অনন্য মাঙ্গা আসর-৭ (Ayeshah’s Secret)

সৎমায়ের ক্রোধ কিংবা ফ্যামিলি কমপ্লেক্সিটি – পুরনো কনসেপ্ট,গৎবাঁধা ক্লিশে আর বিরক্তি উদ্রেককারী……

কিন্ত সাধারণ কোন কনসেপ্টকে চাইনিজ আর্টিস্ট Jing Zhang অসাধারণ কিছুতে পরিণত করার ক্ষমতা রাখেন…… ডক্টর ডুমিং তার পারফেক্ট উদাহরণ…..

ayeshahs-secret-1

এবারো এক চরিত্রকেন্দ্রিক গল্প – চরিত্রটি সম্পর্কে শেষ মুহূর্ত অবধি রহস্য আর সাইকোলজিক্যাল কলিশন ও জটিলতায় অঙ্গুলিসংকেত – অর্থাৎ প্যাটার্ন টা ডক্টর ডুমিং এর মত কিন্ত শিল্পগুণ বা সৃষ্টিকর্ম হিসেবে “Ayesha’s Secret” ডক্টর ডু মিং অপেক্ষা যোজন যোজন এগিয়ে………
পড়ার সময় যেন চরিত্র কথা বলে – আর্ট এতটাই জীবন্ত যে খুব সহজেই গল্পের মাঝে মিশে যেতে পারবেন……

ayeshahs-secret-2

আর Intense মুহূর্তে একটু হলেও Psychological Thrust অনুভূত হবে ……
আয়েশার মাঝে জীবনের নানা দিক,জীবনকে দেখার নানা দিক ই শুধু ফুটিয়ে তোলা হয়নি ,ভালোবাসার সংজ্ঞা,প্রতিহিংসা বা অদ্ভুত ভাবনা,Heartless নাকি realistic – বেশ কিছু প্রশ্নের উদ্রেক করেছে মানহুয়াটি ……

১১ চাপ্টারে দ্বিতীয় বিবাহ কে ফোকাসে রেখে আয়েশার মধ্য দিয়ে পাঠককে বেশ সংবেদনশীল এক উপবৃত্তে ঘুরিয়ে এনেছেন Jing Zhang ….
গল্প শুরু পরিবারের মাঝে সুখ খুঁজে পাওয়া দিয়ে – তারপর অসহায়ত্ব,নির্মম ষড়যন্ত্র,কে ভালো কে খারাপ বিচার করতে গিয়ে পাঠকের দ্বিধা,খুবি বড় একটি টুইস্ট যা হৃদযন্ত্রে বেশ আলোড়ন সৃষ্টিতে সক্ষম।বারবার অস্তিত্বের সংকটে ভোগা কিংবা মনের অজান্তে জন্ম নেয়া পরশ্রীকাতরতা কে সামনে রেখে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলেছে ড্রামাটিক ও হালকা ট্র্যাজিক ঘটনাচক্র ……

গুয়েন সাহেব আর মিস নরমার কোল আলো করে আসে আয়েশা – জন্ম দিয়েই ইহলীলা সাঙ্গ করেন নরমা।তারপর দ্বিতীয় বিবাহ করেন গুয়েন,ঘরে আসে লেডি সিলভিয়া,তিনি আবার তিন পুত্রের মাতা,স্বভাবতই আয়েশার প্রতি অবহেলার সূত্রপাত – ঘোলাটে হয়ে যায় পরিবারের জীবনযাত্রা

ayeshahs-secret-3

তারপর ই গল্পের চাকা ঘুরতে শুরু করে – ইংরেজি নভেলগুলোর এনভায়রনমেন্ট থাকাটা বেশ উপভোগ্য ছিল।এতকিছুর মাঝে আয়েশা রহস্যময় – কি সেই রহস্য? সেই রহস্য দিয়েই গল্প শেষ হয়।কিভাবে কি ঘটছিল তার উত্তর দুয়ে দুয়ে চার করে মিলিয়ে দেয়া হয় যেটা ডক্টর ডু মিং এও করা হয়েছিল ডু মিং এর কনফেশনের মাধ্যমে ……

ayeshahs-secret-4

মাঙ্গার সেরা চরিত্র Sean – সংলাপ,বাহ্যিক রূপ,চিন্তাভাবনা সবকিছুতেই সে অন্য উচ্চতায় – যদিও মূল স্টোরিলাইনে সে অনেকটা দর্শকের ভূমিকাই পালন করেছে……
ডক্টর ডু মিং এর চেয়েও বেশ কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে “Ayesha’s Secret”
আয়েশা চরিত্রটির কার্যক্রম থেকে কি তাকে স্বার্থপর বলা যায়?
সিলভিয়াকে কি সত্যিই গল্পের ভিলেইন বলা যায়?
ঠিক কি কারণে কাউকে ভালোবাসা উচিত?
আমরা মুখে যতই বলি মহৎ কথা অহিংস কথা,উপযুক্ত পরিস্থিতিতে কি পারতাম প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করে দিতে?

ঠিক আমাদের চিন্তাভাবনার যে সংবেদনশীল জায়গাতে আঘাত করলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে বিচলিত হই সে জায়গা নিয়েই যেন ইচ্ছে করেই গল্প সাজিয়েছেন Jing Zhang – আর একারণেই হয়ত আয়েশার রহস্য পছন্দের ক্যালিবারে অনায়াসেই ঠাই পেয়ে গেছে ………

আর্ট খুবি উঁচু দরের,একটা কোট আকার সময় কোটের ভাঁজ এও কোন ভুল ছিল না,চোখের পাপড়িতেও কোন গলদ নেই – হাতে আঁকা না জানিয়ে কাউকে মুভির স্ক্রিনশট বললে অনায়াসেই বোকা বানানো যাবে ………

বেশ কঠিন কিছু কথা মনে হলেও মানহুয়াটি পড়ার সময় অনুভূতিটা এরকম জটিলই হবে – চাইলেও তাকে সহজ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না ………
প্যানেল টু প্যানেল আঁকার তারতম্য ও হয়নি এতটুকুও,আর আয়েশার ব্যাপারে একটা কথা – [চরিত্রটির প্রেমে পড়তে বাধ্য আপনি] – কারণ তাকে সেভাবেই আঁকা হয়েছে …………
মানহুয়াটি বেশ ডার্ক আর গভীর,লাইট কিছুই নেই।একটি সাধারণ সংলাপের মাঝেও লুকিয়ে আছে অনেককিছু ……
মানহুয়াটিতে রহস্য রহস্য গন্ধ থাকলেও শেষ অবধি রহস্যের চেয়ে সাইকোলজি আর ড্রামাটিক ভাইব পাওয়া গেছে ………

ayeshahs-secret-5

Comments

comments