The Wind Rises রিভিউ — Rafiul Alam

“The wind is rising! . . . We must try to live!”
– Paul Valéry’s poem, “Le Cimetière marin”

আমি জিব্লির হাতে গোনা কয়েকটা মুভি দেখেছি। কালকে যখন এই মুভিটা শেষ করলাম, মনে হল, আরো আগে দেখা উচিত ছিল। হায়াও মিয়াজাকি সাহেব পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা এটি। যা মুলত অ্যারোনটিক্যাল ডিজাইনার জিরো হিরোকশির জীবন কাহিনী। যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময় জাপানের জন্য যুদ্ধবিমান নকশা করেন। পর্দায় তুলে ধরা দৃষ্টিভঙ্গী, আর বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ের কারণে সিনেমাটি সমালোচিত, আমি সেই বিষয়ে তেমন কিছুই জানি না, তাই সেব্যাপারে কোন মন্তব্য করব না।

Synopsis : জাপানী বালক জিরো বিমান ভালবাসে। সে বিদেশী বিমানের ম্যাগাজিন ঘেটে বেড়ায় অসীম কৌতূহলে। ইতালিয়ান ইঞ্জিনিয়ার জিওভান্নি কাপ্রনি তার আদর্শ। অ্যারোনটিকাল ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন এভাবেই সে তাড়া করতে থাকে।
বছর খানেক পরের দৃশ্য, বালক এখন যুবক। ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের কামরা থেকে বেরিয়ে আসে জিরো। সবকিছু যখন স্থির ও শান্ত, তখনই ভুমিকম্প আঘাত হানে। ট্রেন দ্রুত থামানো হলে যাত্রীদের হুরোহুরি শুরু হয়ে যায়। এমন সময় এক মহিলার পা ভেঙে যায়। তাকে সাহায্য করতে গিয়ে জিরোর পরিচয় হয় নাওকো সাতমি নামের এক মেয়ের সাথে। সেবার নিজের নাম না বলেই বিদায় নেয় জিরো।
ধীরে ধীরে ভূমিকম্পের ক্ষতির রেশ কেটে যায়।শহর আবারো গড়তে শুরু হয়। বিমান ডিজাইনে মহা ব্যাস্ত হয়ে পড়ে জিরো, নিজের বোনের সাথেও দেখা করতে ভুলে যায় । কাজের প্রতি অত্যাধিক ভালবাসার কারণে জার্মানির সাথে সেই সময়ের জাপানের প্রযুক্তিগত পার্থক্য বুঝতে শুরু করে সে। এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তার লক্ষ্য হয় নানান সীমাবদ্ধতার মাঝে দ্রুতগামী ধাতব বিমান নকশা করা।সিনেমার পরবর্তীতে জিরোর কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের সুন্দর সংমিশ্রণ তুলে ধরা হয়েছে। যদিও সমাপ্তি ঠিক যুতসই ছিল না।

Theme setup, Animation and Music : সিনেমার ঘটনায় ১৯২৩ এর কান্তো ভুমিকম্প থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপান স্থান পেয়েছে। তেমনিভাবে ৩০-৪০ দশকের জাপানী জীবনধারা ও সেই সময়ের সীমাবদ্ধতার বাস্তবিক চিত্রায়ন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোও চোখের আরাম ছিল। এক্ষেত্রে জিব্লির স্কিল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিটি দৃশ্য ডিটেইলড। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, একটি চারাগাছের উপর বৃষ্টির দৃশ্য, রেললাইনের উপর একটি পাথর অথবা পাখির চোখে টোকিও শহর, এসব কিছুর পেছনেই এক ধরনের শৈল্পিকতা প্রকাশ পেয়েছে। আনিমেশন বরাবরের মতই রঙিন আর ফ্লুইড। টুডি, তবে জীবন্ত, জিব্লির প্রিয় একটি বৈশিষ্ট্য।মন ঠান্ডা করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও পারফেক্ট মনে হয়েছে। সর্বোপরি, মিয়াজাকি তার নামের প্রমাণ দিতে পেরেছেন।

Characters Setup : জিরো কাজের প্রতি একনিষ্ঠ, বিনয়ী। সবচেয়ে ভাল লেগেছে যখন সে তার ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করে নেয়। জিরোর প্রতি নাওকোর কমিটমেন্ট সিনেমার একটা সুন্দর দিক ছিল, শক্ত চরিত্রের প্রকাশ। জিরোর অভিমানী বোনের হঠাৎ হঠাৎ স্ক্রিনে আগমন জিরোর পরিবারের দিকে নজর না দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে। সাইড ক্যারেকটার গুলোর মাঝে সাপোর্টিভ হোঞ্জো এবং রাগী কিন্তু নরম মনের গুরুজন, কুরাকাওয়া উল্লেখ্য।

পরিশেষে কিছু ব্যক্তিগত মতামত দেই, আমি বাচ্চাকাল থেকে এভিয়েশনের প্রতি আগ্রহী। তাই সিনেমার সামগ্রিক গল্প খুব একটা বক্তব্যধর্মী না হলেও আমার কাছে বেশ ইন্সপায়ারিং লেগেছে। সেই সময়ের কাঠ আর ত্রিপলের তৈরি বিমান যুদ্ধ করার জন্য মোটেও উপযোগী ছিল না। জিরোর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রায় ২৭০মাইল/ঘন্টা বেগে উড়তে পারে এমন যুদ্ধবিমান তৈরি করা। কিন্তু এত বেশি বেগে যে ড্র‍্যগ তৈরী হবে,তা নেয়ার সামর্থ তৎকালীন কাঠের এয়ারফ্রেমের ছিল না। তাই তাকে স্টিলের বডি বানাতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা হল ওজন, তৎকালিন র‍্যডিকাল ইঞ্জিনের পক্ষে তখন পর্যাপ্ত থ্রাস্ট দিয়ে স্টিলের বডিকে ২৭০ মাইল/ঘন্টা স্পিডে নেয়া সম্ভব না। পরবর্তীতে সে অ্যালুমিনিয়াম এলয় ব্যাবহার করে সহনীয় উইং লোডিংয়ের বিমান বানাতে সক্ষম হয়। A6M ZERO বিমানটি লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন যে সেটি কনভেনশনাল এয়ারফ্রেমের বিমান, ঠিক প্রয়োজনীয় পরিমাণের ডাইহিড্রাল। কিন্তু ভাল করে তাকালে বুঝবেন যে এলোরনে পুশরড নেই। যার ফলে প্লেনের ড্র‍্যাগ অনেক কমাতে সক্ষম হয়েছেন জিরো। কয়েক বছরের সাধনার ফলস্বরূপ তার A6M5 ৩৪৫ মাইল /ঘন্টা রিচ করে। সর্বোপরি, জিরো হাল্কা ওজনের, ম্যানুভারেবল কিন্তু দ্রুতগতির বিমান বানাতে সীমিত সুবিধার মাঝেও কারিগরিকভাবে মহাসফল।যদিও অ্যালাইড ফোর্সের ইঞ্জিনিয়াররা যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই তাকে টেক্কা দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু জিরো হিরোকশির অর্জনকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। জানামতে মুভিটি “The wind has risen” উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন। উপন্যাসটি পড়িনি, তাই মুভির সাথে বৈসাদৃশ্য নিয়ে আমার কোন ধারনা নেই। তবে শুনামতে, নাওকো চরিত্রটি উপন্যাসে অন্যভাবে ছিল। যাই হোক…..সকল বিতর্ককে একপাশে রেখে দিয়ে সিনেমাটি দেখতে বসে যান, আশা করি ২ ঘন্টার অপচয় হবে না।

Overall Rating :
MAL Rating : 8.3
IMDb Rating : 7.8
My Rating : 8.0

The Wind Rises

Comments

comments