Bloom Into You [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz
দুঃখজনক ভাবে এনিমে কমিউনিটির খুব বড় একটি অংশ এনিমেতে ইয়ুরি কিংবা ইয়াওয়ি ট্যাগ দেখলেই এনিমেগুলোকে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেয় অর্থাৎ কখনোই দেখে না এবং সত্যি কথাতে তাদের দোষ দেয়া যায় না। বেশিরভাগ সময় এসব শৌজো এ আই মার্কা শোগুলি নির্লজ্জ ফ্যানসার্ভিস দিয়ে কিছু টাকা বাগানোর জন্যই বানানো হয়। গত বছরের (২০১৮) শুরুর সিটরাস তার একটি উদাহরণ। কিন্তু যখন আসলেই একটা ভালো ইয়ুরি কিংবা ইয়াওয়ি এনিমে আসে যেখানে তাদের সেক্সুয়্যালিটি কোনো ফ্যানসার্ভিস নয় বরং চমৎকার চরিত্রায়ন এবং গল্প বলার মাধ্যমে ফোটানো হয় তখন সেটা আর কেউ দেখে না।
গত বছরের (২০১৮) জমজমাট ফলের এনিমের মধ্যে এই রত্নটা প্রায় হারিয়েই গেছে। এর বড় একটি কারণ সিটরাস মোটামুটি ইয়ুরি জিনিসটাকেই একটি হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করেছে। ব্লুম ইন্টু ইয়ু কেবল আমার দেখা সেরা শৌজো এ আই এনিমেই নয় বরং আমার প্রিয় রোমান্টিক এনিমে হবার দাবি রাখে যদিও ওই ক্যাটাগরিতে কারে কানো আর টোরাডোরা ছাড়া কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেবার মতো নেই। সিরিজটার পরিচালনা থেকে শুরু করে দৃশ্য পরিকল্পনা, সিনেমাটোগ্রাফি, মিউজিক্যাল স্কোর প্রতিটি অংশই প্রশংসার দাবীদার।
খুব কম টিভি সিরিজ তরুণ বয়সের রোমান্সের বিষয়টা বুঝে। বাইরে থেকে সবার কাছেই মনে হয় যে যখনই তোমার “সউল মেট”কে দেখবে তখন সময় তোমার জন্য থেমে যাবে কিংবা সবকিছুই তখন মধুর মনে হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সত্যিতে ওই মুহূর্তটা ডিজনির জমকালো রূপকথার তুলনায় কিছুটা হতাশজনক। সিরিজটি যতটুকু রোম্যান্টিক তার চেয়ে বেশি বেশি ইয়ুই এবং অন্যান্য চরিত্রের আত্মবোধ নিয়ে। এখানে নানামি ইয়ুইকে মেয়ে বলে ভালোবাসে নি বরং ভালবেসেছে কারণ সে মনে করে যে ইয়ুই তাকে বুঝতে পারবে এবং কেবল ইয়ুই এর সাম্নেই সে তার সত্যিকারের নিজেকে প্রকাশ করতে পারবে। এই জিনিসটার আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে যে এখনে হোমোসেক্সুয়্যালিটির বিষয়টা কোনো আচরণ-ধর্ম নয় বরং দুইজন “মানুষের” দুইজন “মানুষ”কে ভালোবাসা দিয়ে প্রকাশ করেছে। এখানে আমি মানুষ শব্দটিতে গুরুত্ব দিচ্ছি কারণ এরকম অন্যসব এনিমের মতো এটা নির্লজ্জ সেক্সুয়াল এপিলে ভর করে না।
সত্যি কথাতে এনিমেতে রোমান্সজিনিসটা এতোই স্ল্যাপস্টিক কমেডি নির্ভর যে এরকম লীলায়িত এবং সিরিয়াস ধরণের গল্পবলাটা অপ্রত্যাশিত ছিলো আর এনিমেটা যখন ইয়ুরি তখন জিনিসটা আরো ইম্প্রেসিভ। এই সিরিজের টোন অন্যসব রোমান্স নয় বরং কিছু স্লাইস অফ লাইফ জন্রার সিরিজ যেমন কিডস অন দ্যা স্লোপ কিংবা মার্চ কামস ইন লাইক এ লায়ন এর সাথে সদৃশ।
Kokkoku [রিকমেন্ডেশন] — Towhid Chowdhury Faiaz
এই এনিমেটির নাম এনিমে কমিউনিটির সবারই কমবেশি জানা আছে এবং এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এর এনিমে ওপেনিং। এই এক এনিমে ওপেনিং পুরো কমিউনিটিতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। ট্যাঙ্ক এবং এ ক্রুয়েল এঞ্জেলস থিসিসের পরে এই প্রথম মনে হয় আমি কোনো এনিমের ওপেনিং স্কিপ করিনি একবারও। কিন্তু খালি ওপেনিং ভালো হলেই সব হয় না। যদিও এনিমেটাকে চমৎকার কিংবা অসাধারণ বলা যাবে না তাও বলবো এর অসাধারণ কনসেপ্ট,কিছু চমৎকার কাহিনীগত উদ্ঘাটন রয়েছে যা আপনাকে ইমপ্রেস করবে।
কাহিনীটা যদিও অসম্ভব রকমের প্রিটেনশিয়াস এবং সুডো ভিত্তিক বিজ্ঞান কল্পকাহিনী কেন্দ্র করে লেখা।মাত্রই চাকরির এক ইন্টার্ভিউ দিয়ে আসা জুরিকে তার বড় বোন ফোন করে তার বড় বোনের ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসার জন্য বলে।বাসায় এসে জুরি তার বেকার বড় ভাইকে এই কাজে পাঠায়। কিছুক্ষণ পরেই সে একটি ফোনকল পায় যে তার বড়ভাই এবং মাকোতোকে কিডন্যাপ করা হয়েছে এবং তারা টাকা দাবি করে। এরকম সময়ে জুরির দাদা এমন একটি পাথর তাদের দেখায় যার মাধ্যমে সময় আঁটকে রাখা যায় পৃথিবীর। এই সময়ে কেবল যারা পাথরটা ব্যাবহার করেছে তারা ছাড়া অন্য কেউ চলাচল করতে পারবে না এবং তারা পাথরের মতো আঁটকে থাকবে কারণ সময় বন্ধ কিন্তু জুরি তার দাদা এবং বাবা যখন কিডন্যাপারদের হাত থেকে তার বড় ভাই এবং মাকোতোকে উদ্ধার করতে যায় তখন দেখে কিডন্যাপাররাও তাদের মতো চলাচল করতে পারছে এবং পুরো কিডন্যাপটাই একটা ট্র্যাপ ছিলো তাদের কাছ থেকে সেই বিশেষ পাথরটা নেবার জন্যই।এখান থেকেই শুরু হয় কক্কোকু এনিমের মূল কাহিনী। সিরিজের পুরোটা সময়ই তারা এই সময় থেমে থাকা স্ট্যানিস নামক এই পৃথিবীতে আটকিয়ে থাকে এবং বের হবার চেষ্টা করে।
সিরিজটা দেখে আমার নিকোলাস কেজের Knowing সিনেমাটার কথা মনে পড়ে গেলো। ওই সিনেমাটার সবই ঠিক থাকলেও শেষটা খুবই উদ্ভট এবং আধ্যাত্মিক রকমের ছিলো। কাহিনীগত দিক দিয়ে কক্কোকু এবং নোয়িং এর মিল না থাকলেও কাহিনীর সমাপ্তির প্রতি আমার মনোভাবটা একই।এন্ডিংটা একটু বেশি আধ্যাত্মিক হয়ে গেছে তা ছাড়া বাকি সবই ঠিক ছিলো।
সব মিলিয়ে এনিমেটা ভালোই। খুবই ভিন্নধর্মী একটি কনসেপ্ট এবং মোটামোটি ভালোই এক্সিকিউশন ছিলো ওই কনসেপ্টের। একটু ভিন্নধর্মী সাইয়েন্স ফিকশন কিংবা সুডো সাই-ফাই এর প্রতি আকর্ষণ থাকলে এটা রেকোমেন্ডেড।
Dallos [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz
এনিমে: Dallos
পর্ব সংখ্যা: ৪
একবিংশ শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে এতোই বৃদ্ধি পায় যে পৃথিবী মানুষদের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এমনই সময় মানুষ বেঁচে থাকার জন্য চাঁদের খনিজ সম্পদকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। এভাবেই চাঁদে মানুষদের বসবাস শুরু হয় কিন্তু পুরনো প্রজন্মের যারা পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য চাঁদে এসেছে তাদের দৃষ্টি এবং নতুন প্রজন্মের যারা পৃথিবীকে কখনো না দেখা সত্তেও পৃথিবীর জন্য কাজ করতে বাধ্য হয়েছে তাদের দৃষ্টি কি কখনো এক হতে পারে? এটিই ড্যালাস গল্পের কাহিনীর মূল ভিত্তি।
ড্যালাস এনিমেটার নাম প্রথম আমি প্ল্যানেটস এবং রয়্যাল স্পেস ফোর্স এনিমের রেকোমেন্ডেশন ফরামে খুঁজে পাই। যেহেতু ওই দুটি এনিমে অনেক ভালো লাগে সেহেতু এই এনিমেটা দেখার জন্য অনেক আগ্রহ জন্মে। একটু ঘাঁটা-ঘাঁটি করার পর দেখি এই এনিমের পরিচালক গোস্ট ইন দ্যা শেল এর পরিচালক মামোরু অশী। এই কাজটা তার একদম প্রথম দিকের।
এই এনিমের সবচেয়ে শক্তিশালী জিনিসটি হলো এর কাহিনীর বিষয়বস্তু। চাঁদে মানুষের কলোনি হলে এক সময় ভবিষ্যৎ কীরকম হবে তার একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি এই এনিমেটা প্রকাশ করে। কাহিনীর মূল অংশটুকু ভালো হলেও চিত্রনাট্যের অনেকটুকু অংশই খুবই দুর্বল ছিলো। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এনিমেটার দুর্বল চরিত্রায়ন। কোনো চরিত্রকেই এই এনিমেতে বিশেষ মনে হয় নি আর এনিমে শেষ হবার আগেই আপনি চরিত্রগুলোর নাম ভুলে যাবেন। পরিচালনার দিক দিয়েও এনিমটা অসম্ভব রকমের হতাশ করেছে আমাকে। এই এনিমেটার ৩ বছর পর মামোরু অশী অ্যাঞ্জেল’স এগ পরিচালনা করেন যা আমার মতে কেবল এনিমে নয় বরং সিনেমা পরিচালনার সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিটি মুহূর্ত এর চমৎকার দৃশ্য পরিচালনার জন্য স্মরণীয় কিন্তু ওই তুলনায় ড্যালাস একদম সাদা-মাটা। ড্যালাসের পরিচালনা এবং দৃশ্য পরিচালনা অনেক ভালো করা যেতো।
এনিমেটা যে খারাপ তা নয় কিন্তু এনিমেটার যেই কাহিনী এবং থিম-সেটিং ছিলো সেটা দিয়ে ২ ঘণ্টার একটি চমৎকার এনিমে ফিল্ম কিংবা ১২ পর্বের সিরিজ বানানো যেতো। হয়তবা অশীর প্রথম দিকের কাজ বলে এতো ভুল হয়েছে এনিমেটাতে। বর্তমান অশী যদি এখন এই এনিমেটা নিয়ে কাজ করে তাহলে আমি নিশ্চিত এটি কমপক্ষে ৮/১০ এর মতোই একটি সিরিজ হবে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে এই এনিমেটা ৫-৬/১০ এর মতো একটি সিরিজ।
খুবই ভিন্ন এবং বাস্তব অনেকগুলো বিষয় এনিমেটা দেখিয়েছে এবং কাহিনীটাও বেশ ভালো যদিও এর দুর্বল চিত্রনাট্য এনিমেটার অনেক ক্ষতি করেছে। “দেখতেই হবে” এমন ধাঁচের কোনো এনিমে না কিন্তু আপনি যদি মামোরু অশীর ফ্যান হয়ে থাকেন তাহলে দেখতে পারেন।
Only Yesterday [মুভি রিভিউ/রেকোমেন্ডেশন] — Towhid Chowdhury Faiaz
Only Yesterday (Omoide Poroporo)
পরিচালক: ইসাও তাকাহাতা
প্রযোজনা: স্টুডিও জিব্লি
অনেকেই হয়তবা ইতিমধ্যে শুনেছেন যে স্টুডিও জিব্লির সহ-নির্মাতা এবং গ্রেভ অফ দা ফায়ারফ্লাইস, টেইল অফ দা প্রিন্সেস কাগুয়া খ্যাত পরিচালক ইসাও তাকাহাতা আমাদের মধ্যে আর নেই। বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার মৃত্যুতে তাকে শ্রদ্ধা করে আমি তার করা ছবিগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় ছবিটাকে নিয়ে কথা বলতে চাই।
“আমাদের শৈশবকাল আমাদের স্মৃতি থেকে বিস্মৃত হইয়া গেলেও,
শৈশবকালের স্মৃতি হইতে আমরা বিস্মৃত হই নাই”
কোনো এক কালে স্কুলে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোনো এক গল্পে যেন পড়েছিলাম এই জিনিসটা।আমাদের জীবনের পথে যত দিন আমরা পার করি ততই আমরা অতীতের দিনগুলোকে ভুলে যাই।ছোটবেলার ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা আমরা ত্যাগ করি বড় হবার এই জীবনের বাস্তবতার জন্যে।
স্টুডিও জিব্লির বেশির ভাগ ছবিগুলোর মতো এখানে কোনো কাল্পনিক কিংবা অতিপ্রাকৃত কিছু নেই এই ছবিতে। তায়েকো অকাজিমা ২৭ বছর বয়সী একজন সিঙ্গেল চাকরিজীবী যে শহরে সবার মতোই সাদামাটা একটি জীবন বসবাস করছে। ছবিটা শুরু হয় সে তার বোনের জামাইয়ের গ্রামে ছুটি কাটাতে যাচ্ছে এমন একটি সময় থেকে। তার নিজের কোনো কাছের আত্মীয় গ্রামে থাকে না বলে তাকে তার বোনের জামাইয়ের গ্রামে যেতে হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে এতটুকুই গল্পের মূল কাহিনী। বাকি পুরোটা সময় আমরা তায়েকোর সাথে তার স্মৃতিচারণা এবং তার অভিজ্ঞতার একজন যাত্রী হিসেবেই কাটাই।
“আমি আশা করি নি যে আমার পঞ্চম শ্রেণীর আমিকেও আমি এই যাত্রায় নিয়ে যাবো” এভাবেই তায়েকো পুরো যাত্রাজুড়েই নিজের পঞ্চম শ্রেণীর শৈশবেই হারিয়ে যায়। কিছু স্মৃতি মিষ্টির মতো মধুর হলে কিছু স্মৃতি আবার বিজড়িত করে এমন।জীবনের প্রথম পিরিয়ড হওয়া থেকে শুরু করে তার জীবনের প্রথম পছন্দ হওয়া সবকিছুই যেন তার মনে পড়তে শুরু করে। তখন তায়েকোই নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে এটা কেন হচ্ছে। হয়তবা শৈশবের তায়েকো এই ব্যস্ত শহুরে চাকরিজীবী তায়েকোকে জীবন উপভোগ করার নতুন উপায় শিখাচ্ছে।
ছবিটিতেই কোনো বড় কোনো দৃষ্টি আকর্ষণীয় কিছু নেই। ছবিটা এর হৃদয়ে একটি মেয়ের স্মৃতিচারণা এবং বাঁচতে শিখা নিয়েই তৈরি। নেই কোনো প্রেম কিংবা ধরণের প্যাঁচ বরঞ্চ ছবিটা আমাদের জীবনের একটি বাস্তব এবং মিষ্টি প্রতিচ্ছবি। ছবিটা দেখে অসম্ভব নিজের শৈশবকালে হারিয়ে না যাওয়া। দেখতে দেখতে কখন যে আপনি আপনার নিজের জীবনের শৈশবে ফিরে যাবেন তা টেরই পাবেন না।
ছবিটার একটি চমৎকার দিক হচ্ছে এর স্মৃতিচারণার দৃশ্যগুলো। আপনি খেয়াল করে দেখেন যে ১০-১৫ বছর আগের কথা আপনি মনে করতে গেলে আপনি কতটুকুই বা মনে করতে পারবেন।কেবল নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা কিন্তু আপনি যখন ওই স্মৃতির আশে পাশের জিনিসগুলো মনে করবার চেষ্টা করবেন তখন দেখবেন যে জিনিসগুলো স্মৃতির সাথে সাথেই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।ইসাও তাকাহাতা টার বিচক্ষন পরিচালনার মাধ্যমে অসম্ভব রকমের সৌন্দর্যের সাথে ফুটিয়ে তুলেছে।ছবির মিউজিকাল স্কোর আমার জীবনের শোনা সবচেয়ে প্রশান্তপূর্ণ স্কোর। প্রতিটি গান আপনাকে আপনার শহুরে বাস্তব জীবন থেকে শিথিল করবে। মুভিটার শেষ গানটি আমি আজও বৃষ্টির দিনে বারান্দায় বসে শুনি।আমার অসম্ভব রকমের প্রিয় একটি গান।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইংরেজি ডাব নাকি অরিজিনাল জাপানিজ ভাষারটা দেখবো? ব্যাক্তিগতভাবে অামি জাপানিজটা দেখতে বলবো কারণ ডাবের রেন্ডারিং একটু সমস্যা অাছে যদিও ডেইসি রিড্লের কন্ঠ অভিনয় জাপানিজ মিকি ইমাই থেকে ভালো হয়েছে।
আমি কোনো চলচিত্রবোদ্ধা কিংবা বিশ্লেষক নই কিন্তু আমি বলবো যে Only Yesterday আমার জীবনের দেখা সেরা চলচিত্রগুলোর মধ্যে একটি।আশা করি না দেখে থাকলে ছবিটি দেখে নিবেন।ছবি শেষে আপনার ঠোঁটে মুচকি একটি হাসি ফোটাতে ছবিটি ব্যর্থ হবে না বলেই আমি আশা করি।
Holyland [মাঙ্গা রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz
Holyland
জনরাঃ অ্যাকশন-ড্রামা, মার্শাল আর্ট, সেইনেন
চ্যাপ্টারঃ ১৮২
MAL Link: Holyland
আমি সব সময়ই বড় অ্যাকশন মাঙ্গা এড়িয়ে চলবার চেষ্টা করি কারণ গ্রাফিক নভেলের মতো মাঙ্গার চিত্র একটি ফাইটের উত্তেজনা ফুটিয়ে তুলতে পারে না। বার্সারক, ভিনল্যান্ড সাগার মতো মাঙ্গা গুলোর অ্যাকশনের চিত্র গুলো দেখতে সুন্দর কিন্তু সেখানে চরিত্রগুলোর মনোভাব বা তাদের মানসিক অবস্থা ফুটিয়ে তুলতে পারে না। এইটাই এই মাঙ্গার সবচেয়ে বড় অর্জন। মাঙ্গাকা চমৎকার ভাবে প্রতিটি লড়াই ফুটিয়ে তুলেছে।
কাহিনীঃ ৯/১০
কাহিনীটি খুব সাদামাটা ভাবে শুরু হয়। কামিশিরো একজন সাধারণ হাই স্কুল ছাত্র যে জীবনে নিজের জায়গা খুজে বের করার চেষ্টা করছে। সারাজীবন তাকে স্কুলের ছাত্রদের বহু অত্যাচার এবং আপমান সইতে হয়েছে। বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাবার জন্য সে বিভিন্ন মারামারিতে জড়িয়ে পরে। এখান থেকেই শুরু হয় হলিল্যান্ড মাঙ্গার যাত্রা। মাঙ্গার প্রতিটি পাতার সাথে সাথে এর কাহিনী জটিলতা বৃদ্ধি পায়। কামিশিরোর মারামারির জন্য সে জড়িয়ে পরে অনেক ভয়ংকর গ্যাং যুদ্ধে। এখন তাকে তার প্রিয় মানুষগুলোকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করতে হবে। প্রথম দেখায় মনে হয় যে,কাহিনীতে নতুনত্বের কিংবা ভিন্নতার কোন সুযোগ নেই কিন্তু মাঙ্গাটি দুর্দান্ত ভাবে নিজের চরিত্র এবং তাদের কাহিনীগুলোকে সাজিয়ে নেয়।লড়াই গুলো থেকে এখানে প্রতিটি চরিত্রের জীবনযাত্রা এবং তাদের লড়াইয়ের পেছনের অনুভূতি মাঙ্গার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই বলতে যে লড়াই গুলো গুরুত্বপূর্ণ কিংবা আকর্ষণীয় নয় সেরকম না। আমি আগেই বলেছি যে, এই মাঙ্গাকে অ্যাকশনের দিক থেকে হারানো খুবই কষ্টকর হবে অন্য যেকোন মাঙ্গার জন্য। এটা কিছুটা ইভাঙ্গেলিওনের মতো।ইভাঙ্গেলিওনে যেমন দুর্দান্ত ম্যাকা ব্যাটল আছে কিন্তু এটা কাহিনীর শুধুমাত্র একটি ছোট অংশ। এই মাঙ্গাটিও ঠিক সেরকম। মাঙ্গাকা লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে মাঙ্গা লেখার আগে গবেষণা করেছেন। মার্শাল আর্ট, তাইকনডু কিংবা জুডো সব ধরনের লড়াইয়ের কৌশল দুর্দান্ত ভাবে মাঙ্গাতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
চরিত্রায়নঃ ৯/১০
মাঙ্গাটির প্রতিটি চরিত্র কাহিনীর সঙ্গে বেড়ে উঠে। বড় মাঙ্গাগুলোতে সবসময় চরিত্রের পরিচালনা নিয়ে সমস্যা থাকে। মাঙ্গার কাহিনী বড় হওয়ায় অনেক সময় দেখা যায় মাঙ্গা নতুন চরিত্র যখন যোগ করে তখন সেই চরিত্রগুলোর কাজ শেষ হবার পর তাদেরকে আর ব্যাবহার করা হয় না।ভাগ্যিস Holyland মাঙ্গাটি এই রোগটিতে ভুগে নি। এই মাঙ্গা প্রতিটি চরিত্রকে যেমন তাদের নিজেদের আর্কের সময় সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাবহার করে তেমনি তাদের আর্ক শেষ হবার পর তাদেরকে আবার কাহিনিতে এনে তাদের সম্পূর্ণ সামর্থ্যের পূর্ণ ব্যাবহার করে। এই মাঙ্গাটি নাওকি উরাসাওয়ার মতো চরিত্রের পরিচালনা করে।সকল চরিত্রকেই তাদের সামর্থ্যের সম্পূর্ণ প্রয়োগ করে এই মাঙ্গা। মাঙ্গার কাহিনী যত আগায় আমরা ততই প্রতিটি চরিত্রের সাইকোলোজি বিশ্লেষণ করা হয়। আমরা পাঠক হিসেবে কামিশিরোকে একটি ভীত ছেলে হতে সবচেয়ে ভীতিজনক ফাইটার হতে দেখি।কামিশিরোর জীবন যাত্রা এবং কিভাবে তার জীবনকে তার প্রতিপক্ষরা প্রভাবিত করেছে এটি মাঙ্গাটির মূল ভিত্তি।
চিত্রঃ ৯/১০
মাঙ্গাটির চিত্রায়ন অন্যান্য অ্যাকশন মাঙ্গার তুলনায় ভিন্ন।লড়াইয়ের সময় লড়াই কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ডের পরিবর্তে চরিত্রগুলোর মনোভূতি, তাদের সাইকোলোজি এবং তাদের পরিকল্পনাকেই ফুটিয়ে তলেছে। মাঙ্গাটির ব্যাকগ্রাউন্ড এবং চরিত্রগুলোর জন্য ব্যাবহার করা গাড় কালার শ্যাডিং মাঙ্গাটিকে দুর্দান্ত মানিয়েছে।
প্রতিটি লড়াইয়ের পেছনে লুকিয়ে থাকে অনেক অনুভুতি,ইতিহাস এবং তাদের কারণ। নিজেদের বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাবার জন্য আমরা সবাই নিজেদেরকে বন্দি করে রাখি নিজেদের তৈরি খাঁচার মধ্যে। Holyland মাঙ্গাটি এই খাঁচা থেকে বেরিয়ে জীবনের অগ্রগতির গল্প নিয়েই।আমার পড়া সেরা অ্যাকশন মাঙ্গা। আশা করি মাঙ্গাটি পড়ার জন্যে আপনাকে মানাতে পেরেছি।না পারলেও আশা করি আপনি একটু বিশ্বাস নিয়ে মাঙ্গাটির প্রথম চ্যাপ্টারটি পড়ে দেখবেন।
আমার রেটিংঃ ১০/১০
Sundome [মাঙ্গা রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

জনরা- ইরোটিক, সাইকোলোজিকাল, রোমান্স
চ্যাপ্টার-৭৬
MAL Link-https://myanimelist.net/manga/1501/Sundome
এই মাঙ্গাটি দেখতে হয়তোবা হেনটাই মাঙ্গা মানে হতে পারে,এটা পড়তেও হেনটাই মাঙ্গা মনে হতে পারে কিন্তু এটি হেনটাই কিংবা এচ্চি নয়।মাঙ্গাটি পড়ার আগে কিছু জিনিস নিয়ে সাবধান থাকবেন।প্রথমত,১৮ বছরের নিচে যারা আছেন তারা না পড়লেই ভালো কারণ তারা মাঙ্গার মুল উদ্দেশ্যটি বুঝতে না পারার সম্ভাবনা অনেক বেশি। দ্বীতিয়ত,আপনি যদি খুব সহজেই অফেন্ড্যাড হয়ে থাকেন তাহলে মাঙ্গাটি আপনার জন্য নয়।মাঙ্গাটি কিশোর বয়সের বহু যৌনগত বিষয়ের উপর।
কাহিনীঃ ৮.৫
“Sundome” শব্দটির অর্থ হচ্ছে “কোন কিছু শেষ হবার আগ মুহূর্তে থামা”।মাঙ্গার মূল কাহিনীটি মূলত এই নিয়মটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়।হিদেও আইবা এক সাধারণ ছাত্র যে স্কুলের রোমান ক্লাবের সদস্য।তাদের ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য যতো সব উদ্ভট জিনিস আছে তা নিয়ে গবেষণা করা।যেমন এলিয়েন কিংবা ভুতের বাড়ি।ক্লাবটি অনেক প্রভাবশালী মানুষদের দিয়ে চালিত।কেউ যদি ক্লাবের শর্ত না ভেঙে স্কুল পাশ করতে পারে তাহলে তাদেরকে ভালো জায়গায় চাকরি কিংবা পড়া-লেখা করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। শর্তটি হচ্ছে কোনো রোমান ক্লাব মেম্বার তাদের হাই স্কুল উত্তীর্ণ করার পূর্বে তাদের কুমারত্ব হারাতে পারবে না।হিদেও আইবার স্কুলের প্রথম বছর কুরুমি সাহানা নামের একটি মেয়ে ট্রান্সফার হয়ে তার শ্রেণীতে আসে।প্রথম দেখায় মেয়েটিকে খুব মিষ্টি কিংবা সহজ-সরল মনে হলেও সে খুব দ্রুত আইবার যৌন আকাঙ্খা ধরতে পারে এবং তা আইবার বিপক্ষে ব্যাবহার করে।তাদের মধ্যে একটি খেলার মতো শুরু হয়।কুরুমি আইবাকে সবকিছুই করতে দিবে কিন্তু আইবা বীর্য পাতন করতে পারবে না।আমি নিশ্চিত আপনারা সবাই চিন্তা করছেন যে এটা তো পুরোপুরি হেনটাই কিন্তু আসলে তা নয়।মাঙ্গাটি অসাধারণ ভাবে কুরুমি এবং আইবার সম্পর্ক এবং বন্ধনটিকে ফুটিয়ে তুলেছে।কিশোর জীবনের বহু সমস্যা এবং কঠিন বিষয় মাঙ্গাটি চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।আমরা কতটুকু যৌন কর্মে লিপ্ত কে ভালবাসা বলতে পারি এবং কতটুকুকে বলতে পারি বিকৃত মনের আকাঙ্খা। দিন শেষে, মাঙ্গাটি কুরুমি এবং আইবার বন্ধন এবং তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে।এটি হাস্যকর কিন্তু এটি কান্নাদায়ক।এটি চমৎকার কিন্তু এটি সর্বনাশা।তাদের সম্পর্ক একটি মারাত্মক বিপর্যয়ের মতো যা আমরা পাঠক হয়ে নিজেদের চোখের সামনে ঘটতে দেখি।এই মাঙ্গার সমাপ্তি আমার সবচেয়ে প্রিয় সমাপ্তি।আমি কখনো বিশ্বাস করতে পারে নি যে এমন একটি দিন আসবে যখন অন্য কোনো মাঙ্গার সমাপ্তি “20th Century Boys” এর জায়গাটি দখল করে নিবে।
চরিত্রায়নঃ ৯.৫/১০
মাঙ্গাটিতে কিছু পার্শ্ব চরিত্র আছে যারা মূলত মাঙ্গার হাস্যকর দিক গুলোতে ব্যাবহারের জন্য রয়েছে।যেমন তাদের বিভিন্ন এলিয়েন এবং ভুতুরে বাড়ি ইনভেস্টিগেশনের সময় ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাবহার করা হয়।কিন্তু তারা মাঙ্গার মূল কেন্দ্রবিন্দু নয়।আমি বলব না যে আমি হাজারো মাঙ্গা পড়েছি কিন্তু মোটামোটি আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলতে পারি যে ভালো পরিমাণ মাঙ্গাই আমি পড়েছি। এই জন্য আমি মোটামোটি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে আইবা এবং কুরুমির মতো এমন অসাধরন চরিত্রায়ন বলতে গেলে অন্য কোনো মাঙ্গার কিশোর চরিত্রে নেই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উভয় চরিত্র অসাধারণ ভাবে কাহিনীর সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে।আইবা এবং কুরুমির সম্পর্ক এবং তাদের বন্ধনের আড়ালের লুকানো আবেগ গুলোই তাদের সংলাপ এবং মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে তোলে।Sundome হলো মাঙ্গার Leaving Las Vegas.মাঙ্গার এন্ডিংটা কিছুটা নিকোলাস কেজের ১৯৯৫ সালের অস্কার জয়ী চলচিত্রটির মতো।
চিত্রঃ ৮.৫/১০
আমি বলবো না যে, মাঙ্গার চিত্রায়ন এতই চমৎকার যে আপনার চোখে পানি এসে যাবে।সত্যি কথা বলেতে এর চিত্রায়ন খুবই সাদা-মাটা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকারী। চমৎকার কালার কন্ট্র্যাস্ট এবং শ্যাডিং মাঙ্গাটিকে কিছুটা নিও-নুয়ার এবং পুরনো একটি ভাব তৈরি করে যা মাঙ্গার শেষ দিকে অসাধারণ ভাবে গল্পটিকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
Sundome মাঙ্গাটি আমি সবাইকেই পড়ার জন্য বলেতে চাই কিন্তু আমি তা বলবো না।আমি জানি অনেকজন এসব জিনিস সহ্য করতে পারবে না এবং তারা এর কাহিনীর মূল উদ্দেশ্য দেখতে পাবে না কারণ তারা মাঙ্গাটিকে এর বিকৃত জিনিসগুলোর জন্যই কেবল দেখবে এবং সমালোচনা করবে।কিন্তু তাতে সমস্যা নেই।সবকিছু তো আর সবার জন্য নয়।কিন্তু আপনি যদি এইসব জিনিস দেখে ভয় না পেয়ে থাকেন তাহলে চেষ্টা করতে তো দোষ নেই।প্রথম দিকে কাহিনী ঠিক মতো না আগালেও শেষটা আপনাকে মুগ্ধ করবে।সময় পেলে পড়ে দেখতে পারেন।আশা করি ভালো লাগবে।
আমার রেটিংঃ ৯/১০
মাঙ্গাটি যাদের জন্য-
মাঙ্গা- যারা আকু নো হানা,কুজু নো হোঙ্কাই, ইনিও আসনোর কাজ পছন্দ করেছেন।
এনিমে- যারা বেলাডোনা অফ স্যাডনেজ পছন্দ করেছেন।
মুভি- যারা লিভিং লস ভেগাস,নিম্ফমেনিয়াক পছন্দ করেছেন।
Rose of Versailles [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz
এনিমে: Rose of Versailles
পর্ব সংখ্যা: ৪০
জনরা: হিস্টোরিকাল রোমান্টিক-ড্রামা
ইতিহাস কবে থেকে এতো বিনোদনময়ী এবং চিত্তাকর্ষক? ছোটবেলায় আম্মু যখন জোড় করে সমাজ বইয়ে বাংলার নবাবদের কাহিনী পড়াতো, তখন তো এরকম আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতে পারি নি। সতেরশ শতাব্দীর ফ্রেঞ্চ বিদ্রোহের উপর ভিত্তি করে এই এনিমেটা তৈরি। এনিমে ইতিহাসের সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি এই এনিমে এবং সকল এনিমে ভক্তদের দেখা উচিৎ এনিমেটি।
কাহিনীঃ ১০/১০
খুব কম এনিমের কাহিনী আপনার চোখকে টিভির পর্দার সাথে এভাবে লাগিয়ে রাখবে। প্রতিটা পর্ব শেষ হবার পরেই পরবর্তীতে কি হবে এটি জানার জন্যে যে আপনি কখন পরের পর্বটি শুরু করে দিয়েছেন তা আপনি নিজেও টের পাবেন না। কাহিনীগত দিক থেকে এনিমেটি সাধারণত সত্য তথ্য ব্যাবহার করে থাকে, যদিও কাহিনীতে ছোট-খাটো বহু জিনিস আছে যা বাস্তবে ঘটে নি এবং কিছু নতুন চরিত্র আছে যাদেরকে এই কাহিনীটির জন্যে লেখা হয়েছে। তবে মূলত এনিমেটি সঠিক ইতিহাসটিকেই ফুটিয়ে তুলেছে। দর্শক হিসেবে আমরা নিজেদের চোখের সামনে দিয়েই দেখতে পাই শাসকদের জুলুমের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের সাধারণ জনগণের বিদ্রোহ এবং ফ্রেঞ্চ শাসকতন্ত্রের পতন। অসাধারন ভাবে এনিমেটি এই বড় ইতিহাসটিকে ফুটিয়ে তুলেছে। এনিমের কাহিনীটি ২০ বছরের ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এতো বড় কাহিনীর উপর ভিত্তি করে চিত্রনাট্য লেখা চারটি খানি কথা নয় অথচ এই এনিমেটি এই কঠিন জিনিসটিকে চমৎকার ভাবে প্রদর্শন করেছে। কাহিনীগত দিক থেকে এটি এনিমের সেরা কাহিনী মনস্টার, লেজেন্ড অফ দা গ্যালাক্টিক হিরোস, নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওনের কাতারেই নিজের জায়গা করে নেয়।
চরিত্রঃ ১০/১০
চরিত্র যেকোনো লেখার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। একটি ভালো কাহিনী হচ্ছে একটি মানুষের মস্তিস্ক এবং এর চরিত্রগুলো হচ্ছে দেহের অঙ্গ। ভালো চরিত্র ছাড়া একটি ভালো কাহিনী কখনই ফুটে উঠতে পারে না। ৪০ পর্বের এই এনিমেটির চরিত্রায়ন যেভাবে করা হয়েছে, আমার মনে হয় না যে, খুব বেশি নোবেল জয়ী লেখকও এত চমৎকার ভাবে কাজটি করতে পারবেন। অস্কার সম্ভবত এনিমে ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা নারী চরিত্র। চরিত্রায়নের দিক থেকে সম্ভবত আসুকা লেঙলেয় সরইয়ুই একমাত্র নারী চরিত্র যে অস্কার থেকে উত্তম। Rose of Versailles এনিমেটিতে প্রায় ২০ টির মতো মূল চরিত্র রয়েছে যারা সকলেই কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। মূল চরিত্রের অস্কার,আন্দ্রে,আন্তইন্নে ছাড়াও জিন, রোসালি, দি ব্রুর মতো পার্শ্ব চরিত্রগুলোও চমৎকার চরিত্রায়ন লাভ করে।
এনিমেশন এবং সাউন্ডট্র্যাকঃ ৯/১০
১৯৭৯ সালের এনিমেশন হওয়া সত্ত্বেও এর চিত্রায়ন মনোমুগ্ধকর। চরিত্রগুলোকে চমৎকার ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এনিমেশন খুবই স্বচ্ছন্দগতিবিশিষ্ট। এনিমেটার ওপেনিং “Bara wa Utsukushiku Chiru” আমার খুবই প্রিয়। এনিমেটার সাউন্ডট্র্যাকের গানগুলি যদিও এনিমের বাইরে খুব বেশি শুনতে ইচ্ছে হবে না কিন্তু এনিমের প্রতিটি মুহূর্ত ফুটিয়ে তুলতে এটি দুর্দান্ত ভুমিকা পালন করেছে।
Revolutionary Girl Utena এই এনিমেটি থেকে অনেক প্রভাবিত। উতেনা চরিত্রটি বলতে গেলে অস্কার কে উৎসর্গ করেই লেখা। Rose of Versailles এনিমের ইতিহাসে একটি অনন্ন্য অর্জন। কেবল ৭০ এর দশকেই নয়, বর্তমান সময়েও এই মানের এনিমে পাওয়া দুর্লভ। সময়ের সাথে সাথে হয়তবা এই এনিমের বয়স বেড়েছে কিন্তু এর চমত্কারী মহত্ত্ব এখনো অক্ষুন্ন আছে।
আমার রেটিংঃ ১০/১০
Neon Genesis Evangelion + End of Evangelion [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz
Neon Genesis Evangelion + End of Evangelion
পর্ব সংখ্যা- ২৬ পর্ব + ১ ছবি
জনরা-সাই-ফাই,মেকা, সাইকোলোজিকাল ড্রামা
M.A.L. রেটিং-৮.৩২/১০
ব্যক্তিগত রেটিং-১০/১০
১৯৯৫ সালের গাইনেক্স প্রযোজিত হিদেয়াকি আনো পরিচালিত নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনকে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী এনিমে হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৫ সালে মুক্তির পর এনিমেটি প্রাপ্ত বয়স্ক দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা লাভ করে এবং জাপান সহ পৃথিবীর বহু দেশে অনেক খ্যাতি পায়। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন আমার সবচেয়ে প্রিয় ৩ টি এনিমের মধ্যে একটি এবং আমার মতে সবচেয়ে সেরা ৫ এনিমের মধ্যে একটি (বাকি ৪ টি হলো কাউবয় বিবপ, মন্সটার, লেজেণ্ড অফ দা গেলাকটিক হিরোস, দা তাতামি গেলাক্সি)। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী সাহসের সাথে বিভিন্ন রকমের ধার্মিক, মনস্তাত্বিক এবং কঠিন বিষয় মোকাবেলা করে। কেবল এনিমের জন্য নয়, টিভি শো কিংবা চলচিত্রতেও এসব বিষয় দুর্লভ।নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী মূলত অ্যাঞ্জেল নামক দৈত্যরা পৃথিবীতে হামলা করেছে।তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মানব জাতি ইভানগেলিওন নামক রোবট বানায়। ১৪ বছর বয়সী শিনজি ইকারিকে এই ইভানগেলিওনের সাহায্যে পৃথিবী বাচাতে হবে। আপনি মনে করছেন এখানে জটিল কিংবা কঠিন কাহিনী কোথায়? এটা তো খুবই সাধারণ কাহিনী তাই না? বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ”বহিরাবরণ দেখে কাউকে বিচার করতে নেই”। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনীটাও ঠিক সেরকম। প্রথম দেখায় খুব সহজ মনে হলেও পুরোটাই জিলাপির প্যাঁচে ভর্তি।নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী মানুষের বিভিন্ন মনস্তাত্বিক বিষয় যেমন সমব্যথী, আত্মঘাতী, বিষাদগ্রস্ততা, অন্যান্য মানুষের কাছে নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া নিয়ে উদ্দিগ্নতা, জীবনের পরিচয় এবং অর্থ উপলব্ধি করা ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গঠিত। প্রতিটি অসাধারন কাহিনীর পেছনে অসাধারন চরিত্র সমূহের ভূমিকা থাকে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন এনিমেও এই রীতি থেকে ভিন্ন নয়। অনুষ্ঠানটির কাহিনীর মতো এর চরিত্রসমূহও প্রথম দেখাতে সাধারণের বাইরে কিছু মনে হয় না। অনুষ্ঠানটি না দেখেই খুব সহজেই বলে দেয়া যায় যে শিনজি একজন ভীত ছেলে যে নিজের জন্য কিছু করতে পারে না কিংবা আসুকা একজন নিদারুণ প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু তা সত্যি নয়। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে কঠিন অতীত জীবন। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের প্রতিটি চরিত্রের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে নিষ্ঠুর নৈতিক প্রেষণা। এখনকার দিনে খুব সহজেই এনিমে বানানো যায় যে ১৫-১৬ বছরের কিশোরেরা বড় বড় দেয়ালের পেছন থেকে আক্রমণ করে বিশাল দৈত্যদের বিরুদ্ধে নির্ভয়ের সাথে যুদ্ধ করছে। কিন্তু বাস্তবতা কি এতই সহজ? এরকম অবস্থায় একজন ১৪-১৫ বছরের কিশোরের মানসিক অবস্থা বাস্তবতার সাথে মিল রেখে ফুটিয়ে তুলেছে নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন। এটি কোন পৃথিবী রক্ষার সাহসিকতার কোন রুপকথা নয় বরং এটি জীবনের নিষ্ঠুর প্রকৃতির পথ চলা নিয়ে, এরকম কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলায় ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে নিজের জীবনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া নিয়ে। শিনজি এবং আসুকা আমার মতে এনিমের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা দুটি কিশোর চরিত্র। লাইট ইয়াগামি এবং লেলুস যুদ্ধের ক্ষেত্রে খুবই প্রতিভাবান হলেও তাদের চরিত্র লেখার সময় প্রতিটি বিষয় এত যত্নের সাথে সবিস্তরে লেখা হয় নি যেভাবে শিনজি এবং আসুকার চরিত্রে লেখা হয়েছে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের এনিম্যাশন সেই সময়ের জন্য বৈপ্লবিক ছিল। এমনকি মুক্তি পাবার ২১ বছর পরেও ইভানগেলিওন ও অ্যাঞ্জেলদের মধ্যকার যুদ্ধ গুলো চোখ ধাদানো মনে হয়। অনুষ্ঠানটির সঙ্গীত প্রযোজনা করেছে শিরো সাগিসু, এবং সে তার ভূমিকা দুর্দান্ত ভাবে পালন করেছে। এনিমেটির সূচনা গান ‘’A Cruel Angel’s Thesis” আমার খুবই পছন্দের।
আপনি যদি নিওন জেনেসিস ইভানগেলিনের নাম শুনে থাকেন বা দেখে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই এর শেষ দুই পর্ব নিয়ে জানেন। এনিমের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কবাদী দুটি পর্ব। প্রথম দিকে বুঝতে কিছু সমস্যা হলেও আশা হারাবেন না এই পর্ব দুটি নিয়ে। অনেকেই এই পর্ব দুটি দেখে বুঝার চেষ্টা করে না কিন্তু কিছুটা সময় নিয়ে চিন্তা করলেই আপনি পর্ব দুটির মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন
End Of Evangelion:
অনেকেই মনে করে যে এই ছবিটি নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের সঠিক সমাপ্তি। কথাটিতে যেমন সত্যতা রয়েছে তেমনি ভুল রয়েছে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের শেষ পর্ব দুটি মূলত এন্ড অফ ইভানগেলিওনের কাহিনীর সময় শিনজি ইকারির মনে এবং মস্তিস্কে কি হচ্ছিল তার উপর। কাহিনীটি পুরোপুরি বুঝতে দুটিরই প্রয়োজন রয়েছে। এই দুটি ভিন্ন সমাপ্তি একত্রে মিলে আপনাকে এনিমের ইতিহাসের সবচেয়ে সন্তুষ্টিকর সমাপ্তি গুলোর মধ্যে একটি দিবে।
এরপর আপনার ইচ্ছা হলে আপনি রিবিল্ড ছবি গুলো দেখতে পারেন। ছবিগুলো খারাপ নয় এবং অনেক বিনোদনকারী, কিন্তু মুল অনুষ্ঠানটির মতো অসাধারণ নয়। এর মূল কারণ আমার কাছে শিনজি, আসুকা এবং রেয়ের চরিত্রের পরিবর্তনের বিষয়টি ভালো লাগে নি।













