Monster [রিভিউ] — Ripon W. Mahmud

Monster

Monster: Not just some artwork. A huge suspenseful creation of drama and thrill combined with uncertainty.

ছোটবেলায় রূপকথার গল্পের বইয়ে নানা রকম দৈত্য দানবের কথা পড়ে আমরা বড় হয়েছি। না খেতে চাইলে, কোন কথা না শুনলে আমাদেরকে দৈত্য দানোর ভয় দেখানো হত। বেসিক হিউম্যান ইন্সটিংক্ট আমাদেরকে ছোটকালেই সাবধান করে দিয়ে অনুগত ভদ্রটি হতে বাধ্য করতো। কেন? কী এই দৈত্য দানব?

বড় হয়ে জানলাম আসলে এগুলো সব ভুয়া ছিলো। দৈত্য দানব বলতে আমাদেরকে যে ইমেজারি চিন্তা ভাবনায় ফেলা হতো তা এক্সিস্ট করেনা। শৈশবের দানো গেল। এবার ম্যাচুরড কংক্রিট রিয়েলিটিতেও আমাদের ভয় পেতে হয়। সেই দৈত্য দানবের ভয় আবার ফিরে আসে। কীভাবে? এই দৈত্য দানবের বড় বড় শিং বা চোখা ছুরির মত দাঁত নেই। তারা মানুষের মতই হাত পা নাক চোখ কান নিয়ে আমাদের চারপাশেই বসবাস করে। কিন্তু তাদের ধ্বংসাত্মক চিন্তাভাবনা ও কার্যকলাপের কারণে কখনও কখনও দানবের পর্যায়ে তাদের ফেলা যায়।

Monster অ্যানিমে নিয়ে লেখার ইচ্ছে হল। চাইলে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু তা না করে যারা এখনও দেখেনি তাদের জন্যে কীভাবে গুছিয়ে বলে দেয়া যায় তার চেষ্টাই করব। এই সিরিজটা অনেকগুলো টুকরো টুকরো ইভেন্ট ও আইডিয়োলজির মিশেল। যেখানে কেন্দ্রে বসে থাকা নামহীন এক দানবের গল্প আমাদেরকে নিশ্চিতভাবেই পুরো ৭৪টা পর্ব দেখতে বাধ্য করবে।

অ্যানিমেটা দেখতে দেখতে ডার্ক নাইট ট্রিলজিতে আলফ্রেড পেনিওয়ার্থের একটা কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো। Some men just want to watch the whole world burn. তাদের কোন কারণ লাগেনা, কোন উদ্দেশ্য লাগেনা অ্যানার্কি সৃষ্টি করতে। তবে শেষবেলায় কাইবুতসু ইয়োহান লিবের্তের উদ্দেশ্যটা একটুখানি ভিন্ন লাগে বৈকি। সাইকোলজিক্যাল ড্রামার এক চমৎকার এক্সাম্পল এই অ্যানিমে।

অ্যানিমেটার টাইমলাইন একটু বেশিই গভীর। কোল্ড ওয়ার রেফারেন্স, ঐসময়কার ব্ল্যাক ভার্সাস হোয়াইট ওয়ার/রেসিজম, বার্লিন ওয়াল ও দুই জার্মানির প্লট রিলেশনগুলো বুঝতে গেলে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। কে, কেন, কোথায়, কীভাবে, কখন এই টার্মগুলো মাথায় রেখে বুঝে বুঝে এগোলে সিরিজটার পুরোটা নেয়া সম্ভব। কিন্তু আমি মাঝে মাঝেই ইন্ট্রা-পারসন ইন্সিডেন্ট, প্লেস, টাইম আর অব্জেক্টিভিটির খেই হারিয়েছি ব্যস্ততার জন্য বা একটানা না দেখার কারণে। একটানা এবং এর মাঝে অন্য কিছু না দেখে শুধু কেনজো তেনমা, ইয়োহান লিবের্ত, নিনা ফোর্তোনার, ইন্সপেক্টর লুঙ্গের সাথে বুঝে বুঝে এগোলে ভাল হয়। এরা তাদের মাথার ভেতরে কোথায় কী হচ্ছে কেন হচ্ছে কী হতে পারে সে বিষয়ে সম্যক ধারণা দিয়ে দিয়ে নিয়ে যাবে মন্সটারের গভীর থেকে গভীরে।

মিনিট ডিটেইল যাকে বলে এই অ্যানিমে সিরিজ তার ষোল আনাই তুলে ধরেছে। কোথাও এতটুকু ঢিলেঢালা ভাব নেই। সাইকোলজিক্যাল ড্রামার যে পরিবেশ তার অলমোস্ট শতভাগ, প্লট টুইস্ট আর চেঞ্জিং এর গতিটা বজায় রেখে মাঝেমাঝে মাথা খারাপ করে দেবার জোগাড় করে দেবে এই অ্যানিমে। কেন? যখন দেখা যাবে যে চারপাশে এক দানবের অঙ্গুলি হেলনে কেবল অনাসৃষ্টিই হচ্ছে! কিন্তু কি তার উদ্দেশ্য, কী তার আদর্শ, কেন সে পর্দার আড়ালে থেকে সব করে যাচ্ছে এমন শত প্রশ্ন মাথার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

যখন কোন একটা ক্রিয়েশন মাঝপথে অসম্ভব ভালো লাগার পরিবেশ তৈরি করে তখনই একটা সন্দেহ জাগে যে এর সমাপ্তি বা এন্ডিং কেমন হবে। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট হবেতো? শেষে আবার কেলো করে দেবেনাতো? না। এন্ডিং ভালোই। ইনসেপশনে নোলান যেমন শেষে একটা ধাঁধা লাগিয়ে শেষ করেছেন, এই অ্যানিমেও অনেকটা সে রাস্তায়ই হেঁটেছে। তবে ভাল একটা ড্রামা থ্রিলারের বৈশিষ্ট্য হল ভিউয়ার যেন আগে থেকে অনুমান করতে না পারে যে কী হবে। ধাক্কাটা খায় সেভাবেই প্রি কন্সেপশনকে বুড়ো আঙুল দেখানো সিরিজ এটা। ইয়োহান লিবের্তের অত মায়ামাখা মুখ দেখেও অত আইডিয়া করে নেবার কিছু নেই। গুরু উচিহা ইতাচি বলে গেছেন – Do not judge others simply by their preconceptions, and judgement based on their appearance.

ম্যাচুরড এবং খুব অ্যাট্রাক্টিভ একটা সিরিজ। যার কয়েকটা রোল নিয়ে রীতিমত কিছুদিন ভাবা যায়। চিন্তা করা যায়। অনেক দেরি করে দেখার জন্য আফসোস নেই তবে আরেকবার নোটখাতা হাতে নিয়ে দেখার ইচ্ছে আছে। এই সিরিজটা নিয়ে বিবিসি বা নেটফ্লিক্স কিছু একটা করলে ভাল হত। ড. তেনমা আর ইয়োহান লিবের্তের দ্বৈরথটা অন্যভাবে দেখতে পেতাম।

মাঙ্গাকা কথন – ০১

উরাসাওয়া নাওকি

1

উরাসাওয়া নাওকির নাম শুনলেই যে জিনিসটি আমাদের চোখের সামনে ফুটে উঠে তা হল “মনস্টার”। মূলত সে তার মনস্টার মাঙ্গার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কিন্তু মনস্টার ছাড়াও তার লেখা অনেক উল্লেখযোগ্য মাঙ্গা রয়েছে। তো তার কাজ সম্পর্কে পরে জানছি। তার আগে চলুন তার সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে আসি।

উরাসাওয়া নাওকির জন্ম ০২ জানুয়ারি, ১৯৬০ সালে। খুব ছোটকাল থেকেই তার মাঙ্গাকা হয়ার স্বপ্ন ছিল। যখন তার বয়স পাঁচের ঘরে, তখন থেকেই সে ওসামু টেজুকার আঁকা বিভিন্ন চিত্রকল্প নিজে নিজে আঁকার চেষ্টা করত। এছাড়া তার আঁকা-আকি করার অনুপ্রেরণার জেগেছিল ফরাসি চিত্রশিল্পী মবিয়াসের কাজগুলো দেখে। এভাবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার মাঙ্গা আঁকার প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। কিন্তু জীবনের এক পর্যায়ে এসে সে হতাশায় ভুগে তার মাঙ্গাকা হয়ার স্বপ্নকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে সে “মেইসেই বিশ্ববিদ্যালয়” থেকে ইকোনমিক্সে ডিগ্রি লাভ করে তার শিক্ষাজীবনের অবসান ঘটান। ঠিক তখনকার ঘটনা, হটাৎ একদিন মাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রির একজন এডিটর এসে তার সাথে যোগাযোগ করেন। সেই এডিটর আগে থেকেই উরাসাওয়ার প্রকাশিত কিছু চিত্রকল্প দেখেছিল। আর সেখান থেকেই তার উরাসাওয়ার সাথে কাজ করার প্রতি উৎসাহ জাগে। উরাসাওয়া চিন্তা ভাবনা করে তার প্রস্তাবে রাজি হয় এবং ১৯৮১ সালে Return ও ১৯৮৩ সালে Beta!! নামক এই দুইটি ওয়ান-সট পাব্লিশ করার মধ্য দিয়ে ‘মাঙ্গাকা জগতে’ উরাসাওয়ার যাত্রা শুরু হয়।

2

উরাসাওয়া ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাঙ্গাকা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা মাঙ্গাকা বলা হয়ে থাকে এবং তার কাজগুলো মাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুনত্বের প্রভাব ফেলেছে। সে তার মাঙ্গাকা ক্যারিয়ারে রোমান্টিক-কমেডি, স্পোর্টস, থ্রিলার, মিষ্টেরি, সাইকোলজিক্যাল, সাই-ফাই সহ বিভিন্ন ধরণের জনরা নিয়ে কাজ করেছে। Monster এর পাশাপাশি তার আরেকটি নামকরা মাঙ্গা রয়েছে আর তা হল 20th Century Boys। আবার সে ওসামু টেজুকার সাথে Pluto নামক মাঙ্গা নিয়েও কাজ করেছে। এছাড়া তার অন্যান্য কাজগুলোর মধ্যে Yawara!, 21st Century Boys, Master Keaton, Master Keaton Remaster, Happy!, Billy Bat এগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া NASA, Dancing Policeman, Jigoro!, Pineapple Army ও Shoki no Urasawa নামক কিছু ছোট মাঙ্গাও রচনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে সেরা কাজগুলো হল Monster, 20th Century Boys এবং Pluto। পার্সোনালি আমার কাছে তার Monster ও 20th Century Boys এই মাঙ্গা দুইটি সবচেয়ে ভাল লেগেছে। Big Comic Original ও Big Comic Spirits ম্যাগাজিন দুইটি দীর্ঘদিন ধরে তার প্রকাশিত মাঙ্গাগুলোর এক বিশাল অংশ পাব্লিশ করে এসেছে।

এখন পর্যন্ত উরাসাওয়ার প্রকাশিত Yawara!, Master Keaton এবং Monster এই তিনটি মাঙ্গা এনিমে অ্যাডাপটেড হয়েছে। এছাড়া তার 20th Century Boys মাঙ্গাটি ৩ পার্টের লাইভ-অ্যাকশান মুভি হিসেবে অ্যাডাপটেড হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে তার মনস্টার মাঙ্গার টিভি সিরিজ অ্যাডাপশনও হতে পারে (http://goo.gl/iIv7uj)। আর উরাসাওয়া নিজে Tibet Inu Monogatari নামের একটি এনিমে মুভির ক্যারেক্টার ডিজাইনেও কাজ করেছেন।

উরাসাওয়া নাওকির কাজগুলোর মধ্যে এক ধরণের বিশেষত্ব রয়েছে। তার সব কাজগুলো বাস্তবধর্মী এবং গভীরভাব সম্পন্ন। বিশেষ করে তিনি থ্রিলার-মিস্টেরি মাঙ্গা খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারে, আর তার বাস্তব উদাহরণ হল তার Monster ও 20th Century Boys মাঙ্গা। সে তার কাজগুলোর জন্য এখন পর্যন্ত তিনবার “সোগাকুকান মাঙ্গা অ্যাওয়ার্ড”, দুইবার “টেজুকা ওসামু কালচারাল প্রাইজ” এবং একবার “কোদানসাহ মাঙ্গা অ্যাওয়ার্ড” পেয়েছে।

3

উরাসাওয়া নাওকি কিন্তু মাঙ্গাকা ক্যারিয়ারের পাশাপাশি একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সে “বব লেনন” স্টেজ নামে “কেঞ্জি নো উতা” নামের একটি গানও রচনা করেছেন (https://goo.gl/3KxP7y)। তিনি ২০১২ সালের জাপান এক্সপোতে “হেমেনওয়ে” নামের এক রক ব্যান্ডের সাথে লাইভ পারফর্মও করেছেন (https://goo.gl/SqBm6B)। আর তার শিক্ষাকতার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৮ সালে “নাগোয়া জোকেই” বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট-টিচার হিসেবে। সেখানে তিনি মাঙ্গা নিয়ে একটি কোর্সের উপর শিক্ষকতা করেন।

“উরাসাওয়া নাওকি” মাঙ্গা জগতের এক অনবদ্য নাম। তিনি যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে তার কাজগুলোর মাধ্যমে বেঁচে থাকবে। বর্তমানে সে তার Billy Bat মাঙ্গার কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। আশা করি, তিনি ভবিষ্যতে আমাদের আরও অনেক দারুন দারুন মাঙ্গা উপহার দিবেন।

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৯: Monster — Adnan Shafiq Ricky

“এনিমখোর রিভিউ কন্টেস্ট [২০১৫] – বিশেষ পুরস্কার অধিকারী এন্ট্রি”

————————————————————————————————————-

এনিমে : মনস্টার ( Monster )
মাঙ্গাকা : নাওকি উরাসাওা
জনরা : মিস্ট্রি , ড্রামা , হরর , সাইকোলজিকাল , থ্রিলার , সেইনেন
পর্ব সংখ্যা : ৭৪
মাই এনিমে লিস্ট রেটিং : ৮.৭৫

প্রায়শই এনিমেতে খুঁজে পাওয়া সকল কল্পকাহিনীর অতিমানবীয় শক্তি ও অতিপ্রাকৃত ঘটনা থেকে অনেক দূরে ,”মনস্টার”  হচ্ছে বাস্তবতার নিরিখে গড়ে ওঠা এক শিহরণ জাগানো কাহিনী । জোরপূর্বক মানুষের মনস্তাত্ত্বিক গঠন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা  , একজন সোসিওপ্যাথের মনজগতের চিন্তাভাবনা  , অশুভ সবকিছুর উৎস ও মানব জীবনের প্রকৃত মূল্য এর মত কিছু অস্বস্তিকর বিষয় এইখানে বেশ ভয়ংকরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পাওয়া যায় । সকল অশুভ শক্তির এক মূর্তিমান প্রতীক, এক মানবরূপ দানবের বিরুদ্ধে নিজের মনুষ্যত্ব বজায় রেখে এই দুনিয়ার যা কিছু নষ্ট তা ঠিক করার জন্য সংগ্রামের এক ব্যাতিক্রমধর্মী , রহস্যময় , রোমাঞ্চকর এক গল্প “মনস্টার” ।

 

কাহিনী : ( ৯/১০)

সময়কাল আশির দশকের মাঝামাঝি, পশ্চিম জার্মানি । আইসলা মেমোরিয়াল হাসপাতালে কর্তব্যরত দক্ষ নিউরোসার্জন , ডাক্তার কেনজো টেনমা, আমাদের গল্পের মুল নায়ক । এক সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি , হাসপাতাল পরিচালকের অনুগ্রহ   এবং বাগদত্তা হিসেবে তার সুন্দরী কন্যা ; সবই ভালো চলছিল তার । কিন্তু একটি সিদ্ধান্ত তার দুনিয়া সম্পূর্ণ ওলট-পালট করে দেয় । হাসপাতালের অভ্যন্তরের রাজনীতি , দুর্নীতি ও রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মে অতিষ্ঠ ডাক্তার টেনমা যখন দোটানার সম্মুখীন হয়ে নিজের বিবেকের কথায় সাড়া দিয়ে পরিচালকের আদেশ অমান্য করে শহরের মেয়রকে বাদ দিয়ে এক গুলিবিদ্ধ বালকের চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয় তখন থেকেই তার সুন্দর জগতের সব ধিরে ধিরে ভেঙ্গে পরতে শুরু করে । তাকে পদচ্যুত করা হয়, তার বাগদত্তা তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে , তার উন্নতির সব পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয় ।

 

হাসপাতাল থেকে সেই আহত বালক এবং তার জমজ বোনের উধাও হয়ে যাওয়া এবং পরিচালক ও আরও দুই চিকিৎসকের রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয় । কিন্তু এই রহস্যের সমাধান করা তখন সম্ভব হয়ে উঠে না । এই ঘটনার দশ বছর পরে, পুনরায় বিভিন্ন রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড ঘটতে থাকে , টেনমার সামনে হত্যা হয় তার এক রোগী । পারিপার্শ্বিক প্রমাণের কারণে সন্দেহের তীর তার দিকে ধেয়ে আসে । বাধ্য হয়ে সে নেমে পরে সব অঘটনের পিছে দায়ী  এই “দানবের” খোঁজে , সব অশুভ অশুভ শক্তিকে মূলে ধ্বংস করতে । তার এই খোঁজে বেড়িয়ে আসে তৎকালীন সময়ে গোপনে চলতে থাকা এবং পূর্বে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার  ভয়ংকর চিত্র ।

 

সম্পূর্ণ গল্পটি বেশ গুছিয়ে লেখা হয়েছে । সকল ঘটনার জট ধীরে ধীরে  খুলতে শুরু  করে , গল্পের  এই গতি দর্শকদের  কাছে বিস্ময় ও সামনের ঘটনার জানার আকাঙ্ক্ষার অনুভুতি জাগাতে সহায়ক ছিল । বেশ সুচিন্তিত ডায়ালগগুলো চরিত্রগুলোর ব্যাক্তিত্ত সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট ধারনা দেয়  । বিশেষ করে প্রত্যেক চরিত্রের মাঝে যে সম্পর্ক ,অতি যত্নের  সাথে যেভাবে তাদের নিজ নিজ পরিবেশের সাপেক্ষে উপস্থাপন করা হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয় । মাঝে কাহিনীর গতি কিছুটা ধীর যাওয়া দর্শকের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারে কিন্তু আমার মতে তা সম্পূর্ণ গম্প উপস্থাপন করতে প্রয়োজন ছিল । যদিও মাঝে কাহিনীর সাথে তেমন সম্পর্কহীন কিছু পর্ব বাদ দিলে এনিমেটির আবেদন আরও বাড়তো ।

 

আর্ট ও অ্যানিমেশন :(৮.৫/১০)

বর্তমানের এনিমের মত ঝকঝকে না হলেও, গল্পের আবহের সাথে সম্পূর্ণ মানানসই । আলো এবং ছায়ার সাহায্যে বিভিন্ন ঘটনা , অনুভূতির প্রকাশ বেশ দক্ষভাবে দেখানো হয়েছে । চরিত্রগুলোর ডিজাইন বেশ বাস্তবধর্মী , তাদের দেহের ও মুখের গঠনে এর ছাপ স্পষ্ট । এছাড়া বিভিন্ন সময় পরিচয় করিয়ে দেওয়া নানা জাতির মানুষের ডিজাইনে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে  । ব্যাকগ্রাউন্ডে জার্মানি , চেক প্রজাতন্ত্র ও ফ্রান্সের বিভিন্ন  স্থানের  চিত্র উপস্থাপনে যে বৈচিত্রের দেখা মিলে তা সত্যি মনোমুগ্ধকর ।

 

সাউন্ড : (৮.৭/১০)

বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহৃত আবহ সঙ্গীত সম্পূর্ণ গল্পকে আরও বাস্তবধর্মী করে তুলেছে । প্রতিটি বন্ধুকের গুলির শব্দও যেভাবে বন্ধুকের ধরনের সাথে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে তাতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে । ওপেনিং হিসবে ব্যবহার করা সাউন্ডট্রাকটি ( https://www.youtube.com/watch?v=i8Rhb-Ln01Q ) আমাদের মনে যে ছমছমে ভাবের জন্ম দেয় , তা গল্পের ভাবকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে ।  এন্ডিং হিসেবে ব্যবহার করা ” ফর দ্যা লাভ অফ লাইফ ” (https://www.youtube.com/watch?v=qhPGbr51jfc )  আমার শোনা  অন্যতম অদ্ভুতুড়ে এন্ডিং ।  আবার রয়েছে “আইডলার হুইল” (https://www.youtube.com/watch?v=GBim5JAZQrY&index=17&list=PLA78A59F7388EC1A7) এর মত মন ভালো করে দেওয়া সাউন্ডট্রাক । এই এনিমে কেবল তার সাউন্ডট্রাক এর জন্য সুপারিশযোগ্য । এই এনিমের ডাব্বড ভার্শন দেখতে আমি সুপারিশ করবো কেননা আমার মতে সাব্বড এর তুলনায় ডাব্বড ভার্শন গল্পের সেটিং এর সাথে ভালোভাবে মিলে ।

 

চরিত্র : ( ৯.৫ / ১০)

এই  গল্পের মুল আকর্ষণ  এর চরিত্রগুলোর গভীরতা এবং  যেভাবে সুক্ষভাবে যত্নের সাথে এদের চরিত্রায়ন করা হয়েছে  ।  এইখানে আমাদের দেখা মিলে এই জনরের অন্যতম শক্তিশালী কিছু চরিত্রের । পার্শ্ব চরিত্রগুলো অন্যান্য সিরিজের মূল চরিত্রের তুলনায় অনেক ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । সমগ্র সিরিজ জুড়ে অনেক চরিত্রের অবতারনা করা হলেও তাদের প্রত্যেকের মধ্যে আলাদাভাবে পার্থক্য করা সম্ভব । পার্শ্ব চরিত্রগুলো অনেক ক্ষেত্রেই মূল চরিত্রগুলোকে ছাপিয়ে দর্শককে আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে  ।  চরিত্রগুলো ধরন এবং তাদের মধ্যের সম্পর্ক আবিষ্কার করাই হবে দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা ।

 

সর্বোপরি, এর অসাধারণ সব চরিত্রের দক্ষ চরিত্রায়ন থেকে এর বাস্তব সেটিং, দুর্দান্ত সাউন্ডট্রাক ও সুষম গতিতে চলতে থাকা কাহিনী  ,  সবই আপনাকে আপনার সিটের কিনারে এনে ছাড়বে । এনিমে জগতে এরকম বাস্তবধর্মী গল্প খুজে পাওয়া আসলেই দুর্লভ এবং যদিও ৭৪ পর্বের এই কাহিনী কিছুটা দীর্ঘ হলেও পরিশেষে আপনি তৃপ্তই হবেন । সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে, এই চিন্তায় আপনি সবসময় ব্যস্ত থাকবেন । তাহলে  আর অপেক্ষা কেন ? দেখে ফেলুন রোমাঞ্চে ভরপুর , বাস্তব অথচ  অপার্থিব এক থ্রিলার  “মনস্টার” ।

39 Monster

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২৩: Monster — Tufika Anwar

# Anime: Monster
# Episodes: 74
# Genre: Mystery, Psychological Horror, Psychological Thriller

জনপ্রিয়তার দিক থেকে Monster কে মূল্যায়ন করতে যাব না। তবে কেউ যদি সত্যিকার রহস্যভরা, মনস্তাত্ত্বিক, সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী, বাস্তবিক আবার অপার্থিব,আশ্চর্যজনক, শীতল, উত্তেজনাময়, ভয়ংকর এক কথায় দুর্দান্ত Psychological Thriller দেখতে চান তবে Monster হতে পারে আপনার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। Monster এমন কিছু বিষয় ও অভিজ্ঞতার গল্প যা সাধারণত অনাকাঙ্ক্ষিত আর এটাই তার আবেদন। ২০০৪ সালে এটি প্রথম প্রচারিত হয়।

Story: কাহিনীর ভিন্নতা Monster এর প্রধান আকর্ষণ। শুরু যদিও স্লথমন্থর কিন্তু এক জটিলতার  সাথে, Dr: Kenzou Tenma বিখ্যাত Japanese Neurosurgeon তাকে তার দায়িত্বাধীন এক রোগীর চিকিৎসা না করে এক বিখ্যাত গায়কের চিকিৎসা করতে বলা হয়, ফলে সেই রোগী মারা যায়। আত্মগ্লানিতে ভারাক্রান্ত Tenma টিক সেই মুহূর্তে আবার একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। সে এবার বিশাল ব্যাক্তিত্ব মেয়রের চিকিৎসা না করে তার দায়িত্বে আসা এক twin শিশুর জীবন বাঁচায় এবং মেয়র মারা যায়। স্বভাবতই ঊর্ধ্বস্তনদের বিরুদ্ধে যাওয়ায় Tenma এর জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। একই সাথে আশেপাশে শুরু হয় সব রহস্যজনক হত্যা।

কিছু বছর পরে Tenma এর জীবন যখন আবার স্বাভাবিক হচ্ছে তখন সব রহস্যজনক হত্যার হোতা মেয়রের জীবন না বাঁচিয়ে Tenma যার জীবন বাঁচিয়ে ছিল সেই twin দের একজন Johan Liebert Tenma এর সামনেই একটা খুন করে আর Tenma হয় প্রধান suspect.

বাকি ৭০ পর্ব খুনের মিথ্যা আসামি Tenma এর সেই Monster এর খোঁজে চলে এক ইঁদুর বিড়াল খেলা, সাথে দুইটা প্রশ্ন- কে এই Monster? সে কি চায়?

দুনিয়ার তাবৎ বর্জনীয় ও অনেকটাই অস্বস্তিকর বিষয় যেমনঃ হত্যা, শিশু নির্যাতন, মগজধলাই, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, human experiment ইত্যাদির সাথে Johan Liebert এর খোঁজেরত Tenma এর মানবিক অভিজ্ঞতা, নৈতিকতা, দৃঢ়তা, Johan Liebert এর জীবনের flashback, তার সম্মোহনী ও অলৌকিকতা, কাহিনীর কিছু অস্বস্তিকর মুহূর্ত, অপার্থিবতা একটা perfect রহস্যজনক মনস্তাতিক কাহিনীর স্বাদ দেয়।

Charecter: Monster দেখার একটা প্রধান কারণ হতে পারে এর কিছু legendary চরিত্র। Antagonist Johan Liebert আর protagonist Dr: Kenzou Tenma এনিমে জগতের দুই অনবদ্য সৃষ্টি। Tenma এর নৈতিকতা ,তার আত্ম উপলব্ধি, সম্পর্কের টানাপড়েন যেমন একটা ভালোলাগার সৃষ্টি করে, তেমনি অনেক গুনেগুনী, আশ্চর্য সম্মোহনী ক্ষমতার অধিকারী, রহস্যজনক, লাগামহীন, ভয়ংকর, manipulative, unpredictable Johan Liebert এর চরিত্র সৃষ্টি করে অস্বস্তিকতা। দীর্ঘ পর্ব জুড়ে ছোট বড় অসংখ্য চরিত্র তাদের বিশেষ চরিত্র বৈশিষ্ট্য দ্বারা  এনিমেকে করে তুলেছে রহস্যজনক ও উপভোগ্য।

Animation & sound: যদিও animation এর দিক দিয়ে Monster কে কোন master peice বলা যাবে না, তবুও এর animation সঠিকভাবই এর location Gremany & Czech Republic কে উপস্থাপন করেছে সাথে সাথে মনস্তাত্ত্বিক কাহিনীর সহায়ক facial expression এবং শীতল, বাস্তবিক ও রহস্যজনক আবহ সৃষ্টিতে সার্থক হয়েছে শতকরা ১০০ ভাগ। আর অসাধারণ শব্দ প্রবাহ যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

আমার দেখা আশ্চর্যতম কাহিনীর একটা এনিমে। আমি Psychological storyline এর আর কোন এনিমে না দেখলেও বেশ কিছু Movie, TV series দেখেছি। আমার মতে Monster Naoki Urasawa এর এক অনবদ্য সৃষ্টি।

যদিও ৭৪ পর্ব ও ধীরগতির এনিমে তবুও Monster অবশ্যই একটা master peice এবং সমালোচক প্রশংসনীয় এনিমে। তাই Monster দেখা আপনার জন্য হবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা, সময়ের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ, এক মূল্যবান সঞ্চয়।

[Note: কেউ যদি Dr. Hannibal Lecter এর ভক্ত হয়ে থাকেন তবে তার জন্য Monster দারুন উপভোগ্য হতে পারে।]

23 Monster

Monster রিভিউ — Rafiul Alam

“When you’re in the darkness,you only sink deeper into it.Keep the light shinning.”-Dr. Kenzo Tenma

জীবনকে আপনি কতটুকু ভালবাসেন?মানুষের জীবনের প্রতি আপনার মূল্যবোধ কেমন?নিষ্ঠুর বাস্তবতার অনন্য উদাহরণ এই এনিমেটা। সবই নতুন করে ভাবতে শেখাবে আপনাকে।অনেকের মতেই এটা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাইকোলজিকাল এনিমে।নাওকি উরাসাওয়া নিজের জাত চিনিয়েছেন মাঙ্গার দ্বারা আর ডিরেক্টর কোজিমা মাসয়ুকি এনিমের দ্বারা।এই রকম মাস্টারপিস লেভেলের এনিমে নেই বললেই চলে। কেন জানি এনিমেটার প্রতি আমার একটু বেশিই ভালোবাসা আছে।দেখার সময় অগণিতবার কেঁদেছি।আমার মনে একটু বেশিই প্রভাব ফেলেছে মনে হয় এনিমেটা।রিভিউ লেখার পেছনে তাই বিশাল আবেগ কাজ করছে।

Synopsis: জিনিয়াস neurosurgeon ড. কেনজো টেনমা।জার্মানী প্রবাসী জাপানি চিকিৎসক। সাদা মনের ভালো মানুষ।কাজ করেন Eisler Memorial Hospital এ।হঠাৎ একদিন গুরতর আহত অবস্থায় সেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক বিখ্যাত অপেরা singer এর সফল অস্ত্রপচারের পর বেরিয়ে আসার সময় ড. টেনমার পথ রোধ করেন এক তুর্কী মহিলা।তিনি কান্নাভেজা চোখে দাবী করেন যে তার স্বামী অপেরা শিল্পির আগে আহত অবস্থায় এসেছিলেন।কিন্তু ড. টেনমা অপেরা শিল্পির অস্ত্রপচার করেছেন।যদি ড. টেনমা তার স্বামীর অস্ত্রপচার করতেন,তাহলে হয়ত তিনি বেঁচে যেতেন।মহিলা ড. টেনমাকে তার স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে বলেন।এরুপ পরিস্থিতিতে বিব্রত ড. টেনমা কোনভাবে সটকে পড়েন।কিন্তু মহিলার সাথে থাকা বাচ্চা ছেলেটির কান্না তার মনে ভীষণভাবে দাগ কাটে।রাতের বেলায় যখন তিনি তার বাগদত্তা ইভা হাইনামেনের সাথে রেস্টুরেন্টে ডিনার করছিলেন তখন তার মনে ভেসে ওঠে সেই বাচ্চা ছেলেটির কান্না।পরে সেইরাতেই এক পরিবারের তিনজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।যার ইতিমধ্যেই বাবা-মা মারা গেছেন।দশ বছরের যমজ ভাইবোনদের মাঝে ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক,মাথায় গুলি লেগেছে।বোন মানসিক ভারসাম্যহীন।তাদের ভর্তি করা হল Eisler Memorial Hospitalএ।বাচ্চা ছেলেটির অস্ত্রপচার করার দায়িত্ব পড়ল ড. টেনমার ওপর।কিন্তু বাধ সাধল আরেক বিড়াম্বনা।মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন Düsseldorf শহরের মেয়র।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হল ছেলেটাকে রেখে মেয়রের অস্ত্রপচার করার জন্য।কিন্তু ড.টেনমার কানে বাজছে সকালের সেই বাচ্চা ছেলেসহ মায়ের আর্তনাদ।তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে করেই হোক,বাচ্চাটির প্রাণ তিনি বাচাবেন।এই সিদ্ধান্তই বদলে দিল ড. টেনমার জীবন।

Theme Setup,Background music & Animation:পারফেকশনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।বার্লিন ওয়াল ভাঙ্গার পরবর্তী জার্মানিকে খুবই সুন্দরভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।Czezh Republic বর্ডার,511 Kinderheim,Red Rose Mansion এসবগুলো জায়গাই আপনার মগজে ঢুকে যেতে বাধ্য। Opening, Ending দুইটাই ভাল লেগেছে।প্রথম এন্ডিংটা বেশি জোস,ওটা আসলে”For the love of life”গানটির ইন্সট্রুমেন্টাল। Madhouse Studio এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সবসময়ই ভালো হয়।উদাহরণ হিসেবে Death Note এর নাম উল্লেখ করা যায়।ost গুলোর লিঙ্ক নিচে দিয়ে দিচ্ছি।animation আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।সাধারণ ক্লিসে এনিমে মতো না।বরং আনেক বেশি বাস্তব।

Characters Setup:প্রচুর চরিত্র রয়েছে। সবগুলো চরিত্রই আমার খুব প্রিয়। ড. টেনমা আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র।ইন্সপেক্টর লুঙ্গেকেও আমার অনেক শ্রদ্ধেয় মনে হয়েছে।আর যার নাম বলতে হয় সে হল গ্রিমার।অনেকের কাছে মনে হতে পারে চরিত্রগুলো একই রকম।এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হল চরিত্রগুলোর মাঝে যে সুক্ষ পার্থক্য রয়েছে তা মনোযোগ দিলেই ধরা সম্ভব।

Overall Rating:

IMDB Rating: 8.6
My Rating: 9.7

OST Link:http://www.youtube.com/playlist?list=PLD1628F5C6E88FD17

“And slowly,you come to realize…It’s all as it should be.…..”

Monster – The Anime, review by Monirul Islam Munna

ঠিক বুঝতে পারতেছি না আসলে, এনিমেটা নিয়ে কী লিখব আর কীভাবে পারফেক্ট শব্দ দিয়ে এনিমেটাকে অন্যের সামনে তুলে ধরবো!!! একটা এনিমে এইভাবে যে মনোযোগ টেনে ধরে রাখবে,এতো সুন্দর গুছানো, আগে কল্পনাই করতে পারি নাই। মনে হচ্ছিল যে এক একটা এপিসোড দেখছি আর পেঁয়াজের আস্তরণ একটা একটা তুলে ভীতর থেকে আরও ভীতরে প্রবেশ করছি। প্রতিটা আস্তরণ যেন আরও বেশী বোধগম্য করে তুলে এনিমেটাকে সাথে নতুন কিছু উপহার দেয়!!!

এনিমেটা একজন খুবই মেধাবী ব্রেন সার্জন ‘কেনযো টেনমা’কে নিয়ে। সার্জন হিসেবে অসম্ভব মেধা আর যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে চারদিকে প্রচুর সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। যে হাঁসপাতালে চাকরি করতেন সেখানে নিজের মেধা পরিচয়ে চিফ সার্জন হয়ে গেলেও, পলিটিক্সের কাছে কিছুটা হার মেনে নিতে হত তাকে। কখনও কখনও দায়িত্বের চেয়ে ডাইরেক্টরের সুনাম যেন অক্ষুণ্ণ থাকে সে দিকে মননিবেশ করতে হত। সাধারণ মুমূর্ষু রুগীর চিকিৎসা না করে, নামী কোন ব্যক্তির চিকিৎসা করতে বাধ্য হতেন টেনমা। কিন্তু একদিন নিজের ভুল বুজতে পারলেন তিনি,বুজতে পারলেন যে কারণে ডক্টর হয়েছেন সে পথেই নেই তিনি!!! তাই একদিন ডক্টর হিসেবে আগে দায়িত্বকেই বেঁছে নিলেন এবং ডাইরেক্টর আদেশ অমান্য করেই, ছোট একটি ছেলের জীবন বাঁচাতে অপারেশন থিয়েটারে চলে গেলেন। কিন্তু এই একটা সিধান্ত যে তার জীবন ঘুরিয়ে দিবে, তছনছ করে নিবে তার চার পাশ হয়তো ভাবতেই পারেননি টেনমা। সৎ উদ্দেশ্যে কাউকে বাঁচাতে গিয়েই এক অভিশাপ যে নেমে আসবে, কেই বা ভাবতে পেরেছিল!!!!

এনিমের কাহিনীর বিলডআপটা আসলেই অসাধারণ!! আগে যেমন বললাম, মনে হচ্ছিলো কিছু জিনিস একই সাথে যেন পরিষ্কার হচ্ছে সাথে সাথে আবার নতুন জিনিশ যেন মাথা আউলায় দিচ্ছে!! খুবই গছানো এনিমেটা। শেষটা মনে হয় ইচ্ছা করেই এমন একটা মিস্ত্রি রেখে দিছে, এনিমেটা দেখে যে যেমন অনুভূতি পেয়েছে সে সেভাবে গুছায় নিবে!!! 

সাথে শিশু নির্যাতন, গণহত্যা, ব্রেন ওয়াশ, human experimentation কীভাবে যে একটা মানুষের মানুষিক বিকাশে পরিবর্তন আনতে, মানুষকে manipulate করে কত কিছু করা সম্ভব!!! সেটা বেশ রিয়ালিস্তিকভাবে দেখানো হইসে।

কাহিনীর সাথে চরিত্রগুলার অবদান ছিল দেখার মত। প্রতিটা চরিত্র এনিমেটার কাহিনীতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। এমন একবারও মনে হয়নি যে কাহিনী লম্বা করতে অযথা কিছু চরিত্র প্রবেশ করছে। সাথে সবারই মোটামুটি বিস্তর অতিত ইতিহাস খুব সুন্দর করে দেখানো হইসে। আর কীভাবে এই ছোট ছোট কাহিনীগুলো এক সাথে মিলে একটা মাস্টার পিস হবে, আসলে না দেখে বোঝা সম্ভব না!!!

আসলেই জোশ সাইকোলজিক্যাল, মিস্ত্রী, থ্রিলার একটা এনিমে!!!
MAL rating 8.73
my rating 9.0 

জাপানিজ আ্যনিমে সিরিজ Monster: মিস্ট্রি জেনারের এই সিরিজ না দেখলে জীবন বৃথা!! — by বিডি আইডল

মূল লেখার লিঙ্ক 

ডেথ নোটের পর এটা আমার দেখা সম্ভবত দ্বিতীয় আ্যনিমে সিরিজ Monster (2004–2005)। মোট পর্ব ৭৪। ২০০৪-০৫ সালে প্রায় দেড় বছর ধরে প্রচারিত হয় এটি। আমি সিরিজটি শেষ করেছি দুই সপ্তাহের মধ্যে। ইউটিউবে পুরো সিরিজটি আছে। ঘোরের মধ্যে শেষ করেছি এই অসাধারণ টিভি সিরিজটি।

আ্যনিমে হলেও এই সিরিজটির কিছু বৈশিষ্ট আছে–এটি একেবারেই ইউনিক কাহিনী নিয়ে তৈরি, অত্যন্ত কমপ্লেক সাইকোলজিক্যাল ড্রামা, কাহিনী জাপানে নয় জার্মানিতে, ইন-ডেপথ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টইত্যাদি। এটা ম্যাচিউরড অডিয়েন্স এর জন্য তৈরি।

কাহিনীর বিস্তারিত দিবো না…সার সংক্ষেপ দিচ্ছিঃ কাহিনী আবর্তিত হয় জিনিয়াস জাপানিজ নিউরোসার্জেন ডঃ কেনজো টেনমাকে (Kenzou Tenma) ঘিরে। ১০ বছর বয়সী একটি শিশু মাথায় গুলি খেয়ে তার হাসপাতালে আসে। তার অপারেশনে জীবন ফিরে প্রায় সেই ছেলেঃ ইয়োহান লেইবার্ট (Johan Liebert)। একই সাথে হাসপাতালে ভর্তি হয় প্রচন্ত শকে ট্রমা আক্রান্ত তার ফ্যাটারনাল জমজ বোন আনা লেইবার্ট (Anna Liebert সিরিজে পরে নিনা নামে পরিচিত)। এর কয়েকদিন পরেই এই দু’ ভাইবোন হাসপাতাল থেকে নিখোজ হয়ে যায়। আর একই সময়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া মারা যায় ওই হাসপাতালের ডিরেক্টর সহ আরো দুই সিনিয়র ডাক্তার। পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে ডঃ টেনমার উপর। এ ঘটনার বেশ কয়েকবছর পর সারা জার্মানি জুড়ে শুরু হয় অদ্ভুত সব সিরিয়াল কিলিং। ডঃ টেনমা জানতে পারে এর পিছনে আছে এক সাইকোপ‌্যাথ–তারই হাতে জীবন ফিরে পাওয়া ইয়োহান। শুরু হয় তার ইয়োহানকে খোজার পালা। নানা ঘটনায় পুলিশের এইসব হত্যাকান্ডের পিছনে সন্দেহ শুরু করে ডঃ টেনমাকে। শুরু হয় জার্মান সিক্রেট পুলিশের ইন্সপেক্টর লুঙ্গের (Inspector Heinrich Lunge) এর টেনমাকে খোজার অভিযান।

ইয়োহানকে পুরো সিরিজে অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে হলেও সে আসলে ঠান্ডা মাথার সাইকোপ‌্যাথ। মানুষের সাথে অল্প সময় মিশেই তার চিন্তা-ভাবনা প্রভাবিত করার ক্ষমতা তার আছে। সিরিজটিতে কম্যুউনিষ্ট শাসনামলে পূর্ব জার্মানি, চেক প্রজানতন্ত্র ইত্যাদি এলাকাতে যে ভয়ের রাজত্ব এবং চাইল্ড এবিউজ করা হয়েছে নানা রকম পরীক্ষা-নীরিক্ষার নামে সেইসব বিষয় এসেছে।

এরকম জটিল কাহিনীর সাইকোলজিক্যাল সিরিজ আর আছে কিনা আমার সন্দেহ আছে। যারা আ্যনিমের ভক্ত না…তারা এই সিরিজটি দিয়ে শুরু করুন…আ্যনিমে সম্পর্কে ধারণা পাল্টে যাবে।

ইউটিউবে পুরো সিরিজটি আছে। তবে আমি নিশ্চিত নই বাংলাদেশ থেকে এই লিংক দেখা যাবে। ইংরেজীতে ডাব করা এই অফিসিয়াল লিংক থেকেই আমি সিরিজটি দেখেছি। এছাড়া ইউটিউবে পার্ট করা আছে প্রায় সবগুলো পর্বই।