Gyo [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan

সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে আছে কত প্রাণী, কত উদ্ভিদ, কত কালের হারানো রহস্য। সাগর যা ছিনিয়ে নেয় তা কখনো ফিরিয়ে দেয় না। ডুবে যাওয়া জাহাজ তীরে আসে না। আসে চার পা ওয়ালা মাছ, হাঙর, অক্টোপাস, তিমি, ইত্যাদি…
কি? কিছু ভুল বললাম নাকি?

>মাঙ্গা রিভিউ<
_______

“গিয়ো” মাঙ্গাটির মাঙ্গাকা হলেন জুনজি ইতো। গল্পেটির মূল চরিত্র তাদাশি নামের এক যুবক। গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদাশি তার গার্লফ্রেন্ড কাওরি কে সঙ্গে নিয়ে অকিনাওয়া সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছে। তার আঙ্কেলের অনেক প্রাচুর্য আছে এখানে। হলিডে কাটানোর সামার হাউজ, আর বোটে করে সমুদ্রে স্কুবা ডাইভিং এসব নিয়ে তাদাশির সময় ভালোই কাটছিল। কিন্তু, কাওরি মোটেও স্বস্তি বোধ করছে না। সে সাগরের গন্ধ, তীরে মাছের বাজারের ঘ্রাণ একদম সহ্য করতে পারে না। কাওরির ঘ্রাণশক্তি প্রখর। এমনকি তাদাশির মুখের গন্ধ নিয়েও অভিযোগ করে সে। এ নিয়ে দুজনের মাঝে মনমালিন্যও হয়। তা, এই কাওরি হটাত খুব তীব্র পচা গন্ধ পেতে লাগল। ঘরের মাঝেই কোথা থেকে গন্ধ টা আসছে, যেন কোনো মৃতদেহের পচা গন্ধ। গন্ধের উৎস বের করতে গিয়ে তারা আবিষ্কার করলো অবিশ্বাস্য এক জিনিস এর। জিনিষটা কিলবিল করে খুব তারাতারি ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়ে ছুটে যায়। একটি চার পা ওয়ালা মাছ, তার মাকড়শার মত পাগুলোর নিচ দিয়ে বেরিয়ে আছে দু-তিনটি শুঁড়।

পরদিন তাদাশি দেখতে পেলো বাড়ির বাইরে একটা বিশাল শার্ক লোহার মত বড় পা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কাওরির চিৎকারে হিংস্র শার্কটি তেড়ে আসে তাদের দিকে। এদিকে অকিনাওয়ার সমুদ্র তীরের সব মাছগুলো এভাবে উঠে আসছে মাটিতে। কিলবিল করে দ্রুত গতিতে হাজার হাজার সামুদ্রিক প্রাণী মানুষের লোকালয়ে হামলা চালাচ্ছে। পুলিশের ব্যারিকেড ও আটকাতে পারছেনা মাছের আক্রমণ।

শুনতে যেমন অদ্ভুত লাগছে, মাঙ্গাটি পড়তে গেলে তার চেয়েও উদ্ভট লাগবে। মাঙ্গার প্যানেলে প্যানেলে বিদঘুটে আর কিম্ভুতকিমাকার প্রাণীগুলোর অংকনে আশ্চর্য হতে হয়। কুৎসিত দৃশ্যগুলোর ডিটেইলস এ একটুও কমতি পরেনি। মাঙ্গাটির চরিত্রগুলি সাদামাটা। তাদাশি চরিত্রটির প্রতি সহানুভুতি থাকলেও, কাওরি চরিত্রটি আমার কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় লাগে নি। কিন্তু কাওরিকেই গল্পে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে। এর চাইতে তাদাশির আঙ্কেলের চরিত্র ডক্টর কায়ানাগি, একজন ম্যাড সায়েন্টিস্ট হিসেবে ভালোই ফুটে উঠেছে।

২ ভলিয়মের এই মাঙ্গাটিতে বিশেষ যেই ত্রুটি রয়েছে তা হল গল্পের প্রথমে সায়েন্স ফিকশন দিয়ে ঘটনাক্রমের বিস্লেশন করা হয়েছে। কিন্তু শেষের অংশে মাঙ্গাকা সেই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির সাথে অতিপ্রাকিতিক উপাদান জুড়ে দিয়েছেন। এবং গল্পে মাছগুলোর এই আচরণের ব্যাখ্যাটি এমন ভাবে দেয়া হয়েছে যে, এটি গোপন রাখলেই গল্পের সাসপেন্স টিকে থাকত। মাঙ্গার শেষ ভাগে সার্কাসের একটি দৃশ্য আছে যেটি কিনা গল্পের সাথে খুবই বেমানান লেগেছে আমার কাছে।

এছাড়া মাঙ্গাটিতে তেমন কোনো ত্রুটি খুঁজে পাইনি। “উজুমাকি” মাঙ্গাতে যেমন রহস্য উদ্ঘাটনের আবহ ছিল, ক্লাইম্যাক্স ছিল, এখানে সেরকম না থাকলেও, এখানে যেসব চিত্র দেখানো হয়েছে তা দেখে অস্বস্তি লাগবে। যাকে বলে সুন্দর বীভৎসতা। আমি একজনকে বলতে শুনেছি যে, “আপনি কি কখনো গন্ধ চোখে দেখেছেন? এই মাঙ্গাতে গন্ধ দেখা যাবে।” এবং সত্যিই তাই। মাঙ্গাটি অত বড় না। এক বসাতেই পড়ে শেষ করতে পারবেন। তবে পড়ার সময় কিছু খেতে বসবেন না কিন্তু।

মাঙ্গাটির ২ ভলিয়মের শেষে একটি করে ওয়ানশট মাঙ্গা আছে। প্রথমটির নাম “দা স্যাড টেল অফ দা প্রিন্সিপাল পোষ্ট”, গল্পটি হরর কমেডি বলতে পারেন। দ্বিতীয় গল্পটির নাম “দা এনিগমা অফ আমিগারা ফল্ট”, এখানে জুনজি ইতোর ঠিক আগেকার মত আদিভৌতিক আবহ পাওয়া যাবে।

গিয়ো মাঙ্গাটি একবার পড়েছি। আবার পড়তে চাইনা। এক্কেবারে খাপছাড়া দুঃস্বপ্নের মত বলতে পারেন। গিয়োর উপর ভিত্তি করে একটি এনিমে তৈরি হয়েছে। তবে এনিমেটাতে মাঙ্গার কাহিনী বদলে দেয়া হয়েছে এবং (আমার মতে) মাঙ্গার মতন বীভৎসতা ফুটে উঠেনি।

Name: Gyo
Alternative Name: Gyo: The Death-Stench Creeps, Gyo Ugomeku Bukimi
Art & Story: Junji Ito
Genre: Horror, Sci-fi, Supernatural, Psychological, Seinen, Tragedy, Mystery, Drama.
Volumes: 2
Chapters: 20 + 2 oneshots
Status: Completed
Published: Feb 28, 2002 to May 30, 2002
MAL score: 7.38Gyo

Comments