Studio Monogatari: Episode 02

MADHOUSE Inc. (Madhouse)

1. madhouse

 

দর্শকমহলে সবচেয়ে পছন্দের আনিমে স্টুডিও কোনটি জিজ্ঞেস করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যেই নামটি শুনা যাবে তা হল ম্যাডহাউজ স্টুডিও! এমনও সম্ভাবনা আছে, আপনি আপনার পছন্দের সেরা আনিমে লিস্টের দিকে তাকালে তার মধ্যে একটি বড় অংশ জুড়ে ম্যাডহাউজের তৈরি সিরিজের রাজত্ব দেখতে পাবেন। স্টুডিওটির এত বেশি জনপ্রিয়তার কারণও আছে অনেক, আর আনিমে তৈরির ক্ষেত্রে innovation ও চমৎকার strategy তাদের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ।

১৯৭২ সালে মুশি-প্রো ছেড়ে চলে আসেন চারজন বিখ্যাত আনিমে ডিরেক্টর মাসাও মারুইয়ামা, ওসামু দেজাকি, ইয়োশিয়াকি কাওয়াজিরি ও শিগেইয়ুকি হায়াশি (রিন্তারো) এবং প্রতিষ্ঠা করেন ম্যাডহাউজ। ম্যাডহাউজের সর্বপ্রথম কাজ Ace wo Nerae! (Aime for the Ace!) [1973].

2. Founders

আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে ম্যাডহাউজের দাপটের সাথে টিকে থাকার জন্যে তাদের নেওয়া কিছু চমৎকার স্ট্র্যাটেজি অনেক কাজে দিয়েছিল-

ম্যাডহাউজ শুরু থেকেই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কাজ করতো। প্রথম কাজ একটি টিভি সিরিজ হয়ে থাকলেও তারা এরপর কোন টিভি সিরিজের দিকে না গিয়ে বরং একের পর এক আনিমে মুভি নির্মাণ করতে শুরু করে। ৮০’র দশকে গান্দাম ও ম্যাক্রসের সাফল্যের কারণে অন্যান্য স্টুডিও যেখানে টিভি সিরিজ নির্মাণের দিকে ঝুঁকে পরে সেখানে ম্যাডহাউজ অনেক বেশি পরিমাণ মুভি তৈরি করতে থাকে, এমনকি বছরে ৪-৫টি করে মুভি রিলিজ দিতে থাকে। এখানে খেয়াল রাখতে হবে যে এই সময়টা এমন ছিল যখন আনিমে মুভি ভাল ফান্ডিং পেত না। ম্যাডহাউজের তখনকার এই মুভিপ্রীতির ফলাফলে আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে মুভি নির্মাণের সাফল্যের পথ তৈরি হয়ে যায়।

  • ৮০’র দশকের শেষের দিকে গিয়ে দেখা যায় অন্য এক চিত্র। মুভি নির্মাণের পিছনে যা খরচ হয় তা মুভির তৈরির লাভের পরিমাণের তুলনায় বেশি। তবে ব্যাপারটি ম্যাডহাউজকে তেমন সমস্যায় ফেলে নি, কারণ তারা অন্যান্য স্টুডিও থেকে এক ধাপ এগিয়ে ছিল – অন্যান্য স্টুডিও হয় টিভি সিরিজ, কিংবা মুভি বা ওভিএ যেকোন একটা লক্ষ্য করে এগিয়ে যেতে থাকলেও ম্যাডহাউজ শুধু এক নির্দিষ্ট ধরণের জিনিস তৈরির পিছনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এসময়ে তারা মুভি থেকে মুখ সরিয়ে তৈরি করা শুরু করে OVA সিরিজ। বছরে একাধিক OVA তৈরি করতে থাকে তারা, আর মাঝেমধ্যে অল্প কিছু মুভি রিলিজ দিত। আনিমের তৈরির ধরণে পার্থক্য আসলেও তাদের কোয়ালিটিতে একটুও পতন ঘটে নি। OVA নির্মাণ তাদেরকে আর্থিক সমস্যার মুখ থেকেও তুলে আনে।
  • বিভিন্ন সিরিজের সাফল্যের ক্রেডিট তখন যেত প্রধাণত এদের ডিরেক্টরদের বা প্রোডিউসারদের কাছে, কিন্তু ম্যাডহাউজ এসে সিস্টেমটার পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। বিভিন্ন প্রোজেক্টের জন্যে ম্যাডহাউজ সব ট্যালেন্টেড নির্মাতাদের যোগাড় করতো। ডিরেক্টরদের দিত তাদের এসব প্রোজেক্টের উপর পূর্ণ ক্ষমতা। এমন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার কারণে তখন থেকে সিরিজের সাফল্যের ক্রেডিট দিতে দেখা যেত আনিমেটির সুডিওকে।
  • ম্যাডহাউজের বিভিন্ন প্রোজেক্টের জন্যে বিভিন্ন নির্মাতাদের পিছনে ছুটে চলার ফলে এমন সময়ে সাতোশি কনের মত অনেক গুণী নির্মাতা উঠে আসেন।
  • ৯০’র দশকের শেষের দিকে তাদের স্ট্র্যাটেজিতে আবার পরিবর্তন আসে, এবার তারা টিভি সিরিজ নির্মাণের দিকে দৃষ্টিপাত করে। অল্প কিছু মুভি তৈরির ব্যাপারটি তখনও চলতে থাকে।
  • ম্যাডহাউজের আনিমে তৈরির ধরণের পিছনে এরপর বড় পরিবর্তনটা আসে ২০০৮ সালের দিকে, যখন জাপানে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। সমগ্র আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতেই বিশাল পরিবর্তন চলে আসে এবং প্রায় সব স্টুডিওকেই তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে হয়। আর এই ২০০৮ সাল থেকেই ম্যাডহাউজের সোনালী যুগের শেষের শুরু হয়। ২০১১ সালে ওসামু দেজাকির মৃত্যুর পর এবং এরই মাঝে অনেক নামকরা স্টাফ ম্যাডহাউজ ছেড়ে চলে যাবার সাথে সাথেই ম্যাডহাউজের সোনালী যুগের সমাপ্তি হয়।
  • নতুন চেহারার ম্যাডহাউজ অবশ্য তাদের পুরানো কৌশল অবলম্বন করতে থাকে, বিভিন্ন গুণী নির্মাতাদের নিয়ে এসে অনেক অনেক টিভি সিরিজ তৈরি করে। সোনালী যুগের সব নামকরা নির্মাতারা ম্যাডহাউজ ছেড়ে চলে যাবার পরেও ম্যাডহাউজ ধীরে ধীরে তাদের নতুন স্টাফদের মধ্য থেকেই অনেক ভাল কিছু ডিরেক্টরদের পেয়ে আসছে এখন।

ম্যাডহাউজ স্টুডিওতে আনিমে ইন্ডাস্ট্রির অনেক জিনিয়াস মস্তিষ্ক কাজ করেছে। তাদেরই অল্প কয়েকজন-

  • Masao Maruyama: ম্যাডহাউজের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম, তিনি স্টুডিও হেড হিসাবে একের পর এক নতুনত্ব নিয়ে আসা সব আনিমে প্রোজেক্টের সূচনা করেন। [শিরোবাকো আনিমেটি যদি দেখে থাকেন, তাহলে মারুইয়ামার আনিমে ভার্শনকে দেখতে পাবেন কিন্তু। সিরিজে Musashino Animation-এর প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেখানো হয়েছে তাকে। স্টুডিওটি ঠিক কোন সত্যিকারের অ্যানিমেশন স্টুডিওকে তুলে না ধরলেও ধারণা করা হয় ম্যাডহাউজ এবং আরও কয়েকটি আনিমে স্টুডিওর বিভিন্ন জিনিস একত্রিত করে আনিমেটিতে দেখানো এই স্টুডিওকে সাজানো হয়েছে।]
  • Satoshi Kon:  নিজস্ব ধাঁচের সিনেমাটোগ্রাফির জন্যে বিশ্ববিখ্যাত এই ডিরেক্টর ম্যাডহাউজ থেকে রিলিজ দেন Perfect Blue [1997], Millennium Actress [2001], Tokyo Godfathers [2003], Paranoia Agent [2004], Paprika [2006]
  • Takeshi Koike: Afro Samurai pilot [2003] দিয়ে নজর কাড়েন, এরপর নির্মাণ করেন Redline [2009]
  • Hiroshi Hamasaki: ডিরেক্টর হিসাবে প্রথম নির্মাণ করেন Texhnolyze [2003], এবং এরপর নিয়ে আসেন Shigurui [2007]
  • Masayuki Kojima: জনপ্রিয় এই ডিরেক্টর নিয়ে আসেন Magical Shopping Arcade Abenobashi [2002], Monster [2003], Piano no Mori [2007]
  • Mamoru Hosoda: তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে এসে ম্যাডহাউজে যোগ দেন ২০০৫ সালে, নির্মাণ করেন The Girl Who Leapt Through Time [2006], Summer Wars [2009]
  • Tetsurou Araki: Death Note [2006], ও Highschool of the Dead [2010] তৈরি করেন এই বিখ্যাত ডিরেক্টর
  • Masaaki Yuasa: Kaiba [2008], Tatami Galaxy [2010] এর মত কিছু জনপ্রিয় অন্য ধাঁচের আনিমে তৈরি করেন
  • Satoshi Nishimura: Trigun [1998], Hajime no Ippo [2000], Trigun: Badlands Rumble [2010] পরিচালনা করেন

3. Genius

এত এত জনপ্রিয় সব মুখ ম্যাডহাউজকে আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষভাবে উঠিয়ে নিয়ে আনলেও ম্যাডহাউজ বেশ কঠিন একটা সময় পার করে কয়েক বছর আগে। ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের এই সময়টিতে ম্যাডহাউজের সোনালী যুগের সমাপ্তি ঘটে যায়। সবার মুখে মুখে ম্যাডহাউজের যেসব বিখ্যাত কাজ নিয়ে প্রশংসার ফুল ফুটে বেড়ায়, সেই সব কাজ উপহার দেওয়া স্টাফদের অধিকাংশই এই কঠিন সময়টাতে ম্যাডহাউজ ছেড়ে চলে যায়।

  • শুরুটা হয় ২০০৮ সালে জাপানের অর্থনৈতিক মন্দা দিয়ে। এই সময়টাতে পুরা আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতেই এক বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ খেলে যায়। এর ধাক্কা এসে লাগে ম্যাডহাউজের গায়েও। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পরে তারা।
  • ২০১০ সালে সাতোশি কনের মৃত্যু শুধু আনিমে ইন্ডাস্ট্রিই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রির জন্যে দুঃখের এক সংবাদ নিয়ে আসে। Dream Machine নামের নতুন এক মুভির কাজ অসমাপ্ত রেখেই বিদায় নেন তিনি।
  • মাসাও মারুইয়ামার সাথে ম্যাডহাউজের স্টাফদের মধ্যে বিভিন্ন কারণে সম্পর্ক খারাপ হয়ে আসছিল অনেকদিন ধরে। এরই জেড় ধরে ২০১১ সালে ম্যাডহাউজ ছেড়ে দিয়ে মারুইয়ামা তৈরি করেন তার নিজস্ব স্টুডিও MAPPA, এবং সাতোশি কনের অসমাপ্ত কাজ Dream Machine মুভির সব স্বত্বাধিকার নিয়ে চলে যান তার নতুন স্টুডিওতে।
  • মাসাকি ইউয়াসা এই সময়ের পর থেকে আর ম্যাডহাউজের সাথে কোনরকমের কাজে জড়িত হন নি।
  • তেতসুরৌ আরাকি ২০১১ সালে ম্যাডহাউজ ছেড়ে দিয়ে Production I.G-তে যোগ দেন, হিরোশি হামাসাকি একই বছর যোগ দেন White Fox-এ। মামোরু হোসোদা সে বছর ম্যাডহাউজ থেকে বের হয়ে এসে তৈরি করেন Studio Chizu.
  • মাসায়ুকি কোজিমা ম্যাডহাউজের হয়ে ২০১১ সালেই তার শেষ কাজ The Tibetan Dog সম্পন্ন করে এরপর Kinema Citrus-এ কাজ করেছেন।
  • সাতোশি নিশিমুরা ২০১০ সালে ম্যাডহাউজের সাথে শেষ কাজ হিসাবে Trigun: Badlands Rumble নির্মাণ করেন। এরপর এখন তিনি মারুইয়ামার সাথে MAPPA-এ গিয়ে Ushio to Tora তৈরিতে ব্যস্ত আছেন।
  • তাকেশি কোইকে-কে ২০১০ সালে বহিস্কার করা হয়। কারণ হিসাবে মারুইয়ামা টুইটারে উল্লেখ করেন রেডলাইন সিনেমা নির্মাণে অনেক বেশি সময় নেবার কারণেই তাকে এই সমস্যার মুখে পরতে হয় [৭ বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল মুভিটি নির্মাণের জন্যে]।
  • এছাড়াও ম্যাডহাউজ থেকে অনেক গুণী Key Animator, Photographer, Director, Animation Director, Storyboard Artist ম্যাডহাউজ ছেড়ে চলে যায় MAPPA, J.C. Staff, Studio Khara, Tezuka Production, T2 Studio ইত্যাদি অন্য অনেক স্টুডিওতে, অনেকে আবার ম্যাডহাউজ ছেড়ে দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কাজে ব্যস্ত আছেন।

ম্যাডহাউজকে ম্যাডহাউজ বানানো এসব নির্মাতা, অ্যানিমেটর চলে যাবার পরে এখন ম্যাডহাউজের কী অবস্থা?

  • ২০১১ সাল থেকে এখন যেই ম্যাডহাউজকে আমরা চিনি তা আসলে সেই আগের যুগের ম্যাডহাউজের ছায়ামাত্র বলা যায়। সোনালী দিনের মত সাফল্য পাওয়া একমাত্র সিরিজ Hunter x Hunter (2011).
  • এই সময়ে Marvel-এর কিছু আনিমে অ্যাডাপশন, Mahou Sensou [2014], Hunter x Hunter এর দুটি মুভি সহ আরও কিছু সিরিজ চরমভাবে ব্যর্থ হয় এবং ম্যাডহাউজকে এ কারণে অনেক সমালোচনা শুনতে হয়।
  • BTOOM! [2012], Photo Kano [2013]-এর মত কয়েকটি Hit or Miss সিরিজ ম্যাডহাউজকে ভয়াবহ বিপদ থেকে কিছুটা মুক্তি দেয়।
  • ডিরেক্টর Morio Asaka তৈরি করেন Chihayafuru [2011], Ore Monogatari!![2015], যা বেশ সুনাম অর্জন করে দর্শকমহলে।
  • ডিরেক্টর Atsuko Ishizuka তৈরি করেন Hanayamata [2014], No Game No Life [2014] এবং এই মুহুর্তের অনগোইং সিরিজ Prince of Stride: Alternative [2016]. তার ট্রেডমার্ক ভিজুয়াল স্টাইলের জন্যে অল্প সময়েই ক্ষ্যাতি ছড়িয়ে পরে তার কাজের।
  • The Ambition of Oda Nobuna [2012], Sunday Without God [2013] নিয়ে আসেন Yuuji Kumazawa.
  • ২০১১ সালের পর প্রথম অরিজিনাল আনিমে হিসাবে ম্যাডহাউজ নিয়ে আসে Death Parade [2015], পরিচালনা করেন Yuzuru Tachikawa.
  • সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাডহাউজের সবচাইতে বড় হিট সিরিজ One Punch Man-এর সাফল্য আনিমে ইন্ডাস্ট্রির জন্যে অনেক বড় এক অর্জন হলেও ম্যাডহাউজের জন্যে দুঃখজনক ব্যাপার হল, নিজস্ব স্টাফদের অবদান এতে সামান্যই ছিল। এই সিরিজ তৈরির পিছনে Key Animator হিসাবে ছিলেন Yoshimichi Kameda (Bones), Yuki Watanabe (Doga Kobo), Se Jun Kim (Sunrise/Bones), Gosei Oda (Bones/Gainax), Arifumi Imai (Wit Studio/Production I.G), Shuhei Handa (Trigger), Yutaka Nakamura (Bones), এবং ডিরেক্টর হিসাবে ছিলেন Shingo Natsume. ম্যাডহাউজের অবদান বলতে যেন ছিল এদেরকে এক টেবিলে বসিয়ে কাজ করানো।

তবে সোনালী প্রজন্মের চলে যাবার পরেও ম্যাডহাউজ এখন আবার মুখ তুলে দাঁড়াচ্ছে ধীরে ধীরে। স্টুডিওটির নিজস্ব কৌশলে পরিবর্তন তেমন আসে নি, গুণী নির্মাতাদের একত্রিত করে এখনও বেশ ভাল সিরিজ উপহার দিয়ে আসছে, অন্যদিকে স্টুডিওর ডিরেক্টররা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও অন্তত ৫-১০ বছর রাজত্ব করার মত সব অস্ত্রই তাদের হাতে আছে!

এতক্ষণ তো গেল স্টুডিওটির ছোটখাট ইতিহাস, এর আনিমেগুলির ব্যাপারে এবার আলোচনা করা যাক। এই এক স্টুডিও থেকে এত বেশি নামকরা সব আনিমে এসেছে যে শুধু বিখ্যাত আনিমেগুলির নাম একের পর এক বলে যেতে থাকলেও ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে যেতে পারে! জনপ্রিয় সব নামগুলির মধ্যে অল্প কিছু নাম উল্লেখ করছি, দেখুন এবং মিলিয়ে নিন এদের কতগুলি আপনি বিভিন্ন আনিমে রিকমেন্ডেশন পোস্ট/ডক/ফোরামে সাজেশন হিসাবে দেখেছেন-

70’s-80’s: Ace wo Nerae!, Barefoot Gen, Legend of the Galactic Heroes MOVIE (1988)

  • Early 90’s: Bio Hunter, The Cockpit, Cyber City Oedo 808, DNA², Memories, Record of Lodoss War
  • Late 90’s: Cardcaptor Sakura, Master Keaton, Perfect Blue, Petshop of Horrors, Trigun, Vampire Hunter
  • 2000-2003: Afro Samurai Pilot, Beyblade [1st Season], Boogiepop Phantom, Chobits, Galaxy Angel, Gungrave, Gunslinger Girl, Hajime no Ippo, Metropolis, Millennium Actress, Space Pirate Captain Herlock: The Endless Odyssey, Texhnolyze, Tokyo Godfathers, Vampire Hunter D (2000), X the Series
  • 2004-2007: Ani*Kuri15, BECK, Black Lagoon, Claymore, Death Note, Dennou Coil, The Girl Who Leapt Through Time, Ichigo 100%, Kaiji, Kemonozume, Monster, Nana, Paprika, Paradise Kiss, Paranoia Agent, Piano no Mori, Shigurui, Strawberry Panic
  • 2008-2010: Aoi Bungaku Series, Needless, Highschool of the Dead, Kaiba, One Outs, Redline, Summer Wars, The Tatami Galaxy, Trigun: Badlands Rumble
  • 2011-Present: Btooom!, Chihayafuru, Death Billiards, Death Parade, Hanayamata, Hunter x Hunter (2011), Mahouka Koukou no Rettousei, No Game No Life, Oda Nobuna no Yabou, One Punch Man, Ore Monogatari!!, Overlord, Parasyte -the maxim-, Photo Kano, Prince of Stride: Alternative, The Tibetan Dog, The Wolf Children Ame and Yuki

Madhouse Anime

ভাল ভাল সিরিজগুলির মধ্যে অল্প কয়েকটি নাম বলাতেই এই অবস্থা! তবে ম্যাডহাউজ যে শুধু আনিমেতেই ব্যস্ত ছিল না নয়, অন্যান্য স্টুডিওর আনিমে নির্মাণেও সাহায্য করেছে বেশ, এমনকি অনেক ওয়েস্টার্ন অ্যানিমেশন, কার্টুন ও বিভিন্ন গেমের সিরিজ নিয়ে আসাতেও সাহায্য করেছে-

 

  • The Animatrix: অধিকাংশ অ্যানিমেশনই ম্যাডহাউজ করেছিল, সাথে ছিল Studio 4°C
  • Batman: Gotham Knight: “In Darkness Dwells” আর “Deadshot”, সাথে ছিল  Production I.G, Studio 4°C ও Bee Train
  • Peanuts: ২০১২ সালে তারা ঘোষণা দেয় এই জনপ্রিয় কমিক স্ট্রিপের অ্যানিমেশন সিরিজ নিয়ে আসবে
  • Wakfu: Wakfu নামের MMORPG গেমের ফ্রেঞ্চ কার্টুন ভার্শন তৈরিতেও ম্যাডহাউজ সহযোগিতা করে
  • Marvel Anime: মার্ভেলের বিভিন্ন সিরিজের আনিমে ভার্শন এনেছে ম্যাডহাউজ, যেমন- Avengers Confidential: Black Widow to Punisher, Blade, Iron Man, Wolverine, X-Men
  • Supernatural The Animation: জনপ্রিয় টিভি সিরিজ Supernatural-এর উপর ভিত্তি করে এই আনিমে নিয়ে আসে ম্যাডহাউজ
  • Collaboration with Studio Ghibli: স্টুডিও জিবলীর কিছু জনপ্রিয় মুভিতে অ্যানিমেশনে সাহায্য করে। এসব মুভি হল- My Neighbor Totoro (1988), Spirited Away (2001), Howl’s Moving Castle (2004), Ocean Waves (1993), Tales from Earthsea (2006).
  • Collaboration with Disney: ডিজনির সহযোগিতায় Stitch! এর আনিমে নিয়ে আনে ম্যাডহাউজ।
  • Game-based Anime: Square Enix-এর Last Order: Final Fantasy VII (OVA), Capcom-এর Devil May Cry এর আনিমে তৈরিতে সাহায্য করে ম্যাডহাউজ।

 

পরিশেষে বলা যায়, সবচেয়ে ভাল সময়টা পিছনে ফেলে এলেও ম্যাডহাউজ এখনও একদম পথে বসে যায় নি, বরং তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে একের পর এক চমক এখনও দিয়ে যাচ্ছে। আর ম্যাডহাউজের সাফল্য তো আসলে আনিমে দর্শকদের জন্যেই খুশির খবর! যদিও ২য় সিজন আনে না বলে একটা অপবাদ গায়ে লেগে গিয়েছে [অল্প কয়েকটা সিরিজ বাদে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কথাটা সত্য], তাও আনিমেভক্তরা আশায় বসে থাকে তাদের পছন্দের সিরিজের আরেকটি সিজন হয়তো এই চলে এল বলে!

কন আর্ট – স্বপ্ন, বিভ্রম আর চলচ্চিত্রের প্রতি প্রেমপত্র — Fahim Bin Selim

১৮ মে, ২০১০।

টোকিওর মুশাশিনো রেডক্রস হাসপাতালে সাতোশি কনের মৃত্যুপাঠ পড়ে শোনানো হল। সাথে ড্রিমিং মেশিন-এরও – স্ক্রিপ্ট আর ১৫০০ এর মধ্যে ৬০০ শট সম্পূর্ণ হওয়ার পরও – কারণ কাপ্তান কন তখন আর তার হাল ধরে থাকার মত অবস্থায় ছিলেন না – তাঁর দর্শন নিয়ে,  নির্দেশনাশৈলী নিয়ে – যে জাহাজ একমাত্র তিনিই সৈকতে ভেড়াতে পারতেন। তিনি যদিও আরও ৩ মাস বেঁচে থাকবেন, কখনো হাসপাতাল বিছানায়, কখনো নিজের বাসার; ক্যান্সারের আক্রমনে ক্রমাগত হার মানতে থাকা অগ্ন্যাশয় নিয়ে। একেবারে কাছের আত্নীয় আর সহকর্মী ব্যতীত বাকিদের কাছ থেকে এ খবর অজানা থাকবে একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত।

এই টোকিওর মুশাশিনো আর্ট ইউনিভার্সিটিতেই সাতোশি কনের হাতেখড়ি, গ্রাফিক ডিজাইনিং এর উপর। যদিও তার জন্ম আর বেড়ে ওঠা হোক্কাইদোর সাপ্পোরোতে। ছোটবেলায় কনের সময় কাটতো ফিলিপ কে. ডিক(Blade Runner) আর ইয়াসুতাকা সুতসুই(The Girl Who Leapt Through Time, Paprika) এর সাই-ফাই উপন্যাস পড়ে, আর দেশী-বিদেশী চলচ্চিত্র দেখে – বিদেশীই বেশি। ১৯৭৪ সালে, কন খুঁজে পেলেন তাঁর পছন্দের দুইটি জিনিসের সংমিশ্রণ – সাইন্স ফিকশনের অবাধ্য কল্পনাশক্তি আর তার সাথে অ্যানিমেশনের চলচ্চৈত্রিক স্বাচ্ছন্দ্যতা, একই কাপে – স্পেস ব্যাটলশীপ ইয়ামাতোতে। সাতোশি কন অ্যানিমের প্রেমে পড়ে গেলেন।

 

অবশ্য তাঁর পেশাদারিত্বের শুরুটা হয়েছিলো মাঙ্গা দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই কনের প্রথম মাঙ্গা – Toriko(১৯৮৪) – কোদানশার তেৎসুয়া চিবা অ্যাওয়ার্ডে রানারআপের পুরস্কার পেয়ে গেল। সাথে তাঁর সুযোগ মিলল কাৎসুহিরো ওতোমোর(Akira, Patlabor, Memories) সহকারী হয়ে যাওয়ার। কন পরবর্তীতে শুধু মাঙ্গাতেই না, স্ক্রিপ্টরাইটার, অ্যানিমেশন ডিরেক্টর হিসেবে ওতোমোর বেশ কয়েকটি অ্যানিমে চলচ্চিত্রের কাজেও সহযোগী ছিলেন। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ১৯৯৫ এর তিনখন্ডের ওভিএ Memories-এর Magnetic Rose অংশ। কন তার প্রথম সিরিয়ালাইজড মাঙ্গা প্রকাশ করে্ন ১৯৯০ তে; Kaikisen – এর কাগজে কাগজে, সাদাকালোর কালির আঁচড়েও তার অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফির পরিচয় পাওয়া যাবে, যা পরবর্তীতে তার অ্যানিমে চলচ্চিত্রগুলোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে পরিচিতি পায়।

027 028

আর এর প্রথমটি ১৯৯৭ এর Perfect Blue। ইয়োশিকাজু তাকেউরার উপন্যাস অবলম্বনে তৈরী এ চলচ্চিত্র প্রথমে হওয়ার কথা ছিলো লাইভ-অ্যাকশনে। পরে কনের হাতে দায়িত্ব পরে ম্যাডহাউজের হয়ে এর অ্যানিমেটেড ওভিএ তৈরি করার। কন দায়িত্ব নিলেন ঠিকই, কিন্তু কাহিনীর মূল অংশ – আইডল, স্টকার আর হ্যালুশিনেশন – কেবল ঠিক রেখে গল্পের পুরো কাঠামোই বদলে নিলেন নিজের মত। যাতে যোগ হল সেসময়কার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা পেতে থাকা ইন্টারনেট। নিজের প্রিয় Slaughterhouse-Five বই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে  Perfect Blue-র গল্প কন বললেন অনেকটা অসংযুক্ত আখ্যানে। যেখানে সময় কেবল সরলরৈখিক না, আর এতে দেখানো ঘটনাও ধ্রুবসত্য না। তা ব্যক্তি আপেক্ষিক। কল্পনা, স্বপ্ন, অবচেতন – সবই ব্যক্তির সময়ের অংশ, বর্তমান-এর অংশ।  পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোতেও যা ঘুরেফিরে এসেছে।

ma

ওভিএ হিসেবে না, ম্যাডহাউজ Perfect Blue-কে মুক্তি দিলো প্রেক্ষাগৃহেই। প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই কন পেয়ে গেলেন দেশি-বিদেশি সমালোচকদের প্রশংসা, । Perfect Blue ডাক পেল বিভিন্ন দেশের ফিল্ম-ফেস্টিভ্যালগুলোয় – পেল তাৎক্ষনিক কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা আর চিরদিনের জন্য কালজয়ী সব সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার মুভিদের পাশে স্থান।

2

চলচ্চিত্র-প্রেমিক কনের প্রথম মুভিতেই তুলে আনলেন বিনোদন-জগতের অন্ধকার দিক। যদিও ঠিক সামাজিক-ভাষ্য প্রদান  বা সমালোচনা   কখনোই তার মূল উদ্দেশ্য ছিলো না। Perfect Blue নিয়ে কনের চিন্তাভাবনা, আর মূলচরিত্র মি্মা কিরিগোয়ের পতন নিয়ে বরং সমান্তরাল টানা যায় । গল্পে মিমা সাধারন এক পপ-আইডল থেকে যতই বিনোদন জগতের উপরের তলায় আরোহণ করতে থাকে – মানসিক আর শারীরিক বিভিন্ন ত্যাগ সহ্য করে – ততই তার কাছে চেতন আর অবচেতনের বিভেদ ভাঙ্গতে শুরু করে। তার আকাংক্ষিত স্বপ্নালোক বিভীষিকায় রুপ নেয়।

আমি যখন Perfect Blue এর কাজ শুরু করি তখন আমার উদ্দেশ্য ছিল ইতিবাচক কিছু বানানো। কিন্তু আমি যতই সামনে আগাতে থাকলাম, ততই  গল্পটা আরো নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছিলো, আর গম্ভীর হয়ে যাচ্ছিলো। একদিক দিয়ে এটা নিয়ে আমি বেশ অসন্তুষ্ট ছিলাম। [১]

 

চলচ্চিত্রের প্রতি কনের ভালোবাসার প্রকাশ তার অন্য মুভিগুলোতেও বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে(Tokyo Godfathers একমাত্র ব্যতীক্রম)। Paprika(2005)-‘র স্বপ্ন আর বাস্তবতা একাকার হওয়ার গল্পে নায়ক কানোকাওয়া পেশায় গোয়েন্দা হলেও, ছিলো ফিল্মস্কুলের ছাত্র। তাই তো তার ঘুমের মাঝে হানা দেয় যৌবনের অপূর্ণ বাসনা – নিজেকে সে আবিষ্কার করে তার প্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর নায়কের ভূমিকায় – কখনো Tarzan-এ, From Russia With Love-এ, অথবা Roman Holiday-তে; কখনো বা আবার পরিচালক হওয়ার প্রচেষ্টায় ব্যার্থ কানোকাওয়া নিজেকে কল্পনা করে স্ব্য়ং আকিরা কুরোসাওয়ার জায়গায়!paprika5

তবে চলচ্চিত্রের প্রতি কনের অকৃত্রিম ভালোবাসার সবচেয়ে বড় নিদর্শন তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র, তার সবচেয়ে সমালোচক-প্রশংসিত-ও, ২০০১ সালের Millennium Actress।

 

Perfect Blue নিয়ে কনের যে অসন্তুষ্টি ছিলো, তা দূর করার উদ্দেশ্যেই Millennium Actress-এর আগমন। এ দুটো মুভিকে যেন এক জোড়া, একই মুদ্রার দুই পিঠ। সাতোশি কন ফিরিয়ে আনলেন তার পুরোনো সেই মূল থিম – আইডল  আর অ্যাডমায়ারার-এর গল্প – কিন্তু এবার সম্পর্কটা অবশেসন এর না, বরং প্রকৃত ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার। কনের  আকাংক্ষিত ইতিবাচক এক ছবি।

আমি যখন প্রযোজকের সাথে Millennium Actress এর কাজ হাতে নিলাম, তখনই আমার লক্ষ্য ছিল আইডল-অ্যাডমায়ারার নিয়ে আরেকটি গল্প বলা। যেন  এদুটি সহোদর চলচ্চিত্র হবে।

শুধু গল্পের দিক দিয়েই না, আখ্যানেও Millennium Actress ছিলো Paprika আর Perfect Blue-‘র মত আনঅর্থডক্স(Tokyo Godfathers এখানেও ব্যতীক্রম!)। পাশাপাশি ভিজুয়ালেও কন নিয়ে আসলেন সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক সিনেমাটিক টেকনিক – Trompe-l’œil. দ্বিমাত্রিক চলমান ছবি দিয়ে ত্রিমাত্রিক বিভ্রম তৈরী করার এর চেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরন হয়তো বড় পর্দায় আর খুব বেশি পাওয়া যাবে না। Millennium Actress তার ৮৭ মিনিটের ব্যপ্তীকাল জুড়ে এক অনবদ্য ট্যুর-ডি-ফোর্স। চিয়োকো ভেসে বেড়ায় স্থান-কাল আর বাস্তব-রুপালী পর্দার রেখার উপর দিয়ে – কুরোসাওয়ার[২] এডোতে, মাঞ্চুরিয়ার প্রোপাগান্ডায়, যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া শহরে, ওযুর[৩] কোন প্রথম-গ্রীষ্ম অথবা বসন্ত-শেষের টোকিওতে, আবার অনেক অনেক দূরের কোন ভবিষ্যতের এক মহাকাশযাত্রায়।

Millennium Actress, সেতসুকো হারা[৪] আর হিদেকো তাকেমিনে[৫] – জাপানের দ্বিতীয় সহস্রাব্দের কালজয়ী সব নায়িকাদের প্রতি সশ্রদ্ধ-স্বীকৃতি, একই সাথে জাপানের ইতিহাস, তার চলচ্চিত্রের ইতিহাসের প্রতি “অ্যাডমায়ার” কনের প্রেমপত্র। সাতোশি কনের আর বাকি সব চলচ্চিত্রগুলো মতই তাতে লজিক গুরুত্বপূর্ণ না, ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মধ্য থেকে কোন বার্তা খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ না – এখানে যাত্রাটাই মুখ্য বিষয়।  আর এ যাত্রা এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা – যা বইয়ের পাতায় পাওয়া সম্ভব না, গানের সুরে পাওয়া সম্ভব না, মানব অভিনীত চলচ্চিত্রেও পাওয়া সম্ভব না।

 

নিশ্চিতভাবেই এই ধারা Dreaming Machine-এও বজায় থাকতো – যেমন কন তার দর্শকদের আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন Paprika-‘র শেষ দৃশ্যে।

drea

কিন্তু সেই সাতোশি কন কিনা ২০১০ এর আগষ্টে মারা গেলেন মাত্র ৪৭ বছর বয়সে!

Dreaming Machine  বের হওয়ার স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে। কিন্তু স্বপ্নই বা খারাপ কী? একটা জিনিস যদি  সাতোশি কনের মুভিগুলো শিখিয়ে দিয়ে থাকে, তবে তা হল: স্বপ্ন আর বাস্তবতা মিশে যেতে খুব বেশি কিছু লাগে না। তাই এখনই মাথায় স্বপ্ন-যন্ত্র চাপিয়ে বসুন আর ঝাঁপিয়ে পরুন কল্পনার জগতে; কে জানে, হয়তো আপনার স্বপ্নের সাথে কনের স্বপ্ন একাকার হয়ে বাস্তবে হানা দিবে টোকিওর রাস্তায় হাঁটতে থাকা কোন টেলিভিশনের পর্দায়।

Paprika-2

 

[১] http://www.midnighteye.com/interviews/satoshi-kon/

[২] আকিরা কুরোসাওয়া – কিংবদন্তী জাপানী চলচ্চিত্র নির্মাতা। উল্লেখযোগ্য কাজ – Seven Samurais, Ikiru, Rashomon.

[৩] ইয়াসুজিরো ওযু – কিংবদন্তী জাপানী চলচ্চিত্র নির্মাতা। উল্লেখযোগ্য কাজ – Late Spring, Early Summer, Tokyo Story.

[৪] সেতসুকো হারা – কিংবদন্তী জাপানী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। উল্লেখযোগ্য কাজ – Late Spring, Early Summer, Tokyo Story.

[৫] হিদেকো তাকামিনে – কিংবদন্তী জাপানী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। উল্লেখযোগ্য কাজ – Twenty-four Eyes, Floating Clouds.

Movie Time With Yami – 35

millennium

Name: Millennium Actress / Sennen Joyuu Chiyoko
Duration: 1 hr. 27 min.
MAL Score: 8.35
Ranked: 187
Genres: Action, Adventure, Drama, Fantasy, Historical, Romance

সাতোশি কন সম্পর্কে যারা জানেন, তারা কন এর কোন মুভি দেখার সময় জানেন কি ধরণের প্লট আশা করতে হয়। এই মুভিটিও তার ব্যতিক্রম নয়। ঘোর লাগানো কল্পনা এবং বাস্তবতার মিশেলে একজন অভিনেত্রীর সফলতার গল্প, ভালবাসার গল্প খুব চমৎকারভাবে তারই অভিনীত বিভিন্ন মুভির দৃশ্যায়নের চিত্রের মাঝ দিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

গল্পটি শুরু হয় একজন ফিল্মমেকারের তার ক্যামেরাম্যানকে নিয়ে একজন জনপ্রিয় প্রাক্তন অভিনেত্রীর বাড়িতে তার ইন্টারভিউ নিতে যাওয়ার মাধ্যমে। তারা যে স্টুডিওতে কাজ করে, এই অভিনেত্রী সেই স্টুডিওতে অনেক বছর যাবৎ সেরা অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। বৃদ্ধা, কিন্তু এখনও লাবণ্য ধরে রাখা অভিনেত্রী চিয়োকো বলতে থাকেন তার অভিনেত্রী হয়ে ওঠার গল্প। কাহিনী চলতে থাকে চিয়োকোর স্মৃতিচারণের গল্পের সাথে সাথে।

এই গল্পটির বর্ণনাশৈলী একেবারেই অন্যরকম, সচরাচর এ ধরণের বর্ণনাশৈলী পাওয়াই যায়না। গল্পটির প্রায় পুরোটাই চলে ফ্লাশব্যাকে, এবং তা দেখানো হয় চিয়োকোর বিভিন্ন বিখ্যাত মুভির শুটিং এর দৃশ্য দেখানোর মাধ্যমে। গল্পটি আমাদের কখনো নিয়ে যায় ফিউডাল জাপানে, কখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, তো কখনো কল্পনার ভবিষ্যতে, যেখানে স্পেসশিপে করে মানুষ পাড়ি জমাচ্ছে মহাকাশে। ফিল্মমেকার এবং ক্যামেরাম্যান যে কখন এই ফ্ল্যাশব্যাকের অংশ হয়ে যান, টেরও পাওয়া যায়না। কোনটা মুভির অংশ এবং কোনটা বাস্তবতা, তা নিজের অজান্তেই অদৃশ্য হয়ে যায় একসময়।

মুভিটির আর্টওয়ার্ক পুরোনো, কিন্তু চমৎকার। একেকটি দৃশ্য একেকভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা কাহিনীর সাথে একেবারে একাত্ম হয়ে মিশে যায়। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের মানানসই ব্যবহার একে দিয়েছে অনন্যতা। আর সেইসাথে বর্ণনাশৈলী একে পরিণত করেছে মাস্টারপিসে।

তাই, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে নিতে পারেন চমৎকার এই মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Millennium-Actress

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 33

tokyo-godfathers

Name: Tokyo Godfathers
Duration: 1 hr. 32 min.
MAL Score: 8.33
Ranked: 199
Genres: Comedy, Drama

আচ্ছা, “গডফাদার” শব্দটা শুনলে চোখের সামনে ঠিক কোন ছবিটা ভেসে ওঠে? মনে হয়না, যে নিশ্চয়ই কোন মাফিয়া বা আন্ডারওয়ার্ল্ড এর গ্যাং লিডার টাইপের কেউ হবে!! মুভিটার নাম দেখে আমিও তাই মনে করেছিলাম। কিন্তু গডফাদারের তো আরেকটা খুব সুন্দর অর্থ আছে! আর এই মুভিটি সেই অর্থটিই অনুসরণ করে।

ক্রিসমাস ইভে টোকিও শহরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে তিন ভবঘুরে। তাদের একজন গৃহহারা, একজন ক্রস ড্রেসার এবং আরেকজন ঘর পালানো বালিকা। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে এবং আবর্জনার মাঝে ব্যবহারযোগ্য জিনিসের খোঁজ করতে করতে তারা হঠাৎ করে একটি ছোট্ট নবজাত শিশু খুঁজে পায়।

শিশুটিকে পেয়ে তিনজনই সংশয়ে পড়ে যায়। তারা নিজেরাই বাস্তুহারা, থাকার জায়গার কোন ঠিক নেই, সেখানে শিশুটিকে নিয়ে কি করবে তারা? একজন চাইল তাকে পুলিশের কাছে দিয়ে দিতে। কিন্তু আরেকজন পুলিশের নাম শুনলেই রেগেমেগে ওঠে। উপায়ন্তর না দেখে সিদ্ধান্তে পৌছানোর আগে তারা শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে দেয়। শুরু হয় শিশুটিকে নিয়ে এই তিন ভবঘুরের দুর্দান্ত অভিযান।

মুভিটির পরিচালক সাতোশি কন, যিনি সাধারণ একটি প্লটকেও অসাধারণ করে তোলার ক্ষমতা রাখেন। টোকিও গডফাদারও তার ব্যতিক্রম নয়। পুরনো ধাঁচের আর্টওয়ার্কের এই মুভিটির কাহিনী বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়, প্রতিটি দৃশ্যই দর্শকের জন্য কোন না কোন চমক তৈরি করে রেখেছে। একই সাথে মজাও লাগে, আবার কষ্টের অনুভূতিও হয় মুভিটা দেখার সময়। আর মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কাহিনীটাকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

তাই, সময় করে এখনই দেখে ফেলুন না এই চমৎকার মুভিটি!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Tokyo-Godfathers

 

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – Special Episode (টিং টং মুভি টাইম)

Perfect Blue

Genres: Drama, Horror, Psychological
Runtime: 80 minutes
Score: 8.13
Ranked: 375

দেখলাম সাতোশি কন এর বিখ্যাত অ্যানিমে মুভি Perfect Blue. জনপ্রিয় পপ আইডল কিশোরী মিমা স্বপ্ন দেখে বিখ্যাত অভিনেত্রী হওয়ার। সেজন্য সে যেকোন উপায়ে তার আইডল পরিচয় মুছে ফেলতে সচেষ্ট। তার ভক্তরা এই সংবাদ পেয়ে যথেষ্ট মনোঃক্ষুণ্ণ হয়। কিন্তু অভিনেত্রী হিসেবে নতুন পরিচিতি পাওয়ার আশায় বেপরোয়া হয়ে মিমা কিছু আপত্তিকর কাজ করে ফেলে, যা তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেতে থাকে। এরই মাঝে সে ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইটের সন্ধান পায়, যেখানে তার রোজনামচা একদম নিখুঁতভাবে লেখা, যেন মিমা নিজেই ওগুলো লিখছে। সবদিক থেকে আসা এত মানসিক চাপ সইতে না পেরে মিমা কল্পনা ও বাস্তবতার পার্থক্য বুঝতে অপারগ হয়ে পড়ে।

মুভিটির কাহিনী অনেক গভীর এবং থট প্রভোকিং, মুভিটির কাহিনীর পেছনে লুকানো একধরনের বার্তা আছে যা নিজে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। আর্ট একটু পুরনো, কিন্তু সবমিলিয়ে অত্যন্ত চমৎকার একটি মুভি। এক্সপ্লিসিট কন্টেন্ট আছে কিছু, তাই আমি অবশ্যই ছোটদের সতর্ক করব যে শুধু বয়স না, মানসিক পরিপক্কতা আসার আগে কেউ মুভিটি দেখো না; কিন্তু এটি মাস্ট ওয়াচ ফিল্মের পর্যায়েই পড়ে।

Tokyo Godfathers review by Torsha Fariha

অবশেষে দেখলাম Tokyo Godfathers. 

নাম শুইন্যা মনে হইসিলো এটা কোন ফাইটিং বেইজড মুভি। (আমি সম্প্রতি Godfather পড়সি কিনা  )

যাই হোক… নামাইতে দিসিলাম এই কারণেই। পরে দেখলাম এক রত্ন খুঁজতে এসে আরেক রত্ন পাইলাম  

tokyo_godfathers

রাস্তার তিন হোমলেস মানুষ গিন, হানা আর মিয়ুকি। গিন হল ফ্যামিলি ছেড়ে আসা মধ্যবয়সী লোক, হানা হল ট্রান্সউইমেন আর মিয়ুকি বাসা থেকে পালানোর টিনএজ মেয়ে। 
এক ক্রিসমাসের আগে তারা জঞ্জালের ভেতর থেকে আবিষ্কার করে একটা বাচ্চাকে। যার বয়স বড়জোর ১-২ মাস। গিন আর মিয়ুকি সাথে সাথেই পুলিশের কাছে বাচ্চাকে দেয়ার চিন্তা করে। কিন্তু হানার জোড়াজুড়িতেই তাকে নিয়ে তাদের বাসায় আসতে হল। 

আসলে হানা চাচ্ছিলো না বাবা মার নাম পরিচয়হীন একটা মেয়ে ফোস্টার প্যারেন্টসের কাছে বড় হোক। তাই তারা তিনজন মিলে বাচ্চাটার বাবা মা খুঁজতে বের হয়। 

এভাবে যাত্রা শুরু হয় তাদের। মুভিটা শুধু কিন্তু বাচ্চাটাকে ঘিরেই আবর্তিত হয় না বরং এখানে উঠে আসে তিন হোমলেসের প্রত্যেকের নিজস্ব কাহিনী। 

এমন একটা কাহিনী নিয়েই টোকয়ো গডফাদার চলতে থাকে। এখানে হিউমার যেমন আছে তেমনি মন ভারী করে তোলার উপকরণও আছে। শেষের দিকে আছে চমৎকার টুইস্টও।

যেহেতু মুভিটা সাতোশি কোনের ডিরেকশনে তৈরি তাই না দেখার কোন কারণই নেই।  

আমি জানি প্রায় সবাই এই মুভিটা দেখে ফেলেছেন। তবু আশা করছি কেউ হয়তো দেখেননি এখনো কিন্তু এটা পড়ার পর দেখার আগ্রহটা তৈরি হবে।

 

ট্রেলার:

http://www.youtube.com/watch?v=7Q6mcx2qF4Q

Perfect blue : Anime Review by Torsha Fariha

কিরিগোয়ে মিমা। জাপানের খুব জনপ্রিয় এই পপ আইডল হঠাৎ করেই তার ক্যারিয়ার চেঞ্জ করে ফেলে। অ্যাকট্রেস হবার ধ্যানজ্ঞান নিয়ে সে একদম গোড়া থেকে আবার তার ইমেজ গড়া শুরু করে। কিন্তু মিষ্টি মিষ্টি হাসিখুশি কিশোরী পপ আইডল ইমেজ যেন তাকে ছেড়েই যায় না। তাই বাধ্য হয়েই সে একসময় একটি ড্রামাতে রেপ সীন করতে রাজি হয়।

এই দৃশ্যে অভিনয় করে মিমা রাতারাতি তার আগের খোলস ছেড়ে মিডিয়ার লাইম লাইটে চলে আসে। শুরু হতে থাকে একের পর এক ইন্টারভিউ আর ফটোশ্যুট। এর মাঝে কিছু ন্যুড পিকও থাকে যার কারণে দর্শকরা তাকে নতুন করে পরিণত মিমা হিসেবে ধীরে ধীরে গ্রহণ করতে থাকে।

কিন্তু এতে করে খুব বাজে একটা ইফেক্ট পড়ে মেয়েটার উপর। তার ভেতর অপরাধবোধ জন্ম নেয় এই ধরণের কাজের জন্য। মনের গভীরে সে অনুতপ্ত হতে থাকে কেন সে আইডল মডেল থেকে অ্যাকটিং এর দিকে পা বাড়ালো।

ঠিক সেই সময় মিমা ইন্টারনেটে খোঁজ পায় ‘মিমা’স বেডরুম’ নামে একটা রহস্যময় হোমপেইজের। যেখানে একটা অপশন থাকে ‘মিমা’স ডায়েরি’। সে অবাক হয়ে দেখে ঠিক সে যা যা করেছিল গতকাল, কিংবা আজকে সবই নিখুঁত করে লেখা সেখানে। এবং সেই রেপ সীনের পরের দিন থেকে সেই ডায়েরিতে বারবার লেখা ‘হেলপ মি’ , ‘আমার এই জগতে আসাই ঠিক হয় নি…’ , ‘আমি পপ আইকন হিসেবেই ভালো ছিলাম…’ ইত্যাদি কথাবার্তা। ঠিক মনের গভীরে মিমা যেই সব কথা ভাবছিল সেইগুলাই সেখানে লেখা…

এভাবে ওর মনের ভেতর দুটো সত্ত্বার টানাপড়েন চলতেই থাকে । একসময় মিমা তার চারপাশের বাস্তবতা আর কল্পনাকে এক করে ফেলে…

তার মনে হতে থাকে ঘুমের মধ্যে সে যে স্বপ্নটা দেখেছে কিংবা মিমা’স ডায়েরিতে যেসব কথা লেখা হতে থাকে প্রতিদিন হয়তো সেগুলোই সত্যি… আর তার রিয়েলিটি দিন দিন ধোঁয়াটে হতে থাকে…

মোটামুটি এই রকম একটা কাহিনী নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘পারফেক্ট ব্লু’ অ্যানিমেশন মুভিটা। জ্যাপ অ্যানিমেশন মুভির মধ্যে এই ধরণের আর্ট আমার খুব ভালো লাগে। কাহিনীটা একটু গ্লুমি বাট আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।

 

http://www.youtube.com/watch?v=eN_XcMuvOz0