চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান -৪ – Saito Hajime — Shifat Mohiuddin

 

Saito Hajime 1

চরিত্রঃ Saito Hajime
এনিমে: Rurouni Kenshin, Rurouni Kenshin: Trust and Betrayal
ভূমিকাঃ মধ্যপন্থী
আসল নামঃ Yamaguchi Hajime/Saito Hajime
জন্মঃ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৪
মৃত্যুঃ ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫
কর্মস্থলঃ শিনসেনগুমির তৃতীয় স্কোয়াড(জাপানিজ সামরিক সরকারের বিশেষ পুলিশ বাহিনী)
পদবিঃ ক্যাপ্টেন

 

¤
আমরা যারা রুরুনি কেনশিন এনিমেটা দেখেছি তারা সকলেই সাইটো চরিত্রটির সাথে পরিচিত।দুর্বিনীত,অহংকারী,অতি-আত্মবিশ্বাসী কিন্তু তলোয়ারবাজিতে অত্যন্ত দক্ষ;সর্বোপরি ব্যাডঅ্যাস এই চরিত্রটি আমাদের মনে ভালোই দাগ কেটেছে।গ্রুপের অধিকাংশ মেম্বারই বোধহয় জানেন যে সাইটো একটি ঐতিহাসিক চরিত্র হতে অনুপ্রানিত।কেনশিনের লেখক নবুহিরু ওয়াতসুকি একজন স্বঘোষিত শিনসেনগুমি ফ্যান এবং তাঁর অনেকগুলো চরিত্রই শিনসেনগুমির সদস্যদের হতে অনুপ্রানিত।সাইটোও তাদের মধ্যে একজন।এনিমের মতো বাস্তব জীবনের সাইটোও সেইরকম ব্যাডঅ্যাস ছিলেন এবং তার জীবন কোন অংশেই কেনশিনের চেয়ে কম বৈচিত্রপূর্ণ নয়।সাইটোই সেই অল্পসংখ্যক যোদ্ধাদের মধ্যে একজন যারা বাকুমাতসুর রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম থেকে বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছিলেন।
¤
সাইটো বর্তমান টোকিওতে জন্মগ্রহন করেন।Saito Hajime 2 তার পিতার নাম Yamaguchi Yusuke যিনি কিনা একজন পদাতিক সৈন্য ছিলেন।তার আরও এক ভাই এবং এক বোন ছিল।পারিবারিক সূত্র হতে জানা যায় যে, দুর্ঘটনাবশত একজন যোদ্ধাকে হত্যা করায় সাইটোকে ১৮৬২ সালে গৃহত্যাগ করতে হয়।তিনি কিয়োটোতে চলে যান এবং yoshida নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে তলোয়ারবিদ্যার শিক্ষা নেন।তার পূর্বজীবন সম্পর্কে এর থেকে বেশি কিছু জানা যায় না।
¤
একজন দক্ষ তলোয়ারযোদ্ধা হওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই সাইটো শিনসেনগুমিতে পদোন্নতি পান।সাইটো,Okita soji এবং todo heisuke এই তিনজন ছিলেন শিনসেনগুমির সবচেয়ে কম বয়স্ক এবং দক্ষ যোদ্ধা।১৮৬৪ সালে সাইটোকে শিনসেনগুমির চতুর্থ স্কোয়াডের প্রধান করা হয় এবং পর্যায়ক্রমে ১৮৬৫ সালের এপ্রিলে তিনি তৃতীয় স্কোয়াডের প্রধান হন।তার দক্ষতা প্রথম স্কোয়াডের লিডার Okita soji[এই চরিত্রটিকে ট্রাস্ট এন্ড বিট্রেয়ালে দেখানো হয়েছে]এর সমকক্ষ ছিল এবং বলা হয় যে ওকিটা,সাইটোকে ভয় পেতেন।
¤
শিনসেমগুমিতে সাইটো মূলত ভাইস কমান্ডারের সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।এছাড়াও তলোয়ারবিদ্যা শেখানোর কাজটাও তিনি করতেন।১৮৬৭ সালে সাইটো এবং তার শিনসেনগুমির অন্য সদস্যরা Hatamote(এমন সৈন্য যারা জাপান সামরিক সরকারের সরাসরি অধিনস্থ থাকতো)পদে পদোন্নতি পান।বুশিন ওয়ার(১৮৬৮-১৮৬৯) চলাকালিন সময়ে সাইটো Battle of toba-fusimi এবং battle of koshu-katsunuma তে অংশগ্রহন করেন।যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর সাইটো অবশিষ্ট যোদ্ধাদের নিয়ে জাপানের আইজু এলাকায় পলায়ন করেন।
¤
Utsunomiya দুর্গের লড়াইয়ে শিনসেনগুমির কমান্ডার Hijikata Toshizo মারাত্মক আহত হন।ফলশ্রুতিতে ১৮৬৮ সালের ২৬ মে তারিখে সাইটো আইজু শিনসেনগুমির কমান্ডার হন।Bonari pass এর লড়াইয়ের পর Hijikata আইজু হতে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিলেও সাইটো থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং আইজু আর্মিকে সঙ্গে নিয়ে battle of aizu এর শেষপর্যন্ত লড়াই করেন।(এই বিচ্ছেদের ব্যাপারে বিতর্ক আছে।অনেকের মতে সাইটো হিজিকাতার কাছ থেকে আলাদা হন নি।)
সাইটো এবং তার অনুসারিরা Nyorai-do টেম্পলে ইমপেরিয়াল বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন।যুদ্ধে তারা মারাত্মকভাবে outnumbered হন এবং সকলে ধরে নেয় যে এই যুদ্ধে সাইটো মৃত্যুবরণ করেছেন।কিন্তু সাইটো পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং আইজুতে ফিরে এসে আইজুর সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করেন।আইজু দুর্গের পতনের পর সাইটো কিছু সহযোদ্ধাদের নিয়ে takada এলাকায় যান কিন্তু সেখানে তারা যুদ্ধবন্দী হন।আটক হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকায় সাইটোকে Ichinose Denpachi নামে অর্ন্তভুক্ত করা হয়।
¤
মেইজি পুনরুত্থানের পর সাইটো,Fujita Goro ছদ্মনাম নিয়ে Tonami অঞ্চলে চলে যান।সেখানে তিনি তার এক পুরনো বন্ধু Kurasawa Heijiemon এর বাসায় অবস্থান করেন।সেখানে,সাইটোর সাথে শিনোদা ইয়াসো নামক এক নারীর পরিচয় হয়।কুরাসাওয়ার ঘটকালিতে ১৮৭১ সালে সাইটোর সাথে ইয়াসোর বিবাহ সম্পন্ন হয়।তারা কুরাসাওয়ার বাড়িতেই থাকতেন।ধারনা করা হয় তখনই সাইটো পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন।১৮৭৪ সালে সাইটো tonami ছেড়ে টোকিও চলে যান।দুই বছর পরে সাইটো fujita goro নাম নিয়েই টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
¤
এর পর সাইটো Takagi Tokio নামক আরেক নারীকে বিয়ে করেন।তোকিও এর পিতা আইজুর একজন সম্ভ্রান্ত পুরুষ ছিলেন।সাইটো এবং তোকিওর ঘরে Tsutomu,Tsuyoshi এবং Tatsuo নামের তিন সন্তানের জন্ম হয়।Tsutomu এর সন্তানরা এখনও সাইটোর বংশধারা বজায় রেখেছেন।
¤
তিনি মেইজি সরকারের আমলে Satsuma বিদ্রোহ দমনে পুলিশ বাহিনীর হয়ে জাপানিজ সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেন।পুলিশ বাহিনীতে তিনি অত্যন্ত সুনামের সহিত কাজ করেন এবং বীরত্বসূচক অনেক পুরষ্কারও পান।১৮৯০ সালে তিনি পুলিশ বাহিনী হতে অবসর গ্রহন করেন।পরবর্তিতে এক বন্ধুর সহায়তায় Tokyo Education Museum এ তিনি গার্ডের দায়িত্ব পালন করেন।তারপর তিনি টোকিও নরমাল হাই স্কুলে সাত বছর চাকরি করেন।১৯০৯ সালে তিনি এই চাকরি হতে অবসর গ্রহন করেন।
¤
শিনসেনগুমির অন্যান্য সদস্যদের মতই সাইটো ছিলেন অর্ন্তমুখী এবং রহস্যময় স্বভাবের।তিনি খুবই কম কথা বলতেন এবং খেজুরে আলাপে তার কোন আগ্রহ ছিল না।সবসময় বিশেষ করে জীবনের শেষের দিকে তিনি অত্যন্ত গর্বিত ভাবে জীবনযাপন করতেন।অবসর সময়ে সর্বদাই তাকে সেইজা(জাপানিজদের হাঁটু ভেঙ্গে বসার স্টাইল)রত অবস্থায় দেখা যেত।মেইজি যুগে সাইটোই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যাকে কাতানা বহনের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।সাইটোর উচ্চতা ছিল ৫’ ১১” অর্থ্যাৎ এনিমের মত বাস্তব জীবনেও তিনি অত্যন্ত লম্বা ছিলেন।তিনি সর্বদাই অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় থাকতেন যেন যেকোন সময়ে যেকোন পরিস্হিতির মোকাবেলা করতে পারেন।
সাইটো অত্যন্ত বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন।তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধির কারণে শিনসেনগুমির অভ্যন্তরের গুপ্তচর ধরায় তার জুড়ি মেলা ভার ছিল।সদস্যরা সকলেই তাকে সমঝে চলতো।ফলে অনেকে তাকেই স্পাই মনে করতো।সাইটোর অন্যান্য সংস্হার ইন্টিলিজেন্স এবং গতিবিধির উপর নজর রাখাই ছিল তাদের সন্দেহের কারন।সাইটোর হাতে শিনসেনগুমির কতিপয় দুর্নীতিবাজ সদস্যের মৃত্যু তাকে আরোও বিতর্কিত করে তুলেছিল।
¤
সাইটোর তলোয়ারবাজির স্টাইলের নাম ছিল Mugai Ryu যার উৎপত্তি হয়েছিল তার পারিবারিক স্টাইল Yamaguchi Itto-ryu হতে।সাইটো প্রচুর sake পান করতেন এবং পানরত অবস্থায় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির কাছে তিনি তার পূর্বকথা বলতেন।সাইটো তার কোন স্মৃতিকথাই লিখে রাখতেন না।
¤
এনিমেতে সাইটো যে গাটুটসু টেকনিকের ব্যবহার করতেন সেটা তার আসল তলোয়ারবিদ্যার সাথে মিল থাকলেও পুরোপুরি কল্পিত।’Aku Soku Zan’ অর্থ্যাৎ “Slay Evil Immediatly” নামক যে নীতিতে তিনি বিশ্বাস করতেন তা কাল্পনিক হলেও বাকুমাতসুর সময়ের শিনসেনগুমির এক সাধারন চিন্তাভাবনাই ছিল।কেনশিন ব্যতিত আরো কিছু শিল্পমাধ্যমেও সাইটোর উপস্হিতি আছে।
¤
অতিরিক্ত সাকে পান করার কারণেই স্টমাক আলসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯১৫ সালে ৭২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।মৃত্যুর সময়ও তিনি সেইজা অবস্হাতেই বসে ছিলেন।
¤
source:wikipediaB-)

অ্যানিমের কাছে আসার গল্প — রুফিয়াস মিলেনিয়াম

অ্যানিমের কাছে আসার গল্প
(লাইক এনিবডি কেয়ারস্‌)

আমার একটা সমস্যা আছে। আমার সহজে ঘুম ভাঙ্গে না। যখন আমি অনেক ছোট, কেবল নার্সারিতে অথবা ক্লাস ওয়ানে পড়ি, তখন থেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হত, এবং স্কুলে যাওয়ার সময় হলে আমাকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য যথারীতি পীড়াপীড়ি করতে হত। এখনো করতে হয়। যাইহোক, তা একদিন সকালে আমাকে ঘুম থেকে উঠানোর খুব সহজ এক পদ্ধতির আবিষ্কার করা হল। সকাল বেলায় বিটিভি তে স্যামুরাই এক্স প্রচার করা হত। টিভি ছেড়ে দেয়া হল আর উদো জিনে নামের সেই ভিলেন কে দেখে আমি যে ভয় পেয়েছিলাম তাতে আমার ঘুম শেষ। আর কামিয়া কাওরু কে কেনশিন কিভাবে উদ্ধার করবে সেটা দেখার জন্য আর তর সইছিল না। এর পর অনেক দিন বিটিবি তে প্রতি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টার সময় স্যামুরাই এক্স দেখার জন্য বসে থাকতাম।

আমাদের বাসায় তখনও ক্যাবল নেটওয়ার্ক নেয়া হয়নি, ক্লাস টু/ থ্রি তে পড়ি, এরকম সময়ে একদিন পাশের বাসায় গিয়ে দেখি সেখানের পিচ্চি ছেলেটা খুব উত্তেজিত হয়ে কি জানি দেখছে আর কিছুক্ষণ পর পর লাফাচ্ছে, চিৎকার করছে (ঠিক ইউরোপিয়ান ফুটবল ফ্যান্ দের মত)। সেখানে কত্তসব কত আকারের আজগুবি প্রাণী! (না ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল না)।দেখি কার্টুনের নাম কার্টুন নেটওয়ার্ক! কি আজব! ক্লাস ফোর বাঁ ফাইভে পড়ার সময় ক্যাবল নেটওয়ার্ক আসার পরে জানলাম এটার নাম, পকিমন!… আই অয়ানা বি দা ভেরি বেস্ট! লাইক নো ওয়ান এভার অয়াজ!… ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পাইনি বলে ক্যাবল নেটওয়ার্ক আবার সরিয়ে নেয়া হল। আমার চাইনিজ কার্টুন দেখার ক্ষান্ত হল।

ক্লাস সেভেনে আবার ক্যাবল নেটওয়ার্ক নেয়া হল। একদিন বিকেলে কার্টুন নেটওয়ার্কে দেখলাম ড্রাগন বল জি। যখন আসে পাশে কেউ না থাকে, তখন গোকুর সাথে আমিও বিছানার উপরে লাফালাফি করতাম। কা মে হা মে হাআআআআআআ!

ক্লাস এইটে যখন পড়ি, কার্টুন নেটয়ার্ক কেন যেন হটাত অ্যানিমে দেখানো বন্ধ করে দিল।তার বদলে দেয়া হত ইন্ডিয়ান (ফালতু) কার্টুন। অ্যানিম্যাক্স চ্যানেলে কোনো সাবটাইটেল ছাড়া অ্যানিমে দেখে কিছুই বুঝতাম না। পরিসমাপ্তি ঘটল অ্যানিমে দেখার আরেকটি অধ্যায়ের।
আমার স্কুলের বন্ধুরা খালি হিন্দি সিনেমা দেখতো। আমি বলতাম, ভাই তোরা ইংলিশ ভার্সানে পরস, পারলে ইংলিশ ফিল্ম দেখ” কিন্তু কে শোনে কার কথা। তা এরমাঝেও কয়জন ছিল যারা কিনা, ব্লিচ, পকিমন, ফেইরি টেইল নামের কার্টুন নিয়ে কথা বলত। আমি কান পেতে সেসব গল্প শুনে যেতাম। তখন অনেক পকিমন কার্ড জমাতাম।

এন্টার আমার এস এস সি পরীক্ষার পরে ছুটির সময়। মোবাইলে ফ্রি মেগাবাইট নিয়ে ইউটিউবে আবার দেখলাম স্যামুরাই এক্স। আমার বন্ধু তানভির আমাকে ফোন করে বলল, “দোস্ত অ্যানিমে দেখস? জাপানিজ কার্টুন?” আমি বললাম, “হোয়াট এ কোইন্সিডেন্স! আমি একটু আগাই স্যামুরাই এক্স দেখতেছিলাম।” তানভির বলল, “ আমি নারুতো দেখতেছি। জাস্ট অসাম!”… মোবাইলের সেই ছোট স্ক্রিনে নারুতোর প্রথম দুইটি পর্ব দেখার পরে আর দেখা হল না।আমার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে যাওয়া হল।

(স্কিপ দিস প্যারা ইফ ইউ অয়ান্ট টু )তারপর… আমি বিদেশে চলে আসলাম। লন্ডনে আমি একা হয়ে গেলাম। ছোট্ট একটা ঘরে বন্দী হয়ে ভাবতে লাগলাম, ইশ , জাফর ইকবাল আর হুমায়ুন আহমেদ এর বইগুলো নিয়ে আসতাম যদি! পুরো ৬ মাস আমি ঘরে থাকতাম, বাইরে বের হতাম না।বাইরে গেলেই ইংরেজিতে কথা বলতে হয়, আর নার্ভাস ফিল করি।আমার ঘরের একটা বড় জানালা ছিল। সেখানে সারাক্ষন দাঁড়িয়ে থাকতাম। বাংলাদেশে বন্ধুদের সাথে কথা বলতাম মোবাইল ফোনে। আব্বু বলেছেন, বাংলাদেশের বন্ধুদের সাথে শেষ কথা বলে নিতে। কারণ আমার এখানে নতুন জীবন শুরু হয়েছে। তাদের কথা আসতে আসতে ভুলে যেতে হবে।শীতের একদিনে ঘরের বড় জানালাটা বন্ধকরে ইন্টারনেট আর ফেসবুকের জানালা খুলে দিলাম।

নারুতো আমার প্রথম দেখা “অ্যানিমে”। নারুতোর মাঝে খুঁজে পেলাম আমি একাকিত্ত, অদক্ষতা, দুষ্টুমি, অবহেলা, বন্ধুত্ব… অনেক কিছু। একটা ছেলে, বাবা মা নেই, কোনও বন্ধু নেই, কিচ্ছু পারেনা, কিন্তু কিভাবে সে তার অটল আত্মবিশ্বাসে সকল প্রতিবন্ধকতা গুলোকে পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তা দেখে আমি অভিভূত হলাম। একটা অ্যানিমে যে একজন মানুষ কে কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে তা নারুতো দেখে শিখেছি।

তা এখানে প্রথম যখন স্কুলে গিয়েছি, সেই একদিন এর কথা। অঙ্ক ক্লাসে গিয়ে দেখি আমার পাশের সিটে একটা মেয়ে ঋষিদেরদের মতন আসন করে বসে আছে। আমি জিজ্ঞেস না করে পারলাম না, বললাম, “ আয়শা, কি করছ?” মেয়েটা বলল, “ আমি সেইজ মোডে যাওয়ার চেষ্টা করছি”…

বৃহস্পতিবার, কম্পিউটার ক্লাসে দেখি একটা ছেলে নারুতো দেখছে। নতুন পর্ব বের হয়েছে এই মাত্র তাই। ইংলিশ ক্লাসের একটা অ্যাসাইন্মেন্টে আমি প্লানেটারি ডিভাস্টেশন কথাটি ব্যাবহার করেছিলাম, পাশে বসে থাকা ছেলেটি সেটা পরে বলে উঠলো, “ ওওওওওও! আমি জানি তুমি এইটা কোথা থেকে পাইসো!”…

এই ছিল আমার অ্যানিমের কাছে আসার গল্প। অ্যানিমের জগতে আমি এখনো নতুন।

nertu

Rurouni Kenshin OVA: Trust and Betrayal রিভিউ — Torsha Fariha

Trust and Betrayal 1

দেখলাম রুরৌনি কেনশিনের OVA Trust & Betrayal.

আমি pretty sure গ্রুপের অধিকাংশ মানুষজন এটা দেখে ফেলেছেন তারপরেও যারা দেখেনি তাদের জন্য এটা সাজেস্ট করছি।

সময়টা মেইন আনিমে থেকে একটু পেছনে। বাকুমাৎসু era তথা Late Tokugawa Shogunate Era. Meiji Government এর উত্থান হয় যার পর।

জাপানের ইতিহাসের অন্যতম অস্থিতিশীল সময়। kill or to be killed- this was the main theme then.

মানুষ স্বার্থের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি যেমন নিতে পারে, অন্যের গলায় ছুরি বসাতে যেমন পারে তেমনি পারে নিজের ideology এর জন্য অকাতরে প্রাণ দিতে। এটা ঠিক সেরকম একটা সময়ের গল্প।

নায়ক-কেনশিন। ‘রুরৌনি’ কেনশিন নয় বরং ‘man slayer’ কেনশিন।

রুরৌনি কেনশিনের মূল আনিমেটা দেখতে গিয়ে আমি অনেক বারই কল্পনা করার চেষ্টা করেছি কেনশিনের মত সৎ,দয়ালু, বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষটার assassin রূপটা কেমন ছিল। যারা আমার মতই কৌতুহলী তাদের জন্য এই OVA.

নায়িকা- তোমোয়ে।
যারা কেনশিন-কাউরো ফ্যান তারা যেন আবার ভ্রু কুঁচকায় না থাকে 😛
সত্যি বলতে the relationship between kenshin and tomoe is far deeper.

Trust & Betrayal হল বিশ্বাস আর বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী, নিজের ভেতর অন্তর্দন্দ্বের কাহিনী, কেনশিনের গালের ক্রস চিহ্নের আঘাতের পেছনের কাহিনী।

অত্যন্ত মর্মস্পর্শী একটা কাহিনী। এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্নও বটে।

অবশ্যই অবশ্যই দেখার মত চারটা এপিসোড। 🙂

Hope you will Enjoy it.

Trust and Betrayal 2

এফ এ সি ২৮

রান্ডম টপিক

রসনাবিলাস ১-কিটক্যাট

 

জ্বী হ্যা, কয়েকটা কলাম ওয়ালা সেই কুড়মুড়ে ওয়েফার জাতীয় স্ন্যাকের কথাই বলছি। কয় রকম ফ্লেভার খেয়েছেন কিটক্যাটের? চলে যান জাপানে, দেখবেন এই কিটক্যাটেরই কয় ধরনের ভ্যারিয়েশন। কয়েকটা নমুনা পাবেন এই লিঙ্কে। http://japanesekat.com/archive/kitkat/

 

আনিমে সাজেশন

গানগ্রেভ[Gungrave]

 

কতখানি ঘৃণা থাকলে প্রিয় বন্ধুকে হত্যা করার জন্য মৃতের দুনিয়া থেকে কেউ ফিরে আসতে পারে? তাই করল ব্র্যান্দন হিট, শুরু হল রক্ত আর বারুদের উৎসব!

 

কেন দেখবেনঃ মাফিয়া জগতকে নিয়ে অল্প যে কয়টা আনিমে আছে, তার মধ্যে গানগ্রেভ একটা। দারুন কাহিনি বিন্যাস, সেই সাথে দুর্দান্ত অ্যাকশান। ভালো লাগবেই। কেন দেখবেন নাঃ কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.০৩

আমার রেটিং ৮

 

মাঙ্গা সাজেশন

রুরউনি কেনশিন [Rurouni Kenshin]

 

অতীতের ক্ষত গালে বয়ে বেড়ানো এক যাযাবর সামুরাই, কেনশিন। তার আসল পরিচয়? তর্কসাপেক্ষে জাপানের সেরা অসিচালক, যুদ্ধের সময় যার নামই হয়ে গিয়েছিল মানুষহন্তা। এরপর?

 

কেন পড়বেনঃ অসাধারণ অ্যাকশান আর কাহিনিবিন্যাস। দারুন আঁকা, বিশেষ করে চোখের এক্সপ্রেশনগুলো দারুন।সিরিজটার সাথে সবাইই কম্বেশি পরিচিত, কিন্তু আমি সাজেসট করছি মাঙ্গাটা পড়ার, কিওতো আর্কের পড়ে আরও একটা মেজর আর্ক থাকে, বিনোদনের দিক থেকে সেটা কোন অংশে কম নয়। হাজিমে সাইতো, আওশি শিনোমরি, এদের “ভাব”  দেখার জন্য হলেও মাঙ্গাটা পড়া উচিত।কেন পড়বেন নাঃ কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৭৫

আমার রেটিং ১০

HIMURA KENSHIN FOREVER by Sazid Hasan Khan

আমার সর্ব প্রথম দেখা অ্যানিমে হইল সামুরাই এক্স। অনেক অনেক আগে দেখা … এবং পরবর্তীতে ভার্সিটি অ্যাডমিশন এর সময় পুনরায় দেখা। প্রথম প্রেম আর তাই ভুলতে পারি নাই। এবং এখন পর্যন্ত আমার সর্বাধিক প্রিয় চরিত্র (এবং আমি নিশ্চিত এইটা পুরাপুরি অপরিবর্তনশীল থাকবে) হল হিমুরা কেনশিন। হিতেন মিতসুরুগি র‌্যু এর সর্বশেষ উত্তরাধিকার… বাকুমাতসু এর রক্তহিমকরা কিংবদন্তীর আততায়ী হিত্তোকিরি বাত্তুসাই। 
কেনশিন সর্বপ্রথম আমাকে আকৃষ্ট করে ওর মুদ্রাদোষ “ওরো” দ্বারা। এততাই যে আমি এখনো মাঝেমধ্যে অবাক হলে বলি, “ওরো”!! যাই হোক, কেনশিন এর জীবন মর্মান্তক ঘটনায় ভরা। শিশুকালে বাবা-মা হারানো, দাস হিসেবে বিক্রি হউয়া এবং নিজের চোখের সামনে ওর সহযাত্রিদের খুন হতে দেখা। এবং সবচাইতে মর্মান্তিক হল নিজ হাতে নিজের ভালোবাসা, যেই নারী তাকে রক্তস্নাত বর্তমান এর মধ্যে থেকেও ভবিষ্যত দেখাতে শিখিয়েছিল, তাকে দ্বিখন্ডিত করা … একজন মানুষের জীবন থেকে পালাতে আর কি লাগে … কিন্তু কেনশিন তার আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হয়নি। “I Wield my sword for the sake of the weak, who in spite of the violence and bloodshed, trying to live peacefully” শত প্রতিকুলতার মাঝেও হাসিমুখ, আর কারো জীবন ছিনিয়ে না নেয়াতে বদ্ধপরিকর, এমনকি তার সবচাইতে ভয়ংকর শত্রু হাজিমে সাইতোও কেনশিনকে টলাতে পারে নাই। সবচাইতে মজার বেপার ছিল ওর character development. কেনশিন কিন্তু পারফেক্ট ছিল না। এমনকি সিরিজ এর মাঝপথ পর্যন্তও কেনশিন ছিল বিভ্রান্ত। নিজের খুনী সত্তা এবং প্রায়শ্চিত্তকারী সত্তার মধ্যে তার লড়াই ছিল একটা গুরুত্বপূর্ন অংশ আমার কাছে। নিজের স্ত্রীকে হত্যা করার বেদনা এত প্রকট ছিল ওর মাঝে যে নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞ্যান করে লড়াই করত যা শিশিও এর সাথে যুদ্ধের আগ পর্যন্ত দেখা গেছে। নিজের সত্তার সাথে তুমুল লড়াই এর পর মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়ে কেনশিন নিজের জীবন এর গুরুত্ব বুঝতে পারে। “Live on kenshin, that way you can use amakekaru ryu no hirameki as u like and you will never be defeated by the hittokiri that’s inside you” কাউরু এর জন্য, ইয়াহিকো এর জন্য, জাপান এর জন্য, নিজের প্রায়শ্চিত্ত এর জন্য… কেনশিন বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা করে। প্রায়শ্চিত্ত এর পথ কন্টকময়, পদে পদে প্রতিপক্ষের আনাগোনা, নিজের উপর সংশয়, নিজের পূর্ব জীবন এর কৃতক্রর্মের ক্ষমা না পাওয়ার নিশ্চয়তা …এসব কিছু মাথায় নিয়েও কেনশিন এর হাসতে পারার ক্ষমতা, সানো/এনিশি এর সমস্তা ঘৃণাকে নিজের উপর নিয়ে তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করার ক্ষমতা … কেনশিন আমার কাছে এইটাই প্রমাণ করছে যে, If you fight with all your heart and soul, if you stand firm to your resolve, the end result doesn not matter…..
HIMURA KENSHIN FOREVER :’)

H Kenshin