পূর্ণধাতব রসায়নবিদ রিভিউ (FullMetal Alchemist) – ইশমাম আনিকা

O9NOqgoপূর্ণধাতব রসায়নবিদ রিভিউ (FullMetal Alchemist)
[spoiler থাকতে পারে, আমি নিজে নিশ্চিত নই]

“Humankind cannot gain anything without first giving something in return. To obtain, something of equal value must be lost. That is alchemy’s First Law of Equivalent Exchange. In those days, we really believed that to be the world’s one, and only, truth.”

যদি আপনার সামনে এমন সুযোগ আসে যে আপনি আপনার মৃত প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন, যদিও সেটার কোন নিশ্চয়তা নেই, সেটার ফলাফল কি হবে কেউ জানেনা এবং এটা নিষিদ্ধ কাজ, তাহলে আপনি কি করবেন?

এডওয়ার্ড এলরিক এবং অ্যালফনস এলরিক দুই ভাই। দুজনের মাঝে বয়সের পার্থক্য ১ বছর। খুব ছোটবেলায় তাদের বাবা তাদের ছেড়ে কোথাও চলে যায় এবং এরপর তারা তাদের মায়ের সাথে জীবন কাটাতে থাকে। ছোট অবস্থাতেই দুজনেই “অ্যালকেমি” তে পারদর্শী হয়ে উঠতে থাকে। এমন সময় হঠাত তাদের মা মারা যায়। বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরে এডওয়ার্ড ঠিক করে অ্যালকেমির সাহায্যে “হিউম্যান ট্র্যান্সমিউটেশন” এর মাধ্যমে তাদের মাকে ফিরিয়ে আনবে। প্রথমে ভয় পেলেও ভাই অন্তঃপ্রাণ অ্যালফনস ভাইকে ট্র্যান্সমিউটেশনে সাহায্য করে। কিন্তু ইক্যুইভ্যালেন্ট এক্সচেঞ্জ এর পরিনতি হিসেবে এড তার বাম পা হারায়, এবং অ্যাল তার শরীর হারায়। এই ট্র্যান্সমিউটেশনের ফল হিসেবে তৈরি হয় একটি হোমানকুলাই। অ্যাল এর আত্মাকে বাঁচানোর জন্যে এড সাথে সাথে একটা suit of Armour এর মাঝে চক্র আঁকে এবং নিজেকে উৎসর্গ করে, যেন নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও সে অ্যালকে ফেরত পায়। অবশেষে নিজের ডান হাতের বিনিময়ে সে অ্যালের আত্মা ফেরত পায় এবং অ্যাল suit of Armour এ বন্দী আত্মা হিসেবে জীবিত থেকে যায়। ওদের শরীর Gate of Alchemy র মাঝে আটকা পড়ে যায়। ডান হাত ও বাম পা হারানো এডকে নিয়ে অ্যাল দৌড়ে যায় তাদের প্রতিবেশী “রকবেল” দের কাছে যাদের অটোমেইল এর কারখানা আছে (কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বানানোর কারখানা), সেখানে এড কে মেকানিক্যাল হাত ও পা বানিয়ে দেয় উইনরি ও তার দাদি।

নিজের ভুলকে শোধরানোর জন্যে বদ্ধপরিকর এড ঠিক করে, যে করেই হোক, ফিলসফারস স্টোন খুঁজে বের করবে, এবং সেটার সাহায্যে সে যে ভুল করেছিল, সেটা শোধরাবে আর অ্যালকে তার আসল শরীরে ফিরিয়ে আনবে। এ জন্যে তার দরকার ছিল অনেক তথ্য, যেটা একমাত্র মিলিটারির লাইব্রেরীতে পাওয়া সম্ভব। তাই সে কর্নেল রয় মাসট্যাং এর পরামর্শে মিলিটারির অ্যালকেমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ও বিভিন্ন বাঁধা পেরিয়ে পরীক্ষা পাস করে “সর্বকনিষ্ঠ স্টেট অ্যালকেমিস্ট” হিসেবে যোগ দেয়। মিলিটারি থেকে সে বিভিন্ন জায়গায় অ্যাসাইনমেনট কমপ্লিট করতে যায় এবং একই সাথে খুঁজতে থাকে ফিলসফারস স্টোন।

ব্রাদারহুড এখনো দেখা হয়ে ওঠেনি, কাজেই তুলনা করার প্রশ্নই আসেনা। তবে সবদিক মিলিয়ে আমার কাছে ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট খুবই ভালো লেগেছে এবং শেষ না করা পর্যন্ত নিঃশ্বাস নিতে পারিনি। এন্ডিংটা ভালো লেগেছে, খারাপ ও লেগেছে এডওয়ার্ড, অ্যালফনস এবং উইনরির জন্যে।

চরিত্র বিশ্লেষণে যাবনা, কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিটা চরিত্রই তার মর্যাদা রেখেছে। আর এডওয়ার্ড কে কেউ শর্ট বললে তার রিঅ্যাকশন, যতবার দেখি কখনো পুরনো হয়না! দুই ভাই এর মাঝে যে বন্ধন, সেটা দেখে অবাক হয়েছি অনেকবার ই।

প্রতিটা ওপেনিং আর এন্ডিং সুন্দর, তবে আমার কানে সবসময় বাজতে থাকে প্রথম ওপেনিং টা।

একই সাথে মজা, অ্যাকশন, রহস্য, ইমোশন আমার অল্প এনিম দেখা জীবনে আর পাইনি। কাজেই কেউ সাজেশন চাইলে একবাক্যে এটার নাম বলতে দ্বিধা করব না 

 

108065

Comments

comments

One thought on “পূর্ণধাতব রসায়নবিদ রিভিউ (FullMetal Alchemist) – ইশমাম আনিকা

  1. Pingback: Ruben

Comments are closed.