ত্রিশের দশক। জাপানীজ অ্যানিমেশন ততদিনে ডিজনীর কাছে ব্যাবসায়িক খেলায় হেরে দেশীয় চলচ্চিত্র বাজারের আধিপত্য হারিয়েছে। হলের বড় পর্দায় ব্যাবসায়িক অ্যানিমেটেড ফিল্মের পরিবর্তে তারা দায়িত্ব নিয়েছে শিক্ষা-জনসচেতনতা মুলক আর বিজ্ঞাপন-প্রচারণামুলক ভিডিও তৈরীর। জাপান সরকার এসময় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করায়, সেন্সরশিপ অনেক কঠোর হয়ে গেল।
তারা জাপানী চেতনা আর জাতীয়তা বাদে উদবুদ্ধ সিনেমা তৈরী করা পরিচালকদের অগ্রাধিকার দেওয়া শুরু করল। এ অভিব্যক্তি আরো জোড়ালো হল ১৯৩৯-এর চলচ্চিত্র আইন প্রণয়নের পর। ছোট ছোট অ্যানিমে ফিল্ম কোম্পানীগুলো একত্রিত হয়ে বড় বড় স্টুডিও গড়ে তুলল। আবার সো চিকুর মত বৃহত্তর স্টুডিও লাইভ অ্যাকশনের পাশাপাশি অ্যানিমে ফিল্ম বের করা শুরু করল। আর এই সোচিকুর সহায়তায় কেনজো মাসাওকা(Chikara to Onna no Yo no Naka) ১৯৪৩ সালে তৈরী করেন Kumo to Churippu[The Spider and the Tulip](১৯৪৩)-র মত মাস্টারপিস[যা ২০০১ সালে প্রকাশিত অ্যানিমেজের সর্বকালের সেরা অ্যানিমের তালিকায় ৪র্থ স্থান দখল করে ]।
যুদ্ধ শুরু হল। আর এসময় সকল স্টুডিওর একত্রিকরণের ধারাবাহিকতায় মাত্র ৩ টি বড় স্টুডিও অবশিষ্ট থাকল, আর এবার তারা সেনাঅর্থায়নে সিনেমা তৈরী করা শুরু করল। আর যুদ্ধকালীন সময় আমেরিকানরা যেমন কমিক আর কার্টুনের চরিত্র ব্যাবহার করে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল, পুরোনো চরিত্রদের যুদ্ধের সাজে সাজানো অথবা নতুন চরিত্রই তৈরী করা(সবচেয়ে বড় উদাহরণ Captain America); জাপান ও তার সৈন্য আর সাধারণ জনতাকে এই কঠিন সময় পার করতে সাহায্য নিল অ্যানিমের।
১৯৪৩ সালে মিতসুয়ো সেও(Ari-chan) গেইজুতসু এইগাশার প্রযোজনায়, জাপানের লোকগাথার সাথে চলমান যুদ্ধের আবহকে কাজে লাগিয়ে তৈরী করেন Momotaro’s Sea Eagles. [মজার ব্যাপার হল, আমেরিকান সমসাময়িক কার্টুন আর কমিকসে যেমন প্রতিপক্ষ হিটলার অথবা জাপানী সেনাদের আবির্ভাব ঘটা শুরু করল, তেমনই জাপানীরাও তাদের জবাব দেওয়া শুরু করল। যেমন এই অ্যানিমেতে বহুল জনপ্রিয় কার্টুন পপাই এর চরিত্র ব্লুটোকে দেখা যায় একজন সাধারণ মাতাল হিসেবে।] ৩৭ মিনিটের এই অ্যানিমেকে বলা যায় ফিচার লেংথ অ্যানিমেশনের পথে প্রথম সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
মাত্র দুই বছর পরই সেও তৈরী করেন এর সিকুয়্যেল, এবার সোচিকুর প্রযোজনায় – Momotaro’s Divine Sea Warriors. ৭৩ মিনিটের এই অ্যানিমে ফিল্মটিই সর্বপ্রথম ফিচার লেংথ জাপানিজ অ্যানিমেশন। ১৯৪১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ডিজনী মুভি Fantasia দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে তৈরী হওয়া এই দুটি মুভির উপরের প্রোপাগান্ডার আর যুদ্ধের ভয়াবহতার চাদরের আড়ালে ছিল শান্তি আর আশার বার্তা।
যুদ্ধে পরাজিত হলেও তাই জাপানীরা নিজেদের সমৃদ্ধ অতীত, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর সৃজনশীলতা প্রকাশের নতুন এক মাধ্যমের খোঁজ পেল। ধংসস্তুপ থেকে জাপানের নবজাগরনের সাথে নতুন শুরু হল অ্যানিমেরও।
আরো বৃহৎ, আরো ভালোভাবে!
যারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে সূচনা ঘটল জাপানের ডিজনী – তোয়েই অ্যানিমেশনের।
আর এই তোয়েই অ্যানিমেশনই অ্যানিমের ইতিহাসকে বদলে দিবে সবচেয়ে বড়ভাবে। শুধু প্রথম রঙ্গিন অ্যানিমে অথবা সর্বপ্রথম “আধুনিক” অ্যানিমেই নয়; হালের জনপ্রিয় সব অ্যানিমেগুলোতেও তারা রাখবে অবদান, দশক দশক পর এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেই তৈরী হবে –
Seint Seiya, Space Captain Harlock, Toriko, Sailor Moon…
Slam Dunk, One Piece…
Dragon Ball Z!
// ছবি Kumo to Churippu-র //
// Momotaro’s Divine Sea Warriors লিঙ্ক: https://www.youtube.com/

