
এনিমে রেকমেন্ডেশান – বাকুম্যান (Bakuman)
আগেই বলে রাখি এটা বাংলায় লেখা আমার প্রথম রিভিউ। কেমন হবে জানি না তাও হঠাৎ মনে হল তাই লিখতে বসলাম, সকল ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। 🙂
বাকুম্যানের কাহিনীর শুরু ১৪-বছর বয়সী মাশিরো মোরিতাকাকে দিয়ে। মোটামুটি নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলের (middle school এর যথাসম্ভব পরিমার্জিত বাংলা :P) গোটা সময়ই ক্লাসমেট আজুকি মিহোর প্রেমে পড়ে থাকে। এদিকে তার চাচা মাশিরো নবুহিরো একজন মোটামুটি পরিচিত মাংগাকা ছিলেন, যার একটা সুপারহিরো গ্যাগ মাংগা এনিমে এডাপটেশান পায়। তিনিও মিডিল স্কুলে একজনকে ভালবাসতেন, যার সাথে তার কেবল চিঠিতে কথা হত, এবং নবুহিরো সাফল্য পাবার আগেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার বিয়ে হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে তার মাংগা শৌনেন জ্যাক থেকে ক্যানসেলড হয় এবং পরবর্তী সিরিয়ালাইজেশান এর জন্য হাঁড়ভাঙা পরিশ্রমের কারণে তিনি অকালে মৃত্যুবরণ করেন। ছোট্ট মোরিতাকার জন্য তার চাচাই ছিল সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা, চাচার মৃত্যুতে তার নিজের মাংগাকা হবার স্বপ্নও বাধাপ্রাপ্ত হয়। দুই বছর এভাবে যাবার পর তার স্বপ্ন তাকে আবার দেখতে শেখায় তার ক্লাসের মডেল স্টুডেন্ট তাকাগি আকিতো। প্রথমবার মাশিরোকে প্রস্তাব দিলেও সে তা ফিরিয়ে দেয়। এরপর আজুকির প্রতি মাশিরোর অনুভূতিকে পুঁজি করে এবার সে সরাসরি আজুকির বাসায় চলে যায়, মাশিরো মরিয়া হয়ে ছুটে যায় সেখানে। তাকাগির কাছে মাশিরো জানতে পারে আজুকির স্বপ্ন একজন সেইয়ু (voice actress) হওয়া। এরপর তার চাচার কথা স্মরণ করে মাশিরো বলে বসে, তার আর তাকাগির মাংগা এনিমে এডাপটেশান পেলে আজুকিকে মেইন ফিমেল ক্যারেক্টার এর ভয়েস করতে দেওয়া হবে, আর তাদের দুইজনের এই স্বপ্ন যখন পূর্ণ হবে, তখন তারা বিয়ে করবে। সবাইকে অবাক করে আজুকি রাজি হয়, শুরু হয় তাদের স্বপ্ন ছোঁয়ার এক অনবদ্য রূপকথা।
এবার টেকনিকাল বিষয়গুলাতে আসি, স্টোরিলাইন আমার মতে খুঁতবিহীন, একজন মাংগাকার সব ধরণের স্ট্রাগল আর ট্রায়াম্ফের কথা চমৎকারভাবে উঠে এসেছে। রাইভ্যাল, বিবাদ, ভুল বোঝাবুঝি, ইত্যাদি অনেক ক্লিশে এখানে থাকলেও তা কেন জানি ঠিক ক্লিশে মনে হয়না। আশিরোগির (তাকাগি আর মাশিরোর পেন নেম) হাসিকান্নার সাথে আপনার হাসিকান্না একাকার হয়ে মিশে যেতে বাধ্য। এনিমে যত সামনের দিকে যেতে থাকবে স্টোরিলাইন ততই চুম্বকের মত আপনাকে টানবে।
এনিমেশন আর মিউজিক যথেষ্ট ভাল মনে হয়েছে। এনিমেশন এর একটা দুর্বলতা হল মোটামুটি ১০ বছরে কোন চরিত্রের চেহারা বা দেহগঠন এর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই, যদিও মাংগায় তা ভালভাবেই আছে। এটা ছাড়া তেমন অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়েনি। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পরিবেশের সাথে একদম মানিয়ে গিয়েছে।
আমি যখন ভাল কোন এনিমে দেখি তখন খালি মনে হয় একে আমার টপ টেনে রাখব কিনা। বাকুম্যান দেখার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সাথে সাথে মনে হয়েছে এটা যেভাবেই হোক আমি আমার প্রথম দশটা এনিমের মধ্যে রাখব। ক্ষনিকের জন্য হলেও আশিরোগির স্বপ্ন আমার স্বপ্ন হয়ে গিয়েছিল। এই এনিমে থেকে শিখার অনেক কিছুই আছে, তবে এর প্রধান উপজীব্য হল, যত বাধাই আসুক না কেন , লেগে থাকলে তোমার স্বপ্ন সত্যি হবেই, তা তিন বছর পরেই হোক আর দশ বছর পরেই হোক, শুধু নিজের কাজকে ভালবেসে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে যেতে হবে।
