পর্যন্তই থাকুক…সামনে ভালো কোন মাঙ্গাতে নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে।লেখা লম্বা করলাম না,কারন তাতে স্পয়লার মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে।মানগা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন 🙂

Short review of Major by Farsim Ahmed

 

দেখলাম মেজর, যেটাকে বলা হয় বেসবলের উপরে সেরা আনিমে, ভাবলাম তার উপরে একটা শর্ট রিভিউ লিখে ফেলি।

বিশাল সিরিজ, ৬ সিজন, ২৬*৪+২৫*২=১৫৪ পর্ব।

এর অনেক সমালোচনা করব, কাজেই আগে কিছু ভালো ভালো কথা বলে নেই।

মূল চরিত্র গোরো শিগেনো, বেসবলের মহা ভক্ত। বেসবল অবশ্য তার রক্তেই, তার বাবা জাপানের একজন প্রো বেসবল খেলোয়াড়, যে ইনজুরির কারনে পিচার থেকে ব্যাটার হয়ে গেছে। গোরোর বাবার অসাধারণ কীর্তি হল আমেরিকার মেজর লিগ প্লেয়ার গিবসনের ১০০ মাইল/ঘণ্টা বেগের এক বলকে আছড়ে স্ক্রিনের উপর ফেলে হোম রান করা। কিন্তু সেই ম্যাচেই এক দুর্ঘটনার কারনে বিলম্বিত মৃত্যু হয় ভদ্রলোকের, আর গোরো বড় হতে থাকে পালক মায়ের কাছে, তার লক্ষ্য গিবসন আর তার বাবার মতো অসাধারণ খেলোয়াড় হওয়া।

প্রমিসিং সেটিং, বেশ ভালো ভালো কিছু ম্যাচ আছে, বাচ্চা ছেলের ছোটবেলা থেকে বড়বেলা পর্যন্ত কঠোর সংগ্রামের ছবি আছে, আছে একটুআধটু রোমান্স, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক, মোটামুটি স্পোর্টস জন্রার ফ্যানরা যা চায়, সবই আছে এতে। আমারও বেশ ভালো লাগতে পারত, যদি না পুরো ব্যাপারটাকে একঘেয়ে মনে হত। খুলে বলি।

বেসবল আমার কাছে কোন পছন্দের খেলা না, কিভাবে স্কোরিং হয় তাও ভালমত বুঝি না, তবে মোটামুটি এটুকু ধারনা পেয়েছি যে একজন পিচার শুধু ফাস্টবল নিয়ে অনেক দূরে যেতে পারে না। কাহিনীর নায়ক আমেরিকায় মাইনর লিগ খেলে ফেলল কোন ভ্যারিয়েশন ছাড়া শুধু ফাস্টবলের উপরে ভিত্তি করে, ব্যাপারটা কেমন জানি লাগল।অবশ্য মেজর লিগ খেলতে গিয়ে সে ফর্কবল শিখেছে।

সাধারণত পিউর স্পোর্টস জন্রার আনিমে হয় না, সেখানে অন্য কিছু এলিমেন্ট বেশ ভালো পরিমানেই থাকে, যেমন রোমান্স[ক্রস গেম], কমেডি[প্রিন্স অব টেনিস], স্কুল লাইফ[বেবি স্টেপস], গ্যাম্বলিং[ওয়ান আউটস] ইত্যাদি। এসব এলিমেন্ট মেজরে তেমন একটা নেই, রোমান্টিক পর্ব হাতে গোনা, মোটে দুয়েকটা। সেজন্য পুরো ব্যাপারটা পানসে হয়ে গেছে, একই জিনিস বারবার।

এবং এবং এবং, সবচেয়ে বড় যে সমস্যা, সেটা হল মূল চরিত্র নিজে। সে মারাত্মক প্রতিভাবান, দুর্দান্ত পিচার, ফিল্ডার, ব্যাটেও ভালো। একই সাথে সে হচ্ছে মহা হিপোক্রেট, স্বার্থপর, ঘাড়ত্যারা, হিপোক্রেট[হ্যাঁ, দুবার বলেছি, জানি।] সে তার টিমমেটদের বলছে আমরা নাকামা হ্যান ত্যান, এর পরের মুহূর্তেই তার কাজে বোঝা যাচ্ছে এই “নাকামারা” তার কাছে স্রেফ স্টেপিং স্টোন। সে ফ্ল্যাশি, জেদি, একগুঁয়ে, দলের ভালো না ভেবে বরাবরই নিজের ভালো ভাবে। ফ্র্যাঙ্কলি, এত বড় আনিমেতে আমি ভালো লাগার মতো ক্যারেক্টার পেয়েছি মোটে দুটো, কীন[মেম্ফিস ব্যাটস এর ক্যাচার] আর গিবসন। অন্য ক্যারেক্টারগুলকে খুব শ্যালো মনে হয়েছে।

অভারঅল রেটিং ৮, তাও অনেক রাউন্ডিঙ আপ করে।
ম্যাল রেটিং অবশ্য বেশ ভালো, ট্রাই করে দেখতে পারেন।