When Marnie Was There রিভিউ — Fatiha Subah

2

হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার
জানরাঃ মিস্ট্রি, সাইকোলজিক্যাল
ডিউরেশনঃ ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট
ম্যাল রেটিং: ৮.৪৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

স্টুডিও জিব্লির প্রতিটি মুভিই অসাধারণ এবং অনেক জনপ্রিয়। বিখ্যাত ডিরেক্টর হায়াও মিয়াযাকির কল্যাণেই যে এটা সম্ভব হয়েছে তা সবার জানা কথা। কিন্তু এত সব ভালো ভালো মুভির মাঝে স্টুডিও জিব্লির বানানো আমার সবচেয়ে প্রিয় দুটি মুভিরই ডিরেক্টর ছিলেন অন্য কেউ। তাই এই মুভি দুটো নিয়ে আলোচনাও কম হয় এবং অনেকেই মুভি দুটো চিনে না। এর মাঝে একটি হল “হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার”।

একদিকে হায়াও মিয়াযাকি ডিরেক্টর না অন্যদিকে স্টুডিও জিব্লি তখন অনেক চরাই-উতরাই পার হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই তাই আমার মুভিটা নিয়ে তেমন একটা প্রত্যাশা ছিল না। শুধু মুভির পোস্টারটা খুব পছন্দ হয়েছিল। অনেকটা হুট করেই দেখে ফেলি মুভিটি। দেখার সময় শুধু একটা কথাই মাথায় ঘুরছিল। কেন এই মুভিটা আরও আগে দেখলাম না!! যদি আরও পরে দেখতাম তো সারাজীবনের একটা আফসোস থেকে যেত।

1

কাহিনীটি আন্না নামের একটি মেয়ের হাত ধরে শুরু যে অ্যানাক্সাইটি অ্যাটাকে ভুগছে। স্কুলে কারো সাথে সে খুব একটা মিশতে পারে না। নিজের প্রতি তার প্রচণ্ড ঘৃণা। তাকে নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকে তার মা। কিন্তু কষ্টের বিষয় আন্না একজন দত্তক নেয়া সন্তান। তাই মায়ের এই দুশ্চিন্তা, মমতা কিংবা ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ সবই যেন আন্নার কাছে অর্থহীন ও মিথ্যার বেড়াজালে লুকানো অভিনয় বলে মনে হয়। চুপচাপ, মনমরা আন্নাকে তাই ডাক্তারের পরামর্শে তার মা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাসায় পাঠিয়ে দেন গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে। সেখানে গিয়েও সে বিমর্ষ ছিল। না, গ্রামের কোন মানুষের সাথে মিশে সে তার আগের উৎফুল্ল জীবনে ফিরে যায়নি। বরং কিছু ঝামেলাই বাধিয়ে ফেলে। কিন্তু আন্নার জীবন এবং কাহিনী পাল্টে দেয় অন্যকিছু। নিশ্চুপ আর শান্ত সাগরের পাড়ে বসে ছবি আঁকতে গিয়ে আন্না আবিষ্কার করে সাগরের ওপারে রয়েছে এক সুন্দর বাড়ি। বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত। কিন্তু শুধু একটি ঘরের জানালায় আলো দেখা যায়। আন্না কল্পনায় বা ঘুমের মাঝে সেই জানালার পাশে একটি সোনালি চুলের মেয়েকে দেখতে পায়। কেমন যেন এক অচেনা অনুভুতি তাকে টানে। এই রহস্যময় বাড়ির এক মেয়ে মারনির সাথে আন্নার বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু মারনির পরিচয়ও অনেক রহস্যময়।

কেউ যদি এ পর্যন্ত পড়ে ভেবে থাকেন এটা আমেরিকান কোন ভূতের গল্প তাহলে বড় ভুল করবেন। জানরায় যেমনটা বলা হয়েছে, আনিমেটা সাইকলজিক্যাল। সাথে কিছুটা ফ্যান্টাসি বা সুপারন্যাচারালের মিশেল। আমেরিকান ভূতের গল্প না হলেও গল্পটি ব্রিটিশ লেখক জোয়ান জি. রবিনসনের একই নামের উপন্যাস থেকে নেওয়া। তাই আগেকার আমলের ইংরেজি সংস্কৃতির স্বাদ পাবেন বেশ ভালোই। যারা পুরাতন ইংরেজি গল্প, উপন্যাস বা তখনকার আমলের জীবনাচরণ পছন্দ করেন তাদের মুভিটি ভালো লাগবে বলে আমার ধারণা।

3

মুভিটি পুরোটা দেখে কাহিনী বুঝার পর ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমার একবারে শুরু থেকেই কাহিনীর ভিতরে না ঢুকতেই অনেক ভালো লাগতে শুরু করেছিল। আমার আবার “ভিজুয়ালি প্লিজিং” আনিমে পেলে আর কিছু লাগে না। মুভিটির অ্যানিমেশন অসম্ভব সুন্দর। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। নিরিবিলি গ্রাম, শান্ত প্রকৃতি, পাখির কলকাকলি, সবুজ পাহাড়, তুলোর মত মেঘ আর নীলাকাশ, বালুচর, সাগরের ঢেউ পাড়ে আছড়ে পড়া, সাগরে নৌকা ভাসানো, বিরাট ম্যানশন, পূর্ণিমা রাত কিংবা বৃষ্টি, সোনালি চুলের গাউন পড়া একটি মেয়ে… দৃশ্যগুলো আপনাকে সম্মোহিত করে রাখবে। ছোটবেলায় পড়া রূপকথার বইয়ের ছবিগুলোর মত। সাথে তো বাকগ্রাউন্ড মিউজিক আছেই। আর আন্নার অ্যাডভেঞ্চার গল্পের মাঝে ঢুকিয়ে নিবে। যদিও আমি ধীর গতির দৈনন্দিন জীবনের কাহিনী নিয়ে আনিমে দেখে অভ্যস্ত তারপরেও আমার কাছে কেন জানি শুরুতে গল্পটা বেশ ধীর গতির লাগছিল। কেননা শুরুর আধ ঘণ্টায়ও মুভিটি মূল গল্পে প্রবেশ করে না। অনেক সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে আগায়। যারা ধুমধাড়াক্কা মারামারি বা শুধু মাত্র একটা নির্দিষ্ট গল্পের জন্যই আনিমে দেখেন তাদের একটু অধৈর্য লাগার সম্ভবনা আছে শুরুতে। কিন্তু পরে গিয়ে গল্পে বেশ উত্তেজনা আসে। তাই একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে উপভোগ করতে পারবেন। আর সমাপ্তিটা বেশ হৃদয়গ্রাহী। এখানে একই সাথে দুটি মেয়ের জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। শেষের দিকে কিছু চমক অপেক্ষা করছে।

মুভিটির একই সাথে যত ভালো দিক রয়েছে তাতে এর আরও বেশি নামডাক বা জনপ্রিয়তা পাওয়া উচিত ছিল। তাই লেখাটি পড়ে যদি আপনার রুচির সাথে মিলে যায় তবে অবশ্যই দেখতে ভুলবেন না “হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার” বা “ওমোইদে নো মারনি”।

7 8 9 5 6 4

Comments

comments